Home আবির ভাই আবির ভাই পর্ব ৬

আবির ভাই পর্ব ৬

আবির ভাই পর্ব ৬
উর্মিলা মজুমদার

অরু হঠাৎ ভ্রু কুঁচকে বলল, “দাঁড়া, একটা হিসাব মিলছে না। বাদাম যদি আমরা দুজনে চুরি করি, তাহলে আবির ভাই তোকে একা কেন ডাকল? আমাকেও তো ডাকতে পারতেন।”
মেঘ একটু দমে গেল। মেঘ আমতা আমতা করে বললা, “আমি কি আর জানি কেন ডাকল? আমি এই বাড়িতে নতুন, অনেকটা অতিথি পাখির মতো। তাই বোধহয় আগে থেকেই সাবধান করে দিলেন। বাড়ির পুরনো চোরদের চেয়ে নতুন চোরদের শাসন করা সহজ, বুঝলি না?”
অরু মাথা নাড়ল। সে বিশ্বাস করে নিয়েছে। তার সরল মনে এখন অপরাধবোধ। পরক্ষণেই দুই বোন চুপচাপ নিজেদের ঘরের দিকে রওনা হল। বাইরে বৃষ্টির বেগ এখন অনেকটা কমে এসেছে। ঝিরঝিরে একটা হাওয়া বইছে।

অরু নিজের বিছানায় গিয়ে ধপাস করে শুয়ে পড়ল। মেঘ জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। আবির ভাই কি এখন তার রুমে বসে সেই বাদামের বৈয়ামটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই গোলাপটা এখন কোথায়?
মানুষের মন বড়ই অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা সর্বদা সেই ধাঁধায় ঘুরপাক খাই, আর ভাবি আমরা খুব বুদ্ধিমান। আসলে আমরা সবাই একেকজন ছদ্মবেশী মেঘ, যারা বৃষ্টির অপেক্ষায় আকাশজুড়ে ভেসে বেড়াই। সেদিনকার সব উত্তেজনা ওখানেই ইস্তফা দিল। রাতের নির্জনতায় কোথাও একটা রাতজাগা পাখি ডেকে উঠল, যেন সে এই নির্জলা মিথ্যাটার কথা সবাইকে জানিয়ে দিতে চায়। আর মেঘ মনে মনে বলবে, “চুপ কর পাখি, জীবনটা তো আসলে সত্য আর মিথ্যার এক চমৎকার কোলাজ।”

আকাশের মুখ আজ ভার। গতরাতভর সে একনাগাড়ে কেঁদেছে। সকালবেলা কান্না থামলেও রেশ কাটেনি। চারিদিকে একটা ভেজা ভেজা ভাব। খান বাড়ির দোতলার বিশাল ঘরে মেঘ অঘোরে ঘুমাচ্ছিল। বেলা দশটা বেজে বারো মিনিট। মেঘের জীবনে এই সময়ের আলাদা কোনো মাহাত্ম্য থাকার কথা নয়, কারণ তার পরিকল্পনা ছিল সারাদিন ঘুমিয়ে কাটানো। কিন্তু ভাগ্যদেবীর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। হঠাৎ দরজায় যেন মঙ্গোলীয় দস্যুদের আক্রমণ হলো। অরু ঘরে ঢুকে এক ঝটকায় মেঘের গায়ের কাঁথাটা সরিয়ে দিয়ে বিকট স্বরে চিৎকার করে উঠল। মেঘ ভড়কে গিয়ে কোনোমতে উঠে বসল।
চোখের পিচুটি পরিষ্কার করার আগেই সে দেখল, তার ঘরের ভেতর পুরো একটা ছোটখাটো মেলা বসে গেছে। বড় আব্বু, বড় আম্মু, মেজো আম্মু, সাদিফ, প্রেমা কেউ বাদ নেই। সবার মুখে এক বিচিত্র হাসি। মেঘ আধবোজা চোখে জিজ্ঞেস করল, “ঘটনা কী? তোমরা সবাই এই অসময়ে আমার ঘরে কেন? দেশ কি স্বাধীন হয়ে গেছে?”

অরু তাকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, “দেশ স্বাধীন হয়েছে কি না জানি না, তবে আমরা পাস করে গেছি! তুই এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছিস, আর আমি তোর চেয়ে একটু সামান্য কম।”
মেঘের চোখের পাতা আর পড়ছে না। গোল্ডেন এ-প্লাস? সে তো ভুলেই গিয়েছিল যে আজ রেজাল্ট দিবে। তার তো ভালো একটা রেজাল্ট করা নিয়েই সন্দেহ ছিল, সেখানে গোল্ডেন! মেঘ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে বড় আব্বুর দিকে তাকাল।
বড় আব্বু মেঘের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “হ্যাঁ মা, অরু ঠিকই বলেছে। তুই সত্যিই গোল্ডেন পেয়েছিস।”
মুহূর্তের মধ্যে মেঘের উদাসীনতা উবে গেল। সে বড় আব্বুকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল। খান বাড়িতে আনন্দের একটা মৃদু টর্নেডো বয়ে গেল। সবাই উপহার দিচ্ছে, হাসছে। যৌথ পরিবারের এই এক সমস্যা এবং সুবিধা আনন্দগুলো সব ভাগাভাগি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

মেঘের মনে এক চিমটি বিষাদ জমল। আজ যদি বাবা-মা কাছে থাকত! তবে সেই বিষাদ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারল না আর একজনের কারণে। সে হলো আবির। খান বাড়ির বড় ছেলে। সারাদিন কেটে গেল, সবাই শুভেচ্ছা জানাল, অথচ আবির ভাইয়ের কোনো খবর নেই। এমনকি একটা ফোন পর্যন্ত করল না! মেঘ মুখ ফুলিয়ে ছাদের দোলনায় বসে আছে। অরু পাশে এসে বসল। অরুর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সে এসবে অভ্যস্ত।
অরু ফিসফিস করে বলল, “মেঘ, তুই ওভাবে বসে আছিস কেন? আবির ভাই উইশ করেনি বলে? সে না করাতেই ভালো হয়েছে। উইশ করতে এলে নির্ঘাত বলত ‘গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়ে কী হবে? তোদের তো ডায়মন্ড এ-প্লাস পাওয়া উচিত ছিল!'”

মেঘ ঠোঁট উল্টে বলল, “আমি ওনার উইশ চাই না। কিন্তু সেধে যদি কিছু দিত, তবে সেটা নেওয়া যেত।”
অরু একটা বিজ্ঞের মতো হাসি দিল। অরু বলল, “আবির ভাই তোকে সেধে কিছু দেবে? তুই কোন দুনিয়ায় আছিস? উনি বরং বলবেন, রেজাল্টটা তো আরও ভালো হতে পারত। শোন, বুদ্ধি দিই। আমরা যদি বড় আব্বুর কাছে সাইকেল চাই, আবির ভাই নির্ঘাত বাগড়া দেবে। বলবে, মেয়েদের সাইকেল চালানোর কী দরকার? তার চেয়ে বরং সরাসরি আবির ভাইয়ের কাছেই সাইকেল চাইব। উনি না বলতে পারবেন না।”
মেঘ একটু ভেবে দেখল। যুক্তিতে সারবত্তা আছে। মেঘের কাছে এই মুহূর্তে অরুর যুক্তিটাই যুতসই মনে হলো। মেঘ জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমরা কি ওনার কাছেই সাইকেল দাবি করব?”
অরু মেঘের হাত চেপে ধরে বলল, “অবশ্যই। দুই বোনের জন্য দুটো সাইকেল। আমি চালাতে পারি না ঠিকই, কিন্তু শিখতে তো বাধা নেই। তুই রাজী তো?”
মেঘ মাথা নাড়ল। ঠিক হলো, আজ রাত দশটার পর যখন আবির ভাই অফিস থেকে ফিরবেন, তখন দুই বোন মিলে তার ঘরে একটা ‘গেরিলা হামলা’ চালাবে। উদ্দেশ্য একটাই দুটো চকচকে নতুন সাইকেল আদায় করা। বাইরে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। হয়তো রাতের দিকে আবার বৃষ্টি নামবে।

রাত এগারোটার মতো বাজে। আকাশ চিড়ে বৃষ্টি নামছে। এই অবেলায় আবির ভাই ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরলেন। আবির ভাইয়ের স্বভাবটা একটু বিচিত্র। বৃষ্টির দিনে তিনি ছাতা ব্যবহার করাটা অপমানজনক মনে করেন। মেঘ ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তাঁর কাকভেজা হওয়া দেখছিল। আবির ভাই নিজের রুমে ঢোকার পর মেঘ আর অরু দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তাদের অবস্থা অনেকটা সিংহের খাঁচায় ঢুকতে যাওয়া ভীতু দুটো বিড়ালছানার মতো। একে অপরের গায়ে লেপটে আছে। মেঘ কয়েকবার ঢোক গিলল। তার ভেতরে অস্বস্তি কাজ করছে। মেঘ ফিসফিস করে অরুকে বলল, “দরজাটা খোল।”
অরু মেঘের চেয়ে এক কাঠি বেশি চালাক। সে দরজাটা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে মাথা গলিয়ে দিয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করল, “আবির ভাই, ভেতরে আসবো? মেঘ আপনার সাথে জরুরি কিছু কথা বলবে।”
মেঘের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। সব দায়ভার তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে অরু এখন সাধু সাজছে! রাগে অপমানে সে অরুর পিঠে সজোরে এক কিল বসিয়ে দিল। শুরু হয়ে গেল দুই বোনের নীরব ধ্বস্তাধস্তি। ঠিক তখনই ভেতর থেকে আবির ভাইয়ের গম্ভীর গলা শোনা গেল

“কাম!”
ব্যস, মুহূর্তেই সব শান্ত। দুই বোন অপরাধীর মতো পা টিপে টিপে রুমে ঢুকল। মেঘের বারবার মনে হচ্ছে তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। এই রুমের বাতাসে কি আর্দ্রতা কম? নাকি আবির ভাইয়ের উপস্থিতিতেই অক্সিজেন কমে যায়?
আবির ভাই খাটের ড্যাশ বোর্ডে হেলান দিয়ে বসে আছেন। পরনে ধবধবে সাদা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার। চুলগুলো এখনো ভেজা, কপালের ওপর লেপ্টে আছে। শাওয়ার নিয়েছেন বোধহয়। কোলের ওপর রাখা বালিশের ওপর ল্যাপটপ। লোকটা কি ল্যাপটপ নিয়েই জন্মাবে, আর ল্যাপটপ নিয়েই মরবে?
আবির ভাই ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই ভুরু কুঁচকে তাকালেন।
“হুম, বল। কী চাই?”
অরু কনুই দিয়ে মেঘের পাঁজরে একটা গুঁতো মারল। মেঘ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না। অরু আবার খোঁচা দিল। আবির ভাই এবার ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে রেখে সরাসরি তাদের দিকে তাকালেন। ধমক দিলেন কন্ঠ প্রসারিত করে, “এরকম ঝগড়া করছিস কেন তোরা? মেঘ, কী হয়েছে বল?”
মেঘ মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল। এই লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলা বা কোনো আবদার করা দুটোই বেশ কঠিন কাজ। আবির ভাই আবার বললেন, “মেঘ, কী বলবি, নাকি আমি ল্যাপটপ খুলব আবার?”

মেঘ আমতা আমতা করে বলল, “আসলে আবির ভাই… অরু বলতে চাচ্ছিল যে…”
অরু সাথে সাথে মাঝপথে কথা কেড়ে নিল, “একদম মিথ্যে বলবে না আবির ভাই। মেঘই আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে এসেছে আপনার কাছে। ওর খুব বড় একটা আবদার আছে।”
আবির ভাই মুচকি হাসলেন। তিনি বললেন, “আচ্ছা, আমি জানি অরু তুই সবসময় নির্দোষ।”
মেঘ পুরোপুরি চুপসে গেল। আবির ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে একটু হাসফাস করে বলল, “আবির ভাই, আজ আমাদের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে।”
আবির ভাই ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরালেন না। নিস্পৃহ গলায় বললেন, “হুম।”
“আমি গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছি। অরু আমার চেয়ে নম্বর কিছুটা কম পেলেও জিপিএ ফাইভ পেয়েছে।”
আবির ভাই এবার ল্যাপটপের উপর থেকে হাত সরালেন। শান্ত গলায় বললেন, “ও, বুঝেছি। ভালো।”
ব্যস, এইটুকুই! মেঘের পিত্তি জ্বলে গেল। লোকটার রক্তমাংসের ভেতরে কি কোনো ইমোশন বা আবেগ নেই? অন্তত একটা ‘অভিনন্দন’ তো দেওয়া যেত! নাকি অভিনন্দন শব্দটা তাঁর ডিকশনারিতে নেই? লোকটার এই আকাশচুম্বী অ্যাটিটিউড দেখে মেঘের ইচ্ছে করছিল হাতের কাছে কিছু থাকলে সেটা ছুঁড়ে মারতে। কিন্তু সে রাগ সামলে নিয়ে এবার কাঠখোট্টা গলায় আসল কথাটা পাড়ল, “আমাদের দুজনের জন্য দুটো সাইকেল চাই, আবির ভাই।”

এবার কাজ হলো। আবির ভাই ল্যাপটপটা এক ঝটকায় বন্ধ করলেন। গম্ভীর গলায় বললেন, “সাইকেল দিয়ে তোরা কী করবি? রাস্তায় বের হবি আর গাড়ির নিচে পড়বি? সেই এক্সিডেন্টের দায়ভার কে নেবে শুনি?”
মেঘ আর অরু একযোগে চেঁচিয়ে উঠল, “আমরা সাইকেল চালাতে পারি আবির ভাই! আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।”
আবির ভাই মেঘের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বললেন, “ও আচ্ছা, তোরা তাহলে সাইকেল চালানোতে ওস্তাদ? তা মেঘ, তোর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ওই পুরনো দাগটা কিসের রে?”
মেঘ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে উঠল। বিস্ময়ে তার মুখ হাঁ হয়ে গেল। তার হাঁটুর নিচে ছোটবেলাকার একটা গভীর কাটা দাগ আছে। সে শুনেছে, একদম ছোটবেলায় সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে এই চোট পেয়েছিল সে। কিন্তু আবির ভাই সেই কথা জানলেন কী করে? তখন তো আবির ভাইয়ের এ বাড়িতে থাকার কথা নয়! লোকটা কি অন্তর্যামী?

মেঘের ঘোর কাটল আবির ভাইয়ের কথায়, “ঠিক আছে, কিনে দেবো নে। আর কিছু চাই?”
অরু আর মেঘ বেশ খুশি হলো। তারা হাসিমুখে মাথা নাড়ল, “না আবির ভাই, আর কিচ্ছু চাই না।”
“তাহলে এবার বিদায় হ। নাকি এখানেই রাত কাটানোর ইচ্ছা আছে?”
অরু তৎক্ষণাৎ মেঘের হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে রুম থেকে বের করে নিয়ে গেল। পাছে আবির ভাই মত বদলে ফেলেন! ওরা চলে যেতেই আবির ভাই বৃষ্টি ভেজা জানালার দিকে তাকালেন। কাঁচের ওপাশে জমাট বাঁধা অন্ধকার আর বৃষ্টির নূপুরধ্বনি। তিনি আপনমনেই একটু মুচকি হাসলেন। আবির জানে, মেঘ এখন সারা রাত এই চিন্তায় অস্থির হবে যে, আবির ভাই এই কথা জানলেন কী করে? অথচ মেঘ কোনোদিনও জানতেই পারবে না, আবির তার সম্পর্কে এমন অনেক কিছুই জানেন যা মেঘ নিজেও হয়তো জানে না। আবির খাটের ড্যাশ বোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
এক সময় মানুষের জীবনের সব আনন্দ একপাশে থাকে, আর গোপন কিছু কষ্ট অন্য পাশে। আবির তাঁর পেশিবহুল হাত দুটো দিয়ে আচমকা কপালটা চেপে ধরল। বাইরের বৃষ্টির মতো আবিরের ভেতরেও কি কোথাও কোনো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামছে? সেই বৃষ্টির আওয়াজ অন্য কেউ শুনতে পায় না। শুধু এই আবিররা ছাড়া।

আবিরের রুম থেকে ফিরে মেঘ চুপচাপ শুয়ে পড়ল। ঘরের সব বাতি নেভানো, শুধু সাইড টেবিলের ল্যাম্পটা জ্বলছে। নভেম্বর আসছে, বাতাসে হালকা একটা হিম ভাব। বাইরে ঝুমঝুম শব্দে বৃষ্টি পড়ছে। মেঘ গায়ের কাঁথাটা ভালো করে জড়িয়ে নিল। শীত লাগলে মানুষের ভেতরে আলস্য ভর করে। মেঘের চোখে ঘুম নেই। সে একদৃষ্টিতে জানালার দিকে তাকিয়ে রইল।
জানালার কাঁচ লাগানো, ওপরে পর্দা টানা।

অন্ধকার আর আলোর লুকোচুরিতে মেঘের মনে হলো, জানালার ওপাশে ঠিক একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। একটা অস্পষ্ট ছায়া। মেঘের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। সে তড়াক করে বিছানায় উঠে বসল। খাট থেকে নেমে দ্রুত পায়ে গেল জানালার কাছে। থাই গ্লাসটা সরাতেই এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস আর বৃষ্টির ছাঁট তার মুখে লাগল। মেঘ উঁকি দিয়ে দেখল—নাহ, কেউ নেই। শুধু অন্ধকার আর বৃষ্টির অঝোর ধারা। সে ভাবল, তবে কি আমি ভুল দেখলাম? মানুষের মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে এমন সব দৃশ্য তৈরি করে যা বাস্তবে নেই। একেই হয়তো বলে বিভ্রম। মেঘ আবার জানালার কাঁচ টেনে দিল।

আবির ভাই পর্ব ৫

পর্দাটা ঠিক করে বিছানায় এসে বসল। তার মনে একটা খটকা রয়েই গেল ছায়াটা কি সত্যিই ছিল, নাকি পুরোটাই ধোঁয়াশা? মেঘ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ল্যাম্পের সুইচটা টিপে দিল। ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে গেল। মেঘ বালিশে মাথা রাখল।

আবির ভাই পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here