খান সাহেব পর্ব ২২
সুমাইয়া জাহান
ভোরের আলো ফুটেছে। পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে সুমু আধো আধো চোখ খুলে তাকাল। বেড ছেড়ে উঠতে নিলেই শরীরের ওপর ভারী কিছু অনুভব করতেই আবারও শুয়ে পড়ল সে। পুরোপুরি চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল খান সাহেব তার বুকের ওপর তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। একদম গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে তার খান সাহেব। ব্যাপারটা তার মন ছুঁয়ে গেল। সবকিছু এখন আর স্বপ্ন না সত্যি মনে হল তার। কাল রাতের বাইকের ঘটনা মনে পড়তেই, লজ্জায় কুঁকড়ে গেল সে। সুমু তার নরম হাত দিয়ে শেরাজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। ছোট্ট করে শেরাজের চুলের ওপর ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই, শেরাজ একটু নড়েচড়ে উঠে সুমুকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। শেরাজের এমন পাগলামি দেখে আলতো হাসল সে। হঠাৎ ঘুম জড়ানো কন্ঠে শেরাজ বলে উঠল,
“আমার ঘুমের মধ্যে তুমি আবার আমার সুযোগ নিতে চাইছো বউ?”
শেরাজের কথায় হকচকিয়ে তাকাল সুমু। শেরাজের ঘুম জড়ানো কন্ঠ সুমুর কাছে বড্ড নেশালো লাগল। তার পুরো শরীরে অজানা শিহরণ বয়ে গেল। নিজেকে কোনোমতে সামলে কাপালের মাঝে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে বলল,
“আপনি এতোক্ষন জেগে ছিলেন, তাই না?”
সুমুর কথা শুনে শেরাজ মুচকি হেসে বলল,
“আমাদের মতো সিঙ্গেল ছেলেদের কি আর ঠিকমতো ঘুম হয় বলো? তার ওপর যদি পাশে হট মেয়ে নিয়ে ঘুমাতে হয়, তাহলে তো আরো আগে ঘুম পালাবে। মনের মধ্যে একটা ভয় থাকে বুঝলে।”
সুমু ভ্রু কুচকে বলল,
“কিসের ভয়?”
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
এই যে, যদি তুমি আমার ভার্জিনিটি নষ্ট করে ফেল। ঘুমের মধ্যে আমার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করো। আমি কিন্তু এখনও পিওর ভার্জিন। বিয়ে করলেও বউয়ের সাথে এখনও কিছুই করিনি। দয়া করে, তুমি আমার ইজ্জতে হাত দিওনা, বউ।”
শেরাজের এমন অদ্ভূত মার্কা কথা শুনে একটু উচ্চস্বরে হেসে ফেলল সুমু। সুমুর হাসির শব্দ শুনে শেরাজ ধপ করে সুমুর বুকের ওপর থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকাল। শেরাজকে তাকাতে দেখে সুমুর হাসির আওয়াজ কমে গেলেও হাসি থামল না।
শেরাজ নেশা জড়ানো কন্ঠে বলল,
“এইভাবে হেসো না, সুইটহার্ট।”
সে বুকের বা’পাশটাই হাত রেখে বলল,
“এখানে খুব লাগে। একদম ঘায়েল করে দেয়।”
এমন সময় কল এলো শেরাজের ফোনে। ফোনের স্ক্রিনের ওপর “ফিরোজা” নামটা ভেসে উঠেছে। সুমু নামটা দেখে খুব উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। এই ফিরোজা মেয়েটাকে দারুণ লাগে তার। দেখতে একদম কিউট, ফুটফুটে, মিষ্টি একটা বাচ্চা। ওর মতোই কিউট ওর কথাগুলো। সুমু অনেকবার ফিরোজাকে শেরাজের সাথে ভিডিওতে দেখেছে। তখন থেকেই ওই ছোট্ট বাচ্চাটার প্রতি অনেক টান পড়ে গেছে সুমুর। তার খান সাহেবেও প্রচন্ড রকমের বাচ্চাদের ভালোবাসে। ফিরোজার সাথে একদম বাচ্চাসূলভ আচরণ শেরাজের। অপরদিকে শেরাজের চেহারার সাথে অনেক মিল আছে বাচ্চাটার। শেরাজের অনেক না জানা ফলোয়াররা ভাবে ফিরোজা হয়তো শেরাজের মেয়ে। কিন্তু ফিরোজা শেরাজের মামাতো বোন। সুমু নিজেও আগে ভাবতো, হয়তো তার খান সাহেব বিবাহিত আর ফিরোজা তার মেয়ে। তখন সুমু একটু ধাক্কা খেলেও পরে কমেন্ট সেকশন চেক করে জানতে পারে ওরা মামাতো ভাই বোন। সুমুর ভাবনার মাঝে শেরাজ কল রিসিভ করতেই ওপাশে থেকে ফিরোজার অভিমানি সুর ভেসে এলো,
“আততালামু ওয়াতাইতুম ভাইয়া।”
শেরাজ মৃদু হেসে জবাব দিল,
“ওয়ালাইকুম আসসালাম, মাই লাভ!”
