Home উন্মাদনা উন্মাদনা পর্ব ১

উন্মাদনা পর্ব ১

উন্মাদনা পর্ব ১
কায়নাত খান কবিতা

ঢাকা মহানগরীর আদি অঞ্চলটিকে বলা হয় পুরান ঢাকা। বুড়ি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এক রাজকীয় আদি অঞ্চলটি হচ্ছে পুরান ঢাকা। ৪০০ বছরের ও বেশি পুরনো ঘিঞ্জি গলি, ঐতিহাসিক স্থাপত্যের পাশাপাশি পুরান ঢাকা ফেমাস আরো একটি জিনিসের জন্য! সিন্ডিকেট!
মূলত সিন্ডিকেট বলতে সহজ বাংলা ভাষায় বোঝায়, নিদিষ্ট কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, স্বার্থ হাসিল বা বড়ো কোনো প্রকল্পের বাস্তবয়নে একাধিক ব্যক্তি, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সংঘটিত একটি জোট।
তবে পুরান ঢাকার সিন্ডিকেট কী বলে? এটি কী আসলেই একাধিক কোনো ব্যক্তির জোটে চলে? নাকি এক ব্যক্তি বাকিদের নিজের আন্ডারে রেখে স্বার্থ হাসিল করে? এবং এর পিছনে কারা রয়েছে? অতীত কী বলে?
সময় টা ১৯৭২ সাল। মুক্তিযুদ্ধের পরের সময়। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে তীব্র খাদ্য সংকট এবং মানবিক বিপর্যের মুখোমুখি হয়েছিলো দেশ। খাদ্য সংকট মোকাবিলা করতে বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।সে সময় ত্রাণ সাহায্য আসে অনেক দেশ থেকে এর মধ্যে কিছু দূষকৃতি চক্র বাংলাদেশে নিয়ে আসে R’D’X.l ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন জর্জরিত পুরো দেশ, একটু খাবারের আশায় চাতক পাখির মতো অস্থির হয়ে ছিলো, ঠিক তখনই কিছু মানুষের লোভ লালসা আরো জাগ্রত হয় । শোনা যায়, ভারতে তখন কঠোর অভিযান চলছিলো। নিজেদের অ’স্ত্র-সস্ত্র রক্ষা করতে দুষ্টু চক্রের লোকেরা বাংলাদেশকে বেছে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশই কেন? এতো উন্নত দেশ থাকতে বাংলাদেশই কেন?
সহজ উত্তর হলো সময়! তখন সময় এতোটাই করুন ছিলো যে, কে কী করলো সে দিকে খেয়ালই ছিলো না কারো।যার সঠিক ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ।

R’D’X দেশে তো আনা হয়েছিলো, তবে কোথায় লুকানো হয়, সেটার খোঁজ আজ অব্দি কেউ করতে পারেনি।এরপর থেকে শুরু হয় এক ভয়ংকর খেলা। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা কোথায়? তারা কী চুপ ছিলো? প্রশাসনই বা কী করছিলো? এই বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ঘাটাঘাটির ফলে বেশ অনেক ন্যায় পুলিশ সদস্যকে খু:ন করা হয়েছিলো। কারণ উপর মহলের হাত ছিলো এই সিন্ডিকেটে। কিন্তু একটা ছোটো অঞ্চল নিয়ে এতো আগ্রহ কেন ছিলো উপর মহলের?
‘২০০২’
__হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা আজকে নতুন কিছু নয় সাহেব বাবু। কতদিন আঁটকে রাখবেন এই জা’নোয়ার গুলোকে?”

