Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৫

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৫

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৫
আরোবা চৌধুরী আরু

সায়ফান এগিয়ে গিয়ে রাজীবকে হাত ধরে টেনে নিয়ে আসছে। রাজীব বারবার ইশারা করছে , কিন্তু সায়ফান তো সায়ফানই কোনো কিছুই শোনার পাত্র নয়।
“এই নাও ভাইয়া,” সাইফান বলল,
“নিয়ে এসেছি রাজীব ভাইকে। রাজিব ভাই, তোমাদের হানিমুনের জন্য শেষে কিনা আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসলো। আবার আমাকে মিথ্যা কথা বলেছে । আজকে শায়েস্তা কর।”
রাজীব অসহায় চোখে সাইফানের দিকে তাকালো।
সাইফান রাজীবের চোখে তাকিয়ে বলল,

“এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। তুমি যতটা ভদ্র নিজেকে দেখাও, রাজিব ভাই, ভিতরে ভিতরে তুমি ততটা ভদ্র না। তুমি আমাকে শুধু অমৃতের কথা বললে, আর নিজের মৌমাছির চাকের সব মধু খাওয়ার জন্য ভিতরে ভিতরে উতলা হয়ে থাকো আ…”
কথা শেষ হতেই রাজীব সাইফানের মুখ চেপে ধরল এক হাত দিয়ে, আর ফিসফিস করে কানের কাছে বলল,
“থাম ভাই, থাম! আমার চাকরিটা খেয়ে নিবি নাকি এবার? তোর যা জানার আমার কাছ থেকে জানিস। চাইলে আমি প্র্যাকটিকালি দেখাবো। দয়া করে এবার চুপ কর।”
সাইফান এতক্ষণ রাজীবের হাত মুখ থেকে সরানোর চেষ্টা করছিল। রাজীবের কথাগুলো শুনে সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল। খুশিতে চুপচাপ হয়ে গেল।
সায়মান এবার দুইজনকে ধমক দিয়ে বলল,
“এমন বেফালতু কথা বললে, দুইজনেরই হাল খারাপ করে দেবো এবার ।”
সায়মানের ধমকে রাজীব ও সাইফান দুজনই চুপসে গেল। রাজীব সাইফানের মুখ থেকে হাত সরিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
সায়মান গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“রাজীব, তুমি সত্যিই হোটেলের বিষয়ে কিছু জানো না?”
রাজীব কাচুমাচু হয়ে বলল,
“না, স্যার। আমি জানলে কি আপনাকে এখানে নিয়ে আসতাম।”
সাইফান রাজীবের কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এই রাজীব ভাই, সত্যি করে বলো, বিয়ের আগে কি এখানে মধু খেতে এসেছিলে, না হলে এই হোটেলে নিয়ে আসলে কেন?”
রাজীব সাইফানের দিকে কান্না-মাখা চোখে তাকিয়ে বলল,
“ভাই, এবার চুপ কর। আমার জীবন-মরণের ব্যাপার। সত্যি কথা বলছি, আমি শুধু বিয়ের আগে একটু অমৃতই খেয়েছি, আর কিছু করিনি। বাকি সব বিয়ের পরে বাসরের জন্য রেখে দিয়েছি।”
সায়মান দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,

“দুজন উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো, আর নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে তাড়াতাড়ি নামো। আমরা এখনই এখান থেকে বের হব।”
রাজীব আর সাইফান পা বাড়াল, কিন্তু সাইফান কিছু দূর যাওয়ার আগে আবার ফিরে তাকাল। সায়মানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভাই, আমার ছটু কই… তাকে কি হাটা-চলাফেরার মত অবস্থায় রেখেছো? একটু দেখতে চাচ্ছিলাম, সুস্থ আছে কিনা বেচারী।”
সায়মান চোখ গরম করে তাকাতেই সাইফান দৌড়ে চলে গেল।
সামনে থেকে ইন্সপেক্টর সায়মানের দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার, আমরা তাহলে আমাদের কাজ শেষ করে, আমরা এখান থেকে চলে যাই?”

