Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৬

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৬

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৬
আসিফা খান

সমাজের বুকে এমন মানুষ আছে যারা শুধু ভদ্রতার মুখোশ পরিহিত এক অসাধু ব্যাক্তি। যাদের দেখার পর আমাদের এটা মনেই হবে না যে ,, এই সব মানুষ দের আসোল চেহারা কতটা ভয়ংকর।।
কিছুক্ষণ আগে রিফাত সেই ব্যক্তির খোঁজ পেয়েছে যে ইয়ানাকে হ্যারেস্ট করেছিল।। ঘর থেকে বেরিয়েই রিফাত প্রায় সারাটা দিন নিজেকে তাকে খোঁজায় মাসগুল রেখেছিল ,,,মরিয়া হয়ে উঠেছিল সেই লোকটিকে হাতের কাছে পাওয়ার জন্য।,,, আহিল শুধুই নিঃশব্দে রিফাতের সমস্ত কর্ম ,,,দেখে গিয়েছে দেখেছে রিফাতের ক্রোধে পরিপূর্ণ মস্তিষ্ক,,, শক্ত চোয়ালের মাঝে লোকটাকে চিবিয়ে খাওয়ার মত ক্রোধ ,,,আর ইয়ানার প্রতি অগাধ আস্থা,শ্রদ্ধা আর হয়তো কোথাও না কোথাও ভালোবাসাও।।

অবশেষে খোঁজখবর নেওয়ার পর জানা গেলো যে লোকটি আর কেউই নয় বরং রিফাতের নার্সিংহোমেরই একটি জুনিয়র ডক্টর।। যার ইন্টারভিউ নিয়ে চাকরি দিয়েছিল আহিল।।,,, আজ যদি না রিফাত আর আহিল তাদের নার্সিংহোমের পাশের মেন রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ না দেখতো তাহলে হয়তো কখনোই এই ব্যক্তির খোঁজ পেতো না তারা।।,,, রাগে ক্রোধে রিফাত নিজের হাত মুঠিবন্ধ করে সজোরে দেয়ালে আঘাত করে,,, উত্তেজনায় শরীরের সমস্ত রগ ফুলে উঠেছে।,, রিফাতের এমন ব্যবহারে আহিল এগিয়ে আসে, তাকে শান্ত করতে বলে,,,
“রিফাত কাম ডাউন,,, প্লিজ ভাই সামলা নিজেকে, আমি জানি তোর মধ্যে এখন কি চলছে? আর এটা স্বাভাবিক।।”
“কিভাবে নিজেকে সামলাবো! একটা দিন,, পুরো একটা দিন ওই ব্লাডি রাস্কেলটা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে,,, আর এদিকে আমার ইয়ান া প্রতিটা মুহূর্তে নিজের সাথে যুদ্ধ করে চলেছে,,,।।,, ও আজ শেষ আহিল ,,, ওকে আমি জ্যান্ত পুতে ফেলব,, ও আমার ইয়ানার দিকে হাত বাড়িয়েছে তার পবিত্রতাকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।,,, ওকে আমি ছাড়বো না! ওর কলিজাটা মাপবো আমি।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

পাশের টেবিলে সজোরে এক লাথি দিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেল রিফাত।। এদিকে হাবলাকান্তের মতো দাঁড়িয়ে আছে আহিল ,,, তার যে কম রাগ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। ইয়ানাকে সে নিজের ছোট বোনের নজরেই দেখে।।,, কিন্তু রিফাতের এরকম আচরণ আর ইয়ানার প্রতি পজেসিভনেস আহিল বাকরুদ্ধ।,,, রিফাতের বলা কথা ‘ আমার ইয়ানা ‘ যেন মস্তিষ্কে গিয়ে ঠেকেছে।,, তারমানে তার নিরামিষ বন্ধুটা প্রেমে পড়েছে,, গভীর প্রেমে। যা থেকে বেরিয়ে আসা আর সম্ভব নয়।,, কারণ প্রেমটা অন্য কারোর প্রতি নয় বরং প্রেমটা স্বয়ং তার স্ত্রীর প্রতি।।

ধীরে ধীরে পানশালা(Bar) যে খালি হয়ে যাচ্ছে সেদিকে কোন নজর নেই এক ব্যক্তির সে যে এক নারীতে মেতে আছে তাকে বিভিন্ন রকম ভাবে ছুঁয়ে দিতে অত্যধিক ব্যস্ত।।,,, নারীটি যে খুব উপভোগ করছে সেই ব্যক্তির ছুঁয়ে দেওয়া তা কিন্তু নয়,,, কারণ তাকে যে জোর করে নিজের সাথে ধরে রাখা হয়েছে ,,, নিজেকে ছাড়াতেও পারছে না কোনরকম ভাবে।।

গাড়িটা সজোরে ব্রেক কষিয়ে মুহূর্ত ব্যয় না করেই নেমে আসে রিফাত,,, চোখে মুখে ক্রোধের ছাপ। গাড়ি থেকে নেমে আসার আগে নিজের চশমা খুলে গাড়ির সিটে রেখে দেয়,, ততপর হনহন করে পানশালার মধ্যে ঢুকতে ঢুকতে নিজের শার্টের হাতা কনুই অব্দি গোটাতে থাকে।। সে যেন এক লৌহমানব।।,, এ যেন রিফাত নয় কোন এক শক্তি তার উপরে ভর করেছে মনে হচ্ছে,,, কপালের রগ গুলি অস্বাভাবিক ফুলে উঠেছে,,, ফর্সা চেহারা রাগের কারণে লাল আভায় ফুটে উঠেছে ,,, রক্তবর্ণের চোখ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে,, আজ প্রলয় ঘটবে।
রিফাতের পিছনে একরকম দৌড়ে গেল আহিল,,, তার ইনফরমেশন অনুযায়ী এখানেই আছে সেই দুর্বৃত্ত ব্যক্তি ,,,তাই তো পানশালাটাকে খালি করার নির্দেশনা দিয়েছে ফোনেই।।,,
নিজের কাঁধে কারোর শক্ত হাতে স্পর্শ পেয়ে চোখে মুখে বিরক্তি এনে ব্যক্তিটি পিছন ফিরে বলতেই লাগে,,,”কে,,বে*”

না,,, পারলো না লোকটি নিজের কথাটা সম্পূর্ণ করত তার আগেই নাকের উপর পরপর অনেকগুলি ঘুসির কারণে পিছিয়ে গেল ব্যক্তিটি,, কিছু অনুধাবন হলো না,,, বুঝতেও পারল না তার সাথে মুহূর্তেই হলোটা কি।।,, নাক থেকে বেরিয়ে আসা টাটকা রক্তে নিজের আঙ্গুল ছুঁয়ে সামনের দিকে তাকাতেই ব্যক্তির অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে রিফাতকে দেখেই তার পিলে চমকে যায়।। আসে পাশে কেও নেই,,,পুরো জায়গা ফাঁকা,,,তার সাথে থাকা মেয়েটিও উধাও।।,,,প্রাণ রক্ষা করতে গেলে পালাতে হবে নাহলে রিফাত আজ তাকে মেরেই ফেলবে।,,,কিন্তু তাহ আর হলো কই,,, ধেয়ে গেলো রিফাত,,,দাতে দাঁত পিষে নিজের মাথা দ্বারা শ্বাসাঘাতে সেই ব্যক্তিটির মাথায় আঘাত করতেই এক প্রকার ছিটকে পড়ে দূরে।,,,রিফাত তাতেও ক্ষ্যান্ত হয় না,,, বার কাউন্টার থেকে একটা বিয়ারের বোতল হাতে তুলে তেড়ে যায়,,,মেঝেতে শুয়ে কাতরানো ব্যক্তিটির কানের পাশে সেই কাচের বোতল ভাঙ্গে।,,,,,

আহিল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দূরে, এ যেন এক নতুন রিফাত কে আবিষ্কার করছে সে ছোটবেলাকার বন্ধুকে আবারও নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পারছে।,,, শান্ত শিষ্ট অল্পভাষী ছেলেটার হিংস্র রূপ দেখছে আজ। রিফাত কে থামাবে সেই সাহস ও নেই আহিল এর।
“you Blo*dy bas*ard,,,how dear you to touch her,,, Who dared you to touch my wife?,,,you ras*cal,,,, I kill you,,,and I will do it,,,”
হাতে থাকা সেই আধা ভাঙ্গা কাঁচ এর বোতল দিয়ে লোকটি কে আঘাত করার আগেই আহিল এগিয়ে আসে,,,ধরে ফেলে রিফাত কে এক প্রকার টেনে তাকে দূরে নিয়ে আসে,,, ক্ষিপ্ত রিফাতকে বোঝানোর সুরে আহিল বলে,,,
“রিফাত প্লিজ,, প্লিজ,,, কাম ডাউন ,,একটু শান্ত হও,,,, এবার ওকে মারলে ও মরে যাবে।। কেসটা তখন অন্যদিকে ঘুরে যাবে,,, ভাই আমার প্লিজ বোঝ।”
“ওকে আমি মেরেই ফেলবো,,,”
নিজেকে একপ্রকার ছাড়িয়ে রিফাত আবারও সেই ব্যক্তিটির দিকে এগিয়ে গিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে লাথি দেয় সেই ব্যক্তিটির গোপনাঙ্গে যার দরুন সঙ্গে সঙ্গে এক গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে ওঠে লোকটি।।
এরই মাঝে এসে হাজির হয় পুলিশ যাকে আগে দিয়ে আহিল ইনফর্ম করে রেখেছিল।

“থ্যাংকস এ লট,, মিস্টার রিফাত এন্ড আহিল।,,, এর আগে ওই জানোয়ার টার উপরে অনেকগুলো এভিউজিং, হারাসমেন্টের কেস এসেছিল আমাদের কাছে। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারিনি। তার বাবার পাওয়ারের জন্য,,কিন্তু আজ তার বিরুদ্ধে পক্ত প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু আপনাদের জন্য।,,, এবার আর ওর বাঁচার কোন উপায় নেই,, ওর বাবা যত বড়ই মন্ত্রী ডাকুক না কেন!,, ডাক্তার এর মুখোশ পরে এই পাশবিক অন্যায় আর বরদাস্ত হবে না,,,এক জনের জন্য পুরো ডক্টর সম্প্রদায় কে বদনাম হতে দেবো না।
“ইউ আর ওয়েলকাম ইন্সপেক্টর। বাট আই হ্যাভ সামথিং টু টেল ইউ ,,,,এন্ড ইটস মাই রিকুয়েস্ট,,, এরপরে যা করবেন আপনারাই করবেন,,, আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ইনভলব মাই ওয়াইফ ইন অল দিস থিংস।,, সি ইজ ভেরি সেন্সিটিভ,,, আমি চাইনা তার কোন অসুবিধা হোক,,, অ্যান্ড সি ইজ অলরেডি ভারী আফ্রাইড।” (রিফাত)
ইন্সপেক্টর বিস্তার হাসলো,,,বললো,,,”বউ কে অনেক ভালোবাসেন দেখছি,,,,চিন্তা করবেন না কোনো অসুবিধে হবে আর আপনাদের।”

ব্যালকনির রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছে ইয়ানা। রাত হয়েছে,,, শরীরও অনেকটাই সুস্থ লাগছে। তার পা ঘেঁষে বসে লেজ দোলাচ্ছে মিশি।।,,, মন টাও এখন ফুরফুরে। চাঁদের মৃদু আলো নিজের গায়ে মাখতে ব্যাস্ত ইয়ানা।।মাঝের মধ্যে মিটিমিটি হাসছে ,,,মনে পড়ছে সকালে বাহিরে যাওয়ার আগে রিফাত এক প্রকার হুমকি দিয়েছিল,,,বলেছিল,,,
“বাচ্চাদের মত লাফালাফি করবে না,,,সারাদিন দিন এই ঘরেই থাকবে,,, বোর ফিল হলে তোমার ঐ মিশি কে আনবে আর অবশ্য আমার আসার আগেই তাকে বাহিরে বের করে দেবে,,,আলেয়ার সাথে সময় কাটাবে,,,আমি আসছি,,, টাকে ক্যার।”

কথাটি যত বার মনে পড়ছে ততবার ইয়ানা আনমনেই মুচকি হেসে উঠছে । কেমন একটা ভালো লাগছে যেনো,,,কাল রাতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আর তাকে গ্রাস করতে পারছে না।। একটু আগেই প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ফোন আলাপ করেছে আতিকার সাথে,,,কথা বলার এক পর্যায়ে ইয়ানা যখন বলে সে এখন রিফাত এর রুমে আছে,এটা শুনেই আতিক এক প্রকার লাফিয়ে ওঠে,,গর গর করে জিজ্ঞাসা করে,,,
“এই এই তুই না প্রতিজ্ঞা করেছিলিস রিফাত ভাইয়ের রুমে প্রবেশ করবি না,, আর এখন তুই ওনারই রুমে বসে আমার সাথে কথা বলছিস,,,ব্যাপার কি ইনু,,,,, সামথিং সামথিং।”
“নাথিং,,,,আসলে কাল রাতে আমার ভীষণ জ্বর আসে,,, আর আমি অজ্ঞান ও হয়ে যাই,,,তখন উনিই আমায় বাড়িতে নিয়ে আসে।,, আর সকাল বেলা উঠে দেখি আমি ওনার রুমে।।”
“বাবা,,, রাক্ষস, খারুস থেকে সোজা উনি।।,,,ইসস এখন তোকে পুরো পাক্কা বউ বউ লাগছে।।”
ইয়ানা কিছুটা লজ্জা পায় আতিকার কথায়,,,কিন্তু সেই লজ্জা লুকাতে কিছুটা রোগীর ভঙ্গিতে বলে,,,”আবার শুরু করেছিস,,,”

“এই আমি জানি তুই রেগে নেই শুধু লজ্জা লুকাতে এই অ্যাক্টিং,,,,আচ্ছা যা দয়া করলাম,,,দেবো না লজ্জা।,,,দেখবো রিফাত ভাই লজ্জা দিলে তুই কি করিস,,,”
বলেই হেসে উঠলো আতিকা,,,,ইয়ানা কিছুটা দমে গেল,,,আর খুশিও হলো,মেয়েটা তাকে অনেক বুঝে।। তত্পর তারা এটা সেটা নিয়ে কথা বলতে শুরু করল,,,, মানে ওই ইংলিশে যাকে বলে ‘ Girl’s talk ‘ .
ইয়ানার এই সব ভাবনা চিন্তার মাঝেই এসে হাজির হলো ইয়াসমিন বেগম।। এসেই মেয়ের পাশে দাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে,,,”এই শরীর কেমন লাগছে ”
ইয়ানা মায়ের দিকে তাকিয়ে হেসে দিল,,,কিছুক্ষন আগে এসেও তার মা এই একটা প্রশ্ন করে গেছে।।
“ভালো আছি মাম্মা,,,তুমি না এই প্রশ্ন টা কিছুক্ষন আগেই করলে!”
“তাতে কি,,,যখন মা হবি তখন বুঝবি মায়েদের চিন্তা।”

ইয়ানা দাত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়িয়ে মাথা নয়ালো,,,সেই সকাল থেকেই মেয়েটা কোনো না কোনো রকম ভাবে লজ্জা পেয়েই চলেছে।।,,ইয়াসমিন বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিয়ে বলল,,,
“ইনু রিফাত খুব ভালো ছেলে। ছেলেটাকে আমি সেই ছোট্ট বেলা থেকে দেখছি,,,একটু গম্ভীর কিন্তু মন পরিষ্কার।।,,,আজ সকাল সকাল বাহিরে যাওয়ার আগে আমায় বলে গেলো,,’ খালামা ইয়ানা আমার রুমে,,,শরীর টা ভালো নয় ওকে জাগাবে না আমি যতক্ষণ না আসছি ‘। কথাটা সম্পূর্ণ করেই চলে গেল কিছু বলার সুযোগ টিও দিলো না। কিন্তু বিশ্বাস কর আমার যে তখন এত ভালো লেগেছিলো তাহ বলার বাহিরে,,,মনে হচ্ছিল আমার পরে আমার মেয়ের পাশে দাড়িয়ে থাকার মত মানুষ আমি পেয়েছি। আমি এখন চিন্তা মুক্ত।
ইনু,,,সম্পর্ক একটা নৌকার মতো,,,যাকে যুকিপূর্ণ, অশান্ত সুমুদ্রের মধ্যে টিকিয়ে রাখতে হয়।।,,, আসা করি তুই আমার কথা বুঝেছিস।”

রাত বাড়ছে সাথে সাথে বাড়ছে ঠান্ডাও। মুখে রুচি না থাকার সত্বেও ইয়াসমিন বেগম এবং মিসেস আসফিয়া মিলে ইয়ানা কে প্রায় জোর করে কিছু লোকমা ভাত খাইয়েছে।।,,, রুমে একা থাকতে বিরক্ত লাগছিল তাই কিছুক্ষণ আলিয়াকে সাথে করে নিয়ে আসে রিফাতের রুমে এটা সেটা নিয়ে গল্প করার পর দেখে আলেয়া হাই তুলছে, হয়তো ঘুমে ধরেছে মেয়েটার তাই ইয়ানা আর তাকে আটকাইনি চলে যেতে বলে আলেয়া ও হাই তুলতে তুলতে আড়মোড় ভেঙে বেরিয়ে পড়ে রিফাতের রুম থেকে।।,,, ইয়ানা বিছানায় কিছুক্ষণ শুয়ে আশেপাশে নজর বুলায়,,, লোকটার রুমও লোকটার মত অত্যাধিক মার্জিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কেউ বলবেই না এই রুমে একটা ছেলে বসবাস করে কারণ সচরাচর ছেলেদের রুম অত্যাধিক অগোছালো হয়।।
একা একা শুয়ে থাকতেও ভাল লাগছে না তাই বিছানা থেকে উঠে আবার ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়,,, মিশি টাও নেই সেও চলে গিয়েছে তার নিজ তৈরি করা ঘুমাবার জায়গায়।।,,,

এক মোনে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে ইয়ানা হঠাৎ করেই ইয়ানার গায়ে পিছন দিকে কেউ পাতলা চাদর চাপিয়ে দিতে মেয়েটি ভয়ে চমকে ওঠে সাহসা পিছনে ঘুরতে দেখে রিফাত দাঁড়িয়ে আছে।,,, বুকে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস টেনে বলে,,
“আল্লাহ আপনি কখন এলেন আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
রিফাত উত্তর দেয় না শুধু নিঃশব্দে হেঁটে আসে,,, ইয়ানার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে হাত বাড়ায় একে একে ইয়ানার কপাল, গলা, গাল নিজের উল্টো হাত দিয়ে কিছুক্ষণ স্পর্শ করে,, হয়তো শরীরে তাপমাত্রা দেখে।। এদিকেই ইয়ানা কিছুটা কেঁপে ওঠে,, হুট করে রিফাতের এমন স্পর্শে শিউরে ওঠে শরীর।।,,
“যখন তুমি চাঁদ দেখতে ব্যস্ত ছিলে তখন এসেছি,, জ্বর তো নেই বললেই চলে,,, রাতে খাবার খেয়েছো?”
ইয়ানা চোখ তুলে তাকায় মিনমিনে কন্ঠে বলে,,,”হুঁ,,,,আপনি খেয়েছেন?”
রিফাত কিছু বলেনা শুধু নিঃশব্দে মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি প্রকাশ করে। তত্পর ইয়ানার পাশ ঘেঁষে দাড়ায়।,,,জিজ্ঞাসা করে ইয়ানা কে ,,,

“রাত বাড়ছে,,,এখনও ঘুমাওনী কেনো?”
ইয়ানা ঠোঁট উল্টায় বলে,,,,”চেষ্টা করেছি ঘুমানোর,,,কিন্তু ঘুম আসেনি।”
রিফাত মাথা বাঁকিয়ে নিঃশব্দে হাসে,,,।। তার দশ বছরের জন্মদিনের দিন এই মেয়েটা হয়েছে,, কতই না এই মেয়েটা কে কোলে কোলে নিয়ে ঘুরেছে, খেলেছে,, আর এখন এই মেয়েটাই তার বউ ভাবা যায়!,,, ইয়ানার চাঁদ দেখা নিয়ে হুটকরেই মনে পড়লো তার দাদির কথা,,, ইয়ানাকে চোখে হারাতেন তিনি,,,নিজের কোলে বসিয়ে ইয়ানা কে চাঁদের গল্প শোনাতেন,,,আর ছোট্ট ইয়ানা তঃ ভীষণ আনন্দের সাথে শুনত।
“ছোটবেলায় দাদি তোমায় চাঁদের বুড়ি বলত মনে আছে?”
ইয়ানা ভ্রু কুচকায় ,,,মন খারাপ আর সাথে অত্যাধিক অবাক সুরে বলে,,,”না আমার তো মনে নেই আপনার এখনো মনে আছে?”

“মনে থাকবে না কেন স্টুপিড ,,, আমি তোমার থেকে হাতেগোনা দশ বছরের বড়।,, যেসব কথা আমার মনে আছে সে সমস্ত কিছু তোমার না মনে থাকারই কথা।”
কথাটি বলে রিফাত মুচকি হাসে ইয়ানা কিছুটা মুক্ত হয়ে সেই হাসির দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,,,”আপনার হাসি তো মাশাআল্লাহ,,, তো হাসেন না কেন?”
রিফাত হাসি থামিয়ে দেয় ,,,গলা কেসে হুট করে নিজের গম্ভীর রূপে ফিরে যায়, কমভাষী ছেলেটি এতগুলো কথা বলে ফেললো মেয়েটির সাথে নিজের উপরে একটু অবাক হয়।।,,, ইয়ানা ঠোঁট বাঁক ায় চোখ তুলে কিছুক্ষণ রিফাতের দিকে তাকিয়ে রয়,,,কালো টি শার্ট, খয়েরি ট্রাউজার আর লেদার জ্যাকেট জড়ানো লোকটাকে কিছুটা ক্লান্ত লাগছে চোখে মুখে তা স্পষ্ট। হয়তো আজ হসপিটালে একটু বেশি কাজ ছিল।।,, ইয়ানা ভাবুক কন্ঠে বলে,,,

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৫

“নার্সিংহোমের প্রথম দিনেই বুঝি অনেক বেশি কাজ ছিল! আপনাকে অত্যাধিক ক্লান্ত দেখাচ্ছে কফি নিয়ে আসি আপনার জন্য?”
রিফাত দৃষ্টি ফেরায়,,, নিঃশব্দে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ইয়ানার মুখপানে,,, চাঁদের শুভ্র আলোয় মেয়েটির মুখশ্রী আরো বেশি মায়াময় হয়ে উঠেছে,,, ভীষণ স্নিগ্ধ লাগছে ইয়ানাকে,,, রিফাত হুট করেই স্লোক ভয়েসে বলে ওঠে,,,
“বেশ ক্লান্ত আমি,,,আরাম চাই।”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৭