হাতে থাকা ফর্দটি বিছানায় রেখে স্ত্রীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে, প্রিয়তমার নরম তুল তুলে হাত দু_খানা শক্ত করে ধরে নিজের বুকে ঠেকালেন উসমান সাহেব। ১৯৯৭ সাল থেকে এই অব্দি সিন্ডিকেটের বেতাল বাদশা বলা হয় উসমান সাহেবকে। তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা বরাবরই সকলের আর্কষণের কেন্দ্র বিন্দু। সাথে ন্যায়পরায়ণ ভাব আর্দশের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত প্রতীক হিসেবে রয়েছে। কিন্তু একটি জায়গায় একজন আর্দশ লোক থাকবে, এবং তাকে উপরে পাঠানোর জন্য দুষ্ট চক্র থাকবে না, এটা কী আদোও সম্ভব?এই নিয়ে ছয় বার তার উপরে হামলা হয়। কিন্তু এই হামলার নৌপথ্যে কে বা কারা রয়েছে আজ অব্দি তিনি জানতে পারেন নি। যার ফলে নিজের জীবনের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানদের ও জীবন ঝুঁকিতে রেখেছেন তিনি। তবু ও তার ভয় নেই। কারণ তিনি মুসলিম। এটাই তার অহংকারের বিষয়।
উসমান সাহেব স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের হাত দুটোতে চুমু দিয়ে বললেন,__ আমি যদি চলে যায় গিন্নি। এরা একজন আরেক জনকে ছিঁড়ে খাবে।খু:ন, গুম, ধর্ষ’ণ বেড়ে যাবে। আল্লাহর বান্দা আমি। প্রাণ থাকা অবস্থায় তো এতো গুলো মানুষকে মর:তে দিতে পারি না।”
__আর আপনার কিছু হলে?”
__আল্লাহ আছে তো গিন্নি।”
__সাহেব বাবু…!”

দরোজায় জোরে করাঘাতে মুখের সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারেন না জান্নাত বেগম। এর আগেই তাদের সমস্ত ধ্যান চলে যায় দরজায়। দেয়ালে টাঙ্গানো ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে দেখেন রাত ১২ টা বেজে ২৭ মিনিট। এই সময় তাদের তো কোনো চাকর বাকরের ও বিরক্ত করার কথা নয়। কড়া নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। রাত ১০ টার পর নো-ডিস্টার্ব। তাহলে? উসমান সাহেব গিয়ে শয়ন কক্ষের দরজা খুলে দাঁড়ান। কাজের মেয়ে নুড়ি হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,__কর্তা চন্দ্র আর কৃষ্ণ আইছে। আবার পশ্চিম পাড়ার মালু জাত মুসলমান গো লগে লাগছে।”
নুড়ির কথা শুনে তাড়াহুড়ো করে আলনা থেকে একখানা পাঞ্জাবি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে গায়ে জড়ান উসমান সাহেব। কক্ষের দৌড়গড়ায় গিয়ে আবার ও পিছনে ফিরে বললেন,__চিন্তা করো না গিন্নি। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো।”
__কথা দিচ্ছেন তো সাহেব বাবু।”
__কথা দিলাম।”

‘ ২৫ বছর পর’
‘উন্মাদনা_পার্ট_অভী’
__নারী জাতি ভয়ংকরী! নারীর ফাঁদে পড়েছে যেন, নিঃস্ব হয়ে মরেছে সে জন।’
মুঠোফোন হাতে নিয়ে ফোন স্ক্রিনে নিজের সব থেকে অপছন্দীয় নারীটির অবয়ব দেখতে দেখতে কথা গুলো আওড়াতে থাকে অভী। গ্যারেজের ভ্যাপসা গরম আর পোড়া মবিলের গন্ধের মাঝে অভী ওরফে চাঁদ যেন এক চলন্ত আগ্নেয়গিরি। বয়স তার পঁচিশের কোঠায়, শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তারুণ্যের উদ্দামতা আর চোখেমুখে এক ধরণের থোড়াই কেয়ার ভাব।
মহল্লা এবং কালো দুনিয়ার লোকেরা তাকে চাঁদ বলে ডাকে ঠিকই, কিন্তু সেই চাঁদে জোছনার চেয়ে কলঙ্ক আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটই বেশি।

অভী চাঁদের নাম যতটা না ইউনিক, তার থেকে ও বেশি ইউনিক তার সাজসজ্জা। কুচকুচে কালো রঙের একটা ফিটিং শর্ট পাঞ্জাবি , যার ওপরের দুটো বোতাম বরাবরের মতোই আলগা করে রাখা। হাতের হাতা দুটো ভাঁজ করে কনুইয়ের ওপরে তোলা, যেন যেকোনো মুহূর্তে কারো কলার ধরার জন্য সে প্রস্তুত। কিন্তু সব থেকে আকর্ষনীয় বিষয় হলো তার পরনের সেই গাঢ় খয়েরি রঙের মুন্ডুটা। তবে অভী শুধু মুন্ডুতেই সীমাবদ্ধ নয়। সে জিন্স ও পড়ে টাইট ফিটিং।

বাঙালিরা সচরাচর যেভাবে লুঙ্গি পরে, অভী ঠিক সেভাবে পরে না। সে এটাকে কোমরে পেঁচিয়ে একপ্যাঁচে এমনভাবে পরে, যেটার ফলে সামনে একটা চমৎকার ভাঁজ পড়ে পায়ের কাছে গিয়ে মিশে থাকে। এই মুন্ডুটি তাকে সাধারণ বখাটেদের চেয়ে আলাদা করে এক ধরণের রাজকীয় ‘রাফ-অ্যান্ড-টাফ’ লুক এনে দেয় মুখশ্রীতে। পায়ে অভী সব সময় সিম্পল বেল্ট বিশিষ্ট জুতো এবং যখন জিন্স পরে তখন পরে সু-জুতো।অভী নিজের মাঝে লুক নিয়ে এতোটাই সৌখিন যে, তার মতো লুক ক্রিয়েট করা তেমন একটা সম্ভব হয় কারো। যেটা তার বিশেষ্যত্বকে বরাবরই সবার থেকে আলদা করে আনে।
​গ্যারেজের এক কোণে একটা আধভাঙা বাইকের ওপর হেলান দিয়ে ফোনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাখে অভী। চারপাশটা পুরনো লোহালক্কড় আর টায়ারে ঠাসা, সিলিংয়ের একটা টিমটিমে হলুদ বাল্ব তার মাথার ওপর দুলতে থাকে। সেই হলদেটে আলো আর ছায়ার খেলায় তার গায়ের তামাটে রঙটা আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে । উজ্জল শ্যামলার মাঝে তার ফেস কাটিং বরাবরই আর্কষণীয়।
অভীর সমস্ত ধ্যান এখন তার হাতের স্মার্টফোনটার দিকে। ফোনের স্ক্রিনের নীলচে আলোটা তার তীক্ষ্ণ নাক আর চিবুকের ওপর এসে পড়তে থাকে ।

​সে গভীর মনোযোগ দিয়ে ফোনে কার যেন আনন্দীর ছবি দেখতে থাকে । তার সেই চিরচেনা বখাটেপনা বা ঠোঁটের কোণের বাঁকা হাসিটা এখন গায়েব। বরং সেখানে জমাট বেঁধেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে অবহেলায় তার এক হাত দিয়ে শার্টের কলারটা একটু ঠিক করে নেয়, কিন্তু চোখ সরায় না। ওই স্থির চোখের দৃষ্টি আর পাথরের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবয়বটা দেখে বোঝা যায়, আজ তার অপছন্দীয় নারীটির কপালে দুঃখ রয়েছে।
প্রতিদিনের মতো ঠিক চারটে বেজে সাতচল্লিশ মিনিটে আনন্দীর উপস্থিত থাকার কথা অভীর গ্যারাজে। যেখানে তার প্রধান কাজ হলো অভীর সামনে পাথর মূর্তির ন্যায় দাড়িয়ে থাকা। অভী চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, এবং আনন্দী তার সামনে এক ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে থাকে। এটাই হলো তাদের রোজকার যোগাযোগের পরিনাম। তবে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে ও কিছু কড়া নির্দেশনা রয়েছে। এক বিন্দু পরিমাণের ও নড়াচড়া করা যাবে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যদি নড়াচড়া করা হয় তাহলে আবার ও রিপিট এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এটাই হলো চাঁদ ভাইয়ের নিয়ম। গত তিনটি বছর ধরে এই নিয়মটি চলে এসেছে। হয়তো আমৃত্যু ও চলে ও যাবে এই অদ্ভুত নিয়মটি।

অভী এক এক করে আনন্দীর আজকের ছবি গুলে দেখতে থাকে। কলেজের বাইরে নিজের ছেলে এবং মেয়ে বন্ধুর সাথে হেঁসে হেঁসে ফুসকা খাচ্ছিল আনন্দী।যেখানে তার অভীর গ্যারাজে ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকার কথা, সেখানে মনের সুখে ফুসকা খেতে থাকে সে। বিষয়টি মোটে ও পছন্দ হয়নি অভীর।
আনন্দী হয়তো ভেবেছিল একদিন লেট করে গেলে কী বা এমন যায় আসবে? তাই সে ফুসকা খেতে চলে যায়। অভীর কড়া নির্দেশ অমান্য করে। তাছাড়া এসময় কে অভীকে সত্যিটা বলবে? কেউ তো ছিলো না চারপাশে। কিন্তু অভীর what’s app এ ঠিক পাঁচটায় কিছু ছবি সেন্ড হয়, যেটা দেখার পর অভী নিজেই কিছু কথা নিজের সাথে আওড়ালো

,__নারী তুমি ধন্য, ঠকবাজির জন্য। জয় নারীর জয়। তাদের পাল্লায় পড়লে জীবন হইবো ক্ষয়।”
ছবি দেখতে দেখতে অভী হুট করে উপলব্ধি করে তার সব থেকে অপছন্দের রমনীটি এখন তার পিছনে দাড়িয়ে রয়েছে। অভী পিছন ফিরে চোখ থেকে চোশমা সরিয়ে মুন্ডটি একটু উপরে ধরে সামনে এসে দাড়ায় আনন্দীর। বরাবরের মতোই সামনের দুটো বোতাম খোলা। সেখান থেকে গোল্ডেন চেনটি চিকচিক করে নিজের চমক জানান দিচ্ছে। কানের হেডফোন খুলে উসকো খুসকো চুল গুলো ঠিক করতে করতে বলে,
__ছুটি হইছে কয়টাই?’
মাথা নিচু করে মিনমিন করে আনন্দী বলে,
__পা…পাঁচটাই।’
আনন্দীর কথা শেষ হতেই অভী তাকে অনুকরণ করে আওড়ায়,
_পাঁচটাই?’
আনন্দী একটু মাথা নেড়ে বলে,__হুম!’
আনন্দী মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। ঠোঁটের কোনে তৃর্যীক হাসি টেনে এনে অভী সামনে দিকে তাকিয়ে নোবেলর উদ্দেশ্য বলে,

__বাবা নোবেল?’
__জ্বী চাঁদ ভাই?’
__বান্দীর বাচ্চার ছুটি হইছে কয়টাই? ‘
নোবেল বিন্দুমাত্র দেরি না করে বলে, “চারটা পনেরোতে ভাই।”
এই একটুকু তথ্যেই পরিস্থিতি পুরো বদলে যায়। অভী ধীরে বলে, “চারটা পনেরো… আর এখন বাজে পাঁচটা বিশ…”
তারপর হঠাৎ করেই সামনে থাকা টেবিলে লাথি মা’রে অভী।ভয় পেয়ে দূরে সরে দাড়ায় আনন্দী। ভয়ে পুরো শরীর থরথর করে কম্পিত হতে থাকে তার।
__লেডিস দেইখা ভাবিস না, মা’ইর পড়তো না। একদম তক্তা বানাই ছাড়বো!’
আনন্দী থরথর করে কাঁপতে থাকে । তার হাত-পা অবশ হয়ে আসতে থাকে। তবু ও শক্তি সঞ্চার করে বলে,
__আমি আপনাকে ভয় পাই না।”
অভী হালকা হেঁসে সামনে আনন্দীর সামনে ফোন বের করে ধরে। এটাই হলো প্রতিদিনের নিয়ম। আনন্দী যখনই একটু সাহসী হতে যায়। তখনই অভী তার রূপ দেখায়।

__ বাপের কথা ভুলে গেছোস? মায়া-দয়া নাই বাপের উপরে?’
আনন্দীর চোখে অশ্রু স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই এক জায়গাতেই তারা আঁটকে গেছে। অভী এমন ভাবে তার বাবাকে ফাঁসিয়েছে, তারা কিছুতেই তার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না। বরং দিন দিন তার অত্যাচার আরো বেড়েই চলছে। থানা, পুলিশ, সোশ্যাল মিডিয়া কোনো কিছুই তাদের কাজে দিচ্ছে না। তার বিশেষ কারণ হচ্ছে দাদা সাহেব। আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেতাল বাদশা। যার হাত রয়েছে অভীর মাথার উপরে। যার ফলে পুরো ফেঁসে গেছে আনন্দী এবং তার পুরো পরিবার।
__অভী স্যার..!”
অভী দাঁত চেপে বলে,

__Don’t f**king shout..শেখের বেটি!! উপরের আকাশ ওই চাঁদের দখলে থাকলে ও নিচের মাটি এই চাঁদের দখলে। কথা ক্লিয়ার না-কি ভেজাল আছে?”
অভীর কথা শুনে উপস্থিত সকলে বলে, __একদম পানির মতো ক্লিয়ার ভাই।”
চোখ বন্ধ করে ফেলে আনন্দী। খুব জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে সে। অভী কী কোনো দিন ও তাকে মুক্তি দেবে না? এই বখাটে, উশৃংখল, রাগী লোকটার থেকে কী সে রেহায় পাবে না? এতো এতো প্রশ্ন মস্তিষ্ক জুড়ে বিচরণ করতে থাকে আনন্দীর। আনন্দী মাথা নিচু করে বলে,
__ভুল তো আমি..!”
__ভুল না রে শেখের বেটি! পাপ করছোস তুই! পাপ,, ?’
অভীর কর্কশ বানি শুনে বরাবরের মতোই শান্ত থাকে আনন্দী। প্রতিদিনই এসব শুনতে শুনতে সে এখন অভস্ত্য প্রায়। কিন্তু সব থেকে যে বিষয়টি অভীকে রাগিয়ে তোলে সেটা হচ্ছে আনন্দীর মুখে মুখে তর্ক করা। প্রতিবার প্রতিবাদি হয়ে ওঠা। যেটা মোটেই অভীর পছন্দ হয় না।!
অভী আনন্দীর মুখ বরাবর দাঁড়িয়ে বলে,__বড়দের মুখে তর্ক করে যে জন! অকালে রাস্তায় ম’রে পরে সে জন! কথা ক্লিয়ার না-কি ভেজাল আছে? ”

আনন্দী মাথা নেড়ে না বোঝায়। অর্থাৎ কথা একদম ক্লিয়ার। অভী ইশারা করতেই তার সাঙ্গপাঙ্গের মধ্যে একজন চেয়ার নিয়ে আসে, খুব আরাম করে তাতে বসে পরে অভী।
__এই শেখের বেটি। আজকে তিন ঘন্টা দাঁড়াই থাকবি। না-হলে খবর আছে তোর আর তোর বাপের ও।”
আনন্দী কোনো কথা না বলে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে, প্রতিদিন দু-ঘন্টা করে অভীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাকে। তবে আজ দু-ঘন্টা নয়। তিন ঘন্টা। পুরো তিন ঘন্টা তাকে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দেয় অভী।
পাক্কা তিন ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে থেকে পা একদম শেষ হয়ে যায় আনন্দীর। অভী ইশারা করে কয়েকজন মহিলাকে ডাকে। বয়স্ক মিলারা এসে আনন্দীকে ধরে নিয়ে যেতে থাকে।

অভী দাঁড়িয়ে , ধোঁয়া ছাড়তে থাকে।এক দৃষ্টিতে আনন্দীর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন আবার ও খপ করে ধরার ধান্দায় রয়েছে সে।
__বাপ কেস করে। বেটি তর্ক করে। দুইটাই সাংঘাতিক মা’ল।”

উন্মাদনা পর্ব ২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here