Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১২

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১২

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১২
আশফিয়া হিয়া

আহি খাবার খেয়ে এসেছিল কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করতে। আজ খাবারটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল তার। হঠাৎ খেয়াল হলো সে বাগানে একা নয় ইয়াজও রয়েছে। ইয়াজ বাগানের এক কোণে চেয়ারে বসে মোবাইল চালাচ্ছে। তার ধ্যান – জ্ঞান সমস্ত মোবাইল এই নিবদ্ধ। আশে – পাশে কি হচ্ছে সেই খবর নেই।
আহির মাথায় তৎক্ষণাৎ দুষ্টু বুদ্ধির উদয় হলো। সে গিয়ে বাগানের গাছে পানি দেয়ার পাইপ নিয়ে এল। এরপর খুব সাবধানে পা টিপেটিপে ইয়াজের পেছনে গিয়ে ইয়াজের পিঠ পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিল। নিজের শরীরে এভাবে পানি পড়াই ইয়াজ চেয়ার থেকে উঠে আহি দেখেই রাগে কটমট করে উঠল। ইয়াজকে উঠতে দেখেই আহি দৌড় লাগল। তবে ইয়াজের সঙ্গে দৌড়ে পেরে ওঠে তার কোনোকালেই সম্ভব নয়নি। আজও হলো না, মিনিটের মাঝেই ইয়াজ তাকে ধরে ফেলল। চুলের গোছা শক্ত করে চেপে ধরল। ব্যাথায় আহির চোখে পানি এসে গেল।

– ” বেয়াদব আমার গায়ে পানি দিয়েছিস কেনো? এখন দেখ কেমন লাগে।”
– ” ছাড়ো প্লিজ। ”
– ” পারলে ছাড়িয়ে নে।”
বলেই চুল আরোও শক্ত করে চেপে ধরল। আহি এবার ইয়াজের পায়ে পাড়া দিল। ইয়াজ মোটেই প্রস্তুত ছিল না। ব্যাথায় নাক – মুখ কুঁচকে নিল। আহি এবার ইয়াজের হাতে জোরে কামড় বসাল। ইয়াজ বুঝি থেমে থাকবে? ইয়াজ আহির হাত টেনে কামড়ে ধরল। ব্যাথার সঙ্গে সঙ্গে আহির শরীরে এক অদ্ভুত শিরশিরানি বয়ে গেল। আহি চোখ খিচেঁ নিল। প্রতিবাদ করার শক্তি আপাতত হারিয়ে ফেলেছে। ইয়াজের কিছু মনে পড়ায় আহিকে ছেড়ে দিল। সে নিজেও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। হাত দিয়ে মাথা চুলকালো এরপর কোনোদিকে না তাকিয়েই চলে গেল। আহি নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল যেখানে ইয়াজের দেয়া কামড়ের চিহ্ন রয়ে গেছে।
রুদ্ধ আরুর হাত ধরে টেনে দরজা পর্যন্ত নিয়ে যেতেই রুদ্ধর হুশ ফিরলো। কি করছে এটা সে রাগ উঠলে কেনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এবার আরুর দিকে তাকাল। ইস্ কিভাবে কাদঁছে অনেক কষ্ট পেয়েছে তাই তো এভাবে কাঁদছে। রুদ্ধ আরুর হাত ছেড়ে দিল তৎক্ষণাৎ। আরু নিচের দিকে তাকিয়ে আছে চোখ দিয়ে টপাটপ পানি পড়ছে। রুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এরপর খুব নরম স্বরে বলল,

– “আরু?” আরু জবাব দিল না। আর না চোখ তুলে তাকাল রুদ্ধর দিকে। তার দৃষ্টি মেঝেতে নিবদ্ধ। রুদ্ধ পুনরার তার নাম ধরে ডাকল,
– ” অরুনিতা?” আরুর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল তবে অভিমানে রুদ্ধর ডাকে সাড়া দিল না। রুদ্ধর এবার নিজের হাতের দিকে খেয়াল হলো। হাতে খুবই সামান্য রক্ত লেগে আছে। রুদ্ধ তড়িঘড়ি করে আরুকে টেনে বেড এ বসিয়ে দিল। এরপ্র বেড সাইড টেবিলের ডয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্স বের করল। আরু পুরোটা সময় রুদ্ধর কার্যকলাপ দেখতে লাগল। ভীষন অস্হির দেখাচ্ছে মানুষটাকে। চুল গুলো এলোমেলো শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা। রুদ্ধ বিছানায় বসে খুব যত্ন করে আরুর হাতে ব্যান্ডেজ করে দিল। এতক্ষণ পরে আরু এইবার মুখ খুলল,

– ” ছাড়ুন অনেক হয়েছে এত দরদ দেখাতে হবে না।”
– ” খুব ব্যাথা হচ্ছে তাই না?”
– ” না খুব আরাম লাগছে। আমার হাত ছাড়ুন।”
আরু মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। রুদ্ধ এক হাতে আরুর গাল আলতো করে চেপে তার দিকে ঘুরিয়ে নিল।
– ” সরি।” রুদ্ধর কন্ঠে স্পষ্ট অনুতাপ।
আরু অবাক হলো,
– ” কি বললেন? ” রুদ্ধ দু আঙ্গুলের সাহায্যে আরুর মুখের হা বন্ধ করে দিল।
– ” এতো অবাক হওয়ার কিছু হয়নি আমার ভুলে তুই কষ্ট পেয়েছিস তাই বলেছি।”
আরু ফুঁসে ওঠার মতো রুদ্ধর হাত ঝাঁড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল।
– ” আপনি সবসময় আমাকে কষ্ট দেন।” বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। রুদ্ধ আরুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আরুর চোখের পানি মুছিয়ে দিল।

– ” আর হবে না। তোকে আর কষ্ট দেব না। ”
আরু রুদ্ধর চোখে চোখ রাখল। দুজনের চোখে অনেক অপ্রকাশিত কথা যা তারা কেউই মুখে প্রকাশ করতে পারছেনা তবে চোখে চোখে ঠিকই পড়ে নিল।
– ” তোকে রোহানের সাথে হাহা হিহি করতে বারণ করেছিলাম কিনা?”
– ” ওনারা এতদিন পরে এসেছেন তাইতো একটু কথা বলেছি। ”
– ” একটু কথা?” রুদ্ধ চোখ রাঙালো।
– ” সরি! একটু বেশি হয়ে গেছে আর বলবো না।”
– ” ওদের বাড়ি থাকতে যাবি একা একা।”
– ” না না একদমই না।”
– ” গুড।”

রুদ্র এবার আরুর নিয়ে আসা পায়েসের বাটি নিয়ে বেডে বসলো। আরুকে ইশারা করল পাশে বসতে।আরু কোনো দিরুক্তি না করে রুদ্ধর পাশে গিয়ে বসল। এক চামচ পায়েস মুখে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। ভীষণ টেস্টি হয়েছে পায়েসটা। আরু রুদ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল এতসময় রুদ্ধর মুখই বলে দিয়েছে খেতে ভালোই হয়েছে। রুদ্ধ এবার এক চামচ আরুর মুখের সামনে ধরল আরু খেয়ে নিল। এভাবে রুদ্ধ খেতে লাগল সাথে আরুকেও খাইয়ে দিতে লাগল। খেতে খেতে আরুর কিছু মনে পড়ায় মুখটা কাদোঁ কাদোঁ হয়ে গেল। রুদ্ধ তার মুখের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকালো।
– ” কি করেছি?”
– ” আপনি আমার চুড়িগুলো ভেঙ্গে ফেলেছেন। ওগুলো আমার কত পছন্দের ছিল আপনি জানেন?” আরুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুণি আবার কেঁদে ফেলবে।

– ” আচ্ছা আচ্ছা আবার শুরু করিস না প্লিজ। এরকম আরও একশোটা চুড়ি এনে দেব।”
– ” আমার এক জোড়া নূপুর ও চাই।”
– ” ঠিক আছে এনে দেব।”
– ” আমাকে নিয়ে বাইরে যাবেন একদিন। ঔ যে সেদিন রাতের মতো?”
– ” আচ্ছা।”

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১১

আরুর মনটা এবার ভালো হয়ে গেল। রুদ্ধ আজ তার সব কথা শুনছে কিছুতেই বারণ করছে না।এরকমটা যদি রোজ হতো তাহলে ভালো হতো না? নিচ থেকে মিতা বেগমের গলা শোনা যাচ্ছে। আরুকে ডাকছে হয়তো মামিরা চলে যাবে তাই। আরু রুদ্ধর দিকে তাকাল। রুদ্ধ যেতে বলল সাথে সাবধানি বাক্যও ছুঁড়ে দিল। আরু মাথা নাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আরু যাওয়ার পরপরই রুদ্ধও নিচে চলে গেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here