“তেমন আতো ভাইয়া?”
“আলহামদুলিল্লাহ্, মাই লাভ। আমি খুব, খুব, খুব ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“আনহামদুন্নিনাহ, ভাইয়া। আমি একতুও ভানো নেই।”
শেরাজ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
“কেনো লাভ? তোমার কি হয়েছে?”
ফিরোজার কন্ঠ স্বর একটু কাঁদো কাঁদো শোনাল। সে অভিমানীস্বরে বলল,
“তুমি বিডিতে তিয়ে আমাল একতুও খবর নাওনি ভাইয়া। তুমি পুঁচা হয়ে গেতো।”
শেরাজ হেসে ফেলল উচ্চস্বরে। সুমু চুপ করে দুজনের কথা শুনছে আর মিটিমিটি হাসছে। শেরাজ সুমুকে একহাতে নিজের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
“তোমার জন্য একটা অনেক বড় সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করতে গিয়ে, সময় পাইনি তোমার খোঁজ নেওয়ার লাভ।”
ফিরোজা খুব উৎসাহিত কন্ঠে বলল,
“তত্যি ভাইয়া? তি সারপ্রাইত আনছো তুমি আমাল জন্য?”
“সেটা এখন বলে দিলে তো সারপ্রাইজটা সারপ্রাইজ থাকবে না, লাভ। তুমি আর কিছুদিন ওয়েট করো। সারপ্রাইজটা আমি তোমার সামনে নিয়ে আসলেই তুমি দেখতে পাবে, কি সারপ্রাইজ।”
“আচ্চা।”
“এখন তুমি তোমার মাম্মাম এর কাছে ফোনটা দাও, লাভ। আর তুমি নিজের খেয়াল রেখো। আমি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো।”
ফিরোজা ফোনটা ওর আম্মুর কাছে দিয়ে, বল নিয়ে রুমের মধ্যে খেলতে লাগল। শেরাজ কিছুক্ষণ রুহি খাতুনের সাথে কথা বলে ফোন রেখে দিল।
সুমু এতোক্ষণ নিরব দর্শকের মতো সবটা শুনল। শেরাজ ফোনটা রেখে সুমুর দিকে তাকিয়ে টুপুস করে সুমুর ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াল। হঠাৎ দরজার ধাক্কাধাক্কিতে সুমু লজ্জা পাবার সময়টুকুও পেল না। বাহির থেকে আইয়ুব প্রচন্ড জোরে চিৎকার করছে আর দরজা ধাক্কাচ্ছে। শেরাজ বিরক্ত হয়ে কানে বালিশ গুজে আবারও শুয়ে পড়ল। সেই সাথে সুমুকেও নিজের সাথে জড়িয়ে নিল। সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কি করছেন আপনি? আমাকে উঠতে দিন। অনেক বেলা হয়ে গেছে। আইয়ুব ভাইয়া আপনাকে ডাকছে তো। আমাকে উঠতে দিন আর আপনিও উঠুন।”
সুমুর কথায় কোনো হেলদোল দেখা গেল না শেরাজের মাঝে। সে সুমুকে আরও শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে সুমুর গলায় মুখ গুজে শুয়ে থাকল। শেরাজের কর্মে সুমু মহাবিরক্ত হলো। বিয়ের পর কি তার খান সাহেবের এমন অধঃপতন হলো, নাকি আগে থেকেই এমন অধঃপতন ছিল সে বুঝতে পারছেনা। বাহির থেকে সকলের চিৎকার শোনা যাচ্ছে এখনো। লজ্জায় সুমুর এখন কচু গাছের সাথে গলায় দড়ি দিতে ইচ্ছে করছে। এই পালোয়ানের মতো শরীরটাকে তার নিজের ওপর থেকে ওঠানো সম্ভব না। কোনো উপায় না পেয়ে নড়াচড়া শুরু করল সে।
শেরাজ মিটিমিটি হাসছে সুমুর কান্ড দেখে। সুমুকে জ্বালিয়ে বেশ মজাই পাচ্ছে সে। হঠাৎ নড়াচড়া করতে করতে হাঁপিয়ে উঠল সুমু। বড় করে এক নিঃশ্বাস ছেড়ে সে বলল,
“আপনি কি করছেন, খান সাহেব? প্লিজ, আমাকে অন্তত ছেড়ে দিন। সকলে উঠে পড়েছে। আমাকে নিয়ে আপনি এখনো বেডে পড়ে আছেন। সকলে কি ভাবছে একবার ভাবুন তো?”
শেরাজ আলতো হেসে বলল,
“সকলে কি ভাবছে, সেটাও যদি আমি ভাবি। তাহলে সকলে কি ভাববে সুইটহার্ট? আপাতত ওরাই না হয় ভাবুক। আমি পরে ভেবে নেব। এখন তুমি আমাকে ঘুমাতে দাও।”
“আচ্ছা! আপনি ঘুমান। আমাকে অন্তত উঠতে দিন।”
“উহুম! তুমি উঠে গেলে তো আমার ঘুম হবে না।”
“কেনো?”
“কারণ, কোলবালিশ ছাড়া আমি ঘুমাতে পারিনা, সুইটহার্ট।”
“কোলবালিশ তো আছেই আপনার পাশে। ওটা নিন। আমাকে কেনো ধরে রেখেছেন? আমাকে ছেড়ে দিন।”
“এখন থেকেতো আমার এই কোলবালিশটাই চাই। ওইসব তুলোর কোলবালিশ আমার আর লাগবে না। আমার তো এই রক্তে-মাংসে গড়া কোলবালিশটা চাই।”
“ছাড়ুন, খান সাহেব। আপনি এখন না ছাড়লে পরে আমি সকলের সামনে অনেক লজ্জায় পড়ে যাব। প্লিজ, ছাড়ুন।”
“তোমার লজ্জা পাওয়া মুখটা দেখতে অনেক বেশি নেশালো লাগে, সুইটহার্ট। তোমার লজ্জা পাওয়া মুখটা দেখার জন্য হলেও, অন্তত তোমাকে দিনে দশবার লজ্জায় ফেলব আমি।”
সুমু চুপ করে রইল। এইভাবে বলে লাভ নেই সে বুঝতে পারছে। খান সাহেবের থেকে ছাড়া পেতে হলে তাকে বুদ্ধি খাটাতে হবে, নয়তো কিছুতেই ছাড় পাবে না সে।
সুমু একটু ভেবে আচমকাই বলল,
“খান সাহেব, আমার অনেক খিদে পেয়েছে। কাল সেই রাতে খেয়েছি, তাও অল্প একটু। আপনার ভালোবাসার মানুষটা আসবে ভেবে, আপনাকে পাবার আগেই হারিয়ে ফেলব ভেবে, আর ঠিকমতো খেতে পারিনি।”
শেরাজ একটু উচ্চস্বরে হেসে ফেলল। সুমুর গলা থেকে মুখ উঠিয়ে সে তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“শেরাজ খানের ওপর ভালোই ট্রিকস খাটিয়েছো তুমি, অর্ধাঙ্গিনী। তবে শেরাজ খানের কাছে তোমার এইসব ট্রিকস তো খুব কাঁচা, সুইটহার্ট। তারপরেও যাও, তোমায় ছেড়ে দেব। বাট আই হেভ আ কন্ডিশন।”
সুমু কপালের মাঝে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে বলল,
“কি কন্ডিশন?”
