চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৫
আরোবা চৌধুরী আরু
নাফিসা অবাক হয়ে বলল,
“ডেট? এখানে?”
সায়মান চোখ টিপে বলল,
“হ্যাঁ।”
একটু পর নাফিসা যখন পিংক গাউন পরে আয়নার সামনে দাঁড়ালো, হালকা ওয়েভ করা চুল, গলায় একফোঁটা পারফিউমের ঘ্রাণ, চোখে শান্তি আর ঠোঁটে মৃদু হাসি।
সায়মান দরজায় ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, শরীরে মিলিয়ে হালকা পিংক শার্ট, সাদা শর্টস। নাফিসাকে দেখে চোখের ভেতর ঝলকে উঠল ভালোবাসা।
এগিয়ে এসে পকেট থেকে একটা পেন্ডেন্ট বের করে নাফিসা পড়িয়ে দিল। পরিয়ে দেওয়ার সময় সায়মানের হাতের ছোঁয়া নাফিসার গলায় ঘাড়ে লাগছে। সেই ছোঁয়ায় নাফিসা নিশ্বাস দূরত্ব হয়ে যাচ্ছে।
পড়িয়ে দেওয়া হয়ে গেলে আয়নায় নিজেদের দেখে নিয়ে, নাফিসার ঘাড়ে একটা চুম্বন একে দিতে দিতে বলল,
“এই পৃথিবীতে যদি সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কেউ বদলে দিতে পারে, সেটা তুমি, বউ।”
নাফিসা লজ্জায় নিচে তাকাল।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
রিশা দৌড়ে ঘরে ঢোকার পর দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছে।
সব চুপ। অদ্ভুত নীরবতা। দরজার ওপাশে কী হচ্ছে তারা কেউই জানে না। আর সেই না-জানা আতঙ্কটা যেন দু’জনের বুকেই শূন্যতা তৈরি করছে। সাইফান ধীরে দরজায় হাত রাখল, খুব আস্তে বলল,
“রিশা… দরজা খোল । প্লিজ।”
ভিতর থেকে কোনো সাড়া নেই। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, পনেরো মিনিট ——— —একই অবস্থা। জোরে ডাকতে পারছে না, বাড়ির কেউ শুনলে বিপদ। তাই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
অবশেষে সাইফান হাল ছেড়ে দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে নিচে বসে পড়ল। নিঃশব্দ করিডোরে কেবল তার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ।
আর পাশে দাঁড়িয়ে আছে জারিন, হাতদুটি বুকের ওপর জড়ানো, চশমার ফ্রেমের পেছনে তার চোখগুলো অদ্ভুতভাবে ম্লান।
সাইফান এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে জারিনের দিকে তাকাল।
মেয়েটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ক্লান্ত, অস্থির, চিন্তায় ভরা মুখটা —— — আজ যেন অন্যরকম লাগছে। চুলগুলো এলোমেলো, চশমা বারবার নেমে আসছে নাকে, কিন্তু সে ঠিক করার শক্তিটাও যেন খুঁজে পাচ্ছে না।
এই দৃশ্যটা দেখতে দেখতে সাইফানের বুকের ভেতর হঠাৎ করে কেমন ধক করে উঠল। তার দৃষ্টি অজান্তেই গভীর হয়ে উঠল ——— একটানা তাকিয়ে রইল জারিনের দিকে।
জারিন প্রথমে খেয়াল করেনি।কিন্তু যখন করল… তখন ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। দু’জনের চোখ এক হলো। জারিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এভাবে… তাকিয়ে আছেন কেন?”
