Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৬০

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬০

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬০
আশিকা আক্তার সোহাগী

লাইবেরিয়ার একজন নরপশু নাম চার্লস ম্যাকআর্থার টেলর। যে ছিলো প্রেসিডেন্ট পদপার্থী ।তার একটা প্রচারণায় পাঞ্চলাইন ছিলো “ইউ ক্যান কিল মাই মা ,ইউ ক্যান কিল মাই পা ,বাট আই উইল ভোট ইউ” অদ্ভুত এই স্লোগানটা শুধু স্লোগান না।একটা জাতির করুন নিদর্শন। লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর সুত্র।নয় দশ বছরের ছেলেদের মাদকাসক্ত করে তাদের দিয়ে বানানো সবচেয়ে কুখ্যাত একটা সন্ত্রাসী গ্রুপ।যাদের প্রথম স্টেপ ছিলো নিজ পরিবারকে নিজের হাতে হত্যা করা এবং মা বোনকে রে*প করে খুন করা।এদের মস্তিস্কে মাদক এমন ভাবে ঢুকানো হয় যেনো এক একজন জীবন্ত নরুপশুতে পরিনত হয়। আর আমাদের রাজনীতিবিদ গন ঠিক সেই পথেই সীমিত আকারে হাটেন।দলের কর্মীদের মাদক থেকে শুরু করে যত প্রকার অনৈতিক কাজের সেল্টার দেন বড় বড় নেতারা।নিবিড় এর বহির্ভূত না।একটা গ্রুপ রাজনীতিতে যোগ দেয় শুধু ড্রাগসের জন্যই।

নিবিড়ের ক্লাবের এইট্টি পার্সেন্ট স্টুডেন্ট ড্রাগ এডিক্টেড ছিলো।মাস পাঁচেক আগে হঠাৎ তার বোধ হলো এইসব ছাইপাস আসলে কোন নেশায় না।আসল নেশা হচ্ছে মানুষের নেশা।একজন ব্যাক্তিগত মানুষের নেশার চেয়ে বড় কোন নেশা দুনিয়াতে নেই।তাই তার এইসব ফালতু নেশা ছাড়তে দুই মিনিট লাগেনি।একজন লিডারের একটা বড় পদক্ষেপই পারে পুরা দলের পরিবর্তন করতে।নিবিড়ের জন্য তার ক্লাবের ফিফটি পার্সেন্ট ছেলেপেলে নেশা ছেড়েছে।বাকিরা লুকিয়ে চুকিয়ে খায়।তবে সাপ্লাই করে দলেরই কিছু উঠতি নেতা কম ব্যাবসায়ী বেশি লোকেরা।নিবিড় জানে তাদের কথা।সবাইকে তো আর বাগড়া দিয়ে রাজনীতির মাঠে থাকা যাবে না।তাই বিশেষ ঘাটেনি তাদের।
বেশ কয়েকটা নিউজে ঘটা করে রান্না হয়েছে নিবিড়ের মাদকাসক্ত নিয়ে আর্টিকেল আর দুইটা বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে এটা বেশ উত্তেজনা নিয়ে টকশো করা হচ্ছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

নিবিড় এইসব অবশ্য এখনো জানে না। সে শপিং মলে ব্যাস্ত আপনা বিবিকে পাহারা দিতে। নিবিড় ভেবে পায় না জিয়ানা আসলে কি ধাতুর তৈরি।এত চটপটে আর দুরন্ত কেউ হতে পারে কিভাবে? হাটে কম দৌঁড়ায় বেশি। এই পাশাপাশি হাটছিলো মুহুর্তেই ফুড়ুৎ করে বাচ্চাদের দিকে চলে গেলো।
উম্মে কুলসুম ,মাইমুনা ,রেবেকা আর লতা ছাড়া বাকি সবাই এসেছে।ফারহানা বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বের হলে জিয়ানা এককথায় তাকে আটকে দেয়” সে যতদিন এই বাড়িতে আছে ,সবাইকেই ততদিন বাধ্যতামূলক থাকতেই হবে। ”

তারপর ফারহানা ফিজান আর ফাইজা কে বগলদাবা করে এনেছে।
সবাই পরিপাটি ভাবে এলেও জিয়ানা তার চিরচেনা রুপে এসেছে।কালো হুডি আর ডেনিম প্যান্ট সাথে সানক্যাপ আর মাস্ক।নিবিড় দুইবার ক্যাপ টেনে চোখ ঢেকে দিয়েছে বিধায় জিয়ানা এখন তাহানি কে কোলে নিয়ে আক্কাসদের সাথে হাটছে।বাচ্চা গুলার গরীবি বেশভূষার জন্য গার্ডরা প্রথমে ঢুকতে দিতে চায়নি শপিংমলের ভেতরে। নিবিড় গিয়ে ধমক দিয়ে ঢুকিয়েছে।জিয়ানা ভাবে দুনিয়াটা আসলে “শক্তের ভক্ত ,নরমের যম।”সে কত ভদ্রভাবে রিকুয়েষ্ট করেছে কাজ হয়নি।যেই হুংকার ছাড়লো নিবিড় সব কেমন চুপসে গেলো।
পরক্ষণেই তার মনে পড়ে মেহেদীর দেয়া খামটার কথা।প্রচন্ড হিবিজিবি একটা স্কেচ। চারপাশে কতগুলা সমান্তরাল দাগ টানা ,যেগুলার মাঝে আবার অধিকাংশ লাল কালি দিয়ে ক্রস দেয়া।ইংলিশ লেটার দিয়ে এক একটা লাইন চিহ্নিত করা।জিয়ানার দিকে নিবিড় মুচকি হেঁসে বলেছিলো,

-শেষ চেষ্টা করবো জিয়নকাঠি ,একটা শেষ চেষ্টা।
মেহেদী কেলিয়ে ফাটিয়ে দেয়ার পরও কি এমন জিনিস দিলো যেটার জন্য নিবিড়ের এত উৎফুল্লতা?এই কথায় আর তাকানোতে তখন জিয়ানার কাছে লাগে নিবিড় আসলে ভয়াবহ টাইপ পাবলিক।প্রচন্ড বুদ্ধিমান আর ভয়াবহ রাগী এই মানুষটাকে চাইলেও পড়া যায় না।তার ভেতরে কেউ শত চেষ্টা করলেও ঢুকতে পারে না।জিয়ানাও পারবে না।হিমালয় জয় করা সম্ভব কিন্তু এই লোককে না।কিংবা নায়াগ্রা ফলসে ডুব দিয়ে ভেসে উঠা যাবে তবুও এর মনের মাঝে ভাসা যাবে না।কাল রাতে যখন মানুষটার উষ্ণতায় জিয়ানা জাগতিক চেতনার বাহিরে তখনও নিবিড়কে পড়া গেছে।এই যে এখন মনে হচ্ছে আগাগোড়া একটা রহস্য কিংবা পুরাটাই সরল। জিয়ানা চাল হাট বলে নিজের চিন্তা সরিয়ে বর্তমানে মনোযোগী হয়।তারপর তাহানীকে কোল থেকে নামিয়ে হাত ধরে হেঁটে হেঁটে গায়,

প্রিটি লিটিল বেবি
ইউ স্যে দ্যাট মেবি
ইউ উইল বি থিং অফ মি…..
এন্ড ট্রাই টু লাভ মি
প্রিটি লিটিল বেবি
আম হোপিং দ্যাট ইউ ডু…..
ইউ ক্যান আস্ক দা ফ্লাওয়ার
আই সিট ফর আওয়ার
টেলিং অল দ্যা ব্লু বার্ডস
দ্যা বিল এন্ড কো-বার্ডস
প্রিটি লিটিল বেবি
আম সো ইন লাভ উইথ ইউ….

বেবি শপে ঢুকার পর সকল বাচ্চাদের ড্রেস কেনা হয়ে গেলে ফাইজার লেডিস কর্নার থেকে বের হতে দেরি হচ্ছিলো দেখে সবাই অপেক্ষা করতে থাকে।
মেহেদী বাচ্চাদের ড্রেসের বিল দিয়ে লেডিস শপে ডুকে দেখে ফারহানা আর ফাইজা দুই ট্রলি শপিং নিয়ে বিলের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।সেল চলছে শপটাতে।তাই ভীড় উপচে পড়ছে।মেহেদী কি ভেবে একবার বাহিরে তাকায় জিয়ানা ফেইক বক্সিং খেলছে দুইটা পিচ্চির সাথে।চারপাশে প্রতিটা মেয়েই শপিংয়ে ব্যাস্ত অথচ এই মেয়ের সেসবে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।পেছনে নিবিড় পকেটে হাত দিয়ে সটান দাঁড়িয়ে। মেহেদী ঘাড় ঘুরিয়ে সোজা তাকিয়ে মুচকি হাঁসে। নিবিড়ের ম্যান ইগো কোন দিন তাকে স্বীকার করতে দিবে না যে,আধ পাগল একটা মেয়ের প্রেমে সে পড়েছে। কি পরিমাণে পজেসিব নিবিড়ের আচরণে প্রকাশ পায় কিন্তু ইহ জিন্দেগীতে এটা স্বীকার করবে না।
ফাইজার হাতের শপিং ব্যাগ দেখে জিয়ানা চোখ কপালে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করে ,

-তুমি কি আগামী পাঁচ বছরের কেনাকাটা একবারে করেছো?
ফাইজা নাকি সুরে বলে,
-ফ্ল্যাশ সেল চলছে তো ,আপ টু ফিফটি পার্সেন্ট ডিস্কাউন্ট তাই যা পেয়েছি সব নিয়েছি।
ফাইজা কথা বললেই জিয়ানার মনে হয় সুরেলা বাধ্যযন্ত্র বাজছে।নাক চেপে ধরলেই বাঁশি বাজা শুরু করবে।জিয়ানা মুচকি হেঁসে বলে,
-আমার কয়টা প্যান্ট জানো?কেউ জানে না।আমার সর্বকুলে চারটা প্যান্ট। যা আমি সারাবছর ধরে ব্যবহার করি।মানুষ নিজেকে নিজেই বেশি খেয়াল করে। অথচ তোমার কাছে কমছে কম হাজার খানেক ড্রেস।এই ড্রেস গুলা তুমি ছাড়া আর বিশেষ কেউ খেয়াল করে না।অহেতুক ইন্সট্যান্ট খরচ না করে এই টাকা দিয়ে যদি দুইটা অসহায় মানুষের দায়িত্ব নাও। তবে দেখবে রোজ রোজ নতুন জামা পড়ার ফিকে আনন্দের চেয়ে ঝলমলে কত সুখ ময় আনন্দ দুনিয়াতে আছে।
ফাইজা চোখ ঝুকিয়ে ফেলে। না ,লজ্জায় না। নিবিড় ,রাফিন মেহেদী সহ সবার সামনে নিজেকে জাহির করতে গিয়ে চুনা হয়ে যাওয়াই।
নিবিড় এগিয়ে এসে জিয়ানার হাত ধরে সামনে হেঁটে যেতে যেতে বলে ,
-উলু বনে মুক্তা ছড়াতে হবে না।এরা সব আহ্লাদী কিংডম ছাড়া প্রিন্সেস এদের কাছে শপিং করায় একমাত্র সুখ।তোমার মতো এলিয়েন না।

এই শপিং মলে বুফে নেই।তাই সবার জন্য প্রোপার লান্স অর্ডার দিয়ে রাফিন বিল দিচ্ছে।পে ফাষ্ট সিস্টেম। সবাই চেয়ারে বসে খাবারের অপেক্ষায়।
নিবিড়ের ফোন বেজে উঠায় সে সাইডে চলে যায়।ফোন কানে নিয়েই তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে।ফোন কান থেকে নামিয়ে আশেপাশে খুঁজে ঢুকে যায় স্মোক জোনে।একটা সাদা শলাকা ধরিয়ে বিশাল বড় থাই গ্লাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।ছয় তালার শপিংমলের নিচের গাড়ি আর মানুষ গুলা পিপড়ার মতো দেখাচ্ছে।হঠাৎ মুখ থেকে সিগারেট কেউ টেনে নেয়।পাশ ফিরে দেখে মেহেদী সেই সিগারেট নিজের ঠোঁটে গুজে দিয়েছে।মেহেদী একটান দিতেই তার কাছ থেকেও রাফিন কেড়ে নিয়ে নিজে টানা শুরু করে। রাফিন অর্ধেক গলিত জ্বলন্ত শলাকা নিবিড়ের দিকে বাড়িয়ে দেয়।মেহেদী সেটা নিয়ে বলে,

-শা*লা ওসিডি রোগী। হ্যান্ডশেকই করে না আবার বিড়ি শেয়ার করবে?তবে বিড়ি খাওয়া আমরা তোর কাছেই শিখেছি রাফিদা।এমন ভদ্র চেহারা নিয়ে তুই ক্লাস নাইন থেকে এই জিনিস খাওয়া কিভাবে শিখলি?
রাফিন মাথা নিচু করে হাঁসে।তার আসলে সিগারেট জিনিসটা ইন্টারেস্টিং লাগতো।ঝাঁজালো স্বাদের কুন্ডলীত ধোঁয়া খেলে কি হয় জানার ইচ্ছা থেকেই এই পথে।রাফিনের ধ্যান ভাঙে নিবিড়ের কথায়।
নিবিড় সোজা তাকিয়েই বলে,
-শেয়ার জিনিসটা আমার মাঝে নাই।যেটা আমার সেটা আমারই।
রাফিন আবার মেহেদীর হাত থেকে সিগারেট নিয়ে বলে,
-অসুস্থ মস্তিস্ক এর বাহিরে চিন্তা করতে পারে না।
নিবিড় পা বাড়ায় ফিরে আসার জন্য কিন্তু থামে মেহেদীর কথাতে,
-যেটা তোর সেটা তোরই মানলাম।কিন্তু জন্মগত ভাবে আমার সব তোরও। যেমন বাবা মা দাদু দিদা ফুপু আর ফুপুর সন্তান।
নিবিড় ঘাড় বাকিয়ে মেহেদীর দিকে তাকায়।মেহেদী আবার বলে,