শেরাজ দুষ্ট হেসে বলল;
“কালতো তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে পেলে, তো সেই খুশিতে কোনো পার্টিতো দিলে না। অন্তত মিষ্টিমুখ তো করাবে। আর তাই, এখন তোমার আমাকে মিষ্টিমুখ করাতে হবে।”
সুমু আলতো হেসে বলল,
“ওওও, এই ব্যাপার! আপনি আগে বলবেন না। আপনি আমাকে ছাড়ুন। আমি এক্ষুনি রাহিন ভাইয়াকে দিয়ে মিষ্টি আনানোর ব্যবস্থা করছি।”
শেরাজ বাঁকা হেসে বলল,
“তোমার বোকামির তারিফ করতে হয়, সুইটহার্ট। ওই মিষ্টি থেকেও বড় মিষ্টি খেতে চেয়েছি আমি। ওই মিষ্টিতো শুধু পেটের আর মুখের শান্তি দিবে, আবার ডায়াবেটিসের সম্ভবনা আছে। আর আমি যেই মিষ্টি খেতে চেয়েছি, তাতে পেট, মন, মুখ, মেজাজ সবকিছুর শান্তি দিবে, প্লাস কোনো ডায়াবেটিস হবার ও চান্স নেই।”
সুমুর আর বুঝতে বাকি রইল না শেরাজের কথার মানে। সে আহাম্মকের মতো গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ সুমুর ঠোঁটে আলতো করে আঙুল ছুঁয়ে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। ইশারা করল সুমুকে কিস করার জন্য। সুমু না পারছে পালিয়ে যেতে, আর না পারছে লজ্জায় কোথায় ঢুকে যেতে।
শেরাজ সুমুর লজ্জা পাওয়া দেখে আবারও বলল,
“ওকে, তুমি লজ্জা পাও তাহলে। আমি একটু ঘুমাই। তোমার লজ্জা পাওয়া শেষ হলে বলে দিও। আমাকে আবার মিষ্টি খেতে হবে তো।”
“রাতে দিব। এখন যেতে দিন।”
“নো, নো, নো! বাকির নাম ফাঁকি সুইটহার্ট।”
আচমকাই সুমু শেরাজের চোখের ওপর নিজের হাত চেপে ধরল। সুমুর কান্ডে শেরাজ দুষ্টু হাসছে। সুমু ধীরে নিজের ওষ্ঠ শেরাজের ওষ্ঠর কাছে এগিয়ে নিয়ে গেল। সে একদম শেরাজের ওষ্ঠের কাছে নিজের ওষ্ঠ নিয়ে যেতেই শেরাজের ফোন বেজে উঠল। সুমু ভাবল, সে বেঁচে গেছে। সুমু সরে যেতে চাইল, তবে শেরাজ সরে যেতে দিল না তাকে। চোখ থেকে সুমুর হাতটা সরিয়ে কলটা কেটে দিল সে। নিজে থেকেই চোখ বন্ধ করে রাখল এইবার। সুমু খুব ভালো করেই বুঝে গেল, এখন সুনামি বয়ে গেলেও খান সাহেবের হাত থেকে তার মুক্তি নেই। এইবার আর দেরি করল না সুমু। ঝড়ের গতিতে শেরাজের ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিয়ে মুখ লুকালো শেরাজের বুকে।
শেরাজ আলতো হেসে বলল,
“দেখতে দেবে না তোমার ওই লজ্জা পাওয়া মুখটা?”
সুমু ওভাবেই মুখ গুজে পড়ে রইল। শেরাজ জোর করে সুমুর মুখটা তার বুক থেকে সরাল। সুমু হাত দিয়ে মুখ লুকাতে গেল, শেরাজ তার হাতদুটো বেডের সাথে চেপে ধরে রাখল। সুমু চোখের পাতা বন্ধ করে রেখেছে। শেরাজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল তার প্রেয়সীর লজ্জা মাখা মুখটা। তারপর সুমুর কপালে ছোট্ট করে ঠোঁট ছুঁয়ে উঠে গেল সে। নিজের ওপর খালি অনুভব করতেই সুমু ঝটপট উঠে বসল। কোনো দিকে না তাকিয়ে ফ্রেশ হতে ছুটল সে।
শেরাজ সুমুর পালানো দেখে মুচকি হাসল। বেড ছেড়ে উঠে গিয়ে রুমের দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে আইয়ুবরা রুমের মেঝের ওপর পড়ল। শেরাজ দুইহাত পকেটে গুজে দাঁড়িয়ে রইল। আইয়ুব শেরাজের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসল। রাহিন, সারবাজ, আরবাজ, নাজমিন আর সামিয়া মেঝে থেকে উঠে অন্যদিকে দিকে হাঁটা দিল। তারা এমন ভাব করল যেন তারা কিছুই জানে না।
আইয়ুব উঠে দাঁড়াতে গিয়ে কোমরের ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল। সবগুলো আইয়ুবের ওপরে পড়েছে, আর আইয়ুব ডিরেক্ট মেঝের ওপর। নিহাল হাত বাড়াল আইয়ুবের দিকে। নিহালের হাত ধরে উঠে দাঁড়াল আইয়ুব।
হঠাৎ কোমরের ব্যথা ভুলে সে শেরাজের দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে কিছু একটা দেখতে লাগল। শেরাজ মুখ খুলল না। সে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল আইয়ুবের দিকে।
আইয়ুব, শেরাজের চুলের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা চেক করে বলল,
“তুই শাওয়ার নিসনি, এস.কে?”
আইয়ুবের প্রশ্ন শুনে সামিয়া আর নাজমিন তাদের রুমে ঢুকে পড়ল। রাহিন ফোনে কথা বলার ভান করে কেটে পড়ল। স্যান্ডি কেঁশে ফেলল। বাকি সকলে শেরাজের দিকে উত্তরের আশায় তাকিয়ে রইল।
শেরাজ কপালের মাঝে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে বলল,
“তোদের আর কিছু বলার আছে?”
আইয়ুব ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আছেই তো!”
“কি বল?”
“তুই শাওয়ার না নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছিস, ছি এস.কে। আচ্ছা! এইটা বল, রাতে একটুও ঘুমিয়েছিলি তো?”
“তোদের সব প্রশ্ন করা শেষ? এখন যা। আমি ফ্রেশ হবো।”
“আগে উত্তরটা তো দে।”
শেরাজ ঠেলেঠুলে সবগুলোকে রুম থেকে বের করে দিয়ে, রুমের দরজা লাগিয়ে দিল।
সুমু এতোক্ষণ আইয়ুবদের কন্ঠস্বর শুনে ওয়াশরুম থেকে বের হয়নি। রুমের দরজা আটকানোর শব্দ পেতেই, ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে টাওয়েলটা ছুঁড়ে মারল শেরাজের দিকে। শেরাজ টাওয়েলটা ক্যাচ করে সুমুকে টেনে কাছে এনে বলল,
“কি হয়েছে, সুইটহার্ট? রেগে আছো মনে হচ্ছে।”
সুমুর রাগ দেখিয়ে কিছু বলতে নিবে, তখনই শেরাজের ফোনটা বেজে উঠল। শেরাজ মহাবিরক্ত হলো। এই ফোনটাও ওর বন্ধুগুলোর মতো রোমান্সের সময় ডিস্টার্ব করছে ওকে। শেরাজ ভাবল, হয়তো আইয়ুব কল করেছে ওদের ডিস্টার্ব করার জন্য। ফোনটা রিসিভ করে কিছু গালি দেবার মতো মেজাজ নিয়ে ফোনটার কাছে গেল সে। স্ক্রিনের ওপর “আরিয়ান” নামটা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল শেরাজ। ফোনটা হাতে নিয়ে সে একবার সুমুর দিকে তাকাল।
খান সাহেব পর্ব ২১
সুমু ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পরিপাটি করতে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ সুমুকে মন ভরে দেখল শেরাজ। তার জীবনে নতুন টেনশনের সূচনা হতে চলেছে, এইটা শেরাজ এই কলটার মাধ্যমে বুঝতে পারছে। তার ভাবনার মাঝে, আবার নতুন করে ফোন বেজে উঠতেই কলটা কেটে ফোনটা সুইচঅফ করে দিল শেরাজ। আর কোনো কথা না বলে টাওয়েলটা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে।
