Home অবেলার প্রণয়ভেলা অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ২০

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ২০

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ২০
ফাহিমা ইসলাম

প্রখর দিবালোকে আজ ধরণী যেন এক প্রাচীন মহাকাব্যের দীপ্ত অধ্যায় হয়ে উঠেছে। অগ্নিময় সূর্যকিরণ আকাশের উচ্চ শিখর হতে তীক্ষ্ণ বর্শার মতো নেমে এসে নগরীর প্রতিটি ইট, প্রতিটি ধূলিকণাকে দগ্ধ স্বর্ণাভ আভায় রঞ্জিত করছে। নীলিমার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে মেঘেরা আজ নিরুদ্দেশ যাত্রী।
সময়! সে তো এক নির্দয় স্রোতস্বিনী, অদৃশ্য অথচ অবিনাশী। নিস্তব্ধতার অন্তরালে সে অবিরাম খনন করে চলে জীবনের ভূগর্ভ, ক্ষয় করে প্রতিটি অনুভূতির প্রাচীর, নিঃশব্দে কেড়ে নেয় অপূর্ণ স্বপ্নের অবশিষ্ট আলো। সময়ের গতিপথ কখনো ঝর্ণাধারার মতো স্বচ্ছ নয়; বরং তা এক অদৃশ্য খরস্রোতা নদী যার স্রোতে ভেসে যায় স্মৃতি, প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসার অপূর্ণ উচ্চারণ। সে কারো জন্য থামে না, কারো আহ্বানে দিশা বদলায় না; শুধু বয়ে যায় নিজের নির্মম ধারায়, নিজের অমোঘ নিয়মে। তার বুকে জমা থাকে অগণিত অপ্রকাশিত গল্প, দিয়ে যায় নতুন এক অধ্যায়। এই খরস্রোতে সঙ্গে বয়ে গেছে দু’টো মাস। এই তো ক’দিন আগেই জীবনের পথচলা ছিল একরকম আর আজকে। আজকে নতুন এক অধ্যায় উন্মোচনের পথা হাঁটছে সে। জীবনে অপূর্ণতার ঘড়াই ছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু সময় যেনো সেটা এখন পূর্ণতা দিয়ে ভড়িয়ে দিচ্ছে।

কক্ষের একপ্রান্তে বসে গুণ গুণ করে গান গাইছে তূর্ণা। পাশেই রোদেলাও বসে তার সঙ্গে সুর মেলানো প্রচেষ্টা আছে, এত কঠিন শব্দ হওয়ায় তার উচ্চারণ ঠিক না হলেও মনের আনন্দে গেয়ে যাচ্ছে। রোদেলা তার ছোট ছোট আঙ্গুলগুলো তূর্ণার দিকে তাক করলো, হাত নাড়িয়ে দেখাতে চাচ্ছে কিছু। তূর্ণা গান গাওয়া বন্ধ করে দিয়ে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ রোদেলার হাতের উপর দিলো। রোদেলা গণনা করা শিখেছে, সেটাই দেখানো আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। রোদেলা আর তূর্ণার কাজ হলো রৌদ্রিক কাজ শেষে যখন বাড়ি ফেরে; তখন তার নিকট পড়া জমা দেওয়া। রোদেলার তেমন পড়া না দিলেও তূর্ণাকে বেশ পড়া দিয়ে যায়, এই মুহুর্তে তূর্ণা সামনে একখানা বই। যেখানো এক থেকে দশের ঘরের নাম্তা মুখস্থ করার আদেশ দিয়ে গেছে রৌদ্রিক। তূর্ণার পড়তে একটুও ভালো লাগে না, পড়া না পারলে রৌদ্রিক কেমন নিষ্টুর মানব হয়ে যায়। যার হৃদয় তখন সম্পূর্ণ পাথর দ্বারা তালাবদ্ধ হয়ে থাকে, তখন তূর্ণার অশ্রুসিক্ত নয়নমণিও সেই পাথর ভেঙে নরম করতে পারে না সেই মানবকে।

এতক্ষণ ধরে পড়ার জন্য বই খুলে বসে আছে, অথচ তার অন্তঃকোণ জুড়ে প্রজাপতির ন্যায় উড়ে বেরাচ্ছে হাজারও নতুন এক অনুভূতির ঝাঁক। বসন্তকালে যখন উদ্যান জুড়ে ফুলের সমাহরে ভড়ে ওঠে চারিদিক, তখন যেমন এক ঝাঁক প্রজাপতিরা নিজেদেট সুসজ্জিত দু’টি ডানা মেলে ফুলের আশেপাশে ঘুরে বেরায়। ঠিক তেমনিই তূর্ণার হয়েছে, মনে হচ্ছে প্রজাপতিরা বাগান ছেড়ে তার অন্তস্তলে এসে পরেছে। কেনো এসেছে, সেটাও জানা নেই তার। রোদেলা তূর্ণার দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখ করে বলে-
“ মা..আতাল তলে দেতে। এত, তুত,তিত,তাল,তাঁত,চায় আল তয় না।”
রোদেলার কথা শুনে তূর্ণার অবুঝের মত অধর জড়ো উল্টিয়ে ফেলে। সে এবারও রোদেলার সম্পূর্ণ কথা বুঝতে অক্ষম! এটা বললে রোদেলা মনটা বিষাদে ভড়ে উঠবে, তাই তূর্ণা সেটা না বলে সে নিজেও হেসে রোদেলাকে আরও উৎসাহ দিয়ে বলে-

“ ওয়াও পুতুল খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু আমার যে হচ্ছে না, বর তো এলে আবারও বকা দিবে আমায়৷”
তূর্ণার কথা শুনে রোদেলারও মন খারাপ হয়। পড়া না পারলে তার পাপা তাকে কিছু না বললেও, তূর্ণাকে ছাড় দেয় না। এমনটা নয় যে রৌদ্রিক তূর্ণার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে, পড়া না পারলে রোদেলা বা রৌদ্রিক কেউই তার সঙ্গে কথা বলে না। নীরবে তার পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তখন চাইতেও তূর্ণার ব্যাকুল মনটা ছটপট করে ওঠে। চন্দ্র যেমন সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীকে তার আলোকরশ্মি দিয়ে কৃষ্ণবর্ণ নীলিমা আলোকিত করতে পারে না নিস্তব্ধতায় ঘেরা অন্ধকারকে। তেমনিই রৌদ্রিক আর রোদেলা যখন তূর্ণার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তখন না চাইতেও তূর্ণা ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ছটপট করে এই মানুষ দু’টির সঙ্গ পাওয়ার জন্য। রৌদ্রিক আর রোদেলার নীরবতাই সবচেয়ে বড় শাস্তি হয় তূর্ণার জন্য। তাই তূর্ণা সবসময় চেষ্টা করে রৌদ্রিক যেটা পড়া দেয় সেটা সম্পূর্ণ করে দেওয়ার।

“ পল পল, মা পল, বেতি বেতি পল।”
রোদেলার এই কথাটুকু বুঝতে সক্ষম সে। তার পুতুলও তাকে তার পাপার সঙ্গে মিলে জোর করে পড়ায়। তূর্ণা নাক-মুখ কুঁচকিয়ে, বিষণ্ণতা ভড়া গলায় বলে-
“ তুমিও বরের টিমে চলে গেছো পুতুল। আমায় একটুও ভালোবাসো না আর!”
তূর্ণার কথা শুনে রোদেলা টেবিলের উপর বসে থাকায়ে সে, তূর্ণার দিকে ঝুঁকে তার গ্রীবাদেশ তার ছোট আদুরে হাত দ্বারা আঁকড়ে ধরে। তারপরও আদুরে বিড়াল ছানার মতো তূর্ণার নিকট মাথা নাড়িয়ে আধো স্বরে বলে-
“ মা বালুবাতি, এতু এতু বালুবাতি মা।”

রোদেলার কথা শুনে তূর্ণার মনটা ভালো হয়ে গেলো৷ হাত বাড়িয়ে রোদেলাকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নেয় সে। রোদেলার ললাটে আঁচ্ছড়ে পরা বেবি হেয়ারগুলো অতি যত্নসহকারে সড়িয়ে দেয়, রোদেলা যেনো আরও আদুরে বিড়াল ছানা হয়ে উঠলো। মুরগীর বাচ্চা যেমন না মুরগীর ওমে চুপটি করে লুকিয়ে মা মুরগীর গরম উষ্ণতা নেয়। রোদেলাও তেমনিই তূর্ণার বুকে মিশে গিয়ে একটা আদুরে মুরগী ছানা হয়ে গেছে৷ যেখানে তূর্ণা তার নরম উষ্ণতায় ভড়িয়ে দিচ্ছে। দূর থেকে জবা সিকদার সবটা দেখলেন, তার মুখাবয়বের আভিভক্তি দেখে বোঝা গেলো না তার ভিতকার অবস্থা। হাতে তার রোদেলার ধুয়ে দেওয়া জামা, তূর্ণা জবা সিকদারকে দেখে সটান হয়ে বসলো। তবে রোদেলাকে ছাড়লো না, জবা সিকদারকে দেখে রোদেলা তূর্ণার বক্ষস্থল থেকেই মিষ্টি একখানা হাসি উপহার দিলো।
“ নিচে আসো খাবার খাবে। তারপর মেডিসিন নিবে মনে থাকে যেনো।”
তূর্ণা মাথা নাড়িয়ে শুধু হ্যাঁ জানালো। জবা সিকদার তাকে আর আগের মত বকা দেয় না, তবে হালকা-পাতলা শাসন করে। যার জন্য এখনো হালকা হালকা ভয় পায় সে জবা সিকদারকে।

নিস্তরঙ্গ রাত্রির কৃষ্ণপটে আজ আঁকা হয়েছে এক বিষণ্ন মহাকাব্য। গভীর অন্ধকার যেন আকাশের বুক চিরে ছড়িয়ে পড়া এক অব্যক্ত শোকগাঁথা, যেখানে নক্ষত্রেরা নিভৃত শোকের প্রদীপ হয়ে দূরত্বে জ্বলছে নিস্তেজ আলোয়। চন্দ্রালোক আজ মলিন, যেন কোনো অব্যক্ত অনুশোচনার ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তার রূপালী দীপ্তি।দূর কোনো প্রান্ত থেকে এই রাত চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে রৌদ্রিকের গাড়ি। বাড়ির প্রাঙ্গণে পৌঁছে গাড়ির ইঞ্জিন স্তব্ধ হতেই চারদিকের নীরবতা আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। আজকে ফিরতে ফিরতে বেশ দেরি হয়ে গেছে, বিশাল ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে রৌদ্রিক। গম্ভীর, অনড়, অনুভূতিহীন এক প্রস্তরপ্রতিম পুরুষ সে। তার পদচারণার শব্দও যেন তার মতো আবেগহীন, হিসেবি, শীতল।
নিজ কক্ষে প্রবেশ মাত্রই কক্ষের এক কোণে গুটিশুটি মেরে বসে আছে তূর্ণার দিকে দৃষ্টি যায় রৌদ্রিকের।
অগোছালো চুল, শূন্য দৃষ্টি, ঠোঁটে অর্ধেক গলে যাওয়া কোনো অচেনা বুলির অস্পষ্ট রেখা। সামনে খোলা খাতা অসম্পূর্ণ লেখা, ঘুমের কাবু হয়ে আছে মেয়েটা। অথচ তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা করছে জেগে থাকার। অসম্ভব রকমের লালচে হয়ে আছে তার নেত্রজোড়া।
রৌদ্রিকের উপস্থিতি উপলব্ধি করা মাত্রই তূর্ণা, নিদ্রা আচ্ছন্ন নেত্রযুগল তাক করে।

“আপনি… এসেছেন বর?”
তূর্ণার কণ্ঠে কাঁপা কাঁপা সুর, যেন কোনো ভাঙা বাঁশির করুণ ধ্বনি। এই বুঝি কেঁদে ফেলবে সে, রৌদ্রিক বুঝলো তূর্ণার এমন ভারাক্রান্ত হওয়ার কারণ। রৌদ্রিক নিরুত্তর রইলো তার দৃষ্টি স্থির তূর্ণার উপর। তূর্ণা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়, পা টেনে এগিয়ে এলো রৌদ্রিকের দিকে। মাথা নুইয়ে এলোমেলো কণ্ঠে বলে+
“আমি… আমি চেষ্টা করছিলাম… কিন্তু শব্দগুলো… পালিয়ে যাচ্ছে আমার মাথা থেকে।”
রৌদ্রিক স্থির, কোনো বাক্য উচ্চারণ করলো না সে। রৌদ্রিকের এই নীরবতা তূর্ণার নয়নে অশ্রু আসার কারণ হলো। অসহায় মিশ্রিত কণ্ঠে বলে ওঠে-
“আপনি কথা বলছেন না কেন বর?”

তূর্ণা এবার আর আঁটকে রাখতে পারলো না নিজেকে। অশ্রুসজল চোখে রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে বলে-
“ কালকে সব পড়া করে দিবে বর। সত্যি বলছি তাও আমার সাথে না কথা বলে থাকবে না, আমার খুব কষ্ট হয় বর!”
বলেই কেঁদে দিবে প্রায়। রৌদ্রিক নামক পাথর পুরুষটা কি একটু নরম হলো? কই তূর্ণা দেখতে পেলো না এমন কিছুই। এই বর নামক মানুষটা যখন তার উপর নীরব এক শাস্তির চাবিকাঠি চালায়, তখন না চাইতেও তূর্ণার ভিতরকার সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। অসহায়ে জর্জরিত হয়ে নুইয়ে পরে তার ছোট্ট হৃদপিণ্ডটা! তার জীবনের তার ভালো লাগার মানুষ খুবই সীমিত। তার মধ্যে তার বর আর পুতুল সবার আগে। এই দু’টো মানুষকে কোনো কারণ ছাড়াই তূর্ণা প্রচন্ড রকমে ভালোবাসে। তার জানা নেই ভালোবাসার ভাষা কোনটা, কিভাবে বাসতে হয় সেটাও জানা নেই তার। শুধু এতটুকুই জানে এই মানুষগুলো তার সঙ্গে কথা না বললে সে একদমই ভেঙে পরে৷ সবকিছু কেমন শূন্য হয়ে যায় তার। যে এতক্ষণ ধরে রৌদ্রিকের আসার প্রহর গুণছিলো, কখন রৌদ্রিক আসবে। রৌদ্রিক তূর্ণার অশ্রুসজল জ্বলজ্বল করতে থাকা মায়াভড়া আঁখির দিকে তাকিয়ে, একটা দুটো বাক্যই উচ্চারণ করলো।

“ শুয়ে পর।”
বলেই রৌদ্রিক যেতে নিলে হুট করেই হাত পেশিবহুল হাতে নরম একখানা হাতের স্পর্শ ঠেকে। রৌদ্রিক তার হাত ধরে রাখার মানুষটাকে চেনে, সে কোনো বাক্য উচ্চারণ করলো না। হিমশীতল,গাম্ভীর্যের ঠাসা একজোড় কালোমণি যুক্ত নেত্র মেলে শুধু চেয়ে রইলো। তূর্ণা ভেজা স্বরে বলে-
“ এমনটা করবেন না বর। তূর্ণা সব পড়া করে দিবে, একদম অবাধ্য হবে না প্রমিজ। তাও আমার সঙ্গে কথা বলুন৷ নাহলে তূর্ণা বুকে অনেক ব্যথা করে!”
রৌদ্রিক তাকালো তূর্ণার অশ্রুসজল নেত্রদ্বয়ের দিকে। নৈঃশব্দে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো রৌদ্রিক, আজ-কাল এই মেয়ের অশ্রুসিক্ত চোখ তার নিকট কেমন পিরাদায় হয়ে উঠেছে। ভালোবাসার দায়ভার সে নেয়নি, অথচ মেয়েটা চোখের প্রতিটা অশ্রু ঘিরে তারই অস্তিত্ব মিশে আছে। প্রতিটা অশ্রু জানান দিচ্ছে সে কতখানি জায়গা করে নিয়েছে এই মেয়ের অন্তস্তলে। কিন্তু সে কি পরেছে এখনো এটা? জবাব মিললো না নিজের হৃদয়ের কাঠগড়ায়, মেয়েটা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়তই সে চেষ্টা করে নিজেকে সুস্থ করার। কারণ একটাই রৌদ্রিক, না রৌদ্রিক নয় তূর্ণা বর নামক মানুষটার জন্য। রৌদ্রিক হয়তো হালকা নরম হলো, তূর্ণার অশ্রুসিক্ত চোখে চোখ রেখে বলে ওঠে-
“ যাও ঘুমিয়ে পর। আর রাত জাগবে না, আমার দেরি হলেও না। সকালে পড়া শেষ করে হসপিটালে যাওয়ার আগে আমাকে সম্পূর্ণ বলবে।”

রৌদ্রিকের কথা শোনা মাত্রই তূর্ণার চোখে এক দীপ্তি ফুটে ওঠে। কান্নার মাঝেও হেসে ওঠে সে, মনমাতানো একখানা হাসি দিয়ে নাক টেনে বলে-
“ সকালেই করে দিবে একদম পাক্কা। আপনি খালি রাগ করিয়েন না বর।”
রৌদ্রিক কিছু বললো না, চেয়ে রইলো তূর্ণার হাস্যজ্বল দীপ্তিময় মুখশ্রী পানে। তূর্ণার সবে আঠারোতে পা দিয়েছে, তার নিজেরই ধারণা নেই তার জন্ম তারিখ কবে। না আছে বয়সের ধারণা, তূর্ণা এক আশ্চর্যজনক কাজ করে বসলো। রৌদ্রিকের গ্রীবাদেশে নিজের দুই হাত দ্বারা তার সুবিশাল কাঁধ আঁকড়ে ধরলে, তার অধরজোড়া রৌদ্রিকের দাঁড়ি বিশিষ্ট কপোলে বসিয়ে দিলো। রৌদ্রিক একদম আকস্মিক ঘটনার জন্য প্রস্তাব ছিল না। রৌদ্রিক হয়তো এইবার তার কাঠিন্যের আস্তরণ ছাড়িয়ে বিস্মিত হয়েছে। তূর্ণার নিজেও এখন লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতে পারছে না। মাথা নুইয়ে রেখেছে, এই কাজটা করার জন্য সে অনেকদিন ধরে সাহস সঞ্চয় করেছে। লজ্জার রেশ তূর্ণার মসৃন কপোলে লাল আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। রৌদ্রিকের গলা ছেড়ে উল্টো পাশে ফিরে দৌড় দিতে নিবে, সেই সময় অসতর্কতার কারণে মুখ থুবড়ে পরে যেতে নিলে। তার নরম কব্জি ধরে টান দিয়ে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছে রৌদ্রিক নাম গম্ভীর পুরুষটি। লজ্জা কেটে দিয়ে একরাশ আতঙ্ক ছেয়ে গেছে তার মুখাবয়বে। এই প্রথম হয়তো তাদের এতটা কাছে আসা। দু’জনের উষ্ণ গরম নিশ্বাস অনুভব করতে পারছে দু’জনই। তূর্ণা এমন অনুভূতির সঙ্গে পূর্বপরিচিত নয়, তাই আলাদা এক অনুভূতির উপস্থিতি টের পেলো সে।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৯

“ কি ছিলো এটা তূর্ণা?”
শীতল স্বরে জিজ্ঞেস করে রৌদ্রিক। তূর্ণা রৌদ্রিকের চোখে চোখ রাখতে পারছে না, অজানা একদলা লজ্জা গুলিয়ে ফেলছে তাকে।
“ আ..আমি…আমি..ইয়ে..মানে..আসলে বর। আপনি অনেক ভালো.তাই..আ..আদর দিয়ে দ..দিলাম।”

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ২১