অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪২ (২)
ফাহিমা ইসলাম
দিন গড়িয়ে রাত্রি নেমেছে রোজকার নিয়মে। শীতল দমক হওয়ায় মুখরিত পরিবেশ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাত্রি বেড়ে চলেছে, তূর্ণা নিজ কক্ষে আপন মনে প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে একমনে। গায়ে জড়ানো তার নীল শাড়ি, প্রেমিক পুরুষরা সর্বদা তার প্রেয়সীকে নীল রঙে দেখতে ভালোবাসে। নিজেকে রাঙিয়েছে সে, অদ্ভুত এক সৌন্দর্য তূর্ণাকে ঘিরে ধরেছে। পাশেই তার সঙ্গী রোদেলাও বসে তার পাপার অপেক্ষায়। তূর্ণার সুন্দর করে তার চুলগুলো বেঁধে দিয়েছে, মা-মেয়ে মিলিয়ে নীল রঙ পরেছে। ভালোবাসার আর একনাম নীল রঙ; সারা কক্ষে ছোট ছোট মোমবাতি জ্বলছে। সুন্দর করে সাজানো কক্ষটা। তূর্ণার সবাইকে ডাকতে চেয়েছিল, কিন্তু ইরা আর রিনি চেয়েছে তারা একান্ত সময় পার করুক। তাই না চাইতেও তাদের জোরাজুরিতে এখানে সে।
তূর্ণার বানাবো কেকটাও এখানে, যতটুকু পেরেছে সে সাজিয়েছে। প্রথম হিসেবে খারাপ হয়নি, বাড়ির সবাই বলেছিল অনুষ্ঠান করতে। তবে তূর্ণা কেনো জানি চায়নি, মানুষ আসলেই বিষাদে ভরা বাক্য চারিদিকে ছড়িয়ে পরে তাই সে চায়নি অনুষ্ঠান হোক। তবে বাড়ির সবাই একবার বলে কেনো জানি এই ব্যাপার চুপ হয়ে গেছে। কেনো হয়েছে জানা নেই তূর্ণা, তূর্ণাও আর আগ্রহ দেখায়নি এই বিষয়ে। রোদেলা তূর্ণার দিকে তাকিয়ে নাক উঁচু করে বলে-
“ পাপা আতে না কেনু?”
“ হয়তো কাজে আটকা পরেছে, তাই দেরি হচ্ছে। এসে পরছে।”
“ তুনি মোন খালাপ করিও না মা। পাপা এলে বকে দিবু, এত দেলি কেও করে?”
পাকনা বুড়ির মত করে বলে ওঠে রোদেলা। সেটা দেখে তূর্ণা মৃদু স্বরে হেসে উঠলো, রোদেলাকে কাছে টেনে নিয়ে বলে-
“ পাপাকে বকা দিবে বুঝি? রোদেলা শাসনও করতে পারে বাহ!”
“ তোদেলা সোব পারে। কালণ আনি তো পাপার রাতকন্যা!”
তূর্ণা এবার শব্দ করে হেসে ওঠে, রোদেলা এখনো নিজের নামটা ‘তোদেলা’ বলে। তার নামের আগে ‘র’ টা সে উচ্চারণই করতে পারে না। তূর্ণা রোদেলা আদর করতে করতে বলে-
“ খালি পাপারই রাজকন্যা হলে হবে? মায়ের কি হয় রোদেলা?”
“ পাপার রাতকন্যা, আল মায়েল পুতুল।”
হাসি হাসি মুখ করে বলে ওঠে, সেটা দেখে তূর্ণা কতগুলো আদর করে দিলো। রোদেলা আর তূর্ণা নিজ জগৎ এ গল্পে হারিয়ে গেলো। ভুলেই গেলো তারা যপ রৌদ্রিকের জন্য অপেক্ষা করছিল। বেশ অনেকখানি সময় পর দরজা খোলার শব্দ কর্ণকুহরে প্রবেশ মাত্রই রোদেলা আর তূর্ণা দাঁড়িয়ে পরলো। দরজার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো রৌদ্রিক প্রবেশ করছে। সেটা দেখে রোদেলা দৌড়ে রৌদ্রিকের কাছে গিয়ে আনন্দোচ্ছ্বাসে বলে ওঠে-
“ পাপা, মা হ্যাতি এনিবারসিলি।”
রৌদ্রিক মেয়ের কথা শুনে মেয়েকে কোলে উঠিয়ে নেয়। তূর্ণা লজ্জায় আষ্টশ হয়ে আসা মুখখানা নুইয়ে ফেলেছে। রৌদ্রিক তার দিকে এসে দাঁড়াতেই তূর্ণার কর্ণকুহরে বাজতে লাগলো-
“ হ্যাপি অ্যানিভার্সারি মিসেস সিকদার। আমার জীবনে আপনার দিনগুলো যেনো আরও ভালো কাটুক।
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণা চোখ তুলে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হলো। এতক্ষণের কালো মেঘে থাকা স্তুপগুলো অন্তঃকরণ থেকে দূরে সরে গেলো।
” পাপা, পাপা তেত কাতো। মা তেত বানিয়েতে তো।”
রৌদ্রিক তূর্ণাকে একহাতে নিজের কাছে এনে কেকের দিকে একবার তাকালো। সে জানতো তূর্ণার এত সকাল সকাল ওঠা, তারপর এতকিছু করার কারণও। তবে সে নিশ্চুপ ছিল, তূর্ণাকে তূর্ণার মন মতো কাজ করতে দিয়েছে। কেক কাটার পর তূর্ণার আর রোদেলাকে খাইয়ে দিয়ে তূর্ণার উদ্দেশ্যে বলে ওঠে-
“ চল।”
বাক্য ফুরানের পর পরই রোদেলাকে কোলে নিয়েই তূর্ণার হাতটা নিজের হাতের মাঝে আবদ্ধ রেখে বাহিরে নিয়ে এলো। তূর্ণা প্রশ্ন করারও সুযোগ পেলো না, চুপচাপ রৌদ্রিকের কদমের সঙ্গে কদম মিলিয়ে চলছে। কিছুখন পর ছাদের দরজার কাছে আসতেই দেখতে পায় সারা ছাদ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। সচারাচর ছাদের আলো জ্বালানো থাকে, কিন্তু আজ নেই। তাই অবাক হলো তূর্ণা।
“ ছাদের আলো কি রহিম কাকা আজ জ্বালায় নি? এত অন্ধকার কেনো?”
“ অন্তকাল কেনু?”
তূর্ণার দেখাদেখি রোদেলাও প্রশ্ন করলো। রৌদ্রিক কিছু বললো না, পা বাড়িয়ে তাদের নিয়ে গেলো। ছাদে পা রাখতেই সঙ্গে সঙ্গে সারা ছাদ আলোকিত হয়ে উঠলো। চারিদিকে জ্বলমলে সজ্জায় সজ্জিত গোটা ছাদ। তূর্ণা অবাক নয়নে দেখলো সবটা, সে সত্যিই এমন কিছু আশা করেনি। হুট করেই চোখের সামনে এতকিছু দেখে সে বিস্মিত! একে একে বাড়ির সবাই বেরিয়ে এলো। সবাই তাদের বিবাহবার্ষিকী শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তূর্ণার জানা নেই এইসব কখন করেছে সবাই।সমগ্র ছাদজুড়ে অসংখ্য ফেয়ারি লাইট ঝুলছে। সাদা আর সোনালি আলোর মিশেলে চারপাশ যেন নক্ষত্রলোকের কোনো খণ্ডচিত্র। একপাশে সাদা গোলাপ ও রজনীগন্ধার সারি। মাঝখানে কাঁচের লণ্ঠন। আর ঠিক কেন্দ্রস্থলে সাজানো রয়েছে একটি ছোট্ট টেবিল। তূর্ণা নির্বাক, তার বড় বড় চোখ বিস্ময়ে স্থির হয়ে রইলো। তূর্ণা নেত্রদ্বয় ছলছল করে উঠলো, এর আগে এমন সারপ্রাইজ সে পায়নি। তাই এইসব কিছু তার নিকট অবিশ্বাস্য ঠেকছে। রিনি আনন্দের সঙ্গে এগিয়ে এসে বলে-
“ হ্যাপি অ্যানিভার্সারি মাই ডিয়ার ভাবি এন্ড ভাইয়া। রোদ চলে আসো পিপির কাছে।”
বলতেই রোদেলা রিনির কোলে চলে গেলো। তূর্ণার সবার চোখে কৃতজ্ঞ তাকালো। সারা ছাদ সুন্দর করে সাজানো, ফুলের গন্ধে সারা জায়গাটা মো মো করছে।
“ আরে ভাই আসো কেক কাটো। কতক্ষণ আর মশার কামড় খাবো, কেক কাটার পর একান্তই তোমরা কামড় খাইও।”
রিনির কথা শুনে সবাই হেসে ফেললো, তূর্ণার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না এতকিছুর আয়োজন করেছে তার জন্য। সে নিজেই সারাদিন এটা-ওটা করেছে তাই এইসবের চিন্তা তার মাথায় আসেনি। সে আরও ভেবেছিল রৌদ্রিকের হয়তো মনে নেই তাদের বিবাহবার্ষিকী কথা। তাই মনটাও খারাপ ছিল অনেকটা, কিন্তু এখন তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই মানুষটা বরাবরই তাকে মুগ্ধ করে, মুগ্ধ হওয়ার জন্য বিশাল কিছু লাগে না। ছোট ছোট যত্নের মাধ্যমে মুগ্ধতা ছড়ায় এই মানুষটা।
ছলছল চোখে সবার দিকে তাকিয়ে কম্পিত স্বরে বলে ওঠে-
“ এসব…?”
