Home তুই আমার ৭ মিনিট তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩৯

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩৯

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩৯
ঐশী আফরিন

“মাধবীলতা নামক এই অবসম্ভাবি সুন্দরি মেয়েটা আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদের মত নয়। নারী হলেও ওর ক্ষমতা ভয়ংকর। ওর আশেপাশে সর্বদাই জ্বীনদের অস্তিত্ব বিরাজ করে। ও সেদিন বললো ওর গায়ে নাকি ঠান্ডা বাতাস বয়। এটা শোনার পর আমি ভীষণ অবাক হয়েছি। এই ঠান্ডা বাতাস বয় জ্বিনেরা আশেপাশে থাকলে। আর এই বাতাস এতটাই ঠান্ডা হয় যে সহ্য সীমার বাহিরে চলে যায়। কিন্ত ও যেভাবে দিনের পর দিন এসব সহ্য করছে, এর দ্বারাই বোঝা যায় ও সাধারণ নয়। ও সারে ছয় বছর বয়সেই মানুষ খুন করা শিখে গেছে। ওর মাঝে রক্তের নেশা আছে। বিশেষ করে ওর বাপটা ওকে নষ্ট করেছে। ছোট থেকেই ওকে সব ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এমন কিছু নেই যে ও পারে না। রাণী কী আর সাধে হয়েছে! জমিদার কন্যাদের জীবন কেবল বিলাসিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

তলোয়ার চালানো, তিরন্দাজি, ঘোড়সওয়ারি, সঙ্গীত ও নৃত্য, চিত্রকলা, একাধিক ভাষা, রাজনীতি ও কুটনীতি, রণকৌশল ও আত্মরক্ষা সহ যাবতীয় সব শিখিয়েছে। বিশেষত তলোয়ার চালানো এবং তীরন্দাজি ওর বেশ প্রিয় কলাকৌশল। এসবই ও মানুষের উপর ব্যবহার করে। ওর হিংস্রতা সম্পর্কে কারো ধারনা নেই। ও শত্রুর রক্ত দিয়ে চিত্রকর্ম করে। নৃত্যে ঘুঙুরগুলো থাকে মানুষের চামড়ার। গানের সুর দিয়ে ও মানুষ হত্যা করতে পারে। এটা তখন করে যখন ওর কাছে কোন অস্ত্র থাকে না। ও এমন সুর জানে আর এমন সুরে বাঁশি বাজাতে পারে যে মানুষ গোঙিয়ে মারা যায়। ও সব ধরনের ভাষা দিয়ে মানুষ কাবু করতে পারে। ও নিজের আত্মরক্ষার জন্য নিজের বাপকে পর্যন্ত খুন করতে দ্বিধাবোধ করবে না। ওর মাঝে একধরনের রোগ আছে যার কারণে ওর চোখের রঙ এমন। ও প্রতিশোধের নেশায় বুদ থাকে। নারীদের জন্য এক আকাশ মায়া আছে ওর। নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে ও কারো সাথে আপোষ করে না। সেদিন সেনাপতি আসাদকে ও-ই খুন করেছিলো। ওর বোন মালতীর সাথে বাজে আচরণ করায়।

এছাড়াও জমিদার কাশেম সহ বিয়ে পরানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া সবাইকে নিজ হাতে কুপিয়ে খুন করেছে। এরপর থেকে জমিদারের দুই বউকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওদের দিয়ে কাশেইম্মা বহুত খারাপ কাজ করাতো। সেসব না বলি। কিন্ত ওদের মধু-ই সরিয়েছে। কাশেইম্মার ছোট বউ পূর্ণিমা শা’ওয়ো’র মা*গী আস্ত একটা খা*ন*কি। বেডা মানুষের চেয়ে ঐ মা*গী*র তেজ বেশি। ওদের মধু মেরে ফেলেছে নাকি লুকিয়ে রেখেছে বুঝতে পারছি না। ওর একটা ডেরা আছে। যেখানে ও সব ধরনের খুন খারাবি করে। ওটা একটা পরিত্যক্ত নিষিদ্ধ শ্মশান ঘাট। কেউ দিনের বেলাতেও যায় না ওখানে। কালো হয়ে থাকা পঁচা শ্মশান নদীতে খুন শেষে গোসল করে। এরকম আরো একটা গোপন স্থান আছে। কিন্ত কোথায় তা আমি নিজেও জানি না। ওর পায়ের জুতোজোরাও মানুষের চামড়া থেকে তৈরী। ও পারলে রক্ত দিয়ে শাড়ি বানিয়ে পরতো। ছোট থেকেই ও ভীষন জেদী। যা বলে তা যেভাবেই হোক করে। ছোট থেকেই ওর হাঁটা চলায় একটা অন্যরকম রাজকীয়তা আছে।

