Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৩
সুহাসিনী

প্রেম বাইরে থেকে এসে আয়েশা আর রাহির দিকে তাঁকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো,
“কি হচ্ছে এখানে?”
তারা দুজনেই তাঁকালো প্রেমের দিকে।আয়েশা প্রেমকে দেখে মিটিমিটি হাসছে।রাহি প্রেমকে দেখেই একটা মুখ ঝামটা দিয়ে সোফার দিকে এগিয়ে গেলো।
প্রেম রাহির এমন রিয়েকশনের মানে কিছুই বুঝলো না। আয়েশা প্রেমের প্রশ্নের উত্তরে বললো,
“কিছুনা ভাইয়া। এমনিই কথা বলছিলাম আরকি।”
আয়েশাও রাহির পিছু পিছু চলে গেলো।আয়েশার হুইল চেয়ার অটোমেটেট ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার।তাই সমান্তরাল জায়গায় চলতে তার কোনো সমস্যা হয় না।
প্রেমও গিয়ে সোফায় বসলো। শান্তও চলে এসেছে এতোক্ষণে। আমজাদ খান এসে তাদের নাস্তার টেবিলে ডাকলেন।সবাই সেদিকেই চলে গেলো।
খাবার টেবিলে চলছে পিনপিন নীরবতা।শুধু প্লেটে চামচের ঘর্ষণের শব্দ হচ্ছে। নীরবতা ভেঙে এক পর্যায়ে আমজাদ সাহেব আফরোজা খানের দিকে তাকিয়ে বললো,

“ফিরোজা ভাবি আর আশা আসলো না খেতে?”
“আশার নাকি খিদে নেই তাই খাবে না। আর আশা পরে খাবে দেখে ফিরোজা আপাও মেয়ের সাথে পরে খাবে। উনারা এখন উপরে আছেন।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।”
আবার নেমে এলো নীরবতা। প্রেম সবার আগে খাওয়া শেষ করে টেবিল ছেড়ে উঠতে চাইলে আমজাদ খান বলেন,
“বসো,তোমার সাথে কিছু কথা আছে।”
প্রেম আর কথা বাড়ালো না।চুপচাপ বসে গেলো। আমজাদ খান শান্ত কণ্ঠে রাহিকে বললো,
“রাহি আম্মু,তোমার স্কুল থেকে কল করেছিল আমাকে ।কিছুদিন পর তো তোমাদের বার্ষিক পরীক্ষা,কাল বিদায় অনুষ্ঠান হবে।তুমি নাকি কি পারফরমেন্স করবে সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আজ স্কুলে যেতে বলেছে তোমার ক্লাস টিচার।”

রাহি ছোট্ট করে উত্তর করলো,
“জ্বি বাবা।”
এবার প্রেমের বাবা প্রেমকে বললো,
“প্রেম তুমি আজকে রাহিকে স্কুলে নামিয়ে দিবে।আমার অফিসে কাজ আছে।”
“পারবোনা।এই বয়সে আমার নিজের বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আর এই সময় আমি বউকে হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাবো। অসম্ভব আব্বু।”
“বউকে নিয়ে আগে অভ্যাস করো তারপর না হয় বাচ্চাকে নিবে।”
“বললাম তো পারবো না। আর সবচেয়ে বড় কথা যাকে বউ বলে মানিই না তার প্রতি দায়িত্ব পালন করা তো বিলাসিতা।”

“আচ্ছা তাহলে ওকে ডিভোর্স দাও।ওকে অন্য কোথাও বিয়ে দিই তারপর তার ওই স্বামীই সব দায়িত্ব পালন করবে।”
“তুমি আমার বাবা নাকি দুশমন।”
আর কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে প্রেম উঠে চলে গেলো।যেতে যেতে বলে গেলো,
“দশ মিনিট টাইম দিলাম , রেডি হয়ে বাইরে আসো।একজন এমপি হয়ে এখন আমার বডিগার্ড এর চাকরি করতে হচ্ছে। শালার জীবন।”
শেষের কথাটা আফসোসের সহিত বলে চলে গেলো।প্রেমের কথা শুনে আয়েশা , শান্ত হো হো করে হেসে দিলো।
রাহি তাড়াতাড়ি খেয়ে রেডি হতে চলে গেলো।
স্কুল ড্রেস পরে রাহিকে আরও বাচ্চা বাচ্চা লাগলো প্রেমের কাছে।রাহিকে দেখে প্রেম বিরক্তি সূচক শব্দ করলো।কিন্তু মুখে কিছু না বলে গাড়িতে উঠে বসলো। রাহিও কিছু বলল না।
খান বাড়ি থেকে পর পর দুটো গাড়ি বেরিয়ে গেলো। প্রথমটায় বসেছে প্রেম ,রাহি ,লিয়ন ও গাড়ির ড্রাইভার। দ্বিতীয়টাতে আছে প্রেমের গার্ডরা।এমপি হওয়ার সুবাঁধে তাকে দিনের প্রায় সময় এভাবেই চলাফেরা করতে হয়।
প্রেম রাহির পাশে বসে আপন মনে মোবাইল স্ক্রল করছে। গাড়ির ড্রাইভারের সাথে সামনে বসেছে লিয়ন।প্রেম আর রাহি পেছনে।

এখনও পর্যন্ত বাইরের কেউ জানে না প্রেম রাহির সম্পর্ক কি।শুধু প্রেমের কাছের মানুষ গুলো জানে।
প্রেম হঠাৎ গাড়ি থামাতে বললো। এখান থেকে পায়ে হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে এখনো প্রায় পাঁচ মিনিট লাগবে।রাহি প্রেমের সাথে কথা না বলে লিয়নকে বললো,
“এখানে কেনো গাড়ি থামলো ভাইয়া?”
লিয়ন বেচারা নিজেও জানে না।সে প্রেমের মুখের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো।
“ভাই কিছু বলেন।”
প্রেম গম্ভীর স্বরে বলল,
“আমরা স্কুলে যাবো না।ওকে বল নেমে যেতে।এমপির গাড়ি যদি একটা স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর সেই গাড়ি থেকে একটা বাচ্চা নামে তাহলে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।আশা করি ও সেটা বুঝবে।”
লিয়ন রাহির দিকে তাঁকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাহি রেগেমেগে গাড়ির দরজা খুলে স্কুলের দিকে হাঁটা ধরলো।
কিছুদূর যেতেই আবার ছুটে এলো গাড়ির কাছে। গাড়ি থেকে বেগ নিয়ে প্রেমকে মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেলো। পেছন থেকে প্রেম বললো,

“গাড়ি পাঠিয়ে দিবো।ছুটি হলে চলে যেও।”
রাহিও যেতে যেতে বললো,
“কালকে একজন আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছিল।মনে থাকে যেন।নয়তো আজকে রাতে মাথায় একটা চুলও থাকবে না।”
রাহির কথা শুনে লিয়ন প্রেমের দিকে সন্দিহান চোখে তাকালো। প্রেম স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিলো,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১২

“বউ এর হাতে মার খেয়েছি,বাইরের কারো হাতে তো খাইনি।এভাবে তাকানোর কি আছে।”
“আপনার বউ একদিন আপনাকে কামড় দেয় আর একদিন আপানার চুল ছিঁড়ে ফেলে,আপনার বাবা এটা কার সাথে বিয়ে দিয়েছে আপনার?এটা মেয়ে নাকি মারামারি শেখানো স্কুলের হেড টিচার।”
প্রেম কিছু বলল না। গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে কপালে হাত রাখলো।
রাহি যতক্ষণ না স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকলো প্রেমের গাড়ি সেখানেই দাড়িয়ে রইলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৪