এক দেখায় পর্ব ১২
সুরভী আক্তার
খাটের পাশে হেলান চেয়ারে মাথা এলিয়ে চোখ বুজে বসে আছে রাফি । তখন মিহির হাত থেকে পানির বোতল পড়ে যাওয়ার শব্দে এই ঘরে এসেছিলো সে । তবে ঘরে এসে মিহিকে দেখবে, এটা কল্পনাতেও ছিল না ওর । এমনিতেও এই ঘরে সবাই আসে না । ঘরে আসার পর রাফির সাথে মিহির তেমন কথা হয়নি ।
রাফি ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায় সিলিংয়ের দিকে । এক ধ্যানে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে একই ভঙ্গিতে । এরপর উঠে দুহাতে হাঁটুতে ভর দিয়ে একটু হেলে বসে । দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সামনের খাটের উপর । মিহি আধশোয়া হয়ে অতি যত্নে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মহিলাটির । নিজের পুতুলটিকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো গুটি শুটি হয়ে শুয়ে আছেন মহিলাটি । অনেক বোঝানোর পর এবার একটু ঘুমিয়েছেন তিনি । মিহি স্নিগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত মহিলাটির দিকে,,এই মহিলাটির করা প্রত্যেকটা স্পর্শ মিহির হৃদয়কে নাড়িয়ে দিচ্ছে ।
এই বাড়িতে এই মহিলাটি কে মিহি আগে কখনো দেখেনি,, মিহির মনে হাজারো প্রশ্ন আছে এই মহিলাটিকে ঘিরে । চোখে একরাশ প্রশ্ন নিয়ে মিহি তাকায় রাফির দিকে । রাফি উঠে ঘরের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় । মিহি আরো একবার মহিলাটিকে দেখে ধীর পায়ে নিঃশব্দে গিয়ে দাঁড়ায় রাফির পাশে ।
বুকে দুহাত গুজে রাফি তাকিয়ে আছে শূন্যের দিকে । ব্যালকনির গ্রিল ভেদ করে আসা মৃদু হাওয়ায় মিহির পুরো শরীর শিহরিত হয়ে উঠে । কেঁপে ওঠে সে । অথচ এই ঠান্ডাতেও রাফির গায়ে একটা পাতলা ফুলহাতা টিশার্ট ছাড়া আর কিছু নেই । মিহি ভ্রু কুঁচকে তাকায় রাফির দিকে । এর আগে সে রাফিকে এতো মনমরা হয়ে থাকতে দেখে নি । মিহি মৃদু কন্ঠে মাথা নামিয়ে বলে…
” Sorry,, আমার হয়তো এখানে আসা উচিত হয়নি ।
রাফি তাকায় মিহির দিকে । এবারের তাকানোতে রাফির চোখে কোন অনুভূতি ছিল না । রাফি নির্বিকার ভঙ্গিতে চোখ ফিরিয়ে আবারো তাকায় শূন্য আকাশের দিকে ।
মিহি বলে….
” কে উনি..? ওনাকে তো আগে কখনো দেখেনি ।
” উনি মেহজাবিনের মা । আর আমাদের মামনি ।
মিহি চমকে তাকায় রাফির দিকে ।
রাফি আবারো বলে…
” ঠিক শুনেছেন । উনি মেহজাবিনের মা । এই বাড়ির মেঝ কর্তী – রাবেয়া চৌধুরী ।
” ওনার এই অবস্থা কেনো ..? কি হয়েছে ওনার..?
মিহির কন্ঠে ব্যাকুলতা । রাফি বলে…
” ওনি মানসিক ভাবে অসুস্থ । দেখে বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই..?
” কিন্তু ওনার এই অবস্থা কি করে হলো..?
” ওনার এই অবস্থা আজ থেকে নয় ,, ১৫ বছর আগে থেকে । ১৫ বছর আগে একটা এক্সিডেন্টে স্বামী আর সন্তানকে হারিয়ে ওনার এই অবস্থা হয় । সেই দিনের সেই এক্সিডেন্টে আমার মেঝো চাচা শরীফ চৌধুরী আর তার ২ বছরের ছোট্ট মেয়ে মিফতাহুল – দুজনেই মারা যায় । মামনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় । কিন্তু স্বামী সন্তানকে হারানোর শোক সহ্য করতে পারেন নি তিনি ,, ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন । অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি ।
কথা গুলো বলতে গিয়ে রাফির গলা কেঁপে ওঠে । চোখ ভিজে আসে তার । এদিকে মিহিও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । এতো সুন্দর একটা হাসিখুশি পরিবারে যে এতো বড় একটা ঘটনা ঘটেছিল তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় মিহির । মিহি অনেক সময় মেহজাবিনকে লক্ষ্য করেছে,, মেয়েটা কেমন মনমরা হয়ে থাকে অনেক সময় । বাবা আর বোনকে হারিয়েছে ছোট বেলায়,,মা থাকতেও মাকে কাছে পায়নি সে । মেহজাবিনের কষ্ট অনুভব হতেই মিহির বুকটা মুচড়ে ওঠে । সে কি কখনো পারবে, তার মা-বাবাকে ছাড়া থাকতে..? না পারবে না, কিছুতেই পারবে না ।
রাফির চোখের কোনে পানি দেখে মিহি কাঁপা কাঁপা গলায় রাফিকে বলে…
” আপনার চোখে পানি..?
” জানেন,,মিফতাহুল না অনেক ছোট ছিল । রুহির থেকে ১৪ দিনের ছোট ছিল ও । কতো কিউট একটা বাচ্চা ছিল, পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখতো দু’জনে । সবে ছোট ছোট গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বেড়াতো । কিন্তু সেই দিনের পর…
আর সবচেয়ে বড় বিষয় কি জানেন,, ওর লাশটাও আমরা খুঁজে পাইনি । মেঝো বাবার লাশ খুঁজে পেয়েছিলাম, কিন্তু ওর লাশ পাই নি ।
মিহি কি বলবে বুঝতে পারে না । চোখের ঘন পাপড়ি ছাপিয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে ওর । আরো কিছুক্ষণ নীরবে দুজন দাঁড়িয়ে থাকে ব্যালকনিতে । কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোরের আলো ফুটবে । রাফি চোখ বন্ধ করে একটা বড় শ্বাস নিয়ে বলে…
” ঘরে যান । আর এতো রাতে বাইরেই বা এসেছিলেন কেনো..?
মিহি গলা খাদে নামিয়ে জবাব দেয়…
” ঐ ,,, ঘরে পানি ছিল না,, তাই । আর মাথাটাও ভীষণ ব্যথা করছিল, মেডিসিন খেতে হতো,,তাই পানি নেওয়ার জন্য নিচে গিয়েছিলাম । আর উপরে উঠতেই ওনার কন্ঠ শুনতে পাই…..
” এখন ঠিক আছেন..? মাথা ব্যাথা কমেছে..?
” হুম…
মাথা নিচু করে ছোট্ট জবাব দেয় মিহি । রাফি বলে…
” আপনার সাহস আছে দেখছি । এতো রাতে,,, এভাবে,,,ভয় করলো না আপনার…?
” উহুমম…..আমি অনেক সাহসী ।
রাফি একটু হাসে । মোলায়েম কন্ঠে বলে..
” যান ,,এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন । ঘুমানো প্রয়োজন, নয়তো মাথা ব্যাথা বেড়ে যাবে ।
মিহি বাধ্যের মতো ঘর থেকে বেরিয়ে আসে । আসার পুর্বে আরো কয়েক পলক দেখে নেয় রাবেয়া চৌধুরী কে । কি সুন্দর জড়োসড়ো হয়ে পুতুলটিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছেন তিনি ।
মিহি ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পরেও রাফি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ব্যালকনিতে ।
পরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রুহিকে রাতের সব ঘটনা খুলে বলে মিহি । দুজনেই কফির মগ হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে আছে ।
রুহি শ্বাস ছেড়ে বলে…
” মামনির ঘরে আমরা তেমন যাই না । অনেক সময় উনি আমাদের, এমনকি মেহজাবিন আপুকে দেখলেও রেগে যান । ওনাকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে । এই বাড়িতে ভাইয়া ছাড়া মামনিকে কেউ সামলাতে পারেনা । বাইরের কাউকে তো উনি সহ্যই করতে পারেনা ।
” তাহলে আমাকে কালকে কিছু বলল না কেনো ?
” কি জানি । তবে হ্যাঁ,,এই বাড়িতে ভাইয়া ছাড়া ঐ ঘরে আর তেমন কেউ যায় না ।
জানিস,, ঐ এক্সিডেন্টে মিফতাহুল এর মৃত্যুর পর ভাইয়া আমাকে আর কখনো একা ছাড়নি । সবসময় আমাকে আগলে রেখেছে । ভাইয়া হয়তো ভয় পায় যদি আমিও কখনো…!
তৎক্ষণাৎ রুহির মুখ চেপে ধরে মিহি…
” চুপ,,এসব কথা একদম মুখে আনবি না ।
রুহি হাসে…মুখ থেকে মিহির হাতটা সরিয়ে,, দুহাতের মুঠোয় নেয় মিহির হাতটা…. শীতল কন্ঠে বলে..
” আমার ভাইয়া অনেক ভালো রে Pakhi । আমার সব ছোট বড় আবদার সবসময় পূরন করেছে ,, আমাকে সবসময় সাপোর্ট করেছে । আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমার ভাইয়া । আমি যদি কোন দিন জীবনে সফলতা পাই, তাহলে সেই সফলতার গল্পের সেরা হবে আমার ভাইয়া । আমি চাই — ভাইয়া যা চায়, যাকে চায় , তাকেই যেন পায় । সাগর পরিমাণ সুখ আসুক আমার ভাইয়ার জীবনে ।স্রোতের মতো সফলতা আসুক । আমার ভাইয়ার জীবনে উত্তম কেউ আসুক । যে ভাইয়াকে ভাইয়ার মতো করেই আগলে রাখবে ,, ভাইয়ার মতো করেই ভালোবাসবে । জীবনে কোন দুঃখের ছায়াও যেন স্পর্শ করতে না পারে আমার ভাইয়াকে ।
ভাইয়াকে নিয়ে রুহির মুখে এমন কথা শুনে আপনা আপনি মিহির ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
সকালের Break fast এর সময় রাফির মুখোমুখি হয়েছিল মিহি । এরপর আর দেখা হয় নি । তাড়াহুড়ো করে Break fast করে রাফি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে । বিকেলে বাড়ি ফেরার আগে মিহি একবার গেছিলো রাবেয়া চৌধুরীর ঘরে । রাবেয়া চৌধুরীর সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছে সে ,, সাথে রুহি আর মেহজাবিন ও ছিল । রাবেয়া চৌধুরী মেহজাবিন কে চিনতে পারে নি । অনেক দিন পর মাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছে মেহজাবিন । রাবেয়া চৌধুরী শুধু অবাক নয়নে চেয়ে ছিলেন মেহজাবিনের দিকে ।
এরপর বিকেল হতেই ড্রাইভার মিহিকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় । মিহির সাথে আর দেখা হয় নি রাফির ।
মিহি বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়েই নিচে নেমেছে । নিচে নামার পর থেকেই আব্বুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে সোফায় । আজমাল হোসেন একহাতে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ,, এবং একই সাথে টিভিতে নিউজ দেখছেন তিনি । মাঝে মাঝে টিভি থেকে চোখ সরিয়ে মিহিকে দেখছেন । এসেছে থেকে মিহি কেমন মনমরা হয়ে আছে । একটাও বাড়তি কথা বলছে না । এক ধ্যানে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে মিহি । আজমাল হোসেনের কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ পড়ে মেয়ের ব্যবহারে । তিনি অন্য হাতে রিমোট দিয়ে টিভি অফ করে দেন । এবার পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন মেয়ের দিকে । শান্ত গলায় বলেন…
” কি হয়েছে আম্মু..? এসেছো থেকে দেখছি কেমন মনমরা হয়ে আছো ,, কথাও বলছো না । কি হয়েছে তোমার..? কেউ কিছু বলেছে..?
মিহি সিলিংয়ের দিকে তাকিয়েই বলে…
” আচ্ছা আব্বু,,, প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই একটা না একটা কষ্ট থাকে, তাই না..?
মেয়ের কথায় আজমাল হোসেন খানিক চমকান । তিনি উত্তর দিতে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন । কিছুক্ষণ সময় নিয়ে তিনি বলেন…
” সবার জীবনেই কষ্ট থাকে মা । কেউ সেই কষ্ট প্রকাশ করে, আর কেউ মনের ভিতর লুকিয়ে রাখে । কেউ হারানোর কষ্ট পায়, আর কেউ না পাওয়ার কষ্ট পায় । কেউ চেয়েও পায় না, আর কেউ পেয়েও হারায় ।
” প্রিয়জন হারানোর কষ্ট অনেক গভীর হয় ,,তাই না আব্বু ..?
” হুম… ভারি একটা শ্বাস ফেলে বলেন আজমাল হোসেন ।
” জানো আব্বু,,রুহিদের পরিবারটা না অনেক সুন্দর । কি সুন্দর সবাই মিলে একসাথে,একই ছাদের তলায় থাকে । কিন্তু ওদের এই সুন্দর পরিবারে যে এমন একটা ঘটনা আছে….
” কেনো, কি হয়েছে..?
সাবিনা বেগমও এবার পাশে বসেন মেয়ের । দুজনে অধির আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে ।
মিহি বলে..
” জানো,, ১৫ বছর আগে রুহির মেঝো চাচা একটা এক্সিডেন্টে মারা যান । আর ঐ এক্সিডেন্টে তার সাথে তার ২ বছরের একটা মেয়েও মারা যায় । মেয়েটার লাশও খুঁজে পায়নি তারা ।
আজমাল হোসেন আর সাবিনা বেগম একে অপরের দিকে তৎক্ষণাৎ তাকান । সাবিনা বেগম জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন…
মিহি বলে…
” ঐ এক্সিডেন্টে বেঁচে যায় রুহির মেঝো চাচী । কিন্তু তিনিও এখন মানসিক রোগী ।
জানো আম্মু,,কাল আমি যখন ওনার ঘরে গেছিলাম, তখন উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলেন । কি সুন্দর করে চেয়ে ছিলেন আমার দিকে । ওনার গায়ে না কেমন তোমার মতো মা মা গন্ধ আছে,জানো ।
সাবিনা বেগম একটা ঢোক গিলে বলেন…
” মা তো মা’ই হয়,,, মায়ের গায়ে তো মা মা গন্ধ থাকবেই । উনিও তো একজন মা । তোর না হোক,অন্য কারোর মা তো উনি ।
মিহি আনমনে বলে…
” ওদের মতো আমাদেরও একটা সুন্দর যৌথ পরিবার হলে খারাপ হতো না,,তাইনা আব্বু ..?
আজমাল হোসেন নিশ্চুপ থাকেন । কথাটা বলে মিহি আপন মনে উঠে চলে যায় নিজের ঘরে ।
সাবিনা বেগম হাত মুষ্টি করে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছেন । আজমাল হোসেন তাকে সুক্ষ্ম চোখে দেখে নেন । সাবিনা বেগম কোন কিছু নিয়ে ভয় পাচ্ছেন,,আর তার ভয়ের কারণটা আজমাল হোসেন খুব ভালো করেই জানেন ।
দেখতে দেখতে দিন কাটছে । মাঝে কেটে গেছে অনেক দিন । ধীরে ধীরে পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে । আজকাল পড়াশোনায় বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মিহি । দু’মাস পর ফাইনাল এক্সাম । এর মাঝেই আবার রয়েছে মেহজাবিনের বিয়ে । বিয়ের আর মাত্র ৩ দিন বাকি ।
রুহি বারবার পই পই করে মিহিকে বিয়ের এক সপ্তাহ আগে চৌধুরী বাড়িতে আসতে বলেছিল । মিহি ওর একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড,,আর ওর বোনের বিয়েতে মিহি এক সপ্তাহ আগে আসবে না তা কি করে হয় ।
কিন্তু বিয়ের আর তিন দিন বাকি,, মিহি এখনো যায়নি বিয়েতে ,,সে রুহির কথা রাখেনি । রাখবেই বা কি করে..? মিহি তো যেতে চেয়েছিল কিন্তু সাবিনা বেগম যেতে দেয়নি ওকে । তিনি কিছুতেই এক সপ্তাহ মেয়েকে দুরে রাখতে রাজি নন । তাই মিহি যেতে পারে নি ।
ওদিকে রুহি ফুলে বোম হয়ে আছে,, দু’দিন ধরে কথা বলনি মিহির সাথে । ফোন করলে ফোনও রিসিভ করে নি । মেসেজের রিপ্লাই ও দেয় নি ।
আজ সাবিনা বেগমের অনুমতি পেয়ে মিহি এসেছে চৌধুরী বাড়িতে । চৌধুরী বাড়ি নতুন করে সাজানো হচ্ছে,, বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা । কোন দিক থেকে কোন কমতি থাকবে না । বিয়ের সমস্ত অনুষ্ঠান বাড়িতেই করা হবে । চৌধুরী বাড়ির বিশাল গার্ডেন এরিয়া কোন কমিউনিটি সেন্টারের থেকে কম নয় । তিন দিন পর বিয়ে,,কাল সংগীত,, পরের দিন হলুদ এবং মেহেন্দি ,, আর তার পরের দিন বিয়ে । সংগীতের জন্য একরকম ভাবে সাজানো হচ্ছে পুরো বাড়ি । বাড়ির চারপাশে ডেকরেশনের লোকরা নিজেদের কাজ করছে । মিহি গার্ডেন পেরিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকে । পেছনে ডেকোরেশনের একটা ছেলে মিহির ব্যাগ নিয়ে আসছে । ব্যাগটা একটু ভারি ছিল,, গেটের কাছে দারোয়ান চাচা ডেকোরেশনের ছেলেটাকে ডেকে বলেছে,ব্যাগটা ভেতরে পৌঁছে দেয়ার জন্য ।
মিহি বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই একসাথে অনেক’কে দেখতে পায় ড্রইং রুমে । এখনো সব আত্নীয় স্বজন আসেনি,, টুকটাক এসেছে । তাতেই বাড়ি ভর্তি । ড্রইং রুমের কয়েক জোড়া চোখ তাকিয়ে আছে মিহির দিকে , এতে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায় মিহি । মিহিকে দেখে হালিমা বেগম মুচকে এগিয়ে আসেন । হেনা বেগম ব্যাস্ত রান্না ঘরে । হালিমা বেগম এগিয়ে এসে এক গাল হেসে মিহিকে বলেন…
” কেমন আছো মিহি ..? আর এতো দেরি করে আসলে কেনো ..? তোমার তো আরো আগে আসার কথা ছিল..?
মিহি আলতো হেসে বলে…
” আলহামদুলিল্লাহ,, আমি ভালো আছি আন্টি । আমি তো আরো আগে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আসতে পারি নি । আচ্ছা আন্টি,, রুহি কোথায়…?
” ও তো নিজের ঘরেই আছে । তোমার উপর বেশ রেগে আছে কিন্তু ও । যাও এবার গিয়ে বান্ধবীর রাগ ভাঙাও ।
কথাটা বলে হালিমা বেগম বাড়ির একজন কাজের লোককে ডেকে মিহির ব্যাগটা উপরে দিয়ে আসতে বলেন । মিহি সবার নজর থেকে বাঁচতে মাথা নিচু করে দ্রুত পায়ে উপরে উঠতে থাকে । অসাবধানতাবশত হঠাৎ কারোর সাথে ধাক্কা খায় সে । টাল সামলাতে না পেরে দু’ধাপ সিঁড়ি পিছিয়ে পড়ে যেতে নেয় । তবে সামনের ব্যাক্তিটি কোমর জড়িয়ে আগলে নেয় মিহিকে । মিহি খানিক ভড়কে গিয়ে তড়িৎ বেগে তাকায় । নিজেকে সামলে নিয়ে এক ঝটকায় ছিটকে দুরে সরে আসে সে । সামনের লোকটি আর কেউ নয় , সে রাফি । রাফিকে দেখে মিহি আড়ষ্টতায় পড়ে যায় । এদিকে নিচ থেকে হালিমা বেগম গলা উঁচিয়ে বলেন…
” সাবধানে দেখে চলবে তো মিহি,, ঠিক আছো তুমি..? এক্ষুনি পড়ে গেলে কি হতো …?
” আমি ঠিক আছি আন্টি ।
মিনমিন করে জবাব দিয়ে মিহি তাকায় রাফির দিকে । কেবল শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে রাফি । গলায় এখনো টাওয়েল ঝোলানো । পড়নে ধুসর রঙা একটা টিশার্ট আর ট্রাওজার । টিশার্টের কিছু অংশ ভেজা । ঠান্ডার কারণে ফর্সা মুখশ্রী লাল বর্ন ধারন করেছে । এমন অবস্থায় রাফিকে আরো বেশি স্নিগ্ধ লাগছে ।
মিহি এমনিতেই রাফির কাঁধ পর্যন্ত,,রাফিকে দেখতে হলে মাথা উঁচু করে তাকাতে হয় ওকে । তার ওপর এখন আবার রাফি একটা সিঁড়ি উপরে দাঁড়িয়ে আছে । মিহি মাথা উঁচু করে রাফিকে দেখে নেয় । রাফি ওর দিকেই তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে । মিহি লাফ দিয়ে তিনটে সিঁড়ি উপরে উঠে,,এতে করে রাফির উচ্চতা বরাবর সমান হয় সে । রাফি ভ্রু কুঁচকে তাকায় মিহির দিকে…
মিহি বলে….
” Sorry,, দেখতে পাইনি…..
” হাঁটার সময় চোখ কোথায় থাকে আপনার..? নাকি ইচ্ছে করে ধাক্কা দিলেন আমায়..?
মিহি হাঁ করে তাকায় রাফির দিকে,, অবাক ভঙ্গিতে বলে…
” ইচ্ছে করে ধাক্কা দিতে যাবো কেনো..?