-নোংরা পানি পরিস্কার করার পদ্ধতি কি? জানিস?ফ্লোকুলেশন। নোংরা পানিতে ফ্লোকুলেন্ট মিক্সড করলে পানি থেকে সমস্ত নোংরা আলাদা করে দেয় এই ক্যামিকেল।
তারপর নিবিড়ের দিকে মুখোমুখি হয়ে বলে,
-জীবন থেকেও নোংরা মানুষ গুলাকে ফ্লোকুলেশন করা যায় যদি সঠিক ফ্লোকুলেন্ট থাকে।তোর জন্য না ,আমি নীলের জন্য তোকে সাহায্য করতে চাই।নীল আমার জন্য কি ,তুই জানিস?
-নো নিড।
বলে নিবিড় আবার ঘুরে যায়।তখন রাফিন বলে,
-তুই কি ধারণা করছিস নীলুমাসি বেঁচে আছে? এবং নীলের সাথেই আছে? দেখ নিবিড় আমরা জানি তুই বুদ্ধিমান এমন কি আমাদের চেয়ে তোর চিন্তা পাঁচ বছর আগে দৌঁড়ায় কিন্তু কিছু সময় ইউনিটিও প্রয়োজন। আমি আর মেহেদী তোর সাথে যে অন্যায় করেছি সেটার কাফফারা দিতে চাই।
নিবিড় বলে,

-আমি আপাতত রাজনীতি ছাড়া অন্য কোথাও ফোকাস করছি না।
-তুই যে স্বার্থপর সেটা আমি জানি। তবে হুটহাট এভাবে জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়ালেই কি সফল হওয়া যায়?
বলে ব্যাঙ্গ করে মেহেদী।
-একটা গাছ পুতলেই তাতে সাথে সাথেই ফল ধরে না।আমি সেটা জানি।
-তবে কেনো এত পরিশ্রম করছিস?
রাফিন গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে।
-ফ্রেম পাওয়ার জন্য।আমি এবার নির্বাচন শুধু মাত্র পরিচিত হওয়ার জন্যই করছি।জয় আমার লক্ষ্য না।
-সেই জন্যই সমাজসেবার নাটক করছিস? আবার বিনা পয়সায় ক্যাম্পিং করছিস?
মেহেদী এতক্ষণ ধরে চুষা সিগারেটের নিতম্ব বিনে ফেলে দিয়ে জিজ্ঞেস করে।
-যা খুশি ভাব।আর আমার ভাবনা দিয়ে কিচ্ছু আটকে থাকবে না।তবে..
রাফিনের দিকে তাকিয়ে বলে

-তোর বাবাকে ঘাটলেই সব পাওয়া যাবে।সে একজন স্যাটানিজম বিশ্বাসী।
রাফিন নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
-সে অপরাধী বলে তাকে আর কত মিথ্যা অপবাদ দিবি?
নিবিড় যেতে যেতে বলে ,
-তোদের মতো আন্ধা আর খুড়াকে নিয়ে আর যাই হোক নিবিড় কোন দল করবে না।নেভার। ইউনিটি কোন ছেলে খেলা না।হাজার প্রশ্নের উত্তর একটাই ‘বিশ্বাস’।যেটা তোদের মাঝে নেই।

খাবার এখনো সার্ব করেনি। জিয়ানা আক্কাসের মাথায় টোকা দিয়ে বলে,
-তোর আঠারো হলে আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ খতম হয়ে যাবে। বুঝেছিস?
-কেন ওস্তাদ?
-কারন আঠারোর পর তুই ব্যাটা মানুষ। আর ব্যাটা মানুষ মানেই বজ্জাতের বজ্জাত।
-আমি বজ্জাত ছাড়া বেডা হমু ওস্তাদ।
তাহানি পাশ থেকে বলে,
-মামুনি ওরা তোমাকে ওস্তদ বলে কিনু?
নিবিড় তখনই টেবিলে হাত রেখে জিয়ানার দিকে ঝুকে বলে,
-আই হেভ টু গো।কাল সারাদিন ক্লাবে যাইনি তাই ঝামেলা হয়ে গেছে। তুমি শেষ করে সবার সাথে সোজা বাসায় চলে যেয়ো।
-না আমার একটু ভার্সিটি যেতে হবে।তারপর বাসায় যাবো।আমার সাইকেলটাকে এবার দিয়ে দেন প্লিজ?
-সাইকেল আর পাচ্ছো না।অহেতুক জেদ করবে না।আজ যেতে হবে না ভার্সিটি। কাল আমি সাথে করে নিয়ে যাবো। রাতে ফিরতে দেরি হবে। বাই।
বলে ওয়ালেট থেকে কয়েকটা বড় নোট জিয়ানার হাতে দিয়ে হনহন করে পা বাড়ায় বাহিরের দিকে।জিয়ানা হাক ছেড়ে বলে,

-আদর্শ স্বামীর রোল প্লে করছেন দেখি? এই যে শুনোন ওইসব ভং ধরতে হবে না।তবে টাকা দেয়ার জন্য শুকরিয়া। এইভাবে প্রায় প্রায় দিয়েন।
নিবিড় যেতে যেতে মুচকি হেঁসে চুলে ব্যাকব্রাশ করে হাত দিয়ে। দরজার পাশের টেবিলে বসা তিনটা মেয়ে হা করে তাকিয়ে আছে নিবিড়ের দিকে।জিয়ানা তাদের নজর দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বিড়বিড় করে ,লু*চ্চা মাইয়া কত্তগুলা।
জিয়ানার কথা শুনে রাব্বি বলে,
-ছেড়ি গুলার আসলেই চোখ খারাপ। তখন থেকেই ভাইরে দেখতাছে।যাইয়া পানি ঢাইল্লা দিমুনি?
জিয়ানা রাব্বির মাথায় গাট্টা মেরে বলে,

-পানি দিলে কি হবে? মু*ত্তে পারলে যা।
অপরদিকে যখন নিবিড় বের হয় পাশ দিয়ে দুইটা ছেলে বলতে বলতে যাচ্ছিলো,
-আরেহ একটু আগেই দেখলাম গেলো কই?অনেক গুলা বাচ্চা সহ মেয়েটা দাঁড়িয়ে হাঁসছে।একেবারে মাখন মামা ,তুই দেখলেই ফিদা হয়ে যাবি।ভীষণ রকমের সে*এক্সি। দেখেই আমার তো সব…..
বাকি কথা উচ্চারণ করার আগেই নিবিড় টুটি টিপে ধরেই এগিয়ে গেলো স্মোকিং জোনের দিকে।মেহেদী আর রাফিন বের হয়ে মাত্রই এগিয়ে আসছিলো। নিবিড় অন্য একটা ছেলেকে এভাবে ধরে হাটছে দেখে দুইজনই দ্রুত এগিয়ে এসে হেচকা টানে ছাড়িয়ে আনে ছেলেটাকে। ছেলেটার খাবি খাওয়া অবস্থা। পাক্কা দুইমিনিট শ্বাস আটকে ছিলো।ঝুকে কেশে যাচ্ছে।পেছন পেছন অন্য ছেলেটা এগিয়ে এসে নিবিড়ের দিকে তেড়ে যাওয়ার আগেই মেহেদি শার্টের কলার টেনে ধরে বলে,

-আস্তে ছোট ভাই।সমস্যা কি?
-সমস্যা কি এই লোককে জিজ্ঞেস করুন।কথা নেই বার্তা নেই আমার বন্ধুকে টেনে হাটা ধরেছে।
নিবিড় হাত পকেট থেকে টিস্যু বের করে রাব করতে করতে বলে,
-এবার তোর বন্ধুর জবান টেনে ছিড়ে দিবো।কু*ত্তার বাচ্চার কত বড় সাহস কার দিকে নজর দেয়।
এবার রাফিন ঝুকে থাকা ছেলেটার নিতম্বে লাত্থি দিয়ে উপর করে ফেলে দেয়।অন্যছেলেটা বেক্কেল হয়ে হা করে তাকিয়ে আছে। মেহেদী হেঁসে বলে,
-তোদের ভাগ্য কতটা খারাপ দেখ।শান্তি মতো টিজিংটাও করতে পারলি না।নজর এমন জায়গায় দিয়েছিস যেখানে আগে দেখেই বাঘ আর ভাল্লুকের সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত। হরিণ শাবক হয়ে এবার পালা নইতো শ্যাষ।
বলে বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে গলায় টান দিয়ে দেখায়।দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা এবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে শুকনা ঢোক গিলে।শহরের আনাচে কানাচে এই লোকের পোষ্টার। তারমানে ওই মেয়েটা এদের কেউ।কোন প্রতিত্তর না করে পরে যাওয়া ছেলেটাকে টেনে তুলে দ্রুত হাটা ধরে।
এদের যাওয়ার আগেই নিবিড় আবার ফুড কোর্টে ঢুকে জিয়ানাকে টেনে তুলে বলে,

-খাবার পার্সেল করে নাও। তোমাকে বাসায় দিয়ে আমি বের হবো।
জিয়ানা হাত ছাড়িয়ে আবার বসে কপাল কুচকে বলে,
-এই আপনার মাথা ঠিক আছে? যান তো নিজের কাজে যান।আমি আরামছে সবার সাথে খেয়ে ,নানুর জন্য কিছু কিনে তারপর আস্তেধীরে যাবো।
নিবিড় আবার হাত ধরে টেনে তুলে বলে,
-নো। এখানে খেতে হবে না।চারপাশে অনেক বাজে ছেলে। চলো। কুইক।
জিয়ানা চারপাশে তাকিয়ে দেখে সবাই খেতে ব্যাস্ত।ফারহানা মাথা নিচু করে বসে আছে। বাকিরা নিবিড় আর জিয়ানার উঠা বসা দেখছে।মেহেদী পাশের টেবিলে বসতে বসতে বলে,
-তুই অহেতুক চিন্তা করিস এই ঝাসিকি রানিকে নিয়ে।এই এটম বোমের তুই ছাড়া কারো সাধ্য নেই কাছে ঘেষার।তাছাড়া আমরা আছি। তুই যা।
নিবিড় মেহেদীর কথায় একটু ভরসা পেলো। তাই মেহেদীকে আড়চোখে একবার দেখে জিয়ানাকে বলে,

-বেশি তিড়িংতিড়িং করবে না।ভদ্র মেয়ের মতো হাটবা আর অহেতুক হাহা হিহি করবা না।
-হ্যাঁ এখন আপনার কাছে আমার পারমিশন নিয়ে হাঁসতে হবে? ফেরেব্বাজ লোক কোথাকার।
নিবিড় জিয়ানার কানের কাছে গিয়ে বলে,
-যত বেশি হাহাহিহি রাতে তত মার্সিলেস নিবিড়।
জিয়ানা চেয়ার থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিবিড়কে টেনে বসিয়ে লম্বা চুল গুলা এলোমেলো করে দিয়ে বলে,
-যান এইভাবেই ঘুরবেন।এত পাংঙ্কুগিরী দেখানো লাগবে না।আসছে আমার একেমাল শাহমাল।
রাফিন এদের খুনসুটি দেখবে না দেখবে না করেও বারবার তাকায়।আর ফাইজা হা করে তাকিয়ে ভাবছে এটা কোন নিবিড়?

সারা বিকেল বাচ্চাদের সাথে খেলে সন্ধ্যায় ফিরেছে জিয়ানারা।রাফিনের ক্লাস ছিলো সে লান্স করেই বের হয়ে গেছে।মেহেদী সবাইকে পাহারা দিয়ে রেখে সন্ধ্যা বাসায় পৌঁছে দিয়ে বের হয়ে গেছে।অন্যদিন হলে ফারহানা চিল্লাচিল্লি করতো কিন্তু সে আলগোছে চলে এসেছে।
ভেতরে এসে ফারহানা একটা শপিং ব্যাগ জিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
-থ্যাংক ইউ ফর কারেক্টিং মাই মিসটেক।আমি আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম নিজের জন্যও বাঁচা যায়।অন্যের উপর নিজের সুখ যদি ফিফটি পার্সেন্ট ডিপেন্ড করে তবেও সুখ কোনদিন ধরা দিবে না।
জিয়ানা মুচকি হেঁসে বলে,
-মেনশন নট।যদি অনুমতি দেন তবে একটা বদ বুদ্ধি দিতে পারি?এতে আপনার সুখ ফিরে আসার পসিবিলিটি দ্রুত আবার একেবারে চলেও যেতে পারে।রিস্ক নিলে দিবো?

-বলো।
-আমার ফোন নাম্বার আপনি আপনার উপর ক্রাস খেয়েছিলো এমন একটা ছেলের নাম দিয়ে সেভ করুন।আমি আপনাকে লাভি ডাভি টেক্সট করবো।মেহেদী ভাই যখন বাসায় থাকবে তখন ভুল করে তার সামনে ফোন রেখে দিবেন। আমি তখনই টেক্সট করবো এতে ফোনের ডিসপ্লে তে সেটা ভেসে উঠবে। উনি দেখে কি রিয়েক্টশন দেয় সেটা দেখে বুঝা যাবে উনার আপনার প্রতি মনোভাব।
-এইসবে কোন কাজ হবে না।সে নিজেই বারো ঘাটের জল খাওয়া পাবলিক। আমাকে একজন কেনো দশজন টেক্সট করলেও কিছু যায় আসবে না।
-আচ্ছা দেখি না।
-ঠিক আছে।
বলে ফারহানা উপরে উঠে যায়।কিন্তু ফাইজার জিয়ানার কাছে এসে কাচুমাচু করা দেখে জিয়ানা প্রশ্ন করে ,

-কি তুমিও গিফট দিবা?
-দিতে পারি আগে যদি এটা বলো ,নিবিড়কে কিভাবে টেম করেছো?
-বি সিম্পল। আর আমি কাউকে বশ করি না।আর জংলী ঘোড়াকে তো আরও না।এরা একবেলা বশ হয়ে পরের বেলা লাত্থি দিয়ে চান্দে পাঠিয়ে দেয়।
বলে কুলসুমের ঘরের দিকে হাঁটা ধরে।দরজা খোলা থাকার পরেও জিয়ানা নক করে। কুলসুম কাম ইন বলে দ্রুত এলবাম গুছানো শুরু করে। জিয়ানা রুমে ঢুকে দেখে বেশ আভিজাত্যে সাজানো পরিপাটি একটা রুম।তবে নিবিড়ের রুমটা মনে হয় সবার চেয়ে বড় আর ফাঁকা ফাঁকা। বাকি সবার ঘর ভর্তি ব্র‍্যান্ডের নিউ ফার্নিচার।
জিয়ানাকে দেখে এলবাম একটু আড়ালে রাখার চেষ্টা করলো বৃদ্ধা।কিন্তু সেটা জিয়ানার চোখে ইতিমধ্যে ধরা পড়ে গেছে।না দেখার মতো করে বলে,

