আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬৩
অরাত্রিকা রহমান
“তুই আমার পিঠ পিছে আমার বোনকে পটাচ্ছিলিস?”
রায়ান মাহির সোরায়াকে পছন্দ করে জানলেও তাদের রিলেশন সম্পর্কে জানতো না। মাহির সোরায়ার হাত ধরে থেকেই রায়ান কে বলল-
“তোর সামনেই পটিয়েছি। তুই অন্ধ ছিলিস এখানে আমি কি করবো।”
রায়ান একটু দাঁতে দাঁত পিষে মাহিরের দিকে এক পা বাড়াতেই সোরায়া পেছন থেকে মিনমিনে গলায় বলল-
“ভাইয়া,..আপু..!”
রায়ান থেমে গেল। সে একটু উঁকি দিয়ে পিছনে সোরায়া কে দেখার চেষ্টা করলে সোরায়া আরো নিজের চেহারা লুকিয়ে নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাহির রায়ান কে শান্ত গলায় বলল-
“তুই যা এখন ভাবির কাছে। উনি কি ভাবছে কে জানে। এখনকার মতো একটু সামাল দে। বাড়ি গিয়ে সব ক্লিয়ার করবো আমি।”
রায়ান কথা না বাড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরার পিছনে গেল। রায়ান চলে যেতেই মাহির সোরায়ার হাত ধরে টেনে নিজের সামনে আনলো। সোরায়া তখনও মাথা নিচু করে আছে, চোখ দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে মেয়েটার। মাহির দুই হাতের আচলায় সোরায়ার মুখটা আঁকড়ে ধরে বুড়ো আংগুলের সাহায্য তার চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল-
“কাঁদছ কেন হ্যাঁ? কাঁদার মতো কিছু হয় নি।”
সোরায়া এমন অবস্থায় মাহির কে শান্ত থাকতে দেখে আশ্চর্য কিন্তু তার মাথায় কি চলছে সেটা বোঝাতে সে অক্ষম। মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোরায়া কে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল-
“আমি আছি তো। টেনশন কেন নিচ্ছো? ভরসা নেই আমার উপর নাকি?”
সোরায়া মনের ভয়ে মাহিরকে শক্ত করে জাপ্টে ধরে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। মাহির সোরায়ার এলো মেলো চুল গুলো সামাল করে দিয়ে আদেশ মূলক কন্ঠে সোরায়া কে বলল-
“এরপর যা হবে কোনো কিচ্ছু গায়ে মাখবে না। আপু বড়, রাগ করে অনেক কিছু বলতে পারে কিন্তু তাতে মন খারাপ করা যাবে না। বাকি টা আমার উপর ছেঁড়ে দাও কেমন। বুঝেছ কি বলেছি?”
সোরায়া নীরব সম্মতি দিয়ে অশ্রু সিক্ত চোখ জোরার পলক ফেলে ভয়ার্ত গলায় প্রশ্ন করলো-
“আপু কি আমাকে অনেক খারাপ ভাবছে? আপু যদি না মানে? কি হবে?”
মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
“আপু তোমাকে খারাপ ভাবছে না সোরা। ভুল টা আমাদের। তোমার বড় বোন হিসেবে ওনার রাগ করাটা স্বাভাবিক। আপু এমনি না মানলে, আমি তাকে মানিয়ে নেব। তুমি আমার হবে। শুধু এইটুকু মাথায় রাখো।”
সোরায়া কোনো মতো নিজেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য বুঝিয়ে নিল।
-“হৃদপাখি আমার কথা টা একবার শোনো। Let me explain at least…”
রায়ান পিছন থেকে চেঁচিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মিরা নিজের মতো গতি বাড়িয়ে হাঁটছে। মজার বিষয় রায়ান চাইলেই মিরার সামনে যেতে পারে তবে তার সাহস হচ্ছে না মনে এক চিন্তা – বাড়িতে হলে তাও মানা যাবে কিন্তু শপিং মলে বউয়ের হাতের থাপ্পড়! একদম ইজ্জতের ফালুদা। তাই বেচারা একটু গা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে চলছে। মিরা হাঁটতে হাঁটতে নিজের ফোন থেকে রুদ্র কে কল করলো।
-“হ্যালো, রুদ্র ভাইয়া! রিমি আর তুমি কোথায় এখন?”
-“আমরা দোতলায় আছি। কেন? তোদের শপিং শেষ?”
-“হুম শেষ। তোমরা কোথায় আছো? শপের নাম বল।”
রুদ্র শপের নামটা বলল মিরাকে। কথা শেষ হলে মিরা ফোন দিল। রায়ান মিরার পিছন পিছন হাঁটছে, মাঝে মাঝে তার সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ ও করছে কিন্তু মিরা টু শব্দটি করে নি।
-“কে ফোন করেছিল?”