রৌদ্রিক ভ্রু তুললো।
“ পছন্দ হয়নি?”
তূর্ণা মাথা নাড়লো। কিন্তু পরমুহূর্তেই তার চোখ ভিজে উঠলো।
“ কেউ কোনোদিন,আমার জন্য…”
বাকিটুকু আর বলতে পারলো না।রৌদ্রিকের বুকের ভেতর যেন কেউ অদৃশ্যভাবে টান মেরে ধরলো। ধীরে এগিয়ে এসে সে বললো-
“ তাহলে আজ থেকে অভ্যাস করে নাও।”
“ কি?”
“ তোমাকে অবাক করে দেওয়ার অভ্যাস।”
এক মুহূর্তের জন্য সময় যেন থমকে দাঁড়ালো। তূর্ণার সত্যি জানা নেই সে কি এমন পূর্ণের কাজ করেছিল, আল্লাহ তাকে এমন একটা জীবনসঙ্গী দিয়েছে। জবা সিকদার সবার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ সবাই ঘরে চলো, ওদের একা সময় কাটাক। রোদ দিদুভাই আসো তো দেখি দিদুর কাছে।”
রোদেলাও বায়না করলো না আর। চুপচাপ দাদির কাছে চলে গেলো, অনেকটা সময় জেগে থাকার কারণে ঘুমও পাচ্ছে তার। রোদেলা রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে-
“ পাপা মা’কে এতদম বকবে মা কিত্তু। পলা কালকে কলে দিবে মা, তাই মা’কে বকবে না।”
রোদেলার এমন শাসন মাখানো কথা শুনে আর একদফা সবাই হেসে ফেললো। এরপর একে একে সবাই বেরিয়ে এলো। রিনি, শ্রাবণ, বাড়ির সবাই। একসময় সবাই বিদায় নিল। ছাদে রয়ে গেল কেবল দু’জন মানুষ। নক্ষত্রখচিত আকাশের নিচে। শীতল বাতাসে বইছে চারিদিকে, তূর্ণা রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দূরের শহরের আলোগুলো দেখছিল। হঠাৎ অনুভব করলো, কেউ তার আঙুলগুলো নিজের মুঠোর ভেতর আবদ্ধ করেছে। তূর্ণা চমকে তাকালো।
“ আমার জীবনে তোমাকে আবারও স্বাগতম মিসেস সিকদার।”
তূর্ণা ভেজা চোখে রৌদ্রিকের দিকে তাকালো। রৌদ্রিক আবারও শান্ত স্বরে বলে-
“ জানো, একসময় আমি ভাবতাম আমার জীবনে অনুভূতি বলে কিছু নেই।তারপর তুমি এলে।”
তূর্ণার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। রৌদ্রিক ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো।
“ তুমি জানো তূর্ণা, পৃথিবীতে অনেক সুন্দর জিনিস আছে। আকাশ আছে, সমুদ্র আছে, বৃষ্টি আছে…
রৌদ্রিক কিছুখনের জন্য থামলো। ততঃপর গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
“ কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হচ্ছে তোমার হাসি।”
তূর্ণার চোখ মুহূর্তেই ভিজে উঠলো।
“ আমাকে কি আজকে কাঁদানোর ধান্দা করেছেন আপনি?”
“ এমনিও কান্না নাকের পানি ঝরাও আজকে নাহয় আরও একটু ঝরালে সমস্যা কই?”
“ আপনিনা থাকলে আমার কি হতো?”
“ আমি থাকবো বলেই তো আছি।”
রৌদ্রিক তার কপালে আলতো চুম্বন রেখে ফিসফিস করে বললোহ
“ তুমি ছিলে ভাঙা, আমিও ছিলাম। অথচ অদ্ভুতভাবে আমরা একে অপরের আশ্রয় হয়ে গেলাম। মানুষ বলে আমি তোমাকে আগলে রেখেছি। সত্যিটা হলো, তুমিই আমাকে আগলে নিয়েছো নতুন করে।”
তূর্ণার চোখ বেয়ে অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়লো।
“ এখনো কাঁদছো কেন?”
“ ভালো লাগছে।”
রৌদ্রিক হেসে উঠলো।
“ কান্না করে ভালো লাগা প্রকাশ করতে হয় নাকি?”
“ আমার হয়।”
“ অদ্ভুত মেয়ে।”
“ আপনার স্ত্রী তো তাই।”
“ হ্যাঁ।”
রৌদ্রিক তার নাক আলতো টেনে দিল।
“ আমার স্ত্রী।”
তূর্ণা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলো
“ আমি কোনো জিনিস নই যে আপনার।”
“ কে বলেছে জিনিস?”
“ তাহলে?”
রৌদ্রিক একটু ঝুঁকে এলো। চোখে চোখ রেখে ধীরস্বরে বললো-
“ তুমি আমার ঘর।”
“ পৃথিবীর সব মানুষ ক্লান্ত হলে কোথাও না কোথাও ফিরে যেতে চায়। আমার সেই ফেরার জায়গাটা তুমি।”
তূর্ণা স্তব্ধ হয়ে রইলো, হয়তো আশেপাশের বাতায়ও স্তব্ধ। এই নক্ষত্রভরা আকাশের নিচে দুইটি মানুষ নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যারা ভালোবাসাকে উচ্চারণের চেয়ে অনুভব করতে শিখেছে অনেক বেশি। তাদের মাঝখানে ছিল না কোনো জাঁকজমক, ছিল না কোনো অতিরঞ্জন; ছিল শুধু এক গভীর, নির্মল, অবিনশ্বর প্রশান্তি। যা কেবল সত্যিকারের ভালোবাসাই উপহার দিতে পারে।
অনেকখানি সময় পার হয়েছে, নিস্তব্ধতায় নেমেছে সারা ছাদ জুড়ে। হঠাৎ এই নিস্তব্ধতা ভেদ করে তূর্ণা বলে ওঠে-
“শুনুন!”
ধীর কণ্ঠে বলে উঠলো তূর্ণা। রৌদ্রিক হালকা স্বরে বলে-
“ বলুন মিসেস সিকদার।”
“ পাশের বাড়ির ছানা-পোনা গুলোকে এবার ঘরে তুলবো রোদের পাপা। ছানা-পোনা পোষার জন্য তৈরি হন।”
বলেই দৌড়ে সেখান থেকে নেমে এলো। আর এইদিকে তার কথা মানে বুঝতে রৌদ্রিকের খানিকটা সময় লাগলো, পরমুহূর্তে কথার মানে বুঝতেই একই ভাবে সে ছুটলো তার অর্ধাঙ্গিনীর পিছু। চেয়েছিল সে মেয়েটাকে অবাক করবে, অথচ মেয়েটা তাকে অবাক করে চলে গেলো।
“ কোথায় যাচ্ছেন এই রাত-বিরাতে?”
“ জাহান্নামে, ছাড়ুন বলছি!”
তূর্য রূপার হাত ধরে রুমের ভিতর এনে দরজা লাগিয়ে দিলো। রূপা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো, এই লোকের সঙ্গে সে থাকবে না। তার কান্না পাচ্ছে ভীষণ, কেনো পাচ্ছে জানা নেই। খালি জানে সে থাকবে না এই লোকের সঙ্গে আর।
“ আমি এখানে থাকবো না।”
“ তাহলে কোথায় থাকবেন?”
“ লাগলে জাহান্নামে থাকবো তবুও আপনার সঙ্গে না।”
” ওকে আমার বেবি ডেলিভারি হওয়ার পর জাহান্নামে যাইয়েন বাঁধা দিবো না। এখন কিছু খেয়ে নাও।”
তূর্যের এমন কথা শুনে রূপা এবার শব্দ করে কেঁদে ফেললো। সে চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা, হ্যাঁ সে এখন তূর্যের সন্তানের মা হতে চলেছে। তবুও এই মানুষটাকে বোঝা হয়ে উঠলো না, রূপাকে কাঁদতে দেখে তূর্য রূপাকে টেনে নিজের নিকট নিয়ে এলো। বুকের সঙ্গে জড়িয়ে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করে-
“ কি হয়েছে আমায় বলুন? খারাপ লাগছে?”
রূপা ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলে-
“ আপনি ওই মেয়েগুলোর সঙ্গে কেনো কথা বলেছেন? ওরা আপনার সঙ্গে কেনো কথা বলে রোজ?”
“ ওরা আমার স্টুডেন্ট রূপা। আমি ওদের সাথে কথা বললে আপনার কি? আপনি তো আমার সংসার করবেন না। তাহলে?”
তূর্য শান্ত স্বরে বলে, সেটা শুনে রূপার রাগ যেনে আরও বেড়ে গেলো। তূর্যের বুকে ধাক্কা মে’রে সড়িয়ে গর্জে উঠে বলে-
অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪২
“ আমি সংসার না করলে আপনার বাচ্চা কি এমনি এমনি আমার পেটে নিয়ে আছি? না করলেও ওদেট সঙ্গে এত কথা কি? ক্লাসে বলতে পারে না কথা?”
তূর্য হালকা হাসলো, রূপাকে আবারও কাছে টেনে নিয়ে বলে-
” জেলাস হচ্ছেন?”