” না ,, ইচ্ছে করে ধাক্কা দিতেও পারেন । আফটার অল – I am handsome boy ..।
গলার টাওয়েলটা হাতে নিয়ে বুক ফুলিয়ে কথাটা বলে রাফি । রাফির কথায় মিহি মুখে হাত দিয়ে ফিক করে হেসে দেয় । মিহির হাসি দেখে রাফি অন্য দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে বলে…
” কি মারাত্মক হাসি ইয়ার,,আপনাকে হাসলে অনেক সুন্দর লাগে ম্যাডাম ,, সবসময় এভাবেই হাসবেন ।
” কিছু বললেন..?
” না ,,কিছু না ।
” আচ্ছা..
ছোট্ট করে বলে, মিহি উপরের দিকে পা বাড়ায় । রাফি ডাকে পিছন থেকে…
” শুনুন..
তৎক্ষণাৎ তাকায় মিহি । বুকটা কেমন ধক্ করে ওঠে । উত্তর করে না সে । ওর চাহনি দেখে রাফি নিঃশব্দে হেসে বলে…
” ভালো আছেন..?
মিহি এবার হাসার চেষ্টা করলো একটু । মিনমিন করে বললো…
” জ্বি আলহামদুলিল্লাহ..! আপনি ?
” হুম আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো আছি ।
বলেই রাফি নিচে নেমে যায় । খুব খিদে পেয়েছে ওর । সকাল থেকে পেটে তেমন কিছু পড়েনি । মিহিও খানিক চেয়ে থেকে চোখ সরিয়ে কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা রুহির ঘরের দিকে চলে যায় । রুহির ঘরে ঢোকার আগে একবার মেহজাবিনের ঘরে উঁকি দেয় মিহি,, ঘরের ভেতর মেহজাবিনের সাথে আরো কয়েকটা মেয়েকে দেখে সেদিকে আর পা বাড়ায় নি ।
রুহির ঘরে ঢুকে হাতের পার্স ব্যাগটা টেবিলের উপর রাখে । রুহি ঘরে নেই, হয়তো ব্যালকনিতে আছে । মিহি ব্যালকনিতে উঁকি দিতেই দেখতে পায় রুহিকে । ব্যালকনির রেলিং ঘেসে দাঁড়িয়ে আছে সে । মিহি পা টিপে টিপে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রুহিকে । মিহির হঠাৎ কান্ডে রুহি ভড়কে যায় । রুহিকে কিছু বলতে না দিয়ে মিহি এক নাগাড়ে বলতে থাকে….
” Sorry Pakhi ,, Sorry Jan ,, এবারের মতো মাফ করে দে আমায় প্লিজ । এই দেখ আমি এখন চলে এসেছি ,, পুরো এক সপ্তাহ থাকবো তোর কাছে,, প্রমিজ করছি । তবুও এভাবে রাগ করে থাকিস না জান ।
” ছাড় আমায় ,, আমি কে ,যে তোর উপর রাগ করে থাকবো ? আমার রাগ , অভিমানের কোন মূল্য আছে নাকি তোর কাছে ? এখন তোকে কে আসতে বলেছে,, আমি তোকে এখন আসতে বলেছি ? আমি যখন আসতে বলেছিলাম তখন তো আসিস নি, তাহলে এখন আসলি কেন ?
যা এখান থেকে…
রাগের মাথায় রুহি কি থেকে কি বলছে, তা সে নিজেও জানে না । মিহি রুহিকে ছেড়ে দিয়ে নাটকিয় ভাবে,, ঠোঁট উল্টে নাক টেনে টেনে বলে…
” ঠিক আছে, তাহলে আমি চলে যাচ্ছি । তুই তো আমাকে আসতে বলিস নি,, আমি নিজে নিজেই এসেছি । তাহলে আমি চলে যাই ? ভালো থাকিস,, আর ভালো করে এনজয় করিস নিজের বোনের বিয়ে ।
কথাটা বলে মিহি পার্স হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে । মিহির চলার গতি কোন কচ্ছপের থেকে কম নয় । এভাবে ধীরে ধীরে মিহি দরজা পর্যন্ত এগিয়ে যায় । তবুও রুহি ওকে আটকায় না । মিহি দরজায় গিয়ে থমকে দাঁড়ায় । পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে, রুহি দুহাত বুকে গুজে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । মিহি ঠোঁট উল্টে বলে…
” কি রে,, আমাকে আটকাবি না..?
” কেন ,আটকাবো ..? আপনি তো বাড়ি যাচ্ছিলেন,তো যান ।
মিহি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে পার্সটা খাটের উপর ছুড়ে মারে । নিজেও এসে ধপ করে খাটের উপর বসে পড়ে । খাটের উপরের একটা কুশন ছুড়ে মারে রুহির দিকে ।
” যাবো না আমি । কেন যাবো ? এটা কি আপনার বাড়ি,যে আমাকে আপনার কথা শুনে চলতে হবে…!
মিহির ছোড়া কুশনটা রুহি ক্যাঁচ করে । রুহি একটু এগিয়ে এসে বুকে হাত গুটিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে টেনে টেনে বলে…
” এটা আমার বাড়ি নয় তো কার বাড়ি ম্যাডাম ? আপনার শশুর বাড়ি..?
” হুম.. আমার শশুর বাড়ি । আপনার কোন সমস্যা..?
” কি বললি….
দুজনের দুষ্টু-মিষ্টি ঝগড়ার মাঝে কথায় কথায় মিহি কি বলে ফেলেছে সেটা খেয়াল হতেই জিভে কামড় দেয় সে । বসা থেকে উঠে আমতা আমতা করতে থাকে । রুহি পিছন থেকে মিহিকে জড়িয়ে কাঁধে আলতো থুতনি রেখে ফিসফিসিয়ে বলে…
” এটা আপনার শশুর বাড়ি, ম্যাডাম ? আচ্ছা,, আপনাকে কে যেন ম্যাডাম বলে ডাকে ? আর আমার জানা মতে এই বাড়িতে তো একটাই ছেলে আছে । তা ,,সেই ছেলের বউ নাকি আপনি..? না মানে,,বউ হওয়ার প্লানিং করছেন নাকি..? কি ,,বউ হবেন ? বউ হওয়ার ইচ্ছে আছে ?
মিহি গাঁ ঝেড়ে কয়েক পা সরে দাঁড়িয়ে বলে..
” ছি,, ছি,, কি বলছিস এসব ? সব তোর জন্য হয়েছে, তোর জন্য আমি এসব বলেছি । তোকে তো আমি….
বলতে বলতে রুহির পেছনে ধাওয়া করে মিহি ।
রুহি আগে আগে আর মিহি পিছনে পিছনে । খাটের দু’দিক থেকে দু’জনে একে অপরের দিকে কুশন ছোড়াছুড়ি করছে । দুজনের হাসির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠলো পুরো ঘর । কে বলবে, একটু আগে এই দুজন ,একজন আর একজনের উপর রাগ-অভিমান করে বসে ছিল ? দুজনের এমন চঞ্চল কীর্তির মাঝেই ঘরে ঢোকে হেনা বেগম ।
” এ কি,,,কি করছিস তোরা..? এমন বাচ্চাদের মতো লাফালাফি করছিস কেন ? পুরো ঘরটার কি অবস্থা করেছিস… চারদিকে এমন বালিশ পড়ে আছে কেনো..?
হেনা বেগমের কথায় দুজনে যে যার স্থানে থেমে যায় । হেনা বেগম কোমরে হাত রেখে চোখ পাকিয়ে রুহিকে বলেন…
” একটু আগেও তো মুখ গোমড়া করে বসে ছিলি , কারোর সাথে কথা বলছিলি না । আর এখন বান্ধবীকে পেয়ে সব ঠিক হয়ে গেল ?
মিহি হাতের বালিশটা রেখে,এগিয়ে গিয়ে বলে…
” ওর কথা বাদ দাও তো আন্টি । তুমি বলো,, কেমন আছো তুমি ?
” আমি ভালো আছি রে । তুই এসেছিস ভালো হয়েছে,,এই মেয়েকে এবার সামলা তুই । তোকে ছাড়া তো পুরো পাগল হয়ে যাচ্ছিলো ও ।
” সমস্যা নেই আন্টি,, এবার তো আমি এসেছি । ও পাগল হলে, ওকে পাবনায় রেখে আসার দায়িত্ব আমার । তুমি চিন্তা করো না ।
মিহির কথায় হেনা বেগম হেসে,ঘর থেকে বেরিয়ে যান ।
সন্ধ্যা হতে হতে, বাসায় আত্মীয় স্বজনদের সমাগম শুরু হয়ে যায় । কাছের সব আত্নীয় স্বজন আজ থেকেই উপস্থিত হয়েছেন । আজ থেকে ১২ বছর আগে জুবায়ের চৌধুরীর বিয়ে হয় । এরপর আর কোন বিয়ের অনুষ্ঠান হয়নি এই বাড়িতে । রুহি আর মিহি ছাদের দোলনায় বসে নিচের লাইটিং দৃশ্য দেখছিল । ডেকোরেশনের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় । পুরো বাড়ি রঙিন আলোয় আলোকিত । এমন সময় পেছন থেকে রুহির চোখ কেউ ঢেকে ধরে । রুহি চোখ থেকে হাত সরানোর চেষ্টা করে বলে…
” কে..?
পিছনের জন নিশ্চুপ । মিহি ছাদের উজ্জ্বল আলোয় তাকিয়ে দেখে, রুহির পেছনে একটা সুন্দর মেয়ে দাড়িয়ে আছে । মিহি তাকে চেনে না । চিনবেই বা কি করে ? কিছু মুহূর্ত পরেও যখন রুহি চোখ ধরা ব্যাক্তিকে আন্দাজ করতে পারে না, তখন মেয়েটি নিজে থেকেই রুহির চোখ ছেড়ে দেয় । সামনে এসে অভিমানি কন্ঠে বলে…
” কি গো রুহি,, তুমি আমাকে চিনতে পারলে না..?
রুহি অপ্রস্তুত হেসে বলে…
” আরে লিনা আপু,, তুমি ? আমি বুঝতে পারি নি । তা কখন এলে তোমরা ?
” এই তো এক্ষুনি এলাম । এসেই দেখি তুমি ঘরে নেই । আমি ঠিক জানতাম তুমি ছাদে থাকবে,তাই সোজা ছাদে চলে এসেছি । আমাদের আসতে বুঝি অনেক দেরি হয়ে গেছে তাই না..? নিচে তো দেখলাম অনেকেই এসে গেছে ।
” না না আপু,, দেরি কেন হবে ? বিয়ের সব প্রোগ্রাম তো কালকে থেকে শুরু ।
লিনা এবার তাকায় মিহির দিকে । মিহি ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে ওদের দুজনের কথা শুনছিলো । লিনা মিহিকে ইশারা করে রুহিকে বলে…
” ও কে রুহি..? ওকে তো চিনলাম না ।
” ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার Pakhi,,, মিহি ।
” তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডও আছে । বাহ্ ভালোই তো ।
লিনা মিহির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে…
” হায় , মিহি আমি লিনা । Nice to meet you ..
মিহি হাত মিলিয়ে মিষ্টি হেসে কুশল বিনিময় করে ।
লিনা সম্পর্কে মেহজাবিনের মামাতো বোন । এই বাড়িতে প্রায়ই আসা যাওয়া আছে ওর । রাবেয়া চৌধুরীর অসুস্থতার পর আগের তুলনায় তার বাবার বাড়ি থেকে সবার আসা যাওয়া কমলেও লিনা অনেক সময় আসে এই বাড়িতে । মেহজাবিনের বিয়ে উপলক্ষে ওর মামার বাড়ির পুরো পরিবার এসেছে আজকে ।
রাতে চৌধুরী বাড়ির হলরুমে বসেছে সবার আড্ডা । ছেলে মেয়েরা ব্যতীত সবাই উপস্থিত এখানে । মেহজাবিনের দুটো বান্ধবী এসেছে,,ও ওর বান্ধবীদের নিয়ে ঘরে আড্ডা দিচ্ছে, ওদের সাথে যোগ দিয়েছে লিনা । মিহি আর রুহি এতক্ষণ ওদের সাথেই ছিল । এসেছে থেকে মিহি ঐযে উপরে উঠেছে,আর নিচে নামে নি ।রুহি এবার মিহি কে নিয়ে নিচে নামে । মিহিকে দেখে রাশেদ রায়হান চৌধুরী বলেন…
” আরে মিহি মামনি ,, তুমি কখন আসলে ? দেখিনি তো ?
তার কথায় হলরুমের সবাই তাকায় মিহির দিকে । হেনা বেগম পাশ থেকে বলেন…
” ও তো এসেছে থেকে নিচেই নামেনি । দেখবেন কি করে..?
রাশেদ রায়হান চৌধুরী মিহিকে পরিচয় করিয়ে দেয় সবার সাথে ।
শান্তর মা আফসানা বেগম সোফায় পা তুলে বসে আছেন ,, পায়ে ব্যাথা পেয়েছেন কোন কারনে । রুহি আফসানা বেগমের পাশে গিয়ে বসে কপালে চিন্তার ছাপ ফেলে বলে….
” পায়ে ব্যাথা কি করে পেলে ফুফি ?
আফসানা বেগম ব্যথায় খানিক কুকিয়ে উঠে বলেন..
এক দেখায় পর্ব ১১
” আর বলিস না রে মা ,, বাথরুমে পিছলে পড়ে গেছিলাম ।
রুহি আলতো হাতে পা ছুঁয়ে দেয় আফসানা বেগমের । মিহিকে দুরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আফসানা বেগম তাকে কাছে ডাকেন…
” ওদিকে দাঁড়িয়ে আছো কেনো মা ,, এদিকে এসো, আমার পাশে বসো ।
