আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০
সুরভী আক্তার
চমকে এক লাফে পিছিয়ে যায় ইভা । বাচ্চাটা ও চমকায় । উচ্চ স্বরের ধমকে ভয়ে তটস্থ হয়ে জড়িয়ে যায় কাঁচুমাচু হয়ে । লুকিয়ে পড়ে ইভার পিছে । হাতের ব্যাবি ফিডার টা দুহাতে চেপে ধরে ধমকের সাথে সাথে ঝাকুনি দিয়ে ওঠে ইভা । শুল্ক ঢোক গেলে সহসা ।
” মম, এই বাস্টার্ড টা এখানে কি করছে ? কে জায়গা দিয়েছে ওকে এ বাড়িতে ? মম…..
মুহুর্তেই পুরো বাড়ির সবাই জড়ো হলো একসাথে । আনতারা বেগম , রেহানা শিকদার দ্রুত কিচেন থেকে বেরোলেন ।
তোফায়েল কাবির ঘরে ছিলেন , ছেলের হুংকারে চোখে চশমা লাগাতে লাগাতে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসলেন তিনিও ।
রুবিনা কাবির দৌড়ে উঠলেন । ছেলের রাগ সামলাতে ধাতস্থ করে বললেন….
” রৌদ্র, রেগে যাচ্ছিস কেনো এভাবে ? ও ইভা , তোর খালামনির মেয়ে ।
” মম , তুমি আলাদা করে রাগাবে না আমায় । ঐ বাস্টার্ড টাকে ভুলিনি আমি । আমাকে বলো ও এখানে কি করছে ? কেনো এসেছে ও এ বাড়িতে ?
” বিয়েতে আসতে পারে নি ,তাই বউভাতে এসেছে । ধমকাচ্ছিস কেনো এভাবে ! দেখতো ওর ছেলেটা কেমন ভয় পেয়েছে তোর ধমকে । শান্ত হ । দেখ রৌদ্র , আগের মতো কিছু নেই , ভুলে যা সব । এখন অসুস্থ তুই । বাড়াবাড়ি করবি না , ঘরে চল…..
” বাড়াবাড়ি আমি করছি ? না তোমরা করছো ?
এই ,, তোর লজ্জা নেই । কোন সাহসে এ বাড়িতে পা রেখেছিস তুই ? তোর পা আজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবো আমি…..
রৌদ্র তেড়ে যায় । ভয়ে ছ্যাত করে ওঠে ইভার কলজে । দ্রুত পিছু হটে ধড়ফড়িয়ে । রুবিনা কাবির ছেলেকে টেনে ধরেন ।
” রৌদ্র , মাথা গরম করছিস কেনো এভাবে ? ইভার ছেলে ভয় পাচ্ছে । চেয়ে দেখ , ওটা ওর ছেলে ।
রৌদ্র থেমে বাচ্চা টার দিকে তাকায় কিড়মিড় করে । আরো বেশি কুঁকড়ে যায় বাচ্চা টা । এটা ঐ থার্ড ক্লাস বাস্টার্ড টার বাচ্চা ? নাগরের সাথে পালিয়ে বিয়েও করেছে । আবার বাচ্চা ও হয়েছে এর মধ্যেই ? আবার বাচ্চাটা দেখি হাঁটতে ও শিখেছে । কটা দাঁত গজিয়েছে মাড়িতে ?
কটমট করে রৌদ্র । ও তো নিজেও ঠিক সেদিনই বিয়ে করেছে । কই, ওর তো এখনো বাচ্চা হয় নি ! বউ কে সেভাবে ছুঁয়েও দেখে নি এ অবধি ।
আর এই রাস্কেল বাচ্চা পয়দা করেছে ওর আগেই ? এটা মোটেও সহ্য হলো না রৌদ্রের । ফোঁস করে উঠলো ও । রৌদ্রের রগরগে দৃষ্টি দেখে ইভা বাচ্চা টাকে নিজের পেছনে লুকিয়ে নিলো । ভ্যাবলার মত হেসে মিনমিন করলো বোকা বোকা স্বরে…..
” রৌদ্র ভাইয়া , আসলে…ওর দিকে ওভাবে তাকাচ্ছো তো , তাই ও ভয় পাচ্ছে । কি জানো , ওটা আমার ছেলে ।
তুমি তো ওর বাবা হতে গিয়ে মামা হয়ে গেছো । তাই ও তোমাকে চিনতে পারছে না…..
কথা টুকু শেষ হতে দেরি হলো , রৌদ্রের হিংস্র বাঘের ন্যায় তেড়ে যেতে দেরি হলো না । রুবিনা কাবির ও আর রুখতে পারলেন না ছেলেকে । ইভা ছ্যাত করে পেছাতে গিয়ে বাচ্চার সাথে তালগোল পাকিয়ে বাচ্চা সহ ধপ করে পড়লো করিডোরের মেঝেতে । কুকিয়ে উঠলো সহসা । রৌদ্র থামে তৎক্ষণাৎ । মৃদু ঠোঁট ফাঁক করে ওকে ওভাবে পড়তে দেখে । কেঁদে ওঠে ইভার ছেলেটা ।
রেহানা শিকদার দ্রুত উপরে উঠলেন । মেয়ে আর নাতিকে টেনে তুললেন । ক্রন্দনরত বাচ্চা টাকে কোলে নিয়ে সামাল দিতে দিতে বললেন…..
” রৌদ্র… ইভা এখন বিবাহিত । স্বামী, সন্তান আছে ওর । আর তুমি ওর গায়ে হাত তোলার জন্য উদ্যত হচ্ছো কোন হিম্মতে ? ভুলে যেও না , তুমি নিজেও বিবাহিত । নিচে তোমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে । স্ত্রীর সামনে অন্য একটা মেয়ের উপর তোড়জোড় করছো কোন খেয়ালে ?
ক্রোধে ফুঁসলো রৌদ্র । স্ত্রী সম্বোধন টা শুনে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো নিচে । নিচের সবাই ঘাড় উঁচিয়ে উপরের দৃশ্য দেখতেই ব্যস্ত । মেঘাও ব্যাতিক্রম নয় । চোয়াল খিচে এতক্ষণ সে নিজেও দেখছিলো । রৌদ্র ফেরা মাত্রই ঝট করে দৃষ্টি সরালো । অপ্রস্তুত অবস্থা থেকে বাঁচতে খেতে বসলো এবার ।
প্রতিক্রিয়া হীন দেখালো নিজেকে ।
রৌদ্র চোখ সরু করে ওকে পরখ করে উপর থেকেই । পরক্ষনে এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে দপাদপ পা ফেলে চলে যায় নিজের ঘরে ।
কাল থেকে মেঘার খোঁজ হাজার বার নেওয়া হলেও স্বস্তি পায় নি আদ্র । মেলোড্রামা শেষ হতেই সে এগোলো মেঘার দিকে । মেয়েটাকে খেতে দেখে বললো মোলায়েম স্বরে….
” মেঘ , জ্বর কমেছে ?
” হ্যাঁ ভাইয়া ।
” প্রবলেম আছে আর কোনো ?
” উঁহু !
” চোখ মুখ এভাবে ফুলে লাল হয়ে গেছে কি করে ? শুধু কি জ্বরে….
মেঘা হাত থমকায় । মুখের খাবার চিবিয়ে বলে…..
” তাছাড়া ?
” মেডিসিন নিয়েছিস ?
” উঁহু ।
” খেয়ে দেয়ে আমার রুমে আয় ।
” আচ্ছা !
আদ্র রুমে গেলো ।
সেই মোতাবেক খেয়ে দেয়ে সোজা ওর রুমে উঠেছে মেঘা । খুব যত্ন নিয়ে ফের শরীরের তাপমাত্রা মেপে পুনরায় ওকে মেডিসিন দিয়েছে আদ্র । মেয়েটার বড্ড খেয়াল রাখে ও । রাখবে নাই বা কেনো ? দায়িত্ব পেয়েছে যে ! কত বড় দায়িত্ব ওর কাঁধে ।
টেবিলের পাশের চেয়ার টায় বসে আছে মেঘা । ঔষধ গিলেছে কোনো রকমে । বমি আসছে । আদ্র হসপিটাল থেকে ফিরে ফ্রেশ হয় নি এখনো । তার আগে মেয়েটার দেখভাল করতে লেগে পড়েছে । উঠে দাঁড়িয়ে কাবাড থেকে কাপড় বের করে বললো….
” মেডিসিন নিয়েছিস , এখন রুমে গিয়ে একটু রেস্ট নে । বেশি মাতামাতি করবি না । বড্ড সেনসিটিভ তুই । একটু কিছু হতে না হতেই অসুখ ফাঁদিয়ে বসে থাকিস ।
মেঘা মুচকি হাসলো । ডেকে বললো….
” একটা কথা বলি ভাইয়া ?
” হু…
” জানো ? তুমি আমাকে কখনো আমার ভাইয়ার অভাব বুঝতে দাও না ! আমার যখন আগে কোনো কিছু হতো, ভাইয়া পুরো পাগল হয়ে যেতো আমার জন্য । সবকিছু মাথায় তুলতো । পাগলামো করতো খুব । ছোট ছোট একটু আধটু বিষয়ে খুব যত্ন নিতো আমার । ঠিক তোমার মতো
করেই এভাবে কথা শোনাতো…
আদ্রও হাসলো আলতো করে । ঘুরে এসে মেঘার পাশে বসে আদুরে গলায় বলল…
” আমি কি তোর ভাইয়া নই ?
” ভাইয়া তো । তবে আপন কেউ তো নও ।
পর মানুষ এতোটা আপনের মতো হতে পারে , তা আমি এবাড়িতে না আসলে বুঝতেই পারতাম না কখনো । আমি তো কখনো একটা পরিবার পাই নি , মা বাবা কে পাই নি । শেষে ভাইয়া কে পেয়েও কাছে পাই নি অনেক সময় । একলা বেড়ে উঠেছি , পরিবারের সঙ্গ মেলে নি । একটা পরিবার কেমন হয় দেখতাম শুধু , জানতাম অনেকে মিলে একটা পরিবার গঠিত হয় । কিন্তু সেই পরিবারের স্বাদ অনুভব করি নি সেভাবে । অবশ্য, দাদু মনি আমাকে এসবের শূন্যতা কখনো অনুভব করতে দেয় নি । আর গত পাঁচ বছর ধরে , তোমরা কেউ আমাকে এসবের শূন্যতা অনুভব করাও নি । দাদু মনি , ভাইয়া , আম্মু আব্বু , কারোর শূন্যতাই সেভাবে বুঝিনি তোমাদের কাছে থেকে । তবে আজকাল একটা বিষয় বড্ড অনুভব করি জানো ? মনে হয় , যখন তোমাদের ছেড়ে চলে যাবো , তখন তোমাদের শূন্যতা টা খুব পোড়াবে আমায় । খুব মিস করবো তোমাদের । আমি তো তোমাদের কেউ নই , তবুও অনেক ভালোবাসা দিয়েছো আমায় । চলে যাওয়ার পর তোমাদের এই ভালোবাসা গুলো খুব মিস করবো….
মেয়েটার গলা ধরে আসে । চোখের কিনারে উঁকি দেয় নোনতা জল কনা । চিকচিক করে আঁখি দ্বয়ের কার্নিশ । লম্বা শ্বাস টেনে মুখে ভরা হাসি ফুটিয়ে সামলায় নিজেকে । আদ্র স্থির চোখে চেয়ে ।
খানিকক্ষণ স্থবির হয়ে মেয়েটাকে পরখ করে বললো শুকনো কন্ঠে…..
” তুই আমাদের কেউ নোস , এটা কে বললো ? তুই তো আমাদের অনেক কিছু ! আমার মেঘ বুড়ি তুই ! ভরা মুখে ভাইয়া ডাকিস তো আমায় । তাহলে আমি তোর পর হলাম কি করে ? পর ভাবিস আমায় ? আমাদের ?
মেঘা মাথা ঝাঁকায় । আদ্র বলে…
” তাহলে ? এই পৃথিবীতে তোর সবচেয়ে আপন যদি কেউ থেকে থাকে , তাহলে সে আমাদের এই পরিবারেই নিহিত আছে । তুই বুঝবি না এখন । তবে যখন বুঝবি , তখন আর পিছু ফেরার মতো শক্তি থাকবে না ।
এখন যা , আমিও ভীষণ টায়ার্ড । ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবো একটু । তুই গিয়ে রেস্ট কর ।
মেঘা উঠে দাঁড়ালো । আদ্র আবার থামিয়ে বললো….
” কাল থেকে কিন্তু ভার্সিটি আছে । বেশ ছুটি কাটানো হয়েছে পরপর । এখন পড়াশোনায় মনোযোগ দে । শরীর সুস্থ করে কাল থেকে যেতে হবে ভার্সিটিতে ।
মুচকি হাসে মেয়েটা ।
বেরিয়ে যায় ঘর থেকে ।
বিকেল গড়িয়েছে । আকাশে মেঘেদের ভিড় জমেছে আজ । সূর্যাস্তের সময় সিঁদুর রাঙা হয়ে উঠেছে দিগন্ত । রোজকার মতো ঠিক সময়টাতে ছাদে উঠেছে মেঘা, শাফাহ্ আর সারা । শিরশিরে বাতাস বইছে । খানিক ঠান্ডা আবহাওয়া । ছাদে পা রাখা মাত্রই ফুরফুরে বাতাসে গা শিউরে উঠলো মেঘার । শরীর খারাপ লাগছে আবার । মাথা ভার হয়ে আসছে । ওরনাটা ঠিক মতো গায়ে পেঁচিয়ে বাতাস বয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করলো ।
কথা না বলে চুপটি করে একপাশের ইজি চেয়ারটায় বসলো শরীর এলিয়ে । শাফাহ্’র সেই এক ডিউটি । বিকেলের এই সময়টা ছাদে উঠে গাছে পানি দেওয়া । বিয়ের ভেজালে দুদিন ধরে গাছ গুলোর যত্ন নেওয়া হয় নি । পানি দেওয়া হয় নি ঠিক মতো । সেও ছাদে উঠে পাইপ তুলে নিজের কাজে লেগে পড়লো ।
সারা উঠেছে ছোট্ট জাবির কে সাথে করে । ইভার ছেলে এটা । এই ছেলে যা ছটফটে, দুষ্টু । ওকে সামলানো কসরতের । হাঁটতে শিখেছে কি শেখেনি , সবসময় এপাশ ওপাশ ছোটা ছুটি করতেই থাকে ।
স্থির রয় না এক মুহুর্ত । একটা ক্যাটবেরি খুলে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে ওকে একপাশে বসিয়েছে সারা । মেঘা কে চুপচাপ আনমনা দেখে ও গিয়ে দাঁড়ালো মেঘার পাশে । নরম কন্ঠে বলল…..
” এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছিস যে ?
” মাথাটা ধরেছে আবার !
সারা হাত বাড়িয়ে কপাল ছুঁইয়ে দেয় মেঘার । ফের গা গরম হয়ে এসেছে । চমকে বলে….
” তোর তো আবার জ্বর আসছে ।
” আসুক ।
” আসুক মানে ? নিজের খেয়াল রাখিস না তুই ? এভাবেই বেখেয়ালি হয়ে থাকিস সবসময় ? একেই দেখছি শরীরের হাল বেহাল । চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে পুরো । একটু খেয়াল রাখতে পারিস না নিজের ? কেমন বদলে গেছিস তুই ! নিজের খেয়াল নিজে না রাখলে এখানে কে রাখবে তোর খেয়াল ? কে তোর যত্ন নেবে..?
কথাটা শাফাহ্’র পছন্দ হলো না মোটেও । মুখ বেজার করে খিটখিটে স্বরে বলে উঠলো ও….
” দেখো সারা , মুখে যা আসবে তাই বলবে না ! এভাবে কাকে কথা শোনাচ্ছো তুমি ? মেঘার কেউ খেয়াল রাখে না মানে ? তুমি খুব ভালো করেই জানো এবাড়িতে সবাই মেঘাকে কতটা ভালোবাসে । সবচেয়ে বেশি আদ্র ভাইয়া মেঘার কতটা খেয়াল রাখে,তাও খুব ভালো করেই জানো । মেঘা নিজেই নিজের যতটা কেয়ার করে না , আদ্র ভাইয়া তার থেকেও বেশি টেক কেয়ার করে ওর । কাল তো দেখেছোই , ওটুকু সময়ে কতটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো ভাইয়া । তাহলে এসব বলছো কেনো তুমি ?
সারা সেভাবে বলতে চায় নি । কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলে ফেলেছে মুখ ফসকে । এখন শাফাহ্’র কথা গুলোতে মুখ ছোট করলো সে । মিনমিন করলো….
” আমি তো সেভাবে বলতে চাই নি শাফাহ্ । সবাই যত্ন নিলেও নিজের মতো করে কেউ নিতে পারে না । ও যদি নিজেই নিজের খেয়াল না রাখে , তাহলে তো শরীর খারাপ করবেই ।
মেঘা মাথা কাত করে চোখ বুজে বললো ক্ষিণ আওয়াজ তুলে….
” আহ্ চুপ করনা তোরা ।
সারা , মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিবি ?
সারা হাত এগোনোর আগেই শাফাহ্ ছুটে আসলো । মেঘার মাথায় হাত চেপে বললো..
” তোমাকে লাগবে না , আমি দিচ্ছি ।
নেশা মাথায় চড়েছে ।
সিগারেট না খাওয়া অবধি শান্তি মিলবে না বেপরোয়া ছেলের । উদ্দাম শরীরে পাতলা টিশার্ট জড়িয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ছাদে উঠলো সে । ব্যান্ডেজ খুলে ফেলেছে হাত , মাথা থেকে । ওসব ঝঞ্ঝাট ওর কাছে । দগদগে ক্ষত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কপালের পাশে । চুল দিয়ে ঢেকেছে কিছুটা । ওর পায়ের শব্দে শাফাহ্ আর সারা চকিতে তাকালো । জাবির ও তাকায় চকলেটে কামড় বসিয়ে । রৌদ্র কে দেখা মাত্রই ছলকে ওঠে বাচ্চা হৃদয় । তখনকার সেই উন্মাদ লোকটাকে চিনতে ভুল করলো না বাচ্চা টা । এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে গিয়ে লুকালো সারার কাছে । মাথা বাড়িয়ে উঁকি দিলো পিটপিট করে ।
রৌদ্র কপাল কুঁচকায় ওদের সকলকে দেখে । একপাশে দাঁড়ায় । টুকটুকি আছে বিধায় সিগারেট ধরায় না প্রথমে । চোখ তীক্ষ্ণ করে বাঁকা দৃষ্টি পাত করে চায় ইজি চেয়ারে বসে থাকা রমনীর পানে । রমনী উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে ।
রৌদ্র কে দেখেও কথা হয় নি । সারা ঢোক গিলে মিনমিন করলো….
” কেমন আছো ভাইয়া ?
” বিন্দাস….
রৌদ্রের কন্ঠ শোনা মাত্রই কেঁপে ওঠে রমনীর বক্ষস্থল । একেই শরীর কাঁপছে জ্বরের তোপে , তার উপর লোকটার কন্ঠ স্বর শুনে পুরো চিত্ত কেঁপে উঠলো মেয়েটার । শরীর ভার , ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে , নড়তে গিয়েও পারলো না মাথা সহ পুরো শরীরের যন্ত্রণায় । চক্ষু দ্বয় ও খুলতে পারলো না চেষ্টা করেও ।
ভার পাপড়ি যুগল আলাদা করার শক্তি কুলালো না । কুঁকড়ে গিয়ে শরীর মুড়িয়ে নিলো আরো । পিছন দিকে অধীক হেলে গিয়ে জড়োসড়ো হয়ে গুটিয়ে বসলো কচ্ছপের ন্যায় ।
রৌদ্র বললো সেভাবেই ওকে পরখ করে….
” এই কুনো ব্যাঙের ছানাটা তোর বোনের , তাইতো ? ওয়াহহহ্,, সাপের পেটে ব্যাঙের ছানা ? ইন্টারেস্টিং !
শাফাহ্ অর্থ বুঝে তৎক্ষণাৎ ফিক করে হেসে ফেলে । সারা মুখ নামায় । জাবির কে টেনে সামনে নেয় । সবে কথা শিখেছে বাচ্চা টা । রৌদ্র কে দূরে দেখেই বলে উঠলো….
” পতা নোক….
” ওরে নাগীনের বাচ্চা , তোকে বাগে পেয়েছি এবার ।
বলেই এগোলো রৌদ্র । বাচ্চাটা কেঁদে দেওয়ার দশা । চেঁচিয়ে উঠলো । রৌদ্র ওর কচি কচি হাত দুটো ধরে টেনে নিলো নিজের কাছে । বগলদাবা করে চেপে ধরলো দুহাত একসাথে করে । ব্যাথা পাবে বিধায় আলতো করেই ধরেছে । তবুও ভয়ে ডরে বাচ্চা টা কেঁদে উঠলো রৌদ্রের কাছে যাওয়া মাত্রই । ভ্যা ভ্যা করে কান্না জুড়লো সে । রৌদ্র দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো….
” চুপ বেয়াদব ,, মেরে সোজা করবো নয়তো তোকে ।
ঝাই ধরে কান্না জুড়লো উচ্চ স্বরে । সারা আঁকুপাঁকু করে বলে….
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৯
” ভাইয়া , ভয় পাবে ও । কাঁদছে…ছেড়ে দাও…
” ছাড়বো ? ওয়েট….। বাচ্চাদের পেটাতে নেই । খারাপ স্বভাব এটা । আমি আবার ভালো মানুষ । না মেরেই অনেক ভাবে কাঁদানো যায় বাচ্চাদের ।
একটু থামে । ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে….
” টুকটুকি চকলেট খাবি…?