প্রশ্নে সাইফান মনে হলো চমকে উঠল, দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল,
গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“না… মানে… আমি তাকাইনি। আমি তো ওই… দরজার দিকেই তাকাচ্ছিলাম।”
জারিন ঠান্ডা গলায় বলল,
“দরজায় তো আমি না, সাইফান ভাই।”
বিষয়টা ধামাচাপা দিতে সাইফান তাড়াহুড়ো করে বলল,
“না, মানে… রিশার কথা ভাবছিলাম। ও কেন এত জেদ করল… দরজা পর্যন্ত খুলছে না।”
জারিন একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।
“স্বাভাবিক। ওর জায়গায় আমি হলে আমিও এমনটাই করতাম।”
“মানে?” সাইফান কপাল কুঁচকে তাকাল।
জারিন চোখ বন্ধ করে বলল,
“আপনি যে ওর সাথে যা করলে… কারো জায়গায় দাঁড়ালেই বিরাট আঘাত লাগে।
সাইফান দরজার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করল,
“আমি তো শুধু ওকে ভুল থেকে দূরে রাখতে চেয়েছি…”
জারিন হালকা ঠোঁট কামড়াল। তার চোখের আড়ালে কোথাও যেন মায়া জমে উঠছে। ঠিক তখন, সাইফান তাচ্ছিল্যভরা মৃদু হাসি দিয়ে কথা বদলাতে চাইল।
“চশমা… একটা কথা বলো তো?”
জারিন ভ্রু তুলে তাকাল,
“কি?”
“তোমার ওই ইস্কুল-ঢেলা বান্ধবীটাকে কেমন করে রাগ ভাঙানো যায়?”
জারিন নিঃশ্বাস আটকে বলল,
“রিশা? রাগ ভাঙাতে চান?”
“হ্যাঁ।”
জারিন একটু ভেবে হঠাৎ বলল,
“খুব সোজা। আকাশ ভাইয়ের সাথে মিল করিয়ে দিন।
দ্বিতীয় সেকেন্ডেই সব রাগ ভুলে যাবে।” সাইফানের মুখ কালো হয়ে গেল। সে রাগ চাপা রাখতে রাখতে বলল,
“অসম্ভব। আর কখনোই না। রিশাকে বোঝানোর কথা বলেছি। তার মানে এই না যা চাবে তাই দিতে হবে। ওকে দিয়ে আর ওই ছেলের কাছে—”
জারিন হাত তুলে থামিয়ে দিল।
“আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি তো পুরো ভিলেনের মতো রাগছেন।”
একটু নীরবতা। তারপর জারিনের চোখে দুষ্টু ঝিলিক জ্বলে উঠল।
রাতের নরম বাতাসে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ মিশে আছে। চারপাশে চাঁদের আলোয় বালির ওপর রুপালি ঝিলিক পড়ছে। আকাশে অসংখ্য তারা, আর চারদিকে ফেয়ারি লাইটের নরম আলোয় সেই সমুদ্রপাড় এখন যেন স্বপ্নের রাজ্য। সাদা, পিংক আর গোলাপি বেলুনে সাজানো চারদিক, বাতাসে দুলছে হালকা রিবন, মোমবাতির আলোয় যেন সবকিছু নরম এক জ্যোতিতে ভাসছে।
সায়মান নাফিসাকে কোলের মধ্যে নিয়ে হেঁটে আসছে সেই সাজানো জায়গার দিকে। চাঁদের আলোয় নাফিসার মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল, চুলগুলো বাতাসে উড়ে এসে সায়মানের গালে ছুঁয়ে যাচ্ছে। লজ্জায় নাফিসা চোখ নামিয়ে নিচ্ছে, বুকের ভেতর কেমন যেন ধুকপুকানি। হঠাৎ মাথায় এক চিন্তা, ——— — “যদি কেউ দেখে ফেলে তাদের এই অবস্থায়!”লজ্জায় মুখটা গুঁজে দিল সায়মানের বুকে। মাঝে মাঝে একফোঁটা সাহস নিয়ে চোখ খুলে চারপাশে তাকাচ্ছে ———— কিন্তু কেউ নেই, একটাও মানুষের চিহ্ন নেই পুরো সমুদ্রপাড়ে।
নাফিসা থমকে গেল — ——— এত নিস্তব্ধতা কেন? শুধু বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ আর দূরের ঢেউয়ের গর্জন। সেই শব্দেই যেন রাতটা আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে।
