আবির ভাই পর্ব ৩১
উর্মিলা মজুমদার
আবির ভাই অর্ধনিমীলিত চোখে একবার তাকালেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘মেঘ, তোর এই আকুল করা ডাকটা শোনার জন্য হলেও আমি আবির সাত জনম জন্ম নিতে রাজি আছি। মরার আগে এই সুরটা কানে নিয়ে মরলে মন্দ হয় না।’
আবির ভাইকে ধরাধরি করে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভেতরের বড় ঘরটায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। ছোট্ট আম্মু তাঁর কপালে জলপট্টি দিচ্ছেন, সেবাযত্ন করছেন। আবির ভাই পাশের রুমেই জ্বরে কাতরাচ্ছেন। মেঘ এই ঘরটায় একা বসে আছে। ওর বুকটা যেন কেউ চিরে ফেলছে। একটু আগে যে লোকটার ওপর আকাশপ্রমাণ রাগ ছিল, এখন তাঁর এই অসুস্থতা মেঘকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। মানুষ বড় বিচিত্র প্রাণী। সে যাকে ঘৃণা করতে চায়, তার কষ্টেই সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে। মেঘের অবস্থাও তাই। ও দেখতে যেতে পারছে না, কথা বলতে পারছে না। কিন্তু নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হচ্ছে।
পরদিন সকাল।
রোদটা বেশ চড়া। মেঘের মনটা ফ্যাকাশে মেঘে ঢাকা। সে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। মেঘের উদ্দেশ্য ছিল পেছনের দরজা দিয়ে বাগানে গিয়ে কিছুক্ষণ একা বসে থাকা। কিন্তু ছোট আম্মুর কান যে কোনো ঐশ্বরিক শক্তির প্রভাবে সবসময় খাড়া থাকে।
রান্নাঘর থেকেই ছোট আম্মু হাঁক ছাড়লেন, ‘মেঘ, শুনে যা।’
মেঘ মুখটা একটু গোমরা করে কাছে যেতেই তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো এক গ্লাস ফলের শরবত আর কয়েকটা ছোট-বড় ঔষধ। ছোট আম্মু হুকুম দিলেন, ‘আবির ওর রুমে আছে। এটা দিয়ে আয় তো মা।’
মেঘ কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, ‘আম্মু আমি যেতে পারব না। আমার হাত কাঁপছে, শরবত পড়ে যাবে।’
ছোট আম্মু এবার কড়া চোখে চাইলেন, ‘মেঘ, একদম পাঁয়তারা করবি না। যা বলছি তাই কর।’
অগত্যা মেঘকে যেতেই হলো। আবির ভাইয়ের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে মেঘের বুকের ভেতরটা যেন ড্রাম পেটাচ্ছে। ‘দুরুদুরু’ শব্দটা বোধহয় হৃদপিণ্ডের জন্য কম হয়ে যায়। সে পা টিপে টিপে ঘরে ঢুকল। আবির ভাই বিছানায় আধশোয়া হয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলেন। মেঘকে দেখে তিনি সোজা হয়ে বসলেন। মেঘ সেই দৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। মেঘ মাথা নিচু করে কাঁপাকাঁপা হাতে শরবত আর ঔষধ এগিয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
‘এই যে, খেয়ে নিন।’
আবির ভাই ঔষধটা হাতে নিলেন ঠিকই, কিন্তু খেলেন না। গভীর গলায় বললেন, ‘মেঘ, আমার সাথে ঢাকায় চল।’
মেঘ দরজার দিকে এক পা বাড়াল। বুক ফেটে কান্না আসছে, আবার এক ধরনের জেদও কাজ করছে। সে কোনোমতে বলল, ‘নাহ, আমি ফিরব না।’
সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পেছন থেকে আবির ভাইয়ের হুঙ্কার শোনা গেল। সেই মেঘমন্দ্র কণ্ঠস্বর সারা ঘরে প্রতিধ্বনি তুলল, ‘ঠিক আছে, তুই যদি না যাস তাহলে আমিও এই ঔষধ খাব না।’
মেঘ দরজায় স্থির হয়ে দাঁড়াল। আবির ভাই যে এমন পাগলামি মাখা জেদ করতে পারে, তা তার কল্পনার অতীত ছিল। মানুষ যখন যুক্তি দিয়ে কিছু পায় না, তখন সে অযৌক্তিক হয়ে ওঠে। আবির ভাই হুট করে হাতের ওষুধের পাতাটা জানলা দিয়ে বাইরের ঝোপঝাড়ে ছুঁড়ে মারলেন। মানুষের জেদ কত ভয়ানক হতে পারে, তা তাঁর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। মেঘ উন্মাদিনীর মতো ছুটে এসে প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, ‘নাহ! ওষুধ ফেলবেন না। আমি যাব, আমি আপনার সাথে ঢাকা যাব!’
আবির ভাই ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটালেন। হাত বাড়িয়ে দেখালেন। ওষুধের পাতাটা আসলে ফেলেননি, হাতের মুঠোতেই ছিল। মেঘকে ঘাবড়ে দেওয়ার একটা ছোটখাটো নাটক। তিনি তৎক্ষণাৎ ওষুধটা গিলে নিলেন।
মেঘ বড় বড় চোখ করে চাইল। রাগে তার গা রি রি করছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ‘আমি যদি ওষুধের বদলে বিষ এনে দিতাম?’
আবির ভাই অবিচল গলায় বললেন, ‘আমি সেটাই খেতাম মেঘ।’
‘এতটা বিশ্বাস?’
‘উঁহু, সন্দেহ।’
‘কিসের সন্দেহ?’
‘অনেক রকম সন্দেহ। তার চেয়ে বড় কথা, আমি একটা সুযোগ চাইছি।’
‘দিলাম সুযোগ।’
আবির ভাই হাসলেন। মেঘ আর দাঁড়াল না, দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এল।
সকালটা একটু গড়াতেই মেঘ বাড়ি থেকে বের হলো। উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটা। হাঁটতে হাঁটতে তার দেখা হয়ে গেল মেম্বার কাকার মেয়ে চড়ুইয়ের সাথে। মেয়েটা রাস্তার পাশের ভাঙা বেঞ্চিতে একা বসে আছে। চড়ুই চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু তার ঘ্রাণশক্তি আর শ্রবণেন্দ্রিয় প্রখর। মেঘকে কাছে আসতেই সে চিনে ফেলল।
মেঘ গিয়ে ওকে ঝাপটে ধরল, ‘চড়ুই!’
চড়ুইয়ের ফ্যাকাশে মুখে শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মতো হাসি ফুটল। সে মেঘের গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কান্নার ভিড়ে সে তার অসুস্থতার কথা বলল। কতদিন সে আলো দেখেনি, কতদিন সে আকাশের নীল রঙটা কল্পনা করতে পারছে না। হঠাৎ চড়ুই মেঘের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল।
‘মেঘ আপা, তোরা যখন ঢাকা যাবি, আমাকে সাথে নিয়ে যাবি? আমি সেখানে ভালো ডাক্তার দেখাব। আমার না তোদের সবাইকে একবার দেখতে খুব মন চায়। আমার কাছে টাকা আছে রে, আমি অনেক টাকা জমিয়েছি।’
মেঘের চোখ ভিজে উঠল। চড়ুইয়ের মা নেই, যত্ন করার মতো কেউ নেই বলেই আজ এই মেয়েটার চোখের আলো নিভে যাচ্ছে। মেঘ আর সাত-পাঁচ ভাবল না। আবেগের বশবর্তী হয়েই বলে ফেলল, ‘ঠিক আছে চড়ুই, আমি তোকে সাথে করে ঢাকা নিয়ে যাব। তুই আবার সব দেখতে পাবি।’
চড়ুইয়ের মুখে যে স্বর্গীয় হাসি ফুটল, তার দাম পৃথিবীর সব ঐশ্বর্যের চেয়ে বেশি।
মেঘ যখন বাড়ি ফিরল, দেখল সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছে। আবির ভাই জাদুবলে বাড়ির সবাইকে পটিয়ে ফেলেছেন। ছোট আব্বুও রাজি। আবির ভাইয়ের শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, অথচ
জেদ ধরেছেন আজই ঢাকা ফিরবেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে পাঁচ-পাঁচটা ঘণ্টা স্টিয়ারিং ধরে বসে রইলেন। মেঘের বারবার মনে হচ্ছে মানুষটা এই বুঝি স্টিয়ারিংয়ের ওপরই বুঝি ঢলে পড়বেন, কিন্তু তাঁর চোয়ালের কঠোরতা দেখে কিছু বলার সাহস হলো না। ছোট আব্বু চড়ুইকে সাথে নেওয়া নিয়ে কিছুটা খুঁতখুঁত করছিলেন, কিন্তু আবির ভাই এক কথায় মেঘকে সমর্থন দিলেন। ব্যস, ছোট আব্বু চুপ। আবির ভাইয়ের কথার ওপর কথা বলার সাধ্য কারো নেই।
সারা পথ মেঘ একটা কথাও বলেনি। জানালার বাইরে ছুটে চলা গাছপালার দিকে তাকিয়ে সে নিজের ভেতরে দুর্ভেদ্য দেয়াল তুলে বসে রইল। অরু অবশ্য মেঘকে ফিরে পেয়ে খুশিতে ডগমগ। কিন্তু মেঘের রাগ এখনো কমেনি। অরুর দিকে তাকালেই তার মনে হয়। বিশ্বাসভঙ্গ বলে অভিধানে একটা শব্দ আছে, আর অরু তার জীবন্ত উদাহরণ।
সন্ধ্যা ছয়টা।
আকাশ হতে বৃষ্টি নামছে। শ্রাবণের এই ধারাপাত। চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে। লোডশেডিং না হলেই বেশ। চড়ুই তার নতুন বাড়িতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হাতে সেই সরু স্টিকটা নিয়ে সে দেয়াল ঘেঁষে মেঘের রুমের দিকে যাচ্ছিল।
হঠাৎ চড়ুইয়ের পায়ের তলায় কী যেন একটা বাধা পড়ল। ভারসাম্য হারিয়ে সে যখন সামনের দিকে উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই একজোড়া শক্ত হাত তাকে পাজাকোলা করে ধরে ফেলল। ফিল্মি স্টাইলে যাকে বলে ‘সেভ করা’। চড়ুইয়ের হৃৎপিণ্ডটা গলার কাছে চলে এসেছে। সে বুঝতে পারছে না তাকে কে বাঁচাল, শুধু বুঝতে পারছে একজোড়া পেশিবহুল হাতের স্পর্শ। চড়ুই কাঁপতে কাঁপতে হাত বাড়িয়ে সামনের মানুষটার বুকের ওপর রাখল। অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘কে? কে আপনি? মেঘ?’
সাদিফ একদৃষ্টিতে চড়ুইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই মায়াবী চোখ। যে চোখে দৃষ্টি নেই অথচ এক সমুদ্র বিষাদ আছে। সাদিফ মোহাচ্ছন্নতা স্বরে বলল, ‘নাহ, আমি সাদিফ।’
চড়ুই লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যেতে চাইল। জড়োসড়ো হয়ে বলল, ‘ইশ! সরি… আমি আসলে দেখতে পাই না তো, তাই…’
সাদিফ চড়ুইকে সাবধানে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল। কণ্ঠে কৌতূহল, ‘কে তুমি? আগে তো কখনো এই বাড়িতে তোমাকে দেখিনি?’
চড়ুই একটু থতমত খেয়ে বলল, ‘আমি চড়ুই। মেঘের বন্ধু। আমি গ্রাম থেকে এসেছি।’
সাদিফ অনেকক্ষণ কোনো কথা বলল না। সে দেখল চড়ুই দেখতে বেশ সুন্দরী। একটা মেয়ে এত সুন্দর হয় কীভাবে? অথচ এই রূপ দেখার জন্য মেয়েটির নিজের কোনো চোখ নেই। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! সাদিফের বুকের ভেতরটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠল। হিমু ভাই থাকলে হয়তো বলতেন, “সাদিফ, তোর হৃদয়ে আজ প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা পড়েছে। তৈরি থাক, এবার প্লাবন আসবে।”
মেঘ নিজের ঘরে নিথর হয়ে বসে আছে। চোখের দৃষ্টি জানালার বাইরে কোথাও আটকে গেছে। যেখানে জোছনা নামার তোড়জোড় চলছে। অরু গত আধঘণ্টা ধরে তাকে অনবরত ঝাঁকাচ্ছে। মানুষের ধৈর্য্যরে একটা সীমা থাকে, অরুর সেই সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। সে মিনমিন করে বলল, “কথা বল না, জানু। একটা কিছু তো বলবি!”
মেঘ নিরুত্তর। সে যেন এই পৃথিবীর কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছে না। হিমুর মতো উদাসীন চোখে সে হয়তো অলৌকিক কিছু দেখার চেষ্টা করছে। শেষমেশ যখন মুখ খুলল। গলায় শ্রাবণের বৃষ্টির মতো শীতলতা।
”ঠিক আছে যা। এবারের মতো মাফ করে দিলাম।”
অরুর মুখটা সঙ্গে সঙ্গে শরতের আকাশের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। খুশিতে ডগমগ করতে করতে সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। একটু পরেই ডিনারের ডাক পড়বে।
বাড়ির বড় ছেলে আবির ভাই গ্রাম থেকে ফিরে অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছেন। তারপর লম্বা সময় নিয়ে শাওয়ার নিয়ে বের হলেন। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে তিনি বুকশেলফের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।
শেলফের ওপর ধুলো জমা একটা পুরনো বই সরাতেই পেছনে একটা ছোট্ট বোতাম দেখা গেল। সেখানে আঙুলের ছোঁয়া দিতেই দেয়ালে চিড়ে একটা ডিজিটাল পাসওয়ার্ডের ঘর। আবির ভাই পাসওয়ার্ড টাইপ করলেন। নিঃশব্দে দেয়ালের একটা অংশ সরে গিয়ে একটা গোপন দরজা খুলে গেল।
ভেতরের দৃশ্যটা ঠিক স্বাভাবিক নয়।
পুরো ঘরটা অন্ধকার। ঘরের দেয়ালে দেয়ালে শুধু একজনেরই ছবি— মেঘ। কত বিচিত্র সেই সব ছবি! মেঘ হাসছে, মেঘ কাঁদছে, মেঘ বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। এই ঘরটার কথা পৃথিবীর আর কোনো দ্বিতীয় আত্মা জানে না। মাঝে মাঝে রাতে যখন মেঘ চুপিচুপি আবিরের ঘরে আসত, আবিরকে খুঁজে না পেয়ে অবাক হতো। সে জানত না, তার ঠিক কয়েক হাত দূরেই একটা গোপন জগতে আবির আসলে মেঘের স্মৃতির সাথে কথা বলছে।
আবির ভাই একটা ছবির ওপর হাত রাখলেন। মেঘের সেই ছোটবেলার ছবি, যখন সে গ্রামে থাকত। আবির তখন কত রাত জেগে সেই পদ্মাপাড় গ্রামে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত শুধু একপলক মেঘবালাকে দেখবে বলে। হিমু হলে হয়তো বলত, “মহাপুরুষরা কি প্রেমে পড়ে?” আবির মহাপুরুষ নয়, সাধারণ এক যুবক, যার প্রতিটি নিউরনে মেঘ নামের মেয়েটি বাসা বেঁধেছে।
কিছুদিন আগে মেঘের একটা বড় এক্সিডেন্ট হলো। মেঘের খুব অভিমান ছিল। আবির কেন তাকে একবারও দেখতে আসেনি? কেন সে বাইরে একটা আলাদা রুম নিয়ে থাকল? মেঘ জানে না, মধ্যরাতে হাসপাতালের করিডোরে ছায়ার মতো একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকত। মেঘের অজান্তেই হাজারবার তাকে দেখে গিয়েছেন এই আবির।
আবির ভাই পর্ব ৩০
আবির একটা শাড়ি পরা ছবির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। নিজের মনেই বিড়বিড় করে বললেন:
”মেঘবালা, যেদিন তুমি আমার নামে ‘কবুল’ বলবে, সেদিন তোমায় হাত ধরে নিয়ে আসব আমার এই স্মৃতির রাজ্যে। সেদিন দেখবে, আমার শূন্যতাগুলো আসলে কতখানি তোমাকে দিয়ে ঠাসা ছিল।”
