Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৮

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৮

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৮
আসিফা খান

ডাইনিং টেবিলে বসে আছে ইয়ানা। সমস্ত খাবার রিফাত এর পছন্দের। নিজ হাতে রিফাত খাইয়ে দিচ্ছে ইয়ানা কে। এদিকে ইয়ানা ভয়ে একাকার। রিফাত এর এক একটা কথা তার ছোট্ট মনে ঝড় তুলছে। লজ্জায় একাকার করে দিচ্ছে তাকে।। ইয়ানা পারে না নিজেকে হওয়ায় মিশিয়ে ফেলতে। পরিশেষে রিফাত এক চামুচ গাজরের হালুয়া মুখে নিলো,,, ডিলিসিয়াস! রিফাত ইয়ানার মাথায় হাত রেখে বলল,,,
“বাহ্,,,ভালো বানিয়েছো তো। সো টেস্টি। তুমিও ট্রাই করে দেখো।”
ইয়ানার মুখে এক চামুচ পুড়ে দেয়। ইয়ানা নিজের রান্নার তারিফ কোরে পারে না। মনে মনে আওড়ায়,,’ আল্লাহ,,আমি এত ভালো রান্না কেনো করি! ‘ নিজের হাতে চুমু দিতে গেলেও দমে যায়। রিফাত সূক্ষ নজরে তাকেই দেখে চলেছে। ইয়ানা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,,,

“কি দেখছেন!?”
“দেখছি কুড়ি বছর বয়সী এক তরুণী কে। কেও দেখলে পনেরো, ষোলো বছরের কিশোরী বলবে তোমায়।। এই ওজন কত তোমার?”
“জানিনা,,,অনেক দিন মাপা হয়নি। তবে লাস্ট বার যখন মেপে ছিলাম তখন ৪৬ ছিলো।”
রিফাত বড়ো বড়ো চোখ করে তাকায় ইয়ানার দিকে। বিস্মিত হয় প্রবল। অতঃপর কপট রাগ দেখিয়ে বলে,,,” তোমার কোনো আইডিয়া আছে আমার ওজন কত! এই মাছির মত ওজন নিয়ে আমার আশেপাশে তুমি ঘুরে বেড়াও!! অ্যাই,,, তোমার ভয় করে না!”
ইয়ানা কেপে ওঠে,,,ঠোঁট বাঁকিয়ে কিছু ভাবে অতপর চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে,,,”হ্যাঁ ভয় লাগে তো! আমি মাছি হলে আপনি হাতি।।
চাশমিস কোথাকার।”
ইয়ানা কথাটি বলেই ভো দৌড় দেয়।। রিফাত হাঁ হয়ে তাকিয়ে রয় ইয়ানার যাওয়ার দিকে। থমথমে খেয়ে যায় সে।। মেয়েটা তার চশমা নিয়ে খোটা দিল! এর বিচার প্রয়োজন। রিফাত নাকেট ডগা হতে চশমা ঠেলে দেয়।। অতঃপর মাথা ঝাঁকিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে ইয়ানার পিছে যায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইয়ানা দ্রুতগতিতে রুমে ঢুকে। আলমারি খুলে টি-শার্ট আর প্লাযো বার করে। রিফাত আসার আগেই ওয়াশরুমে ঢুকতে হবে তাকে,, ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েই বিছানায় চাদর মুরিয়ে ঘুমাবে সে। কঠিন ঘুমে নিজেকে হারিয়ে ফেলবে একদম।। ইয়ানার সমস্ত ভাবনা চিন্তার ওপর কেউ যেন এক বালতি পানি ঢেলে দিল। ওয়াশরুমে ঢোকার আগেই রিফাত হাজির হলো। না চাইতেও ইয়ানার বদন কেঁপে কেঁপে ওঠে।। রিফাত চোখ ছোটো ছোটো করে মেয়েটার দিকে তাকায়।
ইয়ানা আমতা আমতা করে…” ঘুমাবো না!”
“আজ থেকে ঘুমকে বিসর্জন দাও। সুইজারল্যান্ডে থাকতে ফোনেই বলেছিলাম না আমি এসে তোমায় সম্পূর্ণ চাইবো।”
“রি – রিফাত”
“শুউউউ”

রিফাত এগিয়ে আসে ইয়ানার হাত থেকে কাপড় নিয়ে সোফায় রাখে। অতঃপর নিজের হাতের অবাধ্য ছোঁয়ায় টলায়মান করে ইয়ানাকে। অজানা নেশায় বিভোর হলো রিফাত।।দেহের উপরিভাগ হতে রিফাত এর হাত সরিয়ে দিতে চেয়েও পারে না। ইয়ানা কে ঘুরিয়ে নিজের বুকের উপর তার পিঠ ঠেকায়। ইয়ানা খামচে ধরে শাড়ির আঁচল। সংশয়,তকলিফ এ মূর্ছা যায় ইয়ানা। মিন মিন কন্ঠে আওড়ায়,,,
“ব্যাথা পাই।”
“ইটস নরমাল।”
“বেশি…ব্যাথা”

রিফাত হাসলো,,,কণ্ঠস্বরে কেমন প্রমত্ত ভাব।। অন্তর কেঁপে উঠলো ইয়ানার। কেমন কেমন করে উঠলো তার। স্তব্ধভূত হয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো সে। শুকনো ঢুক গিললো সংগোপনে।। এতক্ষণে রিফাত ইয়ানার আঁচলের পিন খুলে ফেলেছে। ইয়ানা কে আরো অস্থির করে তুলতে হাত রাখে উদাম মেয়েলি কাঠামোয়। ইয়ানা নাজেহাল।। ইয়ানা নিজেও চায় না রিফাতকে ফিরিয়ে দিতে,,, সেও এই সম্পর্কের পূর্ণতা চায়। কিন্তু এক অজানা ভয়ে আচ্ছন্ন সে। তার সুদর্শন , শক্তপোক্ত পুরুষকে সামলাতে না পারার একটা ভয় কাজ করছে তার মাঝে।। হ্যাঁ ইয়ানা রিফাত কে বলেছিল ,,সে তার একমাত্র প্রেমিক,, তবে কি এরকম লাগাম ছাড়া প্রেমিক হতে বলেছিল ইয়ানা!?
কানের পাশে চুল সরিয়ে সেথায় গভীর অধর ছোঁয়া দিতেই ইয়ানা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। শরীর অবশ হয়ে আসে,, খামচে ধরে রিফাতের বুকের কাছের পাঞ্জাবি। রক্ত কণিকার বয়ে যায় শীতল শিহরণ। শান্তির প্রাপ্তির অকাঙ্ক্ষিত আশঙ্কায় ঝিমিয়ে পড়ে মেয়েটা। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে কপাল ঠেকায় রিফাত এর প্রশস্থ বুকে,,চনমনে কন্ঠে কোনো রকম বলে,,,” চন্দ্র বিলাস করি! আজ পূর্ণিমা।”

রিফাত উত্তর দেয়না। দিতে মন চায়না তার।। আজ যদি ইয়ানার আবদারে সে পিছপা হয় তবে সকালে আফসোস ছাড়া কিছুই অনুভব করবে না সে। রিফাত জানে ইয়ানা ভয় পাচ্ছে,,,কিন্তু এখন সেই ভয় কে অগ্রাহ্য করেই বুদ্ধিমানের কাজ। আজকের লজ্জার ভাঙ্গন না ধরলে পূর্ণতার চৌকাঠ থেকেই বিদায় নিতে হবে। পাক মেয়েটা ভয়,লজ্জা দিনের শেষে এই অনুভূতি বিদায় নিয়ে সেথায় জমবে পরিণয়ের সুখ।
রিফাত মেয়েটাকে পাজা কোলে তুলে নিলো। ধীর লয়ে তাকে বিছানায় শুইয়ে বাতি নিভিয়ে এগিয়ে এলো লজ্জায় লুটোপুটি খাওয়া প্রেয়সীর দিকে। রিফাত চাইলেই ইয়ানাকে সুম্পূর্ণ নিজের করবে,,,অনুমতির প্রয়োজন নেই তার। কিন্তু রিফাত অনুমতি নেবে,,,এমন অনুমতি যার জবাবে ইয়ানা সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো উত্তরের সুর মিলিয়ে যাবে।। রিফাত ইয়ানার চোখে চোখ রাখে,,,সম্মোহন কন্ঠে বলে,,,,

