এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৩
নুসরাত ফারিয়া
-“এই মেয়ে? এইভাবে দৌড়াচ্ছ কেন?”
ককর্শ গলার আওয়াজে আলোর পা জোড়া শ্লথ হয়ে যায়। মাথা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখে একজন ভদ্রমহিলা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ইনি হচ্ছেন খান বাড়ির ছোট বউ তাহমিনা খান! আধার স্যারের ছোট মা। সাথে তার শাশুড়ীও বটে। বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে হলেও সে এই পরিবারের কিছু কিছু সদস্যদের চেনে। তবে খুবই কম সময়ের সাক্ষাৎ হয়েছে। আলো মাথায় ওড়না দিয়ে সুন্দর করে সালাম দিল। তাহমিনা খান গম্ভীর মুখে সালামের জবাব দিয়ে নতুন বউয়ের আপদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে নিলেন। মেয়েটাকে দেখে বোঝা দায়, সে ভার্সিটির ছাত্রী। বাচ্চা বাচ্চা লম্বাটে ফর্সা চেহারা রক্তিম হয়ে আছে, হ্যাংলাপাতলা শরীরে আকাশি রঙা সেলোয়ার-কামিজ জড়ানো, হাইট পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি হওয়ায় মেয়েটাকে পিচ্চি পিচ্চি লাগছে। মনে হচ্ছে সবে কলেজে উঠেছে। তিনি কিছু একটা লক্ষ্য করে শুধালেন,
-“গোসল করোনি?”
শাশুড়ীর কথা শুনে আলো আমতাআমতা করল,
-“এত সকালে কেন গোসল করব মা? আমি তো দুপুরে গোসল করি!”
তাহমিনা খানের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে গেল। তিনি মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন। তাহলে আধার মেয়েটাকে মেনে নেয়নি। অবশ্য এটাই হওয়ার ছিল। তিনি নিজেকে সামলিয়ে ধীর কণ্ঠে বললেন,
-“শোনো মেয়ে, তুমি এখন এই বাড়ির বড় বউ! আর এটা তোমার বাপের বাড়ি না যে, এদিকওদিক নেচে-কুঁদে বেড়াবে। সবসময় মনে রাখবে এটা তোমার শশুর বাড়ি! আমি তোমার ব্যাপারে যতটুকু জানতে পেরিয়ে, ততটুকুতেই বুঝে গেছি তুমি কেমন মেয়ে। তাই আগে থেকেই সাবধান করে দিচ্ছি। বাড়ির বউ, বউয়ের মতোই থাকার চেষ্টা করবে। অহেতুক বাড়তি ঝামেলা সৃষ্টি করবে না।”
আলো চুপচাপ শুনে ভদ্র মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“আপনি চিন্তা করবেন না মা! আমি কথাগুলো মনে রাখব ইনশাআল্লাহ।”
তাহমিনা খান আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে। আলো আড়চোখে ড্রয়িংরুমের চারপাশটায় নজর বুলিয়ে নিয়ে পিছনে ফিরতেই ভরকে গেল। আধার স্যার এদিকেই আসছে। হয়তো ড্রেস চেঞ্জ করার জন্য। আলো শুকনো ঢোক গিলে তাড়াহুড়ো করে বিলাস-বহুল সোফার পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল। আপাতত এই বদ লোকের সামনে সে পড়তে চায় না। নয়তো দেখা যাবে, নেক্সট গরম চা তার গায়ের ওপরই ঢেলে দিয়েছে। তাই সে রিস্ক নিতে চাচ্ছে না!
আধার আলোকে দেখেও না দেখার ভান করে রুমে চলে গেল। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাদাজানকে ম্যানেজ করে এই পাগল মেয়েটার হাত থেকে রেহাই পেতে হবে। নয়তো তার বিগড়ে যাওয়া জীবন আরো বিগড়ে দিবে এই বেয়াদব মেয়েটা!
দুপুরের দিকে বাপের বাড়ির এসেছে আলো। আজ রাতটা এখানে থেকে পরেরদিন শশুর বাড়িতে যাবে। গতকাল তার বই, পার্সোনাল জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়নি। মূলত সেগুলো নিতে ও মা-বাবার সাথে দেখা করার জন্যই এসেছে। দাদাজানের কথায় তার সাথে আধারও এসেছিল। তবে তাকে বাড়িতে নামিয়ে কাজের বাহানা দিয়ে চলে গিয়েছে লোকটা। এতে আলোর কোনো কিছুই যায় আসে না। সে তো বাড়িতে ফেরা মাত্রই মতিউর রহমানকে জাপ্টে ধরে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ দিতে ব্যস্ত!
-“তুমি দুনিয়াতে আর কোনো মানুষ পেলে না বাবা? আমার ডিপার্টমেন্টের স্যারের সাথেই আমাকে বিয়ে দিতে হলো? তুমি এটা কেন করলে বাবা? কেন?”
মতিউর রহমানকে বেশ চিন্তিত দেখা যাচ্ছে। তিনি থমথমে মুখে নিজের সহধর্মিণীর দিকে তাকায়। আলেয়া রহমান বড় মেয়ের ন্যাকা কান্না দেখে বেশ বিরক্ত! গমগমে গলায় বললেন,
-“বিয়ে করব, বিয়ে করব বলে কে লাফাচ্ছিল শুনি? ভুলে গেলে? এই বিয়ে করার জন্য তুমি ইচ্ছে করে পরীক্ষায় ফেল করেছিলে! কারণ তোমার বান্ধবীকে ফেল করার, পরপরই বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারজন্য তুমিও এই বুদ্ধিটা খাটিয়েছো। তাহলে এখন বিয়ের পর এমন ম’রা কান্না জুড়ে দেওয়ার মানে কী?”
আলো ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, -“তাই বলে ওই হিটলার স্যারের সাথে বিয়ে দিবে? উনি আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারে না মা! লোকটা ভীষণ খারাপ।”
বড় বোনের কথা শুনে ছায়া ফট করে বলে উঠল, -“কিন্তু আমি শুনেছি, তুমি ভার্সিটিতে আধার স্যারকে ভীষণ জ্বালাও। একবার তো উনার গাড়ির চার চাকার হাওয়া বের করে দিয়েছিলে আপু!”
ছোট বোনের কথা শুনে আলো রাগে ধমক দিল, -“চুপ কর বেয়াদব! ওই লোকটার ব্যাপারে একদম ওকালতি করতে আসবি না। নয়তো আমি বাবাকে বলে দিবো তুই কলেজে গিয়ে কাদের দেখে ক্রাশ খেয়ে মটকা মে’রে পড়ে থাকিস!”
ছায়া দমে গেল। ভুলেও আর কিছু বলল না প্রতিত্তোরে! আলো তার বাবার দিকে তাকিয়ে অসহায় কণ্ঠে বলল,
-“ও বাবা? বাবা গো? আমি আর বিয়ে করতে চাইব না। এইবারের মতো তোমার অবুঝ মেয়েকে ক্ষমা করে দাও। এই যে পিংকি প্রমিস করছি! আর জীবনেও বিয়ের নাম মুখে নিবো না। ঢের শিক্ষা হয়েছে!”
মতিউর রহমান মেয়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে শান্ত গলায় বললেন, -“তুমি যেমনটা ভাবছো, আধার তেমন না মামণি। ছেলেটা ভীষণ ভালো। হ্যাঁ একটু কথা কম বলে, গম্ভীর স্বভাবের তাই তোমার এমনটা মনে হয়। তবে মানুষ হিসেবে ছেলেটা লাখে একটা। আমরা অনেক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। আর তোমাকেও বারবার বলেছিলাম একবারে হবু জামাইকে দেখে নাও, কথা বলে নাও! কিন্তু তুমি আমার কোনো কথাই শুনলে না। আচ্ছা, আধার কি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে?”
আলো নাক টেনে দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল, -“না! উনি কখনো আমার সাথে কেন, কোনো মেয়ের সাথেই খারাপ ব্যবহার করেন না। শুধু শুধু বকাবকি করে আর ধমকায়!”
-“তাহলে সমস্যা কোথায়?”
-“আমি উনাকে পছন্দ করি না বাবা।”
মেয়ের কথা শুনে হতাশ হলেন মতিউর রহমান। এই তার বড় মেয়েটা আবার সহজে কাউকে পছন্দ করে না। আবার যদি একবার পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে নিজের সবটা দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করে। মাহবুব রহমান উঠে এসে আলোর পাশে বসলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে কণ্ঠে বললেন,
-“আমরা বুঝতে পারছি তোমার মনের অবস্থাটা মামণি। নতুন নতুন এমন হবেই। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।”
বড় চাচার কথা শুনে আলো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আজ তার জন্য সবটা হয়েছে। সে যদি অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি না করত, তাহলে এই দিনটা দেখতে হত না তার! সব দোষ তার। এখন ইচ্ছে করছে সময় রিপিট করে পিছনে ফিরে যেতে। কিন্তু সেটাও সম্ভব নয়! তার যে এখন সব পথ বন্ধ।
-“অনেক হয়েছে। এখন আয় তো দেখি! তোর সব পছন্দের খাবারগুলো রেঁধেছি, সাথে হালিমও।”
খাবারের কথা শুনে আলোর পেট গুরগুর করে উঠল। সে আবার খাবার পেলে দিনদুনিয়া, মানুষজন ভুলে যায়। সাথে সকল চিন্তাভাবনাও! সে উঠে বড় চাচীর সাথে চলে গেল। তার পিছু পিছু ছায়া, মায়া ও রহিত গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যায়। মায়া ও রহিত তার চাচাতো ভাই-বোন। আলো সবার সাথে ডাইনিংয়ে বসে গপাগপ খেতে লাগল। পেট ঠান্ডা তো তার পুরো দুনিয়া ঠান্ডা!
