আমার আলাদিন পর্ব ৪৬
জাবিন ফোরকান
“সুগন্ধা!”
সাইবানের চিৎকারে ধড়মড় করে উঠে বসতে গিয়ে ধপাস করে ফ্লোরে আছড়ে পড়ল সুগন্ধা। একটুর জন্য ঘাড় বেঁকে যায়নি তার। কোমর ডলতে ডলতে উঠে দাঁড়িয়ে রুদ্রমূর্তি সাইবানকে দেখে তার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হলো।
“ভাইজান!”
হনহন করে এগিয়ে এসে সুগন্ধার কব্জি খামচে ধরল সাইবান,
“বাচ্চা কোথায়? বাচ্চা কোথায় আমার? হোয়্যার দ্যা হেল ইয মাই বেবি বয়, ড্যাম ইট!?”
কেঁপে উঠল সুগন্ধা। সাইবানকে রেগে যেতে সে দেখেছে বহুবার। কিন্তু এই ক্রোধের সাথে যেন অন্য কিছুর তুলনা হয়না। সন্তানহারা বাবারা কি তবে এভাবেই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে? সেসব নিয়ে চিন্তার ফুরসত আপাতত নেই সুগন্ধার কাছে। সে হন্যে হয়ে আশেপাশে তাকাল। শীতল আতঙ্কে সর্বাঙ্গ কাঁপতে লাগল তার। তোতলানো শুরু করল,
“এই…এইখানেই তো ছিল আমার সাথে। খেলতেছিল, এরপর আমি কেমনে জানি ঘুমাইয়া পড়লাম আর… গেল কই?”
সুগন্ধার বলতে দেরী কিন্তু সাইবানের তাকে নিষ্ঠুরভাবে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরাতে দেরী হলনা। সুগন্ধা সোফার উপর আছড়ে পড়ল। দ্বিতীয় দফায় কনুইয়ে ব্যথা পেল। সাইবান এদিক সেদিক তাকাল পাগলের মতন। যেন সে বুঝতে পারছেনা কি করবে। কোনদিকে ছুটে যাবে।
“এই বাড়ির মানুষগুলো কি সাত আসমানে চলে গেছে নাকি গাঙ্গের পানিতে ভেসে গেছে?”
সুগন্ধা উঠে দাঁড়াল, কনুই ঘষতে ঘষতে নরম গলায় বলতে গেল,
“ভাবীজান আর অনুরাগ দা তো আফাজানের পিছনে…”
সাইবান এমন দৃষ্টিতে ঘুরে তাকাল তার দিকে যে সুগন্ধার শব্দগুলো সব দলা পাকিয়ে গেল। ওই ভয়ংকর চোখজোড়া যেন ঘূর্ণায়মান অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। যেকোন মুহুর্তে ছিটকে বেরিয়ে ভস্ম করে দেবে চারপাশ। নিজের মাথা দুহাতে চেপে ধরল সাইবান, রীতিমত পাশবিক গলায় হুংকার দিয়ে উঠল,
“যদি বাচ্চার কিছু হয়, যদি আমার বাচ্চার কিছু হয়, আল্লাহর কসম আমি একটা একটাকে ধরে হিসাব মেটাব! সে পর হোক বা আপন!”
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কেমন হয় সুগন্ধার জানা নেই। তবে সাইবানকে দেখে তার সেই আগ্নেয়গিরির কথাই মনে পড়ে গেল। গলার পাশে নীলচে শিরা ফুলে ফেঁপে উঠেছে তার। কপালের রগ টনটন করছে। উপরের পাটির সুঁচালো দাঁতজোড়া বেরিয়ে এসেছে বিধায় হিংস্র জন্তুর মতন দেখাচ্ছে সাইবানকে। যেকোন মুহুর্তে যে কারো উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলতে প্রস্তুত।
সুগন্ধা হাজার চাইতেও কিছু বলতে পারলনা। যেন সে মুখ খুললেই বিপদ। অপরাধবোধে জড়সড় হয়ে গেল সে। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত ইযান তার কোলে বসে খেলছিল। এরপর চোখজোড়া লেগে আসল কীভাবে যেন আর বাচ্চাটা গায়েব হয়ে গেল? আগে কখনো এমন হয়নি। ইযান সবসময় তার পাশে শুয়েই খেলেছে। আজ তবে কি হলো? সাইবান অপেক্ষায় নেই। সে লাফিয়ে সিঁড়ির উপর উঠল। উদ্দেশ্য কি বোঝা দায়। মাঝপথ পর্যন্ত সে পৌঁছেছে কি পৌঁছায়নি, এমন সময়েই নিচতলার রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট একটা শব্দ ভেসে এলো। যেন ভারী কিছু মেঝেতে পড়েছে। জমে গেল সাইবান এবং সুগন্ধা। উভয়ের দৃষ্টি গিয়ে পড়ল রান্নাঘরের পথে। সাইবান পাঁচ কি সাতটা সিঁড়ির উপরে ছিল। অসম্ভবভাবে সেই সবগুলো সিঁড়ির উপর থেকে ভয়ানক একটা লাফ দিয়ে সে মেঝেতে এসে ডিগবাজি খেয়ে উঠে দাঁড়াল। হা হয়ে দৃশ্যটা দেখল সুগন্ধা। কিন্তু তার দেখার মতন গতিতে সাইবান নেই। ঝড়ের বেগে দৌঁড়ে সে রান্নাঘরে চলে গিয়েছে। সুগন্ধাও আর দাঁড়িয়ে থাকলনা, দ্রুতই পিছু নিল।
রান্নাঘরে রীতিমত হৃদপিন্ড হাতে নিয়েই পৌঁছাল সাইবান। তার পদক্ষেপ থমকে গেল সহসাই। মনে হলো নিঃশ্বাস আটকে গিয়েছে। চোখের সামনের দৃশ্যটাকে স্বপ্ন মনে হলো।
সমস্ত মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পায়েস। দুপুরে ইরাম রান্না করেছিল। দুধে ভেজা অর্ধতরল মেঝেকে বন্যার মতন ভাসিয়ে ফেলেছে। যে স্টিলের পাত্রে ছিল, সেটা মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর এই মহাযজ্ঞের কারিগর, বাড়ির শাহেনশাহ, বংশের চেরাগবাতি পায়েসের স্রোতে গা ভাসিয়ে বিন্দাস শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে।
পায়েসে গোসল সারছে ইযান। কেঁচোর মতন কিলবিল করে ছোট্ট শরীরটা গড়াগড়ি দিচ্ছে। জিভ বের করে হাত, পা, মেঝে চাটছে ক্ষণে ক্ষণে। ঠোঁটে বিরাট হাসি। ফোকলা মাড়িতে ওই একটু খানি সূচরূপী দাঁত রুপার মতন চিকচিক করছে। সাইবানের উপস্থিতি টের পেয়ে উল্টো হয়ে পেটের উপর শুয়ে মাথা কাত করে তাকাল ইযান। গোলাপি ঠোঁটজোড়া ফুলিয়ে ডেকে উঠল,
“গুউউ!”
প্রথম কয়েক সেকেন্ড সাইবান কোনো প্রতিক্রিয়া করতে পারলনা। শুধু ভ্যাবলার মতন তাকিয়ে থাকল। পরক্ষণেই মনে হলো, তার শরীর থেকে সমস্ত শক্তি বেরিয়ে গিয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেস দিয়ে পিছলিয়ে মাটিতে বসে পড়ল সে। বুকের ভেতর আটকে রাখা নিঃশ্বাসটা এত জোরালোভাবে বের হলো, যে ক্ষণিকের জন্য শ্বাসকষ্ট উঠে গেল তার। নিজের মাথার চুল নিজের হাতে এত জোরে টেনে ধরল সে যে ব্যথা লাগল। অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করল,
“ফা*! ফা* ফা* ফা* ফা* ফা*!
এমন সময়েই সুগন্ধা এসে ঢুকল। আরেকটু হলে পায়েসে পিছল খেয়েই পড়ছিল মেয়েটা, কিন্তু ক্যাবিনেট ধরে নিজেকে রক্ষা করল। ইযানকে পায়েসে মাখামাখি দেখে সে আঁতকে উঠল,
“আয় হায়! কি কেলেংকারি!”
সুগন্ধা লাফিয়ে পায়েসের বীভৎসতা টপকে ইযানের কাছে পৌঁছাল। হাত ধরে তুলল ছোট্ট শরীরটাকে। পুরো সাদা ভূতের মতন লাগছে তাকে। সুগন্ধা ভ্রু কুঁচকে বকল,
“কবে থেকে হামাগুড়ি দেয়া শেখা হইলো? আগে তো দুই কদমেই পরান শ্যাষ! এখন আইসা ইন্দুরের মতন আবার পায়েসের বাটিটারেও হাতানো হইসে? ভাবীজান আসুক, শালিস বসামু আমি!”
