ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ১২
মেহজাবিন নাদিয়া
বিকেলের ম্লান আলো ততক্ষণে শহরের বুক থেকে বিদায় নিয়েছে। পিচঢালা রাজপথের ওপর জেঁকে বসেছে এক অদ্ভুত, থমথমে গোধূলি। ল্যাম্পপোস্টের হলদেটে আলোগুলো একটা একটা করে জ্বলে উঠতেই চারপাশের চেনা শহরটা কেমন যেন এক মায়াবী অথচ ক্রূর রূপ ধারণ করল। গাড়ির পেছনের সিটের ফ্লোরে তখন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল আফিম। ওর অবরুদ্ধ গোঙানি আর ভারী নিশ্বাসের শব্দে গাড়ির ভেতরের ঠান্ডা বাতাসও যেন ভারী হয়ে আসছিল।
ফ্রন্ট সিটে বসে সারিম অত্যন্ত নিপুণ হাতে নিজের স্যুটের হাতাটা সামান্য টেনে ঘড়ির দিকে তাকাল। সময়টা ঠিকঠাক হিসাব করে ও আলভির দিকে তাকিয়ে এক চিলতে শীতল হাসি উপহার দিল। আলভি তখনো স্টিয়ারিং হুইলটা শক্ত করে ধরে কাঁপছিল। ওর চোখের সামনে এখনো ভাসছে সেই জঙ্গলের পৈশাচিক ঘটনা। খোদ শয়তানও বোধহয় সারিমের এই নিখুঁত, ঠান্ডা মাথার কূটচাল দেখে লজ্জায় মুখ লুকাত।
গাড়িটি যখন স্কয়ার হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে এসে সশব্দে ব্রেক কষল, সারিম এক মুহূর্তের মধ্যে নিজের মুখের সেই ক্রূর, বিষাক্ত হাসিটা মুছে ফেলল। সেখানে স্থান করে নিল এক দায়িত্বশীল, উদ্বিগ্ন এবং মহানুভব জননেতার অবয়ব। দরজা খুলে ও নিজেই প্রথম নিচে নামল। স্ট্রেচার আনার জন্য ওর সেই বজ্রকণ্ঠের চিৎকার পুরো ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডকে কাঁপিয়ে তুলল।
“ওয়ার্ডবয়? জলদি স্ট্রেচার আনো!গো ফাস্ট!জলদি যাও!”
মন্ত্রীর এমন ব্যাকুলতা দেখে হাসপাতালের ডাক্তার থেকে শুরু করে সিকিউরিটি গার্ড পর্যন্ত সবাই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। অর্ধমৃত, রক্তাক্ত আর ছিন্নভিন্ন পোশাকের আফিমকে যখন স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছিল, তখনো ওর একটা হাত সারিমের স্যুটের কোনাটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল। অবচেতন মগজের শেষ আলোড়নেও আফিম ভাবছিল, এই দুনিয়ায় যদি কোনো দেবদূত থেকে থাকে, তবে সে এই মৃধা আবরার সারিম। যে তাকে ওই নরককুণ্ড থেকে উদ্ধার করে এনেছে।
সারিম পরম মমতায় আফিমের কপালে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“কোনো ভয় নেই আফিম। তুমি এখন নিরাপদ। আমি নিজে এখানে আছি। তোমার কিচ্ছু হতে দেব না আমি।”
আফিমকে যখন ইমার্জেন্সিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো, সারিম ইমার্জেন্সি করিডোরের একটা চেয়ারে বসে অত্যন্ত ক্লান্ত ভঙ্গিতে নিজের কপালটা চেপে ধরল। আলভি এক কোণায় দাঁড়িয়ে বসের এই বিশ্বমানের অভিনয় দেখছিল আর মনে মনে ভাবছিল, এই লোক যদি রাজনীতিতে না এসে থিয়েটারে যেত, তবে অস্কারের সমস্ত রেকর্ড একাই ভেঙে দিত।
ঠিক দেড় ঘণ্টা পর।
হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনের বাইরে তখন যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। রাজন খন্দকারের ব্যক্তিগত ক্যাডার বাহিনী, রাজনৈতিক চামচা আর মিডিয়া কর্মীদের ভিড়ে পুরো ফ্লোর গমগম করছে। সাবেক এই দাপুটে সংসদ সদস্য রাজন খন্দকার করিডোর দিয়ে প্রায় দৌড়ে আসছিলেন, ওনার চওড়া কপাল বেয়ে তখন ভয়ের ঠান্ডা ঘাম ঝরছিল। যে মানুষটার একটা ইশারায় পুরো শহর স্তব্ধ হয়ে যায়, আজ নিজের একমাত্র ছেলের এই খবর শুনে ওনার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে।ওনার পরনে একটা ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি, চোখের কোণে জমে থাকা জল আর আতঙ্কের এক স্পষ্ট ছাপ।
রাজন খন্দকার কেবিনের সামনে সারিমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই ওনার দুই হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন। ওনার গলাটা তখন কান্নায় বুজে এসেছে।
“সারিম! আমার আফিম… আমার একমাত্র মানিক… ও বেঁচে আছে তো? ওনারা কী বলছে ডাক্তাররা?”
সারিম অত্যন্ত গম্ভীর অথচ সান্ত্বনাদায়ক ভঙ্গিতে রাজন খন্দকারের দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরল। ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নরম গলায় বলল,
“আঙ্কেল, নিজেকে শক্ত করুন। আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমি ঠিক সময়ে ওই পথ দিয়ে ফিরছিলাম। আফিমের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল, কিন্তু ডাক্তাররা জানিয়েছেন ও এখন বিপদমুক্ত। তবে… ওর ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।”
রাজন খন্দকার কেবিনের দরজার কাঁচ দিয়ে ভেতরের বেডে শুয়ে থাকা ছেলের দিকে তাকালেন। আফিমের সারা শরীর সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো, মুখে অক্সিজেনের মাস্ক, আর অনবরত স্যালাইন চলছে। নিজের অমন তাগড়া, দাপুটে ছেলেকে এভাবে জ্যান্ত লাশের মতো পড়ে থাকতে দেখে রাজন খন্দকারের ভেতরের বাবাটা যেন ডুকরে কেঁদে উঠল। ওনার চিবুক কাঁপতে লাগল, দুই চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ল ওনার দামি পাঞ্জাবির ওপর।
“কোন জানোয়াররা এই কাজ করল? কার এত বড় সাহস যে রাজন খন্দকারের কলিজায় হাত দেয়? আমি ওদের চামড়া তুলে নুন দেব! ওদের চৌদ্দ গোষ্ঠীকে আমি জ্যান্ত কবর দেব!”
রাজন খন্দকার রাগে, অপমানে আর যন্ত্রণায় দেয়ালে একটা সজোরে ঘুষি মারলেন। ওনার গলার রগগুলো ফুলে উঠল।
সারিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওনার কাঁধে হাত রাখল। অত্যন্ত সহানুভূতিশীল গলায় বলল,
“আঙ্কেল ,শান্ত হোন। আইন নিজের গতিতে চলবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আপনার আফিমের পাশে থাকা দরকার। ওর মানসিক অবস্থা খুবই নাজুক। ও অবচেতন অবস্থাতেও শুধু আপনার নাম ধরে ডাকছিল।”
রাজন খন্দকার ঝাপসা চোখে সারিমের দিকে তাকালেন।এই তরুণ মন্ত্রীর পায়ের কাছে এসে নতজানু হতে ইচ্ছে করল। ওনার মনে হলো, আজ যদি সারিম না থাকত, তবে হয়তো ওনার ছেলের লাশটা কোনো নর্দমায় পড়ে থাকত। ওনার চোখের এক মুহূর্তে গভীর কৃতজ্ঞতায় রূপ নিল।
“সারিম … আমি আপনাকে কী বলে যে ধন্যবাদ দেব, আমার সেই ভাষা জানা নেই।”
রাজন খন্দকার সারিমের হাত দুটো ধরে ওনার গলার আওয়াজটা বুজে এলো,
সারিম মনে মনে এক পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠল। রাজন খন্দকারের মতো একটা বিশাল খুঁটি এখন ওর হাতের পুতুল। যে চন্দ্রিমাকে আফিম স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখছিল, সেই চন্দ্রিমার আসল প্রেমিক এখন আফিমের বাপের মাথার ওপর ছাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাইরে সারিম অত্যন্ত বিনয়ী এক হাসি হাসল।
“কী বলছেন আঙ্কেল? এগুলো বলবেন না প্লিজ। আপনি আমার সিনিয়র,আঙ্কেলের মতো। আফিম আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ওর এই বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমার নাগরিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। আপনি কেবিনে ঢুকুন,ওর এখন আপনার সাপোর্ট প্রয়োজন। আমি একটু মিডিয়ার দিকটা সামলাচ্ছি। বাইরে সাংবাদিকরা ভিড় করে আছে। এই খবরটা চাপা রাখা যাবে না।”
রাজন খন্দকার কৃতজ্ঞতায় মাথা নেড়ে কেবিনের ভেতরে ঢুকে গেলেন। ওনার পা দুটো তখনো কাঁপছিল।
সারিম কেবিনের দরজাটা আলতো করে টেনে দিয়ে করিডোরের এক কোণায় এসে দাঁড়াল। আলভি ততক্ষণে মিডিয়া সেলের প্রেস রিলিজটা রেডি করে সারিমের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। সারিম কাগজটার ওপর চোখ বোলাতেই ওর ঠোঁটের কোণে সেই চতুর, শয়তানি হাসিটা আবার ফিরে এলো।অত্যন্ত কড়া গলায় আলভিকে বলল,
“সবগুলো নিউজ চ্যানেলে আর অনলাইন পোর্টালে এই স্ক্রিপ্টটা হুবহু পাঠাও। এক অক্ষরেরও যেন হেরফের না হয়। বিশেষ করে হেডলাইনটা যেন পুরো দেশের মানুষের চোখ কপালে তুলে দেয়।”
দেশের খবরের কাগজ, টেলিভিশন চ্যানেল আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হলো। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সচিবালয়ের করিডোর-সবখানে কেবল একটাই আলোচনা।প্রধান প্রধান দৈনিকগুলোতে বড় বড় অক্ষরে ছাপা হলো সেই চাঞ্চল্যকর খবর,
রাজধানীতে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) রাজন খন্দকারের একমাত্র ছেলে আফিম খন্দকার দলগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে আফিম খন্দকার একদল হিজরার অতর্কিত হামলার শিকার হন। অভিযুক্ত হিজরারা তাকে জোরপূর্বক জিম্মি করে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন (ধর্ষণ) চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তিনি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
খবরটা ছড়িয়ে পড়া মাত্রই পুরো শহরের অপরাধ জগতে এক নীরব সুনামি বয়ে গেল। যে আফিম খন্দকার মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে নিজের পৈশাচিক লালসা চরিতার্থ করত, যাকে পুরো শহরের মানুষ এক ডাকে সন্ত্রাস বলে চিনত-সে আজ একদল হিজরার হাতে দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে! এর চেয়ে বড় কুৎসিত, লজ্জাজনক এবং ভয়াবহ প্রতিশোধ আর কী হতে পারে!
সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশনগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, উপহাস আর এক অদ্ভুত স্বস্তির মন্তব্যে ভরে উঠল। মানুষ বলতে লাগল,
“প্রকৃতির বিচার বড়ই নির্মম। যে যেমন কর্ম করে, তাকে তেমনই ফল ভোগ করতে হয়।”
কেউ কেউ আবার খোদ শিক্ষামন্ত্রী আবরার সারিমের মহানুভবতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলো, কারণ প্রতিটি নিউজের নিচেই ছোট করে লেখা ছিল-‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আবরার সারিম নিজের গাড়ি থামিয়ে জঙ্গল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’
কেবিনের ভেতরে তখন এক ভারী, গুমোট নীরবতা। জানালার ভারী পর্দাগুলো টেনে দেওয়া হয়েছে, যাতে দুপুরের কড়া আলো ভেতরের অন্ধকারকে দূর করতে না পারে। আফিম বেডে শুয়ে ছটফট করছিল। ওর শরীরের ক্ষতগুলো হয়তো ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছিল, কিন্তু ওর ভেতরের সেই পুরুষালি অহংকার, দাপট চিরতরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।চোখের কোণ বেয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছিল।
সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাবছিল, এই কলঙ্কিত মুখ নিয়ে ও কীভাবে এই সমাজে মুখ দেখাবে? ও কীভাবে আবার রাস্তায় দাঁড়াবে?
রাজন খন্দকার ছেলের বেডের পাশে একটা চেয়ারে বসে ওনার নিজের দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরেছিলেন। ওনার চোখের সামনে খবরের কাগজের সেই হেডলাইনটা বারবার ভেসে উঠছিল। ওনার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, ওনার খন্দকার বংশের ইজ্জত এক নিমেষে মাটির সাথে মিশে গেছে। ওনার নিজের ক্যাডাররা পর্যন্ত এখন আড়ালে হাসাহাসি করছে। ওনার সেই অহংকারী চিবুকটা আজ বুক অব্দি নেমে এসেছে।
এদিকে সব কাজ শেষ করে সারিম রাতে বাড়ি ফিরল,পায়ে সেই চিরচেনা ভারী বুট জুতোর খটখট শব্দে ক্লান্তি মাখানো।
বেডরুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই সারিমের পায়ের গতি থমকে গেল। তার চোখ দুটো বিস্ময়ে চড়কগাছ!
রুমের নরম ডিম লাইটের আলোয়, সারিমের বিশাল কিং-সাইজ বিছানার ওপর বসে আছে অরি। কোনো বই নেই, কোনো খাতা নেই, চশমাটা টেবিলের ওপর শান্ত হয়ে পড়ে আছে। অরির পরনে একটা হালকা কালো রঙের সুতি শাড়ি, চুলগুলো আলগা করে পিঠে ছেড়ে দেওয়া। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার তথাকথিত ‘বিদ্যাসাগর বউ’ আজ পড়ার টেবিল ছেড়ে সারিমের বিছানায় বসে দুলকি চালে পা দুলাচ্ছে আর গুনগুন করে একটা অচেনা সুর ভাঁজছে।
সারিম দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। সে হাতঘড়িটা দেখল-রাত সাড়ে বারোটা। এই সময়ে অরি পড়াশোনা বাদ দিয়ে তার ঘরে বসে আছে? তাও আবার এভাবে?
সারিম আস্তে আস্তে রুমের ভেতরে ঢুকল।কোটটা খুলে সোফার উপর হেয়ালি করে রাখল।এরপর ধীর পায়ে অরির দিকে এগিয়ে গেল। ওর চোখে রাজ্যের কৌতুহল আর অবিশ্বাস।
সারিমকে দেখে আজ অরি মোটেও বিরক্ত দেখালো না, বরং তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে মায়াবী, মিষ্টি হাসি। সেই হাসি দেখে সারিমের বুকের ভেতরটা যেন এক ঝটকায় সপ্তম আসমানে গিয়ে ঠেকল।মুহূর্তেই যেন সারিম একটা পোষা বিড়ালে পরিণত হলো।
অরি বিছানা থেকে নেমে সারিমের দিকে দু-পা এগিয়ে এলো। গলার স্বরটাকে যতটা সম্ভব মধুর আর আহ্লাদী করে তুলে বলল,
“স্বামী ও স্বামী… স্বামী গো। বলি শুনছেন?”
সারিম যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অরির মুখ থেকে ‘স্বামী’ ডাক! তাও আবার এত সোহাগ মাখানো সুরে? সারিমের বুকের ভেতর আনন্দের সুনামি বয়ে গেল। সে সব ক্লান্তি ভুলে একগাল হেসে অরির মুখোমুখি দাঁড়াল।
“হুম বউ বলো!”
অরি তার ডাগর ডাগর চোখ দুটো একটু নাচিয়ে, শাড়ির আঁচলটা আঙুলে জড়াতে জড়াতে চপল ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,
“আমাকে আপনি কতটুকু ভালোবাসেন?”
সারিম এই অভাবনীয় প্রশ্নে একটু থমকে গেল,সে অরির কোমরটা আলতো করে জড়িয়ে ধরে নিজের দিকে একটু টেনে নিয়ে বলল,
“শিয়াল মুরগিকে যতটা ভালোবাসে, আমিও ঠিক তোমাকে ততটা ভালোবাসি বউ।”
অরির ভেতরের রাগটা দপ করে জ্বলে উঠতে চাইল, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। অত্যন্ত কৌশলে নিজের মুখে একটা কৃত্রিম বিস্ময় আর আদুরে বিরক্তি ফুটিয়ে তুলে বলল,
“এ আবার কেমন উদ্ভট ভালোবাসার সংজ্ঞা? শিয়াল কি কখনো মুরগিকে ভালোবাসে? সে তো সুযোগ পেলেই ঘাড় মটকে খেয়ে ফেলে!”
সারিম হাহা করে হেসে উঠল। অরির কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আরে পাগলী, এটাই তো আসল ভালোবাসা! শিয়াল মুরগিকে এতটাই ভালোবাসে যে তাকে নিজের থেকে আলাদা করতেই চায় না। একেবারে নিজের পেটের ভেতরে, নিজের অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে নেয়। এটা হচ্ছে ভালোবাসা ডট কম হান্ড্রেড পারসেন্ট আল্ট্রা প্রো মেক্স। এর উপরে কেউ কাউকে ভালোবাসতে পারে না। ভাসলেও সে ব্যক্তি মৃগী বেরাম উঠে মারা যায়।
অরি মনে মনে বলল,
“হ্যাঁ, তোর এই ভালোবাসার চোদ্দোটা বাজাতে আজ আমি এসেছি।’
কিন্তু মুখে সে একগাল কৃত্রিম লজ্জা ফুটিয়ে সারিমের বুকে আলতো একটা কিল মেরে বলল,
“ধ্যাৎ! কী যে বলেন না আপনি! যতসব আজব যুক্তি। তা, এই আল্ট্রা প্রো মেক্স ভালোবাসার মানুষটি কি তার এই লক্ষ্মী বউয়ের একটা ছোট্ট আবদার রাখবে না?”
সারিম যেন তখন সপ্তম আসমান ছাড়িয়ে অষ্টম আসমানে ভাসছে। অরির এই নরম ছোঁয়া, এই মিষ্টি কথা তাকে পুরো মাতাল করে দিয়েছে। সে বুক ফুলিয়ে বলল,
” আবদার? তোমার জন্য আমি পুরো পৃথিবী লিখে দিতে পারি চন্দ্রিমা! বলো কী চাও? আকাশের চাঁদ এনে দেব?”
অরি হেসে ফেলল। বলল,
“না না, চাঁদ লাগবে না। চাঁদ তো আমি নিজেই, তাই না? আসলে হয়েছে কী… কাল রাতে আপনি যখন রাগ করে আমার কেমিস্ট্রির নোটগুলো পুড়িয়ে দিলেন না?”
সারিমের মুখের হাসিটা একটু দমে গেল। সে আমতা আমতা করে বলল,
“উমম… ওটার জন্য আসলে…”
“আহা, শুনুনই না!”
অরি সারিমের মুখে আঙুল দিয়ে থামিয়ে দিল।
“আমি রাগ করিনি একদম। পরে ভেবে দেখলাম, আপনি তো ঠিকই বলেছেন। ওই বই খাতাগুলো আমাদের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আপনি আমার স্বামী, আপনার অধিকার সবার ওপরে। তাই আমি ঠিক করেছি, এখন থেকে আমি আর ওই ছাইপাশ নোটবুক ছোঁবই না।”
সারিম তো খুশিতে গদগদ। সে অরিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে চাইল, কিন্তু অরি চতুরতার সাথে একটু পিছিয়ে গিয়ে বিছানার পাশে রাখা এক তাজা নতুন খাতা আর কলম তুলে নিল।
অরি বলল, “কিন্তু সমস্যা একটা আছে স্বামী। ওই নোটগুলো তো আমার কোচিং এর ভাইয়া ক্লাসে চেক করবেন। যদি আমি কালকের মধ্যে ওগুলো জমা না দিই, তাহলে আমাকে কোচিং থেকে বের করে দিতে পারে। এখন আমি তো আর ওই পচা কেমিস্ট্রি লিখতে চাই না। তাই ভাবছিলাম…”
সারিম উৎসুক হয়ে বলল,
“কী ভাবছিলে বউ?”
অরি সারিমের হাতে খাতা আর কলমটা গুঁজে দিয়ে চোখের পলক ফেলে বলল,
“ভাবছিলাম, আমার এই বীর এবং সর্বগুণসম্পন্ন স্বামী যদি কষ্ট করে নোটগুলো একটু লিখে দিতেন! আমি মুখে মুখে বলব, আর আপনি আপনার সুন্দর হাতের লেখায় টপাটপ তুলে নেবেন। তাহলে স্যারের মার থেকেও বাঁচা গেল, আর আমার পড়াশোনার পেছনে সময়ও নষ্ট হলো না। আপনিই তো বললেন, আমার জন্য আপনি সব করতে পারেন। এইটুকু পারবেন না, স্বামী গো?”
সারিম তখন অরির চোখের মায়ায় পুরো অন্ধ। সে ভাবল, বউ যখন পড়াশোনা ছেড়ে ওর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তখন এইটুকু লিখে দেওয়া তো কোনো ব্যাপারই না! তা ছাড়া কাল রাতে ওর খাতা পুড়িয়ে দেওয়ার একটা অপরাধবোধও কাজ করছিল।
সারিম খাতা-কলম হাতে নিয়ে বুক টান করে বলল,
“ধুর! এই সামান্য কাজ? মৃধা আবরার সারিম আমলাদের ফাইল সাইন করে, আর এই কেমিস্ট্রির নোট লিখতে পারবে না? তুমি শুধু মুখে বলো চন্দ্রিমা, তোমার এই স্বামী আজ পুরো খাতা ভরিয়ে দেবে।”
অরি মনে মনে এক অট্টহাসি দিল। সে বিছানায় আরাম করে হেলান দিয়ে বসল।
“ঠিক আছে, তাহলে লিখুন। চ্যাপ্টার থ্রি-‘জৈব রসায়ন বা অর্গানিক কেমিস্ট্রি’। প্রথমে হেডিং দিন ‘অ্যালিফ্যাটিক হাইড্রোকার্বন’।
সারিম সোফায় বসে খাতা হাঁটুতে রেখে লিখতে শুরু করল।
“হুম, দিলাম। তারপর?”
অরি মিষ্টি করে হেসে বলতে লাগল,
“এবার লিখুন, মিথেন, ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন… এদের গাঠনিক সংকেত। আমি বলছি, আপনি আঁকুন। কার্বন চারটা হাত বাড়িয়ে বসে আছে, হাইড্রোজেন এসে সেই হাত ধরছে… ঠিক যেমন আপনি আমার হাত ধরে আছেন।”
সারিম ডাবল উৎসাহে লিখতে লাগল। অরির মুখে এমন রোমান্টিক তুলনা শুনে সে যেন আকাশের তারা ছুঁয়ে ফেলছে।সারিম ব্লাশ করতে শুরু করল।বলল, “বাহ্ বউ! কেমিস্ট্রির মধ্যেও এত প্রেম আছে তা তো জানা ছিল না।”
অরি মনে মনে বলল,”প্রেম দেখাচ্ছি রে ব্যাটা, একটু পরে বুঝবি!’
তবে মুখে বলল,
“তা থাকবে না কেন? এবার লিখুন ‘অ্যারোমেটিক যৌগ’। বেনজিন রিং আঁকুন। একটা ষড়ভুজ আঁকবেন, ভেতরে একটা গোল্লা দেবেন। হ্যাঁ, সুন্দর হয়েছে। এবার এর নিচে মেকানিজমটা লিখুন…”
অরি অনর্গল কঠিন কঠিন কেমিস্ট্রির সমীকরণ, বিক্রিয়া আর মেকানিজম বলে যেতে লাগল। সারিম প্রথম আধা ঘণ্টা খুব রোমান্টিক মুডে লিখছিল। প্রতি লাইনের মাঝে মাঝে অরির দিকে তাকিয়ে চোখ মারছিল, মিষ্টি মিষ্টি হাসছিল। কিন্তু এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর সারিমের পিঠ টনটন করতে লাগল। আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসছে। সারাদিনের অফিসের ক্লান্তির পর এখন এই গভীর রাতে কেমিস্ট্রির জটিল বিক্রিয়া লিখতে গিয়ে তার মাথার চুল ছেঁড়ার অবস্থা।
সারিম কপাল মুছে বলল,
“উফ বউ, আর কতটুকু? আমার মাথা ঘুরাচ্ছে এবার। একটু থামো না, বাকিটা কাল লিখি?”
অরি সাথে সাথে মুখটা ছোট করে, চোখের কোণে জল আনার ভান করে বলল,
“ও আচ্ছা! এই আপনার ভালোবাসা? একটু আগেই না বললেন শিয়াল-মুরগির মতো আল্ট্রা প্রো মেক্স ভালোবাসা? এখন সামান্য কয়েকটা পাতা লিখতে গিয়েই আপনার দম ছুটে যাচ্ছে? ঠিক আছে, দিতে হবে না লিখে। কাল স্যার আমাকে কোচিং থেকে তাড়িয়ে দিক, অপমান করুক…”
সারিম অরির চোখে জল [যদিও তা ছিল গ্লিসারিন দিয়ে ভুয়া অভিনয়]দেখে থতমত খেয়ে গেল। সে তাড়াতাড়ি বলল,
“আরে না না চন্দ্রিমা! কাঁদছ কেন? আমি তো জাস্ট একটু মজা করছিলাম। এই তো আমি লিখছি, তুমি বলো।”
অরি মনে মনে বেশ খুশি হলো বলল,বাছা আমার, লাইটার দিয়ে খাতা পোড়ানোর মজা এবার হাড়ে হাড়ে বোঝো।’
সারিম আবার শুরু করল,
পরের দুই ঘণ্টা ধরে অরি সারিমকে দিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি কাটিয়ে নিল।কেমিস্ট্রির নোটস বলে পুরো প্রাক্টিক্যাল আর থিওরি নোটস, যা লিখতে অরির তিন দিন লেগেছিল, তা সে সারিমকে দিয়ে এক রাতে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লিখিয়ে নিল। সারিমের হাতের আঙুলগুলো তখন প্রায় অবশ, চোখ ঘুমে ভেঙে আসছে, কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছে। মৃধা আবরার সারিম জীবনে কোনো দিন এত বড় আমলাতান্ত্রিক ফাইলের পেছনেও এত খাটেনি, যা আজ সে কেমিস্ট্রির নোটের পেছনে খাটল।
ভোর চারটে নাগাদ অরি দেখল খাতার শেষ পাতাটা পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। তার পুড়ে যাওয়া সব নোট এখন হুবহু এই নতুন খাতায় বন্দি।
সারিম ক্লান্তিতে হাঁপাতে হাঁপাতে কলমটা ছুড়ে ফেলে দিল। খাতাটা অরির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“এই নাও বউ… তোমার সব নোট শেষ। এবার তো আমার ওপর খুশি? এবার একটু আমার কাছে এসো, বড্ড ঘুম পাচ্ছে…”
সারিম যেই না অরিকে ধরার জন্য হাত বাড়াল, অমনি অরির মুখের সেই মিষ্টি, মায়াবী হাসি কর্পূরের মতো উড়ে গেল!
অরি এক ঝটকায় খাতাটা সারিমের হাত থেকে কেড়ে নিল। বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে নিজের চশমাটা চোখে পরে নিল। তার সেই চেনা, রাগী, তেজী রূপটা সেকেন্ডের মধ্যে ফিরে এলো। সে সারিমকে একটা তীব্র ঝামটা মেরে বলল,
“দূরে থাকুন আমার থেকে! একদম ছোঁবেন না আমাকে!”
সারিম পুরো আকাশ থেকে পড়ল। তার ঘুম-ঘুম চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেল। বলল,
“ব…বউ? মানে কী এর? এইমাত্র না তুমি এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বললে? স্বামী স্বামী করলে?”
অরি খাতাটা বুকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁঝালো গলায় বলল,
“ওই মিষ্টি কথা ছিল আপনার মতো একটা জল্লাদকে সোজা করার ওষুধ! কী ভেবেছিলেন আপনি? কাল রাতে আমার এত কষ্টের নোটগুলো পুড়িয়ে দিয়ে আপনি শান্তিতে ঘুমাবেন, আর আমি বসে বসে কাঁদব? অরি অত কাঁচা মেয়ে নয়! যে হাত দিয়ে আমার নোট পুড়িয়েছেন, সেই হাত দিয়েই আজ আপনার পুরো নোট লিখিয়ে নিলাম। হিসাব একদম বরাবর!”
সারিম সোফা থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু পিঠের ব্যথায় সে ‘আহ্’ করে উঠল। সে স্তম্ভিত হয়ে বলল,
“তার মানে… তুমি এতক্ষণ অভিনয় করছিলে? আমাকে দিয়ে খাটিয়ে নেওয়ার জন্য?”
অরি দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“অবশ্যই! আপনার এই ফালতু রোমান্টিকতার জন্য আমার পড়াশোনার বারোটা বাজছিল। এখন যান, নিজের রুমে গিয়ে ঘুমান। আমার পড়ার সময় ডিস্টার্ব করা আপনার একটা মারাত্মক বাজে অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি চললাম আমার রুমে পড়তে!”
সারিম সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। তার প্রেমিক মনটা যেন এক মুহূর্তে ভেঙে চুরচুর হয়ে গেল। সে অরির দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত করুণ, আবেগী আর অভিমানী গলায় বলল,
“বউ… আমার এত ভালোবাসা, এত ত্যাগ তোমার নজরে পড়ছে না? তোমার মনটা আসলে কী দিয়ে জোড়া লাগানো বলো তো? এটা একটুও গলে না আমার জন্য? আমি সারাদিন খাটুনি খেটে এসেও তোমার জন্য মাঝরাতে পুরো খাতা লিখে দিলাম, আর তুমি আমাকে এভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছ? তোমার এই মন কি কখনো গলবে না?
অরি দরজার হ্যান্ডেল ধরে পেছনে ফিরে তাকাল।ঠোঁট উল্টে এক চরম তাচ্ছিল্যের উত্তর দিল,
“এই মন কোনো দিন গলবে না। কারণ, এটা অরি আনোয়ার সিমেন্ট দিয়ে জোড়া লাগিয়েছে! সারিম মৃধা, আপনার এই বৃথা চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই!
বউয়ের মুখে এমন অদ্ভুত, উদ্ভট আর মারমার কাটকাট উত্তর শুনে সারিম পুরো হা হয়ে গেল। বেচারা হাসবে না কাঁদবে, নাকি নিজের কপাল চাপড়াবে, তা বুঝতে পারল না। ‘আনোয়ার সিমেন্ট দিয়ে মন জোড়া লাগানো!’ এই মেয়ে আসলেই এক পিস!
সারিম নিজের অবশ হয়ে যাওয়া আঙুলগুলো একটু চটকে নিয়ে, ব্যথার চোটেই একটা তাচ্ছিল্যের বলল,
“বাহ্ চন্দ্রিমা, বাহ্! আনোয়ার সিমেন্ট? বলি, এমন কমদামি আর লোকাল সিমেন্ট দিয়ে মন জোড়া না লাগিয়ে যদি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কোনো সিমেন্ট-যেমন শাহ্ স্পেশাল বা স্ক্যান সিমেন্ট দিয়ে লাগাতে, তাহলেও একটু ভরসা করা যেত! এখন তো দেখছি এই পচা সিমেন্টের ডেড দু দিনেই খতম হবে।
সারিম সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে একটু চোখ টিপে হেসে বলল,
“লিখে রাখো বউ, মৃধা আবরার সারিমের ভালোবাসার যে উত্তাপ, তাতে এই সস্তা আনোয়ার সিমেন্ট দু দিনেই ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর তখন সারিমের জন্য অরির মন গলতে গলতে একদম উথলিয়ে পড়বে। তখন কিন্তু আমি আর এই খাতা লিখে দেব না, বলে রাখলাম!”
অরি আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। সারিমকে একটা ভেঙচি কেটে, নিজের কষ্টের উদ্ধার হওয়া নোটবুকটা বুকে চেপে ধরে সে সগর্বে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ১১
আর ঘরের ভেতরে সোফায় শুয়ে সারিম নিজের ব্যথার চোটে অবশ হাতটার দিকে তাকাল, তারপর ছাদের দিকে তাকিয়ে একচিলতে হেসে বিড়বিড় করে বলল,
“চন্দ্রিমা… তুমি সত্যিই একটা আস্ত পাগল। কিন্তু এই পাগলীটাকেই যে আমি বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছি!”
