নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৯
আশিকা আক্তার সোহাগী
রাতের তীব্রতা বেশি না।অলস কাটা আটের ঘরে।নিবিড় ফ্ল্যাটে ঢুকেই আরও একবার গোসল করে নেয়।জিয়ানা ঝিম মেরে বসে আছে সোফায়।তার মাথায় একটা চমৎকার আইডিয়া এসেছে।নিবিড়কে জ্বালানোর প্লাস এই ফুটবলের মাঠের মতো ফাঁকা ফ্ল্যাটটার একটা গতিও হবে।টিভি ছেড়ে ইউটিউবে যায়।সেখান থেকে সার্চ দিয়ে মৌ কিচেন নামের চ্যানেলে গিয়ে কমেন্টস বক্সে লিখা শুরু করলো।
কিবোর্ড ছাড়া মোবাইল টাইপিং করতেও জিয়ানার অতি বিরক্ত লাগে। সেখানে রিমোট দিয়ে টাইপ করতে তার চারগুণ বেশি বিরক্ত লাগছে।তবুও যোগাযোগের অন্যকোন ওয়ে আপাতত নেই।কারন সামথিং ইজ বেটার দেন নাথিং।
নিবিড় গোসল সেরেই রান্নাঘরে ঢুকে গেলো।জিয়ানা নিজের কাজ শেষ করে রান্নাঘরে এসে দেখে ,নিবিড় প্রফেশনাল শেফের মতো চপিংবোর্ডে ক্যাচক্যাচ করে চা*কু দিয়ে পেয়াজ কাটছে। এবং এই প্রথম জিয়ানার কাছে লাগলো পেয়াজ কাটাও একটা শিল্প।আহা দেখে মনে হচ্ছে আরাম লাগছ কাটতে।
এক স্টোভে একটা ওক তাতে পানি ফুটছে। অপর স্টোভে একটা খালি ফ্রাই প্যান।নিবিড় একটা চা চামচ নিয়ে লবনের কৌটা থেকে হাফ চামচ লবন দিয়ে দিলো গরম পানিতে।সেই চামচ দিয়েই এক চামচ তেলও দিলো।জিয়ানা উঁকিঝুঁকি মেরে দেখে বুঝার চেষ্টা করছে,কি বানাচ্ছে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
ফুটন্ত পানিতে স্প্যাগেটি দিয়ে দিলো।ফ্রাই পেনে অল্প বাটার দিয়ে তাতে পেয়াজ কুচি ,রসুন কুচি দিয়ে অল্প আঁচে ভেজে মাংসের কিমা দিয়ে দিলো এককাপ।কিমার ভেতর ব্ল্যাক পেপার ,সয়াসস ,আর বেশ অনেকটা টমেটো কেচাপ দিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলো। জিয়ানা টুকুটুকু করে দেখে চলেছে নিবিড়ের শৈল্পিক রান্নাবান্নার কার্যক্রম। হাতের কাজে বুঝা যাচ্ছে এইসবে সে অভস্ত্য। কয়েকমিনিট কিমা রান্নার পর আরও কিছু সস টাইপ সিজলিং এড করে। যেগুলার নাম জিয়ানার জানা নেই।এরমাঝে স্প্যাগেটি নামিয়ে স্টেইনারে ঢেলে পানি ঝড়তে দিয়েছে বেসিংয়ে।
প্যানে স্প্যাগেটি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে এতে দুইরকমের চিজ এড করে চিলি ফ্লেক্স দিয়ে স্টোভ অফ করে দেয়।
জিয়ানার ইচ্ছা হলো সল্ট বের মতো একটা কিছু নিয়ে হাত উঁচু করে ডিশটাতে এড করতে।নিবিড় একটা প্লেটে অর্ধেক স্প্যাগেটি নামিয়ে জিয়ানার হাতে দেয়।মাঝখানে এক্টা কাটাচামচ এমন ভাবে গেথে দিলো যেনো সেটা জিয়ানার মাথা।
জিয়ানা দাড়িয়েই একটু মুখে দিয়ে চোখ বড় বড় করে নিবিড়ের দিকে তাকালো।নিবিড় ভাবলেশহীন বেসিং ক্লিনিংয়ে ব্যাস্ত।বাহ ভন্ডনেতা ভালো রান্না পারে দেখি।হাজবেন্ট মেটেরিয়াল আছে।বাহ জিয়ানা তোর একদিকে কপাল ভালোই।মারহাবা।
জিয়ানা মুখ ভরে স্প্যাগেটি মুখে দিয়ে মাথা বাকিয়ে নিবিড়কে দেখছে।এরমাঝে নিবিড়ের ফোন বেজে উঠলো।নিবিড় টিস্যু দিয়ে হাত রাব করতে করতে ফোন রিসিভ করে ব্রু কুচকে বলে ,
-নাম্বার ভুল হয়েছে আমি কিছু অর্ডার করি….
কথা শেষ করার আগেই জিয়ানা ছু মেরে ফোনটা নিয়ে বলে,
-জ্বি হ্যাঁ আমি উনার ওয়াইফ। সব কনফার্ম। কাল পাঠিয়ে দিবেন।কত পার্সেন্ট? ওকে।
নিবিড় কপাল ভাজ করে তাকিয়ে আছে জিয়ানার দিকে।সে ফোন ডিস্কানেক্ট করে ফোন নিজ হাতে রেখে বলে,
-এই নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে সেখানে ৩০%পার্সেন্ট পে-মেন্ট করে দিন। কাল ডেলিভারি।
-ফাজলামী পেয়েছো? এতগুলা ফার্নিচার দিয়ে কি হবে?তাছাড়া তুমি অর্ডার দিলেই বা কি দিয়ে?
-এই ফুটবল মাঠের জন্য। আর এতগুলা না।একটা ডাইনিং ,একটা বেড সাথে বেড সাইট টেবিল ,একটা ড্রেসিং টেবিল আর একটা তেপায়া সহ রাউন্ড মিরর। জিয়ানার কাছে অনেক উপায় আছে। ওইসব আপনি বুঝবেন না।
আসলে নিবিড়ের টিভিটা এন্ড্রয়েড হওয়াই সেটার ইউটিউবে যায়।আর মৌসুমীর ইউটিউব চ্যানেলের প্রথম ভিডিওতে পছন্দের ব্র্যান্ড যে দোকান সেটার প্রয়োজনীয় ফার্নিচারের লিষ্ট লিখে কমেন্টস করেছে।মৌসুমী সেটা দেখে অর্ডার দিয়ে দিয়েছে।
-দুঃখিত আমার বাসায় এত ফার্নিচার আমি এলাউ করছি না।
বলে ফোনটা কেড়ে নিয়ে অন্য একটা বাটিতে বাকি স্প্যাগেটি ঢেলে লক করা সামনের রুমের দিকে আগায়।জিয়ানাও নিজের খাবার তুলে নিবিড়ের পেছন পেছন গিয়ে বলে,
-আমার বাসা মানে? বলুন আমাদের।আর আপনার অনুমতি কে চেয়েছে।শুধু আলগোছে পে মেন্ট করে দিবেন।সংসারে পুরুষদের অত মাতব্বরি খাটে না।
-সংসার?
কপালের সাথে ব্রু ভাজ করে প্রশ্ন করলো। আর একচামচ মুখে দিয়ে মাথা দিয়ে হ্যাঁ বুঝায় জিয়ানা।নিবিড় সোজাসুজি জিয়ানার দিকে ঘুরে বলে,
-আচ্ছা? খুব সংসারী? তাহলে চলো বাসরটা করে সংসারের উদ্ভোদন করি?
জিয়ানা খাবার মুখে বলে,
-চলুন।
-ভেবে বলছো তো?
-হুম।
নিবিড় নিজের বাটিটা সাথে জিয়ানার টাও টি-টেবিলে রেখে জিয়ানাকে ফট করে কোলে উঠিয়ে বেড্ররুমের দিকে যায়।জিয়ানা চেচিয়ে উঠে বলে,
-আরেহ খাওয়া শেষ করতে দেন।দুইদিনে একবেলাও ঠিক করে খেতে দিলেন না।নিবিড় জিয়ানাকে ম্যাট্রেসে বসিয়ে ফটাফট নিজের পাঞ্জাবি খুলে ঢিল মেরে ঝুকে যায় জিয়ানার দিকে।জিয়ানাও মুখটা কাছে এনে ডান ভ্রু নাচায়।নিবিড় আর একটু ঝুকে। জিয়ানার ভেতরে কুন্দল ,অস্বস্তি সব ঘিরে ধরলো।কিন্তু বাহিরে প্রকাশ করলো না।নিবিড় একদম জিয়ানার আইরিশ বরাবর স্থির তাকিয়ে আছে।জিয়ানা জানে নিবিড় তাকে ঘাবড়ানোর জন্য এমন করছে।কিংবা জিয়ানার চোখেমুখে ভয় দেখতে চাচ্ছে।জিয়ানা ভয় পাচ্ছে।তার নারী স্বত্তা পালাতে চাচ্ছে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে।কিন্তু ইগোটা নড়তে দিচ্ছে না।জিয়ানা হেরে যাওয়ার পাত্রী না।যেটা একদিন যাবেই সেটা আকড়ে ধরে বসে থাকার লজিকে জিয়ানা নেই।তবুও নারী আত্মা হাহুতাশ শুরু করেছে যে ভেতরে সেটা হাড়েহাড়ে টের পেলো।ভালোবাসাহীন একটা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ হওয়া একটা মেয়ের কাছে অতি ভারি অনাচার।
অনাচার? আর কি অনাচার হওয়া বাকি আছে জিয়ানার সাথে? না আছে পায়ের তলায় মাটি আর না আছে পার্মানেন্ট একটা ছাদ।গার্জিয়ানহীন এই দুনিয়ায় একটা মেয়ে ছিন্নমূল। এখন নিবিড় যদি তাকে ছিড়ে খেয়েও ফেলে কার কি আসে যায়? কেউ তো খোজও নিতে আসবে না।একটা জড়পিণ্ড ছাড়া সে আর কিছু না এই পৃথিবীতে।তার কোন ভূমিকা নেই।সে থাকা আর না থাকা সমান।
নিবিড় সরে গেলো জিয়ানার উপর থেকে। জিয়ানা স্তম্ভিত হয়ে বসেই আছে।ধ্যান ছুটে নিবিড়ের কথায়,
-অভারথিংকিং করতে হবে না।কিছু করছি না।
জিয়ানা উঠে দাঁড়িয়ে বলে ,
-জানি। আপনার সেই ক্ষমতাও নেই।
হঠাৎ নিবিড়ের চেহারা পাল্টে যায়।ঝড়ের গতিতে এসে জিয়ানার হুডি টানা দিয়ে বুক বরাবর ছিড়ে উন্মক্ত নেকে মুখ ডুবিয়ে দেয়।
ঘটনাটা এত দ্রুত হয়েছে জিয়ানা চমকে যায়।নিবিড় হঠাৎ এমন আক্রমণাত্মক রুপ ধারণ করলো কেনো জিয়ানা বুঝে উঠার আগেই,নিবিড়ের উন্মাদনা বাড়ে।জিয়ানার পায়ের পাতা শিরশির করে উঠে এমন স্পর্শে।শরীর ভার ঠেকে। প্রচন্ড ভারি হাত উঠিয়ে দুইহাত দিয়ে নিবিড়কে ধাক্কায়।কিন্তু একচুল নড়াতে পারে না।
অপরদিকে নিবিড় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে।জিয়ানার হাঁসফাঁস লাগে।মস্তিষ্ক শূন্য শূন্য লাগে।পরক্ষণেই জিয়ানা ঠোঁট কামড়ে অপেক্ষায় মোক্ষম সুযোগের। নিবিড় যখন নেশায় মত্ত ঠিক তখন জিয়ানা নিজের হাটু দিয়ে নিবিড়ের দুই পায়ের মাঝখানে সজোরে আঘাত হানে।নিজের দুই হাত দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে চেপে ধরে কুজো হয়ে নিবিড় আর্তনাদ করে বলে উঠে,
-নিজের এত বড় ক্ষতি কেউ নিজেই করতে পারে?
-মানে? আপনার ওইখানের সাথে আমার কোন লেনদেন নেই।সো আমার কোন ক্ষতি হয়নি।
-ভবিষতে যদি আম্মা ডাক না শুনতে পাও?
-সে এমনিতেও পাবো না।
নিবিড় আবার তেড়ে এলে জিয়ানা কয়েক কদম পিছিয়ে হাত আর পা পজিশনে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।সেটা দেখে নিবিড় বলে,
-ভয় পাচ্ছো? আমি কি পারি আর না পারি আজ তোমাকে দেখাবো।
-ফিজিক্যালি ইনভলভ পশুও পারে।ভালোবাসতে পারবেন?আমি ভালোবাসার কথা বলেছি।
-ভালোবাসা বলতে কিছু নাই।সবকিছুই চাহিদা।মানুষ নিজ স্বার্থ হাসিল করতে এক এক চাহিদার এক এক নাম দিয়েছে।ভাওতাবাজি সব।
নিবিড় কাবার্ড থেকে একটা টাওয়াল বের করে। জিয়ানার দিকে সেটা ছুড়ে মেরে বলতে বলতে রুম থেকে বের হয়ে লক করা রুমে দিকে যায়।
টাওয়াল শরীরে জড়িয়ে জিয়ানা নিবিড়ের পেছন পেছন যেতে যেতে বলে ,
-আমিও যাবো ওই রুমে।
লকে চাবি ডুকিয়ে সেটা খুলতে খুলতে নিবিড় বলে,
-আমি ছাড়া এই রুমে কারো প্রবেশের অনুমতি নেই।
-আপানার অনুমতি কে চেয়েছে?
