Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ১৫

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৫

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৫
আশিকা আক্তার সোহাগী

মানুষ পরিস্কার কিনা সেটা বুঝা যায় পায়ের গোড়ালি দেখে আর ঘর পরিস্কার কিনা সেটা বুঝা যায় বাথরুম দেখে।জিয়ানা বাথরুমে ঢুকে হা হয়ে গেছে।বড়লোকদের সবকিছুতেই তার বাড়াবাড়ি মনে হলেও ,নিবিড়দের এই বাড়িতে নিচতলায় কমন বাথরুমে ঢুকে এই প্রথম জিয়ানার বড়লোক হওয়ার শখ হলো। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো কুড়েঘর বানালেও এমন একটা বাথরুম বানাবে।পেটে ভাত থাকুক আর না থাকুক ,শা*লার হেগে হেব্বি আরাম।
জিয়ানা ভালো করে বাথরুমের সব খুটিনাটি দেখে নিলো।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে,শাওয়ারের জায়গাটা ট্রান্সফারেন্স গ্লাস দিয়ে আলাদা করা।এতে করে সারা ওয়াশরুম ভেজা ভেজা ব্যাপারটা নেই।সাদা এন্টিস্লিপ রোবার ফ্লোর ম্যাট বিছানো।শুকনা সুন্দর ফ্লোর। অথচ জিয়ানাদের গরিবী বাথরুম ৩৬৫ দিন ২৪ঘন্টা ভেজা থাকে।
শাওয়ার জোনের পাশে ক্যাবিনেট সিং। সেইপটা একেবারে আনকমন। আবার আরেকপাশে ওয়াল ক্যাবিনেট ,যেটাতে থরে থরে সাদা টাওয়াল সাজানো।তবে একটা কমন জিনিস আছে। সেট হলো মধ্যবিত্তদের মতো একসাথে বাংলা আর ইংলিশ দুই কমডই পাশাপাশি।
বাথরুম থেকে বের হয়ে আর অবাক হলো না।শুধু একটু চেয়ে চেয়ে দেখলো বাড়িটা। বড়লোকের বাথরুম যদি অত সুন্দর হয় ঘর তো মারহাবা হবেই। চাপের কারণে ভদ্রমহিলার সাথে কথা বলা হয়নি। জিয়ানাকে দেখে উনি নিজেই এগিয়ে এসে বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আমি নিবিড়ের মা। তুমি কে?নাম কি তোমার?”
“ওও আসলে আমি কনফিউজড ছিলাম আপনাকে দেখে। কোন ভাবেই ওমন দামড়া ছেলের মা আপনাকে মনে হচ্ছে না। সর্বোচ্চ বড় বোন মানা যায়। আমি আপনাকে আন্টি কোনভাবেই ডাকতে পারবো না। মিসেস মামুন ডাকি?”
বলে অনুমতি না নিয়ে ডায়নিং টেবিলের উপর থেকে একটা আপেল নিলো।হাতে নিয়ে প্যান্টে ঘষে কামড় বসানোর আগে আবার জিজ্ঞেস করলো ,
“খাই?”
মিসেস স্বপ্না মুচকি হেঁসে অনুমতি দিলেন।জিয়ানা আবার জিজ্ঞেস করলো ,
“আর কেউ থাকে না? না মানে এত বড় বাড়ি তো তাই আর কি? সামনের স্পেসে দেখলাম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকজন কিসব মাপামাপি করছে কোন প্রোগ্রাম আছে?”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন মিসেস স্বপ্না।নিবিড় যেমন তার সাথে উঠবস করা মানুষ গুলোও তেমন অদ্ভুত। প্রথমে তো ধরতেই পারেনি এইটা মেয়ে। কথা বলার পর খেয়াল হয়েছে। জিয়ানাকে আর একটু খুতিয়ে দেখে উত্তর দিলেন,
“পরশু বাড়ির বড়ছেলে রাফিন ইসলামের বিয়ে। হঠাৎ করেই ঠিক হয়েছে তাই রাতের বেলা থেকেই কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। তুমি বসো।তোমাকে খেতে দেই কিছু। আমি সত্যি অবাক হয়েছি নিবিড়ের সাথে মেয়ে দেখে।ওর নামে যত বদনামই হোক আমি তো জানি আমার ছেলে কোন মেয়ে মানুষ সহ্য কর‍তে পারে না। ”

এদিকে জিয়ানা রাফিনের বিয়ে কথাটা টুকু শুনেছে শুধু। আপেল খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে জিয়ানার। একে একে দুই মিলিয়ে নিলো।এইজন্যই জিয়ানাকে ফোন মেসেজ দিচ্ছেন না। সারাদিন শেষে এই ধকল টুকু মন মস্তিস্ক কিংবা শরীর আর নিতে চাচ্ছে না। সবাই একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে চাচ্ছে যেনো। খাওয়া আপেলটা টেবলেই রেখে বের হয়ে এলো বাহিরে। মিসেস স্বপ্না এবার আরও অবাক হলো। একবার আপেল আর একবার দরজার দিকে তাকালেন।বড্ড অদ্ভুত মেয়ে। অবশ্য অদ্ভুত না হলে কি এত রাত পর্যন্ত নিবিড়ের যাথে বাইকে ঘুরতে পারে। নিশ্চয়ই বাউন্ডুলে গার্ডিয়ান ছাড়া মেয়ে। ভালো ফ্যামিলির মেয়েরা কখনোই সন্ধ্যার পর বাসা ছাড়ে না।
জিয়ানা আস্তেধীরে পা ফেলে গেটের কাছে এসে দেখে নিবিড় এখনো বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। বিকেলের পর থেকে আশরাফ অসংখ্য বার ফোন দিয়েছে। ব্যাক করবে করবে করেও ভাবলো একেবারে পার্টি অফিসে যেয়ে দেখা করবে।জিয়ানাকে দেখে নিবিড় সোজা হয়ে দাঁড়ালো। ভ্রু হালকা কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো ,

“নাচতে নাচতে গিয়ে এমন মনমরা হয়ে ফিরলে যে?ইজ এভরিথিং ওকে?”
“হ্যাঁ। আপনাদের বাসার দাওয়াত খেতে কি ইনভাইটেশন লাগে?এমনি এমনি ঢুকতে দিবে না? ”
নিবিড়ের ভ্রু আরও একটু ভাজ হয়ে গেলো।
“কিসের দাওয়াত?”
“রাফিন স্যারের বিয়ের দাওয়াত খেতে চাই। খেয়ে দেয়ে হেব্বি ডান্সও করতে চাই।আপনি একটা ইনভাইটেশন কার্ড দিয়েন তো আমাকে।”

স্বাভাবিক ভাবে কথা গুলো বললেও নিবিড়ের কাছে ছন্নছাড়া লাগলো। হেলমেট পড়ে জিয়ানাকে ইশারা করে বসতে।
রাতের অল্প ফাকা রাস্তায় বাইকের গতির কারণে শীতল বাতাসে মন মেজাজ ভালো করে দেয়ার মতো ব্যাপার আছে। কিন্তু জিয়ানার কোন কিছুই অনুভূত হচ্ছে না।

একজন সিভিলিয়ান হয়েও কঠিন রুল রেগুলেশনের লাইফ লিড করতে তার প্রথম প্রথম একদমই ভালো লাগতো না।অন্য মেয়েদের মতো চলতে ফিরতে ইচ্ছা হতো স্কুলের জীবনে।চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত ন্যাড়া হওয়ার জন্য স্কুলে বুলিংয়ের স্বীকার হতো প্রতিদিন।এইজন্য জিয়ানার স্কুলের সংখ্যাও নেহাৎ কম না।শেষে নবম শ্রেনীতে যখন উঠে আর চুল ছিলতে হলো না। চুল ঘাড় সমান বড় হলে যখন দুই একটা ক্লিপ আটকানো যায় ,কি যে ভালো লাগতো। ফ্রেন্ডদের নানা ক্রাশ আর বয়ফ্রেন্ডের গল্প শুনে সেও ফ্যান্টাসিতে ভুগতো। ঠিক তখনই রাফিন তাকে প্রাইভেট শুরু করে। জিয়ানা ভালো স্টুডেন্ট। সাথে অদ্ভুত সব কথাবার্তা বলতো বিদায় রাফিন এক্সট্রা কেয়ার করতো তার। বয়ঃসন্ধী কালটা আসলে ভালোসন্ধী কাল হওয়া উচিত। এই সময়ে কাকে কখন ভালো লেগে যাবে ধুলোয় অন্ধকার।
রাফিনের এই অল্প কেয়ারে জিয়ানার অনুভূতি বেশ আশকারা পেতো। দুই বছর পড়ার পর যখন রাফিনের চাকরি হলো অন্য জেলায় ,সেদিন একটা চিরকুট লিখে দেয় জিয়ানা।
তখন রাফিনের সাথে তারই ব্যাচমেট সানজানার মাখামাখা প্রেম চলে। জিয়ানা বাচ্চা একটা মেয়ে। তাই সেদিন রাফিন ওভার রিয়েক্ট করে ফেলে। আর জিয়ানাকে বলে,

“এমন স্টুপিডের মতো কাজ তুমি করতে পারো আমার ধারণার বাহিরে ছিলো জিয়ানা। নেহাৎই বাচ্চা মেয়ে নাহলে চাপকে সোজা করে দিতাম। আমার রিলেশন আছে তুমি খুব ভালো করেই জানো। তোমার সামনেই আমি সানজানার সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি। নিশ্চয় সেসব শুনে বুঝতে পেরেছো? তারপরও এমন নির্লজ্জতার কোন মানে হয়? ”
জিয়ানা থমকে চেয়ে ছিলো রাফিনের দিকে। এত কঠিন কথাও রাফিন স্যার তাকে বলতে পারে। তবুও কাপাকাপা গলায় প্রশ্ন করেছিলো ,
“আমাকে আপনার একটু ভালো লাগে না স্যার? ”
“না লাগে না। তোমাকে ভালো লাগার বিশেষ কারণ আছে কি? আয়নায় নিজেকে দেখেছো? কোন দিক দিয়ে তোমাকে মেয়েদের মতো লাগে? একদম টম-বয় তুমি। ”

বলে গটগট করে বের হয়ে গিয়েছিলো রাফিন।মাঝখানে ছয় বছর এরপর একেবারে এই ভার্সিটিতে দেখা। আমূল পরিবর্তন রাফিন স্যারের। ততদিনে জিয়ানা নিজের অনুভূতি লুকানো শিখে ফেলেছে। কিশোরী মেয়ে থেকে যুবতী হয়েছে। কিন্তু তার পোশাক-আশাক বা আচার-আচরণের বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তবুও তো রাফিন স্যার নিজেই এগিয়ে এসেছে।ব্রেকাপের কথা শুনে জিয়ানাও মনে মনে কোথায় খুশি হয়েছিলো। তার মেন্টর নিজ পিতার আদেশে আগাতে চেয়েও আগাইনি। ভাগ্যিস আগায়নি। কিন্তু সেদিন যে আগ বাড়িয়ে রাফিন কে বিয়ের কথা বললো। সেটার জন্য লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে তার।

যে একবার ছেড়ে যায় ,সে বারবার যেতে পারে। কারণ ছেড়ে যাওয়া তার অভ্যাস। ভূমন্ডলে এটার চেয়ে আর বড় শিক্ষা কি হতে পারে? জেনেশুনে মনের আবেগকে কে কতটুকু দূরে রাখতে পারে? পারে না। মানব মন মস্তিস্ক পুরাটাই একটা রহস্য। এখানে প্রতিটা শিরা উপশিরা ধমনী সব কিছুই একটা জটিল ফাংশন। মনটা যদি মস্তিস্কের সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের মতে চলতো এত ভোগান্তি মানব প্রজাতির সইতে হতো না।
দুই মিনিট থেকে নিবিড় জিয়ানাদের বাসার সামনে বসে আছে। জিয়ানা মাঝ রাস্তায় এসে নিবিড়ের পিঠে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে। নিবিড়ের হাত কেপে উঠেছিলো তাতে। এখনো ডাকতে পারছে না। আবার নিবিড় চাচ্ছেও না জিয়ানা সরুক।

“মানুষের লালসার শেষ নেই আর অবৈধ সঙ্গম ছাড়া সুখ নেই” এই কথাটা যখন সমাজের এক এবং একমতার বাস্তব তখন জীবননানন্দ মশাই বলেছিলেন “সমাজ আসলে ঘুনে ধরা। “এখানে অতি আবেগীর জায়গা নেই। পুরাটাই বাস্তবতা। আজ এই পরিস্থিতে নিবিড়ের সাথে এই কথাগুলো একদম পূঙ্খানুপুঙ্খ মিলে গেছে। এই যে জিয়ানার সাথে আজ প্রায় সারাদিন কাটালো ,তবুও বিদায় দিতে ইচ্ছা হচ্ছে না।না বলতে ইচ্ছা হচ্ছে সরে যাও মেয়ে। মনে হচ্ছে অনন্তকাল এই মেয়ে এভাবেই মাথা ঠেকিয়ে বসে থাকুক নিবিড়ের পৃষ্ঠে। মন কত লোভী। তাই তো লোকে বলে “বসতে দিলে খাইতে চায় ,খাইতে দিলে শুইতে চায়। ”
হঠাৎ জিয়ানা মাথা উঁচু করে বলে,
“বয়-ইটার কি কাবলিওয়ালা? ”
“প্লে-গার্ল”

