তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ গল্প || Suraiya Aayat

5716

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১
Suraiya Aayat

প্রথম দিন ভার্সিটি এসেই একটা ছেলের সাথে তুমুল ঝামেলা বেধে যায় আরুর ৷ ভার্সিটির গেটের সামনে একটা ছেলে আর মেয়ের তুমুল ঝগড়া দেখে সবাই তকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ৷
আরূর খুব বিরক্ত লাগছে এখন ,একে তো এই ছেলেটা দোষ করেছে তার ওপর উল্টে ওর ওপরেই গালাবাজি করছে, মেজাজটা ক্রমাগত খারাপ হয়ে যাচ্ছে ওর , তবে ওউ ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয় ৷

__” মহা মুশকিল ! এই মেয়েটা দেখছি পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে ৷”
__”আমি কোথায় ঝগড়া করছি , আপনি নিজের দোষটা স্বীকার করলেই তো আর ঝগড়াটা হয় না , আর এভাবে এখানে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে লোকজন জড়ো করে খুব মজা পাচ্ছেন আপনি ?”
তূর্যর এবার নিজের মাথার চুল নিজেই ছিড়তে ইচ্ছা করছে , একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করায় পাল্লাপাল্লি দিতে গেছে , ও ৷
__” এতদিনের শোনা প্রবাদটা যেন আজকে আমার কাছে সত্যি মনে হচ্ছে , যে মেয়েদের সাথে কথাই আর ঝগরায় পারা যায় না….”
আরু এবার আঙ্গুল উঁচিয়ে তুর্যর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো ,,,,,,,

__”আপনি আমাকে ঝগড়ুটে বলেন কোন সাহসে ? আমাকে দেখে কি আপনার ঝগড়ুটে মনে হচ্ছে,আমার মুখে কি ঝগড়ুটে লেখা আছে ? আর দেখুন তো আপনার জন্য আমার ওড়নাটা কতটা ছিড়ে গেছে তার বেলা কিছু নয় নাকি ?”
__”এই মেয়ে শোনো একদম ফালতু কথা বলবেনা ঠিক আছে, বেশি ঝামেলা করলে এক্ষুনি আরিশকে ডেকে আনবো তারপর ও তোমার টাইট দেবে তখন দেখো কেমন লাগে তাই আমার সাথে বেশি লাগতে এসো না ফলাফল ভাল হবে না ৷”
আরুর পাশে সানা দাঁড়িয়ে রয়েছে আর যা যা হচ্ছে সব দেখছে ৷ চোখের চশমাটা সামান্য ঠিক করে নিয়ে মাথা নিচু করে আছে ও ৷ এদের সকলকে খুব ভালো করে চেনে ও এমনকি ব্যাক্তিগতভাবেও , তাই এদের সামনে কিছু না বলাই ভালো, কিছু বললে পরে ওর খবর আছে ৷
আরুর সাথে তুমুল কথা কাটাকটি হচ্ছে তূর্যর আর সবটা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে সানা ৷ আরুর হয়ে কিছু বলছে না দেখে আরু বললো,,,,,,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

__” কিরে তুই এরকম হ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন দেখতে পাচ্ছিস না আমাকে কত কথা শোনাচ্ছে ! নাকি প্রথমদিন ভার্সিটিতে এসে মুখের বুলি হারিয়ে ফেলেছিস ! অন্য সময় তো আমার মাথা খেয়ে ফেলিস ৷”
সানা অবাক চোখে আরুর দিকে তাকালো ,তাকিয়ে বলল,,,,
__”আমি তোর মাথা খেয়ে ফেলি ?”
কথা গুলো শুনে অবাক হয়ে গেল ও , কথাগুলো যেন ঠিক হজম হলো না সানার কারন আরু সারাদিন এত বকবক করে যে সানা তাতে অতিষ্ঠ, আর সানা যথেষ্ট শান্তশিষ্ট আর চুপচাপ ৷ আরু যা বকবক করে তা সব সময় মুখ বুজে শোনে ও ৷ তবে এখন আরু হাজারটা গালাগালি দিলেও এদের সামনে অন্তত সানা কিছু বলবেনা কারণ এরা হলো সিনিয়ার আর এদের কাছে টার্গেট হওয়ার কোন ইচ্ছা ওর নেই ৷
ওদৈর ক্যাচাল শুনে প্রান্ত এসে তূর্যর কাছে এসে বলল,,,,,

__” এখানে এত ক্যাচাল কিসের ? আর এই মেয়ে এত চিল্লাপাল্লা করতাছো কেন?”
__”আর বলিস না ভাই মেয়েটা সমানতালে ঝগড়া করেই চলেছে, আমি এক্ষুনি আরিশের কাছে গিয়েই এই মেয়ের নামের বলবো যাতে ওকে টাইট দেই ৷”
__”আরে এসব এসব মেয়েদেরকে ক্যাচালের মাঝে আরিশকে টানছিস কেন , জানিস তো ও এইসব পছন্দ করেনা , আর নিজেরা নিজেরাই মিটিয়ে নিলেই তো হয় ৷”
__”আপনার বন্ধু করছে ক্যাচাল ,এক্ষুনি আমাকে সরি বলতে বলুন ৷”
__”আমি আপনাকে কেন স্যরি বলবো হ্যাঁ ! আমার কি দোষ?”
পিছন থেকে প্রান্তকে সাহেল ডেকে উঠল ,,,,,,,

__”তাড়াতারি আই আরিশ ডাকতাছে তোদেরকে ৷”
প্রান্ত তূর্যকে ধাক্কা দিয়ে বলল,,,,,
__” তারাতারি সরি বল না হলে আজকে কপালে দুঃখ আছে ৷”
আরু একটু এগিয়ে গিয়ে বলল,,,,
__” সরি বলুন না হলে আমি কিন্তু বড়োসড়ো ঝামেলা করব ৷”
__”তোমাকে আমি দেখে নিব ৷”
__”আরু তুই এবার একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছিস না ?”
সানার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে,,,,,
__”তুই থমবি ৷”

ওদের কথার মাঝে তুর্য সরি না বলে চলে গেল ৷
আরু সামনে তাকাতেই ওদের কাউকে দেখল না তবে সবাই কেমন ভ্যাবলার মতো ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ৷ ওর রাগ এখন চূড়ান্ত সীমায় , সরি না বলে চলে গেল ৷
__”কোথাকার না কোথাকার আরিশ আমাকে তার ভয় দেখাই, সে নাকি আবার আমাকে সোজা করবে, হাহ , যদি ভুল টা আমারো হতো তাহলে আমি মেনে নিতাম তবে এই ছেলেকে যদি আমি টাইট না দিয়েতি তো আমার নামও আরু নয় ৷ আজই আমি প্রিন্সিপালের কাছে ওর নামে বিচার দিব, কলেজের মেয়েদেরকে এভাবে উত্তক্ত করা দেখাচ্ছি মজা ৷”
তূর্য চলে যেতেই সানা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো, দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আরূকে ইশারা করে বললো,,,,,

__” শেষ?”
__”তুই আর একটাও কথা বলবি না , আমার হয়ে কিছু বললি না তোর সাথে আমি কথাই বলব না যা ৷” বলেই মুখ ভাঙচি দিয়ে ক্লাসে চলে গেল……

কোকের বোতল টা শেষ করে খালি ক্যানটা হাত থেকে আলতো করে ফেলে দিল আরিশ, এতক্ষণ ধরে যা যা হচ্ছিল সবটাই ওর চোখে পড়েছে, ফালতু প্যাচাল এর মধ্যে ও যায় না তাই দূর থেকেই দেখছিল ওদেরকে ৷ ঝগড়া বাড়ছিল তাই প্রান্তকে পাঠালো তূর্যর কাছে ৷
ওরা দুজন আরিসের কাছে গেল….
__”দোস্ত আমি তোকে খুজতেছিলাম , ভার্সিটির একটা নিউ student আজকে প্রথম আইসাই ক্যাচাল শুরূ কইরা দিসে ৷ মেয়েটাকে তো ইচ্ছা করতাছে যে থাপড়াইয়া দিই ৷”
আরিশ প্রকেট থেকে সানগ্লাস টা বার করে চোখে দিয়ে চুল গুলোকে হাত দিয়ে আলতো করে ঠিক করে নিল, তারপর বলল

__”নিজের দোষটা কেন স্বীকার করিস না,করলে তো আর কিছু হয়না বলেই চলে গেল ৷”
প্রান্ত আর রিফাত ওরা আভাক হলো না আরিশের কথা শুনে কারণ ওরা জানে যে আরিস লজিক ছাড়া কখনও কথা বলে না ৷
আসলে দোষটা তূর্যরই ছিল,ও হলো আজীবন সিঙ্গেল আর ভার্সিটির 2 টো দীন হয় ওর কাছে মেয়ে পটানোর দিন,এই দুটো দিন আসে শুধুমাত্র মেয়ে পটানোর জন্য ৷ তাই হাতে ঘড়ির সাথে সবসময় একটা আংটা জাতীয় বস্তু আটকে রাখে যাতে কোনো মেয়ের ওড়না বা ওর ঘড়ির সাথে আটকে যাই আর তাই হলো আজ ৷ আরুর ওড়নাটার সাথে আটকালো ওটা ,আর ওড়না ধরে টান দিতেই আরূ গলায় সামান্য আঘাত পেল আর ওর ওড়নাটাও খানিকটা ছিড়ে গেছে ৷
এর আগেও অনেকের সাথে আটকে গেছে তবে কেউ ততটাও গুরুত্ব দেয়নি ব্যাপারটা নিয়ে কারণ সবাই তো আর আরূ নয়……

আরিশ হলো গোটা ভার্সিটির ক্রাশ সব মেয়েরাই বলতে গেলে পাগল প্রায় , দেখতে মাশআল্লাহ, কারও সঙ্গে তুলনা করা যায় না, আরিশ ওর নিজের মতোই অতুলনীয় ৷
আর এদিকে আরূ হলো 19 বছর বয়সী একটা যুবতী, অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল আর কখনো অন্যায় সহ্য করে না মুখের উপরে সমস্ত কথাগুলো বলতে পছন্দ করে, ওর বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই ওকে নিয়ে ৷

ক্লাসে বসে আছে আরূ, আর সানা,প্রথম দিন তাই খুব একটা কথা বলছেনা কারোর সাথে , তাই সেইভাবে কোন নতুন ফ্রেন্ড হয়নি ওর , আর তাছাড়া প্রথম দিন ভার্সিটি তে এসেই আরু যা করলো তারপরে ওর সাথে কথা বলতেই সবাই ভয় পাচ্ছে ৷
হাতে থাকা ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখল এগারটা পাঁচ বাজে , ক্লাস শুরু হওয়ার কথা 11 টা থেকে তবে আরো 5 মিনিট হয়ে গেল তাও কোন টিচার আসলোধা দেখে আরু জোরে জোরে সানাকে বলল,,,,,

__”এখানে রুলস বলে কি কিছু নেই নাকি ? কটা বাজে এখন তার খেয়াল আছে? টাইম জ্ঞান বলে কিছু নেই নাকি, শুধুমাত্র আমার ছোটবেলা থেকে এখানেই পড়ার ইচ্ছা ছিলো ভর্তি হলাম নাহলে কখনোই আসতামনা ৷”
সানা আরুকে ইশারা করে চুপ করতে বলল,,,,
__”কেন চুপ করব হ্যাঁ! ঠিকঠাক টাইমে পরিচয়পর্বটা সারা যায় না ? এমনিতেই যা স্টুডেন্ট দেখলাম কলেজে এসে, এক একজনের যা ব্যবহার তা আর কি বলব !”

সানা আবার ইশারা করল আরুকে চুপ করে সামনের দিকে তাকাতে ঈশারা করলো,,,,,,,
সামনের দিকে তাকাতেই দেখল যে 4 জন ছেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে…..
তারমধ্যে তূর্য কে দেখেই ওর মেজাজ বিগড়ে গেল
আরো ৷ আরু কিছু বলবে তার আগেই সানা বলে উঠলো ,,,,,,
__”এরা সিনিয়ার, টিচাররা এদেরকে চোখ বুজে বিশ্বাস করেন তাই সকালে যা হয়েছে সব ভুলে যা এখন চুপচাপ থাক আর এরা যা বলবে তাই শুনে চল ৷”

আরু সানার দিকে তাকালো,সানার মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলল না,সানা ইশারা করে ওকে অনেক কাকুতি-মিনতি করছে যাতে আর কিছু না বলে একেই প্রথম দিনে অনেক কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছে ও ৷ তবে এরা সিনিয়র না হলে ক্লাসের সবার সামনে তূর্যকে আলুভাজার মতো ভাজা ভাজা করে রেখে দিত ৷
আরুর কর্মকান্ড দেখে আরিশের ভ্রু দু-দুটো সামান্য কুঁচকে এল তবুও অবাক হলো না খুব একটা, সকালে যা দেখেছে তাতে ওর আইডিয়া হয়ে গেছে কিছুটা হলেও আরু সম্বন্ধে ৷
তূর্য ফিসফিস করে আরিশের কানে বলল ,,,,

__”ওই মেয়েটা , ওই মেয়েটার সাথেই সকালে ঝামেলা হয়েছে , আজকে দেখে ওকে কেমন মজাটাই না দেখায় ৷”
আরিশ কিছু বলল না , চুপ করে আরুর দিকে তাকিয়ে আছে আর ওকে দেখছে ভালোভাবে , সবার এটেনশন এখন আরিশের দিকে কারন সবার সামনে এমন একটা হ্যান্ডসাম ছেলে থাকতে কেন সবাই অন্য কাজে মনোযোগ দেবে , তার থেকে বরং আরিশের দিকে তাকিয়ে থেকে ক্রাশ খাওয়া টা কেই সবাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করছে….আরিশ আরূর দিকে তাকিয়ে আছে আর আরুর গতি প্রকৃতির দিকে নজর রাখছে,,,,,,

আরু লক্ষ্য করল যে আরিশ ওর দিকে তাকিয়ে আছে,ওর এখন বিরক্তি লাগছে আরিশকে দেখে , আরিশকেও তূর্যর মতোই ভাবছে আরু, যদিও আরিশ তেমনটা নয় , মেয়েদেরকে যথেষ্ট রেসপেক্ট করে তবে ওকে কেউ আঘাত করে কথা বললে তা সহ্য করতে পারে না ৷ আর তাছাড়া ভার্সিটির টিচারদের কাছে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য , প্রত্যেকবারের টপার ও ৷
আরু আরিশের দিকে একবার সানার কানের ফিসফিস করে বললো ,,,,,,

__”দেখ ছেলেটা কেমন হ্যাংলার মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে, জীবনেও মনে হয় মেয়ে দেখে নাই৷”
সানা ভয়ে ঢোক গিলে বলল,,,,,
__” আরো ক্লাসে এটেনশন কর ৷”
আরিশ যখন আরুর দিকে তাকিয়ে ছিল তখন আরু ও একবার তাকালেই দুজনের চোখাচোখি হতেই আরিশ আরুর থেকে চোখ সরিয়ে নিল ৷
প্রান্ত বলে উঠলো,,,,
__” আমরা তোমাদের সিনিয়ার তাই আমাদেরকে সবসময় মান্য করে চলবে, আর কোন প্রবলেম হলে আমাদেরকেই বলবে আমরা তা সলভ করার চেষ্টা করবো ৷
ও আরিশকে লক্ষ্য করে বললো,,,,,
__” তুই আবার কিছু বল ৷”
আরিশ সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,,,

__” আমাদের কলেজের একটা রেপুটেশন আছে তা যেন কোনোভাবেই নষ্ট হয় তার দায়িত্ব কলেজের স্টুডেন্ট দের আর তার সঙ্গে আমাদেরও তাই এমন কিছু করবেনা কেও, আশাকরি কলেজের নামটা খারাপ হবে না তোমাদের জন্য ৷”
__” নিজেরা খারাপ , নিজেদের জন্য কলেজের রেপুটেশন নষ্ট হয় উনারা আবার অন্যকে জ্ঞান দেয় ৷ এতো দেখি ভূতের মুখে রাম রাম এর মত শোনাচ্ছে কথাগুলো ৷”(আরু )
কথাগুলো শেষে হতেই সবাই নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে, এবার এলো সোনার পালা ৷

__”সানা খান , আমার বাড়ি ধানমন্ডি 32 তে ৷
আরূশি উঠে দাড়িয়ে বললো,,,,
__” বিনতে আরূশি রহমান,তবে ঢাড়ির ঠিকানা বলাটা আপনাদের কাছে আমি প্রয়োজন বোধ করছি না ৷”
বলে রাগ দেখিয়ে বসে পড়লো ৷
একে এটা সকলের পরিচয়পর্ব নিয়ে ওরা রুম থেকে বেরিয়ে গেল…..
__” লোফার এক একটা ৷”
__”তুই যেটা ভাবছিস সেটা হয়তো না , আরিশ ভাইয়া আর সবার মত নয়…”
__”হাহ, জানা আছে সব যে কে কেমন….ওই জন্যই তো নিজের বন্ধুরা দোষ করল তাও কিছু বলল না , কি করে বলবে, নিজেও হয়তো মেয়েদের এভাবেই টিস করে ৷”
__” আরু থাম ৷”
__”? ৷”

ভার্সিটি ছুটি হয়ে গেছে, সানা আর আরূ গেট থেকে বেরোচ্ছে আরও দূর থেকে লক্ষ্য করল যে আরিশ তূর্য আর প্রান্তকে কিছু বুঝিয়ে গাড়ির চাবিটা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৷
আরিস আরুর দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়িটা নিয়ে চলে গেল……
__”এটিটিউড দেখাচ্ছে? অ্যাটিটিউড মাই ফুট , এরকম ছেলে আরুর পিছনে হাজারটা ঘোরে ৷” (আরু)
আরুর কথা শুনে সানা সামনের দিকে তাকিয়ে দেখল আরিশ গাড়িটা নিয়ে চলে গেছে ৷
__”ওসব কথা ছাড় , এখন বল আজকে আমাদের বাড়িতে আসছিস তো?”
__”হ্যাঁ আসছি জানু, আমি না গেলেও আম্মু নিয়ে যাবে জোর করে ৷”
__”তাড়াতাড়ি আসিস আজকে ভাইয়া বাড়িতে আসছে ৷”

__”তোর এই ডেভিল ভাইয়াটা ঠিক কে তা এত বছর ধরে ধা জানা আমি, এত বছর ধরে তোদের বাড়িতে যাচ্ছি তবুও তোর ভাইয়াকে একবার চোখে দেখলাম না , তবে আজকে দেখব ফাইনালি ৷ যার কথা শুনে আমি ক্রাশিত আজ তাকে নিজের চোখে দেখবো , মাজা আগায়া ৷”
সানা মুচকি মুচকি হাসছে আর মনে মনে বলছে,,,,,,
__” দেখিস দেখিস, ক্রাশ কে দেখে চমকের আর শেষ থাকবে না ৷”
সানা চুপ করে আছে তা দেখে আরু সোনা কে ডেকে বলল,,,,,
__” কিরে চুপ করে কি ভাবছিস?”
সান চমকে গিয়ে বললো,,,,,

__” কিছুই না, ভাবছিলাম যে ভাইয়া আজকে অনেকদিন পর বাড়ি আসছে ৷”
__”তা তোর ভাইয়া তোদের সঙ্গে থাকে না কেন?”
ভাইয়া নিজের লাইফটাকে নিজের মত ইনজয় করতে চাই আর তাছাড়া ধানমন্ডির বাসাটা ফাঁকা পড়ে আছে তাই ভাইয়া ওখানেই থাকে ৷”
__”ও আচ্ছা, তা একা থাকে?…”
__”নাহ,ভাইয়ার ফ্রেন্ডরাও থাকে ওর সাথে ৷”
__”ও মাই গড, আমার ক্রাশ আমার এলাকাতেই থাকে আর আমি কিছু জানিই না , হাই ডাফার আই এম ”
সানা ওর কথা শূনে হাসলো এই ভেবে যে সবে তো শুরূ ৷

বাসায় ফিরে একঘন্টা ধরে শাওয়ার নিল আরিশ , শাওয়ার শেষে ওয়ারড্রব থেকে সাদা রংয়ের শার্ট টা বার করে পড়ে নিল আর তার সাথে একটা ডেনিম পরেছে ৷
আজ অনেকদিন পর বাড়ি যাচ্ছি ও, ওর আম্মু আর আব্বুকে প্রায় প্রায় ওকে যেতে বলে তবে সময়ের অভাবে যেয়ে উঠতে পারে না , তাছাড়া ভার্সিটি শেষ হলে অফিসের দেখাশোনা ওকেই করতে হবে তাই একটু বেশিই এনজয় করে নিচ্ছে আরিশ ৷ ওই যে বলেনা __” জিন্দেগি না মিলেগা দুবারা ৷”
চুল থেকৈ এখনো টপটপ করে জল পড়ছে তা হাত দিয়ে সামান্য ঝাড়া দিয়ে ফ্লাক্স থেকে কফিটা কফির মগে নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেল আরিশ ৷

সাহেল আর প্রান্ত দুইজনের কেউ এখনো ফেরেনি৷ সাহেল আর ওর গার্লফ্রেন্ডের আজ প্রেমের একবছর পূর্ণ হলো তাই হয়তো সেলিব্রেট করছে একসাথে ৷আর প্রান্ত ও আজকে একটু ওর বাসায় গেছে, ওর আম্মু একটু অসুস্থ তাই , আর ওর পারিবারিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয় তাই আরিশ ওদের দায়িত্ব নিয়েছে , তাই জন্য প্রান্ত আরিশের কাছে কৃতজ্ঞ,তবে আরিশ এসব বাহবা একদম পছন্দ করে না ৷ আর তুর্য কলেজ থেকে এসেই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে ,এখনো ওঠেনি ৷
কফিটা শেষ করেই বাইকের চাবিটা নিয়ে বেরিয়ে গেল আরিশ ৷

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২