বলে নিবিড়কে ঠেলে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।নিবিড় জিয়ানার বাহুতে ধরে সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। জিয়ানা আবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
-এত বিরক্ত করছো কেনো? আমার আসল রুপে ফিরে যেতে চাইছি না এই মুহূর্তে। সরো।
-আচ্ছা একটা গেইম খেলবো। যদি আপনি জিতেন তবে আমি যাবো না এই রুমে। আর যদি আমি জিতে যায় তবে যেতে দিতে হবে।
নিবিড় গমগমে গলায় বলে ,
-নো।
-আগেই ভয় পাচ্ছেন।
জিয়ানা তিরস্কার করে জিজ্ঞেস করে।
নিবিড় সোফায় বসে বলে ,
-ওকে। দেন লেটস প্লে পাংজ্ঞা।
জিয়ানা এগিয়ে এসে বসে মুখোমুখি। মুখে তার দুষ্টুমির হাঁসি।
বাম হাত টেবিলের উপর রেখে নিবিড়ের দিকে তাকায়। নিবিড় নিজের বাম হাত পজিশনে নেয়।দুইজনই দুইজনের হাত আকড়ে ধরে পাঙ্গা নেয়ার মতো করে।জিয়ান কাউন্ট শুরু করে “ওয়ান টু থ্রি গো ” নিবিড় হাত স্থির রেখেছে।জিয়ানা প্রেসার দিচ্ছে।
-এমন তুলার মতো হাত চাপ দিলেই তো গলে যাবে।
-হুহ তুলা না কচু?আমাকে চারবছর হ্যান্ড গ্রিপ দিয়ে এক্সারসাইজ করানো হয়েছে।
-আচ্ছা তবুও এই অবস্থা?তাহলে আগে কেমন ছিলো? হাওয়াই মিঠাই?
-বাজে বকা বন্ধ করুন।নাহলে হেরে যাবেন।
জিয়ানা নিবিড়ের হাত নড়ানো তো দূরের কথা কাপাতেও পারছে না।এবং বুঝলো এভাবে হবে না।ডানহাতে ধরা টাওয়ালটা আস্তে করে ছেড়ে দিলো।নিবিড় জিয়ানার কথা শুনে হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-সিরিয়াসলি? আই লাইক ইউর কনফিডেন্স….
নিবিড়ের কথা আটকে গেলো নিজ কন্ঠেই।বেডরুমে লাইট অফ থাকায় তখন হুডি ছিড়লেও তেমন কিছু বুঝা যায়নি।এখন চারপাশের আলোয় জিয়ানার উন্মুক্ত গিবাদেশ হয়ে ভেতরের কালো ছোট্ট পোশাকের একাংশ ,সাথে ফর্সা উদরের অংশ দেখে,নিবিড়ের অন্তরাত্মা শুকিয়ে কাঠ।সবকিছু ছাপিয়ে বিউটিবোনের নিচে কালো কুচকুচে তিলটা নিবিড়কে যেনো মোহাচ্ছন্ন করে ফেললো।পৃথিবী কেন্দ্রীভূত হয়ে যেনো ঘুরছে এই এক বিন্দুতে।চিবুক আর নাকে ঘাম জমতে শুরু করলো।
জিয়ানা ঠিক এই সময়ের অপেক্ষায় ছিলো।হাতে আর একটু প্রেসার দেয়ার সাথে সাথেই নিবিড়ের হাত টেবিলে ঠেকে।নিবিড়ের ধ্যান ভাঙে জিয়ানার হৈ হুল্লোড়ে।টাওয়াল ফ্লোর থেকে নিয়ে নিজেকে পেচিয়ে সে নেঁচে যাচ্ছে।
নিবিড় উঠে দাঁড়িয়ে জিয়ানার দুইগাল একসাথে চেপে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
-চিটার।
জিয়ানা মুখ বিকৃতি করে নিবিড়কে ভেঙ্গিয়ে একই রকম করে বলে “চিটার”
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে ছেড়ে দিয়ে বলে,
-একটা রুমে ঢুকার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করে দিতে পারো? নারী জাতটা আসলেই বিচিত্র।
তারপর সুর চেইঞ্জ করে কঠিন স্বরে বলে ,
-জঘন্য আর বিকৃত মস্তিস্কও।
-আপনি যা খুশি ভাবতে পারেন।সেটা কমপ্লিট আপনার মেন্টালিটি। টান দিয়ে ড্রেস ছিরে উন্মুক্ত করে দিতে পারেন। আর শরীর বের হলে জঘন্য বিকৃত মস্তিস্ক মনে হওয়াটাও নিশ্চয়ই সুস্থ মস্তিস্কের কাজ না? সেসব থাক বাজিতে আমি জিতেছি সো আমাকে এখন ঢুকতে দিতে হবে।
নিবিড় আর কোন শব্দ করলো না। গটগট করে এগিয়ে সেই রুমের দরজার লক খুলে দিয়ে বলে,
-একমিনিট সময়।
জিয়ানা কালক্ষেপণ না করে একপ্রকার দৌঁড়ে ঢুকে যায় সেখানে।এবং বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থেকে স্ক্যান করে নেয় পুরো ঘর।অতি আশ্চর্যজনক ব্যাপার একজন কাঠখোট্টা রাজনৈতিক নেতার ঘরে গাদাগাদা কবিতার দেশি বিদেশি বই।পুরো একটা ওয়াল ক্যাবিনেট করা ,সেটা জুড়ে সব বই।তবে চোখ আটকায় জীবনানন্দ দাশের একই বই চারটাতে।একটা চিকন ,একটা একটু মোটা ,তারপাশেরটা আর একটু মোটা আর শেষেরটা অনেক বেশি মোটা।বুলসেল্ফ থেকে চোখ সরিয়ে অন্যপাশে দেখে ,অনেক রকমের মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট। নরমাল গিটার ,ইলেক্ট্রিক গিটার ,উকুলেলে,আর একটা ইলেক্ট্রিক পিয়ানো।রুমটার মাঝখানে একটা ফোমের সাদা চেয়ার। তার উপর একটা ল্যাপটপ। ব্যাস আর কিছু নেই।একপাশ ওয়াল পুরাটাই থাই গ্লাসের।সামনে বিশাল বিশাল অফহোয়াইট কার্টেইন ঝুলানো।
জিয়ানার দেখার মাঝেই নিবিড় টান দিয়ে রুম থেকে বের করে দিয়ে বলে
-সময় শেষ।
-ওই রুম এবার।
-একটাই কথা ছিলো।
বলে রুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয় জিয়ানার মুখের উপরই।
ক্ষমতার আগে গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে মুখের ফেনা তুলবে আর ক্ষমতা পাওয়ার পর এক একজন হিটলার আর মুসোলিনীর মতো ডিকটেটর। আমাদের এই উপমহাদেশে এই প্রচল আরও বেশি।সবাই যখন ছাত্র রাজনীতি করে এক একজন থাকে লড়াকু সৈনিক।দলপ্রেম আর নেতাপ্রেম এদের থাকে টপ লেবেলের। যার দরুন দেশপ্রেম গোল্লায় গেলেও এদের কিছু যায় আসে না।নেতাকে মেয়ে থেকে ড্রাগস সাথে কাড়ি কাড়ি টাকা সাপ্লাই এরা বিনাবাক্যে দিয়ে যায় ততদিন ক্ষমতা থাকে যতদিন।তবে সবাই এক না। সবার উদ্দেশ্য চেটে বড় হওয়া না ,কেউ কেউ খেটেও বড় হয়।একশোতে পাঁচ পার্সেন্ট এখনো আছে যারা সত্যি সত্যি দেশের কথা ভাবে।তবে তাদের ভাবনা বেশিদূর আগায় না কারণ প্রথম শ্রেনীর রাজনীতিবিদরা আগাতে দেয় না।যেমনটা নিবিড়কেও দেয়া হবে না।
নিবিড়ের প্ল্যান আদোতে উপরের মহলের কেউ কিচ্ছু ধরতে পারেনি।কারণ মেয়ে সাপ্লাই থেকে ড্রাগস সবকিছুর হিসসা নিবিড়রও পায়।পরিবর্তন চোখে পড়ে মাসখানেক আগে থেকে।এবং আজকের বিকেলে নিবিড়ের প্রথম পদক্ষেপ ফাঁস হয় রেজাউল সরকারের কাছে। রেজাউল সরকার চাইলেও নিবিড়কে সরাসরি কিছু করতে পারবে না। কারণ উনার সকল অপকর্মের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিবিড় সব জানে।এমনকি কালোটাকার সকল ব্যবসাও নিবিড়ের নখদর্পনে।
রেজাউল সরকার নিজের কিছু বিশ্বস্ত লোক সাথে নিবিড়ের এককালের বিশ্বস্ত এক সহচরীর সাথে বৈঠকে বসেছেন তিনি।রেজাউল বলে উঠলো ,
-সবাই দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষে আর আমি পোষলাম এনাকন্ডা? এখন কারাক একটা গোপন ইনফরমেশন দে তোরা যেটা শুনে আমার বয়স আজ রাতে পয়ষট্টি থেকে পঁচিশে নেমে আসবে। আর পুরা দুইটা মা**কে একাই খেয়ে ফেলতে পারবো।
ঘর কাপিয়ে হোঁ হোঁ করে হেঁসে উঠলো। যেনো সাক্ষাৎ শয়তান।একজন হাত তুলে বলল,
-স্যার নিবিড়ের আদোতে কোন দূর্বলতা নাই।তবে ওর বউরে প্রথম থেকেই পাহাড়ায় রাখতো।
রেজাউল সোজা হয়ে বসে জিজ্ঞেস করলো ,
-কেন কেন? পাহাড়ায় রাখতো কেন? পরপুরুষের সাথে ফষ্টিনষ্টির ব্যাপার আছে নাকি?
নিবিড়ের ঘনিষ্ঠ যে সে এগিয়ে এসে বলে,
-স্যার ভাইয়ের বউ হেব্বি মাল।ভাই নিজেই সামলাতে পারে না।রাস্তাঘাটে দুইজনের খিস্তি নিজের চোখে বহুবার দেখছি।একজনে গলা টিপে ধরে আর একজনে লা*ত্থি মারে।মূলত পাহাড়া দেয় কারণ বউ হেব্বি সেয়ানা আছে।উনার নিজের কোন বিপদের কারণ হয় কিনা তাছাড়া উনাদেরই পরিবারের মেয়ে।
-বলিস কি? রাস্তাঘাটে নিবিড়ের এলাকায় নিবিড়ের সাথে একটা মাইয়া খিস্তি করে আর নিবিড় এখনো তারে সুহাল তাবিয়াতে রাখছে?
-হ স্যার।কারণ তার বউয়ের মায়ের নামেই ওদের পারিবারিক সকল উইল করা।খালি নিবিড় না নিবিড়ের বাকি দুই ভাইয়েরও নজর আছে এই মাইয়ার উপর।
রেজাউল চড়াক করে উঠে দাঁড়ালো। তারপর দুইহাত উপরে উঠিয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গার মতো করে বলে,
-এখন তো তবে এই পাখিকে আমার হাতে আনার সময় হয়েছে রে।তোরা আমাকে আগে বলিস নাই কেন? এইতো শুধু নিবিড় না পুরা নূর ম্যানসনের শতকোটি টাকার মেশিন।তাই তো বলি নিবিড় যদুমধু কাউকে বিয়ে করে ফেললো। ব্যাপারটা আমার তখন হজম না হলেও এবার বুঝলাম।
-তাইলে স্যার এখন কি করা লাগবে?
-কি আবার খাচা বানা পাখির জন্য উপযুক্ত একটা।আমার একটু টেস্ট করতে হবে কারণ নিবিড়ের টেস্ট কেমন জানতে হবে না?
সবার মুখে হাঁসি থাকলেও একজনের মুখে তিমিরের অন্ধকার।
জিয়ানা নিবিড়ের দরজায় মাথা ঠেকিয়ে বলে ,
-আপনার নাম যে সুখ রেখেছে সে জেনে বুঝেই রেখেছে কমলিওয়ালা।সত্যি বলতে আপনিই একজন প্রকৃত সুখী। আপনার কাউকে ভালো রাখার পায়তারা নাই।কারো কষ্টে বুক ফাঁটে না।কাউকে কখনো ভালোও বাসেন নাই।কারো দায়িত্বের দ্বায় নেই।পরিবারের পিছুটান নেই।তামাম দুনিয়ায় এইসব প্যারার জিনিস থেকে আপনি বহুদূরে।
অপরদিকে আমাকে যে আপনি জঘন্য বিকৃত মস্তিস্ক বললেন।সেটা আসলেই সত্যি।আমার মস্তিস্ক আর হার্ট দুটা দুইমেরু।রাস্তায় পথশিশু দেখলে দূর্বল হার্ট হুহু করে কেঁদে উঠে।মন চাই সারাজীবনের জন্য দায়িত্বের নেই বাচ্চাটার।কিন্তু মস্তিষ্ক বিদ্রুপ করে বলে”অত ঢং তোর কোত্থেকে আসে? এইদেশে প্রায় পাঁচ লাখ পথশিশু আছে।তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের কেউ নেই এমনকি তুইও না।এখান থেকে বাড়ি গিয়ে গান্ডেপিন্ডে গিলবি।এখন তাহলে এত নাখরা কেনো?
একটু থেমে আবার বলা শুরু করে ,
-আমার দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস লোকদের দেখলে ভেতরের আত্মা কেপে উঠে।ফুটপাতে কিংবা ওভারব্রিজে ঘুমানো মানুষ গুলার জন্য অন্তর পুড়ে।পোড়া অন্তর নিয়ে হাসি খেলি ঘুরে বেড়ায়।কারোর এক ইঞ্চি কষ্ট লাগবের ক্ষমতা আমার নেই কাবলিওয়ালা।নিজেকে অতি ক্ষুদ্র নগন্য একটা কিট লাগে ,যখন বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের আপনার পার্টির লোকেরা ভোগ করে।
হাজার কোটি টাকা নিজদের ব্যাংকে জমিয়ে রাখে ,অথচ লক্ষলক্ষ মানুষ একবেলা পেট পুরে খেতে পারে না।
আমি পারি না আমার চারপাশের অসহায় ,এতিম বাচ্চাদের কিংবা ইনভ্যালিড মানুষ গুলাকে সাহায্য করতে। আমার দৌঁড় একেবারে দরজা পর্যন্ত। তাই আমি নিজের জীবনকে উৎস্বর্গ করেছি তাদের এক্সপোজ করতে ,যারা ঠান্ডা ঘরে বসে সকল ভণ্ডামি করে বেড়ায়।
একটা সত্যি কথা আজ বলি।আপনি আপনার যে দুই চ্যালাকে আমার পেছনে রেখেছেন তারা আমার বেশ উপকার করেছে।এমন কিছু জায়গায় আমি যায় যেখানে অত্যাধিক সুনসান ,জনমানবহীন।কিন্তু তারা পেছনে আছে যেনে স্বস্তি পেতাম।এইজন্য একটা থ্যাংকু আপনাকে।
নিবিড়ও অপরপাশের দরজায় হেলান দিয়ে বসে আছে। মুচকি হাঁসলো জিয়ানার কথায়।এখন কোন কথা বলা শোভন নয়।তোতা পাখির মতো সব নিজে থেকেই বলছে যখন বলুক। নিবিড়ের ওবজার্ভিং প্লাস লিসেনিং পাওয়ার অন্য লেবেলের।সামনের মানুষটা তার সাথে কত পার্সেন্ট সত্যি কথা বলছে সেটা সে চট করে ধরতে পারে।এখন পর্যন্ত জিয়ানাই একমাত্র যে তার সাথে কথা বলার সময় না মিথ্যা আর না কিছু লুকিয়েছে।
জিয়ানা আবার বলা শুরু করলো ,
-আর একটা সত্যি কথা বলি,আমি এই এলাকায় এসে সবার আগে আপনাকে ওবজার্ভ করেছি। এবং সব মাথাদের লিষ্ট আপনাকে অনুসরণ করেই পেয়েছি।এমন কি এটাও জেনেছি আম্মু কোথায়। শুরু থেকেই আমি আপনাকে ঘৃণা করতে পারিনি। কারণ আপনি তেইশটা মেয়েকে পতিতালয় থেকে সরিয়ে ভালো জীবন দিয়েছেন।এটা নিয়ে আমি একটা ডকুমেন্টস তৈরি করেছি।যদিও ক্যামেরা খারাপ তবুও মানান সই।আমার সাইকেলটা যদি আপনার হাতে থাকে সেটার হেন্ডেলের ফাপা জায়গায় একটা পেনড্রাইভ রাখা আছে।সেখানে আপনার আরও কিছু গোপন কিন্তু উপকারী কাজের প্রমাণ আছে।তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কেসটার ইনফর্মার আমি ছিলাম না। আপনার কাছের কেউ ছিলো।এবং সে নিজেও সিক্রেট ইনফর্মার। হইতো আপনার ক্লাবের কেউই।
আমি আদালতে আপনার হয়ে সাক্ষী দিয়ে জীবনের প্রথম বোকামিটা করেছি জানেন?ভেবেছি গোপনে হলেও অনেকের উপকার করছেন আপনাকে এই সমাজের প্রয়োজন।তাছাড়া আমার পরিবারের আর্থিক উপকার করেছেন অনেক।আমাকে টিউশনি পাইয়ে দিয়েছেন প্রথম থেকেই।এই এলাকায় আমার পোশাকের জন্য কেউ পড়াতে আগ্রহী হয়নি।হঠাৎ করে তিনটা টিউশনি পেয়ে আমি প্রথমে খুশী হলেও পরে বের করতে পেরেছিলাম যে আপনার জন্য সম্ভব হয়েছে ।আপনার ঋণ তো আমার কাছে পাহাড় সমান।তাই নিজের সম্মানের কথা না বিবেচনা করে আদালতে সেই ছিলি সাক্ষী দেই।যদিও আমার এতে কিছু যায় আসে না।তখন আপনাকে মুক্ত করার জন্য মনে হয়েছে আমার সম্মান থাকা না সমান কথা।
শুনছেন আমার কথা? এরপর আপনার সাথে আর কখনো কথা বলার নিরিবিলি পরিবেশ পাবো কিনা জানি না। এই কথা গুলা মনে হলো বলা উচিত আপনাকে।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে জিয়ানা।নিবিড়ের উত্তরের আশায়।মিনিট খানেক পর নিবিড় সাড়া দেয়।বলে,
-গো এহেড।
-আমাদের বিয়ে হয়ে গেলে গুনেগুনে চল্লিশ মিনিট ধরে আমি স্বীদ্ধান্ত নেই ,আপনার লোকদেখানো নীতিহীন দুনিয়ায় নীতির আলো হয়ে উঠবো।যেটা আপনি নিভিয়ে রেখেছেন সেটা জ্বালাবো। আপনার সুখ নামের তাৎপর্য রক্ষা করবো।আমি কখনোই জোকের মাথায় স্বীদ্ধান্ত নেই না। তবে সময় নেই।বিয়ের পর চল্লিশ মিনিট সময় নিয়েছিলাম।
আমি আপনার উপর আশা করছি না ,ভরসাও না। তবে আমাদের সম্পর্ককে আমি কখনই গুরুত্বহীন ভাবিনি।আমি আপনার জন্য কোন ক্ষতির কারণ হবো না সুখ। আমাকে যদি আপনি এই ভয়ে আটকিয়ে রাখেন তবে বলবো ,আমাকে মেরে ফেলুন।তবুও আমার স্বাধীনতা হরন করবেন না।তাছাড়া আমি যে নিউজ এজেন্সির সিক্রেট ইনফর্মার। তারা যদি আমার সাথে বাহাত্তর ঘন্টা যোগাযোগ করতে না পারে এখানে এসে ঠিকই আমাকে নিয়ে যাবে।তখন তাদের কাছে আমার নজরবন্দী হয়ে থাকা লাগবে।প্লাস কন্ট্রাক ব্রেক করার জন্য নানা ঝামেলা পোহাতে হবে।বুঝেছেন?
ফট করে দরজা খুলে গেলে জিয়ানা হেলে পড়তে পড়তে বেঁচে যায়।সোজা হয়ে বসার আগেই নিবিড় তার সম্মুখে হাটু গেড়ে বসে বলে,
-তোমার এজেন্সির ব্যাপারটা আমি দেখবো।সেটা নিয়ে তোমার মাথা ঘামাতে হবে না।তোমার লাইফ রিস্ক আছে। লাষ্ট তুমি যাদের এক্সপোজ করেছো তারা যদু মদু কেউ না।ইন্টারন্যাশনাল চক্র তারা।তারা এই দেশে বিরাট মোটিভ নিয়ে এসেছে।তাদের সাধ দিয়েছে এই দেশের টপ লেভের কিছু মানুষ। তাই আপাতত তোমাকে না চাইতেও এখানে থাকতে হবে।আর আমি নিজেই কারো কাছে ঋণ রাখি না।সময় মতো সব নিয়ে নেই।
আর আমি তোমার হাজবেন্ড যেহেতু তুমি চাইলেও তুমি আমার রেস্পন্সিবিলিটি না চাইলেও।আমি আমার দ্বায়িত্বে কখনো হেলাফেলা করি না।সাথে আর একটা কথা তুমি তখন আমাকে ভুল কিস দিয়েছো।ফ্রেন্স কিস কিভাবে দেয় জানো?
জিয়ানা সোজা হয়ে বসে বলে,
-কিস তো কিসই ফ্রান্স আমেরিকা আবার কি? আমি তো সব সময় এইভাবেই দেই সবাইকে।
-সবাইকে মানে? এ্যাই কতজনকে তুমি কিস করেছো?
নিবিড় জিয়ানার চিবুক চেপে ধরে রাগে প্রশ্ন করে।জিয়ানা নিজেও নিবিড়ের চিবুক একই ভাবে চেপে ধরে বলে,
-যত বাচ্চা সামনে পাই সবাইকেই।
চিবুক ধরে থাকায় ঠোঁট দুটো মাছের মতো পাউট হয়ে আছে জিয়ানার।সেই অবস্থাতেই নাড়িয়ে কথা বলায় নিবিড়ের নজর কেন্দ্রীভূত হয় জিয়ানার ঠোঁটের উপর।গোলাপি ঠোঁট চাপে লাল বর্ণ ধারণ করেছে।নিবিড় জিহবা বের করে নিজের ঠোঁট ভিজায়।শুকনো ঢুক গিলে একবার। তারপর চিবুক ছেড়ে জিয়ানার ঘাড়ে চেপে ধরে সামনে টান মেরে নিজ দখলে নেই জিয়ানার ছোট্ট পুষ্প পল্লবের মতো ওষ্ঠাধর।
নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৮
সদ্য খাওয়া স্প্যাগেটির টেস্টের সাথে পুরুষালী ওষ্ঠ আর অধরের আক্রমণে জিয়ানার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।তার চারপাশ ঘুরছে মনে হচ্ছে। নিবিড়ের ছোয়াতে না আছে কোন রূঢ়তা না আছে আত্যাচার।প্রতিবার পরম যত্নে ছুঁয়ে দিচ্ছে জিয়ানাকে।নিবিড়ের শ্বাস প্রশ্বাস আছড়ে পড়ছে জিয়ানার মুখের উপর।জিয়ানার মাথা ঝিমঝিমানি শুরু করে। শিরা উপশিরায় কুন্দল সাথে হার্টে ব্লাড সার্কুলেশন উচ্চ। নিউরন গুলো নেতিয়ে পড়েছে।কতক্ষণ চললো নিবিড়ের আদুরে স্পর্শ জিয়ানার জানা নেই।তার কাছে লাগলো সময় থেমে গেছে। কেমন নার্ভাসনেস ঘিরে ধরেছে শরীরে।সামনে সব হলুদ। তারপর ব্ল্যাংক।
ঠিক মতো না খেয়ে হিমোগ্লোবিন আর বিপি ফল করেছে।তাই জিয়ানা ঢলে পড়লো নিবিড়ের উন্মুক্ত বুকে।
