Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬১

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬১

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬১
তাবাস্সুম খাতুন

চৌধুরী বাড়ির পরিস্থিতি সেই সকাল থেকেই গুমোট অবস্থার মতোই আছে। তেমন একটা হাসি ঠাট্টায় যেন মেতে উঠছে না চৌধুরী মঞ্জিলটা। জিহান একা সামলাচ্ছে অফিস। অনেক কাজ পরে আছে সব। একটু দম ফেলার সময়ও পাচ্ছে না। নিশান নেই তাই ওকেই সামলাতে হচ্ছে। নিশান যতদিন না নিজে কাজে হাত দিবে ততদিন তাকে দৌড়ে বেড়াতে হবে। সকালে মাত্র দুই ঘন্টা ঘুমিয়েই বেড়িয়ে পড়ছে তবে যাওয়ার আগে সামিয়া আর জারা কে মন খারাপ করে বসে না থাকতে বলে পড়া তে মন দিতে বলেছে। কারন আর দুইদিন পরেই ইয়ার চেঞ্জ এক্সাম তাঁদের।

আর যাই হোক রেজাল্ট যেন ভালো হয় কোন মতেই খারাপ হওয়া যাবে না।এইদিকে তাজউদ্দিন সেই সকাল থেকে নিজেকে রুম বন্ধ রাখছে। সবার সামনে আসতেও নিজের মধ্যে কেমন লজ্জিত ভাব অনুভব হয়। লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পাচ্ছেনা কারোর দিকে। রোজিনা, কিয়া আর মেহেরিমা মিলে সংসার এর কাজে হাত লাগাচ্ছে। কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেও যেন ভুলতে পারছেনা। সালাউদ্দিন আর জামালউদ্দিন সাথে রুবেল মিলে অফিসের কাজ সামলাছে এখন। তারা তাজউদ্দিন কে সময় দিচ্ছে ভালো হওয়ার জন্য, নিজেকে সামলিয়ে বাস্তব মেনে নেওয়ায় জন্য।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দুটো দিন নাহয় থাকুক বদ্ধ রুমে, তাতে যদি আজীবন মঙ্গল হয় তবে তাই হোক ।বাংলাদেশ টাইম এখন সকাল এগারোটা বেজে দুই মিনিট। সিমরান বাড়ি থেকে বেরিয়েছে সেই সকাল আট তাই এখনো বাসায় ফেরে নি। তিহান চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে আছে সদর দরজার দিকে। তার হৃদয় হরনি কখন বাড়ি ফিরবে? আর সে কখন এক পলক দেখে নিজের চোখের তৃস্না টা মেটাবে! তাজউদ্দিনের ফোনে কার কল আসলো অফিসে নাকি ঝামেলা হচ্ছে। দ্রুত সে নিজেকে গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে রওনা দিলো অফিসের উদ্দেশ্য।

সিমরান আসছিলো প্লেনের টিকিট কাটতে। এমার্জেন্সি কাটছে কালকে ভোরে ফ্লাইট। সে আর এই বিষাক্ত ময় দেশে থাকতে চাই না। সিমরান সবকিছু কাগজ নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলো। সে হেঁটে আসছে। রাস্তার পাশে দেখলো বেলি ফুলের গাজরা বিক্রি করছে একটা ছোট ছেলে। সিমরান দৌড়ে ছেলেটার কাছে গিয়ে বললো,
“বাবু একটা গাজরা নেবো। কত দাম?”
ছেলেটা এক গাল হাসি দিয়ে একটা গাজরা সিমরানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

“ত্রিশ টাকা দাম। এই নেন আফা আপনারে ভালো দেখাইবো এই গাজরা মাথায় দিলে।”
সিমরান ব্যাগ থেকে ত্রিশ টাকা বাহির করে ছেলেটার হাতে দিলো। গাজরা নিজের হাতে নিয়ে হেসে বললো,
“আমি তো থ্রি পিস পরে আছি বাবু। গাজরা যদি হাতে নেই। তাহলে ভালো লাগবে না আমাকে?”
ছেলেটা আবারো এক গাল হাসি দিয়ে বললো,

“অবশ্যই আফা আপনি হাতে পড়েন। সাদা জামাতে আপনার হাতে বেলি ফুলের গাজরা অসম্ভব সুন্দর লাগবো।”
সিমরান হাসি দিয়ে চলে গেলো। গাজরা টা হাতে পেঁচিয়ে পরে নিলো। মাথার কাপড় টা আরো একটু টেনে নিলো।সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকাল কোন গাড়ি আসছে কিনা। সে রাস্তা পাড় হবে। কোন গাড়ি না দেখে সে এক পা দুই পা করে এগিয়ে গেলো। কয়েক কদম এগোতেই। একটা বড়ো ট্রাক দ্রুত গতিতে এসে সিমরান কে ধাক্কা মেরে চলে গেলো আবারো একই গতিতে। সিমরান আছাড় খেয়ে পড়লো রাস্তার উপরে। নিস্তব্ধ হয়ে গেলো ঢাকার রাস্তা সহ রাস্তার মানুষ গুলো। গোল করে দাঁড়ালো রাস্তা জুড়ে। কেউ কেউ ফোন তুলে ভিডিও করছে। আর সিমরান মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছে। প্রতিটা মানুষ তাকে দেখছে আনন্দ পাচ্ছে কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। সিমরান এর শ্বাস আটকে আসছে। বিড়বিড় করে কাঁপা কন্ঠে কিছু বললো সে কেউ শুনতে পেলো না। তবুও সে বলছে,

“আমাকে বাঁচাও তোমরা। আমি আমার শখের পুরুষ কে পাই নি তাই তো চলে যাচ্ছিলাম যেন দূর থেকেই দেখি। কিন্তু আমাকে চিরজীবনের জন্য কেন দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাকে বাঁচাও আমি মরতে চাই না।”
সিমরানের কথা গুলো কেউ শুনতে পারছেনা। ছটফট করতে থাকা সিমরানের নিশ্বাস টা বন্ধ হয়ে গেলো। তার বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে গেলো। যেই দীর্ঘশ্বাস তার জীবনের ইতি টেনে দিল। শেষ লাইনে বলে গেলো,
“এই শহরে এসেছিলাম অনেক শখ নিয়ে নিজের শখের পুরুষ কে আপন করতে। কিন্তু এই নিষ্ঠুর শহর তার সবকিছু কেড়ে নিলো। প্রথমে তার শখের পুরুষ কে আর এখন তার জীবন টাকেই। ভালো থাকুক এই নিষ্ঠুর শহর আর এই নিষ্ঠুর শহরের বুকে থাকা তার শখের পুরুষ। ভালো থাকুক এই পৃথিবী। আর এই নিষ্ঠুরতম মানুষ গুলো।বিদায়।”

সময় কেটে গেলো। পুরো আধা ঘন্টা হয়ে গেলো। এখনো রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে এক লাশ। মানুষ ঘিরে আছে সেই লাশটাকে। মুখ একদম থেঁতলে গেছে যার দরুন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। সাদা রং এর গ্রাউন টাও লাল রক্তে ভিজে গেছে। হাতে থাকা কাঁচের চুড়ি গুলো ভেঙে পরে আছে। পাশে আছে রক্ত মাখা বেলি ফুলের গাজরা।মানুষের মুখে শুধু একটা প্রশ্ন এইটা কার লাশ? এমনি সময় সেখানে আসে চৌধুরী বাড়ির বড়ো কর্তা। সে এই রাস্তা ধরে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলো। এত মানুষের ভীর দেখে, এইখানে আসছে। ভীর ঠেলে ভিতরে ঢুকলো। দেখতে পেলো একটা মেয়ের লাশ রক্তাক্ত অবস্থায়। তার চোখ গেলো মেয়েটির হাতের দিকে।ভালো করে দেখতেই বুকের মধ্যে কেমন জানি দুমড়ে মুচড়ে উঠলো। এইটা কি হলো? আল্লাহ আমাদের কোন পরীক্ষায় ফেলাচ্ছে।

সবাইকে কেড়ে নিচ্ছে কেন এই চৌধুরী বাড়ি থেকে? তাজউদ্দিন দ্রুত আসলো রক্তাত অবস্থায় পরে থাকা মেয়েটাকে পাঁজা কোলে তুলে গাড়িতে উঠে বসলো। দ্রুত বাড়ি যাবে। না জানি বাড়ির অবস্থা কি হবে?তাজউদ্দিন যেন একটু জোরেই গাড়ি চালালো। বুক টা ধুকধুক করছে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তাজউদ্দিনের গাড়ি এসে থামলো চৌধুরী বাড়িতে। সে গাড়ি থেকে নেমেই সিমরানের লাশ টা পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে চৌধুরী বাড়ির ভিতরে ঢুকলো।তিহান, সামিয়া,জারা, মেহেরিমা ড্রইং রুমে বসে ছিলো। তাজউদ্দিন কে এইভাবে একটা মেয়ের লাশ আনতে দেখে সবাই আঁতকে উঠলো। জারা চিৎকার দিলো। ওর চিৎকার শুনে সবাই ঐখানে উপস্থিত হলো। সবাই আছে শুধু জিহান নেই। ও এখনো অফিসে আছে।তাজউদ্দিন কোল থেকে সিমরানের লাশ নামিয়ে ফ্লোরে রাখলো। সবাই এসে ঘিরে ফেললো লাশ টিকে। মুখ থেতলে গেছে বলে বোঝা যাই না। তিহান গভীর দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। জারা বিচলিত কণ্ঠে তার আব্বুকে প্রশ্ন করলো,

“আব্বু এই মেয়েটা কে? কার লাশ!”
তাজউদ্দিন সবার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে। এর মধ্যে শোনা গেলো তিহানের আর্তনাদ। তিহান চট করে ফ্লোরে বসে। সিমরানের হাত টা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে বলতে লাগলো,
“এই মেয়ে কি হলো? রাগ করলে? রাগ করেই চলে যাচ্ছ এইভাবে? বেয়াদব মেয়ে ওঠ বলছি। আমি কিন্তু আজকে প্ল্যান করছি তোকে আমার মনের কথা বলে দেবো। আর তুই এইভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছিস। দেখ মেয়ে শান্তি পাবি না আমার থেকে। ওঠ বলছি চোখ খোল।”
তিহানের এই অবুঝ আর্তনাদ গুলো আর সিমরানের কানে পৌচাচ্ছে না। সে চোখ দুটো বন্ধ করেই আছে। তিহান কান্না করে দিলো বাচ্চাদের মতো কান্না করতে করতে বললো,

“এইজন্য তুমি বলেছিলে। তুমি মরে গেলেই আমি তোমার কদর বুঝবো। সত্যিই আমি তোমার কদর বুঝেছি। এই মেয়ে ওঠো না আমার কষ্ট হচ্ছে বুক ফেঁটে যাচ্ছে। আমি তোমার কদর বুঝেছি এখন ফিরে আসো আমার কাছে। ও আল্লাহ আমার জীবনের সবটুকু আয়ু দিয়ে হলেও আমার পাখিকে বাঁচিয়ে দাও। ও এইভাবে যাবে না। আমি মরে যাবো আমার নিশ্বাস আটকে যাচ্ছে। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। ও আল্লাহ তুমি ওকে বলো না একটু চোখ খুলতে আমি কিভাবে আহাজারী করছি সে একটু দেখুক আর আমার কাছে ফিরে আসুক। আমি। সয্য করতে পারছি না আর আমি আর বুঝতে চাচ্ছি না তোমার কদর ফিরে আসো পাখি। তোমার নীড়ে ফিরে আসো।”
তিহানের আর্তনাদ চৌধুরী পরিবারের সবাইকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। মেহেরিমা নিজের ছেলের এই অবস্থা দেখে সয্য করতে পারছেনা। তিহান ফুঁফাচ্ছে সে একটু ঝুঁকে সিমরানের উদ্দেশ্য বললো,
“ওহে পাখি বেশি দূরের পথে উড়াল দিও না তুমি। তোমার শেষ গন্তব্যের নীড় কিন্তু আমি।”

দুপুর তিনটা বাজে। সিমরান কে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাটিয়া ধরে তাকে কবর স্থানে আনা হয়েছে। তিহান ও ধরেছিলো সেই খাটিয়া। এখন জানাজার নামাজ পড়াচ্ছে। জানাজার নামাজ শেষ হতেই সিমরানের লাশ ধরে কবরে শুয়ে দেওয়া হলো। সবাই এক মুটো করে মাটি দিয়ে। দাফন করে দিলো সিমরান কে। তিহান কেমন করে তাকিয়ে আছে সিমরানের দাফনের দিকে। জিহান এসে তিহানের কাঁধে একটা হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,

“মেয়েটাকে যদি আগলিয়ে নিতিস। তবে সে আমাদের মাঝে থাকতো। যাই হোক চলে আয়। তার গন্তব্যের নীড় এই জায়গায় অবস্থান করছিলো তাই শেষ জীবনে ইতি টেনে তোর স্মৃতিতে থেকে গেলো। চলে আয়।”
বলে জিহান আর দাঁড়ালো না। চলে গেলো। তিহান এর চোখ দুটো রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। সে খুব বাজে ভাবে ভেঙে পরেছে ভিতর থেকে। সে আজ রাতে তার ভালোবাসা কে আগলিয়ে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু সেইটা আর হলো না। তার পাখি তার নীড় ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। সে খুব ভালো ভাবেই সিমরানের কদর বুঝছে। আসলেই মানুষ মরলেই তার কদর বোঝা যাই।

ইতালির সময় এখন রাত আট টা বেজে পাঁচ মিনিট। সিমিকে উপরের রুমে বন্ধ করে রেখে নিশান চলে গেছে পুরো দুই ঘন্টা হচ্ছে। সিমি এই অন্ধকার রুমে অনেক ভয়ে ভয়ে আছে। কোন ফোন নেই যে সে দেখবে। তবে টিভি আছে একটা ইয়া বড়ো। সিমির দেখতে ইচ্ছা করছিলো না তাই ব্লাঙ্কেট এর নিচে চুপটি করে শুয়ে ছিলো। এখন যেন আরো বেশি ভয় লাগছে। তাই ব্লাঙ্কেট থেকে বেড়িয়ে টি টেবিল থেকে হাতড়িয়ে টিভির রিমোর্ট নিলো। অন করলো। সাথে সাথে ইতালিয়ান মুভি অন হলো। সিমি তা দেখে মনে মনে বললো,
“বাল চালু করছি। শালা টিভি তাও দেখছি ওই বিদেশি কুত্তার মতো।”

রাগ হচ্ছে তার, সাথে ভয় ও লাগছে। সে এইবার আরেকটা চ্যানেল দিলো। পরপর আরো দুইটা চ্যানেল দিতেই সে দেখতে পেলো এই চ্যানেল এ কোরিয়ান ড্রামা হচ্ছে। সিমির মনটা নেচে উঠলো সে ফুল লাউড দিয়ে ব্লাঙ্কেট এর নিচে ঢুকে দেখতে লাগলো ড্রামা। ড্রামা দেখবে অথচ কিছু না খেলে কি ভালো লাগে? তাই সে নামলো রুমের এক পাশে একটা ফ্রিজ আছে সে ঐজায়গায় যেতেই ফ্রিজ খুলে দেখলো। ফ্রিজের ভিতরে ড্রিংক জাতীয় বোতল আছে আর কিছুই নেই। সিমি সেই ড্রিংক এর বোতল নিয়ে আবারো বেডে গেলো। টিভি দেখতে দেখতে ড্রিঙ্কস এর বোতল খুলে এক ঢোক খেতেই স্তব্ধ হয়ে গেলো। চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো। পেটের মধ্যে কেমন যেন গুলাচ্ছে।ধীরে ধীরে সবকিছু ভালো হয়ে গেলো। সিমি আবারো এক ঢোক খেয়ে বললো,

“আহ বিদেশি কুত্তা ইউ আর সো সুইট। কি এইটা এত দারুন খেতে কেন?”
বলে এক ঢোক করে খাচ্ছে আর টিভি দেখছে। এই করতে করতে পুরো তিনটা বোতল সে শেষ করলো। সিমির চোখ দুটো লাল টকটক করছে মাথা তাল দিচ্ছে। সে টিভির স্কিনে তাকিয়ে আছে। ড্রামাতে কিস মোমেন্ট চলছে। সিমি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে দেখছে। এমন সময় নিশান রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলো সিমির নাজেহাল অবস্থা। গায়ে থাকা উড়নাটা পরে আছে অবহেলায়। চুলগুলো খোলা গায়ে থাকা শার্ট এর উপরের দুইটা বোতাম খুলে রাখছে। হাতে বিয়ার এর বোতল। দৃষ্টি টিভির স্কিনে চলতে থাকা কিস মোমেন্ট এ। নিশান দ্রুত দরজা লাগিয়ে ফোন টা রেখে সিমির কাছে এসে ধমক দিয়ে বললো,

“ইডিয়েট কি করছিস এইসব? আর কি খাচ্ছিস!”
সিমি টিভি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিশানের দিকে তাকালো। চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে নিশানের মুখ পানে। হঠাৎ তার দৃষ্টি যাই নিশানের ঠোঁট দুটোই নিশান কি বলছে সেগুলো সিমির কানে যাচ্ছে না। হুট করে সে উঠে নিশানের শার্ট এর কলার টেনে আনলো নিশান ব্যালেন্স রাখতে না পেরে সিমির উপরে পরে গেলো। সিমি আচমকা নিশানের ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলো। নিশানের চোখ জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেলো সিমির এমন রিএক্টন যেন হজম হচ্ছে না। সিমির এমন উন্মাদনা তে নিশান নিজেও সাই দিলো। সিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস কণ্ঠে বললো,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০ (২)

“যেচে আসছিস আমার কাছে। সমস্যা নেই আয়। আগেই বলেছি সবসময় সুইট কিছু ফিল করার জন্য তৈরী থাকিস।”
বলে সিমির কানে কামড়িয়ে দিলো। সিমি কেঁপে উঠলো। নিশানের হাতের বিচারণ চলতে লাগলো সিমির সারা শরীর জুড়ে। ধীরে ধীরে তারা সমুদ্রের গভীর অতলে পারি জমালো।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬২