Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৮ (২)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৮ (২)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৮ (২)
অরাত্রিকা রহমান

রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ড্রয়িং রুমের আবহাওয়া ও যথেষ্ট স্বাভাবিক হয়ে এলো। রামিলা চৌধুরী ও রায়হান চৌধুরী রুদ্রর সিদ্ধান্তে খুব গর্বিত, যেটা তাদের মুখে স্পষ্ট ছিল। রুদ্র দিন শেষে নিজের আর রিমির এক হওয়া নিয়ে খুশি যদিও তার মন মতো করে কিছুই হয়নি। তবুও সে সবকিছু নিয়ে সন্তুষ্ট কারণ এখন রিমিকে কষ্ট দেওয়ার মতো কেউ নেই। নিশ্চিত হয়ে এখন অধিকারের সাথে সে রিমির ঢাল হতে পারবে।
রামিলা চৌধুরী ও রায়হান চৌধুরী নিজেদের ঘরে চলে যাওয়ার পর মিরা রিমির জন্য দুধ গরম করতে রান্নাঘরে গেলে রায়ানও মিরার পিছন পিছন যায়। মিরার পাশে দাঁড়িয়ে মিরার কোমরে এক হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো,

-“যা হয় ভালোর জন্য হয়। বেশি চিন্তা করো না। রিমিকে একটু সময় দেও দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে।”
মিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রায়ানের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল-
“জানেন..আমার ছোটবেলায় মাঝে মাঝেই মনে হতো যদি আমার একটা ভাই থাকতো অনেক ভালো হতো। আজ প্রথমবার মনে হলো হয়তো ভালোই হয়েছে আমাদের ভাই নেই।”
রায়ান মিরার কথায় এক কঠিন বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছে তবে তার কিছু বলার নেই। রায়ান কোমল হাতে মিরাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“পৃথিবীতে অনেক রকমের মানুষ আছে হৃদপাখি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য বেশিরভাগ সময়ই আমরা খারাপ মানুষের সম্মুখীন হই। তবে এই অভিজ্ঞতা গুলো আমাদের শিক্ষা দেয় আর আরো শক্ত করে তুলে। দেখবে রিমি এখন আরো ভালো থাকতে পারবে কারণ ওর মনে আর দোটানা নেই।”
মিরা রায়ানের কোমর জড়িয়ে ধরে রায়ানের বুক থেকে মুখ তুলে কাঁদো কাঁদো মুখে জিজ্ঞেস করলো-
“রায়ান..আপনি আমাকে কখনো ছেঁড়ে যাবেন না তো?”
রায়ান হঠাৎ প্রশ্নে অবাক হলো, কিন্তু জবাব স্বাভাবিক ভাবেই দিলো-

“উঁহু, কখনো না। আত্মা ছাড়া দেহ বাঁচতে দেখেছ কখনো?
মিরা মুচকি হেঁসে রায়ানের বুকে মুখ গুঁজে সেখানে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে বলল-
“তাহলে কথা দিন, সব সময় আমার হাত ধরে থাকবেন। প্রয়োজনে পাও ধরে থাকবেন।”
রায়ান মিরার কথায় ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
“আমি এমন কথা দিতে পারবো না, তোমাকে কাছে পেলে কোথায় না কোথায় ধরবো তার কোনো গ্যারান্টি আছে নাকি..!”
মিরা এমন অদ্ভুত ঠোঁট কাঁটা উত্তরে আরো লজ্জায় শিটিয়ে গিয়ে। রায়ানের বুকে হাল্কা জোরে ঘুষি মেরে বলল-

“watch your language habby…”
-“Why should I?”
এর মাঝেই রুদ্র রান্নাঘরের দিকে এলো। রুদ্র কে আসতে দেখে মিরা তাড়াতাড়ি রায়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা হয়ে দুধ গরম করার দিকে মন দেয়। রুদ্র রান্নাঘরের আসার পর মিরা গরম দুধ গ্লাসে ঢেলে রুদ্রকে উদ্দেশ্যে করে বলল-
“রুদ্র ভাইয়া, আজ রাতটা বরং আমি রিমির সাথে থাকি কেমন?”
মিরার রিমির ঘরে থাকা নিয়ে রুদ্রর সমস্যা না থাকলেও রায়ানের এতে বেশ আপত্তি ছিল। রায়ান এই কথা শুনতেই ভ্রু কুঁচকে তাকালো-“কিহ্…!”

রায়ানের প্রশ্ন পাত্তা পেল না। রুদ্র নিজের জবাব জানালো-
“আচ্ছা ঠিক আছে। থাক।”
রায়ান রুদ্রর হ্যাঁ বলাতে আরো অবাক, একই প্রতিক্রিয়ায়
প্রশ্ন -“কিহ্…!”
মিরা রুদ্রর হ্যাঁ শুনার পর আর কিছু না বলে সোজা হেঁটে উপরে নিজের ঘরে চলে গেল রিমির কাছে। রায়ান এই দিকে আগুনে জ্বলছে মনে হচ্ছে। মিরা চলে যাওয়ার পর রায়ান রুদ্রর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে মাথায় গাট্টা মেরে বলল-

“আমার বউ রাতে তোর বউয়ের সাথে কেন থাকবে? আমার সাথে কে থাকবে তাহলে?”
রুদ্র হতবাক, এখানে তার দোষ কোথায় সে বুঝলো না। মাথায় হাত ঘষতে ঘষতে হালকা তেতে বলল-
“আমি কি করবো এখানে? তোমার বউই তো আমার বউয়ের সাথে থাকতে চাইছে।”
রায়ান মিরার দোষ কখনোই দেখবে না। রায়ান মিরাকে বলেছে রিমিকে সময় দিতে তবে রাতের বেলা স্বামী ছেঁড়ে থাকার পক্ষে রায়ান কিছু বলে নি। মিরা এভাবে রিমিকে সময় দেবে তা তো সে ভাবেনি। রায়ান উল্টো রুদ্র কে শাসিয়ে বলল-
“কি করবি মানে? তোর বউ, তো রাতে রিমির সাথে তুই থাকবি। আমি আমার বউকে ছাড়া থাকবো না এক রাতও। এখনি যা, আর বল তুই রিমির সাথে থাকবি। আর আমার
বউকে আমার ঘরে পাঠা।”
কথাটা বলেই রায়ান গটগট করে উপরে উঠে গেলো। রুদ্র রান্নাঘরে একা দাঁড়িয়ে আছে অসহায়ের মতো। বউয়ের সাথে থাকবে এমন পরিস্থিতিতে তো তাদের সম্পর্ক নেই। আর এখন মিরাকে কি বলে রায়ানের ঘরে পাঠাবে! বললেও..মিরা কি ভাববে..- যে বিয়ের দিনই বউয়ের সাথে থাকতে এমন পরিস্থিতিতে ওকে তাড়িয়ে দিচ্ছে রুদ্র! বেচারা কিছু বুঝতে না পেরে চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেল।

মাঝ রাত~
ঘন্টা খানেক হয়ে এসেছে রায়ান নিজের বড় বিছানা টাটে শুধু এপাশ ওপাশ করছে। মাঝে মাঝে এক কোণা থেকে অন্য কোণায় গোড়াগড়ি করছে। ঘুমের বালাইও তার চোখের মাঝে নেই। এভাবে অনেক টা সময় যাওয়ার পর রায়ান বিছানায় বসে বিড়বিড় করছে-
“এতো বাজে অভ্যাস কিভাবে হয়ে গেল? আমার ঘুমই আসছে না ওকে ছাড়া। এই বিছানা বালিশ এতো শক্ত কেন? একলা মরুভূমির মাঝে আছি, এমন ফিল হচ্ছে আমার।”
যেহেতু মিরা আসে নি তার মানে রুদ্র ওই ঘরে যায়নি। রায়ান নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকিয়ে বলল-
“হৃদপাখি, তুমি এতো পাষাণী কিভাবে হতে পারো? একটা কল অব্দি করলে না, আমি ঘুমিয়েছি কিনা তোমার তা নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই..!”

রায়ান না পারতে নিজ ইচ্ছায় কল করলো মিরার ফোনে। এইদিকে মিরা নিজের ঘরে এসে রিমিকে উঠিয়ে ঘুমের মাঝেই দুধ আর জ্বরের ওষুধ খাইয়ে তাকে শুইয়ে দিয়েছিল আর নিজেও শুয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে মিরাও ঘুমাতে পারছে না- কি যেন নেই নেই মনে হচ্ছে তার কিন্তু কারণ বুঝতে পারছে না। কারণটা বোঝা গেল রায়ানের কল আসতেই। মিরা নিজের ফোটা বেজে উঠার সাথে সাথেই রিসিভ করে যেন রিমি জেগে না যায়।
-“হ্যালো..এতো রাতে কল করেছেন কেন?”
মিরা কল ধরে ফিসফিসিয়ে প্রশ্ন করলো।
-“তো এতো রাতে তুমি কল ধরলে কেন? ঘুমোও নি? আমার কলের অপেক্ষা করছিলে বুঝি?”
রায়ান দুষ্টু ভংঙ্গিতে বলল।
মিরা রায়ানের কথার জালে পড়ে গেল। একটু আমতা আমতা করে বলল-

“ক…কই না তো। আপনি কল কাটুন আমি ঘুমিয়ে যাচ্ছি।”
-“এই না না, আর ঘুমতে হবে না, অনেক ঘুমিয়েছেন আপনি। এই দিকে আপনার হাবি যে দুই চোখের পাতা এক করতে পারছে না সেই খেয়াল আছে আপনার?”
মিরা একটু চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“মানে..কি হয়েছে? চোখের পাতা এক হচ্ছে না কেন?”
রায়ান একটু নরম গলায় বলল-
“জানি না আমি। নিজে ঘরে এসে দেখে যাও কি হয়েছে।”
-“আমি পারবো না আপনি কলে বলুন কি হয়েছে।”
-“ঘুম আসছে না আমার।”
-“কেন? নিজের ঘরে ঘুম আসছে না কেন? এখন কি নিজের বিছানা বালিশ শক্ত লাগছে?”
-“তুমি কি করে জানলে? আচ্ছা বাদ দেও জানোই যেহেতু ঘরে এসো তাড়াতাড়ি। আমি ঘুমাবো।”
মিরা রায়ানের কথায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-

“আমি পারবো না। একা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।”
রায়ান একটু বিরক্ত হয়ে গম্ভীর গলায় বলল-
“Fine, if you are not coming than I will..Now choice is yours babe..ভেবে উত্তর দিও, আমি গেলে এক চুল ছাড় পাবে না আজ।”
মিরা ভয় তো পেলো তবে রিমিকে একা রেখে কিভাবে যাবে।
-“একদম না। প্লিজ একটু বুঝুন, রিমি একা। আমি কিভাবে আসবো? রিমির যদি আমাকে দরকার হয়?”
-“বিয়ের পর স্বামীর দরকার পড়ে মেয়েদের বান্ধবীর না। রিমির জন্য ওর বর আছে। আমি রুদ্র কে বলে দিচ্ছি। তুমি এখনি ঘরে আসবে। নাহলে আমি গিয়ে আনবো।”
হুমকি দেওয়া শেষে রায়ান কলটা কেটে দিয়ে রুদ্র কে মেসেজ করে দিলো রিমির কাছে যেতে রিমি একা আছে বলে। রুদ্র ও মেসেজটা পড়ে চিন্তায় মিরার ঘরে গেলে মিরা ধীরে নিজের ঘর থেকে বেরল। দুইজনের চোখাচোখি হলো- দুজনেই লজ্জায় আবৃত, মিরা কি বলবে বুঝতে পারলো না, তবু আমতা আমতা করে কিছু বলার চেষ্টা করলো-

“রি..মি.. ঘুমাচ্ছে ভাইয়া। ওর খেয়াল রেখ যদি কোনো প্রয়োজন পড়ে।”
রুদ্র ও কিছু না বুঝে সম্মতি দিয়ে বলল- “ঠিক..আছে। তুই ও।”
রুদ্রর কথায় মিরা আরো লজ্জায় পড়লো- রায়ানের কি খেয়াল রাখবে সে এই মাঝরাতে.. কিন্তু রুদ্র তো কথার গতিতে বলেছে বুঝে বলে নি। রুদ্র ও নিজের চুলে হাত দিয়ে চুলকে হালকা বিরক্তি তে বলল-
“হয়েছে হয়েছে, সব লজ্জা শরমের মাথা খাওয়া শেষ আমাদের। যা এবার তোর বরের কাছে।”
মিরাও কম কিসে ও বিরক্ত ভাব নিয়ে বলল-
“হাহ্..! বিয়ে হয়েছে এক দিন হয়নি, এখনি বউয়ের সাথে কাউকে থাকতে দিতে চায় না। আবার আমাকে বলে! তুমিও যাও তোমার বউয়ের কাছে।”
এই কথা কাটাকাটি করে দুইজন নিজেদের পথে যায়।

