Home কিশোরী কন্যা কিশোরী কন্যা পর্ব ৪৮

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪৮

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪৮
হামিদা আক্তার ইভা

সময় বদলের সাথে সাথে বদলেছে চারপাশের মানুষ,পরিস্থিতি এবং পরিবেশ। রজনী বেগমের মৃত্যুর পর সওদাগর বাড়ির সেই গুমোট দিনগুলো পেছনে ফেলে তাহসিন আর ময়ূরী এখন ঢাকার ব্যস্ত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ময়ূরীর এখন মেডিকেলের চতুর্থ বর্ষের (4th Year MBBS) কঠিন সব টার্ম আর ওয়ার্ড ডিউটি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এমবিবিএস কারিকুলাম অনুযায়ী প্যাথলজি আর ফার্মাকোলজির পাহাড়সম পড়া সামলাতে গিয়ে তার নাভিশ্বাস দশা।

রাত তখন প্রায় একটা। টেবিল ল্যাম্পের মৃদু আলোয় ময়ূরী মোটা একটা বইয়ের পাতায় নিমগ্ন। চোখে চশমা, কপালে চিন্তার ভাঁজ। আগামীকাল তার একটা গুরুত্বপূর্ণ আইটেম পরীক্ষা আছে। ঢাকা মেডিকেল বা এর সমগোত্রীয় সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার চাপ যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা সে খুব ভালো করে টের পাচ্ছে।
অন্য পাশের ঘরে তাহসিনের ব্যস্ততাও কম নয়। সারাদিনের অফিস শেষ করে সে এখন পুরোদস্তুর ‘গৃহকর্তা’।
তাহসিন আলতো করে পুতুলের চাদরটা ঠিক করে দিয়ে ফাহাদের পড়ার টেবিলের দিকে তাকাল। ছেলেটা বইয়ের উপর মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে। তাহসিন মুচকি হেসে তাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর রান্নাঘরে গিয়ে এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে ময়ূরীর ঘরে ঢুকল।
কফির মগটা টেবিলের এক কোণে রেখে তাহসিন ময়ূরীর কাঁধে হাত রাখল। ময়ূরী চমকে তাকাল। তাহসিন নিচু স্বরে বলল,

“আর কতক্ষণ? রাত তো অনেক হলো। শরীরের উপর দিয়ে তো কম ধকল যাচ্ছে না।”
ময়ূরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে কফির মগে চুমুক দিল।
“আর মাত্র কয়েকটা পেজ বাকি। এই প্রফটা ভালোয় ভালোয় পার করতে পারলে বাঁচি। আপনি ঘুমাননি কেন? সকালে তো আবার অফিস আছে।”
তাহসিন ময়ূরীর চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
“তুমি জেগে থাকলে আমার কী ঘুম আসে? পুতুল আর তোমার ভাই—দুজনেই সাবাড়। ওদের সামলাতে সামলাতে আমার নিজেরও এখন মনে হচ্ছে আমি একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রিন্সিপাল!”
ময়ূরী খিলখিল করে হেসে উঠল। এই হাসিতেই যেন সারাদিনের সব ক্লান্তি ধুইয়ে গেল। তাহসিন আলতো করে ময়ূরীর চিবুক ছুঁয়ে বলল,
“তুমি শুধু তোমার পড়াশোনাটা ঠিকঠাক ভাবে করো। আমি আছি তো সব সামলানোর জন্য। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা তোমার একার না, এখন এটা আমারও জেদ।”

বিছানার পাশের টেবিলে রাখা স্টেথোস্কোপটা ল্যাম্পশেডের মৃদু আলোয় চিকচিক করছে। পাশে ভাঁজ করে রাখা ধবধবে সাদা অ্যাপ্রন, যার পকেটে নীল সুতোয় খোদাই করা— ‘ডা. ময়ূরী তাহসিন’। দীর্ঘ পাঁচ বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর এক বছরের নির্দয় ইন্টার্নশিপের পর আগামীকাল ময়ূরীর জীবনের এক নতুন দিগন্ত। হাসপাতালের সাদা করিডোরে তার প্রথম অফিশিয়াল ডিউটি।
ময়ূরী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল। ২৫ বছরের এই তরুণীটি আজ কত বেশি পরিণত! কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে যে হাহাকার ছিল, তা কেবল সে আর তাহসিনই জানে।
ময়ূরী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল। চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে সে ভাবছিল, এই একটা বছরের ইন্টার্নশিপ তাকে কতটা নিংড়ে নিয়েছে। মাসের পর মাস নাইট ডিউটি, ইমার্জেন্সি সামলানো আর প্রফ পরীক্ষার চাপে তাহসিনের সাথে ঠিকমতো কথা বলার সময়টুকুও জোটেনি। একই বিছানায় শুয়েও কত রাত তারা পিঠাপিঠি হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ক্লান্তিতে—তার হিসাব নেই।
হঠাৎ পেছন থেকে দুটি শক্ত হাত ময়ূরীকে জড়িয়ে ধরল। তাহসিনের চেনা গায়ের ঘ্রাণ আর তপ্ত নিঃশ্বাস ঘাড়ের কাছে লাগতেই ময়ূরী শিউরে উঠল। আয়নায় দেখল তাহসিনের চোখ দুটো আজ বড্ড অন্যরকম, যেন সেখানে এক সমুদ্র তৃষ্ণা জমে আছে।
তাহসিন ময়ূরীর কাঁধে মুখ ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল,

“অনেক তো হলো ডাক্তারী। আজ রাতে এই ঘরে কোনো পেশেন্ট নেই, কোনো কল নেই। আজ এই ঘরে শুধু আমি আর আমার ময়ূরী।”
ময়ূরী মুচকি হেসে তাহসিনের হাতদুটো খামচে ধরল। একটু আদুরে গলায় বলল,
“উফ,ছাড়ুন তো! কাল সকালে আমার প্রথম জয়েনিং। কত কাজ বাকি, ব্যাগ গোছাতে হবে…”
“ব্যাগ কাল সকালে আমি গুছিয়ে দেব। গত তিন মাস ধরে তুমি শুধু হসপিটাল আর ওয়ার্ড চিনলে, তোমার এই জামাইটাকে তো ভুলেই গিয়েছিলে। জানো, কতটা উন্মাদ হয়ে আছি এই রাতটার জন্য?”
ময়ূরী লাজুক হেসে চোখ নামিয়ে নিল।বেহায়া লোকটা সেই ৯ বছর আগের তাহসিনই রয়ে গেছে।দিন কত তাড়াতাড়ি চলে যায়,তাই না?ময়ূরী ছিল সদ্য ১৬ তে পা দেয়া এক কিশোরী কন্যা।আর তাহসিন ছিল সেই সময়ের তাগড়া যুবক।মানুষ বলে বয়স হলে নাকি ভালোবাসা কমে যায়?অথচ ময়ূরীর মনে হয় সেবিহীন তাহসিন নিশ্বাস টুকুও নিতে পারবে না।
তাহসিন ওর চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে বলল,

“কী হলো? ডাক্তার সাহেবা কী এখন রুগী দেখবেন না?”
ময়ূরী খিলখিল করে হেসে উঠল,
“রুগী তো দেখছি বেশ সিরিয়াস! হার্টবিট তো মিটারে নামছে না।”
“হার্টবিট তো তখনই থামবে, যখন তুমি আমায় শান্ত করবে। অনেক তো শাসন করলে স্টুডেন্ট লাইফে, আজ রাতে কী একটু প্রশ্রয় দেওয়া যায় না?”
ময়ূরী আলতো করে তাহসিনের শার্টের কলারটা টেনে ধরল। তার চোখেও আজ অদ্ভুত এক মায়া।
“আপনি কী জানেন অফিসার,আপনার এই পাগল করা ভালোবাসাই আমাকে এতদূর টেনে এনেছে? আমি তো ভেবেছিলাম আপনি আমার উপর রেগে আছেন।”
“রেগে ছিলাম তো! কিন্তু তোমার ওই সাদা অ্যাপ্রনটার মায়ায় নিজেকে সামলে রেখেছিলাম। তবে আজ আর কোনো বাঁধ মানব না বেগম সাহেবা।”
তাহসিন এক ঝটকায় ময়ূরীকে কোলে তুলে নিল। ময়ূরী লজ্জায় ওর বুকে মুখ লুকাল। বিছানায় নামিয়ে দিয়ে তাহসিন ওর চোখে, কপালে আর চিবুকে অগুণতি চুমু এঁকে দিতে লাগল। তার স্পর্শে আজ এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা, যেন কয়েক জন্মের বিরহ মিটিয়ে নিতে চাইছে সে।
ময়ূরী অনুভব করল তাহসিনের হৃদপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন।কিছু একটা ভেবে শুকনো ঢোক গিলল ময়ূরী।জোর করে তাহসিনকে সরিয়ে উঠে বসল বিছানায়।তাহসিন ভাবল ওর শরীর খারাপ লাগছে।চিন্তিত হলো সে।

“খারাপ লাগছে ময়ূরী?”
তাহসিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হলো। সে ময়ূরীর কপালে হাত দিয়ে দেখল জ্বর আছে কি না। ময়ূরীর মুখটা কেন জানি ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে, আবার চোখের কোণে এক অদ্ভুত চপলতা। তাহসিন আলতো করে ওর গাল ছুঁয়ে বলল,
“কী হয়েছে বলবে তো? হঠাৎ উঠে বসলে যে? শরীর বেশি খারাপ লাগছে?”
ময়ূরী তপ্ত শ্বাস ফেলে জানালার ওপাশে অন্ধকারের দিকে তাকাল। বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে, অথচ মুখে একরাশ অভিমান ফুটিয়ে তুলল সে। খাটের এক কোণে সরে গিয়ে বসল। তাহসিন আরও অবাক হয়ে ওর দিকে এগিয়ে এলো।
ময়ূরী নিচু স্বরে বলল,
“আমার খুব আচার খেতে ইচ্ছে করছে।”
তাহসিন থতমত খেল। এই মাঝরাতে আচারের কথা কোত্থেকে এলো? সে অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“আচার? এই অসময়ে? ঘরে তো আমসত্ত্ব আছে, এনে দেব?”
ময়ূরী মুখ ঝামটা দিয়ে উঠল,

“না, আমার ওসব মিষ্টি আমসত্ত্ব ভালো লাগছে না। আমার খুব টক, একদম কাঁচা আমের টক আচার খেতে ইচ্ছে করছে। লেবু দিয়ে ডাল আর অনেকগুলো কাঁচা মরিচ চিবিয়ে খেতে মন চাচ্ছে। আপনি কী এনে দিতে পারবেন?”
তাহসিন কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করল,
“অদ্ভুত তো! ডিনার তো মাত্রই করলে। হঠাৎ এত টক খাওয়ার নেশা উঠল কেন? গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হচ্ছে না তো?”
ময়ূরীর পিত্তি জ্বলে উঠল। এই লোকটা এত বড় অফিসার, অথচ সাধারণ একটা ইঙ্গিতও বুঝতে পারছে না! সে রাগে গাল ফুলিয়ে বলল,
“থাক, কিচ্ছু আনতে হবে না। আপনি যান এখান থেকে। আপনার সাথে কথাই বলব না আমি।”
তাহসিন এবার সত্যিই ঘাবড়ে গেল। ময়ূরীর এই অসময়ে রাগ আর অদ্ভুত খাবারের বায়না ওকে গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। সে ময়ূরীর হাত ধরতে যেতেই ময়ূরী ওর হাতটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিল।
“সরুন! আপনি কিচ্ছু বোঝেন না।খারাপ লোক একটা।”
তাহসিন কাঁচুমাচু হয়ে বলল,

“আরে রাগ করছ কেন? আচ্ছা ঠিক আছে, আমি দেখছি নিচে কোনো আচার পাওয়া যায় কি না। কিন্তু হঠাৎ টক…”
ময়ূরী আর সইতে পারল না। সে খপ করে তাহসিনের শক্ত হাতটা ধরল। তারপর নিজের তলপেটে সেই চওড়া হাতের তালুটা সজোরে চেপে ধরল। তাহসিন চমকে উঠল। ময়ূরী ওর গলা জড়িয়ে ধরে একদম কানের কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাসে নিভু স্বরে বলল,
“You’re going to be a father, Officer.”
মুহূর্তের জন্য পুরো ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তাহসিনের হাতটা ময়ূরীর পেটের উপর জমে বরফ হয়ে আছে। তার মস্তিষ্ক যেন এই খবরটা বিশ্বাস করতেই পারছে না। সে ধীরে ধীরে ময়ূরীর মুখটা দুহাতে তুলে ধরল। ওর চোখে তখন পানি টলমল করছে।
“কী?”
ময়ূরী মাথা নাড়ল।
“ময়ূরী…তুমি… তুমি সত্যি বলছ? আমাদের…আমাদের নিজেদের সন্তান?”

তাহসিনের কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল।ময়ূরী শুধু লজ্জায় মাথা নিচু করে ডুকরে কেঁদে উঠল। এই কান্না আনন্দের, এই কান্না সার্থকতা পাওয়ার। তাহসিন বুনো আবেগে ময়ূরীকে ঝাঁপটে ধরল। ওর চওড়া বুকটা ময়ূরীর কান্নায় ভিজে যাচ্ছে। এক সময়ের সেই কঠোর অফিসার আজ একদম শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
রাত তখন নিঝুম। জানালার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে রুপালি চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। ঘরের আবছা আলোয় ময়ূরীর মুখটা এক অদ্ভুত মায়ায় মাখা। তাহসিন তাকে দুহাতে আগলে ধরে আছে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রত্নটা তার বুকের পাঁজরে লুকানো। ময়ূরীর চোখের কোণে নোনা জল চিকচিক করছে দেখে তাহসিন ওর কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
“পাগলী মেয়ে, এই আনন্দের খবরটা দিয়ে কেউ বুঝি এভাবে কাঁদে? জানো ময়ূরী, মাঝে মাঝে মনে হয় আমি বোধহয় আগের জন্মে অনেক পুণ্য করেছিলাম, তাই তোমার মতো এমন একটা আকাশ ছোঁয়া মায়া আমার ভাগ্যে জুটেছে।”
ময়ূরী ওর বুকে মুখ লুকিয়ে জড়িয়ে ধরে ধরা গলায় বলল,

“আপনাকে খবরটা দিতে গিয়ে আমার ভেতরটা ভীষণ কাঁপছিল। বারবার ভাবছিলাম, আমার এই ছোট শরীরের ভেতরে আর একটা প্রাণ বড় হচ্ছে—আপনি যখন এটা জানবেন, তখন কেমন লাগবে আপনার?”
তাহসিন ময়ূরীর মুখটা দুই হাতের আঁজলায় তুলে ধরল। ওর চোখের মণি দুটো তখন গভীর এক ভালোবাসায় চিকচিক করছে।
“আসলে ভালোবাসা যখন পূর্ণতা পায়, তখন সে একটা নতুন প্রাণের রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আসে। পুতুল আমাদের বড় সন্তান, ও আমাদের ঘর আলো করে আছে। কিন্তু আজ আমাদের নিজেদের এই অস্তিত্বের কথা শুনে মনে হচ্ছে,এই বুঝি জীবনটা সার্থক হলো।”
ময়ূরী লাজুক হাসল।তাহসিন ময়ূরীর চুলে আঙুল চালিয়ে দিতে দিতে পরম আবেশে বলল,

“শোনো ময়ূরী, নক্ষত্ররা হয়তো আকাশেই মানায়, কিন্তু আমার বাগানে ফুটে থাকা সবটুকু ঘ্রাণ তো তুমিই। আজ থেকে এই গভীর রাতগুলোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকব, কারণ তারা সাক্ষী হয়ে রইল আমাদের এই পূর্ণতার।”
ভালোবাসা সত্যিই সুন্দর।সুন্দর ভালোবাসার মানুষ গুলো।এখানেই তো সুখ,দুঃখ আর আনন্দ।তাহসিনের বয়স এখন অনেক।সে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের শখ মাটি দিয়েছিল বহুদিন আগে।তার ইচ্ছে ছিল সেই কিশোরী বধূকে একদিন অনেক বড় বানাবে।উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বানিয়ে নিজ পায়ে দাঁড় করাবে।আজ সেই কিশোরী বধূ খুব বড় হয়েছে।ডাক্তার হয়ে এখন এক ছোট্ট সন্তানও গর্ভে ধারণ করেছে।

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪৭

রাতের গভীরতায় চারপাশ যখন নিস্তব্ধ, তখন তাহসিনের মনে পড়ে যায় সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। জীবনের সোনালী সময়গুলো সে বিলিয়ে দিয়েছিল এক জোড়া চোখের স্বপ্নকে সজীব রাখতে। নিজের ক্যারিয়ার, শখ কিংবা বিলাসিতা—সবকিছুই এই কিশোরী বধূর পড়াশোনার আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। আজ যখন সে ময়ূরীর শুভ্র অ্যাপ্রনের দিকে তাকায়, তখন আর তার মনে কোনো আক্ষেপ অবশিষ্ট থাকে না।
“একজনের বিসর্জন যখন অন্যজনের সার্থকতা হয়ে ধরা দেয়, তখন সেই ত্যাগের নাম আর দুঃখ থাকে না; তা হয়ে ওঠে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।”

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪৯