তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ১৯
ঐশী আফরিন
মাধবীর রুম থেকে এসেই আরিয়ান বিছানায় পরে আছে।একটু পর পর উঠছে আবার শুচ্ছে।দম হাপরের মত উঠা নামা করছে।চিত হয়ে শুয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে কি কি যেন বিরিবিরও করছে শোনা যাচ্ছে।আর অজয় সেই ৪ঘন্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।তার আরিয়ানের এসব পাগলামি দেখে নিজেরই পাগল পাগল লাগছে।বিকেলে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।এখন রাত ৯টা।শীতের দিন এটাকেই নিঝুম রাতের মত মনে হয়।তাও যদি হয় আবার গ্রাম।অজয় বুঝে পাচ্ছে না আরিয়ান কি যাবে নাকি না।তাকে বলেছিল গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে আজই যেতে হবে।সব যেন প্রস্তুত করে রাখে।কথা অনুযায়ী সে সব ঠিক করে রেখেছে।কিন্ত আরিয়ান কে ডাকবে কি না সেটাই ঠিক করতে পারছে না।একটা মানুষ বউকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখলে যে বেহুশ হয়ে যেতে পারে তা অজয়ের জানা ছিল না।আরিয়ান তখন মাধবীর রুম থেকে নিজের রুমে আসতে আসতে জ্ঞান হাড়িয়েছিল।পরে অজয় এনে বিছানায় শুইয়েছে।মাধবী এসে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত কেলিয়ে হেসে গেছে।কতক্ষণ পর আরিয়ানের জ্ঞান ফিরলে সে বলেছিল,
“ভাই কি আজ বাড়ি ফিরবে?”
তখন আরিয়ান নেশাখোরদের মত মাতাল হয়ে বলেছিল “শাড়ি পরা বউ দেখে নিজেকে ঠিক রাখার জন্য আমিই সেরা রে…..”
বলে সেই যে শুয়ে পাগলামি করছে থামার নামই নিচ্ছে না।অজয় আর না পেরে ডাক দেয় “এই যে…বউ পাগল?”
বলে আবার নিজেই থেমে যায়।চেক করে আরিয়ান শুনেছে কি না।শুনতে পায়নি দেখে শস্থির নিশ্বাস ফেলে আবার ডাকে “ভাইজান?রাত ১১টা বাজতে চললো।আজ কি যাবা?”
আরিয়ান ধরফরিয়ে উঠে বসে জিজ্ঞেস করে “কয়টা বাজে?”
অজয় জায়গাতেই একটা মিথ্যে কথা বলে দেয় “১১টা ভাই”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“এখন ডাকার সময়?আরো পরে ডাকতি?রাত শেষ হয়ে গেলে সমস্যা ছিল?এখন আমি বাল শুক্কুরবার যাবো?এমনিতেই সাথে এক পরীর বাচ্চা নিয়ে যাবো।তার উপর এতো রাত হয়ে গেছে”
শেষের কথা গুলো বিরবিরিয়ে বলে উঠে পরে।অজয় আহাম্মক বনে যায়।সে তো ডেকেছেই এখন নিজে না উঠলেও তার দোষ।যত্তসব।মনে মনে আরিয়ানের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে।
আরিয়ান বিছানা ছেরে গায়ের কম্বলটা অজয়ের গায়ে ঢিল দিয়ে বলে “আমাকে গালিগালাজ করা বন্ধ করে এটা গুছিয়ে রাখ।কাজ শিখে রাখলে পরবর্তিতে বউয়ের সাহায্য করতে পারবি।বউয়ের কাজ করে দেয়া সুন্নত ”
“শুনলা ক্যামনে?”
“কি?”
“আমি যে তোমারে গালি দি….”
বলতে বলতে থেমে যায়।দিন দিন সত্যিই মাথা তার বিগড়ে যাচ্ছে।জিভে কাঁমোর দিয়ে তাকায় আরিয়ানের দিকে।
আরিয়ান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেরে বলে “চটকানা টা কি আমি দেব?না নিজেরটা নিজেই দিবি?”
“আমিই দিচ্ছি”
বলে অজয় সত্যি সত্যিই নিজের গালে চারটে থাপ্পড় লাগায়।
“হয়েছে।এবার পরীর বাচ্চাকে বল তাড়াতাড়ি তৈরী হতে”
“ভাই এই পরীর বাচ্চাটা কে?যদি একটু কইতা”
“তুই কত জাতের ভাষা বলিস?”
“ক্যান?”