রুদ্র ঘরে প্রবেশ করতেই বিছানায় রিমিকে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেল। শুকনো ঢোক গিলে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বিছানায় রিমির পাশে বসলো। এলোমেলো হালকা ভেজা চুলের দুই একটা রিমির মুখে পড়ে আছে দেখে রুদ্র পরম যত্নে সেগুলো সরিয়ে কানের পিছনে ঠেলে দেয়। স্বামী হিসেবে রিমিকে স্পর্শ করতে পারাটা রুদ্রর মনে শান্তি দিচ্ছিল। রুদ্রর ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি হয়তো তার ভালোবাসার জেতার প্রতীক সেটা। রুদ্র নরম হাতে রিমির কপালে হাত রেখে দেখার চেষ্টা করলো এখনো জ্বর আছে কিনা। রিমির শরীর মৃদু কাঁপছে ঠান্ডা আবহাওয়ায়। রুদ্র খেয়াল করলো বারান্দা থেকে বাতাস আসছে। রুদ্র বারান্দার থাই গ্লাস ভালো করে বন্ধ করে দিয়ে রিমির পাশে শুয়ে পড়লো। তার হৃৎপিণ্ড বাইরে বেরিয়ে আসার উপক্রম। একটু পর পর রিমিকে দেখছে আর ভাবছে- ঘুম থেকে উঠে রুদ্র কে নিজের পাশে দেখে রিমি কিভাবে প্রতিক্রিয়া করবে।

বিছানায় হঠাৎ গতিবেগে রিমির ঘুমের হালকা বেঘাত ঘটে। ঘুমের ঘোরে রিমির হাত চলে যায় রুদ্রর উপরে। রুদ্র সাথে সাথে চমকে গিয়ে রিমির দিকে তাকায়। কিন্তু কি করবে বুঝতে পারছে না। এক নজরে রিমির দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক ওই সময় হঠাৎ রিমি ঘুমের মাঝে বিড়বিড় করতে শুরু করলো। যেন খুব খারাপ স্বপ্ন দেখছে। রিমির হাত হঠাৎ রুদ্র শার্ট খামচে ধরলো ঘুমের মাঝেই। রুদ্র ঘাবড়ে গেল কিন্তু রিমিকে জাগানোর বদলে নিজের কাছে টেনে নিলো। হয়তো আজকের কথা ভেবে ভয় পাচ্ছে ঘুমের মাঝে। একটু সঙ্গ পেলে ঠিক হয়ে যাবে।

রুদ্র এক কাত হয়ে রিমির মুখোমুখি হয়ে শুয়ে রিমির মাথা নিজের বাহুর উপর নিয়ে রিমিকে নিজের বুকে লুকিয়ে নিলো। রিমিও এক অসহায় সম্বল পেলে যেমন আঁকড়ে ধরে ওইভাবে রুদ্রর শার্টে খামচে ধরে জড়িয়ে রইল। রুদ্রর হৃৎস্পন্দনের গতি এখন আকাশ ছোঁয়া। রিমির চুল গুলো তার মুখে পড়ছিল বলে সে নিজেই সামলে নিলো চুলগুলো তার হাত দিয়ে। চুল সরাতেই রিমির কপালে তার কাছে দৃশ্যমান হলো। মন চাওয়ার আগেই রুদ্র নিজ থেকে রিমির কপালে তার ঠোঁট ছোয়ালো ভীষণ আদরে। আর এমনটা করার পর পরই সে আবারো ইতস্তুত বোধ করলো।
-“রুদ্র.. কন্ট্রোল কন্ট্রোল…আজই বিয়ে হয়েছে। মেয়েটা ঘুমের ঘোরে আছে। এখন এসব করার কি মানে!”
রুদ্র কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস ছেঁড়ে ওভাবেই রিমিকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। একটা সময় পর ঘুমিয়েও গেল। তার জীবনের প্রথম কোনো মেয়ের সংস্পর্শে এসে সে অথচ কি অদ্ভুত শান্তি।

মিরা রায়ানের ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় নক করার সময় দেখলো দরজা খোলা। মিরা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে বিছানায় তাকালো কিন্তু সেখানে কেউ নেই। মিরা একটু অবাক হয়ে রায়ান কে ডাকলো আশেপাশে নজর ঘুরিয়ে-
“রায়ান…কোথায় আপনি..?”
হঠাৎ আঁতকা হাতের টানে মিরা পিছনে চলে যায়। চোখ খুলতেই নিজের পিঠ দেয়ালের সাথে লাগানো আবিষ্কার করলো আর ঠিক সামনেই রায়ান। রায়ানের চোখের চাহনি মিরাকে কিছু বলছে কিন্তু মিরা বুঝেও তা বুঝতে চাইছে না। মিরা রায়ানের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাইলো-
“রা..য়ান..আ..আমি..!”
রায়ান ধীরে ধীরে মিরার কাছে এসে মিরার ডান গালে ছোট্ট চুমু খেতে খেতে নিচে কান ও গলার দিকে আসছে। এমন ছোঁয়ায় মেয়েটার কন্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছে বারংবার। মিরা হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে রায়ান মিরার কানে ফিসফিস করে বলল-

“Go ahead, I am listening baby..”
মিরার গোটা শরীর কেঁপে উঠলো। রায়ান নিজের মতো মিরার গলায় নিজের অস্তিত্বের সন্ধান খুঁজছে। মিরা রায়ানের দুই বাহু তে একটু চাপ প্রয়োগ করে দূরে ঠেলতে চেষ্টা করে বলল-
“এ..এমন করলে..কিভাবে বলল..?”
রায়ান মিরার বাঁধা দেওয়াকে তোয়াক্কা না করে উল্টো দুই হাত দিয়ে মিরার কোমর খামচে ধরে হাস্কি কন্ঠে বলল-

“তাহলে বলতে হবে না। keep silent and don’t disturb your husband ok?”
মিরা শুধু ব্যাথায় নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো দাঁত দিয়ে কোনো আওয়াজও করলো না। কিছু বলার আগেই রায়ান মিরাকে কোলে তুলে নিলো। মিরাও শূন্যে নিজের ব্যালেন্স ঠিক রাখে রায়ানের কোমরে পা পেচিয়ে নিল। রায়ান মিরাকে কোলে নিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়। মিরা একটু ভয়ে ভয়ে নিজেকে সামলে রায়ানের দিকে তাকালো। রায়ান ঝটপট নিজের শার্টের বোতামগুলো খুলতে খুলতে বিছানায় উঠে মিরার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মিরা রায়ানের উন্মুক্ত শরীর দেখে লজ্জায় মুড়ে যাচ্ছে। একটু সাহস করেই প্রশ্ন করে বসলো-
“আপনি এমন কথায় কথায় শার্ট খুলে ফেলেন কেন আমার সামনে?”
রায়ান মিরার মুখ বরাবর ঝুঁকে এসে পাল্টা প্রশ্ন করলো-

“কেন হার্টবার্ড…আমাকে এভাবে দেখে কি তোমার ভয় হয়, যে তুমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না?”
মিরা রায়ানের কথা তুচ্ছ জ্ঞ্যান করে বলল-
“In your dreams habby…”
মিরা সরতে যাবে তার আগেই রায়ান মিরার মাথা একহাতে ধরে তার মুখ নিজের কাছে এনে ঠোঁটের উপর ঠোঁট চেপে বলল-
“Let’s see..”

মিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ঠোঁটের অবস্থান ছিল রায়ানের ঠোঁটের মাঝে। রায়ান মিরার চুল খামচে ধরে কাছে টানছে যেন তার তৃষ্ণা মিটছে না। এই দিকে রায়ানকে বাঁধা দেওয়ার ভাবনা মিরার মাথায় আসছে না সে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। কিছু সময় পর রায়ানের স্পর্শ তার ঠোঁটে তীব্র হলে মিরা হালকা শব্দ করে-“উউউমমম!”
রায়ানের এতে কিছু যায় এলো বলে মনে হয় না। মিরা শ্বাস নেওয়ার সুযোগ টুকুও তখন পাচ্ছিল যখন রায়ান মিরার উপরে ঠোঁট ছেড়ে নিচের ঠোঁটে বা নিচের টা ছেড়ে উপরের ঠোঁটে যাচ্ছে। একটা সময় পর মিরা শ্বাস নেওয়া বন্ধ করলে রায়ান মিরার ঠোঁট ছেঁড়ে মিরার কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে করতে জিজ্ঞেস করলো-

“Anything to say now baby?”
দুইজনেই হাঁপিয়ে উঠেছে। মিরার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। একটু শান্ত হলে মিরা সোজা উত্তর দেয়-
“আ..পনার কি মনে হয়, আপনার একটা চুমুতে আমি ভয় পেয়ে যাবো?
রায়ান মিরার চুলের মুঠো ছেড়ে দিয়ে মিরাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তুচ্ছ হেঁসে বলল-
“আর তোমার কি মনে হয় বেইবি, আমি শুধু একটা চুমুতেই থেমে যাবো?”
মিরা বিছানায় শুয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষের এমন রূপে সত্যিই তার ভয় করছে। সাথে অদ্ভুত ভাবে ভালোও লাগছে। মিরা হাপাচ্ছে বলে তার বুকের উঠা নামা করছে বেশি। রায়ান একবার মিরাকে ভালো করে দেখে মিরার উপর ঝুঁকে গিয়ে একটু জোরে গম্ভীর গলায় বলল-

“Control your fu*cking breath heartbird… You are driving me crazy… Don’t blame me if I lose my control…”
মিরা শুকনো ঢোক গিলে বিরক্ত হয়ে রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল-
“How can I control my breath..? আপনি আমাকে শ্বাস নিতে দেন নি। এখন যার জন্য হাপাচ্ছি আমি..এটাও আমার দোষ?”
রায়ান আর কিছু না বলে চুপচাপ মিরার বুকের উপর শুয়ে পড়লো। মিরা হতভম্ব হয়ে আছে রায়ান কান্ড দেখে। তার হৃৎস্পন্দন এখনো বেশ বাড়তি। রায়ান ভ্রু কুঁচকে মিরার বুকের থেকে মাথা তুলে বলল-

“একটু স্থির হোন মহারানি। আমি একটু ঘুমাতে চাই। হার্টবিট এমন ভাবে বেড়ে আছে যে মাথাও রাখতে পারছি না শব্দে।”
মিরা কাঁদো কাঁদো মুখ করে রায়ানের দিকে তাকালো। তার মাথায় ঢুকছে না এতে তার কি করার আছে! তবুও নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। রায়ান পুনরায় মিরার বক্ষ যুগলের মাঝে মুখ গুজে দিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলে উঠলো-
“I fu*cking missed these sweet butter balls too much..”
মিরা সামান্য চাপে রায়ান কে বলল-
“ব্যাথা লাগছে আমার। Can you be a little gentle?”
রায়ান মিরার কথায় শুধু চুপচাপ শুয়ে রইলো। মিরার হাত টেনে নিজের মাথার উপর দিয়ে মিরার জামার ভেতর হাত প্রবেশ করিয়ে উন্মুক্ত উদরে হাত রেখে বলল-

“মাথায় হাত বুলিয়ে দেও একটু, ভীষণ ব্যথা করছে। আর কখনো যেন অন্য ঘরে ঘুমানোর ইচ্ছে পোষণ করতে না দেখি। তোমার বর এতো ভদ্র না যেমন তোমার মনে হয়।”
মিরার শরীর এখনো বেশ শিহরিত তবে রায়ানের জন্য কোনো প্রতিক্রিয়া না করে সব মেনে নিয়ে রায়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করলো‌। তবে মনে মনে রায়ানের কথায় ভেঙালো-
“কে বলেছে আপনাকে আমি ভদ্র ভাবি আপনাকে..! অসভ্য, অভদ্র, অশ্লীল লোক কোথাকার।”
রায়ান চোখ বন্ধ রেখেই মিরাকে বলল-

“মনে মনে গালাগালি দেওয়া শেষ হলে একটু মিষ্টি করে good night বলো।”
মিরা আড় চোখে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রায়ানের চুলে হাত ঘুরাতে ঘুরাতে বলল-
“Good night habby..”
রায়ান এক গাল হেসে ঘুমিয়ে গেল। তার যদিও ইচ্ছে ছিল না এমন কিছু করার কিন্তু মিরাকে দেখলে তার কি হয় সে নিজেও জানে না। তাই আর কিছু বলে নি। মনে মনে ভেবে নিয়েছে সকালে ক্ষমা চেয়ে নেবে। মিরাও পাগলের পাগলামিতে ক্লান্ত হয়ে রায়ানের চুলে হাত রেখে ঘুমিয়ে গেল।

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৮

রুদ্র না চাইতেও ঘুমের ঘোরে যতবারই হালকা চোখ খুলেছে ততবার রিমির কপালে চুমু খেয়েছে আর নিজেকে বুঝিয়েছে সে জ্বর ঠিক কতটা আছে তাই দেখছে ঠোঁট ছুঁইয়ে। অবশেষে নিজের সাথে দ্বন্দ্ব করে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে রেখেই ঘুমিয়ে গেছে।

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৯