সায়মান ধীরে ধীরে নাফিসাকে নামিয়ে দিলো বালির ওপর । নাফিসা নিচে নামতেই চারপাশের সাজসজ্জা দেখে অবাক হয়ে গেল। চারদিকে ঝুলছে ফেয়ারি লাইটের পর পর স্ট্রিং, বেলুনগুলো চাঁদের আলোয় মৃদু আলোর প্রতিফলনে জ্বলজ্বল করছে। বালির ওপর সাদা গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো, আর মাঝখানে একটা কাঠের টেবিল — ——— তার চারপাশে ছোট ছোট মোমবাতি জ্বলছে। নাফিসার চোখ বড় হয়ে গেল, মুখে হাত দিয়ে চারদিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে রইল।
এক মুহূর্ত পর পাশে তাকিয়ে দেখল, সায়মান নেই। বুকের ভেতর ধক করে উঠল। পিছন ফিরে তাকাতেই নিঃশ্বাস আটকে গেল নাফিসার।
চাঁদের আলোয় কিছুটা দূরে সায়মান হাঁটু গেড়ে বসে আছে ওর সামনে। তার পিংক শার্টের হাতা গোটানো, নিচে সাদা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। হাতে একগুচ্ছ সাদা গোলাপ, বাতাসে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে দুলছে। চাঁদের আলোয় তার মুখে নরম ছায়া পড়েছে, চোখে গভীর ভালোবাসার ঝিলিক। সেই আলোয় সায়মানকে যেন একদম অন্যরকম লাগছে ——— শ্যামলা গায়ের রঙে চাঁদের রুপালি আলো মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সমুদ্রের হাওয়ায় তার চুলগুলো নাচছে, ঠোঁটে হালকা হাসি, চোখে ভালোবাসা। নাফিসা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল তার স্বামী নামক হালাল পুরুষের দিকে । মনে হলো যেন সময় থেমে গেছে, ঢেউ থেমে গেছে, বাতাস থেমে গেছে —— — শুধু তাদের দুজনকে ঘিরে রয়েছে এই নিঃশব্দ রাত, চাঁদের আলো, আর একরাশ অগাধ ভালোবাসা।
সায়মান ধীরে ধীরে , হাতের একগুচ্ছ সাদা গোলাপ নাফিসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলা শুরু করল,
“বউ, my lips… they’ve been waiting for you. Give it to me, my little love, your way.”
(বউ, আমার ঠোঁটগুলো… তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। দাও তো, আমার ছোট্ট বউ, নিজের মতো করে একটা কিস।)
সায়মানের কথাটা শুনে নাফিসার গাল লাল হয়ে গেল। সমুদ্রের বাতাসে তার চুল মুখের ওপর এসে পড়েছে, সে হাত দিয়ে সরাতে গিয়েও থেমে গেল —— — সায়মানের চোখে যেভাবে তাকিয়ে আছে তারপর এক হাত বাড়িয়ে দিলো নাফিসার জন্য। নাফিসা থামল। তার বুক ধুকপুক করছে ——— চাঁদের আলোয় সায়মানের চোখ আরও গভীর, আরও টান। সায়মান আবার নরম গলায় বলল,
“এসো, বউ… আজ রাতে শুধু তুমি আর আমি।”
নাফিসা মাথা নিচু করে তার সামনে দাঁড়াল। সায়মান উঠে দাঁড়িয়ে একহাত দিয়ে নাফিসার গাল ছুঁয়ে দিলো, স্পর্শটা এতটাই কোমল যে নাফিসার চোখ ধীরে ধীরে বুজে এলো। চারপাশে শুধু ঢেউয়ের শব্দ। ফেয়ারি লাইটের আলোয় নাফিসার মুখে যেন পুরো সমুদ্রপাড়ের মায়া জমে আছে। সায়মান ফিসফিস করে বলল,
“এত লজ্জা পাচ্ছ কেন, হ্যাঁ? আমি তো তোমারই সায়মান…”
নাফিসা চুপ। তার নিঃশ্বাস গলা আটকে আছে।
একটু পর ধীরে মাথা তুলল — —— দু’জনের চোখে চোখ আটকে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে
নাফিসা একটু থেমে, বুকের ভেতর দুরুদুরু নিয়ে ধীরে ধীরে মুখ এগিয়ে এলো। সমুদ্রের হাওয়ায় তার চুল দুলছে, এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকল… তারপর খুব আস্তে, খুব লাজুক মেধায় তার মাথা তুলল।
চাঁদের আলোয় সায়মানের চোখে যে উষ্ণতা ঝিলিক দিচ্ছে —— — সেটা দেখে নাফিসার শ্বাস আটকে গেল। নাফিসা একটু এগিয়ে এল… আর তারপর, আস্তে, একদম নরম ছোঁয়ায় নিজের ঠোঁট সায়মানের ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিল। সায়মান চোখ বন্ধ করে ফেলল সঙ্গে সঙ্গে। যেন ঠিক এই মুহূর্তটির অপেক্ষাতেই ছিল। পিচ্চি বউয়ের এর , লাজুক, নরম ঠোঁটের স্পর্শে তার পুরো শরীর কেঁপে উঠল এক ঝটকায়। সে অনুভব করল ——— তার ছোট্ট বউয়ের এই প্রথম সাহসী ছোঁয়া কতটা গভীর, কতটা কোমল, কতটা নিজের।
Nafisa প্রেমভরা সেই ছোঁয়া কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখল…
তারপর লজ্জায়, ভয়েই যেন সরে আসতে চাইল পিছিয়ে। কিন্তু—
সায়মান তাকে সরে যেতে দিল না। এক হাত দিয়ে দ্রুত নাফিসার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নিল। তার উষ্ণ হাতের টানে নাফিসার পা দুটো একটু উপরে উঠে গেল, সায়মান তাকে উঠে থাকা অবস্থায় আরও কাছে টেনে আনল। আরেক হাত সে নাফিসার পিঠের পেছনে রাখল ———— শক্ত, করে । সমুদ্রের বাতাসে নাফিসার শ্বাস কেঁপে উঠল। চুল সায়মানের কাঁধে পড়ছে, তার গাল লাল হয়ে উঠছে, আর সায়মানের বাহুর শক্ত ধরে রাখায় সে যেন পুরোপুরি তার মধ্যে গলে যাচ্ছে। সায়মান এক হাতের টানে তাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে নরম গলায় ফিসফিস করল,
“এভাবে সরে যেতে নেই, বউ…
তোমার এই প্রথম ছোঁয়া ——— আমি একটুও ছাড়তে চাই না।”
বলেই সায়মান তার পিচ্চি বউয়ের ঠোঁটে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল। নাফিসা কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বামী নামক হালাল পুরুষের সেই আকস্মিক, গভীর স্পর্শে সে নিজেকে সামলাতে না পেরে দু’হাত সায়মানের গলায় পেঁচিয়ে ধরল। সায়মান যেন পুরোটা সময় ধরে অপেক্ষা করছিল এই মুহূর্তটার জন্য ——— তার চুমুতে এমন এক উন্মাদনা, এক মত্ততা৷
দীর্ঘ সময় পর বউয়ের ঠোঁট ছেড়ে সায়মান এক মুহূর্ত নাফিসার মুখের দিকে তাকাল।
নাফিসা চোখ বন্ধ করে দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে; বুক উঠানামা করছে, তার ঠোঁট ভেজা, লালচে, কাঁপা। সেই দৃশ্য দেখেই সায়মানের চোখে আবারও তীব্র টান জ্বলে উঠল। নিজের বউকে এভাবে দেখলে কে-ই বা স্থির থাকতে পারে? সে এক ঝটকায় দুই হাতে নাফিসাকে তুলে নিল বুকে, যেন পৃথিবীর সব শক্তি তার হাতে জমা হয়েছে।
নাফিসার দুই পা স্বভাবতই তার কোমর আঁকড়ে ধরল, হাত দুটো গলার পেছনে জড়িয়ে গেল।
হঠাৎ এমনভাবে তুলে নেওয়ায় নাফিসা ভয় পেয়ে আরও শক্ত করে সায়মানকে আঁকড়ে ধরল। তার চুল বাতাসে উড়ছে, নিঃশ্বাস থমকে যাচ্ছে, কিন্তু চোখ তুলতেই ——— — তার স্বামী নামক মানুষটি আরেকবার তার ঠোঁটে ঝুঁকে পড়ল। এবার চুমুটা আরও তীব্র, আরও দাবিদার। যেন সে নাফিসাকে এক সেকেন্ডের জন্যও দূরে রাখতে পারছে না।
উন্মাদের মতো ঠোঁটে চুমু দিতে দিতে সায়মান এগিয়ে যেতে লাগল সেই সুন্দর সাজানো টেন্টের দিকে ———— যেখানে ফেয়ারি লাইটের নরম আলো, সমুদ্রের হাওয়ার মায়া, আর চাঁদের আলো মিলে যেন আরেক জগৎ তৈরি করেছে।
টেন্টের কাছে পৌঁছে সায়মান নাফিসার গাউনের চেন আলতো করে টেনে খুলে দিল। তার হাত নাফিসার পিঠ জুড়ে আস্তে, ধীরে বুলিয়ে গেল—উষ্ণ, স্থির, দখল নেওয়া স্পর্শে। নাফিসার শরীর কেঁপে উঠল হালকা ভয়ে, লজ্জায়, আর গভীর টানে।
এভাবে ফাঁকা সমুদ্রপাড়ে স্বামীকে এতটা উদগ্র, এতটা আবেগে ভরা দেখে নাফিসা কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। সে সায়মানের গলা আঁকড়ে ধরে সরে যেতে চাইল, ফিসফিস করে ডাকল,
“ প্লিজ … একটু—”
কিন্তু সায়মান তাকে ছাড়ল না। তার হাতের শক্ত বাঁধনে নাফিসা যেন পুরোপুরি তার বাহুর ভেতর ঢলে গেল।কিছুক্ষণ পর সায়মান নিজেই নাফিসার ঠোঁট ছেড়ে দিল।
টেন্টের ভেতরে ফুল ছড়ানো জায়গাটায় হাঁটু গেড়ে বসে নরমভাবে নাফিসাকে নামিয়ে দিল বালির ওপর বিছানো নরম কাপড়ের ওপর। তারপর পাশে ঝুলে থাকা একটি ফিতা আলতো টান দিতেই চারদিকে পর্দা ঝুলে নেমে এলো
— ——— আর সাথে সাথে উপর থেকে ঝরে পড়ল সাদা গোলাপের পাপড়ি।
পাপড়িগুলো নাফিসার মাথা, কাঁধ, গাউনের ওপর পড়ে সে যেন আরও স্বপ্নিল লাগতে লাগল। নাফিসা অবাক হয়ে চারপাশে তাকিয়ে রইল ——— চোখে বিস্ময়, ঠোঁটে কাঁপা হাসি।
সায়মান এগিয়ে এসে তার সামনে দাঁড়াল।
এক মুহূর্ত চেয়ে রইল বউয়ের মুখের দিকে—সমুদ্রের আলো, ফেয়ারি লাইট, চাঁদের প্রতিফলন সব যেন নাফিসার মধ্যেই জমা হয়েছে। তারপর সে নাফিসার জামার কাঁধ ধরে আলতো টান দিল, ধীরে ধীরে খুলে দিল জামাটা। নিজের শার্টও একইভাবে খুলে টান দিয়ে এক কোণে ফেলল।
নাফিসার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে সায়মান ফিসফিস করে বলল,
“কি ভেবেছিলে বউ… তোমার হালাল পুরুষ এতটা কেয়ারলেস?
খোলা মাঠে তোমাকে এভাবে আদর করব আর প্রাইভেসি রাখব না?
ঝাপসা হলেও, এই পর্দার আড়ালটা শুধু আমাদের জন্যই।”
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৪
নাফিসার গাল লাল হয়ে উঠল। ঠিক কথা বলতে গিয়েও কথাটা গলায় আটকে গেল। তারপর সায়মান ধীরে ধীরে তাকে আধশোয়া করে দিল ফুল ছড়ানো বিছানায়। নিজে নেমে এলো তার ওপর… কোনো তাড়াহুড়া নয়, কোনো রূঢ়তা নয়। নাফিসার গলায় মুখ গুঁজে আস্তে আস্ত। সমস্ত ভর পিচ্চি বউয়ের উপর দিয়ে উনাদের মতো নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে লাগলো। বাতাসে সমুদ্রের শব্দ, চাঁদের আলো, পর্দার আড়াল, ফেয়ারি লাইটের মায়া।
সব মিলিয়ে সেই মুহূর্তটা নাফিসা আর সায়মানের হৃদয়ের সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে ব্যক্তিগত, সবচেয়ে ভালোবাসায় মোড়া রাত হয়ে উঠল।