“শুদ্ধ অশুদ্ধ যা পারিস বলতে থাকিস।যেকোন একটা বল।অবশ্য আমারো শুদ্ধ অশুদ্ধ মিলিয়ে বলতে ভালো লাগে।কিন্ত ঐ পরীর বাচ্চার শুদ্ধ বকবকের জন্য খাঁটি আঞ্চলিক ভাষাই কথা বলতে পারি না।যাহ আইজ থেইক্কা তোর মত কথা কমু”
অজয় মুখটাকে চুপশে বলে “আমার অবুঝ মন যানতে চায় এই পরীর বাচ্চা সম্পর্কে”
“লাত্থি খাওয়ার আগে গেলি তুই?”
অজয় দৌড়ে দরজার সামনে যায়।সেখান থেকে উঁকি দিয়ে বলে “আরে ডাকবো তো ডাকবো কাকে?”
আরিয়ান কোন কথা না বলে পাঞ্জাবির হাতা গোটাতে থাকে।অজয় আর না দাঁড়িয়ে চলে যায় সেখান থেকে।মাধবীর রুমের সামনে দাঁড়িয়ে গলা উঁচিয়ে ডাকে “এই বাড়িতে কোন পরীর বাচ্চা থাকলে।তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে নামার জন্য বলেছে আরিয়ান ভাই”
তখনই তার পিঠে জুতোর বাড়ি পরে।আস্তে আস্তে শুরু হয় জুতোর বৃষ্টি।অজয় নাক মুখ কুঁচকে পেছনে তাকাতে তাকাতে বলে “কোন হালার জুতা বেশি হয়েছে রে?”
তবে আরিয়ান কে জুতো হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই কথা মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায়।মাথা চুলকে বলে “আরে আমি তো হালা কই নাই।আমি কইসি…কি কইছি?’ হা’ অক্ষর দিয়ে দিয়া ভালো কিছু পাইতাসি না। ক্ষমা”
বলে এক দৌড়ে বেরিয়ে যায় সদর দরজা পেরিয়ে।আরিয়ান পেছন থেকে হাঁক ছাড়ে “তুই আয় শুধু আমার সামনে।শালা রামছাগল”
তারপর মাধবীর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে “কি যে করে একলা একলা সারাদিন দরজা জানালা বন্ধ করে কে জানে”
“এই পরীর বাচ্চা তাড়াতাড়ি বের হ।আমি বাহিরে আছি”
বলে আরিয়ানও বেরিয়ে যায়।প্রায় আধ ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে বাহিরে কিন্ত মাধবীর কোন পাত্তাই নেই।
অজয় একটু দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে।এই লোককে তার বিশ্বাস নেই।
আরিয়ান থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে ভাবুক স্বরে বলে “কি করে এই মাইয়া এতক্ষন?”
“ভাই মাইয়া মানুষ।বাদ দেন”
“ঠান্ডায় আমার আত্মা পর্যন্ত কাঁপতাসে আর তুই বলোছ মাইয়া মানুষ।যাহ আমার চাঁদরটা নিয়া আয়”
অজয় চাঁদর আনতে যায়।আরিয়ান আবার ডাকে “এই মধু?কি করতাসোস?বাল।এতক্ষন লাগে?”
তখনই মাধবী গায়ে চাঁদর জরাতে জরাতে বেরিয়ে আসে।আরিয়ান ভ্রু কুচকে মাধবীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরোখ করে বলে “বোরখা কই?”
“রাত করে বোরকা পরতে হবে না।রাস্তায় কেউ নেই”
“কেউ থাক বা না থাক বোরখা পরে আয়”
“পারবো না” মাধবীর কাঠ কাঠ জবাব।
“পারতে হবে।বোরখা ছাড়া বের হওয়া যাবে না”
“আমার ইচ্ছা।আমি যা খুশি করবো।আপনার কোন অধিকার নেই আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপারে কথা বলার”
“যেখানে গোটা তুই টাই আমার ব্যাক্তিগত নারী।সেখানে তোর ব্যাপারে কথা বলা নিছকই একটা ব্যাপার মাত্র। আর অধিকারবোধের কথা বললে তোর থেকেও তোর উপর আমার অধিকার বেশি”
কথাগুলো মনে মনে বলে মুখে বলে “মানলাম তোর ব্যাক্তিগত ব্যাপার।কিন্ত আমি তোকে এই সাদা শাড়িতে রাত বিরাতে নিয়ে যাবো না।হঠাৎ তোর দিকে চোখ গেলে আমি নিজেই জ্ঞান হাড়িয়ে রাস্তায় পরে থাকবো”
মাধবী ত্যারামি করে আর কোন কথা না বলে ঘোড়ায় উঠে বসে।আরিয়ান দুহাত কোমরে দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
“তুই আসলে কোন ধরনের সেই ধরনটাই আমি বুঝি না।এই ভালো থাকিস আবার এই রাগ দেখাস।এই দাঁত কেলিয়ে হাসছিস তো আবার এইই রাজ্য শাসন করছিস।তোর মধ্যে ঠিক কয় ধরনের আত্মা আছে একটু বলবি আমাকে?”
“আমি না হয় নারী।আমাকে বহুরূপী বলা যায়।কিন্ত আপনি তো পুরুষ।আপনাকে কি বলবো?গিরগিটি?”
“বলতে পারিস।কিন্ত এখন হয়েছেটা কি?এরকম করছিস কেন?”
“আপাতত কিছু হয়নি।তবে পরবর্তিতে কিছু হতে পারে। মাত্র গোসল করেছি।ঠান্ডায় হিমাগার হয়ে যাচ্ছি।তাড়াতাড়ি চলুন”
“কিহহহ?শুধু শুধু তোকে পরীর বাচ্চা বলি।কোন মানুষ হলে তো এই শীতে এত রাতে গোসল করতে পারতি না।আর গোসল করে আবার এই শাড়িই পরেছিস কেন?”
” আমার ইচ্ছা”
ততক্ষনে অজয় চাঁদর নিয়ে আসে।আরিয়ান সাদা পাঞ্জাবির উপর সাদা চাঁদরটা জরিয়ে নেয়।উঠে বসে পাশের কালো ঘোড়াটাতে।মাধবীর ঘোড়াটা একদম ধবধবে সাদা।অজয় মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখলো পাশাপাশি দাঁড়ানো দুই বীরত্বের প্রতীমূর্তিকে।দুজনেই সাদা পড়ায় সৌন্দর্য যেন আরো বেরে দ্বিগুণ হয়েছে।
আরিয়ান ঘোড়ার লাগাম শক্ত করে বলে “অজগরের বাচ্চা।সাবধানে থাকিস।কোন প্রয়োজন পড়লে টেলিফোন করবি।আর রাজ্যের সমস্ত খবর পাঠাবি”
“আমার সুন্দর নামটাকে এরকম না করলেও পারতে”
“এতো কিছু পারার দরকার নেই।পরীর বাচ্চা র ঠান্ডা লাগছে।চলি”
বলতে বলতে দুটো ঘোড়া ধুলো উরিয়ে টগবগিয়ে ছুটে চলে।অজয় দাঁড়িয়ে থেকে দেখে কুয়াশার মিশে যাওয়া ধুলোকে।আর মনের মধ্যে নাড়া দেয় অজানা এক ভয়।
দরজার তীব্র করাঘাতে অপু ধরফরিয়ে ঘুম থেকে উঠে।বুকে থু দিয়ে আশেপাশে তাকায়।ওড়না টা কোমরে বেধে লাঠিটা নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়।একবার তার ঘুমন্ত মায়ের দিকে তাকায়।বয়সের ভারে নুয়ে পেরেছে মহিলা।সারাদিন বিছানায় শুয়ে বেঘোরে ঘুমায়।দিন দুনিয়ার কোন হুশ নেই।স্বামী মারা গেছে অনেক অল্প বয়সেই।অপুর আর কোন ভাই বোন নেই।
দরজা খুলে বাহিরে বের হওয়ার সাহস হয় না।ভেতর থেকেই বাহাদুরী করে।
“এই কোন চোরের ঘরের চোর রে…আমার বাড়িতে চুরি করতে এসেছিস?মেরে একেবারে হাত পা ভেঙে পাছায় ভরে দেব।হালার পো হালা”
“বেদ্দপ মেয়ে দরজা খোল।গালা গালি তো ভালোই শিখেছিস।আমার থেকে শিখে আবার আমাকেই বকছিস”
মাধবীর কন্ঠ শুনে অপু সাথে সাথে দরজা খুলে দেয়।হাতের লাঠিটা ফেলে জরিয়ে ধরতে যাবে,কিন্ত মাধবীকে সাদা শাড়িতে দেখে ভরকে যায়।
“ভুত….. বলে চিৎকার করতে যাবে তার আগেই মাধবী ওর মুখ চেপে ধরে “আরে ভুত কই দেখলি?চুপ।আমি মাধবী”
বলে মাধবী হাত ছেড়ে দিতেই বলতে শুরু করে “এত রাতে মানুষ সাদা শাড়ি পরে কারো সাথে দেখা করতে আসে?আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।মাশাল্লাহ”
“এতো সুন্দর লাগছে তোকে!আমি তো শে…
শেষ বলতে যাবে কিন্ত মাঝপথে আরিয়ান কে দেখে থেমে যায়।এতক্ষণ সে আরিয়ান কে খেয়াল করেনি।খেয়াল করতেই মনে পরলো সে এতক্ষন যে গালিগালাজ করেছে তা কি আরিয়ান শুনেছে?ভাবতেই জিভে কাঁমোর দেয়।কেবলার মত হাসি দিয়ে বলে
“আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।কেমন আছেন?”
