Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ২৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ২৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ২৩
মেহজাবিন নাদিয়া

গাড়ির জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস এসে অরির মুখের ওপর ছড়িয়ে থাকা সিল্কের বাদামী চুলগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছিল। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে একদৃষ্টে ছুটে চলা রাস্তার ধারের গাছপালা দেখছিল, আর মনের ভেতর জমে থাকা রাগটাকে কোনোমতে চেপে রাখার চেষ্টা করছিল। ঢাকা ফেরার পুরোটা রাস্তা সারিম ওকে জ্বালিয়ে মেরেছে। কখনো ওর চুলে টান দিয়েছে, কখনো অদ্ভুত সব কথা বলে ওকে রাগানোর চেষ্টা করেছে, আবার কখনো ইচ্ছে করেই অহেতুক ব্রেক কষে ওকে নিজের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়েছে। কিন্তু অরি আজ মনে মনে শক্ত পণ করে বসেছিল—সারিম যতই উত্যক্ত করুক না কেন, সে আজ মুখ ফুটে একটা টু শব্দও করবে না। সারিমের সব ফালতু কথায় সে শুধু নীরব অবজ্ঞা মিশিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে থেকেছে। কোনো রকম প্রতিক্রিয়া না পেয়ে সারিমও একসময় কিছুটা দমে গিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে গাড়ি চালানোয় মন দিয়েছিল।
ঘণ্টাখানেকের ঝোড়ো গতি শেষে চিরচেনা মৃধা নিবাসের বিশাল মেইন গেটের সামনে এসে থামল ওদের গাড়ি। গাড়ির হর্নের শব্দ পেয়ে দারোয়ান দ্রুত ছুটে এসে গেটটা খুলে দিল। সারিম গাড়িটা নিয়ে ভেতরে ঢুকে চত্বরের এক পাশে পার্ক করল।

গাড়ি থামতেই অরি যেন এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাফ ছেড়ে বাঁচল। এই ছটফটে, নির্লজ্জ লোকটার পাশে এতক্ষণ বন্দি হয়ে থাকা মানে দম আটকে আসা। গাড়ি থেকে নেমে সদর দরজায় পা দিতেই অরির বুকের ভেতরটা হালকা হলো। তবে স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই মনের ভেতর এক রাশ দুশ্চিন্তা এসে ভিড় করল। গত দুটো দিন ধকল আর ঝামেলার পর, পড়াশোনার যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা ভাবতেই ওর মাথায় হাত। সামনেই পরীক্ষা, এভাবে সময় নষ্ট করলে ও কিছুতেই সিলেবাস শেষ করতে পারবে না। অরি আর এক মুহূর্তও নিচে দাঁড়াল না, দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে চলে গেল। এই মুহূর্তে ওর একটু ফ্রেশ হওয়া বড্ড প্রয়োজন।
এদিকে সারিম গাড়িটা ঠিকঠাক লক করে ধীর পায়ে দোতলায় নিজের রুমে চলে এলো। আজ ওর বড্ড তাড়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত জরুরি একটা প্রজেক্ট নিয়ে আজ একটা হাই-প্রোফাইল মিটিং আছে ওর। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন বাজেট পাস নিয়ে কথা হবে সেখানে। আলভি গত দুদিন ধরে ছুটিতে থাকায় সব কাজের প্রেশার একাই সারিমের ওপর এসে পড়েছে। টেবিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দরকারি ফাইলগুলো এক এক করে গুছিয়ে ও ড্রয়ার থেকে মেইন নথিপত্রগুলো বের করে নিল। এরপর দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে একটা ঝটপট শাওয়ার নিয়ে নিলো।

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সারিম কার্বাট খুলে একটা ধবধবে সাদা শার্ট আর নিখুঁত ইস্ত্রি করা কালো কোট পরে নিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুলগুলো সুনিপুণভাবে ব্যাক ব্রাশ করে নিতেই ওর চেহারায় এক চতুর, গম্ভীর ভাব ফুটে উঠল। টেবিলের ওপর থেকে ফোনটা তুলে পকেটে পুরে সারিম ঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল। কিন্তু দরজার কাছে আসতেই হুট করে ওর মাথায় কী যেন একটা খেলে গেল। ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বাঁকা হাসির রেখাটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।সারিম নিজের ফাইলগুলো বগলে চেপে আবার সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় অরির ঘরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। যাওয়ার আগে বউকে একটুখানি না জ্বালিয়ে গেলে কি আর ওর দিন ভালো যায়?
অরি রুমে ঢুকেই তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে ঢুকেছিল। পড়াশোনার চিন্তায় ও এতটাই বিভোর ছিল যে, ঘরের মেইন দরজাটা লক করার কথা ওর মাথাতেই আসেনি। মাত্রই শাওয়ার শেষ করে একটা সাদা তোয়ালে শরীরে জড়িয়ে, ভেজা চুলে ওয়াশরুম থেকে রুমে পা রেখেছিল। ঠিক তখনই চোখ অরি তুলেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সারিমকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল! ভয়ে আর আকস্মিকতায় ওর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। হাতের আঙুলগুলো নিজের অজান্তেই তোয়ালের গিঁটটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল।

সারিম ঘরে ঢোকার জন্য হাত বাড়াতেই দরজাটা সামান্য ধাক্কা পেয়ে খুলে গিয়েছিল, আর ভেতরের এই দৃশ্য দেখে সে দরজার মাঝখানেই একদম পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। অরিকে এভাবে ভেজা শরীরে, তোয়ালে পরা অবস্থায় দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে সারিমের চোখের সেই চতুর, চঞ্চল চাউনিটা বদলে গিয়ে এক গভীর, নেশাক্ত ঘোরে রূপ নিল। তার চোখের মণি দুটো যেন স্থির হয়ে গেল। সে এক দৃষ্টিতে অরির নিচ থেকে ওপর অব্দি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চোখ বুলিয়ে নিল। তোয়ালের ওপর দিয়ে জেগে থাকা অরির ফর্সা কাঁধ, গলার খাঁজে জমে থাকা পানির বিন্দু আর ফর্সা পায়ের ওপর সারিমের দৃষ্টি কামনার আগুনের মতো লেপ্টে রইল।
লজ্জায় অরির মনে হচ্ছিল মাটি ফাঁক হলে সে এখনই সেখানে লুকিয়ে পড়ে। সারিমের এমন হাভাতের মতো চাউনি দেখে ওর মাথা কাটা যাচ্ছিল। অরি কোনোমতে নিজের জড়তা কাটিয়ে সারিমকে কড়া গলায় ঘর থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলতে যাবে, ঠিক তখনই সে খেয়াল করল।সারিমের তীক্ষ্ণ, গাঢ় দৃষ্টি এখন সরাসরি ওর বুকের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে! তোয়ালের আলগা বাঁধনের ওপর সারিমের তীব্র নজর দেখে অরির ভয়ে গলার ভেতরটা একদম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। শরীরটা কাঁপতে লাগল এক অজানা আশঙ্কায়।