“ইয়ানা ভালোবাসো না আমায়!”
ইয়ানা মাথা নাড়ায়। রিফাত আরো খানিক ঝুঁকে যায়,,,কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,,,” তাহলে ভয় কিসের! আজকের রাত কি আমার নামে লিখে দেওয়া যায়না!”
ইয়ানার আঁখি চিকচিক করে ওঠে। এক ঢুক গিলে রিফাত এর পাঞ্জাবির কলাট ধরে নিজের সান্নিধ্যে টেনে নেয়। ঠোঁট কামড়িয়ে,গভীর নিশ্বাস ফেলে সুধীর কন্ঠে ফিসফিস ভঙ্গিতে বলে,,,” আপনার নামে লিখে দিলাম আমার সমস্ত রাত্রি। উপহার দিলাম আপনাকে এক প্রনয় রাত্রি।”

রিফাত বিস্তার হাসে। গভীর চুম্বন এঁকে দেয় ইয়ানার কপালে।। আঁটসাঁট হওয়া শাড়ি কৌশলে খুলে ফেললো রিফাত। হাত রাখলো হুকে,,,ইয়ানা কে বিচলিত হয়ে কুকড়ে যেতেও দেয়নি রিফাত।। নিজের শরীরে জড়ানো পাঞ্জাবি ও খুলে ফেললো ফ্লোরে। মেয়েলি কাঠামো কব্জা করে ফেললো নিজ দায়িত্বে। তীব্র অনুভূতিতে লুটোপুটি খেলো দুই আত্মা। গভীর প্রণয় সিক্ত হলো দুই নর নারী। প্রথম বার পুরুষ দেহের উত্তাপে নিজেকে হারিয়ে ফেললো ইয়ানা।। রাত বাড়ে,সাথে বৃদ্ধি পায় প্রণয়ের তাপ। রিফাত এর যত্নশীল স্পর্শে টালমাটাল ইয়ানা। গভীর যন্ত্রণার মাঝেও সুখানুভূতি তে নিষিক্ত হলো প্রাণ।। রিফাত নাক ঘষে ইয়ানার বক্ষ স্থলে। ইয়ানা মুঠো করে ধরে আপন প্রনয় পুরুষের চুল। অধর চুম্বনে বুঁদ হয়ে রিফাত।। ইয়ানা সাড়া দিতে গিয়েও হার মানে। রিফাত এর উন্মাদনার কাছে সে শিশু।। রিফাত অমৃত সুধা পান করতে মত্ত। ইয়ানা আঁকড়ে ধরে রিফাত কে। দেহের উত্তাপে থৈ থৈ দুই চিত্ত। দীর্ঘ হবে এই রজনী।।
ইয়ানার নরম বদনে নিজের আধিপত্য বিস্তারে বেশ বেগ পেতে হলো রিফাত কে।। দুই ধাপ পিছিয়ে এসেও সাহস করে এগিয়ে যায় অনেক খানি। সাথে প্রতিজ্ঞা নিলো,,এই মেয়েকে খাইয়ে গায়ে মাংস আনবে। প্রতি রাতে এরকম সামলে আদর করা রিফাত এর পক্ষে সম্ভব না।। সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তেও রুক্ষতা দেখতে ভুললোনা রিফাত,,,ইয়ানা কে নিজের প্রশস্ত বুকের নিচে দাবিয়ে ফেলতে লাগলো।

ইয়ানা ভ্রু কুঞ্চিত করে,,,সুখ ব্যাথায় দাবিয়ে দেয় নিজের বাড়ন্ত নখ রিফাত এর পিঠে।। সেই পীড়া তুচ্ছ এখন রিফাত এর কাছে।। ইয়ানা শুধু দেখে চলেছে উন্মাদ রিফাত কে। আজ মানুষটাকে নতুন রূপে আবির্ভূত করলো ইয়ানা।। গম্ভীর, জেদী মানুষটির মাঝেও যে এত প্রনয় লুকিয়ে আছে কেও বলবে!? রিফাত ঠিকই বলেছিল সে উন্মাদ হলে ইয়ানা সামলাতে পারবে না,,,আজ সত্যিই তাই হচ্ছে। মাতাল রিফাত কে সামলাতে সীমাহীন বেগ পেতে হচ্ছে ইয়ানা কে।। প্রণয়ে ঘনীভূত হয়ে রিফাত দন্তো কাটে ইয়ানার শুভ্র গলোদেশে সেথায় আবার দৃঢ় চুমুর বর্ষণ ঘটায়। হাতের কঠিন স্পর্শে পীড়ায়, লাজে মাতোয়ারা করে ইয়ানা কে।। ইয়ানা অস্ফুস্থ শব্দ মিলিয়ে যায় কোথাও। শুধু কানে আসে রিফাত এর ভারিক্কি নিঃশ্বাস এর আওয়াজ। বহিরাগত চাঁদের আলো এসে ইয়ানার আংটির চকচকে পাথরের উপর পড়ে। জানালার পর্দা ভেদ করে দেখা যাচ্ছে পূর্ণ চাঁদ।। এই রাতের সাক্ষী চাঁদ নিজে।। চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি রিফাত যত্ন নিয়ে মুছে দেয়।

দীর্ঘ এক প্রনয় রাত্রি যাপন করে ক্লান্ত দুই নারী পুরুষ।এঁ্যঠে গিয়েছে সীমাহীন সুখের কবিতা।।
চারি দিকে আযানের ধ্বনি ভেসে এলো। আধাঘন্টা আগে সামান্য বুজে আসা চোখ খুলে ফেললো রিফাত। পাশে তাকাতেই দেখলো তার ছোট্ট বউ ঘুমে বিভোর। টকটকে ঠোঁট জোড়া,,,সামান্য ফুলে আছে কিনারে। পাতলা চাদরে আবৃত দুই মানব মানবী। রিফাত ইয়ানার উমুক্ত কোমড়ে হাত রেখে আরো কাছে টেনে আনে। কপালের উপর চুল সরিয়ে দেয়। অতঃপর গলায় মুখ গুঁজে এঁকে দেয় শক্ত চুমু। নড়েচড়ে ওঠে মেয়েটা। রিফাত ইয়ানার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর মাখা কন্ঠে বলে,,,

“ফ্রেশ হয়ে,এক সাথে নামাজ পড়ে ঘুমাবো ইনু। গোসল করলে ভালো লাগবে।”
ইয়ানা ঘুমায়নি। শরীর মৃদু ব্যাথায় টনটন করছে। ধীর স্থিরভাবে চোখ খুলে তাকায় ইয়ানা।। ঝিমঝিম করছে মাথা। লাজে একাকার সে।
মৃদু হাসে রিফাত। দুই জনে গোসল শেষে,উযূ করে এসে এক সাথে নামাজ আদায় করে। মোনাজাতে নিজেদের সুন্দর,প্রেমময় সংসার চায় পরম দয়াময় আল্লাহর কাছে।। অতঃপর পাটিতে বসেই রিফাত ইয়ানার ললাটে দীর্ঘ শক্ত চুমু খেয়ে গালে হাত রেখে বলে,,,
“শরীর খারাপ লাগছে ইনু! খবরদার লজ্জা পাবে না,,,যা সমস্যা খুলে বলো।।”
ইয়ানা লাজুক হেসে মাথা নামিয়ে রাখলো।
লাজে রাঙা হয়ে গেলো মুহূর্তেই। রিফাত আদুরে কন্ঠে আবারও বললো,,,
“শুকরিয়া আদায় করার ভাষা নেই ইয়ানা।। তুমি আমার জীবনে আসা রহমত।। আমি আজীবন তোমাতেই আটকে থাকতে চাই।”

“আমিও।”
“সুইজারল্যা্ড এ থাকতেই আমি তোমার মোহরানা আদায় করে দিয়েছিলাম।। ডিটেলস্ দেখেছিলে?”
ইয়ানা মাথা নাড়ায়। না বোঝায়। জিজ্ঞেসু মূলক দৃষ্টি মেলে তাকাতেই রিফাত তাকে আমাউন্ট তথ্য বোঝাতেই ইয়ানা বৃহৎ আঁখি মেলে তাকায়। অবাক লয়ে শুধায়,,,”এত টাকা নিয়ে আমি কি করব!”
“স্টুপিড,,,ওটা তোমার প্রাপ্য।”
“দিলেন কেনো? আমার লাগবে বলেছি! নিয়ে নেবেন আবার।”
“মোহরানা আদায় করা ওয়াজিব। মোহরানা আদায় করা ছাড়া স্ত্রীর কাছে আসা গোনাহ্। বুঝলে মিসেস।।”
ইয়ানা জিব কাটে। রিফাত এর কথার অর্থ বুঝতে পেরেই লাজে রাঙা হয়। রিফাত টুপ করে ইয়ানার অধরে চুমু দেয়। বলে,,,

“আর লজ্জা পেতে হবে না।। ওঠো ঘুমাবে,,, নাকি এখানেই বসে থাকার ইরাদা আছে,, হু!!”
ইয়ানা ঝটপট উঠে পড়ে,,,বড়ো হিজাব খুলে বিছানায় শুয়ে যায়। মুহূর্তেই নিজের ঠোঁটের কোণে শীতল কিছু অনুভব করতে তড়াক করে উঠে। দেখে রিফাত ঠোঁটের জখোমে জেল লাগাচ্ছে। অতঃপর টি – শার্ট কাধ থেকে সরিয়ে সেখানে কিছু জায়গায় জেল ছোঁয়ায়।। কেপে ওঠে ইয়ানা। রিফাত গায়ে চাদর টেনে ইয়ানা কে বুকে নেয়। হাত পৌঁছায় টি শার্টের আড়ালে। মেয়েটাও বিড়াল ছানার মত গুটিয়ে শুয়ে থাকে রিফাত এর বুকে।। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে রিফাত। ইয়ানা চোখ বুঝে শুয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই শুনতে পায় রিফাত এর কন্ঠ,,,
“ইনু,,,তোমায় আমি প্রতি রাতে চাই। তুমি আমার নিজস্ব সাদা গোলাপ। যার সুঘ্রাণে আমি মাতোয়ারা সর্বক্ষণ।”
থৈথৈ অনুভূতিতে আচ্ছন্ন মেয়েলি কাঠামোয় মোড়ানো হৃদয়। ইয়ানার নাক লাল রাঙা হয়। ঠোঁট কামড়ে মুখ গুজে দিল রিফাত এর বুকে। রিফাত কিঞ্চিৎ হাসে।। চুলের ভাঁজে ঠোঁট ছুঁইয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন হয় দুই ভালোবাসার পাখি।।

সকালের নাস্তার টেবিল পাওয়া যায়নি রিফাত ইয়ানা কে।। কেউ আগ বাড়িয়ে ডাকতেও যায়নি তাদের।। এদিকে তোড়জোড় শুরু হয়েছে রান্নাঘরে,,,বাড়ির দুই ছেলে মেয়ের জন্মবার্ষিকী বলে কথা। হাফিজ দের পুরো পরিবার সহ কিছু আত্মীয় স্বজনের দাওয়াত। এদিকে আহিল, আতিকা,,, দানিশ, রুতবা দের ও আমন্ত্রণ করতে ভুলুনি। নানান রকমের খাবার তৈরি হচ্ছে,,,হাফজা বেগম,ইয়াসমিন, আসফিয়া সবাই নিয়োজিত পাকঘরে।।
কলার্ট দেওয়া ফুল হাতা চুড়িদার প্লাযু পড়েছে ইয়ানা। গলায়,কাধে,ঘাড়ে রক্তিম চিন্হ ভরপুর। ইয়ানার জন্য এটা রিফাত এর দেওয়া প্রেম প্রতীক।। মাথায় ওড়না চাপিয়ে নিজেকে একবার আয়নায় দেখে লাজুক হাসে।। আজ যেনো ইয়ানা কে আলাদা লাগছে,,,সুহাসিনী আজ পূর্ণময়ী। রিফাত এর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এই মেয়ে আজ নারী।। বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে থাকা রিফাত এর দিকে এক নজর তাকিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো ইয়ানা।।
রান্নাঘরের দরজায় দাড়িয়ে ইয়ানা হা! আসফিয়া ইয়ানা কে দেখেই মুচকি হাসে বলে,,,”শুভ জন্মদিন ইনু। কালকের অভিনয় কেমন লাগলো!”

ইয়ানা চোখ ছোটো করে বলে,,,”ধন্যবাদ। খুব বাজে আন্টি মা,,,তোমরা সবাই আমায় কাদিয়েছো।”
“কিচ্ছু করার ছিল না না। রিফাত এর হুকুম পালন করেছি আমরা শুধু।”
ইয়ানা ঠোঁট বাঁকায়। বলে,,,”খিদে পাচ্ছে আন্টি মা,,,কিছু দাও।”
ইয়াসমিন বেগম ইয়ানা কে খাবার দেয়।। ইয়ানা ও চুপ চাপ খেয়ে নেয়।। পেটে যেনো ইদুর দৌড়াচ্ছে। খাওয়া শেষে মনে পড়ে রিফাত এর কথা,,,জীভ কাটে। ইশ খাওয়ার চোটে মানুষটাকে ভুলেই বসেছিল।। এরই মধ্যে আসফিয়া বেগম প্লেটে খাবার গুছিয়ে,এক মগ কফি ইয়ানার হাতে ধরিয়ে দেয়। ইয়ানা বোঝে। কথা না বাড়িয়ে রুমের দিকে যায়।।
দরজা খুলতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় ইয়ানা।। রিফাত উদাম শরীরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কি যেনো দেখে চলেছে সে। ইয়ানা চাপা ঢুক চিপে। প্রথমে লজ্জায় রাঙা হলেও পরক্ষণে চোখে জোর দিলে স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ফর্সা পিঠে নখের আঁচড়, লাল হয়ে আছে জায়গায় জায়গায়।। ফর্সা সুঠাম দেহে তারার মত জ্বল জ্বল করছে সেই কাঙ্ক্ষিত দাগ।। ইয়ানা অস্পষ্ট স্বরে বলে,,,

“আপনার পিঠে,,,”
বাকিটা বলার আগেই রিফাত ঘুরে দাঁড়ায়। আবারও স্পষ্ট হয় রিফাতের ফর্সা কান, ঘাড় এবং কাঁধের কিছু অংশ আঁচড়ের দাগ। ইয়ানা বোঝে এটা তারই কর্ম। কিভাবে কি হয়ে গেল সে তো নিজেও জানে না।। হাতের প্লেটটা টেবিলে রেখে চিকচিক নয়নে এগিয়ে যায় রিফাতের দিকে।। সামনে দাঁড়িয়ে হালকা আঙ্গুলে ছুঁয়ে দেয় কাধের লাল হওয়া অংশে। কিঞ্চিত ব্যথায় চোখ কুঁচকে ফেলে রিফ াত । ইয়ানা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,
“আমি করেছি। তাই না!!”
“আমি কিছু বলেছি তোমায়!!”
“সরি,,,আমি বুঝতে,,,,”

পুরো বলতে পারে না ইয়ানা। তার পূর্বেই রিফাত নিজের তর্জনি আঙ্গুল চেপে ধরে ইয়ানার অধরে।,,
“চুপ,,,একদম চুপ।। এটা স্বাভাবিক,,,এত ভবার কিছু নেই।। বিছানায় বসছি,,ড্রয়ারে মলম আছে লাগিয়ে দাও।”
ইয়ানা মাথা কাত করে। রিফাত বসে বিছানায়। ইয়ানা হালকা হাতে মলম লাগিয়ে দিল সব জায়গায়।। শেষে ইয়ানা সরে যেতে নিলে রিফাত আটকায়।জড়িয়ে ধরে নিজের কোলে বসিয়ে নেয় ইয়ানা কে।। অতঃপর ইয়ানার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে পরখ করে নখ।। সেরকম বড়ো নখ নয় ইয়ানার। কিন্তু যতটাই আছে তাহ বেশ ধরলো সেটা রিফাত গত রাতেই অনুভব করেছে।। রিফাত শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় ইয়ানার পানে,,,বলে,,
“তবে কি রোজ রাতে এরকম সাংঘাতিক আঁচড় খেতে হবে!”
ইয়ানা বলে,,”কেটে দেবো।”
“ছোটোই তো। বড়ো হলে আমি নিজেই কেটে দিতাম।”
“আরও ছোটো করে দেবো।”
সামান্য ভার অনোনে বলে ইয়ানা।। রিফাত হাসে! ইয়ানা দেখা না, শোনেও না তবে অনুভব করে রিফাত এর হাসি।।

সন্ধ্যা হতেই বাড়ি ভর্তি লোকজন সৃষ্টি হয়। আপন কিছু মানুষদের নিয়ে আজকের সমাগম। ইয়ানা রিফাত এর গিফট করা একটা আকাশি রঙের জামদানি শাড়ি পড়েছে,,সাথে ম্যাচিং হিজাব। নাকে ছোট্ট নোস পিন,চোখে কাজল ব্যাস এটুকুতেই ইয়ানা অপরূপা লাগছে।। রুমে ইয়ানা,আতিকা, রূতবা বসে আড্ডা দিচ্ছে। ব্যালকনিতে সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ব্যাস্ত তিন বন্ধু। দানিশ শুরু করলে রিফাত আর আহিল ও হালকা টান দেয়। আহিল্ চেইন স্মোকার হলেও আতিকার জন্য সে সম্পুর্ণ সিগারেট বর্জন করে কিন্তু আজ দানিশ জোর করতে এক দুই টান দেয় আহিল। রিফাত ও প্রথমে না করে পরে সেও টান দিয়ে ধোঁয়া ওড়ায় বাতাসে। অবশ্য মাঝে মাঝে রিফাত কোণা চোখে ইয়ানা কে পরখ করছে। হাতের আধ খাওয়া জ্বলন্ত সিগারেট ফেলে দিয়ে জুতোর তোলে পিষে ফেলে। ইয়ানা দেখলে রাগ করবে। মেয়েটাকে আজ অত্যাধিক আকর্ষণীয় লাগছে। রিফাত নিজেকে যে কি ভাবে দমিয়ে রেখেছে তাহ কেবল সেই জানে।।

আহিল সেন্টার ফ্রেশ গালে দিয়ে রিফাত এর দিকে সূক্ষ দৃষ্টিতে তাকায়। অতঃপর হাত বাড়িয়ে ঘোষে দেয় রিফাত এর ঘাড়ের লাল হয়ে থাকা জায়গায়। রিফাত ভ্রু কুঁচকে গরম চোখে তাকায় আহিল এর দিকে। ছেলেটা মিটি মিটি হাসছে। দুষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে,,
“জংলী বিল্লির আঁচড় লেগেছে রিফাত,,, জ্বলে নাকি!?”
রিফাত দুই তো ঢুক চিপে আড়ালে। অতঃপর ভ্রু নাচিয়ে বাঁকা হেসে আহিল এর দিকে এগিয়ে ফিচলে কন্ঠে বলে,,,
“এই আঁচড় খেতে ভাগ্য লাগে ব্রাদার। অনেকে বিয়ে করেও এই ভাগ্য হলো না। আমার জ্বলছে না জ্বলে তো অন্য কারোর।”

বলেই চোঁখ টিপ মারল রিফাত। একটা পকেটে হাত ঢুকিয়ে অন্য হাতের আঙ্গুল চালিয়ে সামনের চুল ঠেলে দেয়।। এদিকে আহিল বোঝে রিফাত এর কথার অর্থ। বেচারা রিফাত কে লজ্জা দিতে গিয়ে নিজেই ফ্যাসাদে পড়লো। মনে মনে দুঃখ পেলো বেজায়। বিয়ে হয়েছে দুই মাসের উপরে কিন্তু এখনও সিঙ্গেল লাইফ এর স্বাদ পায় সে। রিফাত যেনো তার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিলো,,, ফুঁসে উঠলো ছেলেটা। লম্বা শ্বাস নিয়ে চট পট বললো,,,
“কালকেই যাবো শ্বশুর বাড়ি বউ আনতে। আর এই খোটা নেওয়া যাচ্ছে না। শ্বশুর না করলে বউ কাধে করে নিয়ে আসবো তবেই শান্তি হবে আমার।”

আহিল এর কথায় দানিশ হো হো করে হেঁসে উঠল।রিফাত ঠোঁট চিপে হাসছে। বেচারা আহিল দাত কটমট করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।। দানিশ হাসি থামিয়ে হঠাৎ কিছুটা সিরিয়াস হয়,,, থ্যাই গ্লাস হতে একবার রুতবা কে দেখে নিয়ে রিফাত এর দিকে তাকায়। কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলে,,,
” রুতবার বিহেভিয়ার আজ কাল কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে রিফাত।। ঠিক ঠাক কথা বলে বলে না,,,মাঝে মাঝেই রেগে যায়,বিনা কারণে কেঁদে ওঠে।। কিছু জিজ্ঞাসা করলেও বলে না। প্রচুর টেনশন হচ্ছে রিফাত। তুই তো ডাক্তার কোনো উপায় বল,,,”
দানিশ এর সমস্ত কথা মনে দিয়ে শুনলেও শেষের কথায় ক্ষেপে ওঠে আহিল। তেতে উঠে বলে,,,

“এই শালা,,,আমাকে কি নাসার বিজ্ঞানী পেয়েছিস। আমিও ডাক্তার,,,”
দানিশ মুখ চেপে হাসে। আহিল কে রাগাতেই সেই কাঙ্ক্ষিত কথাটি বলেছে। দানিশ আহিল এর কাধে হাত রেখে বলল,,,”আপাতত তুই বউ কে কাছে আনার ব্যাবস্থার কথা ভাব। তোর গাড়ি যে জ্যাম এ আটকিয়ে আছে তার জন্য তোর শ্বশুরকে গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে। ইশ বেচারা গিয়ার যেনো জং ধরে না যায়।”
আহিল চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালো। দুই বুন্ধ তার মজা নিচ্ছে। সেও দেখে নেবে এই দুইজন কে। আহিল বেশ খতরনাক একটা গালি দেয় দানিশ কে। রিফাত চোখ গরম করে তাকায়। আহিল ঢোক গিলে হাসার চেষ্টা করে। দানিশ হালকা হেসে রিফাত এর কাধে হাত রেখে অনুনয় এর সুরে বলে ওঠে,,,
“ভাই,,,ওষুধ দে বউ এর মনের কথা জানার। নাহলে দিনে দিনে আমি বউ এর শোকে পাগল হয়ে যাবো।”
রিফাত রুদ্ধ শ্বাস ছাড়লো। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে কিছু ভেবে গম্ভীর স্বরে বলে,,,”প্রেগনেন্সি তে এই ধরনের আচরণ স্বাভাবিক। ওর পাশে থেকে ওকে সাপোর্ট কর।”

রিফাত এর তাকায় দানিশ এর দিকে। ছেলেটা পুরোই অবাক নজরে তাকিয়ে আছে রিফাত এর দিকে। সে যেনো অদ্ভুত কিছু শুনলো রিফাত এর মুখ থেকে। স্তব্ধ হইয়া গেছে দানিশ। মুহূর্তেই মুখের আদলের পরিবর্তন হলো,,,খুশির ঝিলিক দেখা গেলো তার চেহারায়। জীভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়,,,চোখ ছোটো করে অবিশ্বাস্য ভাবে বলে ওঠে,,,” রিফাত আর ইউ শিওর দ্যাট রুতবা ইজ প্রেগন্যান্ট?”
রিফাত ভ্রু কুঞ্চিত করে তাকায়।। খানিক বিস্মিত ভাব প্রকাশ করে বলে,,,”টেস্ট করাসনি?”
“আমার মাথায় আসেনি বিষয়টা।”
“গাধা কোথাকার।”
“ভাই,,,আমি ,,,আমি এখনি যাবো।”

বলেই দশিক হওয়ার বেগে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে রুতবার দিকে তাকিয়ে তাকালো অনিমেষ দৃষ্টিতে। মনের মধ্যে ঝড় বইছে তার।। এদিকে রিফাত আর আহিল ও রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আতিকা, রুতবা,ইয়ানা তাকিয়ে রইল তাদের যাওয়ার দিকে। তিন বন্ধু পর পর রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তারা অবাক।। আতিকা বলে,,,
“এদের আবার কি হলো?”
ইয়ানা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,”জানি না।”
“ভালোই হয়েছে চলে গেছে।”
বলেই হেসে উঠলো রুতবা। সাথে ইয়ানা আর আতিকা ও।।

“কার সাথে এত দাত বের করে হেসে হেসে কথা বলছিস!?”
আলেয়া চট করে পিছন ফিরে তাকায়। হাতে থাকা ফোন নামিয়ে নিলো। হালকা মেজেন্ডা কালারের গাউন সাথে এক পাশে নিয়েছে ওড়না অন্য কাধের থেকে সামনে নেমে রয়েছে ঢিলা বিনুনি। হাফিজ টাস্কি খায়। মেয়েটাকে আজ কাল এত ভালো লাগে কেনো! আলেয়া ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না সে,,,মেয়েটা তাকে জ্বালিয়ে মারছে,সেটা কি এই আধপাগল জানে!? আলেয়া ঢেঁকুর গিলে সাভাবিক কন্ঠে বলে,,,
“ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছিলাম। কিছু বলবে!”
হাফিজ গলা কেশে উঠলো। এক পকেটে হাত ঢুকিয়ে এগিয়ে আসে আলেয়ার দিকে।। মেয়েটার হাত থেকে ফোন নিয়ে লাউডস্পীকারে দেয়।। ওপাশের ব্যক্তিটি আলেয়াকে চুপ করে থাকতে দেখে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে ওঠে,,,”হ্যালো হ্যালো আলেয়া,, আর ইউ দেয়ার!”
আলেয়া এক পলক হাফিজ এর দিকে তাকায় অতঃপর বলে,,,”হ্যাঁ,,,আমি শুনতে পাচ্ছি।”
ওপাশের ছেলেটি আশ্বাস পায় আলেয়ার কন্ঠে,,,”কালকে তুমি স্কুলে আসবে আলেয়া আসলে আমার তোমাকে কিছু বলার ছিল।”

হাফিজ ছোট ছোট করে একবার ফোনের দিকে আরেকবার তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলেয়ার দিকে তাকায়। মেয়েটাও ওপাশের ছেলেটির কথায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়।। আলেয়া জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়,, ফোন কেটে দিতে চাইলে হাফিজ হাত সরিয়ে নেয় খুবই ধীর কণ্ঠে দাঁতে দাঁত পিছে বলে,,,
“কথা শেষ কর।”
আলেয়া কেঁপে ওঠে। সুধীর কন্ঠে ফনের ওপাশের ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলে,,,”আসলে আমার স্কুলে যাওয়ার কোন প্ল্যান নেই তোমার যা বলার এখানেই বলতে পারো।”
কথাটি বলেই কোণা চোখে তাকায় হাফিজ এর দিকে। ছেলেটার কেমন করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আলেয়ার বুক ধুকপুক করে ওঠে। কেন জানি আজ তার ভয় করছে হাফিজ এর থেকে।। আলেয়ার জবাব পেয়েই ফনের ওই পাশের ছেলেটি কিছুটা অসন্তুষ্ট হয় তারপরেও শ্বাস টেনে বলে,,,
“আসলে আমি তোমাকে এটা অনেকদিন আগে থেকেই বলতে চাইছিলাম,, চেয়েছিলাম সামনাসামনি বলব।। যেহেতু সামনাসামনি বলার কোন উপায় তুমি রাখছো না ,,,তাই ফোনে বলছি আই লাভ ইউ,, আমি তোমাকে ভালোবাসি আলেয়া।”

ওই পাশের ছেলেটির বলা কথাটির সাথে সাথেই এক বিকট আওয়াজ হল,, মুহুর্তের মধ্যেই মুঠো ফোনটি ফ্লোরে চূর্ণ-বিচূর্ণ অবস্থায় পড়ে রইল। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইল তার পার্টস।। এদিকে আলেয়া থরথর করে কাঁপছে। তার অন্তর আত্মা শুকিয়ে গিয়েছে। হাফিজ রাগী ছেলে না,,,তবে একবার রেগে গেলে তাকে সামলানো মুশকিল।। আলেয়া তীব্র আতঙ্ক নিয়ে রুম থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই হাফিজ তাকে ধরে ফেলে। হেঁচকা টানে নিজের বুকের উপর ফেলে তাকে।। কোমর জড়িয়ে মিশিয়ে ফেলে ছোটো মেয়েটাকে। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে দিক বেদিক হারিয়ে ফেলেছে হাফিজ। কি করছে সেটা ও নিজেও টের পাচ্ছে না।। আলেয়ার নরম দুই গাল চেপে ধরে,,,মুখ নিজের মুখের কাছে টেনে এনে দাঁতে দাঁত পিসে বলে,,,
“প্রেম করার শক জেগেছে মনে! প্রেমিক ঘোরাস আশেপাশে! আমাকে চোখে পড়ে না,,দেখলে বুঝিসনা আমি কি ফিল করি!? আমার বুক জ্বলছে আলেয়া,,,”

ব্যাথায় টনটন করছে গাল দুটো। আলেয়া ঠোঁট নাড়াতে পারছে না। তাও কোনো রকম বলে,,,
“আমি প্রেম করিনা,,,কাওকে ঘরাই না। ছাড়ো,,হাপানি রোগী,,,লাগছে আমার। ছাড়ো,,,,”
আলেয়া হূ হূ করে কেঁদে ফেলে এবার।। সাথে সাথেই চেতনা ফিরে পায় হাফিজ। ঝট পট আলেয়াকে দূরে ঠেলে চুল খামচে ধরে। ইসস,,,কি করলো সে! হাফিজ বিচলিত হয়ে আলেয়াকে ধরে বিছানায় বসায়। সে হাঁটু মুড়ে তার সামনে বসে। চোখের পানি মুছিয়ে পানি খাওয়ায় মেয়েটাকে। নিজেকে সংযত করে আলেয়ার অনন নিজের দুই হাতের মাঝে নেয়,,,শুকনো ঢুক চিপে বলে,,,
“সরি,,সরি আলু। ব্যাথা পেয়েছিস,,,আমি বুঝতে পারিনি। প্লিজ,,,কাদবিনা,,,আমি অনেক সরি।”
আলেয়া ঠোঁট ফুলিয়ে তাকায় হাফিজ এর দিকে। ছেলেটা কেমন অস্থির। হাফিজ আবার ও বলে,,,
“ওই ছেলেটার থেকে দূরে থাকবি আলু। না না সব ছেলদের থেকেই দূরে থাকবি।। তোর যা প্রয়োজন আমায় বলবি,,,আমি তোর সব কথা শুনবো।।”