সায়মান মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।
তারপর ঘরে ঢুকেই দেখল নাফিসা বসে জামা-কাপড় ভাঁজ করছে। কাল রাতে মেলে দেওয়া জামা-কাপড়গুলো এখন গুছাচ্ছে। নাফিসার পরনে একটি সুতি থ্রি-পিস, হালকা নেভি ব্লু এবং সাদা ফুলের কাজ করা। ছোট শহরের দোকানগুলোর তুলনায় এর চেয়ে ভালো পোশাক পাওয়া মুশকিল। সাইফান যতটুকু সম্ভব এগুলো নিয়ে এসেছে।
সায়মান ধীরে ধীরে নাফিসার দিকে এগোলো। নাফিসা নিজের কাজে ব্যস্ত। সায়মান তার সামনে দাঁড়িয়ে সামান্য ঝুঁকে নাফিসার ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে দিল। নাফিসা হঠাৎ তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিল।
সায়মান নাফিসার চুল থেকে নাক সরিয়ে তার দুই বাহু ধরে বিছানায় বসাল। টেবিল থেকে ব্যাগ খুলে কিছু মেডিসিনের প্যাকেট বের করল। দুইটি মেডিসিন হাতে নিয়ে একটি মিনারেল ওয়াটার বোতলও বের করল।
সায়মান নাফিসার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

“হাত বাড়াও।”
নাফিসা সায়মানের কথা মতো হাত বাড়াল। সায়মান দুইটি মেডিসিন তার হাতে দিল, হাত দিয়ে গাল হালকা চাপ দিয়ে মুখ হা করিয়ে মুখে পানি ঢালল। একদম পরিমাপ মতো পানি ঢেলে দিয়েছে। তারপর বলল,
“মেডিসিন দুইটি মুখে দাও।”
নাফিসা প্রথমে সায়মানের দিকে তাকাল, তারপর হাতে থাকা মেডিসিনের দিকে। সায়মান চোখ কুঁচকে বলল,
“তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেল।”
নাফিসা একবারে মুখের পানি গিলে নিল। তারপরে সায়মানকে তাকিয়ে বলল,
“এটা কিসের মেডিসিন?”
সায়মান বলল,
“ব্যথার ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল। এবার খেয়ে নাও।”

নাফিসা সাথে সাথে লজ্জার মাথা নিচু করে নিল তারপর চোখ ছোট করে তাকাল মেডিসিন গুলোর দিকে । কত সহজে কথাগুলো তার সামনে বলে দিল। কোনদিনও ভাবিনি সায়মানের আর একটা রূপ আছে তাও আবার এমন। ভেবেছিল সায়মান কত ভদ্র, কিন্তু একটু একটু করে সব ভদ্রতার মুখোশ খুলে তিনি নির্লজ্জ ডিএসপি হয়ে উঠছে।
নাফিসা ঢুক গিলে বলল,
“খাবোনা আমি এটা ”
কেন?
নাফিসা মাথা নিচু করে এক হাত দিয়ে বিছানার চাদর খামচে ধরে কোনরকমে বলল….
“ আমার বাবু চাই।”
সায়মান চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল,
“কি চাও”
নাফিসা আরো মাথা নিচু করে নিয়ে, মিন মিন করে বলল,
“বাবু”
সায়মান ভাবনশীলভঙ্গিতে বলল,

“নিজে আগে বড় হও, তারপর সময় হলে দেখা যাবে , পিচ্চি।”
নাফিসা মাথায় ধুপ করে আগুন জ্বলে উঠলো রেগে গেল,এই লোকটা তাকে পিচ্চি পিচ্চি কেন করছে?এই পিচ্চির সাথে যখন ওমন করলো,, তখন ভাবেনি আমি পিচ্চি, নাফিসা রেগে নাকের পাতা ফুলিয়ে বলল,
” আমি পিচ্চি না, নাও আই অ্যাম 18+।”
সায়মান ঠোঁট বাকিয়ে বলল,
“যেদিন আমার সামনে মাথা নিচু না করে স্পষ্টভাবে আমার কাছে আবদার করবে যে আমার বাচ্চার মা হতে চাও, ঐদিন আশা পূরণ হবে। তার আগে পড়াশোনায় মনোযোগ দাও, ফালতু কথা ঝেড়ে ফেল।”
নাফিসা থমথমে হয়ে গেল।
সায়মান আবার বলল,

“তাড়াতাড়ি মুখে খাও।” বলেই তার গাল হালকা চাপ দিয়ে পানি এবং মেডিসিন মুখের ভিতরে ঢুকিয়ে দিল।
সায়মান পিছনে ঘুরে,, টেবিলের উপর থেকে ঘড়িটা পড়ে নিল,, ফোনটা চেক করতে লাগল, প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দ্রুত সেরে নিল।
নাফিসা সায়মানকে পিছনে ঘুরতে দেখে এই সুযোগে,, মুখ থেকে হাত দিয়ে মেডিসিন বের করে,, খাটের নিচে টান মারল। তার এখন এইটি প্লাস নির্দ্বিধায় মা হতে পারবে। তার থেকে ছোট মেয়েরাও মা হচ্ছে তাহলে সে কেন পারবে না। আর DSP সাহেবের বয়স হচ্ছে। এখন যদি বাবা না হয় তাহলে তার বাচ্চাকাচ্চা গুলো,, তো নিজের বাবাকে বাবা ডাকতে গিয়ে ” দাদা ” ডাকবে তা কিছুতেই হতে দিতে পারে না নাফিসা আর যাই হোক।
সায়মান ফোন পকেটে ঢুকিয়ে, ঘুরে নাফিসার দিকে তাকাল। নাফিসা বসে কিছু ভাবছে। সায়মান এগিয়ে গিয়ে গাল দুটো হালকা চাপ দিয়ে মুখ হা করাল, নিশ্চিত হলো মেডিসিন খেয়েছে কি না।
“গুড,” সায়মান বলল, মুখের দিকে খেয়াল রেখে।

সবাই বাইরে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সায়মান আর নাফিসা এক গাড়িতে উঠলো, আর অন্য গাড়িটিতে রাজীব ও সাইফান। গাড়ি দু’টো চলা শুরু করলো তাদের গন্তব্য স্থলের দিকে।
নাফিসা চুপচাপ বাইরের দৃশ্য দেখছে। শরীরটা খারাপ লাগছে, তাই জানালার সঙ্গে মাথা ঠেস দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
সায়মান মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভিং করছিল। নাফিসা জানালার বাইরে মাথা ঠেস দিয়ে রেখেছে দেখে তিনি এক হাত দিয়ে নাফিসাকে টেনে ঠিকভাবে বসিয়ে দিল।
গাড়ি চালাতে চালাতে, সায়মান নাফিসার মুখের দিকে একবার তাকালো। মুখ শুকিয়ে আছে, বোঝা যাচ্ছে অসুস্থ বেচারী।

সায়মান হঠাৎ গাড়ি থামাল। নাফিসা তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, দৃষ্টিতে চিন্তাভাবনা ফুটে উঠল।
সায়মান নিজে দুই হাতে বাড়িয়ে নাফিসাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দিল। এক হাত দিয়ে গাল আগলে নাকের ওপর ছোট্ট একটা চুমু দিল।

“এখনো খারাপ লাগছে কি, বউ? মেডিসিন খেয়েছো না। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে, একটু সময় লাগবে।”
সায়মান এভাবে তাকে কোলের ওপর বসালেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। নিজেরও ভালো লাগছে না, সায়মানের এভাবে কাছে নেওয়ায় কিছুটা আরামদায়ক লাগছে। সে আরও নিকটবর্তী হতে চেয়ে মুখ ডুবিয়ে দিল সায়মানের বুকে। শরীলের গায়ের গন্ধ নাক দিয়ে টেনে নিতে থাকল। এই গন্ধটা বরাবরই তাকে মাতাল করে ছাড়ে। সায়মানের শার্ট দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে,, নিজের নাক ঘষতে লাগলো নাফিসা।

সায়মান নাফিসার কান্ড দেখে মুচকি হেসে দিল। নাফিসার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এখনো কি মন ভরে নি, বউ? মন না ভরলেও কিছু করার নেই। আমরা এখন রাস্তায় আছি। একদিনে তুমি এত ডোজ সহ্য করতে পারবে না। এইটুকুতেই তোমার এই কাহিল অবস্থা। আর একবার যদি শুরু করি, তাহলে… তুমি উঠতে পারবে না। এমনিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তুমি যদি ঠিক থাকতে পারো, আমি রাজি।”
নাফিসা সায়মানের কথা শুনে হা হয়ে গেল। কত বড় অসভ্য এই লোক বাবা যায়। তারপর লজ্জায় সায়মানের শরীরের সাথে আরো মিশে গিয়ে মিন মিন করে বলল,

“DSP সাহেব, আগে আপনি ভদ্রলোক ছিলেন, এখন তো একেবারে ফাজিল হয়ে যাচ্ছেন! ”
সায়মান নাফিসার কথা শুনে ছোট বাঁকিয়ে, ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
” বয়স 34+ এখন আমার, কিন্তু টেস্টো এখনো 18+। তাই যদি তোমাকে 18+ ফিল না দিই, তাহলে বুঝবে কেমন করে যে তোমার বর এখনো টগবগে? আর আমার মতো ভদ্রলোকের এনার্জি দেখে তুমি আকর্ষিত হয়ে ওইভাবে নিঃশ্বাস ফেলে আমার বুকে লুটিয়ে পড়তে না তাহলে?”
নাফিসা সায়মানের কথাগুলো কানে আসতে, লজ্জায় নাগ শিটকে বলে উঠলো,
” ছিঃ DSP সাহেব, একদম লুচ্চা হয়ে গেছেন!”

সায়মান এবার নাফিসার কানে ছোট একটা কামড় দিয়ে, ভাবনশীল ভঙ্গিতে বলল,
“লুচ্চা না হলে তুমি রাতে কেমন করে টের পেতে। যে তোমার বর এখনো 34 না, একদম 18-এর মতো ফিট!”
চুপ করেন দয়া করে… নাফিসা লজ্জায় কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, সায়মানের বুকের ভেতর মাথা লুকিয়ে রেখে।
“এই লোকটার কোনো লজ্জা নেই… আল্লাহ কি দিয়ে বানাইছে! এত নির্লজ্জ কেন?” – ভাবতেই নাফিসার কান বেয়ে গরম ধোঁয়া যেন বের হয়ে আসছে।
সায়মান কিছু না বলে, নাফিসার গলার কাছে মুখ গুঁজে দিয়ে গভীর একটা চুমু দিল, তারপর আস্তে সরে গেল।
“ওকে… আর লজ্জা পেতে হবে না। বুঝেছি, এখনো লজ্জা ভাঙেনি। সমস্যা নেই বউ, তোমার লজ্জা ভাঙানোর দায়িত্ব আমার।”

সায়মানের ঠোঁটের কথাগুলো নাফিসার কানে বাজতে লাগল। সে কোনো উত্তর দিল না, শুধু সায়মানের শার্ট শক্ত করে খামচে ধরল।
সায়মান ওর এই কাণ্ড দেখে শুধু মুচকি হাসল, আর কিছু বলল না। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নাফিসা সায়মানের বুকে মাথা রেখে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে গেল। একেবারে বিড়ালছানার মতো শান্ত, নিশ্চুপ। সায়মানের বুকের ভেতর তার নিঃশ্বাস ওঠা-নামা করছে, সায়মান তাকিয়ে দেখে শুধু শান্ত একটা প্রশান্তি খুঁজে পেল।
গাড়ি গিয়ে থামল থানার সামনে। অন্য গাড়ি থেকে নেমে সায়ফান নেমে রাজীবের কানে ফিসফিস করেবলল,

” রাজিব ভাই প্র্যাকটিক্যালি কবে দেখাবা আমাকে জানিও কিন্তু ”
বলেই তো দিল।
রাজিব দাঁতের দাঁত চেপে সাইফানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“চিজ একটা ”
এরপর সায়মানদের গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে পিছনের দরজা খুলে সিটে বসলো। দরজা লাগাতেই চোখ সামনে গিয়ে পড়ল—আর সেখানে দেখে হা হয়ে গেল।
নাফিসা তখনো সায়মানের কোলের ভেতর নিদ্রামগ্ন। সায়মানও এক হাত দিয়ে ওকে আগলে রেখেছে।
সায়ফান চোখ কচলাতে কচলাতে সামনের দিকে গলা বাড়িয়ে বলল,
“ভাইয়া… কিয়া সিন হে এ! তুমি এত রোমান্টিক হলে কবে গো…?”
সায়মান এক ঝটকায় মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। চোখ গরম করে তাকাতেই সায়ফান দাঁত কেলিয়ে হেসে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিজের সিটে বসে পড়ল।
ঠিক তখনই নাফিসা হালকা আওয়াজে ঘুম ভাঙল। চোখ পিটপিট করে খুলে দেখল, এখনো সে সায়মানের কোলেই শুয়ে আছে। ঘুমের রেশে চোখ ডলতে ডলতে মিনমিন করে বলল,

“আমি… আমার সিটে গিয়ে বসি।”
সায়ফান আর বসে থাকতে পারল না, জোরে বলে উঠল,
“আরে ছটু ভাবি! আমার ভাইয়া এত ভালোবেসে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়েছে, আর তুমি কি না নেমে যাবা বলছো?”
সাইফানের কথা শুনে নাফিসা চমকে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে সায়মানের শার্ট খামচে ধরে একটু মাথা উঁচু করে উঁকি দিয়ে পিছন পানে তাকাল। সাইফান দাঁত কেলিয়ে হাসছে। লজ্জায় মুখ রাঙা হয়ে গেল নাফিসার। মুহূর্তের মধ্যে মাথা আবার সায়মানের বুকে ডুবিয়ে দিল। এবার তো চোখ ভিজে এলো।
মনে মনে ভাবল, “কী সর্বনাশ কপালে জুটলো! এমন একটা বর জুটলো কপালে এতদিন দূরে দূরে রেখে। এখন এমন কাছেই টানছে যে মানুষজন মানা মানির নাম নেই। ভাবতেই নাফিসার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। এ মানুষগুলোর সামনে তাকিয়ে কথা বলবে কেমন করে। সামনে লজ্জায় আর যেতে পারবে ডে। এই লোকটা আক্কেল জ্ঞান বলতে কিছু নেই। কী করে এদের সামনে চোখ তুলে তাকাবো? আল্লাহ, মাটি ফাঁকা করে দাও তলিয়ে যাই!”

এবার, আস্তে আস্তে সায়মানের কোল থেকে সরে আসতে চাইলে, সায়মান ওর বাহু শক্ত করে চেপে ধরল। তারপর দাঁতের দাঁত চেপে পিছনে মাথা ঘুড়িয়ে গম্ভীর দৃষ্টি ছুঁড়ল সায়ফানের দিকে চোখ দিয়ে গিলে খাওয়া দৃষ্টিতে ।
সায়মানের এভাবে তাকাতে দেখে সাইফান মুখ ফুলিয়ে বলল,
“আমার দিকে এভাবে তাকাও কেন? আমার কোনো দোষ নেই! ছটু ভাবিকে তুমি নিজেই লজ্জা দিয়েছো। তুমি নির্লজ্জ ভাইয়া।”
নাফিসা এবার আরও জোর করে হাত ছাড়াতে শুরু করল । ওকে এমন করতে দেখে সায়মান ধমকে উঠল,
“কি সমস্যা? এরকম করছ কেন?”
সায়মানের হঠাৎ ধমক শুনে নাফিসা লাফিয়ে উঠল ভয়ে। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগল। কাঁপা কণ্ঠে মিনমিন করে বলল,

“প্লিজ… আমাকে আমার সিটে বসতে দিন।”
সায়মান ওর দিকে একবার তাকাল। তারপর আর কিছু না বলে, টেনে ওকে পাশের সিটে বসিয়ে দিল।
গাড়ি আবার চলা শুরু করল।
সাইফান মুখ টিপে হাসতে হাসতে বলল,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৪

“ভাইয়া, আমি তো অনেক এক্সাইটেড! বাসায় গিয়ে যখন তোমাদের বিয়ের কথা বলব, তখন এক এক জনের রিঅ্যাকশন কেমন হবে সেটা ভাবতেই হাসি পাচ্ছে। আমার তো মন চাচ্ছে, এখনই হসপিটালে সিট বুকিং দিয়ে আসি ! সবাই শুনলেই হার্ট অ্যাটাক করবে যে তাদের আদরের বড়ছেলে এমন একটা মিনি মাইক্রো বউ নিয়ে এসেছে। তার ওপর সেই বউটা আর কেউ না, আমাদের ছোট নাফু…”

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৬