Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৬

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৬

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৬
আরোবা চৌধুরী আরু

আফিয়া বেগমের চড় খেয়ে সাইফান মুখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল। আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই হেসে ফেলল।আফিয়া বেগম এবার গভীর শ্বাস নিয়ে বললেন,
“আচ্ছা, তোমার বাবা আসুক আগে। তারপর সব হিসাব হবে। আপাতত তোমরা সবাই যে যার রুমে গিয়ে একটু রেস্ট নাও।”
তারপর হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“এই আকাশ… তুইও কি এদের সাথে ছিলি?”
মুহূর্তের মধ্যে সবার চোখ গিয়ে পড়ল আকাশের উপর। রিশার বুক ধক করে উঠল। সে অজান্তেই মাথা নিচু করে ফেলল। ধীরে ধীরে চোখ তুলে একবার সায়মানের দিকে তাকাল। আকাশও একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। ঠিক তখনই আকাশের কিছু বলার আগেই সায়মান শান্ত গলায় বলে উঠল,

“আম্মু, যার যার মতো রেস্ট নিতে দাও। হ্যাঁ, ও ছিল। পরে এসব বিষয় নিয়ে কথা হবে।”
কথাটা বলেই সে নাফিসার দিকে তাকাল।
“চলো, রুমে চলো। তাড়াতাড়ি।”
আফিয়া বেগমও মাথা নেড়ে বললেন,
“হ্যাঁ, যাও সবাই রুমে যাও।”
এরপর ধীরে ধীরে সবাই সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। আকাশ রিশার দিকে একবার তাকাল। তারপর কোনো কথা না বলে রিদওয়ানের সাথে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। আর সায়মান নাফিসাকে নিয়ে উপরে উঠল। করিডরে গেম অফিস এ কনফিউশন এর মধ্যে আছে কোন রুমে যাবে, সেটা দেখে সায়মান ওকে বলল,
“আমার রুমের দিকে আটা দাও তোমার জিনিসপত্র আমি এখানে রাখছে।”
নাফিস অবাক হয়ে তাকালো একটা জিনিসপত্র কখনো ঐ রুমে নিয়ে গেল।

“আপনি এসব কখন করলেন। ”
“তোমাকে এত কিছু বুঝতে হবে না রুমে চলো ”
বলেই দুজন হাটা ধরল। রুমে ঢুকতেই নাফিসা যেন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সরাসরি গিয়ে বিছানার উপর ধপ করে শুয়ে পড়ল। সায়মান দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর ধীরে বলল,
“ফ্রেশ হয়ে আসো।”
নাফিসা মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাল। চোখে ক্লান্তি স্পষ্ট।
“ভালো লাগছে না… খুব ক্লান্ত লাগছে।”
সায়মান কিছু বলল না। শুধু কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল।
তারপর নিজেই ওয়াশরুমের দিকে হাঁটল। হঠাৎ পিছন থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ শুনে সে ঘুরে তাকাল। নাফিসা দ্রুত উঠে বসেছে। মুখে অস্বস্তির ছাপ। এরপরই সে মুখ চেপে ধরে। ওয়াশরুমের দিকে দৌড়ে গেল। সায়মানও দ্রুত তার পিছনে গেল।
ওয়াশবেসিনের সামনে ঝুঁকে নাফিসা বমি করতে লাগল। সায়মান সঙ্গে সঙ্গে তার চুলগুলো এক হাতে ধরে পেছনে সরিয়ে দিল, আর অন্য হাত দিয়ে আলতো করে মাথাটা চেপে ধরল।নরম গলায় বলল,

“রিল্যাক্স… ধীরে।”
কিছুক্ষণ পর নাফিসা একটু স্বাভাবিক হলো।সায়মান টিস্যু এগিয়ে দিল।তারপর বলল,
“এভাবে শুয়ে থাকলে আরও খারাপ লাগবে। গোসল করে নাও।”
নাফিসা ক্লান্ত চোখে তার দিকে তাকাল।
“এখন? একদম শক্তি নাই…”
সায়মান হালকা নিঃশ্বাস ফেলল।তারপর শাওয়ারটা অন করে দিল। গরম আর ঠান্ডা পানির মিশ্রণে হালকা আরামদায়ক পানি পড়তে লাগল।সে আবার নাফিসার দিকে ফিরে এল। নরম গলায় বলল,
“চলো।”
নাফিসা দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়েও টলমল করল। সায়মান সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলল।
“এই অবস্থায় তোমাকে একা ছাড়লে তুমি পড়ে যাবে।”

তার কণ্ঠে বিরক্তি, ধীরে ধীরে তাকে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে দিল। পানি পড়তেই নাফিসা চোখ বন্ধ করে ফেলল।ঠান্ডা পানির স্পর্শে তার মুখে একটু স্বস্তির ছাপ ফুটে উঠল।সায়মান নিজেও শাওয়ারের নিচে দাঁড়ালো। তারপর না অফিসার থেকে গভীর নজর দিল পানিতে পুরো শরীর ভিজে গেছে শরীরের ভাজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সেটা দেখে একটা ঢুক গিলল। নিজেকে সামলে নিয়ে
কিছুক্ষণ পর নরম গলায় বলল,
“এখন ভালো লাগছে?”
নাফিসা ধীরে মাথা নাড়ল। সায়মান ওয়াশরুমের কভার থেকে একটা টাওয়াল বের করে নাফিসার মাথা সুন্দর করে মুছে দিল। তারপর রুমে গিয়ে ও জামাকাপড়ায় নিজের জামা কাপড় নিয়ে এসে।নিজের ড্রেস চেঞ্জ করে শুধু একটা ট্রাউজার পড়ছে যদিও বা। তারপর নাফিসাকে নিজের একটা টি-শার্ট পরিয়ে দিল কোলে তুলে নিয়ে রুমে গিয়ে শুকিয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে রুমের দরজা কেউ নক করলো সায়মানকে লক খুলে দিয়ে দেখলো একজন গৃহে কর্মী খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

” স্যার খাবারটা আফিয়া ম্যাম পাঠিয়েছে নাফিসা নামের জন্য। ”
সায়মান খাবারটা এটা হাতে নিয়ে,গৃহকর্মী দিকে তাকিয়ে বলল,
” ওকে যাও ”
রুমে এসে খাবার নাফিসা কে তুলে কোনরকম খাওয়ায় দিয়ে। নাফিসার মাথাটা নিজের কোলের ওপর রেখে,foldable table ল্যাপটপ রেখে নিজের কাজ করছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর নাফিসা ঘুমো ঘুমো কণ্ঠে বলে উঠলো,
“ভালোবাসা কি, ডিএসপি সাহেব?”
সায়মান একটু মুচকি হেসে নাফিসার দিকে তাকাল।
“ভালোবাসা… মানে হলো, কাউকে নিজের থেকে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তার হাসিতে অকারণে ভালো লাগা, তার কষ্টে নিজের বুকটা ভারী হয়ে যাওয়া। আর সবচেয়ে বড় কথা—কারো পাশে থাকার জন্য কোনো কারণ লাগে না, তবু তার পাশেই থাকতে ইচ্ছে করে… সেটাই ভালোবাসা।”

রিদওয়ানের রুমে ঢুকতেই আকাশ গিয়ে বিছানার ধারে বসে পড়ল। রিদওয়ান দরজা বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকাল। তারপর হঠাৎ মুচকি হেসে বলল,
“দুলাভাই… আমার বোনের ঘরে রেখে আমার ঘরে আইসা বসে আছো কেন?”
আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকাল। রিদওয়ান আবার বলল,
“এই সাইডে তো এখন কেউ আসবে না। তুমি চুপি চুপি বউয়ের ঘরে গিয়ে দরজা লাগাও । দুইজন ইটিশ-পিটিশ করো… আমি আছি খেয়াল রাখার জন্য।আর টেনশন নিও না। সায়মান ভাই যখন সব জানে… তার মানে রিল্যাক্সে থাকতে পারো। ফ্যামিলির সবাইকে ঠিক সময়মতো জানাইয়া দিবে।”
বলেই আলমারির দিকে গিয়ে একটা টি-শার্ট আর ট্রাউজার বের করল। সেগুলো এনে আকাশের হাতে ধরিয়ে দিল।
“তোমার তো এখানে জামা-কাপড় নাই। এটা নিয়ে যাও ওই রুমে… দরকার হতে পারে।”
শেষ কথাটা বলে চোখ মারল।আকাশ কয়েক সেকেন্ড অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর হঠাৎ রিদওয়ানের কান মুলে দিল।

“এই ! বড্ড পাকা পেকে গেছিস!”
রিদওয়ান সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল,
“আরে আরে! কান ছাড়ো!”
তারপর মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“ভাই, বিয়ের বয়স হইয়া যাচ্ছে… দিচ্ছে না। তাইলে তো পেকে যাবই!”
আকাশ হেসে ফেলল। রিদওয়ান আবার একই ভঙ্গিতে বলল,
“বউ থাকলে বউয়ের সাথে একটু পাকা-পাকি করতাম। যেহেতু বউ নাই… তাই তোমাদের সাথেই একটু ফাজলামি মারতে হয়। তাছাড়া আমার ভিতরের পিনিক ঠিক করার কেউ তো নাই!”
আকাশ এবার সত্যি সত্যি হেসে ফেলল। তারপর আবার কান ধরে বলল,
” তোর বয়স কত রে?”
রিদওয়ান গম্ভীর মুখ করে বলল,
“আমার বয়সী… আমার বোনরে বিয়া করে সংসার করতেছো… আবার আমাকে জিজ্ঞেস করো আমার বয়স কত!”
আকাশ মাথা নেড়ে বলল,
“মাফ চাই… দোয়া চাই ভাই। তোর সাথে পারা যাবে না।”
তারপর একটু হেসে বলল,

“মনে হচ্ছে তুই সাইফানের কাছ থেকে ট্রেনিং নিচ্ছিস।”
রিদওয়ান গর্বিত মুখে বলল,
“ওইটা আমার গুরু।”
দুজনেই হেসে ফেলল।
আকাশ তখন ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোল।
“আমি যাই।”
রিদওয়ান পেছন থেকে ফিসফিস করে বলল,
“যাও যাও… আমি আছি পাহারায়!”
আকাশ মাথা নাড়িয়ে চুপচাপ করিডোর দিয়ে হাঁটতে লাগল। কিছুক্ষণ পর এসে দাঁড়াল রিশার রুমের সামনে। দুই সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে নক করল। ভেতর থেকে রিশার কণ্ঠ এল,
“কে?”
আকাশ কিছু বলল না। দরজা খুলতেই রিশা অবাক হয়ে গেল।

“ ব্ল্যাক ডায়মন্ড… তুমি?”
সে কিছু বলার আগেই আকাশ ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
তারপর এক টানে রিশাকে নিজের কাছে টেনে নিল। রিশা চমকে উঠলেও পরের মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেল। আকাশ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নরম গলায় বলল,
“বউ কী জিনিস জানো?”
রিশা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। আকাশ মৃদু হেসে বলল,
“একটুখানি দূরে থাকলেই মনে হয়… অনেক দূরে চলে গেছে। এত মিস করি কেন বলো তো?”
রিশার ঠোঁটে আস্তে একটা হাসি ফুটে উঠল।সে ধীরে ধীরে।আকাশের বুকে মাথা রাখল। রুমের ভেতর নীরবতা নেমে এল।
তারপর আকাশ মাথা তুলে রিশার দিকে এগিয়ে আসলো ধীরে ধীরে দুজনের দূরত্ব আবার কমে এল।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে হঠাৎ রিদওয়ানের গলা শোনা গেল,
“দুলাভাই! বেশি রোমান্স করো না! কেউ আসলে কিন্তু আমি বাঁচাতে পারব না!”
রিশা চমকে উঠল।
আকাশ বিরক্ত হয়ে দরজার দিকে তাকালো৷
” তোমার ভাইদের মত এমন নির্লজ্জ ভাই আমি আর দুইটা দেখিনি। ‘

অন্যদিকে………
সায়ফান রুমে ঢুকে কোনরকমে দরজাটা লাগাল। তারপর এক ঝটকায় জারিনকে কোলে তুলে নিয়ে সরাসরি বিছানায় ফেলে দিল। নিজের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে মজা করে গাইতে লাগল,
“বাতামিজ দিল… বাত্তামিজ দিল… করে নাও, করে নাও…”
জারিন হা করে তাকিয়ে রইল সায়ফানের দিকে। হঠাৎ করে এভাবে ফেলে দেওয়ায় ওর মাজায় সত্যিই একটু লেগেছে। মুখটা কুঁচকে বলল,
“এই ধলা বিলাই! এইসব কেমন অসভ্যতা? এভাবে ফেলে দিলে কেন? আমার মাজায় লাগছে।”
সায়ফান চোখ-মুখ কুঁচকে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“এই চশমা কি দিয়ে বানানো গো তুমি? একটুও রোমান্টিকতা বোঝো না! আল্লাহও না, কী একখান বউ দিল আমারে!”
জারিন ভুরু কুঁচকে তাকাল।

“এইটাই নাকি রোমান্টিকতা? মানুষরে তুলে এনে ধপাস করে ফেলে দেওয়াই তোমার রোমান্স?”
সায়ফান মুচকি হেসে একটু একটু করে জারিনের দিকে এগিয়ে এল।
“আচ্ছা আচ্ছা… ভুল হইছে। এত রাগ করো না।”
আরো কাছে এসে নরম গলায় বলল,
“কাছে আসো সোনা… রাগ করে থাকলে চলবে?”
সায়ফান যখন ধীরে ধীরে জারিনের দিকে এগিয়ে এল, জারিনও চুপ হয়ে গেল।সায়ফান খুব আস্তে করে জারিনের চিবুকটা আঙুল দিয়ে তুলে দিল। তারপর দুষ্টু হেসে জারিনের কপালে একটা নরম চুমু দিল।
“এইবার ঠিক আছে?”
জারিন কিছু বলল না… শুধু লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলল। সায়ফান জারিনের মুখ ঘুরিয়ে ওর একে অপরের অধর জোড়া মিলিয়ে দিলো। একে একে আরো গভীর হতে থাকলো হাতের ছোঁয়া।

দীর্ঘ সময় একে অপরের ভালোবাসা আদান–প্রদান করার পর সায়ফান জারিনকে বুকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। ঠিক তখনই দরজায় ঠক ঠক করে নক শোনা গেল।
সায়ফান বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকেই জোরে জিজ্ঞেস করল
“কে?”
বাইরে থেকে উত্তর এল,
“বড় স্যার আপনাকে এখনই নিচে যেতে বলছেন।”
সায়ফান বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে বলল,
“একটুও শান্তি নাই! শুধু আমার রোমান্সে বাধা দিতে সবাই হাজির হয়।”
তারপর গলা একটু উঁচু করে বলল,
“কেন? কী হয়েছে? কে এসেছে?”
বাইরে থেকে আবার উত্তর এল,
“জারিন ম্যামের ভাই আর বাবা এসেছে। নিচে খুব চিৎকার চেঁচামেচি করছে।”
কথাটা শুনেই জারিন চমকে উঠল। তাড়াহুড়ো করে উঠে নিচে যেতে নিল। সায়ফান ওর দিকে তাকিয়ে ভুরু তুলে বলল,
“এইভাবে কোথায় যাচ্ছো? একবার নিজের দিকে তাকাও তো, কোন হালে নিচে যাচ্ছো ?”
জারিন তখন নিজের দিকে তাকিয়ে দেখল… এলোমেলো চুল, গায়ে কিছু নেই বললেই চলে । মুহূর্তেই লজ্জায় ওর গাল লাল হয়ে গেল।
সায়ফান হালকা হেসে বলল,

“তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি আগে যাচ্ছি।”
তারপর তাড়াতাড়ি করে নিজে একটু গুছিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। জারিনকে গোসল করতে বলে গেল।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে নিজের মনেই বিড়বিড় করতে লাগল,
“সমন্ধিরা আর পিছু ছাড়বে না মনে হয়…”
নিচে এসে দেখল, বাড়ির প্রায় সবাই ড্রইংরুমে জড়ো হয়ে আছে। চারদিকে টানটান উত্তেজনা।সায়ফান চারদিকে তাকিয়ে বিরক্ত হলো।
“ ভাই আবার নাই! দরকারের সময় ভাইটাকে কখনোই পাওয়া যায় না। সব সময় নাইনসাফি করে।”
ঠিক তখনই জারিফ ঝড়ের মতো এগিয়ে এসে সায়ফানের গলার কলার চেপে ধরল।রাগে লাল হয়ে চিৎকার করে উঠল

“আমার বোন কই? এখনই সামনে নিয়ে আয়! শুয়োবাচ্চা!”**
সায়ফান একটু চমকে উঠলেও দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। বুকের ওপর হাত রেখে শান্ত গলায় বলল,
“আরে আরে… ভাষা কন্ট্রোল, শালা সাহে… উফফ সরি সরি, সমন্ধি সাহেব! আপনার বোন আর ‘আপনার’ নাই। অফিসিয়ালি এখন সে আমার বউ।”
জারিফ দাঁত কিঁচিয়ে বলল,
“এই বিয়ে আমি মানি না! আমার বোনকে এখনই ফেরত দিবি!”
সায়ফান নাটকীয়ভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“না মানলে কোথায় যাবেন সমন্ধি আমার? বিয়ে তো হয়ে গেছে… আর বাসরও প্রায় কমপ্লিট স্টেজে।”
তারপর একটু ঝুঁকে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৫

“আর শুনেন… নিজের ওপর আমার ফুল কনফিডেন্স আছে। এক গোলে ছক্কা মারার মতো ব্যাটিং করি আমি।”
কথাটা বলেই চোখ টিপে আবার যোগ করল,
“সামনের মাসেই হয়তো ‘মামা’ ডাকার প্র্যাকটিস শুরু করে দিতে পারেন!”
তারপর মুচকি হেসে বলল,
“তাই রাগ কমান, সমন্ধি সাহেব… আপনার প্রোমোশন খুব দূরে নাই!”

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৭