Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫৩
মেহজাবিন নাদিয়া

অরি যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সারিম তাকে হানিমুনে নিয়ে এসেছে, তাও আবার উগান্ডায়! একটা মানুষ ঠিক কতটা অদ্ভুত মানসিকতার হলে মনে এমন শখ পুষে রাখতে পারে, তা সারিমকে না দেখলে অরি জানতেই পারতো না। অরির যদি ইহজন্মে কোনো দেশের প্রতি তীব্র অনিহা ও নিন্দা থেকে থাকে, তবে সেটা হলো উগান্ডা। আর নিয়তির কী পরিহাস, শেষমেশ তাকে এই দেশেই আসতে হলো!
অরিকে স্তব্ধ হয়ে থাকতে দেখে সারিম আগ্রহ নিয়ে শুধাল,
“কী হলো বউ? একদম চুপ হয়ে গেলে যে! কিছু তো বলো জায়গাটা সম্পর্কে?”
অরি রাগী চোখে সারিমের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল,
“কী বলব এই জায়গা নিয়ে? বলার তো কিছুই নেই! সত্যি করে বলুন তো সারিম, আপনার মাথায় এসব আজব চিন্তাভাবনা আসে কীভাবে? না মানে, এটাও কি ঘুরতে আসার মতো কোনো জায়গা হলো? কী আছে এই দেশে?”
সারিম একদম ভাবলেশহীন মুখে বলল,

“কিছুই নেই।”
“তো?”
“তো কী! রুম আছে।”
অরি চোখ দুটি বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল,
“রুম দিয়ে কী হবে শুনি?”
সারিম অরির আরও একটু কাছে ঘেঁষে বাঁকা হেসে নিচু স্বরে বলল,
“তোমার-আমার বাসর।”
কথাটা শুনে অরি দুহাতে কান চেপে ধরল। ছিঃ! লোকটা কতটা নির্লজ্জ হলে রাস্তাঘাটে এসব কথা অনায়াসে বলে ফেলতে পারে! অরি বিরক্তি ও লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে বলল,
“আপনি এত অসভ্য কেন সারিম? বাচ্চার বাবা হতে চলেছেন, এবার তো অন্তত ভালো হন!”
সারিম বেশ আক্ষেপের সুরে বলল,

“আমি আগে ভালোই ছিলাম বউ। কিন্তু তুমি তোমার প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার নিষ্পাপ মনটাকে এমন অসভ্য বানিয়েছ! এখন আর ভালো হওয়ার কোনো পথ খোলা নেই।”
সারিমের এমন উত্তর শুনে অরি হতাশায় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কপালে দুহাত রেখে নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করল সে। ভাবতে থাকল, এ কোন লোকের পাল্লায় পড়ল!
ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে থামল একটি কালো রঙের গাড়ি। মূলত রিসোর্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সারিম এই গাড়িটি আগে থেকেই বুক করেছিল। গাড়ি থামতেই ড্রাইভার দ্রুত নেমে এসে পেছনের দরজা খুলে দিল। সারিম অরির হাত ধরে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু অরি জেদ ধরে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল,
“অসভ্য পুরুষ, ছাড়ুন আমার হাত! আমি কোনো উগান্ডা-ফুগান্ডায় যাব না আপনার সাথে। আমার এমন হানিমুনের কোনো প্রয়োজন নেই। এখানে এক মুহূর্তও নয়, আমাকে এখনই বাড়ি নিয়ে চলুন!”

অরির এমন আচরণে সারিম এবার কিছুটা বিরক্ত হলো। কত শখ করে বউকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাবে বলে একটা চমৎকার জায়গায় নিয়ে এলো, আর বউ কি না সব বয়কট করে ফিরে যেতে চাইছে! সে গম্ভীর গলায় বলল,
“চন্দ্রিমা, একদম ঢং করবে না বলছি! দ্রুত গাড়িতে উঠে বসো।”
অরি সাফ জানিয়ে দিল,
“না, আমি কিছুতেই যাব না!”
কিন্তু অরির কথায় কর্ণপাত না করে সারিম এক টান মেরে তাকে গাড়িতে বসিয়ে দিল এবং বাইরে থেকে দরজার লক আটকে দিল। গাড়ি লক করতে করতে সে কড়া সুরে বলল,
“তোমাকে উগান্ডাতেই যেতে হবে। যা বলছি, চুপচাপ মেনে নাও।”