আলেয়া এবার ঠোঁট বাঁকায়। মুখ ভার করে বলে,,,”তুমি আমার সব কথা শুনবে কেনো?”
হাফিজ রুদ্ধ শ্বাস ছাড়লো। মেয়েটা কবে তাকে বুঝবে!? যত দিন যাচ্ছে হাফিজ এর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে যেনো। জীভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায় হাফিজ,,,শান্ত কণ্ঠে বলে,,,
“কারণ আমি পাগল হয়ে গেছি। শুনেছিস! আর খুব শীঘ্রই আমি নিজের পাগল হওয়ার ওষুধ নিজের কাছে আনবো।”
আলেয়া নাক টানে। মেয়েটা কিছুই বোঝেনি। আলেয়া নিজের গালে হাত বুলায়,,,এখনও ব্যাথায় টনটন করছে। আলেয়া ঢোক গিলে গমগমে কন্ঠে বলে,,,
“আমার মন টা একটু মায়া মায়া তাই আজ ছেড়ে দিলাম তোমায়। এর পর আমার উপর রাগ দেখালে বিচার দেবো ছোটো মায়ের কাছে।”
হাফিজ কিঞ্চিৎ হাসে। হঠাৎই আলেয়ার পিঠে হাত রেখে নিজের কাছে টেনে আনে। আলতো ভাবে জড়িয়ে ধরে হাত বুলিয়ে দেয় মেয়েটির মথায়। বলে,,,
“একবার আমার হয়ে যা আলু,,,বিশ্বাস কর দুনিয়ার সকল সুখ তোর কোলে এনে হাজির করবো।।”

রুতবা বেজার হয়ে খাটের কোণে বসে আছে। হাতে তার দুইটো লাল দাগ বিদ্যমান প্রেগনেন্সি কিট।। কিছুক্ষণ পূর্বেই দানিশ একপ্রকার হাপাতে হাপাতে রুমে প্রবেশ করে,, তাকে দেখে ইয়ানা আর আতিকা নিঃশব্দে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। স্পেস দেয় দানিশ আর রুতবা কে।। খসখসে প্যাকেটের মধ্যে থাকা পাঁচটা প্রেগনেন্সি কিট রুতবার হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে এক প্রকার ঠেলে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর কিঞ্চিৎ সুর উঁচু করে বলে,,,
“আব্বু হওয়ার সুখবর দাও।”

রুতবার চেতনা ফেরে দানিশের ঝাপটে ধরায়। মানুষটা আনন্দে দিশেহারা। আব্বু হওয়ার সুখে আচ্ছন্ন পুরুষ সত্তা।। কিন্তু দানিশকে অবাক করে রুতবা ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে, বিচলিত হয় দানিশ।।
চমক ভাব স্পষ্ট তার মাঝে,, আপন নারীর অনন তুলে ধরে।। গলা কাঁপিয়ে বলে,,,
“তুমি খুশি হওনি মিষ্টি!? শিট,,,,আমার সাবধানে থাকা উচিত ছিল। সো সরি সোনা,,,তুমি চাইলে আমরা,,,”
পুরো কথা শেষ করতে পারল না দানিশ ।তার আগেই রুতবা নিজের চিকন অধর ধারা দানিশ এর অধরে শক্ত একটা চুমু খায়। অতঃপর কাঁদতে কাঁদতে এলো পথারি কিল ঘুসি বাসায় দানিশ এর বুকে।। নাক টেনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদঁছে মেয়েটা। দানিশ ভ্রু কুঁচকায়,,ঠোঁটের মাঝে সামান্য ফাঁকের দেখা মেলে। রুতবার আচরনে সে হতভম্ব।বেকুব। কি হলো তার বউ এর। মনের প্রশ্ন মুখে প্রকাশ করতেই,, রুতবা ফুপিয়ে উঠে বলে,,,
“এত কেন বোঝো আমায় ! এত কেন ভাবতে হবে আমাকে নিয়ে!,,, আমার সব প্ল্যান তুমি বিফল করে দিলে। ভেবেছিলাম সুন্দর একটা মুহূর্ত দেখে তোমায় বলবো যে, আমি তোমার বাবুর মা হতে চলেছি। কিন্তু তুমি কি করলে!!”
দানিশ বিমূঢ় হয়ে বললো,,,”তার মানে তুমি জানতে!”

“তেরো দিন আগে জেনেছি।।”
“আমাকে বলার প্রয়োজন মনে হয়নি!”
“বলতে চেয়েছিলাম।”
“কবে! ডেলিভারির পরে!?”
“রাগছো কেনো!? অভিমান করার কথা তো আমার।।”
দানিশ দুটো নিশ্বাস ত্যাগ করে। তার রাগ হলেও এখন তাহ প্রকাশ করা বারণ।। রুতবা টেনে তোর ললাটে গভীর চুম্বন এঁকে দেয়। গালের ভাঁজে হাত রেখে বলল,,,” আর অভিমান করা লাগবে না আমার বাবুর মা।”
হাসে রুতবা। ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে নিজেকে। লজ্জায় মুখ নামিয়ে আনলো সে। দানিশ হালকা হেসে জড়িয়ে নিল তার বউ কে।

“ছরি আন্তি।”
মুহূর্তেই সামিয়া ইয়ানার গায়ে এক গ্লাস জুস ফেলে দিয়েছে। কিন্তু ইয়ানার ঠোঁটের কোণে শীতল হাসি। সামিয়ার গালে আলতো হাত বুলিয়ে বলে,,
“ইটস ওকে সামু বেবি,,,আন্টি কিছু মনে করেনি।”
সোফা ছেড়ে উঠে যায় ইয়ানা। সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই শুনতে পায় রুতবা আর দানিশ এর আওয়াজ। রুমে প্রবেশ করতে দিয়েও সরে আসে। দ্রুত গতিতে আসায় শাস ভারী হয় ইয়ানার।। তার সমস্ত জমা কাপড় এই রুমে,,,আবার তাদের ডিস্টার্ব করতে ও মন চাইছে না।। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো কেও নেই। সবাই ড্রইং রুমে নিচে।। ইয়ানা ঠোঁট কামড়িয়ে আগের নিজের বরাদ্ধ করা রুমে ঢুকে পড়ল। মেয়েটা হাঁপিয়ে গেছে একদম। লম্বা শ্বাস টেনে দরজা লাগিয়ে হিজাব খোলে,,,অর্ধেক শাড়ি খুলতেই দেখে রিফাত তার ব্যালকনি থেকেই বেরিয়ে আসছে। কানে তার ফোন।।

রিফাত এর দৃষ্টি ও ইয়ানার অর্ধ উন্মুক্ত মেদহীন মসৃন বদনের দিকে। দৃষ্টি তার নিষিদ্ধ স্থানে পড়তেই শুকনো ঢেঁকুর গিললো। ফোনটা আবার কানে নিয়ে ভরাট কন্ঠে ‘ কল ইউ লেটার ‘ বলে কেটে দিল।। ইয়ানা এদিকে স্তব্ধ খেয়ে দাড়িয়ে রইল। ক্ষণিককাল যেতেই বাস্তবে ফিরে ঝট পট শাড়ী জোড়ায়। বউ এর আরক্ত চেহারা দেখে রিফাত তীক্ষ্ণ হাসে অগোচরে। নিজ ঘাড়ে হাত ঘষে।
ইয়ানা কে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলতে দেখে রিফাত এগিয়ে আসে,,,পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে,,,
“পানি খাও। হাঁপাচ্ছো কেনো?”
ইয়ানা পানি খায়। মেয়েটাকে বিছানায় বসিয়ে তার সামনে হাঁটু ভেঙ্গে বসে রিফাত। অবাধ্য চুল কানের পিছে গুঁজে দেয়। চোখে পড়ে মায়াবিনীর বুকে,ঘরে,কাধে তার দেওয়া চিহ্ন। রিফাত দৃষ্টি সরায়।। আদুরে কন্যার গালে হাত রেখে মোলায়েম কন্ঠে বলে,,,

“জোরে শ্বাস নিওনা ইনু। কি হয়েছে! চেঞ্জ করবে কেনো?”
“সামু শাড়িতে জুস ফেলে দিয়েছে। সিঁড়ি ভেঙ্গে দ্রুত উপরে এসছি তাই,,,,,, এই রুমে কেউ নেই ভেবে দ্রুত চেঞ্জ করতে যাচ্ছিলাম আর আপনি তখনই ব্যালকনি থেকে বেরিয়ে এলেন,,, ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আমি।”
বুকের উপর হাত রেখে জবাব দেয় ইয়ানা।। রিফাত আজ জিন্স সাথে অফ্ হোয়াইট রঙের শার্ট পড়ছে, হাত কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা যার দরুন ফর্সা পেশী বহুল লোমশ হাত নজর কাড়ছে। কপালে কিছু চুল নিজের আস্তানা জমিয়েছে,,,গভীর চোখের ওপর গোল ফ্রেমের চশমা। চাপ দাড়ি,,শুষ্ক অধর।। বাঁকা চোখে ইয়ানা রিফাত এর কে দেখছে। তির্যক হাসে রিফাত,,,,

“লুকিয়ে দেখছো কেনো! ভালো করে দেখো,,, তাকাও আমার দিকে।”
“উম”
“এরকম শব্দ করে না,,,বাহিরের মানুষ শুনলে খারাপ নেবে।”
ইয়ানা হকচকিয়ে যায়। বিড়বিড় করে বললও ‘ অসভ্য ‘ ।শুনে ফেলে রিফাত।
“আমি চরম অসভ্য শুধু মাত্র তোমার জন্য। আমার সাধের বউ তো তুমি।”
কথাটি আওড়ায় ধীরে সুস্থে। ঠোঁট ঠেকায় ইয়ানার লাল হয়ে আসা কানের লতিতে। ইয়ানা পিছিয়ে যেতে গেলেও পরে না। রিফাত ইয়ানার পৃষ্ঠদেশে বৃহৎ হাতের থাবায় আটকিয়ে নেয়।। পর পর চুমুর বৃষ্টিপাত ঘটায় গ্রিবাদেশে। ইয়ানা খামচে ধরে রিফাত এর বহু। নড়বড়ে হয় বদন।। শাড়ির আড়ালে হাতের প্রবেশ ঘটতেই রিফাত মাথা তোলে। শাড়ির বেশির ভাগ ভিজে।। রিফাত উঠে দাড়ায়,,,বেসামাল হতে গিয়েও হয়নি। ফিচলে স্বরে বলে,,,

“এখানে বসো আমি কামিজ নিয়ে আসছি।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই রিফাত ইয়ানার জামা নিয়ে আসে। ইয়ানা ঝট পট ওয়াশরুমে ঢুকে চেঞ্জ করে বেরিয়ে আসে। এক সাথে নিচে নেমে আসে দুইজন।
অতঃপর হাসি মজার সাথে পার হয় সময়।। অবশেষে আহিল দুই থাকের কেক নিয়ে হাজির হয়। ইয়ানা আর রিফাত এক সাথে কেক কাটার মাধ্যমে সবাই করতালি দিয়ে ওঠে। অভিনন্দন জানায় সবাই। এক সাথে নানান ছবি তুলতে ভুললো না কেউই। ইয়ানা লজ্জা পেলেও রিফাত তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি তোলে।।
ইয়ানা সামিয়া কে কোলে নিয়ে বসে আছে। পাশে রুতবা বসে। হাসি হাসি মুখ ইয়ানার কানের কাছে কিছু একটা বলতেই ইয়ানা রীতিমত লাফিয়ে ওঠে। এক হাত দিয়ে রুতবা কে জড়িয়ে ধরে,,,ঠোঁটের কোণে বিস্তার হাসি নিয়ে বলে,,,”কগ্রচুলেশন আপি। ”

“ধন্যবাদ,,,এবার তোমাদের শুভ খবর শুনতে চাই ইয়ানা। রিফাত কে বলে একটা বেবি নাও”
ইয়ানার হাসি মিলিয়ে যায়। মনে পড়ে ফোনে বলা রিফাত এর কথা। তাও নিজেকে সামলিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলে,,,”ইনশা আল্লাহ্ আপি।”
ইয়ানা খুশির চোটে সামিয়া কে কোলে নিয়ে একপ্রকার সোফা ছেড়ে দৌড়ে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রিফাত এর কাছে যায়। ইয়ানা কে দৌড়ে আসতে দেখে রিফাত তেজী কন্ঠে বলে,,,
“আস্তে ইনু,,,পড়ে যাবে তো।”
ইয়ানা রিফাত এর সামনে দাড়িয়ে ভারিক্কি ভাব নিয়ে হাসলো।
“কিছু হবে না,,,আপনি কি জানেন!?”
রিফাত ভ্রু কুঞ্চিত করে বললো,,,”কি?”
ইয়ানা এবার সতর্ক নজরে এদিক সেদিক তাকালো। লম্বা রিফাতের কাছ ঘেঁষে কিছুটা পায়ের পাতায় ভর দিয়ে রিফাতের কানের কাছে মুখ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। ইয়ানার কান্ড দেখে রিফাত নিজেও কিছুটা ঝুঁকে এলো। শুনতে পেলো মেয়েটির চনমনে শোভন কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল,,,

“রুতবা আপি প্রেগনেন্ট।”
বলেই দাত বের করে হাসলো ইয়ানা। রিফাত নিজের কপাল ঘষে। রিফাত আগে থেকে ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারলেও, অনেকক্ষণ আগে দানিশ এর থেকে কনফার্মেশন পেয়েছে।। ইয়ানার ঠোঁটে মিষ্টি হাসি, চোখে মুখে আনন্দের ঝলক দেখে রিফাত না জানার ভান করে বলল,,,”তাই নাকি।”
ইয়ানা মাথা ঝাঁকায় পরপর। অতঃপর আবারও একই ভঙ্গিমায় রিফাত এর কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,,,”আমার একটা প্রশ্ন আছে।”

“বলো,,,”
“আচ্ছা দানিশ ভাই আর রুতবা আপির বিয়ের অনেক আগে তো আমাদের বিয়ে হয়েছে,,,তাহলে রুতবা আপি আমার আগে প্রেগন্যান্ট হলো কি করে!”
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় রিফাত। গলা কেশে সচেতন দৃষ্টিতে আশেপাশে নজর বুলিয়ে তাকায় ইয়ানার দিকে। ইয়ানা নাকি ডক্টর এর বউ! রিফাত এর ভাবমূর্তি ঠাওর করতে পারলনা ইয়ানা। তার মনের প্রশ্ন এটা। যা রিফাত কে করার পর হল্কা লাগছে। রিফাত ঢেঁকুর গিলে চাপা স্বরে বলে,,,
“এই প্রশ্ন আর কাকে কাকে করেছো?”
“কাওকে না,,, আপনাকেই।”

হাঁপ ছেড়ে বাঁচে রিফাত। সমসন্মন ধরে টানাটানি শুরু করার পূর্বে ইয়ানা কে সামলাতে হবে। এরই মধ্যে ইয়ানা রিফাত এর বাহুর শার্ট ধরে হালকা টান দেয়। মেয়েটা উত্তর চাইছে। রিফাত রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। জীভ দিয়ে অধর ভেজায়। নিজ চোয়াল চুলকিয়ে ইয়ানার উদ্দেশে নিম্ন কন্ঠে বলে,,,,
“রাতে খাওয়ার পর রুমে আসবে তখন তোমার প্রশ্নের অ্যানসার দেবো। আর ভুল করেও এই প্রশ্ন কাওকে করবে না। স্টুপিড,,,”

“এখন বলুন না।”
“আমরা কি বেড রুমে!”
হালকা ধমকে বললো কথাটি। ইয়ানা ঠোঁট উল্টায়।
ফোঁস করে শাস ছাড়ে রিফাত। এই জন্যই বয়সের তুলনায় বেশি ছোটো মেয়ে বিয়ে করতে নেই। তাদের কে বোঝাতে,শেখাতেই অর্ধেক জীবন পেরিয়ে যাবে।। ( অনেক পাঠক দের কাছে ইয়ানার করা প্রশ্ন ন্যাকা লাগতে পারে। কিন্তু এরকম মেয়েও ধরণীর বুকে আছে।যারা অনেক বিষয়েই কাঁচা হয়ে থাকে।) ইয়ানার কোলে থাকা সামিয়া রিফাত এর ধমকে কেপে ওঠে,,বলে,,
“আন্তি কে বোকো না মামা,,,”
রিফাত হাসে। ইয়ানার কোল থেকে সামিয়া কে নিজের কাছে নেয়। গালে চুমু দিয়ে বলে,,,
“বকিনি বেবি।। আগে বলো তুমি আমার বউ এর কোলে উঠেছো কেনো!?”
“বউ না আন্তি।”
“আমার বউ।,,,দুষ্টু বেবি।”

খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ। আত্মীয় স্বজনেরা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। থেকে গেছে দানিশ, রুতবা,আতিকা,আহীল।। তাদের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসে রিফাত আর ইয়ানা। আতিকা জড়িয়ে ধরে ইয়ানা কে।
“বাই ইনু,,, আগেইন হ্যাপি বার্থডে,,,ভাইজান তোমাকেও।”
দুই জনেই হেসে ধন্যবাদ জানায়। আহিল,দানিশ ও কোলাকুলি করে রিফাত এর সাথে। অবশেষে বিদায় নেয় চার জন। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ইয়ানা যায় কিচেনে। রিফাত সোজা নিজের রুমে যায়। যাওয়ার আগে অবশ্য ইয়ানা কে তাড়াতাড়ি রুমে আসার কথা বলে।। কিচেনে প্রায় সমস্ত কাজ শেষ। ইয়ানা কে দেখে ইয়াসমিন বেগম এক বাটি দই ধরিয়ে দিয়ে বলে,,,
“রুমে যা,,,সব কাজ শেষ,,বাকিটা কাল সকালে করবো।”
“কিন্তু মাম্মা,,,”
“রুমে যা।”

ইয়ানা কে জোর করে রুমে পাঠিয়ে দেয় ইয়াসমিন বেগম।। রুমে প্রবেশ করে ইয়ানা দেখে রিফাত ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসে ফোনে কিছু করছে। টি টেবিলে দই এর বাটি রেখে নিজে ওয়াশরুমে চলে যায়। রিফাত এক পলক তাকে দেখে আবারও ফোন মনোযোগ দেয়।। কিছুক্ষণ পরেই ইয়ানা ফ্রেশ হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। চুল বেঁধে,,,মুখে লোশন মাখার সময় অনুভগ করে তার কাঁধে শীতল কিছুর,,,পরমুহূর্তেই সেথায় কারোর ঠোটের জোরালো স্পর্শে টালমাটাল হয় ইয়ানা।। ইয়ানা দ্রুত লোশন মেখে সামনে ঘুরে দাড়ায়। দেখে রিফাত হাতে দই এ অর্ধ খাওয়া বাটি নিয়ে দাড়িয়ে মিটি মিটি হাসছে।
ইয়ানা ঠোঁট আলগা করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিফাত একই কান্ড ইয়ানার নরম অধরে করে। কামিজ ভেদ করে হাত রাখে ইয়ানার উন্মুক্ত অবয়বে। মেয়েটার গালের কিনারে নাক ঘোষে বলে,,
“তখন কি যেনো বলছিলে! আবার বলো।”
এবার খানিক লজ্জা পেলো ইয়ানা। ঠোঁট কামড়িয়ে নিঃশব্দে শ্বাস ছাড়লো। রিফাত আবারও জিজ্ঞাসা করতে ইয়ানা মিনমিনে কন্ঠে নিজের করা তখনকার প্রশ্নের পুনর আবৃত্তি ঘটায়।। রিফাত বাঁকা হাসলো। ইয়ানার কানের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,,,

“আমরা আমাদের ফার্স্ট নাইট কবে স্পেন্ড করলাম,,,ইয়ানা!?”
ইয়ানার কান থেকে ধোঁয়া বেরোনোর উপক্রম।। রিফাত হতে সরে আসতে নিলে বন্ধন আরো বেশি দৃঢ় হয়। নাজেহাল ইয়ানা। সবার কাছে নিজের এই রূপ অপ্রকাশ্য,,,এই রূপ শুধুই তার ইনুর জন্য। সবার সামনে নম্র, ভদ্র,শালীন,মেধাবী ছেলেটা তার বোকা প্রেয়সীর সান্নিধ্যে চূড়ান্ত বেলাজ,বেহায়া।
রিফাত এর প্রশ্নের জবাব ইয়ানার অন্তরেই রয়ে গেল।। হঠাৎ করেই রুতবার বলা কথাটি মনে পড়লো ইয়ানার,,,কাপা কন্ঠে বললো,,,

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৭

“আমদের একটা বে,,,,,”
বাকি কথা বলতে দিলো না রিফাত। অধরের মালিকানা হারালো ইয়ানা। চুমুর বর্ষণে বিধ্বস্ত অবস্থা ইয়ানার। কোলে তুলে নিলো যুবতীর চিকন বদনে। লাইট অফ করে দিলো ব্যাস্ত হাতে।। অতঃপর ঠোটে কার্যে টালমাটাল হয় ইয়ানা। আবেগপূর্ণ হাতের স্পর্শে ইয়ানা অস্থির। কোমল অঙ্গে পীড়ায় কেঁদে ওঠে নিগূঢ় ভাবে। কার্য ধির করে খানিক। রিফাত ললাটে ললাট ঠেকায়। ইয়ানা হাত রাখে রিফাত এর পিঠে। শরীরের চিনচিনে ব্যাথায় কুকড়ে উঠলেও পরক্ষণে অর্ধাঙ্গর স্পৃহা কে মেনে নেওয়ার ফয়সালা নেয় প্রেয়সী।। নাক টেনে ইয়ানা। রিফাত কিছুক্ষন শান্ত রয়,,,পরক্ষনেই আবার মাতাল রূপে আবির্ভূত হয়।। ব্যাকুল রিফাত চুম্বনের মাতোয়ারা করে তার বোকা প্রেয়সীকে। উন্মুক্ত কোমড় হাত পেঁচিয়ে ধরে।। ঘনিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ইয়ানা শোনে রিফাত এর জড়িত কণ্ঠ,,,,
“আমার কাওকে লাগবে না ইনু,,,তুমি আমার জন্য যথেষ্ট। তুমি আমার প্রিয় প্রণয়ী,,,”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩৯