Home দগ্ধ প্রেমানল দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৬

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৬

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৬
আনায়া আফরিন

ডিনার করে সকলে নিজেদের রুমে গিয়েছে।এরিদ-এরিক আফরিনকে নিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু মিতালি আর সবিতা বেগম নারাজ।তারা কোনভাবেই যেতে দিবে না তাদের।তাই কিছুটা জো*রপুর্বক তাদের রেখে দিয়েছে।ফারাজকেও জো*র করে রেখে দিয়েছে সবিতা বেগম।যদিও আগে এই ফারাজ,আদিল,এরিক কতোবার একজন আরেকজনের বাসায় থেকে হিসেব নেই।আফরিন,রুদ্ভিকা ঘুমাবে আনায়ার রুমে।এরিক-মেহের ঘুমাবে গেস্ট রুমে আর ফারাজ,এরিদ ঘুমাবে আদিলের রুমে।ঘড়ির কাটা প্রায় ১০:২০ এর দিকে।বড়রা নিজেদের রুমে আছে।আর বাড়ির ছেলে-মেয়েরা সকলে ছাদে আছে আপাতত।

আদিলদের ছাদটা একটু সাজানো।আনায়া শৌখিন।সে যেখানে প্রকৃতির সাথে সংযোগ থাকতে পছন্দ করে সেই জায়গাটা সাজায়।এই যেমন ছাদ,তার বারান্দা।বোনের এই ইচ্ছে পুরণের জন্য আদিল আনায়াকে সবকিছু তার মন মতো সাজিয়ে দিয়েছে।আপাতত তারা ছাদের ঠিক মাঝ বরাবর একটি চাঁদর বিছিয়েছে।সবাই গোল হয়ে বসেছে সেখানে।এই বুদ্ধিটা মুলত ফারাজের।কতো বছর পর তারা সকলে একসাথে দেখা করেছে।সেই সুবাদে এই আয়োজন।সাথে কিছু হালকা খাবারও আছে।আনায়ার শরীরে তাপ বেশি সর্বদাই।তার শীতের দিনে অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই ঠান্ডা লাগে আবার গরমের দিনে অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই গরম লাগে।আপাতত সে গুটিশুটি মেরে ভাইয়ের ঠিক পাশটায় বসে আছে।গায়ে একটা পাতলা চাঁদর জড়ানো।চুলগুলো বাতাসে উড়ছে।ফারাজের হঠাৎ চোখ গেলো আনায়ার দিকে।তার মনে হলো আনায়ার বড্ড ঠান্ডা লাগছে।আদিলের অপর পাশে সে বসা ছিলো।নিজের গায়ে জড়ানো শালটা আলতো করে আদিলের পিছন দিয়ে তা গায়ে জড়িয়ে দিলো।আনায়া মনে করলো শালটা আদিল দিয়েছে।তাই বলে উঠলো-

“ধন্যবাদ ভাইয়া!”
আদিলের ধ্যান এতোক্ষণ অন্যদিকে ছিলো।বাকিরা সকলে নিজেদের মধ্যে ব্যস্ত।আদিল জিজ্ঞাসা করলো-
“হঠাৎ ধন্যবাদ দিচ্ছিস যে?”
আনায়ার দৃষ্টি এখন অন্যদিকে নিবদ্ধ।সে এভাবেই বললো-
“শালটা দেওয়ার জন্য।আমার আসলে এতোক্ষণ একটু ঠান্ডা লাগছিলো।!”
আদিল দেখলো আনায়ার শালটা।এই শালটা সেই কিছুক্ষণ আগে ফারাজকে দিয়েছিলো পড়তে।আদিলের আর বুঝতে বাকি রইলো।ফারাজের দিকে তাকাতেই ফারাজ চোখ সরিয়ে নিলো।আদিল কিছু বললো না।ফারাজ সবার মনোযোগ কেড়ে নিয়ে বললো-
“চলো আজ একটা গান গাওয়ার প্রতিযোগিতা করা হোক!”
আদিল বললো-

“এই তোর কি আমাদের কিশোর-কিশোরী মনে হয় যে এই বয়সে এগুলো খেলবো!”
ফারাজ-“গান গাওয়ার জন্য বয়স আবার কে বিবেচনা করে ভাই?এজন্যই তুই সিঙ্গেল।”
এরিক-“আহা আদি ওর যেহুতু এতো শখ জেগেছে গাইতে দে ওকে।আর আমরা তো জানি-ই ওর গানের গলা কত্তো সুন্দর।শুরু কর ফারাজ!”
ফারাজ-“শুন আমি একা গাইবো না।তোরাও গাইবি বুঝেছিস।তোদের দেখলে আমার সন্ন্যাসী মনে হয় মাঝে মাঝে।কী চাপা কষ্ট তোদের আহারে।সবাই গানের মধ্যে উগলে দিস ঠিক আছে।”
আফরিন-“তাহলে তো এটা বড়ই বেদনাদায়ক অনুষ্ঠান হয়ে যাবে ভাইয়া!!
ফারাজ-“এমনিও আমি যেই মানুষ গুলোর সাথে চলাফেরা করছি সবই সে*ণ্টিখোর।বেদনাদায়ক হলেও অবাক হবো না!”

আদিল আড়চোখে দেখলো ফারাজকে।বুঝতে পারলো তাকেই ইঙ্গিত করেছে।ফারাজ চোখ লুকালো।এরিক মেহেরের দিকে তাকালেই দেখতে পেলো মেহের হাতটা নিচু করে ঘষছে।হয়তো ঠান্ডা লাগছে।এরিক ফিসফিসিয়ে বললো-
“হাত স্পর্শ করার অনুমতি আছে রাজনন্দিনী?”
হঠাৎ এমন প্রশ্নে বোকাবনে গেলো মেয়েটা।এরিক মেহেরের এমন চাহনি দেখে হাসলো আলতো করে।আবার জিজ্ঞাসা করলো-
“হাত স্পর্শ করার অনুমতি আছে? ”
মেহের মাথা নাড়ালো হ্যাঁ বোধক।এরিক আলতো করে মেহেরের হাতটা ধরে তার পরনে জ্যাকেটটার ভিতরে রাখলো।আরেকটা হাত ধিরে ঘষটে লাগলো।দুইজন একে অপরের দিকে চেয়ে রইলো!
অন্যদিকে রুদ্ভিকা চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে ছিলো।তার মাথাটা এখনও ফারাজের বলা কথাটায় ভনভন করছে।এরিদ রুদ্ভিকার দিকে খেয়াল করলো।জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছো তুমি রুদ্ভি?”
রুদ্ভিকা এরিদের এই সংক্ষিপ্ত সম্মোধনে একটু অবাক হলো।মাথা নেড়ে বুঝালো সে ঠিক আছে।ফারাজ চেচিয়ে বলে উঠলো-

“এ্যাটেনশন গাইস।চলো আমরা গান গাওয়া শুরু করি।”
আদিলের দিকে তাকিয়ে বললো-
“শোন তোর যা যা অনুভুতি আছে সব এই গানে ঢেলে দিবি বুঝতে পেরেছিস।মনটা হালকা কর!”
আদিল কিছু বললো না।শুরু হলো এরিককে দিয়ে।এরিক মেহেরের দিকে চাইলো।মেহের একটি হাত এখনো এরিকের পকেটে।আরেকটি এরিক ধরে আছে।এরিক গাওয়া ধরলো-

“আমি গোপনে ভালোবেসেছি,
বাড়ি ফেরা পিছিয়েছি!
তোমায় নিয়ে যাবো বলে!”
“একবার এসে দেখো,
এসে বুকে মাথা রেখো!
বুলে দেবো চুলে রেখো হাত!”
এরিক আরো দুটো লাইন গাইলো।সবাই হাত তালি দিয়ে উঠলো।বাতাস বইছে।মেহেরের চুলগুলো উড়ছে।চোখে মুখে এসে পড়ছে চুলগুলো।এরিক আলতো করে সরিয়ে দিলো।মেহেরের মুখে র*ক্তিম আভা দেখা দিলো।ফারাজ মজার ছলে বলে উঠলো-

“আহা পিও আহা আহা আহা!”
এরিক এবার ফারাজের দিকে চাইলো।বললো-
“বোবা হয়ে গেলি নাকি?এমন আহা আহা করছিস কেন?”
ফারাজ মুখ ভেঙচি মেরে বললো-
“তোমাদের কাহিনি দেখলে আমি বোবাই হয়ে যাই বাপু।আহা আহা!”
এবার সময় এলো মেহেরের।মেহের এরিকের কানে ফিসফিসিয়ে বললো-
“আমি এতো মানুষের সামনে কীভাবে গাইবো?”
এরিক মেহেরের হাতটা শক্ত করে ধরলো।বললো-
“আমি আছি পাশে।কেউ তোমাকে জাজ করবে না তুমি তোমার মতো গাও!”
মেহের আশ্বস্ত হলো।তার জীবনে তো এইটাই দরকার ছিলো।একটু আশ্বস্ত করার মানুষ আর বিশ্বস্ত সঙ্গী।পেয়েছেও এমন একজনকে।নরম গলায় মেয়েটা গান শুরু করলো-

“আমার পোড়া কপালে,
আর আমার সন্ধ্যে সকালে,
তুমি কেনো এলে জানিনা এখনো!”
আরো দু’লাইন গাইতেই চোখ দুটো তার চিকচিক করে উঠলো।জলে বোধহয়।এরিকের দিকেই তাকিয়ে ছিলো সে।এরিক মেহেরের যাতে অসস্তি না হয় তাই আগোচরের মেহেরের হাতে একটা টিস্যু ধরিয়ে দিলো।মেহের পানিটুকু মুছে নিলো।তার এই পানি এরিক বাদেও আরেকজন দেখেছে।আদিল।কিন্তু মেহের জানে না।দুইজনের এই চাহনি আদিল আর আনায়া দুইজনই লক্ষ্য করেছে।তাদের বুকটা জ্বলছে ভীষণ।এবার আসলো এরিদের পালা।একবার রুদ্ভিকার দিকে চাইলো।চোখ সরিয়ে গান ধরলো-

“কিছু স্বপ্ন কিছু ইচ্ছে,
এই আমায় টেনে নিচ্ছে-
তোমার কাছে বারে বার!
কেউ না জানুক,
আমি তো জানি-
আমি তোমার!”
চারপাশে করতালি বাজলো।এভাবেই সবাই গাইলো।রুদ্ভিকার পালা আসতেই সে নিম্নস্বরে বললো-
“আমি গাইবো না।আমি উপভোগ করি!”
এদিকে সকলেই জানে রুদ্ভিকা অন্তর্মুখী স্বভাবের।তার জন্য এই জায়গায় বসে গান গাওয়া বিশাল ব্যাপার।তাই কেউ তেমন জোর করলো না।আফরিন “মোহ” গান গাইলো।এবার আসলো আদিলের পালা।সে স্কিপ করলো।আনায়ার পালা আসলো।ফারাজের হাতে গিটার ছিলো।কারো বেলায়ই ফারাজ গিটার বাজায়নি।বাজিয়েছে এরিদ।আনায়ার বেলায় সে নিজে বাজালো।আনায়া ঢোক গিললো।কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে আসছে।এরিকের চাহনি সে উপেক্ষা করেনি।সে আড়চোখে বারবার দেখছিলো।এরিকের নীল চোখগুলো তে ছিলো।মেহেরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।এরিদ হারিয়ে যাচ্ছিলো মেহেরের প্রতি।আর আনায়া হারিয়ে গিয়েছে এরিকের প্রতি।বুক তার ভীষণ জ্বলছে।বিষণ্ণ সুরে গাওয়া শুরু করলো-

“কেনো রোদের মতো হাসলে না?
আমায় ভালোবাসলে না?
আমার কাছে দিন ফুরালেও, আসলে না?
মন কেমনের জন্মদিন,
চুপ করে থাকা কঠিন!”
সকলে হাততালি দিলো।এরিকের খারাপ লাগলো এই বিষণ্ণ সুর।সে জানে এই সুরের পেছনে সেই আছে।ফারাজ অদ্ভুত নয়নে তাকিয়ে রইলো।সে বুঝলো আনায়ার এই গান কার জন্য?এই বিষণ্ণ সুর কার জন্য?ফারাজ বুঝলো বোধহয়।রুদ্ভিকার খারাপ লাগলো।ফিসফিসিয়ে আনমনে বলে উঠলো-

“কি আর আর এই ভালোবাসায় বিশ্বাস করবো আমায়?কেউ কোথাও কিছু পায়নি।মেহের আপু পাইনি আদিল ভাইকে।আদিল ভাই পেয়েও কেন হারালো কেন জানে।আনায়া আপু পাইনি এরিক ভাইকে।আফরিন আপু ভুল মানুষকে ভালোবেসে ভেঙে গেলো।অধরা আপুর চোখেও আমি না পাওয়ার হাহাকার দেখি।তবে এর কি নিশ্চয়তা যে আমি পুর্নতা পাবোই!জীবনের একবার হোচট খেয়েছি। আমি আর ভাঙতে চাইনা।আমার শক্তি নেই আর!”
ফারাজের পালা এলো এবার।ফারাজ আনায়ার দিকে আড়চোখে তাকালো।আনায়ার চোখ টলমল করছে।জলে টলমল করছে।মেয়েটা নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জল আটকানোর।ঢোক গিলছে বারবার।ফারাজ চোখ সরালো।সে নিরুপায়,কি আর করবে?তার সাধ্যে আর কি-ই বা আছে?সে চাইলের এখন দুনিয়ার পরোয়া না করে আনায়াকে বুকে আগলে নিতে পারে।কিন্তু আনায়া?তার হৃদয়ে যে অন্য একজনের বসবাস।সে কি করে অন্যের হৃদয়ে নিজের মাথা রাখবে?ভাবতে ভাবতেই আদিল বলে উঠলো-

“কিরে তুই এমন ধ্যান ধরলি কেন?শুরু কর!তোর তো গানের গলা বেশ সুন্দর।শুরু কর!”
ফারাজ গিটারের সুর তুললো।অতঃপর গান ধরলো-
“এটা গল্প হলেও পারতো,
পাতা একটা-আধটা পড়তাম।
খুব লুকিয়ে মাঝে রাখতাম তাকে!”
জানি আবার আসবে কালকে,
নিয়ে পালকি পালকি ভাবনা-
ফের চলে যাবে করে,
একলা আমাকে!
বোঝেনা সে বোঝেনা,
বোঝেনা সে বোঝেনা!”

ফারাজ থামলো।সকলে যেনো মুগ্ধ হয়ে গেলো।আদিল আর এরিক হাততালি দিলো।তারা জানে ফারাজের গানের গলা যে কাউকেই মুগ্ধ করে দিতে পারে।করতালির আওয়াজে বাকিদের ধ্যান ভাঙতে তারাও তালি দিতে শুরু করলো।এরিক অবাক কণ্ঠে বলে উঠলো-
“ভাইয়ার কাছে শুনেছি তোমার গানের গলা দারুণ,তবে এতো চমৎকার ভাবতে পারিনি!”
আনায়াও বেশ মুগ্ধ হয়েছে।সেও অবাক নয়নে বলে উঠলো-
“ভাইয়া এতো সুন্দর কণ্ঠ দিয়ে তো আপনার একজন সিঙ্গার হওয়া উচিত ছিলো।কি দারুণ!”
ফারাজ তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলো-
“হতে চেয়েছিলাম সিঙ্গার-ই।কিন্তু এই জীবনে আমি যা চেয়েছি তা পেয়ে গিয়েছে এটা অসম্ভব।”
আদিল ফারাজের পিঠে হাত দিয়ে বললো-
“একদিন সব পাবি তুই,যা চাস সব পাবি।আর জীবনের ধর্মই এটা।একটা দিলে আরেকটা নিয়ে যায়!”
ফারাজ হাসলো।মেহের বলে উঠলো-
“এই জায়গায় অধরা বড্ড মিস করছি।ও থাকলে আরো ভালো লাগতো।”

রুদ্ভিকা-“সে থাকতো কিন্তু রাত হয়ে যাচ্ছে আবার মুনতাহাকে খাইয়ে ঘুম পাড়াতে হবে তাই আসতে পারেনি!”
রাত প্রায় বেশ হলো।দুটো নাগাদ বাজবে।সকলে ঘুমানোর জন্য নিজেদের রুমে রওনা দিলো।রুদ্ভিকা,আনায়া আর আফরিন আগে গিয়েছে।তারপর এরিদ,ফারাজ আর আদিল উঠলো নিচে যাওয়ার জন্য।আদিল একবার চোখ বুলালো মেহেরের দিকে।মেহের এরিকের দিকে তাকিয়ে আছে।আদিল মুচকি হাসলো।মেহের নিজেকে গুছিয়ে নেক এটা সে প্রাণপণে চায়।সকলে চলে যেতেই মেহের উঠতে নিলো।বেশ সময়জুড়ে বসে থাকায় তার পা অবশ হয়ে গিয়েছিলো।এরিক দেখলো মেহের এখনো বসে আছে।জিজ্ঞাসা করলো-

“কি হয়েছে তোমার?শরীর খারাপ লাগছে?”
মেহের-“না আসলে আমি আরেকটু থাকতে চাই।আপনি যান আমি।আসছি!”
এরিক-“কি বাতাস দেখেছো রাজনন্দিনী?ঠান্ডা লাগবে তোমার।তোমার থাকতে ইচ্ছে করলে আমিও থাকি।একসাথেই যাবো!”
মেহের হার মানলো।বলে উঠলো-
“পা অবশ হয়ে গিয়েছে বসে থাকায়।আমার হাটতে সময় লাগবে!”
এরিক-“তুমি আমাকে আগে বলবে তো।আমি থাকতে তোমার হাটতে কেন হবে।”
মেহেরকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চট করেই কোলে তুলে নিলো।মেহেরের শরীরই এবার অবশ হয়ে গেলো।
মেহের-“আরে কী করছেন?কেউ দেখে ফেলবে তো!আমি হেটে যেতে পারবো।নিচে কেউ না কেউ তো থাকবেই!”
এরিক-“প্রসঙ্গ যখন তোমার তখন আদ্রিয়ান ইউহান এরিক কারোর পরোয়া করে না।আমার স্ত্রীকে আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
কথাটা বলতে বলতেই সে হাটা শুরু করলো সিড়ি বেয়ে।মেহের লজ্জায় এরিকের বুকে লেপ্টে আছে!

~তিন তলায় আসতেই আদিল দেখলো রুদ্ভিকা অধরার সাথে কথা বলছে।সে অবাক হয়ে গেলো অধরা এখনো সজাগ কেন!এসে জিজ্ঞাসা করলো-
“কি ব্যাপার এখনো ঘুমাওনি তুমি?”
অধরার চোখ গুলো লাল হয়ে আছে।না ঘুমানোর ফলে নাকি অশ্রু ঝরার ফলে আদিল বুঝলো না।বললো-
“ঘুম আসছিলো না আমার।আবার আজ মুনতাহাও অনেকটা দেরিতে ঘুমিয়েছে।আমারও কিছু কাজ ছিলো সেটাই করছিলাম!”
রুদ্ভিকা বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।আদিল অধরাকে বললো-
“ঘুমিয়ে পড়ো রাত হচ্ছে!”
অধরা-“ঘুম না আসলে কি করবো
আদিল ভাই!”
আদিল-“জেগে থাকো।মাঝে মাঝে রাত জাগতে হয়।প্রকৃতি উপভোগ করো!”

অধরা “আচ্ছা” বলে দরজাটা লাগিয়ে দিলো।দরজার আপশটায় দাঁড়িয়ে থাকায় আদিল শুনতে পেলো ওপাশ থেকে ফুপানোর আওয়াজ।ভাবলো জিজ্ঞাসা করবে কিনা।পরে ভাবলো এই রাত করে এইভাবে একটা মেয়ের সাথে কথা বলা মোটেই ঠিক হবে না।আর অধরার সমস্যার মধ্যে সে ঢুকতেও চায় না।সিড়ির দিকে উদ্যোত হতেই দেখতে পেলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য।এরিকের কোলে মেহের কাচুমাচু হয়ে আছে।এরিক কোলে করে নামছে।আদিলের শ্বাসকষ্ট শুরু হলো।আদিল বুঝলো না এটা কোন শ্বাসকষ্ট।নিজের শারীরিক সমস্যার নাকি সামনের দৃশ্যের।আদিল তারা না দেখতে সিড়ি বেয়ে।দ্রুত নিজের ফ্লাটে চলে গেলো।অপরপ্রান্তে অধরা বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো-

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৫

“আপনার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা দেখবো এটা কখনো আশা করিনি,আমি চেয়েছি আপনি সুখী থাকুন,তবে আপনি কেন জ্বলছেন?আপনি আর আমি দুইজনই ধ্বংস হচ্ছি কিন্তু ভিন্ন উপায়ে।আপনি আ*গুনকে আলিঙ্গন করে নিজেকে পু*ড়িয়ে ফেলছেন আর আমি সমুদ্রের গভীরে যেতে পানির অতলে হারিয়ে যাচ্ছি!আপনি জানেন আপনি পু*ড়বেন,আমি জানি আমি সাতার পারিনা।কি অদ্ভুত ভাগ্য আমাদের আদিল ভাই!”

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৭