রিমি রুদ্র কে ফোনে কথা বলতে দেখে কৌতূহলে জিজ্ঞেস করলো।
-“মিরা..!”
-“ওহ, কি বলল? তোদের কেনাকাটা শেষ?”
-“হুম, আসতেছে এখানে। আপনার এখানে কিছু ভালো লেগেছে?”
রিমি নিজের হাতে থাকা লাল রংয়ের একটা কুর্তি দেখিয়ে জিজ্ঞেস বলল-
“এটা ভালো লেগেছে। কেমন বলুন তো?”
রুদ্র জামাটা হাতে নিয়ে বলল-
“সুন্দর। এদিকে আসুন তো দেখি।”
এই বলে রিমির কাছে গিয়ে জামাটা রিমির উপর ধরে দেখে বলল-
“উমম, ভালোই লাগছে। বাট আমার মনে হয় পড়ে দেখলে আরো ভালো লাগবে।”
রিমি রুদ্রর কথা শুনলো তবে কথার মাঝে থাকা ইশারা বুঝলো না। রুদ্র নিঃশ্বাস ফেলে রিমির হাতে জামাটা দিয়ে বলল-
“Go to the trail room and try it on..”
রিমি অনুৎসাহিত হয়ে বলল-
“ঠিক ঠাকই তো আছে। পড়ে দেখার দরকার নেই।”
রুদ্র দুই আঙ্গুল মাথায় ঘষে বলল-
“দরকার আছে। আমার বউকে তো আমি দেখবো রাইট?”
রিমি বোকার মতো তাকিয়ে চোখের পলক ফেলল। রুদ্র মুচকি হেঁসে বলল-
“যেহেতু আমি দেখবো তাই আমার দেখা দরকার আমার বউকে কি পড়লে সুন্দর লাগে। Now go and try that dress on…”
রিমি রুদ্রর সাথে তর্কে হেঁড়ে গেল। অনিচ্ছায় ড্রেসটা পড়ে এসে রুদ্রকে দেখালো। রুদ্র বেশ কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো রিমিকে। দেখা শেষে দুই হাতের বুড়ো আংগুল উঁচু করে দেখিয়ে নিজের অনুমোদন দিলো। রিমি আবার ড্রেস চেঞ্জ করতে ট্রায়েল রুমে যাওয়ার সাথে সাথে রুদ্র ও রিমির সাথে জোর করে একই ট্রায়েল রুমে ঢুকে গেলো।
-“এমা…কি করছেন? আপনি ভেতরে এলেন কেন? এটা মেয়ে দের ট্রায়েল রুম।”
রুদ্র রিমির দিকে একপা একপা এগিয়ে যেতে যেতে বলল-
“কিন্তু ট্রায়েল রুমে থাকা মেয়ে টা তো আমার বউ। আমি কেন ভেতরে থাকতে পারবো না? সমস্যা কোথায়?”
রিমি হঠাৎ থতমত খেয়ে গেল। রুদ্র কখনো এভাবে কথা বলে তার সাথে তাহলে হঠাৎ করে কি হলো! রিমি একটু আমতা আমতা করে পিছিয়ে যেতে যেতে বলল-
“আ..আমি আপনার সামনে চেঞ্জ কিভাবে করবো?আপনি বের হয়ে যান।”
রুদ্র রিমির একদম কাছে চলে আসলে হঠাৎ রিমির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। রুদ্র দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল-
“বউকে দেখার হালাল হক আছে আমার। নেই..? বলুন..!”
রিমি শুকনো ঢোক গিলল। রুদ্র রিমির পেছনের দেয়ালে একহাতে ভর দিয়ে রিমির দিকে ঝুঁকে পড়ল। রিমি সাথে সাথে নিজের চোখ বন্ধ করে নিয়ে উপরের ঠোঁটে নিচের ঠোঁট চেপে ধরলো। রুদ্র এইভাবে রিমিকে ভয় পেতে দেখে ঠিক করে হেসে উঠে রিমির কপালে এসে থাকা একগুচ্ছ চুল সরিয়ে কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে আদুরে গলায় বলল-
“লাল রংয়ে আমার বউটাকে খুব মানায়। বিয়ের সময় খুব ইচ্ছে ছিল লাল শাড়িতে দেখবো তোমাকে। কিন্তু ভাগ্য আমার খারাপ। কিচ্ছু করার নেই।”
রিমি রুদ্রর মুখের প্রথম বার তুমি সম্বোধন শুনে নিজের চোখ জোড়া ফট করে খুলে ফেলল। মুখে আশ্চর্যতার ছাপ। ঠোঁটের ফাঁকে এক অদ্ভুত বিস্ময়-
“তো.. তোমাকে…!”
