উন্মাদনা পর্ব ৩
কায়নাত খান কবিতা
তোর শরীরে কোন পরিবর্তন হইছে এটাই একটু দেখতে হইবো আমার!”
হাতের বাঁধন যতটা শক্ত করলে এক বিন্দু পরিমাণের ও নিজেকে ছাড়ানোর উপায় থাকে না। ঠিক ততটা শক্ত করে আনন্দীর হাত ধরে টানতে থাকে অভী। যেন সে কোনো মানুষ নয়। স্রেফ একটা জড়বস্তু। অভীর গতির সাথে তাল মেলানো অসম্ভব হয়ে পরে আনন্দীর।তার উপরে শাড়ি। বেশ হিমশিম পোহাতে হয় তাকে।আকাঁ বাঁকা রাস্তায় ঠিক মতো হাঁটতে না পেরে মাটিতে পরে যায় আনন্দী। অভী এতে ও প্রচন্ড ক্ষেপে যায়। সে আনন্দীকে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে।
বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় আনন্দী। এখন অন্ততঃ কেউ যদি দেখে এবং পুরো বিষয়টা নেটে আপলোড করে। তাহলে তো আনন্দী বেঁচে যাবে। পুলিশ কেস নিয়ে ও আসামি ছেড়ে দিচ্ছে, আনন্দী যতবার ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গেছে ততবারই আইডি ডিজাবেল করা হয়েছে। তার বাবাকে রিনে জড়ানো হয়েছে এসব কিছু সহজেই সকলে জানতে পারবে। কিন্তু আনন্দীর ভাগ্য বরাবরের মতোই তার সহায় নয়। কেউ নেই চারপাশে।
অভী আনন্দীকে সোজা গাড়িতে ছুরে মারে তাকে।তারপর পাশের সিটে সে ও উঠে বসে। দু-হাতে আনন্দীর পুরো শাড়ি খু’লতে থাকে।
“দেখি তো দুই দিনে কোন পরিবর্তন আসছে তোর শরীরে।”
আনন্দী নিজের হাত পা চালানো শুরু করে।কিন্তু অভী নিজের কাজে অনড়। সে আনন্দীর পুরো শাড়িটাই খুলে ফেলতে সক্ষম হয়। আনন্দী তবু ও থামে না। অভীকে দূরে ঠেলতে থাকে।
‘নড়িস না বা’ন্দীর বাচ্চা। দেখতে দে।”
গাড়ির ভেতরটা অস্বাভাবিকভাবে নিঃশব্দ হয়ে ওঠে। বাইরের কোলাহল, মানুষের কথা, কাশফুলের নরম দোল—সব যেন দরজার ওপাশেই থেমে গেছে।ভেতরে কেবল আটকে আছে ভারী এক নীরবতাযেটা ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে কষ্ট করে তোলে।
আনন্দী গুটিসুটি হয়ে বসে থাকে সিটের এক কোণে।নিজেকে যতটা সম্ভব ছোট করে ফেলতে চাইছে সে—যেন এভাবেই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারবে।
তার দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে নিজের শরীরের চারপাশে, আঙুলগুলো কাঁপতে থাকে হালকা করে।চোখদুটো নিচু, কিন্তু স্থির নয়
বারবার কেঁপে উঠে, যেন চোখ তুলে তাকানোর সাহসটাই হারিয়ে ফেলেছে সে।
তার পাশের সিটেই বসে আরামে সিগারের ধোঁয়া উড়াতে থাকে অভী।এতটাই কাছে, যেন দু’জনের মাঝখানের দূরত্বটা আর আলাদা করে বোঝা যায় না।শুধু অনুভব করা যায়। জ্বলন্ত সিগারের
ধোঁয়াটা ধীরে ধীরে তার ঠোঁট থেকে বের হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
আর সেই ধোঁয়ার গন্ধ পুরো গাড়ির ভেতর ছড়িয়ে পড়ে একটা ভারী, অস্বস্তিকর আবহ তৈরি করছে।
যেন সময়টাকে ইচ্ছা করেই লম্বা করছে সে।
__তোরে তো কইছিলাম! তোর জীবনটা তেজপাতা বানাই ছাড়বো। তারপর ও উড়তে যাস কেন মেয়ে? ভয় ডর নাই তোর?’’
অভীর সিগারের গন্ধে গা গুলিয়ে আসে আনন্দীর। ছিঃ কী বিশ্রী গন্ধ সেটার। মুখে হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে নিজের। অভী হালকা হেঁসে আনন্দীর কোমর ধরে নিজের খুব কাছে নিয়ে নেয়। তারপর মুখ থেকে হাত সরিয়ে মুখে থাকা সিগারের ধোঁয়া কুন্ডলি গুলো আনন্দীর মুখে দিয়ে দেয়। চোখ বড় বড় হয়ে যায় আনন্দীর। এটা রিতীমত কি’স ছিলো। কিন্তু ডিফরেন্ট স্টাইলে। অভী আনন্দীর কোমর জাপ্টে ধরে তার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিজের মুখে থাকা সিগারের ধোঁয়া আনন্দীর মুখে ছেড়ে দেয়। আনন্দী দু-হাতে অভীকে সরাতে গেলে ও পারে না। ধোঁয়ার এমন বিশ্রী গন্ধে আনন্দীর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে। অভী তবু ও আনন্দীর ঠোঁট ছাড়ে না। কারণ আনন্দী কষ্ট পাচ্ছে। আর অভীর একমাত্র শান্তির কাজ হলো আনন্দীকে পরম যত্নে কষ্ট দেওয়া।
বেশ কিছু ক্ষণ পর অভী আনন্দীকে ছেড়ে দেয়।
___দাঁত ঠিক মতো ব্রাশ করিস বা’ন্দীর বাচ্চা। নে’শা করি আমি আর মুখ গন্ধ তোর।”
অভী সামনে থাকা পানির বোতল নিয়ে বেরিয়ে পরে।
__শাড়ি টারি জলদি পর। না-হলে মানুষ ভাববো তোর লগে আকাম করছি। শরীরের নাই কিছু, সে আবার ঘুরে বেডা মাইনষের পিছু।”
সজোরে গাড়ির দরজা লাগিয়ে কুলি করতে থাকে অভী। প্রথম বার কি’স করলো তাও মুখে গন্ধ ওয়ালা মেয়ে। প্রথম কি’সই বৃথা তার।
__বা’ন্দীর মুখ তো না। যেন ময়লার ডাস্টবিন। এর থেকে ভালো তিন-চার চ’ড় মা’রলেই পারতাম!”
অভী খুব আফসোস করতে থাকে। একটা পিচ্চি মেয়ে যাকে শাস্তি দিতে গিয়ে উল্টো নিজের ক্ষতি করলো অভী।
অভীকে গাড়ি থেকে বেরোতে দেখে তার লোকেরা তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু বেশি কাছে আসার আগেই অভী হাত দিয়ে নিষেধ করে।
__ভাই?”
__দূরে থাক বেডা। এখানে আইলে সমস্যা।”
শফিক ফোন বরে করে অভীকে কল দেয়। অভী ফোন ধরার সাথে সাথে কালু তার থেকে ফোন কেড়ে নেয়। হড়বড়িয়ে বলে,
__ ভাই কী হয়েছে? কাছে আইতে দেন না ক্যালা?”
__ছেমড়ির বস্ত্র হ’রন করছি আমি। আগে শরীর ঢা’কুক তারপর আয়।”
অভীর কাটকাট কথা শুনে সকলে চুপসে যায়। একজন আরেক জনের মুখের দিকে তাকায়।অভী কী তাহলে হাল খাতাতে নাম লেখিয়ে ছাড়লো?
বেশ কিছু ক্ষণ পর অভী উকু দিয়ে দেখে আনন্দী চুপচাপ বসে রয়েছে। চোখ দিয়ে এখন ও পানি গড়িয়ে পড়ছে। বেশ বিরক্ত হয় অভী।
__এমন ভাবে কানতাছোস যেন তোর ব’স্ত্র না! ই’জ্জত হরণ করছি। নাটকের শেষ নাই।”
অভী আনন্দীর পাশে গিয়ে বসে। তারপর লোকদের ইশারা করে। ইশারা করতেই সকলে এসে হাজির হয়। ড্রাইভিং সিটে তার বিশ্বস্ত লোক আনাস এসে বসে পরে। এবং বাকিরা বাইকে। তারপর গাড়ি ছুটতে থাকে আনন্দীদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
পুরোটা রাস্তা জুড়ে অভী কড়া দৃষ্টি রাখে আনন্দীর উপরে।এবং আনন্দী চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে থাকে।বাড়ি কখন আসবে এটাই তার মনে চলছিলো।
বেশ কিছু ক্ষণ পর আনন্দীদের বাড়ির রাস্তায় চলে আসে অভীর গাড়ি। একটু দূরে গাড়ি দাড় করায় অভী।
__তুই নামবি? না-কি কোলে করে দিয়ে আসবো?”
উন্মাদনা পর্ব ২
হুট করে যেন ধ্যান ভাঙে আনন্দীর।সে তাকিয়ে দেখে বাড়ি চলে এসেছে। কোনো রকম নিচে নামতেই সামনের দিকের কয়েকটা শাড়ির কুঁচি খুলে যায় তার। হাত দিয়ে চেপে ধরে আনন্দী তার পেট। তৎক্ষনাৎ নিজের পেটে অন্য কারো হাতের স্পষ্ট অনুভব করে সে। ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে আনন্দী অভীকে দেখে। অভী নেমে আশেপাশে ভালো ভাবে তাকিয়ে আনন্দীর খুলে যাওয়া কুঁচি গুলো আবার ও সুন্দর করে কুঁচি দিয়ে গুঁজে দেয়। হঠাৎ করে অভী কুঁচি গুঁজে দেওয়াতে তার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আনন্দী।
অভী এক ঝাটকা মেরে আনন্দীর হাত সরিয়ে দিয়ে পুরো কুঁচি গুঁজে দেয়।
__যা বাড়ি যা! দুই দিনের ছেড়ি শরীরে নাই কিছু। হেতি আবার শরম পায়। যাহ সরর!”