সারিম তখনো এক দৃষ্টিতে অরির বুকের দিকে তাকিয়ে ছিল। হুট করেই সে তার পকেট থেকে ফোনটা বের করল এবং কারও একটা নম্বরে ডায়াল করে ফোনটা কানে ধরল। ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হতেই সারিম নিজের চোখ অরির ওপর থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও না সরিয়ে, অত্যন্ত ধীর অথচ অনমনীয় গলায় বলল,
_“মিটিং আজ ক্যান্সেল। আগামীকাল সেম টাইম ঠিক রাখো।”
ফোনের ওপাশ থেকে হয়তো কোনো কিছু ভেসে এসেছিল, কিন্তু সারিম ওসব শোনার কোনো তোয়াক্কাই করল না। সে লাইনটা কেটে ফোনটা আবার পকেটে পুরে নিল।

অরি একদম স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই একটা মিটিংয়ের জন্য যে লোকটা গ্রাম থেকে এতটা তাড়াহুড়ো করে গাড়ি ছুটিয়ে ঢাকায় ফিরে এলো, সে কিনা এখন কোনো কারন ছাড়াই মিটিং ক্যানসেল করে দিল!
সারিম ফোনটা পকেটে রেখেই ওর হাতে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অফিশিয়াল ফাইলগুলো এক ঝটকায় ছুড়ে মারল ঘরের এক কোণায়।নথিপত্রগুলো বাতাসে উড়ে গিয়ে কোথায় আছাড় খেয়ে পড়ল, তার কোনো খবরই রইল না সারিমের কাছে। সে এক কদমে অরির একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল এবং কিছু বোঝার আগেই এক শক্ত টানে অরির কোমর চেপে ধরে নিজের শক্ত বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। সারিমের গায়ের সেই চেনা তীব্র পারফিউম আর পুরুষালি ঘ্রাণ অরির নাক দিয়ে মস্তিষ্কে আঘাত করল। অরি দুই হাত দিয়ে সারিমের বুক ঠেলে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে করতে বলে উঠল,

_“আপনি বলছিলেন আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে আর কখনো স্পশ করবেন না,যদি না আমি নিজ থেকে আসি।”
সারিম অরির কোমরের বাঁধন আরও শক্ত করে নিজের মুখটা ওর ভেজা কানের লতির কাছে নামিয়ে আনল। সারিমেল তপ্ত ও গভীর নিঃশ্বাস অরির ঘাড়ে লেপ্টে যেতেই অরি শিউরে উঠল। সারিম অরির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,
_“এমিটিশনের রং আর আমার কথা কখনো বিশ্বাস করবে না বউ, দুটোই সময়ের সাথে সাথে রুপ পরিবর্তন করে ফেলে।”
অরি এবার রেগে গিয়ে অনবরত নিজের হাত-পা ছুঁড়তে লাগল।নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সারিমের শক্ত বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত হতে চেয়ে বলল,

_“ছাড়ুন আমাকে অসভ্য পুরুষ!”
সারিম এবার অরির ছটফটানি দেখে একটুও বিরক্ত হলো না, বরং ওর রাগী মুখটার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে শয়তানি হাসি ফুটিয়ে বলল,
_“আগে অসভ্যতামি করে নেই বউ, পরে নাহয় অসভ্য বলো।”
সারিমের মুখের এমন চরম বেহায়াপনা কথা শুনে অরি এবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা হলো। নিজেকে কোনোমতে শান্ত করে অনুরোধের সুরে বলল,
_“না প্লিজ এমনটা করবেন না, আমার পড়া আছে।সামনেই আমার পরীক্ষা,”
সারিম এবার অরির কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে মায়াবী স্বরে বলল,
_“একদিন স্বামীর জন্য না পড়লে কিছু হবে না বউ।”
অরি তবুও দমবার পাত্র নয়। ও অনবরত সারিমের বুক চাপড়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে জিদ ধরে বলল,

_“না একদিন পড়তেই হবে নয়তো অনেক কিছুই হয়ে যাবে।”
অরি কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না।সে সারিমকে এখনো ধাক্কা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এদিকে সারিমের ধৈর্যের বাঁধও এবার ভাঙতে শুরু করেছে। সে অরিকে সামলাতে সামলাতে, একটু অধৈর্য হয়ে, অরিকে শান্ত করার জন্য একদম আদুরে স্বরে বলে উঠল,
_“এমন করে না জান, স্বামীকে একটু আদর করতে দেও। তোমাকে পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে দিবো। কিন্তু এখন একদম বাধা দিবে না।”
সারিমের মুখ থেকে এই অনৈতিক প্রস্তাব শুনে অরির চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। লোকটা কতটা পাগল হলে রোমান্স করার জন্য বউকে প্রশ্ন ফাস করার কু প্রস্তাব দেয়।অরি নিজের মুখটা কুঁচকে তীব্র অবজ্ঞা নিয়ে বলল,

_“দুর্নীতিবাজ লোক ছেহ! আমার প্রশ্নের দরকার নেই। না দরকার আদরের।”
সারিম এবার আর কোনো মিনতির ধার ধারল না। ওর চোখের কোণের নরম ভাবটা উধাও হয়ে সেখানে এক কর্তৃত্বপরায়ণ পুরুষের রূপ ফুটে উঠল। সে অরির থুতনিটা নিজের শক্ত আঙুলে চেপে ধরে কড়া গলায় শাসানোর সুরে বলল,
_“রাগ উঠাইস না চন্দ্রিমা, যা বলছি তাই কর, নয়তো বাসর সেরে ফেলবো এক্ষুনি।”
সারিমের এই চড়া গলা আর ‘বাসর সেরে ফেলা’র সরাসরি হুমকি শুনে অরি এবার সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেল। সে খুব ভালো করেই জানে, এই লোকটার ডিকশনারিতে ‘অসম্ভব’ বলে কোনো শব্দ নেই।লোকটা যা বলে, তা করেই ছাড়ে। আর কোনো উপায় না পেয়ে অরি এবার সম্পূর্ণ চুপ হয়ে গেল, আর কোনো রকম বাধা দেওয়ার সাহস দেখাল না।

অরিকে শান্ত হতে দেখে সারিম এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। সে নিজের ডান হাত বাড়িয়ে অরির পরনের সাদা তোয়ালেটার গিঁট ধরে এক টানে ওটা শরীর থেকে খুলে নিচে ফেলে দিল।
তোয়ালেটা খসে পড়তেই অরি লজ্জায়, তীব্র আড়ষ্টতায় নিজের চোখ দুটো শক্ত করে খিঁচে বন্ধ করে নিল।ওর পুরো ফর্সা শরীরটা যেন মুহূর্তের মধ্যে লালচে আভা ধারণ করল। সারিম এক পলক অরির সেই সম্পূর্ণ অনাবৃত, অপার্থিব ও স্নিগ্ধ রূপটা নিজের তৃষ্ণার্ত চোখ জুড়ে দেখে নিল। তীব্র কামনায় সে নিজের শুকনো ঠোঁট দুটো জিভ দিয়ে আলতো করে ভিজিয়ে নিল।
পরক্ষণেই, সারিম কোনো কথা না বাড়িয়ে অরির সেই হালকা শরীরটাকে এক ঝটকায় নিজের কোলপাঁজা করে তুলে নিল। আচমকা শূন্যে ভেসে উঠতেই অরি নিজের দুই হাত দিয়ে সারিমের গলা জড়িয়ে ধরল, কিন্তু চোখ তখনো বন্ধই রাখল অরি। সারিম ওকে কোলে নিয়েই খাটের দিকে এগিয়ে গেল। এরপর অত্যন্ত যত্নে অরিকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, সে নিজেও খাটের ওপর উঠে এলো এবং বিছানা থেকে ব্ল্যাঙ্কেটটা টেনে এক টানে দুজনের ওপর টেনে নিয়ে তার ভেতরে ঢুকে গেল।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে রাত তখন বেশ গভীর। সুখ কুঞ্জের দোতালার ঘরটায় নিস্তব্ধতা জেঁকে বসেছে। আরিশান মৃধা খাটের বেশ কিছুটা দূরে একটা সোফায় বসে ল্যাপটপে চোখ রেখে ফাইল স্ক্রোল করছিলেন। ওনার সামনেই খাটের এক কোণায় জেবা চুপচাপ গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে। ঘরটায় পিনপতন নীরবতা, শুধু মাঝেমধ্যে আরিশানের কিবোর্ডের হালকা শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই।
জেবা খাটের এপাশ থেকে ওপাশ করলো। এপাশ-ওপাশ ফিরেও তার কিছুতেই ঘুম আসছে না। শরীরটা পিরিয়ডের যন্ত্রণায় এখনো কিছুটা ম্যাজম্যাজ করছে, তার ওপর এই অচেনা পরিবেশ। ঠিক তখনি আরিশান মৃধা ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই গম্ভীর, শান্ত গলায় বলে উঠলেন,
_“জেবা, ঘুমাচ্ছো না কেন? সকালে কিন্তু আমাদের ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হতে হবে।”
আরিশানের কথা শুনে জেবা এক মুহূর্তের জন্য ভীষণ অবাক হলো! লোকটা তো ওনার ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে কাজ করছেন, চোখ তো অন্যদিকে রেখেছিলেন! তাহলে ওনার পিঠেও কি চোখ আছে যে ও ঘুমায়নি সেটা বুঝে গেলেন? তবে কি এতক্ষণ লোকটা অলক্ষ্যেই ওর ওপর কড়া নজর রাখছিলেন?
জেবার এই ভাবনার মাঝেই আরিশান মৃধা ল্যাপটপটা বন্ধ করে টেবিলের ওপর রাখলেন। চশমাটা খুলে পাশে রেখে এবার সরাসরি জেবার দিকে চাইলেন। ওনার চোখের সেই তীক্ষ্ণ আর রাশভারী চাউনি দেখে জেবা কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। আরিশান একটু ধমকের সুরে বললেন,

_“আর রাত জাগতে হবে না। চোখ বন্ধ করো এবার।”
আরিশান মৃধার সেই চিরচেনা জল্লাদ মার্কা ধমক খেয়ে জেবা আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। ভয়ে তড়িঘড়ি করে ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে সত্যিই সত্যিই চোখ বুজে ঘুমানোর ভান করল। জেবার এই চটজলদি বাধ্য মেয়ের মতো রূপ দেখে আরিশান মৃধার গম্ভীর মুখের আড়ালে এক চিলতে মুচকি হাসি ফুটে উঠল, যা জেবা দেখতে পেল না।
রাত আরও গভীর হলো, ঘড়ির কাঁটা জানান দিল মাঝরাত পেরিয়ে গেছে। পুরো বাড়ি এখন গভীর সুপ্তিতে মগ্ন। আরিশান মৃধা সোফা ছেড়ে ধীর পায়ে খাটের পাশে এগিয়ে এলেন। একটা চেয়ার টেনে তিনি বিছানায় শুয়ে থাকা জেবার একদম মুখোমুখি বসলেন। এরপর কিছুটা ঝুঁকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ঘুমন্ত মেয়েটার দিকে।
জেবা এখন গভীর ঘুমে মগ্ন। তবে ঘুমের ঘোরেও সম্ভবত পেটের ব্যথায় বা কোনো অস্বস্তিতে কিছুক্ষণ পর পর তার নাক-মুখ কুঁচকে উঠছে। অবুঝ বাচ্চার মতো ঠোঁট দুটো সামান্য ফুলে উঠছে বারবার। আরিশান মৃধা অত্যন্ত গভীরভাবে সেই সূক্ষ্ম জিনিসটা লক্ষ্য করতে লাগলেন। ওনার চোখের দৃষ্টিতে আজ কোনো অবজ্ঞা নেই,সেখানে জেঁকে বসেছে এক অদ্ভুত মোহগ্রস্ততার নেশা।

আজ যেন আরিশান মৃধাকে বয়সের কঠিন সমীকরণটা একদম দমাতে পারছে না। সমস্ত সামাজিক নিয়ম, লোকলজ্জা আর বয়সের ব্যবধানের দেয়াল ভেঙে ওনার মন এক অদ্ভুত টানে এই হাঁটুর বয়সী মেয়েটির প্রতি ঝুঁকছে। ওনি জেবাকে আজ এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং নতুন নারীসুলভ দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন। মনের ভেতর এক তীব্র অবিশ্বাস্য আলোড়ন কাজ করে বসল ওনার।
আরিশান মৃধা নিজের অজান্তেই হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। অত্যন্ত আলতো করে জেবার কপালে লেপ্টে থাকা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিলেন।ওনার আঙুলের উষ্ণ ছোঁয়া জেবার ফর্সা ত্বকে লাগতেই এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল আরিশান মৃধার বুকে। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। আরও কিছুটা ঝুঁকে জেবার কোমল কপালে নিজের তপ্ত অধর জোড়া আলতো করে স্পর্শ করালেন। এক অদ্ভুত ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলেন ওনার ছোট্ট বউটার কপালে।
কিন্তু ঠিক তখনই, ঘুমের ঘোরে জেবা একটু নড়াচড়া করে উঠল এবং একটা পাশ ফিরল। জেবার এই আকস্মিক নড়াচড়ায় আরিশান মৃধাকে আচমকা ঘোর কেটে বাস্তবে ফিরে আসতে হলো। ওনি তড়িঘড়ি করে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। নিজের এই আকস্মিক দুর্বলতায় ওনি জেবার এই ব্যাঘাত ঘটার ওপর কিছুটা বিরক্ত হলেন। মনে মনে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

রুমের বারান্দার দরজাটা সামান্য খোলা ছিল। সেখান দিয়ে গলে আসা হালকা, রূপালী চাঁদের আলো সরাসরি এসে লেগেছে জেবার দুগ্ধফেনভ ফর্সা মুখশ্রীর ওপর। সেই আলো-ছায়ার মায়াজালে জেবাকে কোনো পরীর মতো দেখাচ্ছিল। আরিশান মৃধা জেবার সেই নিষ্পাপ ও মোহময় মুখপানে অনেকক্ষণ আচ্ছন্ন হয়ে তাকিয়ে রইলেন। অদ্ভুত তীব্র ঘোরের বশে ওনার অবচেতন মুখ থেকে খুব ফিসফিসিয়ে,বেরিয়ে এলো,
_“লুনা, creo que me he enamorado de ti.”
নিজের বলা কথার গভীরতা নিজের কানে পৌঁছাতেই আরিশান মৃধা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে চাঁদের আলোর দিকে চেয়ে রইলেন,
নিজের ভেতরের অবাধ্য, অবদমিত স্বীকারোক্তিটা নিঝুম ঘরের ভারী বাতাসে মিলিয়ে গেল, আরিশান মৃধার বুকের ভেতরটা তীব্র এক অস্থিরতায় মোচড় দিয়ে উঠল। ঘরের চারদিকের বদ্ধ হাওয়া যেন হঠাৎ করেই ওনার কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। সেখানে আর এক মুহূর্তও টিকে থাকা ওনার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ল। চেয়ারটা পেছনে ঠেলে ওনি উঠে দাঁড়ালেন। ধীর, ভারী পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালেন ঘরের উন্মুক্ত বারান্দাটায়।

রাতের শেষ প্রহরের একঝলক শীতল হাওয়া ওনার চশমার কাচ ছুঁয়ে, অবিন্যস্ত চুলে দোলা দিয়ে গেল। আরিশান মৃধা দুই হাতে বারান্দার কাঠের রেলিংটা শক্ত করে চেপে ধরলেন, যেন এই মুহূর্তে এটাই ওনার একমাত্র অবলম্বন। চোখ তুলে তাকালেন অনন্ত আকাশের বুকে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি তারার মেলাটার দিকে। এই তারাগুলোর মাঝেই তো ওনি বিগত দীর্ঘ চৌদ্দটি বছর ধরে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় হারিয়ে যাওয়া অতীতকে খুঁজে বেড়িয়েছেন। ওনার সুখ-দুঃখের নীরব সাক্ষী ছিল এই আকাশ। কিন্তু আজ, এই গভীর রাতে সেই চেনা আকাশের দিকে তাকাতেই ওনার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত, অচেনা শূন্যতা হাহাকার করে উঠল।
একটা দীর্ঘশ্বাস বুক চিরে বেরিয়ে এলো। তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে ওনি মৃদু স্বরে আক্ষেপের সুরে বলে উঠলেন,
_“আজ কেন জানি তোমার শূন্যতাটা আমায় ওভাবে ছুঁতে পারছে না। তুমি কি খুব রাগ করেছ, তারা?”
আরিশান মৃধার গম্ভীর কণ্ঠস্বর রাতের নিস্তব্ধতাকে যেন কাচের মতো ভেঙে খানখান করে দিল। নিজের মনের কাছে নিজের অস্তিত্বটাকেই আজ বড় অচেনা ঠেকছে ওনার। বুক ভরে ফুসফুস আর্দ্র বাতাসে সিক্ত করে ওনি আবার শুধালেন,

_“ওটা কি আদেও কখনো ভালোবাসা ছিল? নাকি কেবলই এক মায়া?”
আরিশান মৃধা একটু থামলেন। চোখের কোণে জমে থাকা পুরনো স্মৃতির চাদরটা যেন কোনো এক অদৃশ্য ঝড়ে হুট করেই ছিঁড়ে গেল। ওনি ধীর দৃষ্টিতে তাকালেন আকাশের এক কোণায় অধিপতির মতো জেগে থাকা পূর্ণাঙ্গ চাঁদটার দিকে, যা থেকে ঝরে পড়ছে থালার মতো রূপালী কিরণ। আরিশান মৃধার সঙ্গে নিয়তি আজ এক অদ্ভুত খেলা খেললো—ওনার সমস্ত মনোযোগ, সমস্ত দৃষ্টি আজ আকাশের ওই হাজারো চেনা তারার ভিড়ে আটকে রইল না; বরং ওই রূপালী চাঁদটাই তার সমস্ত মন ও চেতনা তীব্রভাবে কেড়ে নিল। চাঁদের ওই শীতল স্নিগ্ধতা যেন আরিশান মৃধার ভেতরের লৌহমানবকে এক লহমায় অবশ, নুয়ে দিচ্ছিল। ওনি অপলক চোখে চেয়ে থেকে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে উঠলেন-

“লুনা…”
নামটা উচ্চারণ করার সাথে সাথেই, নিজের অজান্তেই একপশলা পরম শীতল অনুভূতি ওনার পুরো বুক জুড়ে বয়ে গেল। এক অলৌকিক প্রশান্তি হৃদয়ের প্রতিটি কোণায় আলোড়ন সৃষ্টি করল। আরিশান মৃধা পরক্ষণেই নিজের এই অদ্ভুত ঘোর কাটিয়ে আবার সেই আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকালেন। তবে এবার ওনার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক করুণ, অপরাধবোধে জর্জরিত ব্যথার হাসি। একটা অপরাধী মন নিয়ে ওনি আবার আকাশের দিকে চেয়ে অবদমিত কণ্ঠে বলে উঠলেন—
_“আই অ্যাম সরি, তারা… আজকের পর থেকে আমি তোমার কাছে বেইমান। বাট বিলিভ মি, আই অ্যাম হেল্পলেস! আমি চাইনি, তাও সারাক্ষণ ওই মেয়েটার কথাই মাথায় ঘোরে। আই জাস্ট কান্ট স্টপ থিংকিং অ্যাবাউট হার! চেয়েও এই ফিলিংস থেকে আমি পালাতে পারছি না। আমি কথা রাখতে পারলাম না, তারা… আমি হেরে গেছি ওই মেয়েটার কাছে। মেয়েটা জিতে গেছে। আর তুমি… তুমি হেরে গেছ ভাগ্যের কাছে!”

কথাগুলো শেষ করতে করতে আরিশান মৃধার গলাটা যেন কিছুটা বুজে এলো, ভারী হয়ে উঠল চোখ।এই নিঃসঙ্গ আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের ভেতরের চরম অসহায়ত্বকে অকপটে স্বীকার করছেন। যে অতীতকে ওনি দীর্ঘ চৌদ্দটা বছর ধরে বুকের সবচেয়ে গোপন কুঠুরিতে পরম যত্নে আগলে ধরে রেখে বেচেছিলেন, তা এক ঝটকায় একটা অবুঝ, চঞ্চল মেয়ে এসে ওনার সেই দুর্ভেদ্য অতীতের দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।
বারান্দার শীতলতা ছেড়ে ওনি আবার ঘরের ভেতর পা রাখলেন, ওনার অনিচ্ছাসত্ত্বেও দৃষ্টি গিয়ে থমকাল বিছানায়। সেখানে চাদর জড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমে মগ্ন হয়ে আছে জেবা। জানলা গলে আসা চাঁদের আলোটা তখনো ওর ঘুমন্ত মুখের এক পাশে মায়াবী আলো-ছায়ার খেলা খেলছে। আরিশান মৃধা ওঁর এতকালের কঠিন খোলসটা এক পাশে সরিয়ে রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

সকালের নরম আলোটা জানালার ভারী পর্দা গলে ঘরে এসে প্রবেশ করতেই অরির ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙে গেল। সারা শরীরের ক্লান্তি আর এক অদ্ভুত আড়ষ্টতা নিয়ে সে বিছানায় উঠে বসল।চোখ দুটো পিটপিট করে মেলতেই পাশের খালি জায়গাটায় নজর পড়ল—সারিম সেখানে নেই, হয়তো অনেক আগেই উঠে গেছে।
অরি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানার পাশে থাকা সাইড টেবিল থেকে রিডিং গ্লাসটা চোখে পরে নিলো। এরপর নিজের ফোনটা হাতে নিল। উদ্দেশ্য ছিল স্রেফ সময়টা দেখা। কিন্তু স্ক্রিন আনলক করতেই অরি থমকে গেল। স্ক্রিনজুড়ে নোটিফিকেশনের বন্যা বয়ে গেছে! ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম-কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গত দুদিনের এই তুমুল ব্যস্ততা আর ওলটপালট পরিস্থিতির চক্করে সে নিজের ফোনটা ঠিকমতো খুলেই দেখেনি, যেমনাটা তেমন পড়ে ছিল।
অরি গভীর কৌতূহল আর কিছুটা সংশয় নিয়ে ফেসবুকের নোটিফিকেশন বারটা ওপেন করল। ওপেন করতেই অরির চোখ জোড়া চড়কগাছ! ওর একটা সাধারণ প্রোফাইল, যেখানে ও মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু মোটিভেশনাল পোস্ট শেয়ার করত, সেখানে কমেন্ট বক্সে প্রায় বিশ হাজারের মতো কমেন্ট দেখা যাচ্ছে!
অরি পুরো বোকা বনে গেল। মাথা কাজ করছে না ওর। এত কমেন্ট ওকে কে করল? আর কেনই বা করবে? সে কাঁপতে থাকা আঙুলে কমেন্ট বক্সটা স্ক্রোল করতে লাগল। কিন্তু ভেতরের কমেন্টগুলো দেখে অরি একেবারে তাজ্জব বনে গেল!

সবাই ওকে ‘কংগ্রাচুলেশন’ জানাচ্ছে। কেউ কেউ লিখেছে,ইউ আর আ লাকি গার্ল!কেউ লিখেছে,
“দুজনকে খুব মানিয়েছে, এক্কেবারে মেইড ফর ইচ আদার।”আবার একদল লিখেছে,
“আমাদের মন্ত্রী এত রোমান্টিক, ভাবাই যায় না!”
অরির মাথায় কিছুই ঢুকল না। লোকজন এসব কী হাবিজাবি বলছে? ও লাকি গার্ল মানে কী? আর মন্ত্রী রোমান্টিক হওয়ার সাথে ওর কী সম্পর্ক? অরি এবার মূল পোস্টটার দিকে তাকাল এবং দেখার সাথে সাথে ওর হাতের ফোনটা প্রায় হাত থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো! বিস্ময়ে, স্তব্ধতায় পাথর হয়ে গেল।
পর্দার ওপারে, স্ক্রিনের ঠিক মাঝখানে জ্বলজ্বল করছে সারিম আর ওর সেইদিনের সেই আকস্মিক সারিমের দেওয়া জোর করে ‘কিস’ করার ঘনিষ্ঠ ছবিটা! সারিম ওটাকে পোস্ট করেছে! শুধু পোস্টই করেনি, ছবির ওপরে একটা সংক্ষিপ্ত অথচ চড়া ক্যাপশন দিয়েছে—“মাই পার্সোনাল প্রোপার্টি”।
সারিম নিজের অফিশিয়াল ভেরিফাইড আইডি দিয়ে অরিকে মেনশন করেছে, আর তার ওপর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস আপডেট করে দিয়েছে-“ম্যারিড”!
পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই ছবি নিয়ে তোলপাড় চলছে। অরির রাগে, লজ্জায় আর দুঃখে নাকের পাটাতন ফুলে-ফেঁপে উঠল। দাঁত কিড়মিড় করে সে এবার ইনবক্সটা চেক করতেই আঁতকে উঠল। শত শত চেনা-অচেনা মানুষ ওকে মেসেজ পাঠিয়ে ইনবক্স ভরে ফেলেছে। মিডিয়া, বন্ধুবান্ধব, চেনা পরিচিত—কারো কৌতূহলের শেষ নেই।

অরি এসব আর নিতে পারছে না। ওর কান দুটো গরম হয়ে আসছে। এই বেহায়া, লম্পট লোকটার দ্ধারা সব সম্ভব? অরি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সারিমকে সে আর কিছুতেই ছাড়বে না। আজ একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে!অনেক সহ্য করেছে এসব আর না।
রাগ ও ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে অরি বিছানা থেকে নেমে গটগট পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ি বেয়ে দুতলায় নামতেই সে সারিমের ঘরের দিকে গেল, কিন্তু সেখানে সারিমকে পাওয়া গেল না। ঘরটা ফাঁকা। অগত্যা অরি ভেবে নিল-হয়তো সারিম নিচে ড্রয়িংরুমে বা ডাইনিংয়ে আছে।
সে দ্রুত পায়ে নিচে নেমে এলো। কিন্তু পুরো নিচতলাটা যেন এক অদ্ভুত খাঁ খাঁ নীরবতায় ডুবে আছে। সারিম এখানেও নেই। অরি যখন আবার ওপরে গিয়ে ওকে খোঁজার সিদ্ধান্ত নিতে যাবে, ঠিক তখনই সদর দরজার ওপাশ থেকে এক মহিলার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
কণ্ঠস্বরটা বড্ড দুর্বল, অথচ এক অদ্ভুত টান রয়েছে তাতে। মহিলাটি আরিশান মৃধা আর সারিমের নাম ধরে উচ্চস্বরে ডেকে ডাকতে ডাকতে ভেতরের দিকে এগিয়ে আসছিল।
অরি অবাক হয়ে দরজার দিকে ঘুরে তাকাল। এবং তাকানোর সাথে সাথেই সে যেন একদম জ্যান্ত ভূত দেখার মতো চমকে উঠল! সামনের দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাটির পরনে একটা হাসপাতালের অ্যাপ্রন জড়ানো, মুখটা ক্লান্ত ও ফ্যাকাসে।

অরি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে মহিলাটির মুখের দিকে তাকাল, আর তার পরক্ষণেই ড্রয়িংরুমের দেওয়ালে টাঙানো বিশাল সোনালী বর্ডারের ফটো ফ্রেমটার দিকে তাকাল। যে ফ্রেমে সারিমের প্রয়াত মায়ের ছবি বছরের পর বছর ধরে হাসিমুখে ঝুলছে। দেওয়ালে টাঙানো ছবির সেই মুখ আর চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই রক্তমাংসের মুখটা হুবহু এক! এক চুলও এদিক-ওদিক নেই!
অরির পুরো শরীর ভয়ে হিম হয়ে গেল, মাথার চুলগুলো খাড়া হয়ে উঠল। ওর অবচেতন মন সগর্বে ঘোষণা করল—সে জ্যান্ত ভূত দেখছে! চৌদ্দ বছর আগে মারা যাওয়া মানুষ কীভাবে এভাবে হেঁটে চলে বেড়াবে?
ভয়ে অরির গলা দিয়ে আর কোনো স্বাভাবিক আওয়াজ বেরোলো না। সে সারিমের নাম নিয়ে এক তীব্র চিৎকার চিল্লানি মেরে উল্টো পথে দৌড় দিল।
“সারিমমমম!… বাঁচান!”
অন্ধের মতো দৌড়াতে গিয়ে কারো শক্ত চওড়া বুকে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খেল । ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ার আগেই সামনে চেনা অবয়ব, কালো টি-শার্ট পরা সারিমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অরি এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। ভয়ের চরম সীমানায় পৌঁছে সে এক লাফে সারিমের কোলে ব্যাঙের মতো উঠে বসল! দুই হাত দিয়ে সারিমের গলা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে, দুই পা ওর কোমরে লক করে দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগল,

_“সারিম!… আপনার মায়ের ভূত এসেছে!… ওই দেখুন, দরজায় আপনার মায়ের ভূত দাঁড়িয়ে আছে!”
সারিম আচমকা অরির এই আকস্মিক আক্রমণে কোলে লাফিয়ে ওঠায় পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল। সে অরিকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে দুই হাত দিয়ে ওর কোমর শক্ত করে ধরে রাখল। অরির এমন অদ্ভুত কথা আর পাগলামি সারিমের মাথায় ঢুকল না। সে ভ্রু কুঁচকে বিরক্তির সুরে বলল,
_“কীসব উল্টোপাল্টা বকছ চন্দ্রিমা? ভূত আসবে কোত্থেকে?”
অরি নিজের এক হাত সারিমের গলা থেকে ছুটিয়ে, কাঁপতে থাকা আঙুল দিয়ে সদর দরজার দিকে নির্দেশ করল। সারিম অরির হাতের দেওয়া সেই তীব্র ভীতির দৃষ্টি অনুসরণ করে সোজা সামনের দিকে তাকাল।
এবং তাকানোর সাথে সাথে… এতক্ষণ অরিকে সামলাতে থাকা সেই চতুর, সাহসী ও নির্ভীক সারিম নিজেও যেন এক লহমায় বোবা হয়ে গেল! তার হাতের বাঁধন শিথিল হয়ে এলো, চোখের মণি দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। বেচারা নিজেও ঠিক অরির মতোই জ্যান্ত ভূতের মতো চমকে উঠে স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল দরজার দিকে।ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং আনতারা মৃধা!

সদর দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা রক্তমাংসের অবয়বটার দিকে তাকিয়ে সারিমের ভেতরের সমস্ত চাতুর্য আর সাহস যেন এক পলকে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। কোল ঘেঁষে ঝুলে থাকা অরি তখনো ওর গলা জড়িয়ে ধরে ভয়ে কাঁপছে। সারিম নিজের চোখের পলক কয়েকবার ফেলে দেখার চেষ্টা করল চোখের সামনে এটা অবাস্তব কোনো মায়া নাকি সত্যিই কোনো অলৌকিক দৃশ্য! বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকার পর সারিম নিজের শুকনো গলাটা কোনোমতে ভিজিয়ে নিল। তারপর চোখের মণি জোড়া ছোট ছোট করে আনতারা মৃধার দিকে সোজা তাকিয়ে অদ্ভুত ত্যাঁদড়ো গলায় জিজ্ঞাসা করল,

_“কে আপনি ভূত আন্টি? আমার মায়ের ছদ্মবেশ নিয়ে এখানে কেন এসেছেন?”
সারিমের মুখে এমন উদ্ভট এবং বেয়াড়া প্রশ্ন শুনে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত, জীর্ণ মহিলাটির চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও কাঁপো কাঁপো গলায় হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
_“আমি তোমার মা সারিম, কোনো ভূত নই।”
সারিম ওনার এই আবেগী কথায় বিন্দুমাত্র গলল না। সে নিজের ডান ভ্রু-টা ত্যাড়ছাভাবে উঁচিয়ে, কোল থেকে অরিকে আলতো করে মেঝেতে নামিয়ে দিয়ে এক কদম এগিয়ে গেল। এরপর হাত নাড়িয়ে বলল,
_“দেখেন ভূত আন্টি, মিথ্যা বলে আমার হাত থেকে একদম পার পাবেন না। আমি জানি আপনি মিথ্যা বলছেন। আমার মা সেই কবেই টপকে গেছে!”
চৌদ্দ বছর পর কোমা থেকে ফিরে নিজের কলিজার টুকরো ছেলের মুখ থেকে এমন ‘টপকে গেছে’র মতো শব্দ শুনে আনতারা মৃধার বুকটা ধক করে উঠল। তিনি নিজের এক হাত বুকে চেপে ধরে তীব্র এক অভিমান আর বিস্ময় নিয়ে বললেন,

_“সারিম! এসব তুমি কী বলছো নিজের মায়ের সম্পর্কে?”
সারিম নিজের বুক টান টান করে দাঁড়াল। যেন সে কোনো দুর্ধর্ষ চোরকে জেরা করছে। অত্যন্ত অনমনীয় গলায় বলল,
_“আমি যা বলছি সত্যিই বলছি। ভূত হয়ে আপনি এখানে কেন এসেছেন? দেখুন, আমার বাপ এখন সবেমাত্র বিয়ে করছে। এখন কি আপনি আমার বাপের সংসারে আগুন লাগাতে আসছেন?”
ছেলের মুখে এই বয়সে এসে বাপের বিয়ের কথা এবং ওনার আসাকে ‘সংসারে আগুন লাগানো’র সাথে তুলনা করতে দেখে আনতারা মৃধার মাথা ঘুরে ওঠার জোগাড় হলো। তিনি দরজার দেয়ালটা শক্ত করে ধরে আকুতিভরা গলায় বললেন,
_“সারিম, বাবা আমার কথা শুনো মায়ের। আমিই তোমার মা।”
সারিম এবার দুই হাত কোমরে রেখে মুখটা বাঁকিয়ে বলল,

_“কী প্রমাণ আছে আপনার কাছে যে আপনি আমার মা?”
আনতারা মৃধা এবার চরম ধর্মসংকটে পড়লেন। নিজের জন্ম দেওয়া ছেলেকে প্রমাণ দিতে হবে যে তিনি তার জন্মদাত্রী! তিনি ক্ষণিকের জন্য একটু থমকে কিছু একটা ভাবলেন। অতীতের স্মৃতির পাতা হাতড়ে ছেলের ছোটবেলার কথা মনে করার চেষ্টা করলেন। তারপর অত্যন্ত গম্ভীর ও নিশ্চিত গলায় বললেন,
_“তোমার বাম পাছায় একটা কালো রঙের জন্মদাগ আছে।”
আনতারা মৃধার মুখ থেকে এই অতীব গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্যটি বের হওয়া মাত্রই সারিম যেন তড়িৎস্পৃষ্টের মতো চমকে উঠল! ওর চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেল। এই ভূত ওর জীবনের এত বড় এক সিক্রেট আর এসব ব্যাপারে কীভাবে জানল?
সারিমের এই আকস্মিক ভড়কে দশা দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অরি নিজের ভয়ডর ভুলে চরম কৌতূহল নিয়ে সারিমের দিকে তাকাল। সে সারিমের একটু কাছে ঘেঁষে এসে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল,

_“সত্যিই কি আপনার পাছায় জন্মের কালো দাগ আছে?”
অরির এই অসময়ের কৌতুহল দেখে সারিম রাগে লাল হয়ে উঠল। সে চট করে অরির দিকে ঘুরে এক রাশ চোখ রাঙানি দিয়ে তড়িৎ কণ্ঠে বলল,
_“চুপ থাক মহিলা!”
অরিকে থামিয়ে দিয়ে সারিম এবার দ্বিগুণ ক্ষোভ নিয়ে আনতারা মৃধার দিকে তেড়ে গেল। সে নিজের দুই হাত নাচিয়ে অত্যন্ত তেজালো গলায় বলতে লাগল,
_“নির্লজ্জ ভূতনি মহিলা! ভূত হয়ে নিশ্চয়ই আমার ওটা লুকিয়ে লুকিয়ে চুরি করে দেখে এখন বলছেন? বলি হায় লজ্জা করে না অন্যের জামাইর গোপন জিনিস এভাবে দেখতে? আজ ভূত না হয়ে অন্য কিছু হলে আপনাকে ঠিক বুঝিয়ে দিতাম এই মৃধা আবরার সারিম আসলে কী জিনিস!”

নিজের জন্ম দেওয়া ছেলের মুখ থেকে এমন চরম বেহায়াপনা আর অদ্ভুত যুক্তির কথা শুনে আনতারা মৃধা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। ছেলের এই চরম নৈতিক অধঃপতন দেখে তিনি গভীর এক হতাশায় নিমজ্জিত হলেন। নিজের কপালে হাত দিয়ে ম্লান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন,
_“আমি কখনো ভাবিনি আমি চলে যাওয়ার পর তোমার বাবা তোমাকে এসব শিখিয়েছে!”
নিজের জন্মদাত্রী মায়ের এই অপবাদ সরাসরি গিয়ে লাগল আরিশান মৃধার ওপর। সারিম নিজের বাবার ওপর যতই খ্যাপা থাকুক না কেন, অন্য কেউ ওনার নামে কিছু বললে সে বিন্দুমাত্র সহ্য করার পাত্র নয়। সারিমের চোখ দুটো কঠিন গাম্ভীর্য রূপ নিল। সে তর্জনী উঁচিয়ে অত্যন্ত কড়া ও ককশ গলায় জবাব দিল,

_“মুখ সামলে কথা বলুন! আমার বাপ সম্পর্কে এসব বলার আগে দশবার ভেবে-চিন্তে কথা বলুন।”
ড্রয়িংরুমের ভেতর যখন সারিম আর আনতারা মৃধার মধ্যকার বাদানুবাদ চরমে ঠিক তখনই সদর দরজার ওপার থেকে ভেসে এলো সুপরিচিত ভারী জুতো নিক্বণ। আরিশান মৃধা আর জেবা সবেমাত্র ফিরে ঘরের ভেতর প্রবেশ করছেন। জেবার ক্লান্ত মুখশ্রীর পাশে আরিশান মৃধার চিরচেনা সেই গম্ভীর রাশভারী অবয়ব।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আনতারা মৃধা নতুন কারো পায়ের শব্দ পেয়ে ধীর পায়ে ঘুরে পেছনের দিকে তাকালেন। আর তাকানো মাত্রই ওনার চোখ দুটো ঠিকরে যেন এক মহাজাগতিক আনন্দ খেলে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিশান মৃধাকে দেখার পর তিনি নিজের শরীরের সমস্ত দুর্বলতা এক নিমেষে ভুলে গেলেন। তীব্র এক আকুলতায় প্রায় দৌড়ে গিয়ে ওনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।

আরিশান মৃধা এক সেকেন্ডের মধ্যে কী থেকে কী হয়ে গেল, তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। ওনার হাত দুটো শূন্যে ঝুলে রইল।এভাবে হুট করে এক অচেনা- নারীর স্পর্শে ওনার সমস্ত শরীর শক্ত হয়ে গেল।
এদিকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জেবা আচমকা এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াল। যখন সে মহিলাটির মুখের দিকে ভালো করে তাকাল,তখনি জেবার চোখ দুটো অবিশ্বাসে কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।পুরো হাত-পা তীব্র এক আশঙ্কায় কাঁপতে শুরু করল। বুকের ভেতরটা কে যেন ওলটপালট করে দিল। হৃদপিণ্ডের স্পন্দন সশব্দে কানের পর্দায় আছড়ে পড়তে লাগল। সে অবশ পায়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল।
মহিলাটি আরিশান মৃধার বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ওনার অবশ ঠোঁট থেকে অত্যন্ত আবেগী কণ্ঠে এক গভীর ডাক ভেসে এলো,

“আরিশান!…”
আরিশান মৃধার পরিচিত কন্ঠ স্বর শুনতে পেয়ে চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেল। ভেতর থেকে এক তীব্র ঝাঁকুনি ওনাকে নাড়া দিয়ে গেল। হাত-পা মুহূর্তের মধ্যে অবশ হয়ে এলো।ভেতরের অবচেতন মন চিৎকার করে উঠল—‘এটা কীভাবে সম্ভব? যে মানুষটাকে চৌদ্দ বছর আগে মৃত ঘোষনা হয়েছিল।সে কিভাবে আজ এতগুলো বছর পর ওনার সামনে জ্যান্ত দাঁড়িয়ে,ওনাকে জড়িয়ে ধরে আছে!’
আরিশান মৃধার দৃষ্টি একবারের জন্যেও বুকের সাথে লেপ্টে থাকা নারীর দিকে গেল না, বরং ওনার চোখ দুটো হন্যে হয়ে ছুটে গেল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জেবার দিকে। জেবা তখন স্তব্ধ হয়ে, এক দৃষ্টিতে আনতারা মৃধার দিকেই চেয়ে আছে।ওর ফর্সা মুখটা ফ্যাকাশে সাদা হয়ে গেছে, চোখের কোণায় এক চিলতে জল চিকচিক করছে। আরিশান মৃধার বুকের ভেতরটা হুট করেই এক তীব্র অপরাধবোধ আর যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। সে কেন যেন জেবার সামনে এই মুহূর্তে আনতারাকে জড়িয়ে ধরতে পারছে না। এক অদ্ভুত অদৃশ্য দেয়াল ওনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে গ্রাস করে ফেলেছে। জেবার ওই নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে ওনার হাত দুটো অবশ হয়ে ঝুলে রইল।
আনতারা মৃধা আরিশান মৃধার এই জড়তা টের পেলেন না। তিনি ওনার বুকে মুখ ঘষে অত্যন্ত আকুলতা জড়ানো কণ্ঠে বলে উঠলেন,

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ২২

_“আরিশান, আমার ভালোবাসা! আমাকে ছাড়া এতদিন তুমি নিশ্চয়ই খুব কষ্টে ছিলে? দেখো, তোমার তারা ফিরে এসেছে। এবার আর তোমাকে কখনো ছেড়ে যাব না। আগেরবার পারলেও, নিয়তি এবার আর আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
এদিকে ড্রয়িংরুমের এক কোণায় দাঁড়িয়ে এই পুরো দৃশ্যটা দেখে সারিম নিজের চোয়াল শক্ত করে ফেলল। মনে মনে চরম বিরক্তিতে বিড়বিড় করে উঠল,
“কত বড় ডাহা মিথ্যা কথা! প্রতিবারই উনি আমার বাপের ভালোবাসা। আবার নিজেই ভালোবাসাকে ছেড়ে ভাগবে, আর দোষ দেবেন নিয়তির! বেডি ভণ্ডের ঘরের ভণ্ড একটা!”

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here