রুদ্র রিমির গালে হাত রাখলো। তৎক্ষণাৎ রিমির সম্পূর্ণ শরীর শিহরণে কেঁপে উঠলো। রুদ্র রিমিকে স্থির রাখতে নিজের একহাতে মেয়েটার সেই বাঁকানো কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ব্যাকুল হয়ে বলল-
“আমি ঠিক কতটা পুড়ছি তোমাকে পাওয়ার জন্যে তা কি তুমি সত্যিই বোঝো না?”
রিমির চোখ কপালে উঠার উপক্রম। রুদ্রর স্পর্শ, কথা, চাহুনি সব এখন তার অস্বস্তির বিরুদ্ধে। রিমি নিজের মুখ দিয়ে কিছু বলার দুঃসাহস টুকু দেখাতে পারছে না। রুদ্র রিমিকে চুপ থাকতে দেখে আবেশে নিজের মুখ রিমির গলায় স্থাপন করতে করতে বলল-
“Say something… Or I will lose it all..”
রিমি রুদ্রর সাথে মিশে থেকেই থরথর কাঁপছে। চোখ আধ বোজা, নিঃশ্বাসের গতি বেগ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দুইজনের। রিমির গলায় হঠাৎ সব কথা আঁটকে গেছে, রুদ্রর এমন হুমকি যেও তার মুখ ফুটলো না। রুদ্র ধীরে ধীরে নিজের ধৈর্য হারালো। গলায় নিজের ইচ্ছে মতোন এলোমেলো ঠোঁটের স্পর্শে নিজস্ব সম্পত্তির দাবি করলো। রিমি দুহাতে রুদ্রর শার্ট শক্ত করে খামচে ধরে আছে। রুদ্র নিজের মুখ তুলে আমির দিকে তাকাতেই সেই কাঙ্ক্ষিত ঠোঁট জোড়া তার নজর কাড়লো। আবেগের শেষ স্রোতে গা ভাসিয়ে রুদ্র অজান্তেই সেই ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছোয়ালো। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রিমি রুদ্র কে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছতে মুছতে একটানে জোপতে লাগলো-
“আসতাগফিরুল্লা, নাউজুবিল্লাহ, ইন্নানিল্লাহ, তওবা তওবা।”
রুদ্র কিছুক্ষণ বুঝে উঠতে পারলো না সে কি করেছে। মাথায় ধরছে না এতো কিছু কিভাবে হয়ে যাচ্ছে – সে তো এমন কিছু চায় নি। তবে তার অনুভুতি রিমির প্রতিক্রিয়ার উল্টো। রুদ্র মনে মনে খুশি হলো প্রথমবারের মতো রিমির সজ্ঞানে থাকা অবস্থায় তার ঠোঁট স্পর্শ করাতে। অজান্তেই তার হাত নিজের ঠোঁটে চলে গেল। রুদ্র রিমির দিকে তাকাতেই রিমিকে এমন অস্বস্তিকর অবস্থায় দেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
“আরো কিছু বলার বাকি আছে আপনার ম্যাডাম?!”
রিমি থমকে গেল। রুদ্রর দিকে চোখ তুলতেই আবারো ভয়ে শিখিয়ে গেল। দেয়ালের সাথে আরো লেগে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“এ…এটা কি স্বপ্ন ছিল না সত্যি? আপনি কি আমাকে কিস করলেন?”
রুদ্র নিজেকে ধরে রাখতে পারছিল না এমনিতেই তাঁর উপর রিমির এমন অবাস্তব প্রশ্ন তার মাথা বিগড়ে দিলো। রুদ্র আবারো রিমিকে নিজের আয়ত্তে টেনে নিয়ে গভীর ভাবে বলল-
“আরেকবার করলে হয়তো বুঝতে সুবিধা হবে এটা স্বপ্ন না বাস্তব তাই না?”
রিমির গলা শুকিয়ে এলে। বেচারি এরপর কি হতে পারে ভেবে রুদ্র কে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলো-
“রুদ্র প্লিজ… আমরা বাড়িতে নেই। এটা শপিং মল। আমরা একটা ট্রায়েল রুমে আছি।”
রিমি রুদ্র কে একই কথা কয়েক বার বলে তাকে থামাতে।
একই সময়~
-“মিরা… একবার কথা বলো প্লিজ। I can explain myself… রুদ্র রিমির সাথে পরে কথা বললেও হবে। আমার কথাটা একটু শোনো।”
মিরা থমকে গিয়ে পিছন ফিরে তাকালো। রায়ানও সাথে সাথে ওখানেই বরফের মতো জমে গেছে। মিরা আড়াআড়ি বুকে হাত বেঁধে গম্ভীর আর শান্ত গলায় বলল-
“Explain….!”
রায়ানের গলা শুকিয়ে এলো। মিথ্যা বলে ধরা পরে যাওয়ার পর আর কি বলে সব ঠিক করবে তার মাথায় এলো না। মিরা চেঁচিয়ে উঠলো-
“কি হলো! কি বলবেন বলুন না..! What you can explain?”
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল কিন্তু তার মুখে একটাও কথা নেই। মিরা বিরক্ত মুখে মাথা ডানে বামে নেড়ে বলল-
“আপনি বলতে চেয়েছেন, আমি শুনতে রাজি হলাম। কিন্তু এখন আপনি পুরোপুরি চুপ। তো পরবর্তীতে এই ব্যাপারে আপনার মুখ থেকে আমি আর একটা সাফাই শুনতে চাই না।”
রায়ান অবশেষে কিছু একটা বলতে চাইলে মিরা একহাত উঠিয়ে রায়ান কে থামিয়ে দিয়ে শক্ত গলায় বলল-
“Time up…”
মিরা রুদ্রর বলা শপের ভেতরে ভেতরে গিয়ে রিমি আর রুদ্র কে খুঁজতে শুরু করে। পুরো শপে মিরা রুদ্র আর রিমিকে খুঁজেও যখন পেল না রায়ান আবারো মিরাকে বলল-
“মিরা, মাথাটা একটু ঠান্ডা করো। বাড়ি গিয়ে কথা বলি আমরা এই বিষয়ে কেমন?”
মিরার এখন রায়ানের বলা প্রত্যেক টা কথা বিরক্তি কর লাগছিল। রায়ান মিরার পিছনেই পরে গেছিল একপ্রকার। মিরা রুদ্র আর রিমিকে না পেয়ে ভাবলো হয়তো তারা অন্য কোথাও গেছে। আপাতত রায়ানের উপস্থিতি তার ভালো লাগছে না। সামনে দেখতেই মিরা ট্রায়েল রুমে দেখতে পেয়ে ভাবলো কিছু টা সময় একা ট্রায়েল রুমে ঢুকে বসে থাকলে মাথাও একটু ঠিক হবে আর রায়ান ও ওখানে আসবে না। যে বাবা সেই কাজ মিরা দ্রুত ট্রায়েল রুমের দিকে গেল আর রায়ান ও বাধ্য হয়ে পিছন পিছন গেল।
-“রুদ্র ছাড়ুন কেউ এসে যাবে।”
রিমি রুদ্রর থেকে কোনো মতো একটু আগলা হয়ে দরজার কাছে এসে দরজাটা খুলল। কিন্তু বের হওয়ার আগেই রুদ্র আবারো রিমিকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে উৎকণ্ঠায় বলল-
“একটা চুমু তে কি এমন হয়ে যাবে? এমন করছো কেন? ৫মিনিট শুধু। প্লিজ।”
রিমি রুদ্র কে কোনো ভাবেই বোঝাতে পারছে না। বেচারি নিজেই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। না পারতে রুদ্রর কাছে রিমি শক্তির ব্যবধানে হাড় মেনে নিলে রুদ্র রিমির ঠোঁটের দিকে ঝুঁকে আসতেই। হঠাৎ ট্রায়েল রুমের দরজা খুলল।
মিরা না বুঝেই কিছুক্ষণ সোজা তাকিয়ে থাকলো। পিছন থেকে রায়ান ও সামনেই দেখছে। বর বউ দুইজনেরই চোখ মুখ খোলা। রুদ্র আর রিমির দরজা খুলার শব্দে সেদিকে তাকিয়ে মিরা আর রায়ান কে দেখে থমকে গেছে। আসলে প্রথম কয়েক সেকেন্ড চার জনের কেউই কিছু বুঝে উঠতে পারলো না কি হয়েছে। তবে সবার চোখে মুখে ভাসছে- ভালো কিছু হয়নি। রিমি পর পর সোজা মিরার দিকে আর তাকে জড়িয়ে থাকা রুদ্র কে দেখে ভেবেই নিয়েছে আজ সে পাতালে চলে যাবে লজ্জায়। রিমি তাড়াহুড়ো করে ভীষণ জোরে রুদ্র কে নিজের থেকে দূর সারানোর চেষ্টা করতেই অসাবধানতাবশত রিমির হাত রুদ্রর গালে লেগে গেল।
রায়ান তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো-“what the fu*** !”
চমকের উপর আরেক চমকে সবাই আরো বিস্মিত। মিরা নিজের মুখ নিজের চোখকে আজ বিশ্বাস করতে পারছে না। কি সব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। রিমি এক বার নিজের হাত দেখছে একবার রুদ্রর চেহারা। বেচারা গালে হাত দিয়ে আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে আছে। রিমি সাথে সাথে বলে উঠলো-“সরি।”
পরে নিজের মুখ দুই হাতে আড়াল করে নিলো। মিরা আর রায়ানের রুদ্র কে দেখে মায়া লাগছে। সবকিছু এতো তাড়াতাড়ি হলো যে কি থেকে কি হলো বোঝা মুশকিল। রায়ান চট জলদি পিছন থেকে মিরার হাত ধরে টেনে নিজের সাথে নিয়ে সোজা শপিং মল থেকে বেরিয়ে এলো। মিরা পুরো সক্ড হয়ে আছে যা কিছু হয়েছে এই মাত্র তা ভেবে আর কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোও সম্ভব না।
সন্ধ্যায় এক এক করে তিনটা গাড়ি চৌধুরী বাড়ির সামনে পার্ক হলো। রাত হয়ে গেছে। সবার চেহারায় ১২টা বেজে আছে। বাড়িতে ফিরে মিরা কারো সাথে কোনো কথা বলেনি। সোজা নিজের ঘরে গিয়ে সেই যে দরজা বন্ধ করেছে আর খোলার নাম নেই। অন্যদিকে সোরায়া আর রিমি পর পর কয়েকবার মিরা আর রায়ানের ঘরের সামনে এসেছে কথা বলতে কিন্তু দুজনের কারোরই সাহস হয় নি।
অনেকটা সময় পরে সোরায়া সাহস করে মিরার সাথে কথা বলতে গেলো। দরজায় নোক করার আগে সোরায়ার হাত কাঁপছিল। ঠিক তখনি রিমিও কাকতালীয়ভাবে সেখানে এসে হাজির। রিমি সোরায়া কে মিরার ঘরের দরজার সামনে দেখে কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলো-
“সোরা, তুই এখানে?”
সোরায়া চমকে উঠে রিমির দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল-
“রিমি আপু, তু…তুমি! আমি তো, ওই আপুর সাথে একটু কথা বলতে এসেছিলাম আর কি।”
-“কি কথা?”
-“তেমন কিছু না। পড়ার বিষয়ে। একটা টার্ম বুঝেছিলাম না, তাই আর কি।”
রিমি ভাবলো অন্তত সোরায়া যদি দরজায় নোট করে হয়তো মিরা খুলবে। রিমি সোরায়া কে উৎসাহ দিয়ে বলল-
“ওহ, তাই তো, সামনেই তো ইয়ার ফাইনাল! ডাক দে না মিরা কে। ও এমনিতেও খুব ভালো এ্যাক্সপ্লেইন করে।”
সোরায়া বানোয়াট হাসলো রিমির কথায়। তার ভয় করছিল দরজায় নোট করতে। রিমির সামনে যদি মিরা তাকে কিছু বলে তাহলে বিষয়টা আরো খারাপ হবে ভেবে সোরায়া কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলো-
“আরে সমস্যা নেই পরে বুঝে নিবো। তুমি এদিকে কোথায় যাচ্ছিলে?”
রিমি হতাশ হয়ে বলল-
“আমিও মিরার সাথেই একটু কথা বলতাম আর কি। কিন্তু ও হয় তো ঘুমাচ্ছে তাই আর ডাকি নি।”
সোরায়া ভাবলো তার বদলে রিমি যদি দরজায় নোট করে মিরা হয়তো দরজা খুলবে তাই সে উল্টো রিমিকে উৎসাহ দিয়ে বলল-
“আরে না, আপু এই সময় কখনো ঘুমায় না। তুমি ডাকো না আপুকে।”
রিভিও সোরায়ার কথায় বানোয়াট হাসলো। তার মনের অস্থিরতাই শেষ হচ্ছে না মলের ঘটনা কেন্দ্র করে- মিরাকে ডেকেই বা কি কথা বলবে। তাই সেও কথা ঘুরিয়ে বলল-
“নাহ থাক, গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। পরে বললেও হবে।
হঠাৎ করেই ঘরের দরজা খুলে গেলো। মিরা নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হতেই সোরায়া আর রিমিকে ঘরের সামনে হঠাৎ করে দেখে চমকে উঠলো-“আআআ্..!”
মিরার হঠাৎ চিৎকারে রিমি আর সোরায়া ও চমকে উঠলো-“আআআ্…”
মিরা রিমিকে দেখে একটু ইতস্তত বোধ করলো আর রিমিও তাই। কিন্তু মিরার সোরায়া কে এক নজর দেখেই আবার নজর ফিরিয়ে নিলো। সোরায়া মিরার এমন ব্যবহারে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু সে জানে এখানে তার ভুল ও আছে। রিমি মিরাকে লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে বের হতে দেখে নিজের অস্বস্তি দূর করে জিজ্ঞেস করলো-
“লাগেজ কিসের মিরা?”
মিরা নিজের মনের দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে বলল-
“আমি আমার ঘরে যাচ্ছি। এই ঘরে আমার ঘুম হয় না। পড়াও হয় না। তাই ভেবেছি আমার আগের ঘরে থাকবো।”
রিমি চোখের পলক ফেলে মিরার কথা শুনলো। সে বুঝতে পারলো কারণটা মোটেও ঘুম আর পড়া জনিত না। কিন্তু রায়ানের সাথে মিরার ঝগড়া হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে রিমি কিছু জানে না। মিরার অন্য ঘরে থাকার কথা কানে যেতেই সোরায়া অনেক ভয় পেয়ে গেল। সোরায়া সাহস করছিল না কোনো কথা বলার কিন্তু সে জানে মিরার এমন সিদ্ধান্তের কারণে। তার মাথা শুধু একটা কথায় ঘুরছিল- এই কথা রায়ান জানতে পারলে অনেক বড় একটা কাহিনী হবে। মিরা নিজের কথা বলে আর দাঁড়ায় নি। রিমি আর সোরায়াকে ওইখানেই রেখে নিজের ঘরে চলে গেল।
একই সময়ে~
রায়ান ছাদে রুদ্রর সাথে বসে আছে ঠিক ছাদের উপরের বাউন্ডারির উপর পা ঝুলিয়ে। রায়ানের মাথায় আজকে দিনের সব গুলো কট মুহূর্ত গুলো ঘুরে বেরাচ্ছে। রায়ানের যেমন চিন্তা হচ্ছে তেমন হাস্যকর লাগছে সব কিছু। রায়ান রুদ্র কে মাহির আর সোরায়ার ঘটনা বলে দিয়েছে যেটা শুনে রুদ্র ও চিন্তিত কিন্তু তার মাথায় শুধু ট্রায়েল রুমের দৃশ্য ভাসছে- আর যতবারই রিমির হাতের থাপ্পড় এর দৃশ্য মাথায় ধরা দিচ্ছে সে বারবার নিজের কপালে হাত দিয়ে হায় হুতাশ করছে। রুদ্রর এমন অবস্থা রায়ানের জন্য একটু হলেও স্বস্তির ছিল। তার মনে হচ্ছিল আর যাই হোক- সে অন্তত রুদ্রর পরিস্থিতিতে নেই। রুদ্র হঠাৎ করে নিজের গালে হাত দিয়ে বসে রইল।ভাইয়ের প্রতি করুণার শেষ পর্যায়ে গিয়ে রায়ান রুদ্রর গালে আরেকটা হালকা করে থাপ্পড় মেরে হেঁসে উঠে বলল-
“রিমি এই গালে আরেকটা থাপ্পড় দিলে ভালো হতো।”
রুদ্র বিরক্তি নিয়ে রায়ানের দিকে তাকালো। রায়ান হতাশ হয়ে ধিক্কার জানালো রুদ্র কে-
“শেষ মেষ আমার ভাই হয়ে চুমু খেতে গিয়ে থাপ্পড় খেয়ে এলি? ছ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ, মানসম্মান সব খেয়ে দিলি রে। এই শোন, তুই আমার ভাই না। কারো সামনে বলবি না তুই আমার ভাই।”
রুদ্র আর চুপ থাকতে পারলো উল্টো গলার জোরে বলল-
“She touched me at least.. থাপ্পড় হলেই কি, আমার গালে ওর হাত তো লেগেছে।”
রায়ান অট্টহাসি হেসে বলল-
“তাহলে যা, গিয়ে একটা লাথি খেয়ে আয়। হাত লেগেছে, পাও লাগুক। বেশি গর্ব করে বলতে পারবি তাহলে।”
নিজের আপন বড় ভাই এইভাবে তার দুঃখের সময়ের মজা নিচ্ছে বলে রুদ্র বিরক্তি নিয়ে বলল-
“তুমি আমার ভাই না শত্রু? ছোট ভাইয়ের কষ্টে এমন করে মজা নিচ্ছ? খুব খুশি লাগছে নাকি আমাকে থাপ্পড় খেতে দেখে?”
রায়ান বুঝলো রুদ্র খুব সিরিয়াস কিন্তু তার সত্যি ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে। রায়ান কোনো মতোন হাসি গিলে নিয়ে বলল-
“অনেক অমানবিক হয়ে গেছি তাই না? কিন্তু সত্যি রে, এতো খুশি তো আমি প্রথমবার আমার বউকে চুমু খেয়েও অনুভব করি নি।”
রুদ্রর অসহ্য হয়ে গিয়ে রায়ানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে হুমকি দিলো-
“ভাইয়া ভালোই ভালোই চুপ করে যাও নয়তো মিরাকে কিভাবে উস্কে দিতে হয় তা কিন্তু আমি জানি।”
রায়ান হতাশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো-
“তোর বোন এমনি উস্কে আছে। আর কি উস্কানি দিবি তুই।”
তখনি মাহির ছাদে এলো-
“আমাকে ছাড়া এটা একা দুই জন দুঃখ বিলাস
কেমনে করিস তোরা?”
রুদ্র পিছন ফিরে মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল-
“তুমি আবার কি দুঃখ বিলাস করবে? তোমার তো আজকে ঈদ। বিয়ের আগেই গালে স্ট্যাম্প পরে গেছে।”
মাহির মজার সুরে বলল-
“গালে স্ট্যাম্প তো তোর ও পড়েছে শুনলাম ছোট ভাই।”
রুদ্র বাঁকা চোখে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল-
“বলাও হয়ে গেছে?”
রায়ান বানোয়াট হেঁসে বলল-
“দেখ এবার কেমন লাগে যখন আপন মানুষ নিজেদের কথা অন্য কাউকে লাগায়। মনে আছে আমার খবর কিভাবে সাপ্লাই দিতি মাহিরের কাছে তুই?”
মাহির কে দেখে রায়ান চোখ উল্টিয়ে অসহ্য ভাব নিয়ে বলল-
“এই হারামির জন্য আজকে আমার বউটা এতো কষ্ট পেয়েছে। আর আমি এর হয়ে মিথ্যা বলেছি বলে আমার উপর রাগ করেছে।”
মাহির সন্তুষ্ট মনে হেঁসে রায়ানের পাশেই বসে পা ঝুলিয়ে দিয়ে কাঁধে হাত রেখে বলল-
“আমার জন্যই তো বলেছিস। আমি কি পর নাকি? যাহ বিয়ের দিন তোকে এক পিস রোস্ট আমি বেশি দিবো।”
রায়ান নিজের কাঁধের থেকে মাহিরের হাত এক ঝটকায় ফেলে দিল। মাহির আবার রাখলো, এবার রায়ান ফেললো না। হঠাৎ সোরায়া দৌড়ে ছাদে উঠে এলো।
-“রায়ান ভাইয়া….!”
রায়ান চোখ তুলে সোরায়ার দিকে তাকালো। মাহির সোরায়াকে হাপাতে দেখে দ্রুত সোরায়ার কাছে গিয়ে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“কি হয়েছে জান? এভাবে হাপাচ্ছো কেন?”
রায়ান বিষাদময় মুখ করে বিড়বিড় করলো-
“এখন আমার সামনেই পিরিতি করবে এরা। জান…হাহ্!”
সোরায়া মাহিরকে ইগনোর করে সোজা রায়ানের সাথেই কথা বলল-
“ভাইয়া..আপু জিনিস পত্র গুছিয়ে আবার নিজের পড়ার ঘরে চলে গেছে।”
রায়ান সোরায়ার কথা শোনা মাত্রই লাফ দিয়ে ছাদের বাউন্ডারি থেকে নেমে সোরায়ার কাছে গিয়ে দ্বিতীয় বার নিশ্চিত হলো-
“কি বললি? ঘর থেকে চলে গেছে মানে কি?”
সোরায়া একটু ভয়ে ভয়ে বলল-
“আপুর নাকি তোমার ঘরে ঘুম হয় না, পড়া হয় না। এই কারণ বলে নিজের আগের ঘরে চলে গেল।”
রায়ান আনমনে বিড়বিড় করলো-
“রাতে ঘুম কম হয় মানলাম কিন্তু দিনে তো ঘুমানোর সুযোগ থাকে। তাই বলে আমাকে না বলে ঘর থেকে চলে যাবে?”
রায়ান তাড়াতাড়ি নিচে নামতে গেল। কিছু একটা ভেবে আবার মাহির আর সোরায়ার সামনে এসে তাদেরকে হুমকি মূলক কন্ঠে বলল-
“তোদের জন্য যদি আমার বউ আজকে আমার সাথে না ঘুমায়, তোদের জীবনেও বিয়ে হবে না দেখিস।”
মাহির তেতে উঠল-“তোর বউ তোর সাথে ঘুমাবে না বলে কি আমি কখনো আমার বউয়ের সাথে ঘুমাবো না নাকি?”
সোরায়া পরপর দু’জনের দিকেই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলো, তার মাথার উপর দিয়ে গেলো তারা কি বললো- কার বউ, কি ঘুম, কি বিয়ে!?
রায়ান মাহিরের সাথে আর কথা না বাড়িয়ে ছুটে নিচে নেমে গেল। রায়ান চলে গেলে সোরায়া মাথা উঁচু করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“এখন কি হবে?”
মাহির সোরায়ার মাথায় হাত রেখে বলল-
“ওভারথিঙ্ক করো না। যা হবার হবে। আমি আছি, সামলে নেব।”
সোরায়া তবুও নিজের মনের চিন্তা প্রকাশ করলো-
“আমাকে যদি আবার চট্টগ্রাম ফেরত পাঠিয়ে দেয়?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
সোরায়া মাহিরের উত্তরে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো-
“আলহামদুলিল্লাহ?!”
মাহির সোরায়া কে ছেঁড়ে রুদ্রর দিকে যেতে যেতে দ্বিধা হীন হয়ে বলল-
“হুম, হবু শশুর বাড়িতে বরযাত্রী নিয়ে ছোট্ট একটা টুর দিতে যাবো।”
রুদ্র মাহির আর সোরায়াকে একসাথে দেখে মনে মনে খুশি কিন্তু নিজের পরিস্থিতি ঘেঁটে আছে বলে তা আর মুখে প্রকাশ পাচ্ছে না।
মিরা গিয়ে নিজের জিনিস আবার আগের জায়গায় গুছিয়ে রাখছিল ঠিক তখনি রায়ান হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো। মিরা পায়ের আওয়াজেই বুঝে গেছে রায়ান এসেছে। হাতের জিনিস গুলো রেখে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“এতো তাড়াতাড়ি খবরও চেলে গেছে! নির্ঘাত আমার বোনের কাজ এইটা। শয়তান টার আগের থেকেই মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। বোনের চেয়ে দুলাভাই বেশি প্রিয়! প্রিয় হবে না, বালপাকনামি করে পিরিতি করতে যে শিখায় প্রিয় তো সেই হবে।”
রায়ান গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“এই ঘরে কি তোমার? এই ঘরটা যদি বেশি পছন্দের হয় এই ঘরে দুজনে মূভ করে নেই চলো। ওই ঘরে থাকতে হবে না।”
মিরা কোনো উত্তর দিলো না। নিজের মতো ব গুছিয়ে যাচ্ছে। রায়ান মিরা যেদিকে যাচ্ছে সেখানেই যাচ্ছে। পিছন পিছন ছায়ার মতো। মিরার ভাব এমন যেন ঘরে সে বাদে কেউ নেই। রায়ান মিরার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মিরার একটু আগে গুছিয়ে রাখা সব জিনিসপত্র আবার অগোছালো করে বিছানায় ছুড়ে বলল-
“হৃদপাখি, আমি কথা বলছি তোমার সাথে।”
মিরা অতিষ্ঠ হয়ে চেঁচিয়ে উঠলো –
“কি হয়েছে হ্যাঁ? কি চাই?”
-“আমার বউ কে।”
-“দারাজ বা রকমারি যে গিয়ে খুঁজে দেখুন পান কিনা। আমার কাছে কি?”
-“আমি প্রডাক্ট সব প্রিমিয়ার কুয়ালিটির। দূরবীন দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না।”
মিরা নীরব থেকে দাঁত কিড়মিড় করে অগোছালো কাপড় গুলো তুলে রায়ানের দিকে ছুঁড়ে দিল। রায়ান নিজের মতো এক কথা বলতে লাগলো-
“তখন থেকে একা একা কথা বলছি। পিছন পিছন ঘুরছি। চোখে পড়ে না নাকি?”
মিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল-
“আপনি যে হারে আমার পিছন পিছন ঘুরেন, আপনার ১৪ গুষ্টির সবাই ভাববে আমি আপনাকে তাবিজ করেছি।”
রায়ানও কথার ধারাকে বলল-
“আমারও তাই মনে হয়। নয় তো আমি, রায়ান চৌধুরী, একটা মেয়ের পিছনে জীবনেও ঘুরতাম না।”
মিরা চোখ বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬২
“কিহ্ বললেন আপনি?”
রায়ান বেফাঁস বলে ফেলা কথা কোনো মতো ঢাকতে জোড়াতালি দিয়ে বলল-
“নাহ, ইয়ে মানে…আমার মতে- একজন স্বামীর এতো টাই বউ পাগল হওয়া উচিত যেন ১৪ গুষ্টির সবাই ভাবে বউ তাবিজ করেছে।”

next part plz