Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩২
আরোবা চৌধুরী আরু

সায়ফান আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। জোরে চিৎকার করে উঠল,
—— “ভাই এ ভাই! আর এবার ছাড় ছোটুকে, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না বেচারি… মরে যাবে ভাইরে ভাই, ছাড়!”
কারো কণ্ঠস্বর কানে পৌঁছাতেই নাফিসার অচেতন দেহে হালকা সাড়া পড়ল। চোখ দুটো ফোট করে খুলে ফেলল । এক নিমিষে সে সায়মানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল নিজের কাছ থেকে।
অপ্রস্তুত ধাক্কায় সায়মান খানিকটা সরে গেল, বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে উঠল ওর। বৃদ্ধাঙ্গুলি ঠোঁটে বুলিয়ে ঠোঁটটা মুছে নিয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল নাফিসার দিকে। কিন্তু ততক্ষণে নাফিসা পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে গেছে।
ঠিক সেই সময় আবারও সাইফানের গলা—

—— “ভাই, আমি বিয়ে করব…! এইরকম অনুভূতির নেওয়ার অধিকার আমারও আছে। প্লিজ বাসায় গিয়ে আব্বুকে আমার বিয়ের কথা বলবি ভাই…….।”
সায়মান এবার ঘুরে দাঁড়াল। নাফিসার ধাক্কার কারণটা এবার স্পষ্ট বোঝলো হয়ে গেল ওর কাছে। চোখ গম্ভীর, চেহারায় লজ্জা বা দ্বিধার ছিটেফোঁটাও নেই।
—— “রাজিব!” ডেকে উঠল সে।
রাজিব ছুটে এসে দাঁড়াল সামনে, লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল—
—— “জি স্যার…”
—— “তোমার পাশের বাঁদরটাকে নিয়ে বাইরে যাও। আমি আসছি।”
—— “ওকে স্যার।”
কিন্তু সাইফান তো সহজে ছাড়বার পাত্র নয়। রাজিব কাছে যেতেই সে আবার চিৎকার শুরু করল—
———“এ ভাই, ভাইয়া! তুমি আমাকে এখান থেকে সরাতে পারবা না। আমি ছোটুকে না নিয়ে যাব না। তোমার ওপর ভরসা নাই।”
সায়মানের ঠান্ডা কণ্ঠ আবারও ভেসে এলো—

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—— “রাজিব, আমি কী বলেছি?”
রাজিব আর দেরি করল না। সায়মানের চোখে চোখ পড়তেই শক্ত করে সাইফানকে টেনে নিল বাইরে। সাইফান এদিক-ওদিক ছটফট করতে লাগল, মুখ দিয়ে লাগাতার বকবক করছে, রাজিবের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
ওরা বাইরে বের হতেই ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
এবার সায়মান ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল নাফিসার দিকে। নাফিসা এখনও পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। নিরব, লজ্জায় কাঁপতে থাকা বুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
সায়মান দু’পা এগিয়ে গেল। নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে নাফিসার কোমল হাতটা নিজের মুঠোয় নিল। হঠাৎ এক টানে তাকে কাছে টেনে নিল বুকে। নাফিসার শরীর সায়মানের শক্ত বাহুবন্ধনে বন্দি হয়ে গেল।
নাফিসার চোখ ভিজে উঠল অশ্রুতে।
সায়মান ওর গালে হাত রেখে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করল—

—— “কি হয়েছে? কাঁদছ কেন? সরি… আর এমন হবে না। রাগের মাথায় হয়ে গেছিল।”
লজ্জা আর ভয়ে নাফিসার মুখ টকটকে লাল। চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে। কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল—
—— “ভাইয়ারা… ভাইয়ারা দেখে…”
কিন্তু বাকিটা আর বলতে পারল না। লজ্জা, ভয় আর অভিমানে মিশ্রিত আবেগে হঠাৎ সায়মানের বুকের ওপর মাথা রেখে শব্দ করে কেঁদে উঠল।
ওর কান্না দেখে সায়মানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি খেলে গেল। নরম হাতে নাফিসার মুখটা তুলে নিয়ে দুই চোখের অশ্রু মুছে দিল। তারপর আলতো করে কপালে চুমু খেল।
পিটপিট করে সায়মানের দিকে তাকিয়ে নাফিসা জিজ্ঞেস করল—
—— “আপনি এতদিন আমাকে আপনার থেকে দূরে রেখেছেন কেন?”
কোনো উত্তর দিল না সায়মান। কেবল ওর হাত ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যেতে শুরু করল।
নাফিসা আবার বলল—

——— “আপনি আমার কথার উত্তর দিলেন না।”
তবু কোনো উত্তর এল না। চুপচাপ এগিয়ে যেতে লাগল সে।
বাইরে বের হতেই সাইফান দৌড়ে এগিয়ে এলো। দু’জনকে একসাথে দেখে গলা উঁচু করে বলল—
——— “যাক! দেখে মনে হচ্ছে ঠিকই আছে।”
সায়মান বিরক্ত হয়ে তাকাল, আর নাফিসা লজ্জায় সায়মানের পেছনে লুকিয়ে গেল। ওর শার্ট আঁকড়ে ধরল দুহাতে।
সাইফান আবার শুরু করল—
——— “ভাই, কি কাজটাই না করলে! আমি তো সব শুনে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছি, এখন তো আত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি!”
সায়মান গম্ভীর স্বরে ধমকে বলে উঠল—

—— “আর একটা কথা বলবি না তুই। চুপ।”
সাইফান চুপ হয়ে গেল, তবে বুকের ভেতর কথার খই ফুটতেই থাকল—
‘আহারে, জীবনটা বেদনা! এমন ভাবে অ্যাডভেঞ্চার করে বিয়ে করার ইচ্ছা করছে… হাউ ইন্টারেস্টিং হবে !’
সায়মান এবার রাজিবের দিকে তাকিয়ে বলল—
—— “রাজিব, এখন কয়টা বাজে?”
রাজিব মাথা নিচু করে উত্তর দিল—
—— “জি স্যার, এখন রাত এগারোটা। আর একটা কথা বলি স্যার… আমরা শহর থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। এখন যদি আবার ফিরি তো অনেক রাত হয়ে যাবে। সকলে ক্লান্ত। আবার এতদূর ড্রাইভ করাও সম্ভব না । আমার মনে হয়, আশেপাশে কোনো হোটেলে উঠতে পারি। রেস্ট নিয়ে সকালে রওনা দেব।”
সায়মান কিছুক্ষণ ভেবে গম্ভীর স্বরে বলল—

—— “আচ্ছা। তোমার পরিচিত কোনো হোটেল থাকলে খোঁজ করো। সবাই গাড়িতে উঠো।”
রাজিব মাথা নেড়ে রাজি হল। সে আর সাইফান এক গাড়িতে উঠল।
আরেকটা গাড়িতে বসল সায়মান আর নাফিসা।
নাফিসা গাড়িতে বসতেই সায়মান তাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল। লজ্জায় মাথা নিচু করে নাফিসা ফিসফিস করে বলল—
——“কি করছেন? কোলে নিয়ছেন কেন? নামিয়ে দিন আমাকে।”
স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে সায়মান গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিল—
—— “চুপচাপ বসো। একটা কথাও বলবে না।”
তারপর এক হাতে নাফিসার মাথা টেনে নিজের বুকে চেপে ধরল।

—— “Sleep…”
—— “আমি ঘুমাব না।” নাফিসা প্রতিবাদ করল মৃদু স্বরে।
সায়মান শান্ত গলায় বলল—
—— “এখন ঘুমিয়ে নাও। সারারাত তো আর ঘুমানোর সুযোগ পাবে না।”
—— “মানে? কেন?” অবাক হয়ে তাকাল নাফিসা।
সায়মান রহস্যমাখা দৃষ্টি ছুঁড়ে দিল—
—— “মানে বুঝবে পরে। এখন এত কিছু ভেবে লাভ নেই। ”
নাফিসা ভ্যাবলাকান্তের মতো তাকিয়ে রইল তার দিকে।
সায়মান পাশ ফিরে তাকিয়ে ওর সেই দৃষ্টিটা দেখে হালকা হাসল, আবারও মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরল।
—— “Sleep…”
অবশেষে সায়মানের বুকে মাথা রেখে নাফিসা চোখ বন্ধ করল। সারাদিনের ক্লান্তি, সায়মানের বুকের উষ্ণতা আর শরীরের ঘ্রাণে আচ্ছন্ন হয়ে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ল সে।
গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে লাগল। সামনে রাজিব আর সাইফানের গাড়ি, আর তার পিছনেই সায়মানের গাড়ি নীরবে ফলো করছে।