“ভালো আর কই থাকতে দিচ্ছে তোমার বান্ধবী।যাদু টাদু করেছ নাকি ওকে?”
‘হ্যা?”
“রাস্তার মাঝখানে জের ধরেছে এখানে আসতেই হবে।নইলে নাকি যাবেই না”
“মাধবী তুইও এরকম করতে পারিস?”
“আরে ধুর।এই পাগলের কথা শুনিস না।তোর সাথে কথা আছে এদিকে আয়”
বলে মাধবী অপুকে নিয়ে একটু সাইডে চলে যায়।ফিসফিসিয়ে বলে “অশুভ হায়দার আর তোর দুজনের দুটো চিঠি দে তো আমাকে।আর হ্যা প্রথম চিঠিগুলো দিবি”
অপু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে “ওমা কেন!আমাদের চিঠি দিয়ে তুই কি করবি?আর তুই আবারও অশুভ হায়দার বলছিস?”
“খাটাই রান্না করে খাবো।আমি অশুভ বললেই দোষ আর নিজে যে ডাকে হাইব্রিট করলা”
“হাইব্রিট করলাকে হাইব্রিট করলাই ডাকতে হয়।আর তুই কি মজা করছিস?”
“আরে ভাই না।দরকার আছে।যা নিয়ে আয়।নিয়ে চলে যাবো না তোদের প্রেম ভালোবাসা”
“বালের প্রেম ভালোবাসা।একটা অলস পুরুষ মানুষ উনি।আমি বুঝি না ওনাকে ডাক্তারি চাকরিটা কে দিলো”
“আগে গিয়ে চিঠিটা নিয়ে আয় বাপ।আমি আজই চলে যাবো”
“এই রাতে যাবি?তাও আবার বিরোধি দলের গ্রাম পেরিয়ে?কলিজাটা তোর জমিদার মাহফুজ চৌধুরীর থেকেও বড়”
“কিছুই হবে না।আরিয়ান ভাই আছে সাথে”
“সেটাই তো ভয়”
“কি বলতে চাস তুই?উনি এমন না।আর আমাকে চিনিস?”
“গুন্ডাদের মত ডায়লগ দিচ্ছিস” বলে অপু মুখ টিপে হাসে।
“কথা বন্ধ করে তাড়াতাড়ি আগে চিঠিগুলো নিয়ে আয়।যা”
অপু ঘর থেকে প্রথম দুটো চিঠি এনে দেয় মাধবীর হাতে।চিঠিগুলো কোমরে গুঁজে অপুকে বিদায় জানিয়ে আবার রওনা দেয় দুজোন।
কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তায় হঠাৎ মাধবী বলে,
” মধুমতীর পাঞ্জাবিওয়ালার কাছে একটা আবদার আছে ”
আরিয়ান অবাক হয়।তার কাছে আবদার করছে?এই মেয়ে কখন কী করে নিজেও হয়তো জানে না।মাধবীর ভালো ব্যাবহার দেখে সেও ভালোভাবেই বললো ” স্বয়ং রাণী মা আবদার করেছে পূর্ণ তো করতেই হবে ”
” রাণী হিসেবে না মধুমতী হিসেবৈ আবদার করবো ”
” মধুমতী হিসেবে করলে তো আরো আগে পূর্ণ করতে হবে ”
” মধুমতী পাঞ্জাবিওয়ালার কাছে বেশী কিছু চায় না।শুধু তার নামে একটা নাকফুল আর দুটো চুরি পরতে চায় ”
” তুই কি স্বজ্ঞানে বলছিস?না রাতের বেলা গোসল করে জ্বর টর বাধিয়েছিস?”
” কিচ্ছু বাধাইনি।স্বজ্ঞানে বলছি ”
” আমাকে একটা চিমটি দিবি।না মানে আমি স্বপ্নেও এমন সুস্বপ্ন দেখি না তো তাই ”
” মষ্করা করবেন না।আপনার মষ্করার জন্য আমি আজও অবিবাহিত।এখন বলুন, কারো সাথে প্রেম টেম আছে?থাকলে প্রেমিকার ঠিকানাটা দিয়েন।বান্দির বাচ্চাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে শ্মশানে দিয়ে আসবো।কাউকে ভালোবাসলে কালা যাদু করে ভুলিয়ে দেব।বিদেশে লুকিয়ে বিয়ে টিয়ে করে থাকলে আপনাকে সাথে নিয়ে দুজনে একসাথে শ্মশান ঘাটে বলি হয়ে আসবো।এবার বলুন কোনটাতে আছেন?”
আরিয়ান ঠোঁট কামরে মুচকি হাসে ” যদি বলি সবগুলোই আছে ”
” রাস্তা ঘুরিয়ে শ্মশানের রাস্তা ধরবো? ”
” তুই কি প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিস না থ্রেট দিচ্ছিস ”
” প্রেম না বিয়ের।আর ধরে নিতে পারেন এক প্রকার জুলুমই।আমার আপনাকে মনে ধরেছে মানে আপনাকেই লাগবে।আর আমি ভালোবেসেছি মানে শুধু আপনার মা ছাড়া দুনিয়ার সমস্ত নারী আপনার জন্য নিষিদ্ধ ,ক্ষতিকর, হারাম।এবার আপনি বলবেন, হয় আপনি আমার হবেন নয় সারে তিন হাত মাটির ”
” পাঞ্জাবিওয়ালারও যে মধুমতীর কাছে একটা আবদার আছে ”
” সানন্দে গ্রহণ করা হবে ”
” মৃত্যুর আগে কাফনের কাপড়টাও পাঞ্জাবিওয়ালার নামেই পরতে হবে।পাঞ্জাবিওয়ালার মৃত্যুর পরেও ইশানদের ব্যাটার বউ নামেই পরিচিত থাকতে হবে।মধুমতী কি পারবে?”
” পাঞ্জাবিওয়ালার জন্য এটুকু পারাই যায় ”
আরিয়ানের এবার নাচতে ইচ্ছে হলো।অপূর্ব থাকলে একসাথে দু বন্ধু নাচতে পারতো।অপূর্ব জানলে কতই না খুশি হবে।আরিয়ান এবার খুশি সামলাতে না পেরে মাধবীকে বলে “এই পরীর বাচ্চা একটু দাঁড়া আমার নাচতে ইচ্ছে করছে”
বলে আরিয়ান ঘোড়া থামাতেই মাধবী বলে “আপনি কি পাগল?থাকুন আপনি।আমি চললাম”
বলে মাধবী খিলখিলিয়ে হেসে চলে যায়।আরিয়ান তৃপ্তির হাসি হাসলো।এতদিন সে মাধবীর হাব ভাব বুঝতো।এটাও বুঝতো যে মাধবী তাকেও বোঝে।সে যা এতদিনে বলতে পারেনি মাধবী তা অনায়াসেই বলে দিয়েছে।মনে মনে মাধবীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালো।এটা যে তার কতদিনের চাওয়া পাওয়া সে বলে কাউকে বোঝাতে পারবে না।তার প্রতিটা পাগলামির জল জ্যান্ত সাক্ষী অপূর্ব।
তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ১৮
এসব ভাবতে ভাবতে সেও ছুটে চলে মাধবীর পিছু।তবে হঠাৎই তার খেয়াল হয়,এটাতো ফেরার রাস্তা না।তারা ভূল পথে এসেছে বুঝতে পেরেই আরিয়ান ঘোড়ার লাগাম টানে।ততক্ষণে মাধবী জঙ্গলের রাস্তায় চলে গেছে।এই জঙ্গলে একবার হাড়ালে রাতের মধ্যে রাস্তা খুঁজে বের হওয়া যাবে না।এছাড়াও রাত করে ঝুঁকির শেষ নেই।তার উপর এটা জমিদার কাশেমের গ্রামের এরিয়ার জঙ্গল।আরিয়ানের শ্বাসের গতি বারে।
তীব্র চিৎকারে মাধবীকে ডাকতে ডাকতে ছুটে চলে জঙ্গলের রাস্তা ধরে।তখনই ঘন জঙ্গল ভেদ করে মাধবীর আর্তনাদের চিৎকার ভেসে আসে,
“আ…..হহহহহ”
