অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫৩
রুপা
– “মুন্না, তুই এতো বড় ঘটনা ঘটালি কীভাবে? এখন ওই আর্য সন্দেহ করলে কী করবি?”
মায়ের কথায় মুন্নার মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। তার চোখে ভাসছে শুধু আর্যর রুমে দেখা সেই দৃশ্যটা—পুষ্প আর্যর গলা জড়িয়ে ধরে আছে। মুন্নাকে চুপ করে থাকতে দেখে তার মা আবারও বললেন—
– “এতো কী ভাবছিস তুই? যদি আর্য জেনে যায় ওই মেয়েটা কে দিয়ে পুষ্পকে আমরা নেশা খাইয়েছি, তখন কী করবি?”
– “আরে মা, ওই আর্য জানবে কী করে যে পুষ্পকে আমরা ড্রাগ খাইয়েছি চকলেটের সাথে?”
এবার বেশ বিরক্তি নিয়ে কথাটা বলল মুন্না। তাদের পরিকল্পনা ছিল পুষ্পকে ড্রাগস খাইয়ে চরিত্রহীন প্রমাণ করা। তারা একদিনে যতটুকু দেখেছে, এই বাড়ির সবাই পুষ্পকে অনেক ভালোবাসে; তাই ছোটখাটো কিছু করলে তারা পুষ্পকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে না। আর পুষ্পকে বাড়ি থেকে বের করে না দিলে তারা নিজেদের সাথে তাকে নিয়ে যেতে পারবে না, আর নিয়ে যেতে না পারলে পুষ্পর বাবা-মায়ের সম্পত্তিরও কিছুই পাবে না তারা। তাই তো সকাল থেকে বাড়িতে আর্যকে না দেখে সেই সুযোগটাই নিয়েছিলেন। পুষ্পকে ড্রাগস খাইয়ে পুষ্পর রুমে মুন্নাকে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছিল, এই সুযোগে মুন্নাও নিজের মনের এতদিনকার সুপ্ত বাসনা পূরণ করতে চেয়েছিল—পুষ্পর সাথে এক রাত কাটাতে চেয়েছিল। তাই তো পুষ্পকে একটা মেয়ে দিয়ে চকলেটের সাথে ড্রাগস খাইয়েছিল। পুষ্পকে নিজের রুমের দিকে যেতে দেখে মুন্নাও পিছন পিছন এসেছিল, যাতে পুষ্পর চাচি পরে মানুষ জড়ো করে পুষ্পর চরিত্রে দাগ লাগাতে পারে। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে আর্য বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের পরিকল্পনা সফল হয় না।
– “কিছুই তো পরিকল্পনা অনুযায়ী হলো না! এবার পুষ্পকে আমাদের সাথে নিয়ে যাবো কী করে?”
মায়ের কথায় মুন্না বিকৃতভাবে হেসে বলল—
– “একবার হয়নি তো কী হয়েছে, আমরা আবার চেষ্টা করব! ওই পুষ্পকে তো আমি এক রাতের জন্য হলেও চাই।”
শেষের কথাটা একদম নিচু স্বরে বলল, ফলে মুন্নার মা শুনতে পাননি।
– “এখন আর কিছু করতে হবে না। বিয়ে অব্দি স্বাভাবিকভাবেই থাকো, কেউ যেন কিছুই সন্দেহ করতে না পারে। যখন সবাই মেয়ে বিদায়ের ব্যস্ততায় থাকবে, যা করার তখনই করতে হবে।”
মায়ের কথায় মুন্না সায় জানিয়ে বলল—
– “ঠিক আছে!”
তাদের বিকৃত মস্তিষ্কের এই পরিকল্পনা সহজ-সরল পুষ্পর জীবনে কোন কালবৈশাখীর ঝড় নিয়ে আসে, আল্লাহ জানে!
রাত বাজে দুইটা। মেহেদী অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। যে যার মতো যেখানে পারছে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, অনেক মানুষ ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। শেহনাজ সরকার পুষ্পকে খুঁজে চলেছেন অনেকক্ষণ ধরে। কাজে ব্যস্ত থাকায় এতক্ষণ খেয়াল ছিল না, তার ওপর মেয়েটা দুপুর থেকে কিছু খেয়েছে কি না কে জানে! কাজের মেয়েকে দিয়ে দুপুরে খাবার পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু পুষ্প নাকি খায়নি; উনিও কাজের ব্যস্ততায় আর উপরে যাননি।
তারপর অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাওয়ায় আর ডাকেননি, মনে করেছিলেন সবার সাথে আনন্দ করছে, করুক—মেয়েটার আনন্দ নষ্ট করতে চাননি। কিন্তু এখন অনুষ্ঠান শেষ হতেই শিফাকে জিজ্ঞেস করতেই শিফা জানায়, পুষ্প অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে থেকেই তাদের সাথে ছিল না। এটা শোনার পর থেকেই উনি অস্থির হয়ে পুষ্পকে খুঁজে চলেছেন। ভয় হচ্ছে, ওনার ভাই-ভাইয়ের বউ কিছু করেননি তো! এর মধ্যে একটা কাজের মেয়েকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন—
– “পুষ্পকে দেখেছ কোথাও?”
– “হ্যাঁ, বড় ম্যাডাম। বড় সাহেব আসার পর বড় ভাবিকে ডেকেছিলেন। ভাবি রুমে যাওয়ার পর আর দেখিনি, হয়তো রুমে আছে বড় সাহেবের সাথে।”
আর্যর সাথে আছে শুনে শেহনাজ সরকারের কলিজায় যেন পানি আসে। তিনি ‘ঠিক আছে’ বলে নিজের কাজে চলে যান। আর্যর সাথে থাকলে পুষ্পর ক্ষতি হবে না, উনি জানেন।
আজানের সুমধুর ধ্বনি কানে আসতেই আর্যর ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম জড়ানো চোখ দুটো আস্তে আস্তে খুলতেই প্রথমে অন্ধকার ঘরে কিছু বোঝা গেল না। একটু নড়তেই কারও মৃদু গোঙানির শব্দ কানে আসে। এবার আর্যর একে একে সব দৃশ্য মনে পড়তে লাগল। সে তার বলিষ্ঠ দেহের নিচে একটা কোমল নাজুক দেহের অস্তিত্ব টের পেল। দুজনের গায়ে চুল পরিমাণ কাপড়ও অবশিষ্ট নেই। আর্য পুষ্পর উন্মুক্ত বক্ষে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে এবং তাদের দুজনের গায়ে সাদা কমফোর্টার জড়ানো।
আর্য এবার মাথা তুলে তাকাল, অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। সে পাশের টেবিলে থাকা ল্যাম্পপোস্টের ছোট আলো জ্বালিয়ে দিল। সাথে সাথেই চোখের সামনে দেখা গেল পুষ্পর মায়াবী গোলগাল ঘুমন্ত মুখটা। কান্নার ফলে মুখটা অস্বাভাবিক লাল হয়ে ফুলে গেছে, তবুও আর্যর কাছে এই মুখটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মায়াবী মুখ মনে হচ্ছে। আজকে রমনীর কান্নারত চেহারা আর্যকে অস্থির করছে না, বরং শান্তি দিচ্ছে; মনে হচ্ছে সে আজ পরিপূর্ণ।
পুষ্পর গলায়, গালে, ঠোঁটে ছোপ ছোপ দাগ বসে গেছে, যার শিল্পী আর্য নিজে। রমনী ঠোঁট উল্টে রেখেছে বাচ্চাদের মতো, একটু এদিক-ওদিক হলেই যেন ঠোঁট ভেঙেই কেঁদে উঠবে ঘুমের মধ্যে। আর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল, মায়াবী এক হাসি। শেষ রাতের দিকে মেয়েটা কি কান্নাটাই না কেঁদেছিল! কাঁদতে কাঁদতে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল—
– “স…সরকার সা…লাগছে, আমি আর খাবো না!”
তখন আর্য ঘামে ভিজে গেছে, পুরো শরীর ঘামে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে, বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে। পুষ্পর কান্নারত মুখটা দেখেও আর্যর মধ্যে থামার কোনো লক্ষণ ছিল না। সে পুষ্পর ঠোঁটে শব্দ করে চুমু আঁকে, উদগ্রীব কণ্ঠে বলল—
– “সরি ফ্লাওয়ার, আই কান্ট স্টপ অ্যাট দিস মোমেন্ট! তোমার খাওয়া শেষ হলেও আমার এখনো শেষ হয়নি।”
– “স…সরকার সাহেব!”
– “হু!”
– “ছাড়ুন, লাগছে আমার, খুব কষ্ট হ…”
পুষ্প আর কিছু বলার আগেই আর্য নিজের ওষ্ঠ দ্বারা রমনীর ওষ্ঠযুগল দখল করে নিল। রমনী চেয়েও কিছু বলতে পারে না, বেসামাল আর্যকে সামলাতে হিমশিম খায়। একসময় তার নাজুক দেহ আর নিতে না পেরে জ্ঞান হারায়, তবুও আর্য থামে না! নিজের কাজ শেষ করে সেভাবেই ক্লান্ত দেহের পুরো ভার ছেড়ে দিল রমনীর নাজুক শরীরে। রমনীর উন্মুক্ত বক্ষ যুগলে মুখ ডুবিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর্য নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে। মেয়েটা একটু বেশিই নাজুক! আর্য এবার ঘুমন্ত পুষ্পর দিকে তাকায়, পুষ্পর ঠোঁটে শব্দ করে চুমু আঁকে, আদুরে কণ্ঠে ডাকল—
– “ফ্লাওয়ার?”
কোনো সাড়া নেই। আর্য আবার ডাকল—
– “জান?”
– “উমম!”
– “ফ্লাওয়ার, ওঠো, শাওয়ার নিতে হবে!”
এতবার ডাকার পরেও পুষ্পকে ঘুম থেকে উঠতে না দেখে আর্য এবার নিজেই উঠে ট্রাউজার পরে নিল। পুষ্পর গা থেকে কমফোর্টার সরাতেই চোখের সামনে উন্মুক্ত হলো নগ্ন নাজুক এক দেহ। পুরো শরীরে ছোপ ছোপ লালচে দাগ বসে গেছে। আর্য ঢোক গিলল, সর্বনাশ! আর্যর চোখে যেন আবারও নেশা ধরে যায়। আর্য তাড়াহুড়ো করে কমফোর্টার জড়িয়ে দিল। আবারও শরীর উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে উত্তেজনায়। আর্য নিজেকে অনেক বোঝাতে চাইল, মেয়েটা ছোট আর নিতে পারবে না, রাতে কান্নার তোড়ে জ্ঞান হারিয়েছে। এত বোঝানোর পরেও নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হলো না আর্য। সে আবারও লাইট নিভিয়ে দিয়ে কমফোর্টারের ভিতরে ঢুকে পড়ে ঘুমন্ত রমনীর ওষ্ঠযুগল দখল করে নিল নিজের ওষ্ঠ দ্বারা।
হঠাৎ ঘুমের ঘোরে পর্যাপ্ত নিঃশ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করে উঠল রমনী। চোখ খুলতেই চোখের সামনে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। ‘উমম উমম’ করে রমনী দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইল আর্যকে, তবে পারল না। আর্য একহাতে রমনীর দুই হাত ক্রস করে উপরে চেপে ধরল বিছানার সাথে। এর মধ্যে রমনীর কানে আসে আর্যর ফিসফিস করা কণ্ঠস্বর—
– “সরি জান! আই কান্ট রেসিস্ট মাই সেলফ। এই বারের মতো সামলে নাও তোমার সরকার সাহেবকে।”
পুষ্প আর কী বলবে, বলার সুযোগ দেওয়া হলো না রমনীকে। পুরুষালি কসকসে ওষ্ঠযুগল দখল করে নিল রমনীর নরম লাল রক্তিম অধর। আবারও লাগামহীন নিয়ন্ত্রণ হারা হলো আর্য, নিজের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিতে লাগল তার ফ্লাওয়ারের মাঝে। বলিষ্ঠ দেহে পিষ্ট হতে লাগল কোমল পুষ্প। রমনীর কষ্ট হলেও সামলাতে লাগল তার বেপরোয়া, বেসামাল সরকার সাহেবকে। দুজনেই একে অপরকে রাঙাতে লাগল একে অপরের রঙে।
পুষ্পকে গোসল করিয়ে দিয়ে পাঁজাকোলা করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল আর্য। পুষ্প একদম নিস্তেজ হয়ে আর্যর বুকে লেপ্টে আছে। আর্য পুষ্পকে খাটে বসিয়ে নিজে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। তাড়াহুড়ো করে নিজেও শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে। আর্যর চুলের আগা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে, সেদিকে খেয়াল না করে তাড়াহুড়ো করে এসে আগে পুষ্পকে জামা পরিয়ে দিল, তারপর তোয়ালে নিয়ে পুষ্পর লম্বা চুলগুলো মুছে দিতে লাগল। মোছা শেষ করে নিজের চুল মুছে নিল।
আর্য একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পুষ্পর দিকে। তার ফ্লাওয়ার তার সাথে কথা বলছে না সকাল থেকে। এই যে সে কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে গেল, নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিল—পুষ্প একটা কথাও বলেনি; শুধু ঠান্ডা পানি শরীরে দিতেই ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠেছে। পুষ্পর কান্না দেখে আর্য অস্থির হয়ে কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই বলছে, ‘জ্বলছে’। আর্য সেটা শুনে আবার গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়েছে। আর্য নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এল। পুষ্পর দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল, মনে কী রকম ভাবনা আসছে! কোনোভাবে কি তার ফ্লাওয়ার খুশি নয় তার ঘনিষ্ঠ হওয়ায়? সে কি ভুল বুঝছে? কোনোভাবে কি মনে করছে সে সুযোগ নিয়েছে?
আর্য পুষ্পর সামনে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পুষ্পর নরম হাত দুটো নিজের শক্ত হাতে নিল। পুষ্পর দিকে তাকিয়ে নরম কণ্ঠে ডাকল—
– “জান?”
আর্যর আদুরে ডাকে পুষ্প চোখ তুলে তাকাল। আর্য এবার কাঁপাপা গলায় জিজ্ঞেস করল—
– “জা…জান, তুমি খুশি নও আমি কাছে আসায়?”
আর্য জানে উত্তর কী হবে, তবুও অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপছে; যদি তার ফ্লাওয়ারের ইচ্ছের বিরুদ্ধে সব হয়, তাহলে সে নিজের সাথে আয়নায় চোখ মেলাতে পারবে না, নিজেকে নিজের কাছে ছোট মনে হবে। এদিকে আর্যর কথায় পুষ্প চমকে উঠল, অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল আর্যর দিকে। এর মধ্যে আর্য আবারও অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “ফ্লাওয়ার, বলো না, চুপ করে আছো কেন? আমি কাছে আসায় তুমি খুশি নও?”
পুষ্প এবার ঠোঁট ভেঙে ডুকরে কেঁদে উঠল। আর্য আরও অস্থির হয়ে উঠল, পুষ্পর মায়াবী মুখটা আলগোছে দুই হাতের আজলায় তুলে নিল। এবার ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “ফ্লাওয়ার, কাঁদছ কেন? কিছু বলছ না কেন? আচ্ছা, আমার কাছে আসা তোমার পছন্দ না হলে আমি আর তোমার কাছে আসব না, কান্না থামাও।”
আর্যর কথা শুনে পুষ্পর কান্না বাড়ল বই কমল না। এদিকে পুষ্পকে কাঁদতে দেখে আর্য অস্থির, উতলা হয়ে উঠল; তার মনে হতে লাগল তার ফ্লাওয়ার খুশি নয় সে ঘনিষ্ঠ হওয়ায়। পুষ্প এবার হেঁচকি তুলে কাঁদতে লাগল—
– “বলেছি তো তুমি না চাইলে আর কাছে আসবো না!”
– “আমি কখন বলেছি আপনি কাছে আসায় আমি খুশি নয়?”
কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করল পুষ্প। এবার আর্য অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “তার মানে আমি কাছে আসায় তুমি নারাজ নও?”
রমনী এবার দুই দিকে মাথা নেড়ে বোঝাল ‘না’।
– “তাহলে আমার সাথে কথা বলছ না কেন আর কাঁদছই বা কেন?”
পুষ্প এবার কান্নাভেজা গলায় ঠোঁট উল্টে বলল—
– “আমি কালকে রাতে আপনাকে ইচ্ছে করে কামড় দিইনি। আমার কী হয়েছিল জানি না, আমি কিছু ইচ্ছে করে করিনি, শুধু আপনাকে দেখেই মনে হচ্ছিল—”
– “কী মনে হচ্ছিল, জান?”
পুষ্পর কথা শেষ হওয়ার আগেই আর্য দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করল। পুষ্প এবার দুই হাতে মুখ চেপে ধরে চুপ করে গেল। কী বলছিল সে! এদিকে পুষ্পকে মুখে হাত চেপে ধরে চুপ করতে দেখে আর্য আর পুষ্পকে ঘাঁটাল না। সে বুঝতে পারল, তার বউ নারাজ নয়; বরং গতকাল রাতে সে ড্রাংক অবস্থায় যেগুলো বলেছে এবং করেছে, সেগুলোতে লজ্জা বলো কিংবা সংকোচ নিয়ে মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু এতে মন খারাপ করার কী আছে? সে কি কম কামড়েছে নাকি? সে তো তার ফ্লাওয়ারের বর, তাকে কামড়ানোর পুরো অধিকার আছে; তার ফ্লাওয়ারের ইচ্ছে করলে তাকে কামড়ে খেয়ে ফেলবে! আর্য এবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলল—
– “এই জন্য কাঁদছ?”
– “তলপেটের নিচে ব্যথা করছে। আমি দাঁড়াতে পারছি না!”
কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল রমনী পুষ্পর কথা শুনে আর্যর মুখ কালো হয়ে গেল। সে একটু বেশিই হার্ড হয়ে গিয়েছিল, তার খেয়াল রাখা উচিত ছিল তার ফ্লাওয়ার তার থেকে ছোট, একটু বেশিই নাজুক। তবে মুখে সেটা বলল না। বরং উঠে পুষ্পর ঠোঁটে শব্দ করে আদুরে চুমু খেল, তারপর বলল—
– “প্রথমবার তো, তাই বেশি ব্যথা করছে। আমি মেডিসিন নিয়ে আসব, সব ঠিক হয়ে যাবে। আস্তে আস্তে দেখবে ব্যথা কমে যাবে।”
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫২ (৩)
রমনী আর কিছু বলল না। আর্য এবার পুষ্পকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজে বিছানার বেডসিট তুলে নিল। সাদা বেডসিটে ছোপ ছোপ লাল রক্ত লেগে আছে, সেটা বালতিতে ভিজিয়ে দিয়ে নতুন চাদর বিছিয়ে দিল। তারপর পুষ্পকে আবার বিছানায় শুইয়ে দিল। পুষ্পর কপালে আলতো চুমু দিয়ে বলল—
– “আমি একটু যাব আর আসব! তুমি ততক্ষণ ঘুমিয়ে নাও, ওকে? রুমের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমি এক্ষুনি চলে আসব।”