ইযানকে অপরাধী মনে হলোনা। বরং সাপ যেমন বিষ ছিটায় তেমন জিভ বের করে পায়েস ছিটাল সে। সুগন্ধা ভ্রু কুঁচকে ফেলল। কতটা খেয়েছে? নাকি শুধু চেটেছে? পরীক্ষা করার সময় অবশ্য সুগন্ধা পেলনা। এর আগেই পিছনে ওই দানবিক অস্তিত্বটার উপস্থিতি টের পেল। অজান্তেই ঘাড়ের লোম খাড়া হয়ে গেল তার। আস্তে করে ঘুরে দাঁড়াল। সাইবানের চেহারা আগের মতন আগ্রাসী নেই। তা এখন অতীব শান্ত। টগবগে লাভার উপর পানি পড়লে যেমন তা শক্ত কালো পাথরে পরিণত হয়, সাইবানকে ঠিক তেমন দেখাচ্ছে। সুগন্ধা তোতলাল,
“আম…আমাকে মাফ কইরা দেন। আমি আমার দায়িত্ব পা..পালন করতে পা…রিনাই। এক্ষণি সব পরিষ্কার করতেসি। এরপর আপনি যা শাস্তি দিবেন আমিঃ..!”
এবারেও সুগন্ধা বলা শেষ করতে পারলনা। সাইবান নিঃশব্দে নিজের দুবাহু উঁচিয়ে ধরল। ইশারা বুঝতে সমস্যা হলোনা। ইযানকে এগিয়ে দিল সুগন্ধা। সাইবান ছেলের ছোট্ট শরীরটাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল। পায়েস, ময়লা মাখামাখি হয়ে তার শরীরেও লেপ্টে গেল, অথচ সেসবে কোনো পরোয়া নেই তার। ইযানকে বুকে চেপে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল সে।
“গুই?”
তার হৃদস্পন্দনের গভীরতা অনুভব করে মুখ তুলে শব্দ করল ইযান। সাইবান এবারেও কিছু বললনা। শুধু ছেলের ছোট্ট মাথাটা নিজের বিশাল হাতের মাঝে ধরে নিগূঢ় নয়নে চেয়ে রইল ডাগর ডাগর চোখগুলোর মাঝে।
“বাবাকে ভয় দেখাতে নেই। বাবা তোমার কাছে দূর্বল, খুব দূর্বল।”
ফিসফিস করে উচ্চারণ করল সাইবান। সুগন্ধা ঠিকঠাক শুনতে পেলনা সে কি বলেছে। শুধু দেখল পিতা পুত্র অব্যক্ত গভীর দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে চেয়ে আছে। সুগন্ধাকে আর কিছুই বললনা সাইবান। শুধু চুপচাপ ছেলেকে বুকে চেপে হেঁটে বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে। সুগন্ধা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল নিজের জায়গায়। বুকের ভেতর আটকে রাখা শ্বাসটুকু অবশেষে ফেলল।
ইযানকে নিয়ে রুমে ফিরে এলো সাইবান। সমস্ত শরীর চটচটে হয়ে আছে। নিজের আর ইযানের পোশাক খুলে লন্ড্রি বাস্কেটে ফেলল সে। অতঃপর এক হাতে তোয়ালে আরেক হাতে ছেলেকে নিয়ে বাথরূমে ঢুকে গেল। গিজার থেকে প্রথমে বালতি ভরে উষ্ণ গরম পানি নিল। অতঃপর সাবধানে বেসিনে ইযানকে বসিয়ে ধীরে ধীরে শরীর ধুয়ে দিল। পানি পেয়েই দুই হাত ছুঁড়ে লাফাতে লাগল ইযান। জিভ বেরিয়ে পড়ল উত্তেজনায়, খুশির ঝিলিক খেলে গেল চোখে।
“ইয়া…গু…আ..!”
সাইবানের ঠোঁটে অতি সূক্ষ্ম একটা নমনীয় হাসি ফুটল। ইযানের শরীর থেকে চটচটে ভাবটা দূর হয়ে গেলে বেবি সোপ মেখে সে শাওয়ার ছেড়ে দিল। ধোঁয়াটে হয়ে উঠল পরিবেশ। বাষ্প ছেয়ে গেল চারপাশ। সঙ্গে উষ্ণতা ভরিয়ে দিল সর্বাঙ্গ। ইযানের নাজুক শরীরটা বুকে চেপে শাওয়ারের নিচে দাঁড়াল। এমনভাবে ধরে রাখল যেন পানি শরীরে লাগলেও মুখে না লাগে, শ্বাস প্রশ্বাস জারি থাকে। ইযান ভীষণ মজা পাচ্ছে। কাদার মতন লেপ্টে যাচ্ছে সাইবানের বুকে। নরম ত্বকের ঘর্ষণে অদ্ভুতুড়ে একটা অনুভূতি ছুঁয়ে যাচ্ছে সাইবানকে। পানির কারণে দৃষ্টি খানিকটা ঝাপসা তার। মুখ নামিয়ে সে ইযানকে দেখল। অতঃপর তাকে তুলে কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। কানের মাঝে মুখ নিয়ে সে গভীর গলায় বলল,
“আব্বু?”
“উই?”
“বাবা নিজেকে হারাতে পারবে, কিন্তু তোমাকে হারাতে পারবেনা।”
ইযান কি বুঝল সেই জানে। সাইবানের কাঁধে মাথা রেখে সে ভদ্র ছেলেটি হয়ে রইল। যেন পরিস্থিতির গাম্ভীর্যতা তাকেও ছুঁয়ে ফেলেছে।
গোসল শেষ করে পোশাক পরে বেরিয়ে এলো সাইবান। ইযানকে বেবি লোশন মাখিয়ে জামা পরিয়ে দিতে দিতে ঘুমে একেবারে কাদা হয়ে গেল ছেলে। উষ্ণ পানিতে খেলে বেশ আরাম পেয়েছে মনে হয়। তাই এখন ক্লান্তির ঘুম। সাইবান নিঃশব্দে তাকে কাঁধে ঠেকিয়ে রুমজুড়ে হাঁটতে লাগল। পিঠে হাত বুলিয়ে গেল। হালকা ভেজা চুল কপালে লেপ্টে আছে সাইবানের। দৃষ্টি শীতল, নিক্ষিপ্ত বারান্দার দিকে। ধীরে ধীরে তার বাহুর মাঝে ইযান নরম আর ভারী হয়ে এলো। ঘুমিয়ে পড়েছে সেটার লক্ষণ। ঠিক এমন সময়েই মৃদু পদশব্দ শোনা গেল। অতঃপর, রুমে প্রবেশ করল ইরাম।
খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। সারিকার পিছনে এত ছোটাছুটি হয়েছে আজ যে পা ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে। নিজের ওড়না সরিয়ে চুলের খোপা খুলতে খুলতে সামনে তাকিয়েই ইরাম থমকাল। জানালার কাছে দন্ডায়মান সাইবান। তার বুকে ঘুমন্ত ইযান। দৃশ্যটা দূর্লভ তবে নতুন নয়। এরপরও ইরামের চেয়ে থাকতে ইচ্ছা হলো। সে প্রায় মিনিট দুয়েক তাকিয়ে রইল, অথচ অবাককরা বিষয় সাইবান একবারও ঘুরে তাকাল না! শেষমেষ নিজেই নীরবতা ভাঙল ইরাম,
“তুমি এলে কখন? কুচুপু খেয়েছে?”
সাইবান অতি ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখের শীতলতা এবং ধারালো দৃষ্টি ইরামকে বিস্মিত করল।
“পায়েস খেয়েছে। পেট ভরে।”
সাইবানের ঠান্ডা গলার কথাটা হজম হলোনা ইরামের। ইযানকে দুধ বাদে এখনো স্বাভাবিক খাবার দেয়া হয়নি। দুই একদিনের মধ্যেই শুরু করবে ভেবেছিল ইরাম। তবে পায়েসের ব্যাপারটা এলো কোথা থেকে? তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কোনো আগ্রহ সাইবানের মাঝে দেখা গেলনা। সে নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়ে বিছানায় ইযানকে শুইয়ে রাখল। চাদর টেনে ঢেকে দিল।
“মানে? কি বলছ তুমি আলাদিন?”
ইরাম এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল। তার চোখে কৌতূহল আর আতঙ্ক। সাইবান ঘুরে এলো। মুখোমুখি দাঁড়াল অর্ধাঙ্গিনীর। তার হিমশীতল চাহুনিটা ইরামের মনঃপুত হলোনা।
“ছেলেকে নিয়ে আদিখ্যেতার কমতি নেই আর এদিকে সেই ছেলেকে ফেলেই রঙ্গ করতে চলে যান, ৩২ বছর কি ঘোড়ার ঘাস খেয়ে বড় হয়েছেন?”
স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল ইরাম। সাইবান অত্যন্ত রেগে আছে, তার চেহারার অস্বাভাবিক শীতলতা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সে কিছু বলার আগেই স্বামী তার দ্বিতীয় দফায় বলল,
আমার আলাদিন পর্ব ৪৫
“বাচ্চা সামলানোর মুরোদ না থাকলে জন্ম দিয়েছেন কেন? স্বামীকে ঘেন্যা লাগেনি তখন?”
ইরাম মুখ খুলল ঠিকই, কিন্তু তার ঠোঁট পেরিয়ে একটাও শব্দ উচ্চারিত হলোনা।
“আজকাল তো শিয়াল শুধু ভয় দেখায়। একদিন এসে যখন শিয়াল সত্যি সত্যি ছো মেরে নিয়ে যাবে, তখন কুমিরের কান্না কেঁদেও লাভ হবেনা।”