বিয়ের তিন-চার দিন পর ভার্সিটিতে পা রেখেছে আলো। সে বিয়ের আগে ধরেই নিয়েছিল, এইটাই লাস্ট ক্লাস করে বিদায় নিবে ভার্সিটি থেকে। প্ল্যান ছিল, পড়াশোনা আর করবে না। স্বামীকে বলে মিউজিক ক্লাসে ভর্তি হবে। কারণ তার খুব শখ গান গাওয়া। কিন্তু সবকিছু উল্টে গিয়েছে তার। বরের সাথে চুটিয়ে প্রেম করার জায়গায়, দিনদুপুরে শুধু ধমকই খেয়ে যাচ্ছে। সাথে এক্সট্রা লেখাপড়াও ফ্রী!
-“ওই মামা? এতদিন কার চিপায় ছিলি?”
মারুফের কথা শুনে আলোর ধ্যান ভাঙলো। সে আনমনে হেঁটে মাঠের দিকে আসতে আসতে বিরবির করল,
-“থাকতে চেয়েছিলাম তো স্বামীর চিপায়, কিন্তু পরে গেলাম মাইনকার চিপায়!”
এতদিন পর বান্ধবীকে দেখতে পেয়ে ফারাহ্, শালুক, নির্ঝর ও তামান্না ছুটে এল। তারা পাঁচজন গোল হয়ে ঘিরে ধরে আছে আলোকে। এতে মেয়েটা প্রচুর বিরক্ত হয়। সকাল থেকেই মনমেজাজ একটুও ভালো নেই তার। তারওপর ভার্সিটিতে পা রাখতে না রাখতেই পাঁচ শয়তান গোয়েন্দার মতো জেঁকে ধরেছে। যেন সে চোর আর এরা পুলিশ!
-“কী সমস্যা তোদের? এইভাবে জোকের মতো চিপকে লেগেছিস কেন?”
আলো চোখমুখ কুঁচকে বিরবির করে। ফারাহ্ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল, -“খবর পেলাম, তুই নাকি বিয়ে-শাদি করেছিস।”
শালুকও বলল, -“আমাদের ছেড়ে তুই একা একা বিয়ে করতে পারলি?”
পর মূহুর্তে নির্ঝর দাঁত কেলিয়ে বলল, -“দোস্ত? সুগার ড্যাডিকে বিয়ে করেছিস নাকি? তারজন্য আমাদেরকে জানাসনি, হুম?”
সবার কথা শুনে মারুফ বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল, -“আরে ধুর বাল, থাম তোরা! একসাথে এত প্রশ্ন করলে জবাব দিবে কীভাবে?”
তামান্না এগিয়ে এসে আলোর হাত ধরে চিন্তিত গলায় জানতে চাইল, -“তুই ঠিক আছিস আলো? তোকে দেখে কেমন কেমন লাগছে।”
আলো শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। সে আগেই জানত, এরা সবাই জেনে যাবে। আর এর পিছনে তার ছোট বোনের বাম হাত আছে সেটাও জানে। শয়তানটা পারলে পুরো পৃথিবীকেই জানিয়ে দিতো সে বিবাহিত!
-“কী রে? চুপ করে আছিস কেন? কিছু তো বল।”
আলো কাঁধের ব্যাগ ঠিক করে বলল, -“ক্লাসটাইম হয়ে এসেছে, চল! যেতে যেতে সব বলছি।”
সবাই মাথা নাড়িয়ে হাঁটা ধরল সামনের দিকে। আলো শর্টকাটে তার বিয়ের কাহিনী বলে গেল। সে চেয়েছিল একবারে বিয়ে করে, বরকে সঙ্গে নিয়ে এসে বন্ধুমহলকে সারপ্রাইজ দিবে। তারওপর একদম হুট করে বিয়ে হওয়ায় সেভাবে কাউকেই বলতে পারেনি। তবুও সে ম্যাসেজ করে বলেছিল। কিন্তু তার কথাকে বিশ্বাস করেনি কেউই। কারণ সে এমন বারেবারেই করে থাকে। তাইতো সিরিয়াস সময়ে কেউই কিছু বিশ্বাস করতে চায় না। সয়ং তাকেও না!
সবকিছু শুনে ফারাহ্ বলল, -“বুঝলাম সব! আচ্ছা, দুলাভাইকে কবে দেখাবি?”
আলো এখনো জানায়নি তার বর সয়ং এই ভার্সিটির ওই হিটলার প্রফেসর-টা! আর সে জানাতেও চায় না। কারণ ওই লোকটার ব্যাপারে বন্ধুমহলের সবার কাছে অনেক অনেক গপিস করেছে। চৌদ্দ গুষ্ঠি ধোঁয়া থেকে শুরু করে নানানরকম আকাম-কুকামও ঘটিয়েছে। যেই স্যারকে দেখতে পারে না আজ ওই লোকটাই তার স্বামী ভাবতেও বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্যথা করছে। তার মতো এত ভালো একটা মেয়ের জীবনে এটাই কি প্রাপ্য ছিল?
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো আলো। বান্ধবীদের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে ক্লাস রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, -“বছরখানেক পার হোক, তারপর ভেবে দেখব!”
-“মানেহ কী?”
-“মানেটা খুব সিম্পল শালু! আমার সোয়ামির সাথে বছর পর দেখা করাবো।”
-“কেন?”
-“উনি নেই।”
বাক্যটি শুনে সবার পা থেমে গেল। একই সাথে অবাক কণ্ঠে বলল, -“নেই মানে?”
-“উনি, উনি দেশের বাইরে থাকে। বিয়ের পরই চলে গিয়েছে। ফিরবে দশবছর পর মেবি!”
ডাহা মিথ্যে কথা বলে মনে মনে মাপ চাইল আলো। এইদিকে নির্ঝর হঠাৎই হেঁসে উঠে বলল,
-“তারমানে আমার সন্দেহটাই ঠিক। তুইও তুলির মতো বিদেশে থাকা সুগার ড্যাডিকে বিয়ে করেছিস। ষাহ, ষাহ! তা বয়স কত? নিশ্চয়ই ষাট!”
ছেলেটার কথা শুনে আলো ভীষণ রেগে গেল। সে কোনোদিকে না তাকিয়ে খ্যাক করে বলল,
-“হ ভাই হ! আমার সোয়ামির বয়স ষাট না, আশি বছর! মাথায় চকচকে টাক, পাঁচটা দাঁত নাই, বুইড়া থুত্থুরে মানুষ। লাঠি ছাড়া চলতে পারে না, দাঁড়ি হাঁটু পর্যন্ত, কাইলা কুচকুচে চেহারার মাঝে হলদে চোখ, সাথে পাঁচ বাচ্চার বাপও। হয়েছে এবার? শান্তি?”
বান্ধবীর এহেন কথা শুনে সবাই বেকুব বনে গেল। তামান্না ফিসফিসিয়ে বলল, -“দিনশেষে একটা বুইড়াকেই তোর বিয়ে করতে হলো?”
-“হুম। কারণ বুইড়া বেডারাই বউকে ভীষণ আদর, সোহাগ করে।”
নির্ঝর দাঁত কেলিয়ে বলল, -“তোর বরের যা বর্ণনা দিলি, তাতে মনে হয়না উনার নাট বল্টু ঠিক আছে।”
-“নাট বল্টুর সাথে ওই লোকটার পুরা মাথার তার ছিঁড়া!”
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২
আলো বিরক্তিকর মুখে কথাটা বলে সামনে পা বাড়াতেই খেয়াল করল, সবাই চোখ বড়বড় করে তার পিছনে তাকিয়ে আছে। সে কিছু বলতে যাবে তখনই সবাই হুড়মুড় করে ক্লাসরুমের ভেতর ঢুকে গেল। এতে আহাম্মক বনে গেল আলো। সে কৌতূহল হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে যায়৷ তার থেকে কিছুটা দূরে আধার স্যার দাঁড়িয়ে আছে। তাও রক্তিম চোখে! অজানা ভয়ে আলোর সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। নিশ্চয়ই এতক্ষণে বলা তার সব কথাগুলো শুনে নিয়েছে। তাই তো এমন খেয়ে ফেলার মতো তাকিয়ে আছে। সে শুকনো ঢোক গিলে চট করে নজর সরিয়ে নিলো। মানুষটার সেই অদ্ভুত চাহনি কী ভয়ংকর….