এরপর সারিম ঘুরে এসে অন্য পাশের দরজায় বসে ভেতর থেকে লক করে দিল। গাড়ি চলতে শুরু করল। অরি রাগে বিরক্তে সারিমের সামনে একটা টু শব্দও করলো না। বেচারি মনে মনে ভাবছে জেবা যখন জানবে সে হানিমুনে উগান্ডা গিয়েছিলো। না জানি মেয়েটা তাকে নিয়ে কতটা মজা উড়ায়। এরমধ্যে সারিম আড়চোখে বারবার অরির দিকে চাইছে। তবে অরি অভিমান পুষে সারিমের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে গেল জনমানবহীন এক নৈসর্গিক পাহাড়ি রিসোর্টে। এতক্ষণ অরি অভিমান করে বাইরের দিকে একবারও তাকায়নি। কিন্তু গাড়ি থামতেই সে চোখ তুলে তাকাতে বাধ্য হলো এবং দৃশ্যটি দেখামাত্রই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল!

প্রকৃতির কী অসামান্য আর অপরূপ রূপ! অরি চোখ ফেরাতে পারল না। রিসোর্টটি একেবারে ঝরনার গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে। রুমের বারান্দা থেকেই কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলরাশি স্পষ্ট দেখা যায়। পাহাড়ি ঢালে ফুটে আছে রঙিন সব বুনো ফুল, আর হাওয়ায় ভেসে আসছে তাদের মিষ্টি সুবাস। কাঠের তৈরি রিসোর্টের কটেজগুলো দেখতে দারুণ মানানসই।
সারিম অরির হাত ধরে ভেতরে প্রবেশ করল। রুমটি আগেই বুক করা ছিল। ভেতরে পা রাখতেই সারিম সযত্নে ঘরের দরজা লক করে দিল। অরি রুমের ভেতরে না দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে সোজা চলে গেল ঝরনার মুখোমুখি বারান্দায়। তাদের রুমটি একদম প্রপাতের কিনারায় তৈরি। সারিম জেনেবুঝেই এই জায়গাটা নির্বাচন করেছিল, কারণ আরিশান মৃধার কাছ থেকেই সে জেনেছিল যে অরি জলপ্রপাত ভীষণ ভালোবাসে। অরির মুখের মুগ্ধতা দেখে সারিম মুচকি হাসল।
এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল। সারিম গিয়ে দরজা খুলতেই দেখা গেল এক ওয়েটার ট্রে হাতে দাঁড়িয়ে আছে। একটি ট্রেতে খাবার আর অন্যটিতে কিছু পোশাকের প্যাকেট, যেগুলো সারিম আগেই অর্ডার করেছিল। ওয়েটার জিনিসগুলো রেখে চলে যেতেই সারিম আবার দরজা আটকে দিল।

অরি তখনো তন্ময় হয়ে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখছিল। সারিম আস্তে আস্তে অরির পেছনে এসে দাঁড়াল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলতো করে দুহাতে তাকে জড়িয়ে ধরল। সারিমের উষ্ণ স্পর্শে অরির শরীর শিউরে উঠল। সারিম তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,
“জায়গাটা পছন্দ হয়েছে তোমার?”
অরি মিষ্টি হেসে ওপর-নিচ মাথা নাড়ল। উৎফুল্ল গলায় বলল,
“খুব খুব, ভীষণ পছন্দ হয়েছে! আমি ভাবতেই পারিনি উগান্ডায় এত সুন্দর একটি জায়গা থাকতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ সারিম, আমাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য।”
সারিম মৃদু হাসল। দুজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঝরনার জলরাশি আর রঙিন প্রজাপতিদের ফুলের ওপর উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য উপভোগ করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সারিম অরিকে ছেড়ে সামনে এসে দাঁড়াল। অরির দিকে তাকিয়ে বলল,
“পোশাকটা বদলে নাও। গতকাল থেকে একই ড্রেস পরে আছ, অস্বস্তি লাগতে পারে।”
অরি সায় জানিয়ে সারিমের সঙ্গে ঘরে ফিরে এল। সারিম শপিং ব্যাগগুলো অরির দিকে এগিয়ে দিতেই অরি ভ্রু কুঁচকে শুধাল,

“এগুলো কী?”
সারিম বলল,
“এখানে কিছু নতুন কাপড় আছে, যা ভালো লাগে পরে নাও।”
অরি উৎফুল্ল মনে প্যাকেটগুলো খুলতেই চমকে গেল। প্রতিটা প্যাকেটে অত্যন্ত চমৎকার সব শাড়ি রাখা! অরি মুগ্ধ চোখে শাড়িগুলোর দিকে তাকাল। সারিম শুধাল,
“পছন্দ হয়েছে?”
অরি লাজুক হেসে মাথা নেড়ে সায় দিল। সারিম হেসে বলল,
“তাহলে পছন্দমতো একটা পরে নাও।”
অরি সেখান থেকে একটি গাঢ় নীল রঙের শাড়ি বেছে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল। সারিম পেছন থেকে ডেকে উঠে বলল,

“কোথায় যাচ্ছ?”
অরি শাড়িটা দেখিয়ে বলল,
“চেঞ্জ করতে।”
“এখানেই করো,” সারিম সহজ গলায় বলল।
অরি অবাক হয়ে তাকাল। তার সামনে শাড়ি পরবে মানে? অরির দ্বিধা বুঝতে পেরে সারিম নিজেই বুঝিয়ে বলল,
“ওয়াশরুমের মেঝে ভেজা, স্লিপ কেটে পড়ে যেতে পারো। এখানেই ড্রেস চেঞ্জ করো, সমস্যা নেই। আমি বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করছি।”
এই বলে সারিম দরজা খুলে বাইরে চলে গেল। সারিম বাইরে যেতেই অরি যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এরপর ধীরে-সুস্থে নীল শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে নিল। আঁচলটা একপাশে রেখে সে ঘরের বড় আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। শাড়ি সে আগেও বার কয়েক পরেছে, কিন্তু আজকের মতো নিজেকে কখনো এত অপূর্ব আর আলাদা লাগেনি। হয়তো মনের ভেতরের আনন্দ আর ভালোবাসার কারণেই আজ তাকে এত স্নিগ্ধ লাগছে।

ঠিক তখনই সারিম দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল-অরি ঠিকঠাক শাড়িটা পরতে পেরেছে কি না দেখতে। কিন্তু নীল শাড়িতে অরিকে দেখামাত্রই সারিমের দুচোখ যেন থমকে গেল! তার হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে শুরু করল, নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেতে লাগল। অরিকে এর আগেও সে দুবার শাড়িতে দেখেছে, কিন্তু আজকের মতো এমন নেশা ধরানো রূপ সে আগে কখনো দেখেনি।
সারিমের এমন অপলক চাহনি দেখে অরি ভীষণ লজ্জা পেল। লজ্জায় মুখটা শাড়ির আঁচলে ঢেকে নিল। সারিম তা দেখে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে অরির দিকে এগিয়ে এলো। অরি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সারিম তাকে টেনে নিজের বুকের কাছে নিয়ে এল।
সারিমের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অরির লজ্জা যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল। সে নিজের মুখটা সারিমের চওড়া বুকে লুকিয়ে ফেলল।

সারিম অরির থুতনি ধরে মুখটা ওপরে তুলে তার দিকে ফেরাল। চোখাচোখি হতেই অরির পুরো শরীর কেঁপে উঠল। সারিমের সেই গভীর নেশাক্ত চোখে তাকিয়ে থাকার সাহস যেন তার ছিল না। পরবর্তী কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সারিম অরির পুরো মুখমণ্ডলে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। অরি নিজেকে সামলাতে না পেরে আদরে দুহাতে সারিমের গলা জড়িয়ে ধরল।
অরির এই সাড়া পেয়ে সারিমের নিয়ন্ত্রণ যেন পুরোপুরি হারিয়ে গেল। আস্তে আস্তে নিজের অধর অরির অধরের দিকে বাড়াল। ঠিক তখনই, যখন সে অরির অধরে নিজের অধর মেলাতে যাবে-পকেটে রাখা সারিমের মোবাইল ফোনটি সশব্দে বেজে উঠল!
মুহূর্তের মধ্যে দুজনেরই ধ্যান ভাঙল। এতক্ষণ কী ঘটছিল ভেবে অরি দ্রুত সারিমের কাছ থেকে সরে দাঁড়াল এবং নিজের শাড়িটা কিছুটা ঠিকঠাক করে নিল। সারিম ফোন হাতে নিয়ে দেখল-সিম কোম্পানির অনাকাঙ্ক্ষিত কল!

রাগে সারিমের মেজাজ চটে গেল। মনে মনে কলদাতা কোম্পানিকে শতখানেক গালি দিল সে; তার সমস্ত রোমান্সের বারোটা বাজিয়ে দিল এই বেয়াদপ কলটা! সারিম ফোনটা ঝটপট সাইলেন্ট মোডে রেখে নিঃশব্দে অরির দিকে ফিরে তাকাল।
তবে চোখ ফেরাতেই সে দেখল অরি আর ঘরে নেই। লজ্জায় রাঙা হয়ে মেয়েটা ততক্ষণে আবার বাইরে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সারিম ধীর পায়ে বারান্দায় গিয়ে অরির পাশে দাঁড়াল। অরি তাকে এত দ্রুত ফিরে আসতে দেখে হালকা একটু হেসে জিজ্ঞেস করল,
“আপনার ফোন এসেছিল না? এত দ্রুত কথা শেষ হয়ে গেল?”
সারিম বিরক্তির ভাবটা লুকিয়ে বলল,
“আরে না, কাস্টমার কেয়ারের ফালতু কল ছিল।”
অরি আলতো করে “ওহ” বলে আবার সামনের পাহাড় আর প্রপাতের দিকে নজর দিল। সারিমের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি তখনও অরির ওপর নিবদ্ধ। নিজের ঠোঁট দুটো সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে হঠাৎ মোলায়েম গলায় বলে উঠল,

“তোমাকে আজ ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে, চন্দ্রিমা।”
সারিমের মুখ থেকে এমন সহসা প্রশংসা শুনে অরির বুকের ভিতরটা যেন এক অচেনা শিহরণে কেঁপে উঠল। ভীষণ খুশির দোলা লাগার পাশাপাশি লজ্জায় তার দুগাল একদম লাল হয়ে গেল। অরির এই লজ্জারাঙা রূপ দেখে সারিম ঠোঁট চেপে একগাল হাসল। দুজনে আরও কিছুক্ষণ নীরবতা উপভোগ করে একসাথে ঝরনার ধারা দেখে ঘরের ভেতরে ফিরে এল।
সারিম আর দেরি না করে অরিকে সাথে নিয়ে রুমেই সকালের নাস্তাটা সেরে নিল। যদিও অরির একদমই খাওয়ার ইচ্ছে ছিল না, শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করছিল। কিন্তু সারিম কোনো অজুহাত শুনল না, একদম নিজ হাতে জোর করে তাকে খাইয়ে দিল।
তবে বিপত্তি ঘটল খাওয়ার শেষেই। পেটে খাবার পড়ার সাথে সাথেই প্রবল অস্বস্তি শুরু হলো অরির, আর পরক্ষণেই সে বাথরুমে গিয়ে একগাদা বমি করে দিল।

ঘটনাটি দেখে সারিম ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। দেশ ছাড়ার আগে অরিকে আরও একবার ডাক্তার না দেখিয়ে নিয়ে আসার আফসোস হতে লাগল তার মনে। মনে মনে ভেবে নিল, কাল অরিকে নিয়ে শহরের দিকে ঘুরতে বের হলে সুযোগ বুঝে ভালো কোনো গাইনোকোলজিস্টের কাছে নিয়ে যাবে।
বমি করার পর অরির শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছে। সে দুচোখ বুজে শান্ত হয়ে বিছানার হেলান দিয়ে শুয়ে রইল। তার ঠিক পাশেই বসে রইল সারিম। রুমে এসির সুব্যবস্থা নেই, পাহাড়ি আবহাওয়ার কারণে একটা সিলিং ফ্যানই ঘুরছে। সারিম ফ্যানের স্পিডটা বাড়িয়ে দিল যাতে বাতাস ভালো লাগে। তারপর অরির গায়ের নীল আঁচলটা আলতো হাতে কিছুটা সরিয়ে দিল, যাতে মেয়েটার অতিরিক্ত গরম না লাগে।
অরি ক্লান্তিতে দুহাতে সারিমের একটা বাহু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। সারিমও অরির কষ্ট বুঝতে পেরে পরম মমতায় একহাতে অরির মাথায় হালকা ম্যাসাজ করে দিতে লাগল, যাতে ধীরে ধীরে অরির একফালি শান্ত ঘুম চলে আসে।

ড্রয়িং রুমে মলিন মুখে বসে আছে জেবা। পুরো বাড়ি এখন একদম ফাঁকা। কিছুক্ষণ আগেই ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে ফুল বেরিয়ে পড়েছে গ্রামের উদ্দেশ্যে। জেবা তাকে অনেক করে থেকে যাওয়ার কথা বললে ফুল জানায় তার পড়াশোনার খুব ক্ষতি হচ্ছে, তাকে এখন ফিরতেই হবে। তবে যাওয়ার আগে আনতারা মৃধার ব্যাপারটা ফুল জেবাকে জানিয়ে যায়। সব শুনে জেবা ভিশন অবাকের পাশাপাশি খুশিও হয়েছে।
আরিশান মৃধার সাথে ফুলের কথা হয়েছে সকালে।আরিশান মৃধাও তাকে যেতে বলেছে। অগত্যা সে কারণে জেবাও তাকে আর জোর করেনি। থাকতে না চাইলে জোর করার কোনো মানেই সে দেখছে না।

সকাল সকাল আরিশান মৃধা কাজে চলে গেছেন তা শাহিন মিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে জেবা। এটাও জানতে পারে অরি আর সারিম ট্রিপে গিয়েছে। তাদেরও ফিরতে সময় লাগবে।জেবার অরির প্রতি একটু অভিমান হলো। এভাবে হুট করে তাকে না বলে,না দেখে,মেয়েটা চলে গেলো।অরির টেনশনে জেবার প্রায় মরিমরি অবস্থা হয়েছিলো।ভেবেছিলো কোথায় না কোথায় গিয়েছিলো মেয়েটা। তবে ফুলের কাছ থেকে সবকিছু শুনে ক্লিয়ার হলো।এটা একটা প্ল্যানের অংশ ছিলো।শাহিন মিয়াও কোনো এক জরুরি কাজে গ্রামে গিয়েছেন আজ, বলেছেন তার ফিরতে তিন-চারদিন সময় লাগবে।সব মিলিয়ে জেবাকে প্রায় একা বাড়ি ফেলে গেছে সবাই।আরিশান মৃধাও সারাদিন বাহিরে থাকে,রাতে বাড়ি ফিরে।তার থাকা আর না থাকাই সমান।

কাল রাতে জেবা আর আরিশান মৃধা কথা বলার ফাঁকে কখন যে বারান্দার সোফায় ঘুমিয়ে গেছে তা কারোই খেয়ালে ছিল না। তবে সকালে জেবা নিজেকে বেডে আবিষ্কার করে বুঝতে পারে আরিশান মৃধাই তাকে এনেছে। তবে লোকটার যাওয়ার আগে জেবাকে একবার বলে যাওয়ার দরকার ছিল। এখন বাজে রাত সাড়ে সাতটা, আর কিছুক্ষণ পর হয়তো বাড়ি ফিরবেন আরিশান মৃধা।
এরই মাঝে জেবা অনুভব করল তার প্রচুর রাগ হচ্ছে, কিন্তু কেন হচ্ছে সেটাই বুঝতে পারছে না। আড়চোখে একবার নিজের পেটের দিকে তাকায় জেবা-এখানে তার আর আরিশান মৃধার অংশ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। আলতো হাতে পেটে হাত বুলালো জেবা। মুহূর্তেই রাগী ভাবটা তার উড়ে গিয়ে সেখানে একরাশ সুখ এসে হানা দিল। জেবা মা হতে চলেছে এই ব্যাপারটা তাকে যতটা খুশি দিচ্ছে, বাবাকে হারানোর ব্যথাটা ভেতর থেকে ততটাই কষ্ট দিচ্ছে।
ইস, আজ যদি জেবার বাবা বেঁচে থাকতেন,সোলেমান শেখ নিশ্চয়ই এই বাচ্চার দিকে চেয়ে হলেও জেবা আর আরিশান মৃধাকে মেনে নিতেন! তবে আফসোস, ওই আনতারা মৃধা ক্রিমিনাল মহিলাটি তার বাবাকে বাঁচতে দিল না।

জেবা কিছুক্ষণ আগে নিউজ ফিডেও একই খবর দেখেছে। তার বাবার খুনি সহ অর্গান পাচারের ক্রিমিনালগুলো ধরা পড়েছে। সেখানে জেবা তার মায়ের অতীতের ব্যাপারেও জেনেছে। কেন যেন মায়ের ব্যাপারটাতে জেবার একটুও কষ্ট হলো না, শুধু একটা তাচ্ছিল্য জাগলো। যে মহিলা কখনো জেবা আর তার বাবার চিন্তা করেনি,তখন সেও ওই মহিলার কথা ভেবে কষ্ট পাবে না।
তবে ফুফুর সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়াতে খারাপ লাগছে জেবার। বুঝলো সাদমান ভাইয়ের সাথে বিয়ে না করে আরিশান মৃধাকে বিয়ে করায়।তার ফুফুর তার প্রতি এতো অনিহা। এরমধ্যে সেদিন ডিভোর্সটা হতে গিয়েও তাদের হলো না, এতে ভদ্রমহিলার দ্বিতীয় আশাটাও হয়তো ভেঙে গিয়েছে। সবকিছু ভেবে জেবা একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

সবকিছু না থেকেও যেন আরিশান মৃধাকে পেয়ে জীবনে জিতে গিয়েছে মেয়েটা। এতেই যেন খুশি জেবা। ছোট্ট এক জীবনে তার একটাই স্বপ্ন ছিল-তার হানির সাথে যেটুকু সময় আছে বেঁচে থাকবে। জেবা জানে আরিশান মৃধা আর তার বয়সের পার্থক্য অনেক, হয়তো আল্লাহ জানেন বাকিটা-
হয়তো জেবার অনেক আগেই উনি তাকে ছেড়েও চলে যেতে পারেন। তবুও জেবার কোনো আফসোস নেই, কারণ আরিশান মৃধা তাকে তার জীবনের বেস্ট গিফটটা দিয়ে গিয়েছেন, যে কিনা আরিশান মৃধা না থাকলেও তার শূন্যতা কিছুটা পূর্ণ করতে পারবে। হোক না সাময়িক সুখের সেটা।বাকি জীবনে অনেক কষ্ট পেলেও জেবা তাতেই খুশি।

এরই মাঝে বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। জেবা বুঝলো আরিশান মৃধা হয়তো ফিরেছেন। সে কারণে মেয়েটা নিজেকে একটু সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়ে বসলো, যাতে লোকটার নজর কাড়তে পারে। আরিশান মৃধা ফোনে কারো সাথে কথা বলতে বলতে ঢুকছিলেন। ড্রয়িং রুমে জেবাকে সঙ সেজে বসে থাকতে দেখে ওই অবস্থাতেই এগিয়ে আসেন। কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে জেবার হাত ধরে টেনে ওকে নিয়ে উপরে চলে আসেন। জেবাকে রুমে এনে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ফোনের অপর পাশের ব্যক্তির সাথে কথা বলে কল কেটে দিলেন।
নিজের কোটটা সহ ফোনটা খুলে খাটের উপর রেখে চলে যান ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে। লোকটা চলে যেতেই জেবা তাকালো ওনার ফোনের দিকে-কিছু ভালো লাগছে না তার। আরিশান মৃধার ফোনের পাসওয়ার্ড তার জানা। জেবা ফোন হাতে নিয়ে লক খুলে ফোনের ভেতরে প্রবেশ করলো। পুরো ফোন ঘেঁটে জেবা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ফাইলপত্রের কাগজ ছাড়া আর কিছুই পেল না। বিড়বিড় করে উঠলো জেবা,

“কত বোরিং পারসন! ফোনে নিজের একটা ছবিও রাখে না।”
অথচ এটা এতক্ষণে জেবার ফোন হলে বিভিন্ন স্টাইলে হাজার খানেক পিকচারে ভরিয়ে ফেলতো! আফসোস, ছবি তোলার জন্য তার কাছে এই মুহূর্তে ফোন নেই। এরই মাঝে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আরিশান মৃধা। জেবাকে তার ফোন ঘাটাঘাটি করতে দেখে কিছুই বলেন না, পাশ ফিরে বসে পড়েন নিজের ল্যাপটপ নিয়ে। জেবা তাকে দেখে দ্রুত এগিয়ে যায়। আরিশান মৃধার হাতের কবজি ধরে তার দিকে ফিরে বসে। আরিশান মৃধা তাকে দেখে ভ্রু কুঁচকালেন। জেবা বলল,
“আপনি আমাকে কাল বললেন না কেন এতকিছু ঘটে গেছে? জানেন আমি কতটা ভয়ে ছিলাম?”
আরিশান মৃধা বুঝলেন জেবা আনতারা মৃধার কথাই বলছে। ভাবলেন হয়তো শাহিনের কাছ থেকে জেনেছে। জিজ্ঞেস করলেন,

“ভয় পেয়েছিলে কেন?”
জেবা বলল,
“ভেবেছিলাম আপনি না আবার আমাকে ভুল বোঝেন।”
আরিশান মৃধা দুচোখে গভীর নজরে তাকালেন জেবার দিকে, বললেন,
“ভুল বোঝাবুঝির মতো কোনো কাজ করেছো নাকি?”
জেবা আমতা আমতা করে বলল,
“না মানে… আমি আনতারা মৃধাকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিলাম, সেজন্য আরকি।”
আরিশান মৃধা বললেন,
“ধাক্কা দেওয়ার রিজনটা তো তুমি আমাকে বলেছো। নিজের সেলফ বাঁচাতে আঘাত করাটা দোষের কিছু নয়, বরং এটা সকলেরই করা উচিত।”
জেবা মাথা নাড়ালো। আরিশান মৃধা আবার ল্যাপটপে নিজের কাজে মনোযোগ দিচ্ছিলেন, জেবা তখনই বলে উঠে,
“আপনার খারাপ লাগছে না?”
“কেন খারাপ লাগবে?”
জেবা বলল,

“আনতারা মৃধা এতটা জঘন্য টাইপের নারী ছিলেন, যাকে আপনি মনেপ্রাণে ভালোবাসেন।”
আরিশান মৃধা গম্ভীর মুখে বললেন,
“অপরাধী অপরাধের শাস্তি পাবে,এটাই আরিশান মৃধার রীতি।এখানে খারাপ লাগার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া ভালোবাসা চিরন্তন কাল কারো প্রতি কারো থাকে না, একসময় সেটা ফুরাবেই। যখন সে আমার সঙ্গী ছিল তখন আমি তাকে ভালোবাসতাম, কিন্তু এখন বাসি না।”
বাসি না শুনে যেন জেবা খুশি হলো, তবে পরমুহূর্তেই ‘ভালোবাসা চিরন্তন কাল থাকে না’ শুনে ঘোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলল,

“ভালোবাসা চিরন্তন কাল থাকে না এটা একটা মিথ্যা কথা! এই যে দেখুন, আমার আপনার প্রতি একফোঁটা ভালোবাসা কমছে না, উল্টো আরো বেড়ে চলেছে। আপনি এটা কেন মেনে নিচ্ছেন না, আসলে আপনি কখনোই আনতারা মৃধাকে ভালোবাসেননি-ওইটা আপনার মোহ ছিল।”
আরিশান মৃধা জেবার যুক্তি শুনে মনে মনে হাসলেন, বললেন,
“ভালোবাসা নিয়ে তোমার পিএইচডি করা দেখছি!”
জেবা মাথা নাড়ালো। আরিশান মৃধা কিছু বললেন না তাকে, আবার তিনি আগের মতো নিজের কাজে মনোযোগ দিলেন। আরিশান মৃধাকে আবার বিজি দেখে ভালো লাগলো না জেবার। আগের মতোই ওনার কবজিতে হাত চেপে ধরে ডাক দিল,

“শুনছেন?”
আরিশান মৃধা যেন কাজের ফাঁকেই আবার থেমে গেলেন। জেবার মুখে ‘শুনছেন’ ডাকটা ওনাকে অদ্ভুত রকমের একটা শিহরণ দিল। দুচোখ জেবার চোখে নিবদ্ধ হলো, কিন্তু জেবা সেসবে পাত্তা না দিয়ে বলল,
“আপনাকে কিছু বলার ছিল আমার।”
আরিশান মৃধা বললেন,
“বলো, কি বলবে?”
জেবা কিছুটা ভেবেচিন্তে ইতস্তত নিয়ে বলল,
“আমার ফোন লাগবে।”
আরিশান মৃধা বিছানার পাশ থেকে নিজের ফোনটা তুলে জেবার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তা দেখে অবাক হয়ে তাড়াহুড়া করে মানা করে বলল ,

“আরে, আমি আপনার ফোনের কথা বলছি না!”
“তাহলে কিসের কথা বলছো?”
জেবা মিনমিন করে বলল,
“আমার ফোনটা ভেঙে গেছে, আমার একটা ফোন দরকার।”
“দরকার নেই।”
জেবা মাথা তুলে তড়িৎভাবে চাইলো। দরকার নেই মানে? লোকটা তাকে ডাইরেক্ট মানা করে দিল! জেবার জানামতে এই লোকের টাকা-পয়সার অভাব নেই,যে কিনে দিতে পারবে না। আর দ্বিতীয়ত লোকটা কিপ্টে প্রজাতিরও নয়, বরং অরি থাকতে অরিকে দুহাত ভরে খরচ করাতো। তাহলে দরকার নেই কেন বলল? জেবা জিজ্ঞেস করলো,
“দরকার নেই মানে কি? আপনি আমাকে একটা ফোন কিনে দিতে পারবেন না?”
আরিশান মৃধা চোখের ইশারায় ‘না’ করে বললেন,

“ফোন দিয়ে তোমার কি কাজ বলো?”
জেবা বলল,
“ফোনে মানুষের কত কাজই তো থাকতে পারে, সেসব আমি আপনাকে কেন বলবো?”
আরিশান মৃধা বললেন,
“না বললে থাক, আমি জানার জন্য আগ্রহী না। কিছু দরকার পড়লে আমার ফোন ইউজ করবে।”
“বুঝেছি।”
আরিশান মৃধা শান্ত স্বরে বললেন,

“কি বুঝেছো?”
জেবা বলল,
“আপনার কাছে এই মুহূর্তে টাকা নেই।”
আরিশান মৃধা মাথা নেড়ে জানালেন।
“ঠিক ধরেছো, আমার পকেট শূন্য।”
জেবা অবাক হলো। সে তো জাস্ট লোকটাকে একটু বাজাতে বলেছিল, কিন্তু লোকটা উল্টো তার তীর তার দিকেই ছুড়লো!
“আপনি মিথ্যা কেন বলছেন? আপনার কাছে টাকা নেই? তাহলে এত বড় কোম্পানি থেকে যে টাকাগুলো আসে, ওইগুলো কি সারিম ভাই একা খায় নাকি? সত্যি করে বলুন তো, আপনি কত টাকার মালিক?”
আরিশান মৃধা বললেন,

“হিসেব করে দেখিনি কখনো।”
“করবেন কিভাবে, হিসেব করে শেষ করা গেলে তো করবেন! আচ্ছা,এত টাকা থাকতে,নিজের বউকে একটা ফোন কিনে দিতে,আপনার এত কি সমস্যা? আপনি তো দেখছি আসলেই অতিমাত্রার কিপ্টে লোক !”
আরিশান মৃধা কাজে মন রেখেই বললেন,
“যা ইচ্ছে ভাবো।”
“কি ভাববো? কিপ্টে লোক কোথাকার! একটা ফোন কিনে দিলে,কি এমন সমস্যা হয় ওনার?”
“সমস্যা আছে, বিরাট বড় সমস্যা সেটা।”
জেবা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“বলুন না প্লিজ, সমস্যাটা আসলে কি?”
আরিশান মৃধা জেবাকে একবার ভালোভাবে দেখে নিয়ে বললেন,
“তুমি আমার থেকে প্রাইভেসি চাচ্ছো, কারণ তুমি ধরা খাবে সেই ভয়ে।”
জেবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কি নিয়ে ধরা খাবো?”
“পরকীয়ায়।”
জেবার বিস্ময়ে দুচোখ বড় হয়ে গেল। লোকটা তাকে নিয়ে এসব বলবে বা ভাবে তা যেন মেয়েটার ঘুণাক্ষরেও ছিল না!
“আপনি আমাকে নিয়ে এসব ভাবেন?”
“না ভাবার কি আছে? আজ তোমার মন আমার দিকে থাকবে, কাল আবার অন্য পুরুষের কাছে যাবে না,এটার কি গ্যারান্টি?”
“তাহলে এসবের সাথে ওই ফোনের কি সম্পর্ক?”
আরিশান মৃধা বললেন,
“কারন ফোনের মাধ্যমেই তোমার সাথে তার পরিচয়টা হচ্ছে। সে কারণে ফোনটাই আসল কালপ্রিট।”
জেবা রাগ থেকে বলল,

“আপনার এমন কেন মনে হলো আমার সাথে তার ফোনেই পরিচয় হবে? হতেও তো পারে অন্য কোনোভাবে রাস্তাঘাটেও তার সাথে আমার পরিচয় হলো!”
আরিশান মৃধা মৃদু হেসে বললেন,
“হবে না।
“কেন?”জেবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
আরিশান মৃধা বললেন।
“কারণ তুমি বাড়ি থেকে বের হচ্ছো না। আমার অনুমতি ছাড়া তোমার বাড়ির বাইরে পা রাখা নিষেধ। কোথাও গেলে আমার সাথে বের হবে।”

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫২

আরিশান মৃধার কথাশুনে জেবা কিছুক্ষনের জন্য চুপ হয়ে গেলো। পরমুহুর্তে হঠাৎ কি যেন ভেবে মুচকি হাসলো। আরিশান মৃধা তার হাসির কারণ বুঝলেন না। জেবা হাসতে হাসতেই আরিশান মৃধার বুকে ঢলে পড়ে বলল,
“আপনি আমাকে নিয়ে কবে থেকে এতো জেলাস ফিল করছেন, হানি?”
থতমত খেলেন আরিশান মৃধা।

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫৪