এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ৩১
সেঁজুতি আক্তার
মাইরা কফির মগটা হাতে নিয়ে ধীর পায়ে করিডোর পেরিয়ে রুমের দিকে এগোলো। পা দুটো কাঁপছে অজানা কারণে। শেহরান রুমে ঢুকেই আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেছে।
— দশ মিনিট পর দরজা খুল। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসলো। কপালের দুই পাশের রগ দুটো দপদপ করছে। মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা করছে। হাতের ভেজা টাওয়ালটা বিরক্ত হয়ে ডিভানের উপর ছুড়ে মারলো। তারপর বিছানায় এসে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো। দুই হাতে মুঠো করে চুল খামচে ধরলো।
— রুমের দরজার কাছে এসে মাইরা থমকে দাঁড়ালো। বুকের ভিতর অস্থির হয়ে আছে। আশেপাশে একবার চোখ বুলালো। তারপর লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে পা টিপে টিপে ভিতরে ঢুকলো।
— শেহরানকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে বুকের মধ্যে ধক করে উঠল। তার ধারণাই ঠিক। মাথা আবার যন্ত্রণা করছে। মাইরা নিঃশব্দে বিছানার কাছে গেল। কফির মগটা টেবিলের উপর নামিয়ে রাখলো। তারপর আলতো করে শেহরানের মাথায় হাত রাখলো। কোনো সাড়া নেই।
— মাইরা ভাবলো হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। তাই ডাকলো না। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে চুলে বিলি কাটতে লাগলো।
— হঠাৎ শেহরান নড়ে উঠলো। উপুড় থেকে সোজা হয়ে আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লো। মাইরা শেহরানের মাথার কাছ ঘেঁষে বিছানায় বসলো। আবারও হাত রাখলো কপালে। কপালের দুই পাশে আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করে দিতে লাগলো।
— অজান্তেই মনটা ভালো হয়ে গেল মাইরার। ঘুমন্ত শেহরানের মুখটার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। মানুষটা ঘুমের মধ্যে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে আছে।
— হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টুমি খেলে গেল। হাতটা মাথা থেকে নামিয়ে নাকের কাছে আনলো। তারপর আলতো করে নাকের ডগায় একটা টোকা দিলো।ঘুমের মধ্যেই শেহরানের কপালটা কুঁচকে গেল। মাইরা চমকে হাত সরিয়ে নিলো। তারপর আবার সাহস করে কপালে হাত বুলাতে লাগলো।
— মাইরার কখন যে চোখ লেগে এসেছে টের পায়নি। ঘুম ভাঙলো অনেক রাতে। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো। চারপাশ অন্ধকার। শেহরান পাশে নেই।
— ধড়ফড় করে উঠে বসলো। ঘাড়টা টনটন করছে। হাত দিয়ে ঘাড় ডলতে ডলতে উঠে দাঁড়ালো। দেয়াল ঘড়িতে আটটা বাজে। মাইরা ভাবলো এখনো রান্না বাকি। দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খুলে। শেহরান বেরিয়ে আসলো। কোমরে শুধু একটা সাদা টাওয়াল। আরেকটা টাওয়াল দিয়ে মাথার চুল মুছছে। ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে বুকের উপর।
— মাইরাকে দেখেও কিছু বললো না। ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আয়নার দিকে তাকিয়ে চুল মুছতে লাগলো।
— মাইরা শুকনো ঢোক গিললো। চোখ নামিয়ে নিলো সাথে সাথে। গাল দুটো গরম হয়ে উঠেছে। লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আবার চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো শেহরান আয়নার ভিতর দিয়ে সোজা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।
— মাইরা আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না মাইরা। দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
— মাইরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শেহরানের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো উঠল। বিড়বিড় করলো, পাগল একটা।
— মাইরা রান্নাঘরে গিয়ে থমকে গেল। সব রান্না শেষ। নিশ্চয়ই শেহরান করেছে। আর কিছু না ভেবে খাবারগুলো টেবিলে সাজিয়ে রাখলো। তারপর শেহরানকে ডাকতে আবার রুমের দিকে গেল।
— দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মিহি কন্ঠে বললো, খাবার দিয়েছি। খেয়ে আসুন।
— শেহরান কোনো উত্তর দিলো না। চুপচাপ বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
— মাইরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো।
— রাত দশটা বেজে গেছে। মাইরা আর শেহরান খাওয়া-দাওয়া সেরে যে যার কাজে ব্যস্ত। বাড়িটা কেমন নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
— শেহরান খাওয়া শেষ করেই সোজা চলে গেছে ব্যালকনিতে।
— ব্যালকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। মাঝে মাঝে লম্বা করে টান দিচ্ছে আর ধোঁয়া ছাড়ছে আকাশের দিকে। কি ভাবছে কে জানে। চোখ দুটো দূরের অন্ধকারে স্থির।
এই জায়গাটা শেহরানের বড্ড প্রিয়। রাত হলেই এখানে এসে দাঁড়ায়।
— মাইরা রান্নাঘর গোছাতে গোছাতে একবার সিঁড়ির দিকে তাকালো। মানুষটা কি করছে কে জানে।
— মাইরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আবার নিজের কাজে মন দিলো।
— মাইরা রান্নাঘরের সব কাজ শেষ করলো। থালা-বাসন ধুয়ে, কিচেন মুছে, গ্যাস বন্ধ করে যখন রুমের দিকে পা বাড়ালো ঘড়িতে সাড়ে দশটা। পা দুটো আপনাআপনিই থেমে গেল দরজার কাছে। হঠাৎ মাইরার মনে হলো বিয়ে হয়েছে অনেকদিন। অথচ কখনো কি সত্যিকারের বউ হয়ে উঠতে পেরেছে সে? একটা সংসারে স্ত্রীর আসল কাজ কি শুধু রান্না করা, ঘর গোছানো? নাকি স্বামীর পাশে দাঁড়ানো? তার সুবিধা-অসুবিধা, তার মনের খবর রাখা? এতদিন নিজের ইচ্ছাকেই বড় করে দেখেছে সে।
শেহরান চুপচাপ থাকে, তাই সেও চুপ থেকেছে। শেহরান দূরে থাকে, তাই সেও দূরত্ব বজায় রেখেছে। কিন্তু আজ কেন জানি মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
নিঃশব্দে পা টিপে টিপে রুমে ঢুকলো। আলমারি খুলেএকটা মেরুন কালারের সিল্ক শাড়ি বের করলো। বিয়ের পরে একবারও পরা হয়নি। সাথে ছোট একটা গহনার বক্স। শাড়িটা হাতে নিলো। তারপর আর দাঁড়ালো না। রুম থেকে বেরিয়ে পাশের গেস্টরুমে চলে গেল। তারপরে ওয়াশরুমে গিয়ে চুলগুলো ভালো করে ধুলো।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল আঁচড়ালো। মেরুন শাড়িটা পরে নিলো। আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জা পেলো। অনেকদিন পর সেজেছে। কানে দুল, হাতে চুড়ি। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। চুলগুলো খোলা ছেড়ে দিলো পিঠের উপর। ভেজা চুল থেকে মিষ্টি শ্যাম্পুর গন্ধ বের হচ্ছে। ঘড়িতে এগারোটা চল্লিশ বাঁজে
— নিঃশব্দে নিজের রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো মাইরা। ভিতর থেকে ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষটার ছায়া দেখা যাচ্ছে। বুক ধকধক করছে। আস্তে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।
— শেহরান ব্যালকনিতেই দাঁড়িয়ে আছে। মাইরার আসার শব্দে একবারও ফিরে তাকালো না। মাইরা আস্তে করে দরজা বন্ধ করলো। তবুও শেহরান ফিরলো না। মাইরা কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর পা টিপে টিপে বিছানার কাছে গেল। বিছানার চাদর ঠিক করলো।
— তারপর সাহস করে বললো, ঘুমাবেন না?
— শেহরান কোনো উত্তর দিলো না।
— মাইরা আর কিছু বললো না। গিয়ে ব্যালকনির দরজার পর্দাটা সরালো। রাতের ঠান্ডা বাতাস এসে লাগলো গায়ে। শেহরানের চুলগুলো উড়ছে। মাইরা গিয়ে রেলিং ধরে দাড়ালো। শেহরানের থেকে অনেকটা দূরত্বে।
— সিগারেট বেশি খাচ্ছেন আজকাল।
–তাও শেহরান কোনো কথা বলল না।
— মাইরা আর সহ্য করতে পারলো না। একটু এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ করেই শেহরানের হাত থেকে সিগারেটটা কেড়ে নিয়ে অ্যাশট্রেতে ফেলে দিলো।
— শেহরান চমকে ওর দিকে তাকালো। বিরক্ত কন্ঠে বলল, সমস্যা কি?
— মাইরা চমকে উঠলো। মাথা নিচু করে করে ফেলল।
— শেহরান আর কিছু বলল না চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিঁয়ে রইল।
— মাইরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। লজ্জা লাগছে কিভাবে শেহরানের নিয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। কয়েক সেকেন্ড ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। তারপরে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে খুব আস্তে, একদম বিড়ালের মতো পা ফেলে শেহরানের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।
— বুক কাঁপছে। তারপর দুই হাত বাড়িয়ে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো শেহরানকে।
— শেহরান নড়লো না। কিছু বললোও না।
— মাইরা ওভাবেই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইলো। শেহরানের পিঠের উষ্ণতা, শরীরের গন্ধ নাকে আসছে। হঠাৎ বুকের ভিতরটা ভারী হয়ে উঠল। আর সহ্য হলো না। ফুঁপিয়ে উঠলো মাইরা।
কান্নারত কন্ঠে বলল “আমাকে মাফ করে দিন প্লিজ। আপনি এমন চুপচাপ থাকলে আমার একটুও ভালো লাগে না। আমি কি অন্যায় করেছি? আমার সাথে এমন করছেন কেনো? শেষের কথাটা বলতে গিয়ে গলা আটকে আসছে। শেহরানের পিঠ ভিজে যাচ্ছে ওর চোখের পানিতে।
— অনেকক্ষণ পর শেহরান হাতটা পিছনে নিয়ে মাইরার হাতের উপর রাখলো। শান্ত কন্ঠে বলল “ছাড়ো।”
— মাইরা ছাড়লো না। আরও জোরে আঁকড়ে ধরলো। “ছাড়বো না। যতক্ষণ না আপনি কথা বলবেন ছাড়বো না।”
— শেহরান এবার ঘুরে দাঁড়ালো। মাইরার দিকে তাকালো। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। কান্নায় ফুলে গেছে মুখটা। নাকের ডগাও লাল হয়ে গেছে। ধমক দিয়ে বললো, “এত নাটক করো কেনো?”
— মাইরা ঠোঁট উল্টে কাঁদতে লাগলো, “নাটক না। সত্যি বলছি। আপনি সারাদিন অফিস করে এসে কথা বলেন না। রাতেও আমার সাথে একটা কথাও বলেন না। আমি কি করেছি বলুন?”
–তুমি কিছু করোনি।”বলেই শেহরান চোখ সরিয়ে নিলো। ”
— “তাহলে?”
— “আমার অভ্যাস। আমি এমনই।”
— “অভ্যাস বদলান।” মাইরা অভিমানী গলায় বললো। “বউ আছে ঘরে। তার সাথে কথা বলতে কি খুব কষ্ট হয়?”
— শেহরান কিছু বললো না। মাইরার হাত নিজের থেকে ছাড়িয়ে একটু সরে গেল।
— মাইরা আবার শেহরানের দিকে এগিয়ে গেল তারপরে আবার জড়িয়ে ধরলো। তারপরে শান্ত”আমাকে পছন্দ হয় না আপনার?”
— শেহরান চোখ বন্ধ করে বলল হয়।
— “তাহলে প্রমাণ দিন।”
— শেহরান ঘুরে মাইরার কপালে আঙুল দিয়ে একটা টোকা দিলো। পাগল।
— মাইরা সাথে সাথে হেসে ফেললো। “এই তো, কথা বললেন।” তারপরে ফিসফিস করে বলল, “আমার একটা কথা রাখবেন?”
— শেহরান ভ্রু কুঁচকে বলল, “কি কথা?”
— “আমার একটা বেবি চাই।”
— “এখন?”
— মাইরা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলো। গাল দুটো লাল হয়ে গেছে। “হ্যাঁ। ছোট একটা বেবি।
— শেহরান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ হেসে ফেললো। “পাগল একটা,” বলেই মাইরার মাথায় গাট্টা মারলো।
— মাইরা ব্যথায় “উফ” করে উঠলো শেহরানের বুকে হালকা করে একটা কিল দিলো। হাসবেন না। সত্যি বলছি।
— শেহরান মাইরার হাতটা টেনে নিজের হাতের মুঠোয় নিলো। ঘুমাও। কাল কথা হবে।
— মাইরা মাথা নাড়িয়ে বলল। “আজই কথা হবে।”
— শেহরান আর কিছু বললো না। মাইরাকে ছেরে রুমের মধ্যে চলে গেল। তারপরে ড্রিম লাইট জালিয়ে দিল রুমটস আবছা অন্ধকার হয়ে গেল। শুধু জানালা দিয়ে আসা রাস্তার হালকা আলো এসে পড়ছে মেঝেতে। শেহরান এসির রিমোট নিয়ে পাওয়ার বারাতে লাগলো।
–মাইরা শেহরানের পিছু পিছু রুমের মধ্যে এগিয়ে আসলো বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। মাইরা হঠাৎ করেই শেহরানকে আবার জড়িয়ে ধরলো। এবার আর পিছন থেকে না। একদম সামনে থেকে। দুই হাতে শেহরানের শার্ট খামচে ধরলো।
— শেহরান অবাক হয়ে তাকালো। “কি করছো?”
— মাইরা উত্তর দিলো না। চোখ বন্ধ করে ফেললো। তারপর পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে একটু উঁচু হলো। অনেক সাহস নিয়ে শেহরানের ঠোঁটে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো মাইরা।
— শেহরান প্রথমে থমকে গেল। তারপর কিছু বললো না। রিমটটা বিছানায় ছুরে মাড়লো। এক হাত দিয়ে মাইরার কোমরটা আঁকড়ে ধরলো।
— মাইরা সাথে সাথে লজ্জা পেয়ে সরে আসতে চাইলো। গাল দুটো গরম হয়ে গেছে।
— “পাগল হয়ে গেছো?”
— মাইরা মাথা নিচু করে ফেললো।
— শেহরান হালকা হাসলো। তারপর কপালে একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেললো। মাইরার কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকিয়ে। ফিসফিস করে বলল। এত সাহস কোথা থেকে আসে তোমার?
— মাইরা ফিসফিস করে বললো, আপনাকে হারানোর ভয় থেকে।
— কথাটা শুনে শেহরানের ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি খেলে গেল। আর কিছু বললো না। মাইরাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে এগোলো।
ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় রুমটা কোন স্বপ্নপুরীর থেকে কম লাগছে না। বিছানায় নামিয়ে দিতেই মাইরার বুকের ভিতরটা ধুকপুক করে উঠলো। হাত-পা কাঁপছে। চোখ দুটো আপনা আপনিই বন্ধ হয়ে গেল। লজ্জায় গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গেছে।
শেহরান কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। এলোমেলো চুল, ভেজা পাপড়ি, কাঁপতে থাকা ঠোঁট। সবকিছু একসাথে দেখে বুকের ভিতরটা অস্থির হয়ে উঠলো। তারপর ধীরলয়ে ঝুঁকে আসলো। সময়টা থমকে গেল। চারপাশের সব শব্দ মিলিয়ে গেল। শুধু দুটো মানুষের কাঁপা নিঃশ্বাসের শব্দ। মাইরা দুই হাতে শক্ত করে শেহরানের শার্ট খামচে ধরলো। চোখের কোণ ভিজে উঠছে নোনা জলে। কতক্ষণ এভাবে ছিলো কে জানে। যখন ছাড়লো, মাইরা সাথে সাথে মুখ লুকালো শেহরানের বুকের মধ্যে। নিঃশ্বাস নিতে পারছে না লজ্জায়।
শেহরান এক হাতে মাইরার পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো। তারপর কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে নেশালো ফিসফিস করে বললো,এখনো ভয় লাগে?
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ৩০
মাইরা কাঁপা কন্ঠে বলল “না।”
শেহরান মৃদু হাসলো। মাইরার এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিতে দিতে বললো,পাগল একটা। আমার পাগল।
মাইরা উত্তর দিলো না। আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