গাড়ি এসে একটা হোটেলের সামনে থামল। হোটেলটি দুই তলার, রংচটা এবং আশেপাশের জায়গার সঙ্গে তুলনাই, এখানে থাকার জন্য হোটেল পাওয়া গেছে এটাই অনেক—কারণ আশেপাশের এলাকা ততটা আধুনিক নয়, গ্রামই বললে চলে। সম্ভবত এটা জেলা শহরের কোনো উপজেলা।
রাজিব আর সাইফান গাড়ি থেকে নামল। সাইফান সায়মানদের গাড়ি থেকে নামতে না দেখে এগিয়ে এল। কাছাকাছি এসে দেখল, সায়মানের কোলে নাফিসা শান্তভাবে ঘুমোচ্ছেন।
সাইফান চোখ বড় করে তাকিয়ে বলল,
—— “ভাই, তুমি তো পুরো বউ-পাগল! আমি তো তোমার ওপর মিছে মিছে সন্দেহ করছিলাম। যাক, কোন হাফ লেডিসকে আমার ভাবি বলে ডাক দিতে হবে না।”
তারপর ছোট ছোট চোখে আবার প্রশ্ন করল,
—— “আমরা এসে পৌঁছেছি, এখন বউকে কোল থেকে নামাও। এত চিপকে থাকছো কেন সব সময়? এতদিন নিজের বউয়ের থেকে দূরে কেমন করে ছিলে?”
সায়মান সাইফানের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল।
সাইফান কিছুক্ষণ মিনিয়ে গেল।
সায়মান নাফিসাকে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এল। নাফিসা ঘুমের মধ্যে মগ্ন। নামার সঙ্গে সঙ্গে সাইফান আবার হাসিমুখে বলল—

—— “তুমি করবা তার বেলা আর কিছু না। আমরা বললে দোষ হবে না, তাই না? যত দোষ সিঙ্গেল সায়ফানঘোষ,, কিন্তু একটু দয়ামায়া নেই কি, সিঙ্গেল মানুষদের সামনে নিজের বউয়ের সঙ্গে এভাবে চিপকে আছো!”
সায়মান কানে নিল না। শুধু সামনের দিকে এগিয়ে রাজিবের দিকে তাকাল। ইশারায় ভিতরে যেতে বলল , সবাই হোটেলের ভিতরে ঢুকল।
সাইফানও তাদের পিছনে চলে এল।
রাজিব রিসেপশনে গিয়ে কথা বলল,তারপর সায়মাননের এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
—— “স্যার, কয়টা রুম নিবেন?”
সাইফান কৌতূহলমিশ্রিত চোখে রাজিবকে দেখল, কিন্তু সায়মানের দিকে চট করে তাকাল,,,কিছু বলল না।
সায়মান গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

—— “দুটি নাও।”
রাজিব সবকিছু ঠিকঠাক করে রুম বুক করল। এরপর সবাই তাদের-তাদের রুমে চলে গেল।
সায়মান নাফিসাকে রুমে নিয়ে এসে বেডে শুইয়ে দিল। নাফিসা গভীর ঘুমে মগ্ন। সায়মান ধীরে ধীরে নাফিসার মুখ পর্যবেক্ষণ করতে থাকল। আস্তে আস্তে হিজাব খুলতে লাগল, যেন ঘুম ভাঙে না। হিজাব খুলে দেওয়া শেষ হলে ঠিক সেই সময় দরজায় ঠকঠক করার শব্দ হলো।
সায়মান উঠে দরজা খুলল। রাজিব খাবারের প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সায়মান খাবারের প্যাকেট নিয়ে আবার দরজা বন্ধ করতে গেল। ঠিক সেই সময় সাইফান উকি দিয়ে বলল,

—— “ভাই আমার ছোটুকে আমি থাকতে দিব না,, তুমি যে পরিমাণে নিলজ্জ হয়েছো। আমাদের সামনে মানছো না কিছু,, দুইজন এক রুমে থাকলে কি করবে……
সায়মান হালকা বিরক্তি হয়ে ওর মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিল।
রাজিব ভাই, তুমি দেখলে তোমার স্যার কি রকম…?” সাইফান অসহায় ভঙ্গিতে বলল।
রাজিব হাসতে হাসতে বলল, “হ্যাঁ, তুমি পারো বটে, সাইফান! এত কথা বলতে। চলো, এখন আমাদের রুমে যাই।”
“হ্যাঁ, চলো রাজিব ভাই, তুমি আর আমি মিলে আজকে রোমান্স করি।” কথা শেষ করে সায়ফান কোমর দুলিয়ে, মেয়েদের মতো করে রাজিবের বাহু ধরল।
“আচ্ছা রাজিব ভাই, তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড আছে কি?” সাইফান আচমকা প্রশ্ন ছুড়ে দিল।
রাজিব কেবল মাথা নাড়াল, “হুম আছে, কয়দিন পর বিয়ে হবে আমাদের ।”
“কি বল, রাজিব ভাই? তোমাদের সবার আছে, আর আমার কিছু নেই! হায়, আমি কি করি, হতাশ হয়ে যাচ্ছি।”
তারা দু’জনে রুমে ঢুকল। রাজিব দরজা বন্ধ করল। পিছন ফিরে দেখল সাইফান এখন খাটের উপর সাট-পাট হয়ে শুয়ে আছে।
রাজিব খাটের পাশে বসতে এগোলেই সাইফান হঠাৎ লাফ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে পড়ল। রাজিব চমকে, একটু ভীতচকিতভাবে স্থির হয়ে দাঁড়াল।
সাইফান খুশিতে ঝুঁকে এসে রাজিবের হাত ধরে পাশে বসালো। তারপর লাজুক ভঙ্গিতে বলল, “রাজিব ভাই, তুমি কোনদিন… মানে মানে…”

রাজিব সাইফানের দিকে তাকিয়ে বলল, “মানে টা কী? বলো, মানে মানে না টা কি ?”
সাইফান একটু লজ্জায় মুচকি হেসে বলল, “রাজিব ভাই, তুমি ঠোঁটটা… পাউন্স করল… এটা খেয়েছো।”
রাজিব তার ভঙ্গিমা দেখে শব্দ করে হাসতে শুরু করল।
হেসো না তো বাল বল না? সাইফান আবার চিড় ধরল।
রাজিব কেবল মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানালো।
সাইফান উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করল, “ফিলিংস কেমন গো… বল না!”
রাজিব শান্তভাবে তাকিয়ে বলল, “অমৃত।”
সাইফান আরও ছটফট করতে লাগল, “এইরকম ফিলিংস আমি কবে পাবো? আমি খেলব না, আমি বিয়ে করব… অমৃত খেতে চাই, আমিও!”
রাজিব হাসতে হাসতে খাটের ওপরে শুয়ে পড়লো পেট চেপে ।

সায়মান খাবার নিয়ে দরজা বন্ধ করে পিছনে ঘুরতেই দেখল, নাফিসা ঘুম থেকে উঠে বসে আছে। গোল গোল চোখে অবাক ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
সায়মান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে খাবারের প্যাকেটটা টেবিলের উপর রাখল।
তারপর নরম গলায় বলল,
— “ফ্রেশ হয়ে এসো ওয়াশরুমে গিয়ে। খাবার আনা হয়েছে, খেয়ে নেবে।”
নাফিসা কিছুক্ষণ ইতস্তত করে, গলা কাঁপিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “আপনি… এখানে থাকবেন?”
সায়মান গম্ভীর চোখে তাকাল তার দিকে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে উত্তর দিল,
— “থাকব না? অনেক কিছু করব আজকে।”
নাফিসা অবুঝ বাচ্চার মতো চাহনিতে তাকিয়ে রইল সায়মানের দিকে।
সায়মান চোখ সরু করে তাকাল, মৃদু বিরক্তির ভঙ্গিতে বলল ——— ইডিয়েট!”
তারপর কঠিন কণ্ঠে বলল,
— “এখনো বসে আছো কেন? ফ্রেশ হয়ে এসো।”
নাফিসা তাড়াহুড়ো করে উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো।
বেরিয়ে এসে দেখল——সায়মান খালি গায়ে, শুধু একটা প্যান্ট র পরে খাটের ধারে বসে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে। শক্ত বুক, প্রশস্ত কাঁধ আর গাম্ভীর্যে ভরা চেহারা দেখে নাফিসার বুক কেমন কেঁপে উঠল। তার চোখ যেন অজান্তেই সায়মানকে গিলে খাচ্ছে।
কথা শেষ করে ফোনটা রেখে ঘুরে তাকাতেই সায়মান লক্ষ্য করল, নাফিসা চুপচাপ তাকিয়ে আছে তার দিকে।
সায়মান হালকা হেসে বলল,

— “এভাবে তাকানোর কিছু নেই। সবই তো তোমার… পালিয়ে যাচ্ছি না। পরে মন ভরে দেখতে পারবে। এখন এসো, বসো। খেয়ে নাও।”
নাফিসা লজ্জায় মাথা নিচু করে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এসে খাটের উপর বসল।
সায়মান ওয়াশরুমে গিয়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে এল। ফিরে এসে খাবারের প্যাকেটটা খুলে নাফিসার সামনে বসল। ভাত মাখতে মাখতে এগিয়ে দিল তার দিকে।
নাফিসা লজ্জায় তাড়াহুড়ো করে বলল,
— “আমি নিজেই খাচ্ছি… আমাকে খাওয়াতে হবে না।”
সায়মান চোখ গম্ভীর করে ধমকে উঠল,
— “তোমাকে কথা বলতে বলেছি? চুপচাপ বসো। বেশি কথা শিখে গেছো।”

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩১

ধমক খেয়ে নাফিসা গুটিসুটি মেরে চুপ হয়ে গেল। সায়মান নিজের হাতে ভাত মাখিয়ে একে একে নাফিসার মুখে তুলে দিতে লাগল। মাঝে মাঝে নিজেও খাচ্ছে।
খাওয়া শেষ হলে প্যাকেটটা তুলে ডাস্টবিনে ফেলল সায়মান। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে এল।
ফিরে এসে দেখল—নাফিসা খাটের ওপর গোল হয়ে বসে আছে। সাদা রঙের কলেজ ড্রেস পড়া,, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে তবু দেখতে মায়াবী লাগছে…
সায়মান দাঁড়িয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৩