“আমি তো ঠিকঠাক একটাও প্রেম করিনি আর আপনি আমাকে প্লে-গার্ল বানিয়ে দিলেন?”
নিবিড়ের চুপ করে থাকা দেখে আবার প্রশ্ন করলো ,
“কাবলিওয়ালা আমি যদি সবাইকে বলে দেই ,আপনি একজন ফেইক। ফেইক গুন্ডা ,ফেইক রে*পিষ্ট ,ফেইক খারাপ মানুষ। এতে কি আপনার বিশেষ ক্ষতি হবে?”
নিবিড় নড়লো না আর না কোন উত্তর দিলো। তাকে বুঝার মতো কেউ কি তাহলে আছে? থাকলেই কি যে মেয়ে অন্যকে আগেই নিজের মন মস্তিস্কে বসিয়ে রেখেছে তার সাথে নিবিড়ের কিসের লেনদেন। বেশ গমগমে গলায় বলে উঠলো ,
“সহ্যের সীমা অনেক আগেই পাড় করে ফেলেছো। এইবার নামো আর তোমার এই খোমা আর কখনোই যেনো আমার চোখের সামনে না পড়ে। ”
জিয়ানা নেমে দাঁড়ালো। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ফুল স্পিডে নিবিড়ের প্রস্থান দেখলো।পায়ের এখন শিরশির একটা ব্যাথা করছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে সেও বাসার দিকে গেলো।

জেনি তাদের বাসার গলির সামনের ফুটপাতে বসে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে। শোকের কান্না নয় ,সুখের কান্না এটা।সজীবের এপয়েন্টম্যান্ট লেটার এসেছে।সেটাও একটা গভমেন্ট ব্যাংক থেকে। ছোট্ট একটা কেক এনেছে দুইজনে মিলে কাটবে কিন্তু জেনির কান্নাই থামছে না।মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিলো কিছুক্ষণ । জেনি ফট করে উঠে সজীবকে জড়িয়ে ধরে। সজীবের শরীরের ৪২০ভোল্টের একটা শকড লাগলো যেনো। এবং মনে হচ্ছে এই দুইটা দেহ আলাদা ছিলো। আজ একদম খাপে খাপে ভাজে ভাজে মিলে একটা কমপ্লিট কাঠামো গঠন হলো যেনো । সজীবের হাত এখনো সোজা হয়ে পড়ে আছে জেনির দুই সাইডে। হঠাৎ একটা বাইকের শব্দে জেনির চৈতন্য ফিরে এলে ছিটকে সরে ,উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
সজীব তাদের মাঝখানের দূরত্ব কমিয়ে এনে আস্তে করে বলে,

“এই যে এক নতুন জ্বালাময়ী অনুভূতির সাথে পরিচিত করালে এখন যে আমার ঘুম হারাম হয়ে যাবে জেনি।আম্মাকে তাহলে দুই একের মাঝেই পাঠাতে হচ্ছে। জ্বালার মলমকে নিয়ে যেতে। ”
জেনি চুপচাপ মাথা নিচু করে রেখেছে। রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে হলেও তাদেরকে তার পিতা মাতা যথেষ্ট স্পেশ দিয়ে রেখেছে। এবং প্রতিনিয়ত মন করিয়ে দেয় ,আমরা তোমাদের বিশ্বাস করি। আর এটা জানিও আমাদের বিশ্বাসের মর্যাদা আমার সন্তানেরা রাখবে।তাই তো এই যুগের চার বছররের সম্পর্ক হয়েও জেনি কখনো সজীবকে হাতটাও ধরতে দেয়নি। যেখানে আজকাল কার সম্পর্কে একমাস এনিভার্সারি উৎযাপনের জন্য বয় ফ্রেন্ডের সাথে রুম ডেটে গিয়ে ,প্রমাণ দিতে হয় মেয়ে তাকে সত্যি বিশ্বাস করে।
সজীব প্রথম প্রথম মাইন্ড করলেও মেনে নিয়েছে। সত্যিই তো হারামের মজা একবার পেলে হালালের দাম কোথায়।

“পরশু শুক্রবার তাহলে আম্মাকে আসতে বলি তোমাদের বাসায়?”
জেনি ঘাড় কাত করে হ্যাঁ বুঝিয়ে ছুটে চললো বাড়ির দিক। আর সজীব তাকিয়ে দেখে তার প্রেয়সীর নতুন লাজুক রুপ। চোখ রাঙানো ,গাল ফুলানো ,বয়সে অনেক ছোট হয়েও শাসন করা এত দিন দেখে এসেছে। আজ দেখলো বিয়ের কথা উঠতেই কেমন মিস্ত্রিদানার মতো শক্ত মেয়ে হঠাৎ মিষ্টি কোমলতা ছড়িয়ে দিলো।
সজীব হাক ছাড়লো ,
“কেকটা তো কেটে যাবা নাকি? আমি তো এতদিন জানতাম তোমাদের বাবা মা জন্মের সময় লজ্জার সফটওয়্যার ইন্সটল করতে ভুলে গিয়েছিলেন। দুই বোনই যা গুন্ডি। ”
জেনি থেমে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফিরে এলো। তারপর হাত থেকে কেক টা নিয়ে খামছা দিয়ে সজীবের মুখে মেখে দিলো। আশেপাশে তাকিয়ে সজীবের মুখ থেকে অল্প জিহবা দিয়ে নিয়ে আবার দৌঁড় লাগালো।
এই দিকে সজীব জমে ক্ষির হয়ে গেছে। তারপর আবার হাক ছেড়ে বলে ,
“পরশু না কালকেই পাঠাবো আম্মাকে। ”

নিবিড় পার্টি অফিসে গিয়ে সরাসরি মামুন ইসলামের রুমে ঢুকে গেলো।উনার বিপি হাই হয়ে গেছে। ঘাড়ে মাথায় আইস সেঁক দিচ্ছেন। পাশে আবার তেতুল গুলানো পানি। হাই বিপি যাদের তাদের এটা প্রাথমিক চিকিৎসা।
মামুন ইসলাম আশরাফ কে সরে যেতে বলল।নিবিড় না বসেই দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো। যা বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন ,
“পরশু রাফিনের বিয়ে।তুমি অবশ্যই উপস্থিত থাকবে। এর যেনো উনিশ-বিশ না হয়। পার্টির ছেলেপেলেদের বলে দিয়ো। ”

“এরজন্য নিশ্চয়ই এতবার কল করেনি আপনার পালতু কু*কুর?” আশরাফের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো নিবিড়।
মামুন ইসলাম একটা ফাইল এগিয়ে দিলো নিবিড়ের দিকে। ফাইলটাকে আঙুল দিয়ে টোকা দিয়ে বলল,
“ঠিক ধরেছো। তোমার এতদিনের ইচ্ছা পূরণ করে দিবো। লাষ্ট এই কাজটা যদি ঠিকঠাক করতে পারো। ”
নিবিড় না কোন বিশেষ আগ্রহ দেখালো আর না ফাইলটা হাতে নিলো। টানটান করে দাঁড়িয়ে সামনের মানুষটাকে বুঝার চেষ্টা করছে।এতবছর কু*কুরের মতো যেটার জন্য খাটিয়ে যাচ্ছে আজ হঠাৎ কি এমন কাজ করতে বলছে ,যার জন্য এত বড় স্যাকরিফাইস।

“আগে কাজটা কি বলুন?”
“ফাইলটা দেখলেই বুঝতে পারবে।”
বলে ফাইল নিবিড়ের দিকে ঢেলে দিলেন। নিবিড় আর কালক্ষেপণ না করে ফাইলটাকে নিয়ে মুখ কঠিন রেখেই দেখে গেলো পুরোটা।
“পারবে?”
“অবশ্যই না। এই কাজ না আমি করবো আর না অন্য কাউকে করতে দিবো।”
“মানে কি বলতে চাও?” ঝুকে প্রাশ্ন করলো মামুন ইসলাম।

“উনারা ফু-আম্মুর আত্মীয়। আর পৃথিবীতে একমাত্র ফু-আম্মুর রিলেটেড জিনিস গুলোকেই নিবিড় পরোয়া করে। উনাদের থেকে আপনার নোংরা হাত একশো গজ দূরে রাখবেন। যদি এমনিতেই মিমাংসা করতে পারেন করবেন। না হলে ছেড়ে দেন এই গদি। আর কত বেদখল করে বসে থাকবেন? নিজের পুরুষত্ব তো কেপে উঠার কথা।”
আশরাফ গিয়ে নিবিড়ের কাঁধে হাত রাখলো। এটাকে রাখা বলে না একপ্রকার চেপেই ধরেছে। যা নিবিড়ের সহ্য হলো না। কষিয়ে একটা থা*প্পড় বসালো তার গালে।তারপর আর একমিনিট না দাঁড়িয়ে হনহন করে চলে আসলো নিবিড়।
আশরাফ গালে হাত দিয়ে, অপমানে লাল হয়ে ,থম মেরে তাকিয়ে আছে মামুন ইসলামের দিকে। মামুন ইসলামের জানা কথা ছিলো। নিবিড়ের যে দূর্বলতা ওই একটাই। তাই তো নীলকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে। তানাহলে শত্রুর রক্তের এই কীটকে পিচ পিচ করে কবেই শকুন দিয়ে খাওয়াতো। সেও তো একজায়গায় বাঁধা। আহা পুরুষ মানুষ। কে বলে তারা অসহায় না। পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী জিনিস হচ্ছে পানি। এই পানি একফোটা ল্যাবে তৈরি করতে লাগে কয়েক কোটি টাকা। অথচ সৃষ্টিকর্তা তা সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছেন। তেমনই পুরুষের অনুভূতিও সহজ।কিন্তু পারতোপক্ষে সবচেয়ে দামী।
তাই যেটা সহজলভ্য পারতোপক্ষে সেটা তৈরি করা কঠিন।

“আশরাফ তাহলে এখন আমাদের হাতই নোংরা করতে হচ্ছে বলো?বিশ্বস্ত কাউকে প্ল্যান অনুযায়ী কাজে লাগাও। এমনভাবে যেনো সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে।”
একটু থেকে টেবিলের উপর থেকে পেপার ওয়েট টা ঘুরিয়ে আবার বললেন,
“আর আপাতত কালো কু*কুর গুলোকে বরখাস্ত করে নিজ দেশে পাঠিয়ে দাও। কন্ট্রোভার্সি এতে থেমে যাবে নিশ্চিত।”

বড় একটা কালো অ্যানাকোন্ডা হা করে গিলতে আসছে জিয়ানাকে। জিয়ানা পেছাতে পেছাতে পেছনের কিছুর সাথে বেজে পড়ে গেলো। মনষ্টারটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে। বিদঘুটে দেখতে ঘা ঘিনঘিন করা এই ক্রিয়েচারকে দেখেই পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে এলো যেনো। মনষ্টারটা যখন একেবারে জিয়ানার কাছহ আর হা করে আছে বিদায় মুখের ভেতরের লালা দেখা যাচ্ছে।আর একটু এগিয়ে আসতেই আম্মু বলে চিল্লিয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। লালচে ড্রিম লাইটে রুমটা মনে হচ্ছে আমাজনের গহীন বন। সবকিছু যেনো হা করে গিলতে আসছে জিয়ানাকে। বার কয়েক আব্বু আম্মু বলে জোরেশোরে চেচিয়ে উঠার পর ধপাৎ করে শুয়ে পড়লো বিছনায়।
আঞ্জুমান আর জিয়াউর হুড়োহুড়ি করে জিয়ানার রুমে ঢুকলো। পায়ে ব্যাথা নিয়ে যখন বাসায় প্রবেশ করলো তখনই শরীরটা বেশ গরম ছিলো।জেনি ,আঞ্জুমান দুইজনই বলল আজ জিয়ানার সাথে তারা থাকুক। কিন্তু কারো কথা শুনলে তো এই মেয়ে। জিয়াউর কপালে হাত দিয়ে আঁতকে উঠলো।

“আঞ্জু অনেক গরম শরীর। তুমি কুসুম গরম পানি আনো। শরীর স্পঞ্জ কর‍তে হবে।আর প্যারাসিটামল এনো একটা। ”
আঞ্জুমান উঠবে বলে একটু নড়েছে ওমনি জিয়ানা আঁচল টেনে ধরে বলে,
“আম্মু আমাকে পেটে নিয়ে কি তুমি ডাবের শাঁস খেয়েছো বেশি বেশি? এমন ডাবের মতো স্মেইল কেন আমার শরীর?”
এমন কাতর অবস্থাতেও এই মেয়ের হেয়ালি যায় না।আঞ্জুমান হাত ছাড়িয়ে হাতের উল্টো পৃষ্ঠে একটা চুমু দিয়ে বলে,

“না রে সোনা। তোকে পেটে নিয়ে কিচ্ছু খেতে পারিনি। তবে তোর বয়স তিন হওয়ার পর থেকে তোর আব্বু নিয়মিত ডাব খাওয়াতো। সাথে সপ্তাহে একদিন ডাবের পানি দিয়ে গোসল করাতো। এইজন্য এতো ফ্রেশ একটা স্কিন তোর। ”
“হয়েছে হয়েছে মা মেয়ের গল্প।যাও ওগুলো আনো। আমি বসছি পাশে।”
এরমাঝেই জিয়ানা হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো। সাথে সাথেই ফ্লোর ভাসিয়ে দিলো বমি করে। পেটে যখন আর অবশিষ্ট একটা দানাও নেই তখনো ওয়াক ওয়াক করেই যাচ্ছে। এবার শুধু পানি পানি লালা বের হচ্ছে। আঞ্জুমান একটা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে বিছানায় শুয়িয়ে দিয়ে দ্রুত রান্নাঘরে গেলো।

জিয়ানার বমি করার শব্দে পাশের রুম থেকে জেনি আর মর্জিনা বেওয়াও চলে এসেছে।জেনি গিয়ে ফ্লোরে বমির উপর টিস্যু বিছিয়ে দেয়া শুরু করলো। মর্জিনা বেওয়া বমি দেখে রুমে না ঢুকেই নাক ছিটকিয়ে বলে উঠলো ,
“এই মাইয়ার কোন কিছুই ঠিক নাই। না শরীর স্বাস্থ্য ,না খাওয়া দাওয়া। আর পোশাক-আশাক দেখলেই তো আমার বমি পায়। এমন পুরুষ রুপী মাইয়া তুমি পাড় করতে পারবা না জিয়া। ”
জিয়াউর খুবই বিরক্ত হলেন। কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। মুরব্বি মানুষ না হলে অবশ্যই উচিত জবাব দেয়া যেতো।
হঠাৎ জিয়ানা অকুল হয়ে কান্না শুরু করলো। জিয়াউরের পেটে মুখ গুজে ফুপিয়ে কেঁদে দিলো। শব্দ হচ্ছে না শুধু কান্নার বেগে থেকে থেকে শরীর কেঁপে উঠছে। জিয়াউর আর জেনি মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো। জিয়ানা অত্যন্ত শক্ত মনের মেয়ে। ছোটবেলাতেও ব্যাথা কিংবা কেউ কিছু বললে সবার আড়ালে কাঁদতো। তারপর যখন একদিন আঞ্জুমান জুনায়েদকে শাসানোর সময় বলেছিলো

“মেয়েদের মতো কাঁদতে নেই। ”
সেদিন ছোট্ট জিয়ানা রিয়েলাইজ করেছিলো ,কান্না আসলে মেয়েদের কাজ। দূর্বল নারী সম্প্রদায় শক্তিতে না পেরে কেঁদে সিমপ্যাথি পেতে চায়।তারপর থেকে টোটালি কান্নাকাটি যে বন্ধ করেছিলো কেউ মারা গেলেও সে কাঁদেনি। এমন কি একবার গ্রামে ঈদ করতে গেলে ,পঁচা শামুকের অর্ধেকটা পায়ে ঢুকে যায়। নিজ হাতে সে শামুক টান দিয়ে ছাড়িয়ে রক্তমাখা পায়ে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে আসে।পুরো রাস্তা রক্তে পায়ের ছাপ দেখে জুনায়েদ সেন্সলেস হয়েছিলো সেদিন।তবুও একফোঁটা চোখের জল পড়েনি।তবে আজ কি শরীর এতটাই খারাপ।
হঠাৎ জিয়াউরের ভেতর আত্মা ছলকে উঠলো। তারা যখন কোন অপারেশনে যেতো , উর্ধতন অফিসারেরা নানা মোটিভেশনাল স্পিচ দিতো। যুদ্ধনীতি নামের নানা গল্প উঠে আসতো সেসব স্পিচে।বিশেষ করে প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব মর্মান্তিক আর দুঃসাহসিক সব ছোট বড় ঘটনা গুলো।

আবার স্রোতের বিপরীত ঘটনা ঘটতো অপারেশনের পরে। সেনাদের মাঝে দেখা দিতো চরম হতাশা আর একাকিত্ব। অনেকেই দীর্ঘসময় যুদ্ধ বিগ্রহ ,রক্ত আর ধ্বংস থেকে নিজ পরিবারের কাছে গিয়ে অল্প মনোমালিন্য কিন্তু ক্ষুদ্র বিষয়ের রেশ ধরে সুই*সাইড এটেম্পড করতো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ ফেরত সেনাদের বলা হয় ভেটেরান।২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় এগারোশ ভেটেরান সেনা আত্ম*হত্যা করে।হিউম্যান সাইকোলজি এন্ড রিসার্চারদের মতে এর প্রধান কারণ ,মানুষ যখন বড় বড় বিপদ কিংবা কষ্ট অনায়াসেই পাড় করে আসে তার হৃদয় থাকে অতি সংবেদনশীল আর নাজুক। তাই হঠাৎ ছোট কোন কারণে সে দিশাহারা আচরণ করে আর আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

জিয়াউর জিয়ানার দিকে তাকালেন।মেয়েকে বড় বড় জিনিসের বিরুদ্ধে লড়াই করা তো শিখিয়েছেন কিন্তু জন্মগত নারী হৃদয়ের কথা একেবারে ভুলে বসে আছেন। যতই চাপিয়ে দিক বাস্তব দুনিয়ার বুঝা। সৃষ্টিকর্তার দেয়া মন মস্তিষ্কের যে নারী সুলভ মায়া মমতা ,জায়া,মা এককথায় নারীস্বত্তা সেটা তো তিনি চাইলেও অস্বীকার করতে পারবেন না।তবে কি মেয়েটা খুব বাজে ভাবে মনে আঘাত পেলো।
জিয়ানা জ্বরের ঘোরে বিড়বিড় করে প্রশ্ন করলো ,

“আব্বু?তারামন বিবি আর কাঁকন বিবি বাংলাদেশের বীর প্রতিক প্রাপ্ত দুইজন মহিলা।গ্রামের আটপৌরে মহিলা একদম।উনারা যদি শাড়ি পড়ে যুদ্ধ করতে পারে আমি কেনো অন্য মেয়েদের মতো পোশাক পড়ে তোমার টার্গেট ফিলাপ করতে পারবো না আব্বু?তাহলে তো আমাকে শুনতে হতো না টম-বয়।”
জিয়াউর এতক্ষণ যে দ্বিধাদ্বন্দে ছিলেন জট করেই যেনো সব একতুড়িতে জিয়ানা সমাধান করে দিলো। উ্নার বদ্ধমূল ধারণা যে পুরোটাই ভুল আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তা অনুধাবন করলেন।বাহিরের পরিবর্তন যতই করো ভেতর আত্মার যে কোন পরিবর্তন হয় না। প্রকৃতি হতে দিবে না। এটা জিয়াউরের কল্পনাতীত ছিলো।

ভালোবাসা বোধটা হচ্ছে একপ্রকার আরাম। মানে যার সাথে কথা বলে আরাম ,যার চেহারা দেখলে আরাম।কারো নোংরা নোংরা কাজ গুলা বিরক্তি নিয়ে সামলানোটাও এক প্রকার আরাম। বেলাশেষে মুভিটাতে বৃদ্ধা বলেছিলেন , বয়সকালে পটির খুব বাজে গন্ধ হয়। একবার ব্যাবহার করার পর সেটা পরিস্কার না করা পর্যন্ত অন্যরা ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু পঞ্চাশ বছর ধরে বৃদ্ধা তার স্বামীর এই পটি করা বাথরুম পরিস্কার করে আসছেন। কারণ এই বিরক্তিকর কাজটাও তার কাছে স্বস্তির। আর স্বস্তি মানেই আরাম। তাই ভালোবাসার মানুষ হচ্ছে এককথায় যার কাছে মন ,শরীর ,মস্তিস্ক,চোখ , কান সহ পঞ্চ ইন্দ্রিয় আরাম পায়।
নিবিড় বাসায় এসেই তিনটা ডিম সেদ্ধ দিয়ে গোসলে ঢুকে গেছে। ঠান্ডা পানিতে শরীরের ক্লান্তি দূর হলেও মন সেই কিছুক্ষণ আগের আরামটা খোঁজে চলেছে। মেদহীন শরীরের চুয়ে পড়া পানি গুলো তার মনের আরাম দিতে পারছে না। একটা বাউন্ডুলে অদ্ভুত মেয়ে ,যার আগাগোড়া পুরোটাই অদ্ভুত। তাকে কেনো নিবিড়ের মনে পড়বে।তবে কি সেও ধ্বংসের দারপ্রান্তে? আস্তে আস্তে আওড়ালো,

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৪

“যুগে যুগে সাময়িক শত্রুদের বসিয়েছি ,নারি,
ভালোবেসে ধ্বংস হয়ে গেছে তারা সব।
এ রকম অন্তহীণ পটভূমিকায় _প্রেমে_
নতুন ঈশ্বরদের বারবার লুপ্ত হতে দেখে
আমারো হৃদয় থেকে তরুলতা হারায়ে গিয়েছে
অথচ নবীন তুমি।
(জীবনানন্দ দাশ )

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৬