তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ৩ গল্প || Suraiya Aayat

6292

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ৩ পর্ব ১
Suraiya Aayat

বিয়ের আসরে কবুল বলার পূর্বেই জানতে পারলাম আমি অনঃসত্তা ৷ আমার গর্ভে নাকি আরিশ ভাইয়ার সন্তান যিনি আমার ফুপাতো ভাই ৷ ভরা বিয়ে বাড়ির লোকের সামনে একটা অবিবাহিতা মেয়েকে অনঃসত্তা হিসাবে প্রমান করাটা তা যে কতটা লজ্জার আর অপমানের সেটা একটা মেয়ে আজ খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি, নিজেকে মনে হচ্ছে আজ শেষ করি ফেলি ,মিথ্যে এত অপবাদ মেনে নিয়ে এক মূহুর্তও জীবন পার করার কাজটা খুব কষ্টকর ৷ চোখ থেকে আমার টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে কারনটা হয়তো আমার অজানা নয় ৷আত্মীয় সজনদের কটু কথায় নিজেকে শেষ করে ফেলতে ইচ্ছে করছে,তবুও কি মৃত্যুতেও কি এ অপবাদ দূর হবে?

কানে একজনের বলা দুশ্চরিত্রা কথাটা বাজতেই আর সহ্য করতে পারলাম না, আর যাই হোক মেয়ে হয়ে মিথ্যা অপবাদের নিরিখে নিজের গায়ের দুশ্চরিত্রা তকমাটা আমি সহ্য করতে পারবো না, এটাসহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই ৷
না পেরে দৃঢ কন্ঠে বলে উঠলাম
__” আমি দুশ্চরিত্রা নই !”
চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে আমার তবুও হয়তো আজ আর কেউ আমার এই চোখের জলের প্রতি বিশ্বাস আসবে না কারোরই ৷
আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমার হবু বর নামক ব্যাক্তিটাও বলে উঠলো

__” তুমি এমন দুশ্চরিত্রা মেয়ে জানলে কখনোই এই বিয়েতৈ রাজি হতাম না, তাছাড়া দেখে বোঝার উপায় নেই তোমার চরিত্রটা কেমন ৷ তুমি কেমন তা আজ সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে গেল ৷ আমি তো বিয়ে করবোই না আর কেউ যদি তোমাকে বিয়ে করার কথা ভাবে তাহলে তাকে সাবধান করে দেবো যে তোমার চরিত্রের আসল রুপ টা জানিয়ে,দরকার হলে শহরের অলিগলিতে পোষ্টার লাগিয়ে দেবো যে তোমার মতো দুশ্চরিত্রা মেয়ে হয়তে সাবধান ৷”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

কথা গুলো যেন বুকের মাঝে তিরের মতো বিধছে,ইচ্ছা করছে সপাটে তার গালে দুটো চড় বসিয়ে দিই কিন্ত চেয়েও পারছি না কারন আমি যে নিরুপায় , কোন প্রমান নেই যে আমি কোন খারাপ কাজ করিনি ৷
নিজেকে প্রমান করার শেষ চেষ্টা টুকু থো করা যেতেই পারে তাই কোনকিছু আর না .ভেবে জোরগলাই সকলকে বললাম,,,,
__” প্রেগনেন্সি কিট দিয়ে টেস্ট করলেই তো প্রমান হয়ে যাই যে আমি সত্তি বলছি নাকি মিথ্যা বলছি ৷”
আমার কথা শেষ হতে না হতেই ছেলেটির মা বলে উঠলো,,,,

__” দুশচরিত্রা মেয়ে হয়ে কি আর সত্তের প্রমান দেওয়া যাই, আর তুমি কি ভাবলে এতকিছু জানার পরও আমার ছেলে তোমাকে বিয়ে করবে ? কখনো নয় , আমরা এক্ষুনি এখান থেকে চলে যাব , এখানে আর এক মুহূর্তও না ৷ কথাটা বলে উনি বরপক্ষর সবাইকে নিয়ে চলে গেলেন ৷
উনার কথাটা শুনে এই মুহূর্তে আরূ ভেঙ্গে পড়ল না কারণ সকলের মন থেকে সবার ভাবনাটা ও কিছুতেই মুছে ফেলতে পারবে, একবার যখন সমাজে কলঙ্কিতর তকমাটা ওর গায়ে লেগেছে তখন তা এত সহজে মুক্তি পাবে না , কিন্তু ওর নিজের কাছে নিজে যেন অপরাধী না হয়ে থাকে সে কারণে ওকে এটা প্রমাণ করতেই হবে যে ও কলঙ্কিনি নই আর না ও দুশ্চরিত্রা ৷
আরুর কথার পরিপ্রেক্ষিতে আরুর বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন

__” এই দিন দেখার জন্য তোকে আমি বড় করলাম ? এভাবে সকলের সামনে মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিলি!”
কথাটা শুনে যেন আরুর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল , এই প্রথম আরু ওর বাবাকে কাঁদতে দেখল, ওনার কষ্টের কারণটা শুধুমাত্র যে আরু একাই সেটা বুঝে নিজেকে শেষ করে ফেলতে ইচ্ছে করছে আরুর তবু নিজেকে নির্দোষ প্রমান না করলেই নয় ৷ আরিশের দিকে এক নজর তাকাতেই দেখল ওর মুখে একটা টেডি স্মাইল, এই মূহুর্তে ওর প্রতি ঘৃণা বা রাগ কোনোটা এখন আরুর কাজ করছে না , আর এই মুহূর্তে ওর কিভাবে রিয়্যাক্ট করা উচিত তাও জানেনা, কিন্তু যা হবে পরে দেখা যাবে ৷ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার পরই নিজেকে শেষ করে দেবে আরূ ৷
আরু সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল

__” আপনারা সবাই পাঁচ মিনিট ওয়েট করুন আমি আসছি,,,,”
__” আমিও যাচ্ছি তোর সাথে ৷”(সানা)
আরু আর কিছু বললো না,চুপচাপ চলে গেলো ৷
বিয়ে বাড়ি সম্পূর্ণ থমথমে , দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা বিয়ে বাড়ি না কোন শোকসভা ৷ সকলের মুখে চিন্তার ছাপ,আরুর মা এক কোনায় বসে নীরবে চোখের জল ফেলছেন, আহান মুখে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৷ আরু যে এমন কাজ করবো তা ভাবেনি, আরুর কাজে ও নিজেও লজ্জিত তার সঙ্গে ওর গোটা পরিবার ৷

সবার মাঝখানে একটা মানুষের মনটা কেবলমাত্র চঞ্চল তা হলো আরিশ ,কারন এর পরে যা হতে চলেছে তার জন্য ওর আর তর সইছে না, ব্যস্ততার আর চঞ্চলতার বিভিন্ন ছাপ ওর মুখে ৷ নিজের বিয়ের রেজিস্ট্রির কাগজটা নিজেই হাতে ধরে দাড়িয়ে আছে আর এক জায়গায় দড়িয়ে পা দোলাচ্ছে ৷ আরিশের যেন এক্ষুনি আরুকে বিয়ে করে আরুকে নিয়ে চম্পট হাটা দিতে পারলেই ওর বাজিমাত ৷

হঠাৎ সকলের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে আরিশ বলে উঠলো __” প্রায় 10 মিনিট হয়ে গেল, একটা টেস্ট করতে এতক্ষণ লাগে ? আর মামু তোমার মেয়েকে আসতে বল তাড়াতাড়ি, আম্মু বাসায় অপেক্ষা করছে ওকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে ৷”
সবাই আরিশের দিকে তাকিয়ে আছে , আর ওর এমন হাবভাবে রীতিমতো সবাই অবাক , এমন একটা থমথমে মুহূর্তে ছেলেটা কিভাবে এসব কথা বলতে পারে কেউ বুঝতে পারছে না….
সবাই আরিশের দিকে এমন হাবভাব করে তাকিয়ে আছে দেখে আরিশ নিজের মাথায় ছোট্ট করে একটা চাটি দিল, নিজের মনে মনে বলতে লাগল ,,

__” এরা যে কি করে বুঝবে আমার মনের কষ্ট ! বউকে এতটা কাছে থেকে পেতে এতটা অপেক্ষা করা আর তা একটা ছেলের পক্ষে কতটা কষ্টকর সেটা কি এরা বোঝে না? না জানি এরা জোয়ান বয়সে কিভাবে রোমান্স করেছে, তবে আমি কিন্তু বেশ রোমান্টিক , রোমান্স করে বউয়ের জীবন ত্য৷নাত্য৷না করে ফেলবো না হলে আমার নামও আরিশ খান নই ৷”
কথাগুলো ভাবছে আর মনে মনে মুচকি মুচকি হাসছে আরিশ, সকলের সামনে হাসলে লোকে কি ভাববে তার নেই ঠিক, তবুও ও কখনো কাউকে পরোয়া করেনি , আর আজও করছেনা ৷ বিয়ে করতে এসেছে বিয়ে করে বউ নিয়ে চলে যাবে এটাই ওর প্ল্যান , কিন্তু এত দেরি হলে আর ভালো লাগে আপনারাই বলুন?
(পাঠক গন উওর দিন?)

কিছুক্ষণ পর থমথমে মুখ করে আরু দাঁড়িয়ে রয়েছে আর তার সাথে দাঁড়িয়ে রয়েছে সানা, সানার মুখেও যেন গভীর কালো মেঘের ছায়া নেমে এসেছে ৷ সকলের ভয়টা যেন সত্যি প্রমাণ হওয়ার পথে….
আরুকে দেখে একজন প্রতিবেশী আ নামক আম্মীয় বলে উঠলেন
__” কি রে, গেলি তো বড় মুখ নিয়ে এবার এখন এমন চুপ করে আছিস কেন ? জানতাম ঠিক বড়সড়ই কোন কাণ্ড ঘটিয়ে বসে আছিস ৷ছিঃহ কি বেহায়া মেয়েরে বাবা ৷”
আরূর বাবা মা লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলেছেন, এই মুহূর্তে কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছে না ৷
একজন আত্মীয়র কথাটা শুরুতেই এবার সকল আত্মীয় হূমড়ি খেয়ে পড়লেন আরূর উপরে, সবাই আরূ কে ঝেকে মেকে ধরেছেন , আর উল্টোপাল্টা কটু কথা সুনাতে লাগলেন ৷
সকল কে থামিয়ে দিয়ে আরিশ বলে উঠলো

__” আমি আরূকে বিয়ে করতে চাই , আর যেহেতু ও আমার সন্তানের মা তাই ওর দায়িত্বটাও সম্পূর্ণ আমার , আর ওর দিকে এরপর যেনো এ বিষয়ে কখনো আঙুল না ওঠে , তাহলে এর ফল ভালো হবে না ৷”
আরু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে চোখের জল টাও যেন শুকিয়ে গেছে সময়ের সাথে , নিজের মধ্যে তাপ অনুতাপ কিছুই আর নেই এখন শুধুমাত্র অপেক্ষা করছে নিজের জীবনটাকে শেষ করে দেবার ৷ এভাবে আরো কিছুক্ষন পর চলতে চলতে ওর বিয়েটা হয়ে গেলো আর আরিশ এর সাথে চিরজীবনের মতো আরুর জীবনটা জুড়ে গেল….
বিদায়ের সময় কেউ আরূকে এগিয়ে দিতে আসলো না ৷ আত্মীয়-স্বজনরা সবাই চলে গেছে, ওর বাড়ির লোকরাও একবার ও ওর দিকে ফিরে তাকায় নি, আরুর নিজেরও আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই….

গাড়ি আপন গতিতে চলছে আর আরূ চুপচাপ পাথরের মত আরিশের পাশে বসে আছে , আরিশ ড্রাইভ করছে আর মাঝে মাঝে গুনগুন করে গাইছে ৷ আরিশের প্রতি ঘৃণার অনুভূতিও আসছেনা আরুর, নিজেকে কেমন অনুভূতিহীন একটা মানুষের বলে মনে হচ্ছে ওর ‌৷
গাড়ি আপন গতিতে চলছে আর আরিশ নিস্তব্ধতা কাটিয়ে বলতে শুরু করলো,,,

__” বলেছিলাম না শেষেটাই আমিই জিতবো, এন্ড আই এম সাকসেসফুল , দেখো ৷ বলেছিলাম যে আমার ভালবাসাটাকে মেনে নাও, তুমি ভালোবাসা ফিরিয়ে দিলেও আমি ফিরে যাব না যে করেই হোক তোমাকে আমি কেড়ে নেব আর আমার নিজের করে আমার কাছে বন্দী করবো ৷ কিন্ত তুমি বিশ্বাস করোনি, আজ দেখো তুমি আমার ৷ তুমি বলতে আমি নাকি নেশাগ্রস্ত, তা আমি যে কেমল আমার আরুপাখি নামক নেশাতেই নেশাগ্রস্ত তা হয়তো তুমি মানতে চাওনি ৷”
বলে আরুর হাতটা নিজের হাতের সাথে মুঠিবদ্ধ করে নিয়ে আলতো করে চুমু দিল আরূর হাতে ৷ আরিশ একহাতে ড্রাইভ করছে আর কিছুক্ষন পরপর আরুর হাতে ঠোঁট বুলাচ্ছে ৷

আরিশের প্রতি ওর ঘৃণা লাগছে , একটা মানুষ এতটা খারাপ কিভাবে হতে পারে তা আরু ভাবছে ৷ তার মানে ওর প্রেগনেন্সি পজেটিভ আসার মিথ্যা নাটকটাও আরিশ এর কার্যকলাপ সেটা ও এবার ভালোই বুঝতে পারছে ৷

অনেকক্ষণ হলো একা রুমের মধ্যে বসে আছে আরূ , রুমটা ফুল দিয়ে সাজানো সম্পূর্ণ বাসর ঘরের মতো একটা পরিবেশ , যেন আজকে ওর সাথে আরিসের বিয়েটা হবে সেই ভেবেই পরিকল্পনা মাফিক বাসর ঘরটা সাজানো রয়েছে ৷ আরূরর মাথায় এসমস্ত ভাবনায় আসছে এখন ৷

এ বাড়ীতে পা রেখে অনিকা খানের রিয়াকশনটা যে খুব স্বাভাবিক তা দেখে আরূও বেশ অবাক হয়েছিল তা দেখে, নিজের ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে অনিকা খান কি করে এভাবে চুপ করে থাকতে পারেন সেটা ওর মাথায় আসে নি , তবুও সেই বিষয় নিয়ে এখন আর ভেবে দেখছে না , এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার থেকে নিজের মৃত্যু টা যেন ওর কাছে বড় প্রিয় বলে মনে হচ্ছে ৷
মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার জন্য সামনেই কিছুটা দূরে এগিয়ে গিয়ে ফলের ঝুড়িতে থাকা চাকুটা হাতে নিয়ে হাতে একটা পোচ দিতে গেলেই হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে ভয় পেয়ে হাত থেকে চাকুটা পড়ে গেল ৷ অনেকক্ষণ পরে আরিশ রুমে এসেছে, ওকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে আরিশ কোথায় চলে গিয়ছিল তারপর এখন এল ৷ তাই এই মুহূর্তে অন্তত আরিশকে আশা করে নি ও, তবে আরিশের পোশাকের দিকে চোখটা গেল ৷ আগে গায়ে ছিল হলুদ রঙের পাজ্ঞ৷বী তবে এখন রয়েছে লাল রঙের….

আরিশ বেশ ভালই লক্ষ্য করল যে আরূর হাত থেকে চুরিটা পড়ে গিয়েছে আর তার শব্দটাও বেশ জোরেই হয়েছে ৷ আরিশ একটা স্মাইল দিয়ে আরুর দিকে এগিয়ে যেতেই আরুর সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠলো , এই মুহূর্তে আরিশের প্রতি রাগ আর ঘৃনা দুটোই কাজ করছে ওর, আরিশের ওমন হাসি দেখে আর সহ্য হলো না আরুর, সপাটে একটা চড় বসিয়ে দিল আরিশের গালে ৷ একটা মানুষ যে এতটা জঘন্য হতে পারে তার কাছে এই সামান্য চড়টুকুও শাস্তি হিসাবে খুব ছোট ৷
চড় খেয়ে আরিশ গালে হাত রেখে হো হো করে হাসতে লাগল যেন চড়টা খেয়ে ও খুব মজা পেয়েছে ৷
আরিশের হাসি দেখে আরুর বিরক্ত লাগছে , বিরক্ত হয়ে আরিশকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিস আরুর হাতটা ধরে ঘুরিয়ে ওর নিজের সাথে মিশিয়ে নিল, এই মুহূর্তে আরিশের বুকে আর অরূর পিঠটা ঠেকে আছে , আর আরূর কাধে আরিশের গরম নিস্বাস গুলো পড়ছে ৷
আরিস নেশাগ্রস্থ কন্ঠে বলে উঠলো

__” ভালোবেসে কাছে আসলে কি হয়? তুমি তো আমাকে দূরে ঠেলে ঠেলে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলে বলো সে জন্যই তো এত কাহিনী করে তোমাকে কাঊঊ পাওয়া ৷ ডোন্ট ইউ নো হাউ মাচ আই লাভ ইউ ? কেন এতটা অবুঝের মতো ব্যবহার করো তুমি আরুপাখি বলো ? তুমি কি জানো না তোমাতে আমি কতোটা আসক্ত !”
আরিসের কথা শুনে আরূ আরিশের দিকে ঘুরে আরিশকে একটা ধাক্কা মারতেই আরিশ ফ্লোরে পড়ে গেল , ফ্লোরে পড়ে মেঝের সাথে গড়াগড়ি দিয়ে আরিশ হাসতে লাগলো, তা দেখে আরূ এবার বিরক্ত হয়ে ফ্লোরে থাকা ছুরিটা তুলে আরিশের কাছে গিয়ে আরিশের পাঞ্জাবির কলার ধরে ওর গলায় ছুরিটা চেপে ধরলো ৷

__” অনেক সহ্য করেছি আর নয় , আজ এ পৃথিবীতে হয় আপনি থাকবেন না হয় আমি থাকবো , যে কোন একজন !”
আরিশ আবার হাসতে হাসতে বললো
__” ওকে আমিই চলে যাচ্ছি, তুমি থাকো ৷ আমি তোমাকে খুব হার্ট করেছি তার প্রাপ্য হিসেবে তুমি যা শাস্তি দেবে আমি তাই নেবো, তাতে যদি তুমি আমাকে খুন করো তো আমি কিছু মনে করব না বরং খুশিমনে মেনে নেব যে তোমার হাতে ঘায়েল হয়েছি অন্য কারোর হাতে নয় ৷”
কথাটা শুনে আরুর বিরক্তির মাত্র চরমপর্যায়ে
৷ ও ভেবেছিল হয়তো আরিশ খানিকটা ভয় পাবে কিন্তু তা নয়, আরিশের এমন হাবভাব দেখে এবার বিরক্তিতে হাত থেকে চাকুটা ফেলে দিয়ে দৌড়ে ব্যালকনিতে চলে গেল, আর যাই হোক কাউকে এতো বড়ো শাস্তি ও দিতে পারবে না আর সেই অধিকার ও ওর নেই ৷

আরিশ এবার মেঝে থেকে উঠে পাঞ্জাবির কলার টা সামান্য সামনের দিকে টেনে নিয়ে আরুর কাছে গিয়ে আরুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর হাতের উপর হাত রাখতেই আরু হাতটা ঝটকা মেরে ফেলে দিল ৷ তা দেখে আরিশ গান শুরু করল
__” ও বউ তুমি আমায় কি ভালোবাসো না ?
ও বউ কেনো আমার কাছে আসোনা,
চলো ঝগড়া মারামরি ,ভুলে যাই তাড়াতাড়ি
ইতনা গুস্সা কিউ?
তুমি কেনো এতো বোকা সাজো আমায় একটু বোঝো
শোনোনা আই লাভ ইউ
ও বউ তুমি আমায় কি ভালোবাসোনা
ও বউ কেনো আমার কাছে আসোনা,
ও বউ !”

আরু আরিসের গান শুনে কিছু বলছে না, একইভাবে রয়েছে ৷ চিরকাল আরিশের গানগুলোর ওর বড্ড প্রিয় তবে আজকে আরিশের গান শুনেও ওর মাঝে কোন অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে না , মানুষটার প্রতি একটা অভক্তি চলে এসেছে ওর…..
গান শেষে আরিশ আরুর ঘাঢ়ে মুখ গুজে রইলো,,,আজ অবশেষে আরু ওর ৷ আরূকে পাওয়ার জন্য আরুকে অনেক অপমানিত হতে হয়েছে আর তার দেনাপাওনা গুলো আরিশ সুধে আসলে উষুল করে নিয়েছে আর নেবে ৷
কালকে সকালে হয়তো খবরের কাগজে বড়ো বড়ো অক্ষরে ছাপা হবে বিবাহের আসর ফেরত বরের নিখোঁজ হওয়ার সেই কাহিনী !
কথাটা ভেবে আরিশ একটা ডেভিল smile দিলো ৷

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ৩ পর্ব ২