যেন ও কোন গ্রহের রাণী! কথায় কী তেজ! বিশ্বাস কর, ওকে যদি দুনিয়ার মানুষ একবার নিজ চোখে দেখতো তাহলে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যেত। জ্বীন জাতি এবং মানুষ জাতির রক্তে পিচ্ছিল থাকতো পৃথিবী। আমি বুঝে পাই না। দুনিয়ায় এত এত নামি-দামি স্থান থাকতে ও কেন এই ময়মনসিংহেই জন্মালো! এরকম সাধারণ দুনিয়া ওর জন্য নয়। ওর প্রয়োজন ছিলো ভয়ংকর রকমের নরখাদকের ঘরে জন্ম নেয়া, যেন যাচ্ছেতা-ই করতে পারে। ওর এই ঊনিশ বছরের জীবনে ১৮৬ টা খুন করেছে। ভাবতে পারছিস তোরা? একটা নারী ঠিক কতটা হিংস্র হলে মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে ১৮৬টা খুন করতে পারে! এ ছাড়াও ওকে রক্ষা করার জন্য জ্বীনদের রেখে গেছে মাহফুজ চৌধুরী। এজন্য মাঝে মাঝে আমার ওর বাপকে কবর থেকে তুলে খুন করতে ইচ্ছে করে। ওর রক্ষাবাচক সমস্ত জ্বীনদের কামনা-বাসনা ও। ওকে এড়িয়ে চলার সাধ্য মানুষ তো দূর- জ্বীনদেরও নেই। আর তোরা জানলে অবাক হবি, মধুকে পাওয়ার জন্য সামনে হাজার হাজার জ্বীনদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হবে। আর ওরা থাকবে আমার সম্প্রদায়েরই জ্বীন!”
থেমে থেমে কথাগুলো বলে তাচ্ছিল্য হাসে আরিয়ান। চুরুট প্রায় শেষের পথে। সেটাতে শেষ টান দিয়ে পায়ে পিষে ফেলে। একদলা থুথু ছুড়ে বলে “কী বালের জীন্দেগী আমার মাইরি! আমার সম্প্রদায়ে থেকে আমার বউয়ের জন্য একেকজন নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত! শালা ওদের পেছন গরম না করে আমি ছাড়ছি না। বাল আমার”
সকলে এতক্ষণ নিরবে শুনে যাচ্ছিল। আচমকা আয়াজ বলে উঠে “ভাই মাধবী মানুষ তো!?”

আরিয়ান ভাবুক হয়। আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে ঘন জঙ্গলে চোখ রেখে আনমনা হয়ে বলে “মনে হয় না। বিশ্বাসও হয় না। তবে এটাই সত্যি যে ও এই ধুলোমাখা গলিতে নেমে আসা এক চাঁদ। নাহ! চাঁদ না। সূর্য! যে নিজের আলো দ্বারা সবাইকে জ্বালিয়ে দিতে পারে”
আয়াজ খেঁকিয়ে বলে “তোর এই প্রেমিকসুলভ বাক্য আমি শুনতে চাইনি। সত্যি সত্যিই মাধবী কী মানুষ? নাকি জ্বীন পরি?”
“যিনি ওকে আমার জন্য সৃষ্টি করেছে তিনিই জানেন ও আসলে কী। তবে একবার আধ্যাত্মিক বইয়ে পড়েছিলাম। এমন মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া দুষ্কর। প্রায় লক্ষাধিক বছর পর পর জন্ম হয় এমন দুর্লভ মানুষদের। শেষ বার প্রায় নয় লক্ষ বিরাশি বছর আগে এমন একটা মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেছিল। ওর নাম ছিলো ‘রাণী বিলকিস’। যদিও ওর মা জ্বীন ছিলো। তবে ও-ও মধুর মত ছিলো। এবং ওকেও খুব কম মানুষ দেখার সুযোগ পেয়েছে। আর ওর পর মধু এলো এমন অপার্থিব ভাবে”

সকলেই বেশ অবাক। তাদের চেনাজানা কেউ এমন অস্বাভাবিক তা ভাবতেই কেমন লাগছে। অভি বলে “বেশ তো ভায়া। একদম ভীন্ন অপার্থিব মানুষ পেয়ে গেলি”
আরিয়ান এক পেশে হেসে বলে “ওসব কিছু না। লোকমুখে বহুবার শোনা হয়ে গেছে, রাণীর বরকে রাণীর সাথে বেমানান লাগে। একসঙ্গে দাঁড়ালে কী বাজে লাগে। রাণীর পছন্দ নেই বলতে হবে’। এমন নানান কথা শুনেছি। মধুর মধ্যে অহংকার নেই তবে প্রচুর জেদ। তাই ও কখন আমাকে কীভাবে নেয় বলা যায় না। তবে ওর সাথে সুদর্শন কোন পুরুষের জুরি রাখা উচিত ছিলো। আমাদের অপূর্বের মত”
কথাটা শ্রবণিন্দ্রীয়ে প্রবেশ করা মাত্রই অপূর্ব দাঁড়িয়ে যায়। বুকের ঢিপঢিপ শব্দ কোনোমতেই থামছে না। যদি কেউ শুনে ফেলে! সে যে এভাবে হঠাত দাঁড়িয়ে যাবে তা নিজেও আশা করেনি। সে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেবলা হেসে বললো “আমার মুতু পেয়েছে। দুই মিনিটে কাজ সেরে আসছি”
বলেই গট গট পায়ে চোখের আড়াল হয়। আরিয়ান সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। অরিন্দ বলে “ওসব লোকদের ফালতু কথা শোনার কী লেগেছে। ওরা বোধহয় আরিয়ান ভাইকে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত ঘোরায় চরা অবস্থায় লক্ষ্য করেনি। যদি করতো তাহলে ফুলের মালা পরিয়ে বলতো “মাশা’আল্লাহ। এমন রাজপুত্তুরের মত ছেলে যদি আমার মেয়ের জামাই হতো!”
কিছুটা ঢং করে কথাগুলো বলে হো হো করে হাসে। আরিয়ান তার মাথায় চটি মেরে বলে “গাঁধা আর বড় হলি না”
অরিন্দ মুখ ভেংচিয়ে বলে “আমি বড় হয়েছি। আমার এখন একজন ফেমিখা আছে। হুহ”

“না জানি কোন মেয়ের জীবনটা নষ্ট করছিস। কাউকে কিছু না বলে যেমন ধেই ধেই করে নাচছিস, পরে কোন সমস্যা হলে এর দায় ভার আমরা নেব না”
ততক্ষণে অপূর্ব আসে। পাটিতে বসতে বসতে বলে “মাধবীর ব্যাপারে এত কিছু তুই কী করে জানলি?”
আরিয়ান আচমকা অপূর্বের দিকে একটা উঁরন্ত চুমু ছুড়ে দিয়ে বলে “উম্মাহ…! এজন্যই তো তোকে আমি এত ভালোবাসি না। এই কথাটা এতক্ষন কারো মাথায় আসেনি, একমাত্র তোর মত বুদ্ধিপ্রতিবন্দি ছাড়া”
অপূর্ব মুখ কালো করে বলে “এত বড় অপমান!”

অভি বলে “ছোট অপমান চাচ্ছিস? আরিয়ান আবার ছোট অপমান করতে পারে না। তাই না রে?”
শেষ কথাটা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে। আরিয়ান অপূর্বের দিকে তাকায়। অপূর্বও তাকায়। দীর্ঘদিন পর দুই বন্ধুর চোখাচোখি হয়। অপূর্ব দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। দিন দিন ওর আর আরিয়ানের দুরত্ব বাড়ছে। বাকি বন্ধুরা এখন তার হয়ে কথা বলে। আগে তো সে আর আরিয়ান মিলে সবার মজা উঁড়াতো। ভীষন কষ্ট হয় ওর আগের সুন্দর দিনগুলোর কথা মনে পরলে। আরিয়ান চোখ সরিয়ে ফেলে। আরেকটা চুরুট ধরিয়ে বলে “এসব জেনেছি ওর একটা খাতা থেকে। ঐ খাতায় ও সবকিছু লিখে রাখে”
অপূর্ব চোখ সরিয়ে ছোঁ মেরে চুরুট টা নিয়ে পায়ে পিষে বলে “হলো কী তোর? একের পর এক ধরাচ্ছিস কেন?”
তারপর পরক্ষণেই বলে “আমাকে একটা দে তো”
আরিয়ান কাপাল কুচকে বলে “আরে ভাই মেয়েটার এসব বাল ছালের কথা মনে হলে মেজাজ খারাপ হয়। তখন দু একটা না খেলে হয় না”

বলে একটা চুরুট বারিয়ে দেয় অপূর্বের দিকে। কী মনে করে হঠাত বলে “তোদের মধ্যে মধুকে কে কে দেখেছিস?”
অপূর্ব শুষ্ক ঢোক গেলে। একে একে সকলে অস্বীকার করলে সেও বলে দেখেনি। তবে আয়াজ? আয়াজ আমতা আমতা করে বলে “ভাই বিশ্বাস কর। ইচ্ছে ছাড়া কোন মেয়েকেই আমার চোখে সুন্দর লাগে না। সে যতই সুন্দরী হোক। যদি সুন্দর লাগতই তাহলে আর এই বেয়াদবের পেছনে পরে থাকতাম না”
অভি বলে “কী বলিস ভাই! এত রূপবতী দেখেও তোর চোখে সুন্দর না লাগলে তো তোর চোখই নষ্ট”
“হুম আমার চোখ নষ্ট। আমার চোখ কেবল ঐ বেয়াদব মেয়ে ছাড়া বাকি মেয়েদের জন্য নষ্টই”
আরিয়ান তাড়া দিয়ে বলে “আচ্ছা আরেকদিন তোদের আরো অনেক কিছু বলবো। এখন আর দেঁড়ি না করি। বাড়িতে যেতে হবে। মধুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। কী হয়েছে দেখতে হবে। কাল আরশিটাকেও খুঁজে বের করতে হবে। আসছি”

আয়াজও উঠে পরে “আসছি রে। আরশিটার জন্য চিন্তা হচ্ছে। তবে মাধবীর ব্যাপারে আজ যা জানলাম! এর পর আর ওর সামনে দাঁড়াতে পারবো না। চল”
বাকিরাও একে একে উঠে পরে। অরিন্দ আর অপূর্ব একসাথে চলে যায়। আরিয়ান আর আয়াজও চলে গেলে অভি একা একা হাঁটা ধরে। পথে যেতে যেতে আয়াজ জিজ্ঞেস করে “আরিয়ান?”
“হুম”
“ইচ্ছের জীবনে নাকি কীসের অতীত আছে?”
আরিয়ান থমকায়। পরক্ষণেই চলার গতি বারিয়ে বলে “জানি না। পরে কথা হবে। বাড়িতে বউ আছে। তোর মত এতিম না”

বাড়িতে ঢুকে মাহমুদা ইশানের মুখটা থমথমে দেখেই আরিয়ানের বুক মোচর দিয়ে উঠে। কারো সাথে কোন কথা না বলেই সিরি ভেঙে দৌড়ে মাধবীর ঘরে যায়। মাধবী ঝুলো বারান্দায় উদাসীন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আজ মেয়েটা একেবারেই ধবধবে সাদা রঙা শাড়ি পরেছে। এ কেমন অদ্ভুত সৌন্দর্য! আরিয়ান এগিয়ে গিয়ে মাধবীর পেছনে গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। মাধবী যেন ওর আসার অপেক্ষাতেই ছিলো। ও আসতেই ওর বুকে মাথা রাখে। হাতদুটো তুলে জরিয়ে ধরবে ধরবে করেও নামিয়ে রাখে। আরিয়ান বুঝে তাকে বুকের সাথে চেপে ধরে। আরিয়ান বেশ বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে। নয়তো এই মেয়ে এমন করার কথা নয়। মাধবী কিচ্ছু না বলে কেবল বুকে পরে থাকে। আজকাল তার খুব করে ইচ্ছে করে কারো বুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে। বিশ্বস্ত একটা বুকে নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে মাথা রাখতে। তাই তো এখন এভাবে পরে আছে। বেশ কিছুক্ষন পর আরিয়ান তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে “মধু?”

“হু?”
“কী হয়েছে?”
মাধবী চোখ তুলে তাকায়। বরাবরের মতই আরিয়ান চোখ সরিয়ে নেয়। মাধবী আবার বুকে মাথা রাখে। আচমকা নিস্তব্ধতা ভেদ করে শোনা যায় তার রিনরিনে কন্ঠের অযাচিত প্রশ্ন “আমি আসলে কে পাঞ্জাবিওয়ালা?”
আরিয়ান এক পেশে হাসে। মাধবী নিজের মাঝের অস্বাভাবিক আচরণ গুলো জানলেও এগুলো কেন হচ্ছে; তা জানে না। তাই হয়তো এভাবে জিজ্ঞেস করছে। কেননা কোন স্বাভাবিক মেয়ে মানুষ তো এত দুঃসাহসী হতে পারে না। সে মাধবীর মাথা তুলে কপালে চুমু খেয়ে বলে “তুই আসলে পাঞ্জাবিওয়ালার মধুমতী”
মাধবী মৃদু জোরেই বলে “হেয়ালি করবেন না। আমি এমন কেন? আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদের মত কেন হলাম না? কে আমি?”
আরিয়ান ভ্রু কুঞ্চিত করে বলে “কে বলেছে এসব তোকে?”

“ঐ কবিরাজ আমাকে দেখে ভয় পেল কেন? উল্টো পাল্টা কথা কেন বললো?”
আরিয়ান অবাক হয়ে বলে “তুই কবিরাজের কাছে গিয়েছিলি?”
“হুম”
আরিয়ান চোখ বুজে বিরক্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে “তোর তো ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিলো। তাহলে কবিরাজের কাছে কেন গেলি?”
“মামি নিয়ে গেছে”
আরিয়ান ফোঁস করো শ্বাস ছাড়ে “সব মারা বাল আমার পরিবারের আবালরাই করে। আমাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলো আম্মা যে ;তোকে কবিরাজের কাছে নিবে কী না? এত পাকনামি কেন করিস তোরা? আমাকে বললি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিস; সেই ভরসায় তোকে আম্মার সাথে ছেড়েছিলাম। ধ্যাৎ”
আরিয়ান ভাবেই নি এমন কিছু। কোন বড় কবিরাজ হয়ে থাকলে মাধবীকে চিনে ফেলবে। জানলে সে জীবনেও দিতো না। আরিয়ানের হঠাত রেগে যাওয়া দেখে মাধবী স্তব্ধ হয়ে বলে “তার মানে নিশ্চিত ঘাপলা আছে। আপনি জানেন তাহলে? নয়তো এত রেগে যাচ্ছেন কেন?”

আরিয়ান মাথা ঠান্ডা করার চেষ্টা করে বলে “কি বলেছে কবিরাজের বাচ্চা?”
মাধবীর মনে পরে তখনের কথা। তারা কবিরাজের দরবারে যেতেই আচমকা কবিরাজ দাঁড়িয়ে পরে। কোন কথাবার্তা ছাড়াই আগাগোড়া বোরকায় আবৃত মাধবীর দিকে আঙুল তাঁক করে মাহমুদা ইশান কে জিজ্ঞেস করে “এ কাকে নিয়ে এসেছিস?”
মাহমুদা ইশান কবিরাজের এমন কান্ডে ভরকে গিয়ে বলে “আমার ছেলের বউকে”
কবিরাজ ঘামতে শুরু করে। দাঁড়িয়ে থেকেই বলে “কোথায় পেয়েছিস ওকে তোরা?”
মাহমুদা ইশান কপালে ভাজ ফেলে বলে “আশ্চর্য! কোথায় পাবো! বললাম না ও আমার ছেলের বউ”
“নাহ। ওর পরিচয় এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ইনি রাণী, সম্রাজ্ঞী ইনি”
“জী ও মুক্তাগাছার রাণী”

“আমি জানি। তবে ওর আরো পরিচয় আছে। তুই বাহিরে যা। আমি উনার সাথে কথা বলবো”
হঠাত করে মাধবীকে এমন আপনি সম্বোধনে দুজনে অবাক হয়। মাহমুদা ইশান বেরিয়ে গেলে কবিরাজ মাধবীকে বলে “আপনিই রাণী মা। রাণী হুরাইয়া আপনি। জগতের রাণী আপনি। ইফরিতদের রাণী মা হুরাইয়া”
মাধবী অবাকের সাথে খানিক বিরক্তও হয়। চোখ মুখ কুচকে বলে “আপনার কোথাও ভূল হচ্ছে। রাণী হুরাইয়া হাড়িয়ে গেছে। আমি এক সাধারণ মানবী”
“এই তো। আপনি যদি সাধারণই হতেন তবে ইফরিতদের রাণীকে চেনার কথা নয়। আপনি অলৌকিক”
মাধবী কপালে বিস্তর ভাজ ফেলে রাগান্বিত স্বরে বলে “যদি অলৌকিকই হতাম তাহলে আগে এই দুনিয়া ধ্বংস করে ফেলতাম”
কবিরাজ খুশি হয়ে বলে “রাণী হুরাইয়া এভাবেই কথা বলতো। এই তেজ এই অপার সৌন্দর্য কেবল আর কেবলই রাণী হুরাইয়ার ছিলো”
“তাহলে তো আপনিও অলৌকিক। নয়তো আপনি চেনেন কীভাবে রাণী মাকে?”
“আমার তো কাজই এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করা। গ্রিমোয়ার বইয়ে বর্ণনাকৃত রাণী হুরাইয়ার সাথে আপনার হুবহু মিল আছে”

“মনে হচ্ছে আপনি আমায় দেখেছেন? আপনার থেকে বড় কবিরাজ আমি। আর কোণ বইয়ে কী লেখা আছে তা-ও আমার অজানা নয়। এসব শুনতে আমি এখানে আসিনি। যেজন্য এসেছি সেই কথা বলুন। আরেকবার রাণী হুরাইয়া হুরাইয়া করবেন তো রাণী মাধবীলতা হিসেবে আমি কী করতে পারি বুঝিয়ে দেব। যত্তসব ফালতু কথাবার্তা”
বলে সে মাহমুদা ইশানকে ডাক দিলে তিনি এসে সমস্যার কথা জানান। কবিরাজ এখনও পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছে। মাধবীর কড়া কথায় আর কথা না বারিয়ে কিছুক্ষন মাধবীর সমস্যা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। কিছুক্ষন পর অবাক হয়ে বলে “উনার মাতৃত্য কেউ যাদুটোনা করে নষ্ট করে দিয়েছে। উনি কিছুদিন আগে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কেউ কালো যাদু করে উনার বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। আর…”

মাধবীর হাত সঙ্গে সঙ্গেই নিজের উদরে চলে যায়। সে অন্তঃসত্ত্বা ছিলো! সত্যিই! তার পেটে তার অস্তিত্ব ছিলো! কোন এক ছোট পবিত্র অস্তিত্ব ছিলো তার মাঝে! সে বিষ্ফরিত নয়নে জিজ্ঞেস করে “আর?”
লোকটা আফসোসের সুরে বলে “আপনার মাতৃত্য চিরদিনের মত নষ্ট হয়ে গেছে। এমন কঠিন ভাবে বান দেওয়া হয়েছে যে যাদু নষ্টও করা যাবে না। এই কাজ করানোর জন্য জন্য কাউকে চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে নিশ্চিত। কেননা এই যাদুর ধার যেমন; মূল্যও তেমন। কেউ হয়তো শত্রুতা বসত এ কাজ করেছে”
মাধবী ঝাপসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তার কোনভাবেই বিশ্বাস হচ্ছে না তার পেটে কোন প্রাণ ছিলো। তার তো এসব নিয়ে কোন অনুভূতি ছিলো না। না ছিলো সংসার গড়ার ইচ্ছা। তাহলে হঠাত বাচ্চার কথা শুনে এমন লাগছে কেন! কিন্ত… আফসোসের ব্যাপার হাড়িয়ে গেছে বলে পেতে ইচ্ছে করছে। কে তার এত বড় ক্ষতি করতে পারে! ভেবে পেল না সে।
“বাবা একটু দেখেন না কোনভাবে কিছু করা যায় কিনা। ওর তো এমন কোন শত্রু নেই যে বাচ্চা নষ্ট করবে। একটু চেষ্টা দেখুন”
মাহমুদা ইশানের তীব্র আকুতিতেও কোন কাজ হয় না। কবিরাজ বলে দেন, এ যাদু ধ্বংস করা অসম্ভব। পৃথিবীর কোন কবিরাজই তা পারবে না। ব্যাস ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে দুজন।

মাধবী তখন কবিরাজের কথাগুলো এত আমলে না নিলেও এখন মনের মাঝে সংশয় কাজ করছে। সব শুনে আরিয়ান স্তব্ধ হয়ে যায়। গলায় কাঁটার মত কিছু বিধেছে মনে হচ্ছে। সে আর বাবা হতে পারবে না! মধুমতী আর পাঞ্জাবিওয়ালার সংসার হবে না! কক্ষনো আম্মু-আব্বু ডাক শুনতে পাবে না! ভাবতেই আরিয়ানের বুক মোচর দিয়ে উঠছে।
“রাণী হুরাইয়াকে চেনেন?”
মাধবীর প্রশ্নে কান দিতে পারে না আরিয়ান। সে মাধবীর বাহু ঝাপটে বলে “মধু আমরা বাবা মা হতে পারবো না কক্ষনো। মধু তুই বুঝতে পারছিস? আমরা কখনো আব্বা আম্মা ডাক শুনতে পাবো না”
মাধবী মেঝেতে চোখ রেখে বলে “আমি পারবো না। তবে আপনিতো পারবেন। তাহলে ‘আমরা আমরা’ বলছেন কেন? আপনি চাইলেই আব্বা ডাক শুনতে পার…”

আরিয়ান ওকে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে “প্রয়োজন নেই। যেই সন্তানের জননী আমার মধু হবে না ঐ সন্তানের বাপ হওয়ার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছা আমার নেই। যে এই কাজ করেছে ওকে ধ্বংস না করে ছাড়ছি না। কিন্ত আমরা তো বাবা মা হচ্ছিলামই”
শেষের বাক্যটা কিছুটা হতাশা নিয়ে বলে আরিয়ান। মাধবী আবারও একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে “রাণী হুরাইয়াকে চেনেন?”
আরিয়ান উত্তর দেয় “ইফরিতদের রাণী”

“হুম। কিন্ত উনার সাথে আমাকে কেন মেশাচ্ছে ঐ কবিরাজ?”
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে “ওটা ভন্ড কবিরাজ। ইফরিত সম্পর্কে শালার কোন ধারনাই নেই। ইফরিত গোত্রটি তাদের প্রচণ্ড শক্তি এবং আগুনের ওপর আধিপত্যের জন্য পরিচিত। এরা ধোঁয়াবিহীন আগুনের তীব্র অংশ থেকে সৃষ্টি। ওদের প্রভাব বিস্তার করে আগুনের উপর। এদের বাসস্থান প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, মাটির নিচে বা পরিত্যক্ত শ্মশানে। এরা মুহুর্তেই যে কোন প্রাণীর রূপ ধরতে পারে। আর মানুষরূপে এরা হয় অতীব সুন্দর। তবে এদের আসল রূপ সহ্য করার মত ক্ষমতা কোন মানবের নেই। এরা ভীষন অহংকারী ও জেদী। এরকম একটা ভয়াবহ সম্প্রদায়ের রাণী ছিলেন রাণী হুরাইয়া। তিনি ছিলেন সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এবং সুন্দরী। তবে তিনি শত বছর আগেই হাড়িয়ে গেছেন। বইয়ে পাওয়া যায় উনার বাবার শত্রু উনাকে লুকিয়ে রেখেছে। উনার সাথে তোর মোটেও মিল নেই। উনি যেখানে হাটতেন সেই মাটিও নাকি কেঁপে উঠতো। উনি আগুনের তৈরী আর তুই রক্তে মাংসে গড়া মানব। আর এত ভয়াবহ সম্প্রদায়ের রাণী হওয়া এত সোজা না। হ্যা তুই মানুষ হিসেবে স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক পরিমানে ভয়ংকর। তবে উনি জ্বীন। উনার সাথে তোর তুলনা হয় না”

মাধবী সবগুলো কথা মনোযোগ সহকারে শোনে। এবার বেশ স্বস্তি লাগছে। সেও জানে ইফরিতদের সম্পর্কে। আর ঐ ভন্ড কবিরাজ নাকি বলে সে ইফরিতদের রাণী! এমনিতেই মানুষ হয়েও সব ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে করে আর জ্বীন হলে তো দুনিয়া ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে করে। সে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেও মনের কোথাও একটা সুপ্ত ব্যাথা রয়ে যায়। আপনাপনি আবারও তলপেটে হাত চলে যায়। আরিয়ান তা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে এক হাতে জরিয়ে বলে “এখন ওর প্রয়োজন নেই। ওকে আমরা রোজ হাশরে আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব। আমাদেল এই বিভিষিকাময় জীবনে ওকে এনে শুধু শুধু কষ্ট দেওয়ার কী প্রয়োজন! এই এক জীবন নাহয় আমরা দুজন দুজনের জন্য কাটিয়ে দেব”
মাধবী হেসে ফেললো। তবে তার মধ্যে তাচ্ছিল্যও মেশানো ছিলো “ওসব বোধহয় আর সম্ভব না। একের পর এক ঝামেলা সবসময় লেগেই থাকছে। ভালো লাগে না আর আমার”
“সব ঝামেলা এক হাতে ঢেকে তোকে স্বাধীন মুক্ত পৃথিবী ঘুরিয়ে আনবো। তোর সব ঝামেলা আমার হোক আর আমি তোর হই”
মাধবী ঠোঁট চেপে হেসে বলে “সব ঝামেলা আপনি নেওয়ার পর যদি আপনাকে আমি নেই; তাহলে তো ঘুরেফিরে ঝামেলাগুলোও আমারই হবে”
আরিয়ান মাধবীকে ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলে “কথায় এত ভূল ধরিস কেন বাল। এসব এখন বাদ। যা হবে পরেরটা পরে দেখা যাবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বর্তমান অসুন্দর করতে চাইছি না। এমনিতেও আমার মত জাওড়ার ভবিষ্যত বুলবুলের মত কালো”

মাধবী আর বারন্দায় দাঁড়ায় না। লোকটার ফালতু বকবক শুরু হয়ে গেছে। সে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে “চোখের নিচ এমন কালো হয়ে যাচ্ছে কেন?”
আরিয়ান আয়ানাটা মুখের সামনে ধরে বলে “ভাই বিশ্বাস কর। আগে আমার চোখের নিচে হালকা কালো ছিলো আর এখন রাত জাগতে জাগতে কালোর মধ্যে হালকা চোখদুটো আছে। দিন দিন চেহারা ডাব্বায় যাচ্ছে”
মাধবী বিছানা গোছাতে গোছাতে বলে “ভদ্র হয়ে যান। চেহারাও সুন্দর হয়ে যাবে”
“আমি যদি অভদ্র থাকতাম তাহলে এতদিনে রাত জাগতে জাগতে তোর চেহারা আমার মত থাকতো”
“চুপ করুন অসভ্য পুরুষ মানুষ”
আরিয়ান মুখে আঙুল ধরে বলে “চুপ”
মাধবী হেসে ভ্রু কুচকে বলে “এত ঢং কোত্থেকে শিখেছেন?”
সাথে সাথে আরিয়ান মুখ থেকে আঙুল সরিয়ে ধপ করে বিছানায় শুয়ে বলে “যাহ। করলাম না আর ঢং। ঘুম পেয়েছে। কাছে আয়”
মাধবী ভ্রু নাচিয়ে বলে “আপানার ঘুম পেয়েছে তো ঘুমান না। আমাকে ডাকছেন কেন!”

“ফেম করতে ডাকছি। বাত্তি নিভিয়ে জলদি আয়”
মাধবী সাথে সাথেই যায় না। কিছুক্ষন পর গিয়ে নিজেই আরিয়ানের হাতে মাথা রেখে ঘাপটি মেরে শুয়ে পরে। আরিয়ান চোখ বুজেই প্রশান্তির নিঃশ্বাস নেয়। বুক ঢিপ ঢিপ করছে। এতা নতুন নয়। ওর আশেপাশে থাকলে বুক ঢিপ ঢিপ যেন করতেই হয়। সে পাশ ফিরে মাধবীকে বুকে আগলে ললাটে ঠোঁট ছুঁইয়ে বিরবির করে “প্রিয় মায়াবন-! তুই আমার কলুষিত দগ্ধ আত্মায় রাজত্ব করা এক নিষ্কলুশ পবিত্র সত্বা। পৃথিবীর সবার কাছে তুই পাপী হলেও এই পাপীর কাছে তুই নিষ্কলুশ পবিত্র”

সকালে মাধবীর ঘুম বেশ দেঁড়ি করেই ভাঙে। উঠে আর আরিয়ানকে পায় না। সেই সকালেই নাকি আরশিকে খুঁজতে বেরিয়ে গেছে। রুহিরা আপাতত এ বাড়িতেই থাকছে। রাশেদা ইশান আর যাবে বলে মনে হয় না। মাহমুদা ইশানের চেহারা কাল থেকেই থমথমে। মাধবী কী বলবে বুঝে পেল না। তিন জাঁ মিলে রান্না ঘরে কাজ করছে। তাই মাধবী কিছু বলার বা করার পেল না। সে নিজের টুকটাক সব হাতের কাজ শেষ করে ঘরে আসে। গ্রামের খোঁজ নেবে ভেবে টেলিফোনের কাছে যায়। তবে কল দেওয়ার আগ মুহূর্তে চোখে পরে সোফার উপর থাকা বড় একটা উপহার বক্সে। টেলিফোন রেখে কৌতুহল বসত বক্সটা খুলে দেখে। পুরো বক্স ভর্তি করা শাড়ি পাঞ্জাবি দিয়ে। যেই রঙের শাড়ি- সেই রঙেরই পাঞ্জাবি। সব সেট মিলিয়ে আনা। তবে বরাবরের মতই সাদা রঙের সংখ্যা বেশি। এরপর কালো রঙ। মাধবী সব উল্টে পাল্টে দেখে কত রঙবেরঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি। সাথে আবছা নীল রঙা কাগজে লেখা একটা ছোট্ট চিরকুট,
“পাঞ্জাবিওয়ালার মধুমতীকে সাতান্ন শাড়ির শুভেচ্ছা। আমি জানি তোর একেকটা রূপের জন্য একেকটা রঙ হয়তো খুব নগণ্য। তবুও এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা- একই রঙের শাড়ি পাঞ্জাবিতে আমাদের প্রতিটা সকালকে রঙিন করার জন্য। সব রঙেই যে তোকে অপ্সরার মত লাগে। অপেক্ষায় থাকলাম তোকে প্রতিটা রঙে নতুন করে আবিষ্কার জন্য”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩৮

মাধবী এতটা অবাক কখনো হয়নি। এই এত এত শাড়ি! সাতান্নটা কী কম কথা! কত মেয়ের স্বপ্ন তার হাতের মুঠোয়। শাড়ি জিনিসটা বরাবরের মতই মেয়েদের টানে বেশি। মনের মাঝে অদ্ভুত এক খুশি ঝিলিক দিয়ে উঠছে। তবে সে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে- শাড়ি দিয়েছে ঠিক আছে। তবে পাঞ্জাবি! এই লোক সাদা ছাড়া কী অন্য রঙ আদেও পরবে! এত রঙবেরঙের পাঞ্জাবি যে লোকটা পরবে তা বিশ্বাসের অযোগ্য। লোকটাকে কালো রঙে কেমন দেখাবে! মাধবী বিষয়টাতে খুব আগ্রহ পায়। ঠোঁট চেপে হেসে বলে “আমিও অপেক্ষায় রইলাম আপনাকে ভীন্ন রঙে দেখার। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের ব্যাপার মনে হয়- শুভ্র পাঞ্জাবিওয়ালার ভিন্ন রঙে সাজা”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৪০