ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ২
নওরিন কবির তিশা
“এই আপনার ফোনটা দিন তো!”
আকস্মিক আরাভের এমন কথায় ভরকে গেল ওসি রফিকুল ইসলাম; কিছুক্ষণ আগেই যে ছেলেটা বুকে ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল আচানক তার এমন পরিবর্তনে রীতিমতো তাজ্জব বনে গিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই আরাভের ক্রনিক চেস্ট পেইন বা অ্যাঞ্জিনা’র সমস্যা আছে, যা সামান্য মানসিক চাপে বা উত্তেজনায় প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওসি রফিকুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে একটা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে ওকে তাই নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটছিলেন। উনি আমতা আমতা করে বললেন,
-‘ আরাভ, আপনার কন্ডিশন তো ভালো না। ছোটবেলা থেকেই আপনার হার্টে প্রবলেম, এখন এই এমার্জেন্সি অবস্থায় ফোন দিয়ে কী করবেন? আমাদের দ্রুত স্কয়ার হসপিটালে পৌঁছাতে হবে। দেরি হলে বড় ঝুঁকি হয়ে যাবে!
আরাভ এক হাত দিয়ে নিজের বুক চেপে ধরে অন্য হাতটা ওসির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-‘ অসুস্থতা মাই ফুট! আপনার ফোনটা দিন। জাস্ট ওয়ান কল।
রফিকুল ইসলাম কাঁপাকাঁপা হাতে নিজের স্মার্টফোনটা বের করে দিলেন। মন্ত্রীর ছেলের অবাধ্য হওয়া মানে নিজের ক্যারিয়ারের অপমৃত্যু ডেকে আনা, সেটা তিনি ভালো করেই জানেন। ফোনটা হাতে নিয়েই আরাভ সামনের দিকে তাকিয়ে চালককে উদ্দেশ্য করে কর্কশ গলায় বলল,
-‘ অ্যাম্বুলেন্সটা রাস্তার সাইডে পার্ক কর, এখনই!
রফিকুল ইসলাম আঁতকে উঠে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে বাঁধা দিয়ে বললেন,,
-‘ এটা অসম্ভব আরাভ! ট্রাফিক আইন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজলে অন্য সব গাড়ি রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স নিজে কখনো মাঝরাস্তায় এভাবে থামতে পারে না। এটা ঘোরতর বেআইনি প্রটোকল!
আরাভ ফোনের ডায়াল প্যাডে আঙুল চালাতে চালাতে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
-‘ আপনার আইনের মাইরে বাপ…! যা বলছি তা করেন রফিকুল সাহেব। না হলে কাল সকালে আপনার উর্দিতে একটা স্টারের বদলে কেবল বেকারত্বের সিলমোহর থাকবে। চুজ ইয়োর সাইড—ল অর পাওয়ার?
রফিকুল ইসলামের আর কিছু বলার সাহস হলো না। তিনি কাঁপা গলায় ড্রাইভারকে নির্দেশ দিলেন রাস্তার একপাশে গাড়ি থামাতে। অ্যাম্বুলেন্সের নীল বাতিটা তখনো ঘুরছে, কিন্তু সাইরেনটা থেমে গেছে। আরাভ ওসির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
-‘ গুড্য। এবার চুপচাপ মুখ বন্ধ করে বসে থাকুন।
আরাভ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি কাঙ্ক্ষিত নম্বর ডায়াল করল। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই আরাভের গম্ভীর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হলো,
-‘ হ্যালো, ইটস ম্যি। কাজটা কি রেডি?
অপর পাশ থেকে আশানুরূপ জবাব ভেসে এলো,,-‘ইয়্যেস!
-‘ গুড্য! এবার ভিডিও লিঙ্ক বাবার কাছে পাঠা। সেই সঙ্গে আমার বলা কথাগুলো বলে দে। ওকে?
-‘ ওকে।
-‘ আর তোর পেমেন্ট বলে দিব আমি, ডোন্ট ওয়ারী জাস্ট বের হই কাল।
বলেই ফোনটা কেটে দিলো আরাভ। সেটার রফিকুল ইসলামের হাতে বুঝিয়ে দিয়ে বলল,,
-‘ অ্যাম্বুলেন্স ঘোরান থানায় ব্যাক করছি আমরা।
-‘ আপনার পেইন?
-‘ ওটা গায়েব হয়ে গিয়েছে।
রফিকুল কিঞ্চিত বিরক্ত হলেও অগত্যা ড্রাইভারকে অ্যাম্বুলেন্স ঘোরানোর নির্দেশ দিল। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের নীল আলোটা মাঝরাস্তায় ইউ-টার্ন নিল। সাইরেন ছাড়াই গাড়িটা ঝড়ের গতিতে থানার দিকে এগোতে শুরু করল।
অফিস কক্ষে বিদ্যমান হচ্ছে এসির ভিতরে বসেও তপ্ত মরুভূমির ন্যায় উষ্ণতা অনুভব করে অনবরত ঘেমে চলেছেন ডিআইজি তাহের চৌধুরী; বদ্ধ কামরায় এসির ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও তার কপাল বেয়ে অঝোরে ঝরছে ঘাম বিন্দুরা। কয়েক মিনিট আগে তার ফোনে একটি আননোন নম্বর থেকে আসা ভিডিও লিঙ্কটি তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তিয়াশার কলেজের সেই শ্লীলতাহানির দৃশ্যটি, কিন্তু অত্যন্ত নিপুণভাবে এডিট করা। সেখানে মনে হচ্ছে তিয়াশা নিজেই আরাভকে প্ররোচিত করছে। আধুনিক প্রযুক্তির ডিপফেক কারসাজিতে সত্যকে মিথ্যার চাদরে এমনভাবে ঢাকা হয়েছে যে, তা জনসমক্ষে এলে তিয়াশার সম্মান ধূলিতে মিশবে।
ঠিক এই মুহূর্তে তার ব্যক্তিগত ফোনে বেজে উঠল আনোয়ার খানের নম্বর। তাহের চৌধুরী প্রথমবার কলটা কেটে দিলেন। হাত কাঁপছে তার। দ্বিতীয়বার ফোনটা বাজতেই তিনি রিসিভ করলেন। ওপাশ থেকে আনোয়ার খানের বি’ষা”ক্ত হাসিমাখা কণ্ঠ ভেসে এল,,
-‘ গুড মর্নিং ডিআইজি সাহেব! শরীরটা কি বেশি খারাপ লাগছে? ভিডিওটা পেয়েছেন তো? না মানে, টেকনোলজির যুগে সব কিছুই তো ফাস্ট। এখন আপনার ওই তথাকথিত এথিকস কি আপনার মেয়ের সম্মানের চেয়েও বড়?
তাহের চৌধুরী টেবিলের ওপর রাখা পেপারওয়েটটা শক্ত করে চেপে ধরলেন। দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠলেন,,
-‘ আনোয়ার খান! আপনি একজন পলিটিশিয়ান হয়ে এত নিচু মানসিকতার কাজ করতে পারলেন? এটা স্রেফ ব্ল্যাকমেইল! আপনি জানেন এর পরিণাম কী হতে পারে?
-‘ কাম ডাউন, তাহের সাহেব! কাম ডাউন,পরিণাম নিয়ে আমি ভাবলে তো আজ মন্ত্রিত্ব করতে পারতাম না। কাল বলেছিলাম না, ক্ষমতার চাকা ঘোরে? নিজের প্রমোশনের লোভে হয়তো নীতি ভাঙতেন না, কিন্তু নিজের আদরের মেয়ের এই ভিডিওটা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবে, তখন আপনি মুখ দেখাবেন কোথায়? ‘ডিআইজি তাহের চৌধুরীর মেয়ের গোপন কীর্তি’—হেডলাইনটা কেমন হবে বলুন তো? পুরো বিশ্বের মানুষ তিয়াশার দিকে আঙুল তুলবে। তখন কি আপনার এই পাওয়ার ওকে বাঁচাতে পারবে?
তাহের চৌধুরী অস্ফুট স্বরে বললেন,,
-‘ ইউ রাস্কেল…
আনোয়ার খান থামলেন না, বরং আরও বাঁকা স্বরে বললেন,,
-‘ শুনে রাখুন ডিআইজি সাহেব, আই ডোন্ট লাইক লং কনভারসেশন। ডিলটা সিম্পল,আইদার ইওর ডটার’স ডিগনিটি অর মাই সন’স ফ্রিডম। চুজ ওয়াইজলি। আমার ছেলেকে এখনই সসম্মানে থানা থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করুন, তবেই এই ভিডিও ডিলিট হবে। না হলে এক ঘণ্টার মধ্যে এটা পুরো ইন্টারনেটে আগুন লাগিয়ে দেবে। টিক টক, টিক টক… সময় কিন্তু চলে যাচ্ছে!
তাহের চৌধুরী আর কথা বাড়াতে দিলেন না। ফোনের লাল বাটনটা চেপে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। কামরার নিস্তব্ধতা যেন তাকে গ্রাস করতে চাইছে। তিনি জানেন, আরাভকে ছেড়ে দেওয়া মানে নিজের আদর্শকে হ’ত্যা করা, কিন্তু তিয়াশার সম্মান? যে মেয়েটাকে তিনি রাজকুমারীর মতো বড় করেছেন, তার চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করতে দিতে পারেন না তিনি। একজন সৎ অফিসার আর একজন অসহায় বাবার মাঝে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে পিতৃসত্তাই আজ জয়ী হলো।
প্রায় দশ মিনিট স্তব্ধ হয়ে বসে থাকার পর তিনি কাঁপা হাতে ইন্টারকমটা তুললেন। ওসির নম্বর ডায়াল করে নির্লিপ্ত, প্রায় মৃ:ত স্বরে বললেন,
-‘ রফিকুল সাহেব, আরাভ খানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো সব উইথড্র করে নিন। আই রিপিট, অল চার্জেস আর ড্রপড। কেসটা ক্লোজ করুন আর ওকে এখনই থানা থেকে রিলিজ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ইটস এন অর্ডার।
ফোনটা রেখে তাহের চৌধুরী চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন। তার দুচোখের কোণ দিয়ে অজান্তেই এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। ক্ষমতার কাছে আজ কেবল একজন পুলিশ অফিসার হারেনি, হেরে গেছে এক পিতার অকুতোভয় লড়াই। সদা সৎ নির্ভীক সত্তাটা আছে যেনো পিতৃত্বের কাছে বড়ই অসহায়।
নীলিমার বক্ষ চিরে গোধূলির শেষ রক্তিম আভা বিদায় নিয়েছে অনেকক্ষণ। সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে রাত ঘনীভূত। তিয়াশাদের ড্রয়িংরুমের বিশাল টেলিভিশন স্ক্রিনটা তখনো জ্বলছে। স্ক্রলের নিচে বড় বড় হরফে লেখা উঠছে,,
“অবশেষে মুক্তি পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একমাত্র ছেলে আরাভ খান; অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন স্বয়ং ডিআইজি তাহের চৌধুরী!”
খবরটা দেখার পর থেকে তিয়াশার মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন যেন অবশ হয়ে আসছে। যে মানুষটা কাল রাতে তার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন,‘অন্যায় সইবো না’, সেই মানুষটাই আজ এভাবে পিছু হটলেন? তিয়াশার মনে হচ্ছিল, তার চেনা পৃথিবীটা হুট করে উল্টে গেছে। সকাল থেকে অন্তত বিশবার বাবাকে ফোন করেছে ও, কিন্তু প্রতিবারই ওপাশ থেকে যান্ত্রিক কণ্ঠ জানিয়েছে,,
“সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
রাত আটটা নাগাদ গেটের বাইরে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। কয়েক মুহূর্ত পরেই ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলেন তাহের চৌধুরী। কিন্তু এ যেন অন্য এক মানুষ! সর্বদা টানটান মেরুদণ্ড আর উন্নত শির নিয়ে চলা সেই দুঁদে অফিসারের অবয়ব আজ ভীষণ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। মনে হচ্ছে, বার্ধক্য এক নিমিষেই গ্রাস করে ফেলেছে তাকে।
তিয়াশা সোফা ছেড়ে বিদ্যুৎবেগে উঠে দাঁড়ালো। ওর চোখে রাজ্যের বিস্ময় আর একরাশ অভিমান। বাবার পথ আগলে দাঁড়িয়ে শুধালো,
“বাবা! তুমি ফোন ধরছিলে না কেন? আর নিউজে যা দেখছি সেটা কি সত্যি? ইউ রিলিজড হিম? সিরিয়াসলি আব্বু? হাউ কুড ইউ ডু দিস?”
তাহের চৌধুরী কোনো প্রত্যুত্তর করলেন না। তিয়াশার চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। শুধু হাতের ব্রিফকেসটা পাশের টেবিলে রেখে নিজের শার্টের কলারটা আলগা করলেন। দীর্ঘদিনের সৎ অফিসার তিয়াশার সুপার হিরো আজ যেন নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক আসামি।তিয়াশা এবার আরও কাছে এগিয়ে এল,,
“বাবা, আই নিড এন আনসার! কাল তুমি আমাকে বললে যে অন্যায়ের সাথে কম্প্রোমাইজ করবে না। তাহলে আজ কেন ওকে সসম্মানে থানা থেকে ছাড়ার অর্ডার দিলে? ওই রাস্কেলটা কি তবে আইনের চেয়েও বড় হয়ে গেল? নাকি তুমিও শেষ পর্যন্ত পাওয়ারের কাছে সারেন্ডার করলে? ইটস জাস্ট ডিসগাস্টিং!”
তাহের চৌধুরী এবার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার নিস্তব্ধতা যেন তিয়াশাকে আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে তুলছিল। তিয়াশা চেঁচিয়ে বলল,
“সবাই বলছে মন্ত্রীর সাথে তোমার কোনো সিক্রেট ডিল হয়েছে। ইজ দ্যাট ট্রু? জাস্ট টেল মি দ্য ট্রুথ, বাবা!”
তাহের চৌধুরী এবার মুখ তুললেন। তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে আছে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ফেটে পড়ে কর্কশ গলায় বললেন,
“টিয়া, এনাফ! স্টপ দিস ননসেন্স। সব সময় সব কিছু তোমার লিটল ব্রেইন দিয়ে জাজ করতে এসো না। আমি যা করেছি, পরিস্থিতির চাপে পড়ে করেছি। আই হ্যাভ মাই ওউন রিজনস।”
“রিজনস? কী এমন রিজন থাকতে পারে বাবা যাতে তোমার আইডিওলজি হুট করে বদলে যায়?”
তাহের চৌধুরী এবার সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হলেন। যাওয়ার আগে শুধু একবার ফিরে তাকিয়ে ক্লান্ত কণ্ঠে বললেন,
“সব লড়াই জেতার জন্য লড়া হয় না টিয়া। কিছু লড়াই হারতে হয় শুধু নিজের আপনজনকে বাঁচানোর জন্য। এখন প্লিজ, আমাকে একা থাকতে দাও। আই এম নট ইন আ মোড টু টক।”
তিয়াশা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বাবার এই অস্বাভাবিক আচরণ ওর মস্তিষ্কের সহস্র প্রশ্নের ভিড় জমালো; মনের গহীনে এক অজানা ভীতি দানা বাঁধতে শুরু করল।
বনানীর এক অভিজাত লাউঞ্জ কাম ক্লাব,দ্য ভেলভেট রুম। ড্রামাটিক ব্লু আর নিয়ন লেজার লাইটে পুরো ফ্লোর তখন মোহময়ী। চারদিকে দামী পারফিউম আর অ্যা-ল-কো-হ-লের কড়া গন্ধ। স্পিকারে হাই-ভলিউমে বাজছে ট্রেন্ডিং ইংলিশ ইডিএম ট্র্যাক। আরাভ খানের মুক্তি উপলক্ষে এ আয়োজন। সেন্ট্রাল টেবিলের ওপর সাজানো দামী শ্যা-ম্পেন আর হুই-স্কির বোতল। আরাভের ফ্রেন্ড সার্কেল আজ উম্মাদনায় ভাসছে।
আরাভ একটা লেদার সোফায় পা তুলে আয়েশ করে বসে আছে। হাতে ক্রিস্টাল গ্লাস, চোখেমুখে পৈশাচিক তৃপ্তি। ওর ডান পাশে বসে থাকা ইমাদ একটা গ্লাস এগিয়ে দিয়ে হেসে উঠল,,
“ওয়েলকাম ব্যাক টু ফ্রিডম, মামু! তোর ওই লাল দালানের ট্যুরটা কেমন হলো রে? ডিআইজি তাহের চৌধুরী তোকে যে চক্কর দিল, আই সুয়্যার, আমরা তো ভেবেছিলাম এবারের ইলেকশন তুই ওখানেই করবি!”
আরাভ গ্লাসে এক চুমুক দিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,,
”আরে মামু, ডিআইজি পাওয়ার দেখাচ্ছিল। কিন্তু পলিটিক্স ইজ্য আ ডিফারেন্ট গেম। বাঘ যখন খাঁচায় ঢোকে, তখন লোকে ভাবে খেলা শেষ; কিন্তু বাঘ যখন বের হয়, তখন শিকারটা আরও বেশি ব্লাডি হয়। তবে লাল দালানের ভাত খাওয়া মাঝে মাঝে খারাপ না, তোরাও কি টেস্ট করতে চাস নাকি?”
পুরো টেবিলে হাসির রোল উঠল। ঠিক তখনই ওর আরেক বন্ধু সাইদ গ্লাসটা টেবিলের ওপর রেখে আরাভের কাঁধে হাত দিয়ে কুৎসিত এক হাসি দিয়ে শুধালো,,
“সবই তো বুঝলাম মামু, কিন্তু তুই তো ভাই হিরো হয়ে গেলি! ওই ডিআইজির মেয়ে তিয়াশা। শ্যি ইজ লাইক দ্য মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রাশ ইন আওয়ার কলেজ।ওর ঠোঁটে একেবারে ডিরেক্ট লিপ-কিস! ভাই, তোর গাটস আছে বলতে হয়। তবে একটা কথা বল তো, হোয়াট ওয়াজ ইট লাইক? তিতা না মিঠা?”
আরাভ গ্লাসটা নামিয়ে একটা দামি সিগ্যারেট ধরাল। ধোঁয়াটা কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরের দিকে ছেড়ে সে আক্রোশ মিশ্রিত কন্ঠে বলল,,
“ধুর ব্যাটা! টেস্ট করার টাইম পাইছিলাম নাকি? ধরার সাথে সাথে ছ্যামড়ি যা একখান কড়া থাপ্পড় মারছে না! কসম, আমার বাঁ কানের পর্দাটা আজও ভোঁভোঁ করছে। বাপের পাওয়ারে ওইদিন অত বড় শয়তানি দেখাইছে। বাট ইট ওয়াজ জাস্ট আ ট্রেলার, সাইদ। ওই তিতা চড়টাকে এখন আমি চিনিতে কনভার্ট করব।”
আরাভ পাশের আইস বাকেট থেকে একটা বরফের টুকরো তুলে নিয়ে গ্লাসে ফেলে পাশের বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বলল,,
ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ১
“শ্যি থিংকস শ্যি ইজ আ কুইন। বাট শ্যি ফরগট, দিস ইজ্য মাই কিংডম। তিয়াশাকে শুধু কিস করে আমি থামব না। ওর বাপের ওই উর্দির অহংকার আর মেয়ের সতীপনা দুটোই আমি এই ক্লাবের মেঝেতে ধুলোর মতো ওড়াব। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ, গাইস। দিস ইজ পার্সোনাল নাও।”