-তোমার জন্য কি কিনবো ভেবে পাচ্ছিলাাম না। তাই জায়নামাজ কিনে এনেছি সাথে হোম ফ্রেশনার।আমি জানি না তোমার কি পছন্দ?
বৃদ্ধা হাত বাড়িয়ে নিয়ে অল্প খুলে দেখে সাইডে রেখে দিলেন।জিয়ানাকে কাছে ডাকলেন হাতের ইশারায়।তারপর হাত ধরে বললেন,
-তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো বোন। আমার বুড়িয়ে যাওয়া মন বলছে সেটা তুমিই পারবে।
-দয়া করে বলো নানু।আমি খুব খুশি হবো।
-আমাকে তোমার নানু ভাই কঠিন দায়িত্ব দিয়ে চলে গেছেন। এই দায়িত্ব আমার গলায় ফাঁসের মতো দিন যেতেই আরও শক্ত করে আটকে যাচ্ছে।তুমি এই দায়িত্বটা নাও। আমার সংসারের দায়িত্ব।আমার শ্বাশুড়ি আমার হাতে দিয়েছিলো আমি পারিনি ঠিকঠাক সেই দায়িত্ব পালন করতে।সন্তানদের হারিয়ে শুধু মাত্র নাতি নাতনিদের আকড়ে ধরে বেঁচে আছি।একটা সুন্দর সমাপ্তির আশায়।

-মধুরেণ সমাপয়েৎ হয় না নানু। জীবন একটা বিরামহীন যাত্রা।তুমি চাইলেও সুন্দর সমাপ্তি হতে হতেও হবে না।আর একজন তো বেঁচেই আছে। কত যোগ্য সন্তান তোমার। তুমি তো প্রাউড মাদার।
বৃদ্ধা মুখ লোকায়।জিয়ানা মাথা বাকিয়ে সেই আমসি হওয়া মুখ দেখে।মানুষের কত রকমের কষ্ট থাকে।নিজের সন্তানের মৃত্যু শোকটাও প্রানখুলে কেঁদে প্রকাশ করতে পারে না।আহা কি লীলা এই দুনিয়ার।জিয়ানা সামনে থেকে সরে পাশে বসে বলে,
-লুকিয়ে রেখে কি লাভ? আমি জানি।
এবার কুলসুম হো হো করে কেঁদে উঠে। বৃদ্ধ শরীর সেই কান্নার দাপটে কেপে কেপে উঠে।শব্দহীন কান্না গুলা জিয়ানার কাছে বড্ড নিষ্ঠুর লাগে। বৃদ্ধা মুখ খুলে বলেন,

-নিবিড়ও জানে তাই না? মুখ পাল্টালেও কি আচরণ আর শরীর পাল্টানো যায়? আমি জানি বাড়ির প্রতিটা মানুষই জানে।আমি ওই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না।আমার খোকা প্রচন্ড খারাপ ছিলো।আমি মা হয়ে তো তাকে অভিশাপ দিতে পারি না।তার সকল পাপ মুছে গেছে সারমর্মে এসে।মরার আগে নিজের পুরা পরিবারকে বাঁচিয়ে গেছে।সারাজীবন অত্যাচার করা নিজের ঔরসজাত সন্তানকে শেষে এসে নিজপ্রানের বিনিময়ে বাঁচিয়েছে।
চোখের পানি গলা বেয়ে গায়ের জামা ভিজিয়ে দিচ্ছে কুলসুমের।জিয়ানা কাধে হাত রেখে বলে,
-সেদিনের ঘটনাটা আমি সবটা শুনতে চাই নানু।আমাকে বলো?
বৃদ্ধা কিছুটা সময় নিলো।চোখ মুছে বলে,
-তোমার হাসিখুশি জীবনটাকে বিষাদে ভরাতে চাই না।তুমি ব্যাতিক্রম একটা মেয়ে।
-এই দেশে সাধারণ স্বাভাবিক হয়ে থাকায় স্বস্তির। ব্যাতিক্রম হলেই নিঃসঙ্গতা আর নিঃস্বতা।আমার কষ্টের ছায়া কখনো আমার চেহারায় ফুটে না নানু।তাই তো কেউ আমাকে দূর্বল ভেবে আঘাত করতে পারে না।এইজন্য তোমাদের কাছে লাগে আমি ব্যাতিক্রম।

-সেটা ঠিক।যেখানে অন্ধকার নেই সেখানে জোছনারাও খেলা করে না। যাকে দেখে মনে হয় আলোয় ভরা জীবন।তার জীবনে অন্ধকারের মাধুর্যতা থাকে না।যাকে বাহির থেকে দেখতে যত বেশি হাসিখুশি সে আসলে কষ্ট লুকানোর কঠিন পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছে।
-তোমার আর সুখের কথার ধরন অনেকটা একরকম জানো?সেসব থাক একটা বইয়ে পড়েছিলাম এক পুরুষের পাপের দ্বায় পরের পুরুষের উপর এসে পড়ে।তোমার পরিবারে কার পাপ পড়েছিলো?
-আমার বড় পুত্রের আর আমার শ্বাশুড়ির অন্যায়ে বলি আমার পুরা পরিবার।উনি যদি সম্পত্তির সঠিন বন্টন করতেন তবে এই হাল হতো না।
একটু থেমে বললেন,
-দরজাটা আটকিয়ে দিয়ে আসো।
জিয়ানা দরজা লক করে ছোট মোড়া টাইপ একটা দুপায়া কুলসুমের মুখোমুখি এনে বসে। বৃদ্ধা পেছন থেকে এলবাম বের করে প্রথম ছবি দেখিয়ে বলে,

-এটা রুপ। বয়স সাত কি আট প্রথম এই বাড়িতে আনেন আমার শ্বাশুড়ি। তখন মামুনের বয়সও ওর সমান। মাজাহার সবার বড়। নীলুর জন্মের বহু আগে।হাড্ডিসার একটা বাচ্চাকে এনে আমার হাতে দিলেন।প্রথম দিনেই আমাকে মাজাহারের মতো আম্মা ডাকা শুরু করলো। শান্তশিষ্ট কিন্তু বেশ পটু একটা ছেলে।দিনের পরিক্রমায় আমি ভুলে গেলাম আমার দুইটা ছেলে। সবাইকে তিন ছেলের কথা বলি।
আমি যখন ওই বাড়িতে পা দেই,গমগমে ভরা সংসার, এখনকার থেকে আভিজাত্য ছিলো বহুগুন বেশি। চারপাশ থেকে শুধু অর্থকড়ি আসতো। শুধু মাত্র বাসার কাজের জন্যই লোক ছিলো তিপ্পান্ন জন।ওদের জন্য আলাদা রান্না হতো।আমাদের বিশেষ কোন কাজ ছিলো না। শুধু মাত্র বাচ্চাদের তদারকি ছাড়া।

নাবালক হয়ে এই সংসারে আসি।ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন। প্রচন্ড ডোমিনেটিং শ্বাশুড়ি বাহিরে বের হয়ে পড়াশোনা বন্ধ করলেন।তবে বাড়িতে প্রাইভেট রেখে আমাদের তিন জা কে পড়াতেন।মেয়েদের এই বাড়িতে কড়া শাসন থাকলেও ছেলে গুলা ছিলো লাগামহীন। আমার শ্বশুর ছাড়া প্রতিটা পুরুষই এমন কোন অন্যায় নেই তারা করেনি।সবই অর্থের জোরে।সাথে ছিলো প্রচন্ড অহংকার। আমরা চোরা বিলাই হয়ে ঘরের এককোনায় পড়ে থাকতাম।আমাদের এই নীরবতায় ছেলে গুলা আরও উচ্ছন্নে যাওয়া শুরু করলো। বেশিরভাগ সময় বাহিরে অন্য নারীর সাথে কাটিয়ে মাঝেমধ্যে আসতো আর কথাবার্তা হীন আমাদের নিচে ফেলে নিজেদের খায়েশ মিটাতো।আমি কোন দিন তোমার নানুর চোখে প্রেম দেখিনি।তবে বয়স হওয়ার পর থেকে চোখে হারাতো।ততদিনে আমার মন বিষিয়ে গেছে এই পরিবারের উপর।অনেক অনেক বছর পর আমার নীলু জন্ম নিলো।একদম পুতুলের আদলে বুচা বুচা একটা বাচ্চা মেয়ে।তোমার নানুর পরিবর্তন তখন থেকেই।মেয়ে বলতে অজ্ঞান ছিলেন তিনি।বাহিরে সময় কাটানো বাদ দিলেন।তুমি হইতো জানো ততদিনে কবিরাজের অত্যাচারে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ।আমার একটা পাপের জন্য আমার বাচ্চা মেয়েটাকে তার শৈশবটা প্রায় বন্দী হয়েই কাটাতে হয়েছে।কয়েকবার করে কবিরাজকে মেরে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।তবুও পেছন ছাড়েনি।

আর ছেলে গুলা বাপের নকশায় হাটা শুরু করলো। আমার শাশুড়ী কবিরাজের অভিশাপের ভয়ে অল্পবয়সেই বিয়ে করালেন মাজাহার আর মামুনকে।
রুপ দেখে না জাত দেখে।উনার কথা একটাই “কালো গাই এর দুধ ভালো ,জাতের মেয়ে কালোও ভালো। ”
রেবেকাকে বিয়ে করানোর পর মামুন আরও উশৃংখল হয়ে উঠলো।মেহেদী পেটে আসার পর কখনো মুখ ফিরিয়ে দেখেছে কিনা আমি জানি না।এই বংশের ছেলেদের একটা জাতীয় সমস্যা হচ্ছে স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর সেই স্ত্রীকে আর ভালো লাগে না। তোমার নানুও একই কাজ আমার সাথে করেছেন।কত রাত চোখের জলে বালিশ ভিজেছে তার ইয়ত্তা নেই।
অপরদিকে নীলুর একজন সঙ্গীর জন্য তোমার নানু লতাকে আনে এতিমখানা থেকে।গৌড় বর্নের সুন্দর কিশোরী মেয়ে।

রুপকেও তোমার নানু বিয়ে করালেন নিজের পছন্দ মতো মেয়েকে দিয়ে।একদম রাফিনের মতোই চেহারা তবে গায়ের রং টকটকে ছিলো।রাফিন হুবুহু তার মায়ের মতো। রুপকের কোন বিশেষ চেহারা ছিলো না।যা ছিলো সেটা অসাধারণ ব্যাবহার। এই ব্যাবহারে সে সবার মন জয় করে নিতো।কিন্তু বউটা গুনে গুনে কয়েকবছর মাত্র সংসার করতে পেরেছে।রাফিনকে একেবারে ছোট রেখেই গ্যাসের চুলায় আগুন লেগে মারা যায় তার মা।ভাগ্যক্রমে রাফিনকে নিয়ে সেদিন রুপক বাহিরে গিয়েছিলো। তানাহলে বাচ্চাটাও সেদিন মায়ের সাথে শেষ হয়ে যেতো।তাদের পার্মানেন্ট জায়গা হলো নূর ম্যানসনে।

এইদিকে মামুন স্বপ্নাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়াই তোমার নানুর সম্মানে দাগ পড়া শুরু করলো। স্বপ্নারা তখন নাম ডাক ওয়ালা বনেদী পরিবার।তারা মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আগেই আমি আর মাজাহারের আব্বা গিয়ে স্বপ্নাকে বউ করে বাড়িতে আনি।কিন্তু সত্যি হচ্ছে স্বপ্নাকে মামুন বিয়ে করেনি।ওদের ধর্মীয় কিংবা আইনোনত বিয়ে হয়নি।
বলে ডুকরে কেঁদে উঠে কুলসুম। কান্নারত গলায় বলেন,
-মেরে ধরেও মামুনকে আমরা কবুল বলাতে পারিনি।
জিয়ানা হা হয়ে গেলো শেষের কথা শুনে।

একটা জীবন ,গড় আয়ু বাহাত্তর বছর।পয়তাল্লিশ বছর পর্যন্ত শরীরের শেষ টান থাকে।এরপর শরীর ছেড়ে আসে।শেহনাজ স্বপ্না বয়স সাতচল্লিশ বছর। ষোলবছর বয়সের পর জীবন থেকে হাঁসি আনন্দ সব হারিয়ে গেছে।কিশোরী বয়স শেষ হওয়ার আগেই জীবনের সুর হারিয়ে হতাশার চাদরে ঢাকা একটা মানুষ। এরপর কাহিনী সবার জানা।ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে এবং একাধিক খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়ে কালোজাদুর স্বীকার হয়।এরপর ভুলের উপর ভুল করে জীবনের সুর থেকে দূরে বহুদূরে ছিটকে দূর দ্বিপাবাসিনীর মতো ধুকে ধুকে জীবন পাড় করছেন।
এমন জীবন প্রাপ্ত মানুষের ভেতরটাতে কেউ ঢুকলে দেখতে পাবে থরেথরে সাজানো সব পুড়া জ্বলসানো স্মৃতি। চালতি ফিরতি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ অথচ ভেতরে শুধু হাহাকার আর হাহাকার।

জিয়ানার জোড়াজুড়িতে তাকেও আসতে হয়েছে তাদের সাথে।কিন্তু স্বপ্না আর আসমা কুকারিজ আইটেম কিনতে অন্য সাইটে গেছে।জিয়ানাদের সাথে লান্সের সময় এক হবে।কিন্তু মহিলারা দুঃখী হোক বা সুখী হোক,শপিংয়ে সব এক।এখানে এদের দরকারী জিনিসের ফর্দ শেষ হয় না।আল্লাহর ওয়াস্তে সেটা চলতেই থাকে।জিয়ানা লান্স করার আগে একবার স্বপ্নার সাথে গ্রাউন্ডফ্লোরে দেখা হয়েছিলো। তখন বাচ্চাদের ড্রেস অর্ধেক সিলেক্ট করা হয়েছে।
জিয়ানার শপিং জিনিসটা বিরক্ত লাগে। তাই একটু অন্য সাইটে টু মারতে এসে দেখে একটা চমৎকার দৃশ্য।একজন আধাপাকা লোক লম্বার কারনে বেকে গেছে।ক্লিন সেভের জন্য গালের চামড়ার ভাজ স্পষ্ট। স্বপ্নার সামনে করুন চোখে তাকিয়ে আছে।জিয়ানা এই চোখ চেনে।এই চোখের মাঝে আছে একরাশ অসহায়ত্ব।একরাশ অভিমানী ভালোবাসা।একরাশ অবেলার আবেগ।জিয়ানা পা বাড়ায় তাদের দিকে।কাছাকাছি গিয়ে একটা পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে যায়।লোকটা বলছে,

-এখনো তুমি একই রকম আছো শেহনাজ? সেই কিশোরী বয়সের মতো স্নিগ্ধ সতেজ।আমার বকুলের মালা শুকিয়ে কবেই বাতাসে মিশে গেছে ,অথচ মাল্য দানকারী এখনো অবিচল। আমার জোয়ান চোখ বৃদ্ধ হলো ,তবুও তোমাকে দেখার আশ টুকু মিটলো না।কি আশ্চর্যজনক ঘটনা।তাই না শেহনাজ?
লোকটার কথাতে একটা যাত্রা পালার টান আছে।কবি টবি হবে হইতো।কিন্তু এই বয়সে এসে এত রস কোত্থেকে আসে মানুষের? জিয়ানা হুডির হাত গুটায়।ব্যাটার কবিতা পেছন দিয়ে ভরে দিবে।তার শ্বাশুড়িকে টিজ করা? উমুহু…
পরক্ষণেই আবার আড়ালেই থেকে যায় স্বপ্নার কথা শুনে,
-শফিক ভাই।সেই বয়সে আপনার কবিতারা আমাকে টানলেও আজ বড্ড হাঁসি পাচ্ছে।আমি বুড়িয়ে গেছি বরং আপনি বদলাননি। এখনো এত রসিকতা কিভাবে আসে আপনার?
-এখনো তখনো বলে কোন কথা নেই বালিকা? আর রসিকতার দেখেছো কি? ডোনাল্ড রিগ্যান আমেরিকার দ্বিতীয় জনক।উনাকে যখন গুলি করা হয় ,মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও সে ডাক্তার আর স্ত্রীর সাথে কৌতুক করেছিলেন।ভদ্রলোকের বয়স ছিলো তখন সত্তোর।

-আপনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নন?
-তুমি চাইলে আমি সারা পৃথিবীর প্রেসিডেন্ট হতে প্রস্তুত। কিংবা মঙ্গল থেকে নেপচুন সর্বত্র শাসন করতে রাজি।
স্বপ্না শব্দ করেই হেঁসে বলে,
-ধন্যবাদ শফিক ভাই।আবার হাঁসানোর জন্য।ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
-আমাকে আর একটা সুযোগ দেয়া যায় না শেহনাজ? আমি কাপুরষ ছিলাম কিন্তু এখন আর নেই।তোমার সম্পর্কে আমি সবটা জানি।অহেতুক কেনো পড়ে আছো সেখানে? আমার সাজানো বাগানের একটা শেহনাজের যে বড্ড দরকার?

-আমি ফিরে গিয়েছিলাম শফিক ভাই।বেঁচে থাকার জন্যবঅল্প আশায় বুক বেঁধেছিলাম।টিমটিমে আলো আমার বাত্তিতেও জেলে রেখেছিলাম। কিন্তু আপনি সেদিন কাপুরষ না হলেও পারতেন।একজন বন্ধু হয়েও পাশে থাকতে পারতেন।তাহলে হইতো আমাকে আবার নরকে ফিরে যেতে হতো না।আসলে কি জানেন? সামাজিকতার এত দ্বায় আমাদের? একটা মিথ্যা পরিচয় হলেও আমরা আকড়ে বাঁচতে চাই।
-মিথ্যা থেকে বেড়িয়ে আসো। আমি হাত বাড়িয়ে আছি।
-অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমার ছেলে আছে। সে বিয়ে করেছে।এখন আর লোক হাঁসাতে চাই না।
-বেটার লেট দেন নেভার।
-আসি। ভালো থাকবেন।
বলে স্বপ্না দূরে বসা আইস্ক্রিম খাওয়ারত আসমার দিকে হেঁটে যায়।শফিক নামের লোকটা অপলক তাকিয়ে থাকে সেই দিকে।পেছন থেকে জিয়ানা এসে ডাকে,

-হ্যালো মিষ্টার বেটার লেট।
শফিক অদ্ভুত সম্বোধন পেয়ে পেছনে ফিরে তাকিয়ে মুখে হাঁসি ফিরিয়ে এনে বলে,
-জ্বি মিস আমাকে বলেছেন?
-মিসেস সুখনীল নিবিড়।
বলে হাত বাড়ায় হ্যান্ডশেক করার জন্য।লোকটার হাঁসি এবার গায়ের। জিয়ানা এক কদম এগিয়ে এসে বলে,
-শ্বাশুড়ির জন্য পাত্র হিসেবে আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে।ফোন নাম্বার দেন।আই উইল কল ইউ লেটার।আপাতত কথা বলতে পারছি না। আমার সু-কু বর আশেপাশেই আছে।
লোকটা এবার চমৎকার হেঁসে নিজের ভিজিটিং কার্ড বের করে দেয়। জিয়ানা কার্ডটা পকেটে ভরে কপালে আঙুল ঠুকে সালাম দিয়ে যেতে যেতে বলে ,

-চার দেয়ালের বাহিরে এমন যাত্রার মত ডায়লগ আর কোথাও দিবেন না।অতি জঘন্য আপনার ভয়েস আর পংক্তি।
লোকটা হো হো করে হেঁসে বলে,
-অতি সত্যি কথা বলার জন্য পুত্রবধূ হিসেবে তোমাকেও পছন্দ হয়েছে। নামটাই তো জানি না?
-জিয়ানা। জিয়ানা হক।ইয়াদ রাখনা……
কার্ডটা আবার বের করে দেখে” শফিক আহমেদ। এক্স সিনিয়র সার্জন অফ নরল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ,নর্থ উমিয়ার ,সুইডেন।”

জিয়ানার হাঁসি প্রশস্ত হয়।বেশ যোগ্যতা সম্পুর্ন মানুষ তো।তাই তো ভালোবাসার পরেও রেপ হওয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করেনি।পালিয়ে গেছে সম্পর্ক চিরে।এখন যেহেতু ভদ্রলোক বিপত্নীক সেহেতু নিজের যোগ্যতা খর্ব হয়েছে।এখন সে শাহনাজ স্বপ্নার সমান।কি নিদারুণ মানুষের মস্তিষ্ক? কি চমৎকার প্রহসন ময় ভালোবাসার নিদান।তবুও আমরা নিজেকে রেখে অন্যকে ভালোবাসি।অন্যের জন্যই জীবন পাড় করি।এই জন্যই নিবিড় জিয়ানাকে বুঝায় ভালোবাসা বলতে কিছু নেই ,সবটাই প্রয়োজনের খাতিরে গড়া। জিয়ানা সেটা এক বাক্যে বিশ্বাস করে। আবেগী ভালোবাসার একটা মেয়াদ থাকে সেটা হুটহাট আসে আবার হুটহাট যায়।কিন্তু প্রয়োজনের ভালোবাসা একসময় অভ্যাসে পরিনত হলে সারাজীবন থেকে যায়।কবি সাহিত্যিকদের ভন্ডামীর জন্যই এই ভালোবাসার রুপটাই বদলে গেছে আসলে।

একটা ওপেন লিটিল সোর্ড হাতে এগিয়ে যাচ্ছে নিবিড়। মক্কু পাশ থেকে চেয়ার এনে সঠিক জায়গায় রাখে।নিবিড় চেয়ারে বসে সামনের ঝুকে থাকা ব্যাক্তিটির মুখের টেপ একটানে খুলে ফেলে। এতে সামান্য কাকিয়ে উঠলো উক্ত ব্যাক্তিটি।
চকচকে সোর্ডটা দিয়ে উরুতে ঘ্যাচাং করে একটা টান দিলো।সাথে সাথে বিকট আওয়াজে চিৎকারে উপস্থিত সবার কানে তালা লাগার যোগার।নিবিড় সোর্ডার হাতল দিয়ে কাটা স্থানে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
-তোকে এত দিন এমনি এমনি পালিনি রনি? আজকের দিনের জন্যই তোর জন্ম। টপাটপ বলে ফেল ব্যাকাপ এভিডেন্স সব কোথায়? তিন গুনবো এর আগেই যেনো আমি শুনতে পাই।এক……
কাকিয়ে ছিটকে কিছু শব্দ বের হলো রনির মুখ দিয়ে,
-ভা..ই। আমি কি..চ্চ..ছু জানি না। সব ম্যা..ডামের অর্ডা..র।
-বদি কই?
-আ..মি জা..নি না ভাই।আমারে ছাইরা দে..ন।

আলু পলার মতো হাতের দক্ষতার সহিত রনির দুই উরুতে পরপর অসংখ্য বার সোর্ডের সুনিপন নকশা তুলা শুরু করলো নিবিড়।রনির শরীর থরথরিয়ে কাপা শুরু করলো। গোঙিয়ে ছেড়া ছেড়া কন্ঠে বলে,
-আপনি এখনো রাজনীতিতে নতুন ভাই। ম্যাডাম যাদের সাথে হাত মিলিয়েছে তারা এক তুড়িতে আপনাকে উড়িয়ে দিতে পারবে।বদিকে পুরাতন ড্রাই ফ্রুটসের ফ্যাক্টরিতে নিছে কাল।এতক্ষণে মনে হয় শেষ করে দি..
শেষ করার আগেই নিবিড় রনির বুক বরাবর লা*ত্থি দেয়।চেয়ার সহ রনি একপ্রকার ছিটকে আছাড় খেলো দেয়ালের সাথে।তারপর রাগে কটমটিয়ে বলে,

-সপ্তাহে সাতদিন রাজনীতি করা পাবলিক আমি আমাকে রাজনীতি শিখাচ্ছে? বা*ঞ্জোদ *** মেরে ক্যালেন্ডার বানিয়ে লটকিয়ে রাখবো তোকে আর তোর এপমির মেয়েকে।
তখনই নিবিড়ের ফোনে কল এলো। নাম্বার দেখে মুচকি হেঁসে সোর্ডটা মক্কুর হাতে দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে এসে রিসিভ করে।রুহানি ফোন দিয়েই একটা মোহনীয় হাঁসি দেয়ার চেষ্টা করে বলে,
-দুই ট্রাক ফুল দিয়ে বাসর করলে। তো এক্সিডেন্টাল বউকে ভোগ করে সুবিধাবাদীর তকমা পেয়ে কেমন লাগছে?বউ কি ইন্টেক ছিলো? নাকি সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের মাল?
বলেই অট্টহাসি দিয়ে উঠলো।
নিবিড়ের মুচকি হাঁসি এবার প্রশস্ত হয়ে উত্তর করলো,

-গাছে না উঠে ফল ভোগ করার মানুষকে সুবিধাবাদী বলে।একবছর আগে বিয়ে করেছি আর বাসর গতকাল। অবশ্য এই সময়ের গ্যাপ আমার বউয়ের কল্যাণেই হয়েছে। সেতো আর ওইসব মেয়েদের মতো না ,যারা বিয়ে তো দূরে থাক রিলেশনের আগেই রাস্তার কু*ত্তাদের মতো নিজেকে উন্মুক্ত করে দেয়।ওইসব মেয়েদের উপর আমি আবার থুথুও ফেলি না।আমার থুথুরও একটা যোগ্যতা আছে।
রুহানি গর্জে উঠলো “নিবিড়” বলে।নিবিড় এবার অট্টহাসি দিয়ে বলে,
-আস্তে আস্তে।তুমি হাইপার হচ্ছো কেনো? ব্যাপারটা এমন হয়ে গেলো না , পড়লো কথা হাটের মাঝে যার কথা তার গায়ে বাজে।
রুহানী নিজেলে সামলিয়ে বলে,
-আমাদের বাংলোতে তোমার অপেক্ষা করছি।দশ মিনিটের মাঝে না আসলে বদির স্ট্রেইটমেন্ট অনুযায়ী উদ্ধার করা প্রমাণ সব পাবলিশ হবে।তারপর দেখবো তোমার এত অহংকার আর পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার কোথায় যায়?
ফোন কেটে নিবিড় মক্কুকে ডেকে বলে,

-বলদ গুলা কই?
-ক্লাবে ভাই।
নিবিড় আর মক্কু ক্লাবে এসে দেখে ওয়ান টু কা ফোরের এডমিন তিনজন ল্যাটা মেরে বসে আছে ফ্লোরে। নিবিড়কে দেখে তারা উঠার চেষ্টা করলো।নিবিড় হাত উঁচু করে উঠতে নিষেধ করে বলে,
-আমি এখন আর ক্লাব প্রেসিডেন্ট নেই।আকাশের আন্ডারে সব। আকাশ এসে তোদের আপ্যায়ন করবে।তবে
পালের গোদাটাকে বের করতে অহেতুক কসরত করতে চাচ্ছি না।বল কে তোদের লেলিয়ে দিয়েছে?
-ভাই আমরা তো সব ভার্চুয়ালি করি।কেউ কারোর পরিচয় জানি না।আমাদের ফোনে পর্যন্ত কথা হয় না।আমাদের উদ্দেশ্য আপনার শত্রুতা করা না।
নিবিড় একব্রু উঁচুতে উঠিয়ে বলে,

-আচ্ছা? তবে কি উদ্দেশ্য?
-আমাদের উদ্দেশ্য যেনো কোন রাজনীতিবিদ স্বেচ্চাচারিতা করতে না পারে।তাদের একটা জবাবহিতার ভয় থাকে।
-মক্কু ছেড়ে দে এদের।
তারপর কপাল চুলকে বলে,
-উদ্দেশ্য আমার পছন্দ হয়েছে। তবে তোদের আর একটু প্রফেশনাল হতে হবে।সব ফেলে ফালতু জিনিস হাইলাইট করিস।
তারপর আবার মক্কুর দিকে তাকিয়ে বলে,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৯

-বাংলোতে যাচ্ছি।স্পেশাল কলম দুইটা দে।
-ভাই এমনেই ছাইড়া দিমু?
-কি আর করবো বউকে তো আর কিচ্ছু করতে পারবো না।
-জিয়ানা?
-এই ছেলের কথাটা কিছুদিন আগে জিয়ানা আমাকে বলেছে।
বলে মুচকি হেঁসে বাইকে উঠে বসে।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬১