Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৬২

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬২

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬২
আশিকা আক্তার সোহাগী

“যখনই দেখেছি তাকে অন্য কারো সাথে ,বুঝেছি খোদা কেনো শিরক পছন্দ করেন না – মির্জা গালিব”
জিয়ানার তীব্র মাথা ব্যাথার সাথে বুকেও জ্বলুনি হচ্ছে।সে যে নাকে মুখে নিবিড়ের প্রেমে পড়েছে সেটা নিবিড়ের ফ্ল্যাটেই বুঝেছিলো।কিন্তু এমন একজনের প্রেমে পড়েছে যে বান্দা প্রেমেই বিশ্বাসী না।নিবিড়ের থিউরি হচ্ছে প্রয়োজনেই প্রিয়জন।জিয়ানার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে কি আর প্রিয়জন থাকবে না? এই যেমন রুহানীর যখন দরকার ছিলো তাকে ব্যবহার করেছে।না না সে আর রুহানী এক নাকি? নিবিড় নিজেই তো বলেছে সাতশো কোটির মাঝে জিয়ানা আলাদা একজন।পুরুষ কি নিজের কামনা বাসনার সময় এমন কথা বলেই থাকে? আচ্ছা নিবিড় যে জানে তার রুট নেট ,জন্মের সামাজিক স্বীকৃতি নেই ,এই জন্যই কি তার এই কঠিন আচরণ? আচ্ছা জিয়ানাকে কখনো ছুড়ে ফেলে দিবে নাতো?

মাথা ঝাকায় জিয়ানা।যত্তসব ফালতু চিন্তা। যার কোন যুক্তি নেই।যে চিন্তার যুক্তি আছে বরং সেই চিন্তা করা যাক।গত দুইদিনে জিয়ানা অহেতুক সব কাজ করেছে।অন্য আর দশটা স্বাভাবিক মানুষ বিয়ে থা করে যা করে ,সেও ঢ্যাং ঢ্যাংইয়ে তাই করে গেছে আটচল্লিশ ঘন্টা।জীবন খাতায় এই আটচল্লিশ ঘন্টার কোন মূল্য নেই।সে যদি এখন হুট করে অক্কা পায় তবে ব্যার্থ দুইদিন অপচয়ের জন্য তার শাস্তি অপরিহার্য। একটা ভালো কাজও করেনি।সুখের লোভে পেয়ে গেছে তাকে। আস্ত একটা সুখ পেয়ে এখন আরও লোভীষ্ঠ হয়ে উঠছে মন মস্তিস্ক।ব্যাটা যা ইচ্ছা করুক।ফাইনাল পর্যন্ত তো আর পৌঁছাতে পারবে না? কোন মেয়েই তাকে বারবার মনে করিয়ে দিবে না ,আমি জিয়ানা প্লিজ কন্টিনিউ।বরং নিবিড় গলা টিপে মে*রে আসবে।হোঁ হোঁ করে হেঁসে কুটোকুটি হয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

পরক্ষণেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। নির্জন রাস্তায় হাটু গেরে বসে দুই হাতে মুখ ডাকে।তার জীবনটা না হয় এলেবেলে ছেলে খেলা।নিবিড়ের জীবনটা এত কঠিন আর কষ্টের কেনো? জিয়ানা নিজের বুকে আলতো চাপড় দেয়।সে নিজের কষ্টকে অনায়াসেই গিলে ফেলতে পারে পানি ছাড়াই।কিন্তু নূর ম্যানসনের মানুষ গুলার জন্য তার কলিজা পুড়ে যাচ্ছে।সবচেয়ে বেশি উম্মে কুলসুম আর নিবিড়ের জন্য।আহা জীবন। নিবিড়ের এই কঠিন আচরণ তবে এমনি এমনি হয়নি।কষ্ট আর অভিমান জমে সে অনুভূতিহীন আর পাথর হৃদয়ে পরিনত হয়েছে।এই জন্য ভালোবাসা বিশ্বাস না করায় স্বাভাবিক।

কিছু মানুষ কষ্ট দুঃখ সব নিজের শরীরের ভেতর চাপা রাখে।সেই চাপা পড়া কষ্ট গুলা চামড়ার নিচে জমা হতে হতে চামটা হয়ে উঠে ইস্পাতের মতো।তখন তাকে আর কিছু ছুঁতে পারে না। তাদের একা একাই কষ্ট ভোগ করার প্রবনতা বেড়ে যায়।যেটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেলেই মানুষিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
জিয়ানা মাথা চেপে ধরে শক্ত করে। চারপাশ হাতরেও সে কোন উপায় পায় না এই দূর্বিষহ যন্ত্রনা কমানোর উপায়।এই জন্য জিয়াউল তাকে বারবার এলার্ট করেছে ,বস্তুগত আবেগে নিজেকে জড়াবি না আম্মু। সব কিছু সামলানো গেলেও মনের আবেগ সামলানো যায় না।আর মানুষ ঠিক তখনই জীবনের সবচেয়ে কঠিন ভুল করে বসে।যার কাফফারা দিতে হয় জীবনভর। ”

জিয়ানা চরাক করে উঠে দাঁড়ালো। ছোট ছোট জাম্প করে কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে। তারপর স্বীদ্ধান্ত নেয় ,রুহানীর বাংলোয় যাবে।নিজ চোক্ষে দেখা দরকার।তানাহলে মনের উচাটন উপশম হবে না কিছুতেই।আর নিবিড়ের অতীত পরিবর্তন করার সাধ্য কারো নেই।কিন্তু ভবিষ্যৎ আর বর্তমান পরিবর্তন করার অনেক অপশন তার হাতে আছে।তীব্র বাস্তবতা হচ্ছে,বেঁচে যেহেতু থাকতেই হবে তবে দ্বিধাহীন ,কষ্টছাড়া আর বিশ্বাস নিয়ে বাঁচবে।যে তাকে ভালোবাসবে না তাকে একপাক্ষিক ভালোবাসায় কোন বীরত্ব নেই।বরং ব্যাক্তিত্বহীনতা।নিজের মনকে র*ক্তাত্ব করে অন্যের ভালোবাসার কাঙ্গাল জিয়ানা হবে না।নিজের মন যদি তার বিরুদ্ধ আচরণ করবে তাকে দিনে তিনবেলা চটকানা দিয়ে সোজা করার রাস্তা জিয়ানার জানা আছে।

রুহানীদের বাংলোটা নূর ম্যানসন থেকে রিক্সায় আসতে বিশ মিনিটের মতো লাগলো।সরু একটা রাস্তা চলে গেছে মেইন রাস্তা থেকে।দুইপাশে জঙ্গলা গাছে ভর্তি।রিক্সা ওইটুকু যাবে না। তাই জিয়ানা পায়ে হাটা শুরু করলো। সামনেই দুইটা মাতাল অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এগিয়ে আসছে।জিয়ানা নিজের হুডি মাথায় উঠিয়ে জোরে হাটা শুরু করে। মাতাল দুইটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকেও কিছু বাংলা গালি খেতে হলো।ঝামেলা করবে না ,করবে না করেও বিক্ষুদ্ধ মনে ডাক দিলো দুইটাকে “ওই” বলে।
জিয়ানা এগিয়ে এসে বলে,

-এই যে নদের চাঁদেরা জানিস ওই বাড়িতে কি হচ্ছে?অবশ্য তোরা জানবি কি? মুশকিল আসান হচ্ছে। বিদেশি বোতলের পার্টি হচ্ছে।
-এই কেরে পোলা না মাইয়া?
খেকিয়ে এক মাতাল বলে উঠলো। জিয়ানা আঙুলের গিট দিয়ে সজোরে মাথায় টোকা দিয়ে বলে,
-সেটা যেনে তোর বাপের কি? আমার পেছন পেছন আয় তোদেরকে বিদেশি মাল খাওয়াবো।
পেছনের লিকলিকে বেটে মাতালটা এগিয়ে এসে নড়বড়ে হাতে জয়ানাকে ফাউল মা*রার চেষ্টা করে। জিয়ানা হাত টা মোচড় দিয়ে ধরে চটাস করে একটা থাপ্পড় দেয় গালে।মাতালটা এবার হো হো করে কেঁদে বলে,

-মা*রিস না আমাকে। আমার ঘরে বড় বড় বাচ্চা আছে।
জিয়ানা ফিক করে হেঁসে বলে,
-যাহ মারবো না।আমার পেছন পেছন আয়। দুইজনকেই টাকা দিবো।
বাংলোর গেটের কাছে টহল রত গার্ডদের দিকে মাতালদের এগিয়ে দিয়ে বলে,
-জোরে জোরে বলবি “আই লাভ ইউ রুহানী” পারবি না? তবে দুইজনে দুইটা করে চারটা বোতল পাবি।
লোভে চকচক করে উঠা চোখ নিয়ে মাতাল দুইটা গার্ডদের সামনে গিয়ে বলা শুরু করলো ,
-ওই মা** রুহানী আই লাভ ইউ রে ,আই লাভ ইউ।বোতল দে তাত্তাড়ি।

জিয়ানা হাঁসতে হাঁসতে দেয়ালের পাশে গাছ খুঁজে। গার্ডরা উদুম কেলানি দিচ্ছে মাতাল দুইটাকে।এই সুযোগে জিয়ানা দেয়াল টপকে বাংলোর ঘরের দিকে চলে যায়। শব্দহীন পায়ে চেক করে প্রতিটা জানালা।মাঝামাঝি একটা জানালায় অল্প শব্দ শোনে তাই সেখানে থেমে যায়।দেয়ালের সাথে মিশে কান পাতে জানালার থাই গ্লাসে।
অনেকক্ষণ কান পাতার পর জিয়ানা আর কোন শব্দ শোনতে পায় না।চারপাশ ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সময় হঠাৎ ফুট স্টেপ শুনে একটা রঙনফুলের ঝোপের আড়ালে দাঁড়ায়।দুইজন অতি লম্বা আর বলবান কৃষ্ণ বর্ণের লোক বের হলো ভেতর থেকে। অন্ধকারে দাঁত ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না তাদের।গার্ডেন এরিয়া পাড় হওয়ার সময় রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় একজনের মুখ স্পষ্ট দেখে জিয়ানা আৎকে উঠে।কারণ এটা মামুন ইসলাম মানে চেয়ারম্যানের ক্যানিবাল গার্ডদের একজন।এরা এখানে কি করছে? জিয়ানার চিন্তার মাঝেই পকেটে ফোন অনবরত ভাইব্রেট হচ্ছে ,তাই আফ্রিকান দুজন বের হওয়ার পর ,জিয়ানা আবার দেয়াল টপে বাহিরে চলে আসে।মূল সড়কে এসে ফোন বের হয়ে করে দেখে নিবিড়ের কল।ফোন কানে নেয়ার সাথে সাথেই শুনতে পায়,

-হয়েছে গোয়েন্দাগিরী করা? এবার বাড়ি ফিরে যাও। অসংখ্য শাস্তি লোডিং হচ্ছে। বি রেডি।
একদিনেই সকল প্রকার প্রেসার মস্তিস্কের উপর পড়ায় জিয়ানার মেজাজ তিড়তিড়ে খারাপ হয়ে গেলো।কন্ঠে ঝাঁজালো তেজ নিয়ে বলে,
-যেখানে এসে ফুর্তি করেছেন সেখানেই নিজের কর্তৃত্ব দেখাবেন।আমার দুচোখ যেদিক চায় সেদিকে যাবো।আবার ফোন দিলে আপনার খবর আছে।
তারপর কট করে কেটে ফোনের সুইটস অফ করে রেখে নিজের জুতায় চোখ বুলায়। নাহ এটা তো তার পুরাতন জুতা। তবে নিবিড় কি তার ফোনের মাধ্যমে ট্র‍্যাক করে?
একবছরে প্রতিটা কাজে জিয়ানা নিবিড়ের কাছে ধরা খেয়েছে।কোন ভাবেই এই লোককে টেক্কা দিতে পারেনি জিয়ানা।নিজেকে আজ বড্ড কমজোর লাগছে জিয়ানার।সে গুড ফর নাথিং।আজ পর্যন্ত কোন কাজই সে কমপ্লিট করতে পারেনি।অবশ্য চেষ্টার কোন ক্রুটি তার ছিলো না।এদেশের পলিটিশিয়ানদের ক্ষমতা পাতাল থেকে আসমান পর্যন্ত। টাকার কাছে সব নাসাৎ হয়ে যায়।

হাটতে হাটতে আকাশের দিকে তাকায়।আজ তারা কম ফুটেছে।কাল হইতো বৃষ্টি হবে।আচ্ছা তার মা কি তারা হয়ে গেছে। নাকি এখনো দুনিয়াতে আছে? নিশ্চিত প্রচন্ড সুন্দর মানুষ ছিলেন উনি? মা মা গন্ধ কেমন লাগে? বাবার কি আলাদা কোন বাবা বাবা গন্ধ থাকে? আর ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক কেমন হয়?
তাসের ঘরের স্বপ্ন না দেখায় ভালো। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে জিয়ানা একা।নিবিড় চলতি পথের সাথী তবে তাদের এথিক্স আলাদা।নিবিড়ের যা চায় তাই লাগবেই।আর জিয়ানার আজ মরলে কাল দুই দিন তাই কিছুই লাগবে না।
পাশ দিয়ে একটা ভ্যান যাওয়াই পায়ের গতি বাড়িয়ে সেটাতে উঠে বসে।

এমন একটা রাতে রাব্বির আব্বা মারা গিয়েছিলো।এইভাবে জিয়ানা ভ্যানে করে বাসায় ফিরেছিলো সেদিন।নিবিড় স্লো মোশনে বাইকে করে পেছন পেছন এসেছিলো।জিয়ানা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বুঝেছে নিবিড় তার দিকেই তাকিয়ে আছে।লোকটার তাকানোর স্টাইল মারাত্মক রকমের কি*লিং ফিলিংক্স আসে।মনে হয় চোখ দিয়ে মনের ভেতরে পড়ে নিচ্ছে।স্থির চোখে অন্যের চোখের মনি বরাবর তাকিয়ে থাকে সর্বদা।লায়ন ভয়েস ,কি*লিং আইস আর শার্প জ-লাইনে অন্যন্য একটা ব্যাক্তিত্বের অধিকারী নিবিড়।এই লোকটা জিয়ানার একান্ত ব্যাক্তিগত মানুষ ভাবতেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনুভব করলো। পরক্ষণেই নিজের ফালতু কোন্দলকে দূরে ঢেলে দেয়।রুহানী শাকচুন্নির কাছে আসার জন্য একটা কড়া শাস্তি তো প্রাপ্যই নিবিড়ের। মনে মনে ঠিক করলো শাস্তি টা আসলে কি হবে।

রাফিন নিজ কক্ষে ঢুকেই বেশ অবাক হয় সাফাকে দেখে।গতকালের প্রোগ্রামে পড়া জিয়ানার শাড়ি সে পড়ে আয়নায় নিজেকে দেখছে।রাফিনকে দেখে সাফা নিজেও থতমত খেয়ে যায়।আমতা আমতা করে বলে,
-জিয়ানা আমাকে এই শাড়িটা দিয়ে দিয়েছে।তার নাকি আর কখনোই কাজে লাগবে না এটা।
-দিলো আর তুম হাত বাড়িয়ে নিয়েও নিলে?
হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে বলে রাফিন।
-আসলে আমি দেখতে চেয়েছিলাম এই শাড়িতে আমাকে জিয়ানার মতো লাগে কিনা? ওর মতো আত্মবিশ্বাসী লাগে কিনা?

-জিয়ানার শাড়ি পড়লেই জিয়ানার মতো হওয়া যায়?
ব্যাঙ্গ করে রাফিন ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।অপরদিকে অপমানে সাফার চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করলো। জিয়ানা ঠিকই বলেছে সে আসলেই গোপী বাহু।কথায় কথায় চোখের পানি চলে আসে।শাড়িটা জিয়ানা দেয়ার সময় যে কথাটা বলেছে সেটা সারাজীবন মনে রাখবে সাফা।

“নিজের দ্বায়িত্ব নিজে নেয়া মানে ব্যাক্তিত্ববান না , অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও ব্যাক্তিত্ববান হওয়ার একমাত্র শর্ত নয়।একজনের উপর অধিনস্ত হয়েও কঠিন ব্যাক্তিত্ববান হওয়া যায়।নিজের কষ্ট ,যন্ত্রনা আর চোখের পানি কাউকে না দেখানো সঠিক ব্যাক্তিত্ববান মানুষের বৈশিষ্ট্য।যাকে ভাঙা যায় না ,দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দেয়া যায় না ,সেই ব্যাক্তিত্ববান।সারা পৃথিবীতে তুমি একজনই।আল্লাহ তোমাকে আলাদা করে সৃষ্টি করেছেন। তোমার প্রতিটা অঙ্গ আলাদা ,প্রতিটা আঙুলের ছাপ আলাদা।তুমি তোমার গুনে অন্যনা।শুধু মাত্র সামনের ব্যাক্তির চোখের দিকে স্থির দৃষ্টি দিয়ে কথা বলবে আর প্রতিটা কথার উত্তর দিবে স্পষ্ট ভাষায়।মাথা ঝুকিয়ে নয়। এই শাড়িটা আমার বিশেষ কাজে আসবে না।আর কখনো পড়বো কিনা জানিও না।তোমার মনে হয় এটা বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই এটা তোমার কাছেই রাখো।”

বলে শাড়িটা সাফার হাতে দিয়েছে আজ সকালে।
এরমাঝে রাফিন বের হয় ফ্রেশ হয়ে। সাফা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ মুছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে গুনগুনিয়ে গান ধরে ডার্ক একটা লিপষ্টিক মাখা শুরু করে। রাফিন অবাক হয়ে একবার তাকিয়ে আবার নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।লিপষ্টিক দেয়া শেষে সাফা বলে,
-শুনোন আমার জিয়ানা হওয়ার কোন ইচ্ছা নেই।আমি যদি জিয়ানার মতো হই তবে জিয়ানার আলাদা কোন বিশেষত্ব আর থাকবে না।আমি আমার মতোই। আর আমাকে গোবেচারা ভাবার দরকার নেই।আমি যথেষ্ট চালাক চতুর।
রাফিন চুলে হাত চালিয়ে বলে,

-আচ্ছা? কি চালাকি করেছো এই জীবনে শুনি?
-কলেজে উঠেই আমি একটা ফেসবুক আইডি খুলেছিলাম এঞ্জেল ডাইয়ানা নামের।সেই আইডি দিয়ে আট মাস প্রেমও করেছি।
সাফা বেশ গর্বের সাথে সোজা হয়ে বলে,
-আরেহ বাস।তারপর?
-তারপর একদিন দেখা করতে গিয়ে আমি দূর থেকে দেখি আরিয়ান খান আসলে আমাদের এলাকার কাঠমিস্ত্রির হেল্পার আব্বাস। তারপর দৌঁড়ে চলে আসি বাসায়।এসেই আগে আইডি ডিএক্টিভ করে দেই। আর জীবনেও ওইসবে আগ্রহ আসেনি।
রাফিন হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,

-অনেক চালাক তুমি।একদমই গোবেচারা না।
সাফা তাকিয়ে থাকে রাফিনের মুখের দিকে। সুউচ্চ সুদর্শন এই পুরুষটা তাকে ছুয়েছে ভাবলেই কেমন শিরশির করে উঠে শরীর।সাফা যদি আর একটু লম্বা হতো তবে এই লোকটার সাথে তাকে অল্প একটু হলেও মানাতো।একদম বুক পর্যন্ত সে।
সাফাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাফিন হাঁসি থামিয়ে বলে,
-ঘাড়টা ভেঙে যাবে হা করে তাকিয়ে আছো কেনো? আমাকে আগে দেখোনি?
-আপনি খুব কম হাঁসেন।অথচ আপনার হাঁসি কত সুন্দর।
রাফিন থমথমে মুখ করে বের হতে হতে বলে,
-হাঁসির জন্য কারণ লাগে।আমার কারণ এখন অন্যের কাছে।
সাফা একপ্রকার জোরেই বলে,
-অন্যের জিনিসের আশায় না থেকে নিজেরটার দিকেই নজর দিতে পারেন মাস্টার মশাই।
রাফিন দরজার বাহিরে গিয়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পা থামিয়ে ভাবে “অন্যের জিনিস?”

জিয়ানার হঠাৎ আগমনে আঞ্জুমান আর জিয়াউল দুইজনেই খুশি।আঞ্জুমান ঝটপট ফ্রিজ থেকে বড় কাতল মাছ বের করে আলু বেগুন দিয়ে ঝোল রেধে ফেলেছে।সাথে পটল ভাজা।আর পাতলা মসুর ডাল।তিনজন মিলে আজ জমিয়ে ডিনার করেছে।জিয়ানা পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছে আর ভেবেছে নূর ম্যানসনের দশ বারোটা সেফের ডিসের তুলনায় আঞ্জুমানের এই সাধারণ রান্নার কতটা অসাধারণ। দেশি সস্তা খাবার আঙুল চেটে খাওয়ার মাঝে যে তৃপ্তি থাকে তা চামচ দিয়ে লাখ টাকার বিদেশি খাবারে কানাকড়িও নেই।
খাবার খাওয়ার পরই জিয়ানা জিয়াউলের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।জিয়াউল বুঝতে পেরেছে কোন কারণে জিয়ানা ডিস্ট্রাব।এইজন্য কেনো অসময়ে এসেছে একবারও জিজ্ঞেস করেনি।দেখা যাবে জিজ্ঞেস করায় যেমন এসেছিলো আবার উল্টা ঘুরে চলে যাচ্ছে।
সময় দিচ্ছে নিজে থেকে বলার জন্য।কিছুক্ষন পর জিয়ানা মুখ খুলে।কোলে শুয়েই বলে,

-আব্বু?
-হুম?
-আবেগ আর ভালোবাসা কি এক?
-না। আবেগ বয়সের সাথে সাথে নাই হয়ে যায়। আর ভালোবাসা চিরস্থায়ী। তবে আবেগকে আমরা ভালোবাসা বলে ভুল করি।
-আচ্ছা তবে যারা প্রতিমাসে প্রেমে পড়ে তারা তো এই লজিকে বলতেই পারে ,তুমি আমার আবেগ আমি ভালোবাসা ভেবে ভুল করেছি? পার্দন মি।
বলে ফিক করে হেঁসে দেয় জিয়ানা।জিয়াউল এইসবে অভ্যস্ত সাথে জিয়ানার উল্টাপাল্টা প্রশ্নের উত্তর সুন্দর করে দিতেও পারে।

-প্রেম আর ভালোবাসা দুইটা ভিন্ন জিনিস আম্মু।ভালোবাসা সার্বজনীন। আর প্রেম স্পেসিফিক কিছু মানুষের জন্য আসে। বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে প্রেম থেকে পার্মানেন্ট ভালোবাসায় পরিনত হয় কখনো কখনো।তবে অধিকাংশ সময়ে মানুষ গিল্টি ফিল করে প্রেমকে প্রেমের জায়গায় না রেখে পার্মানেন্টলি করে নেয়ার জন্য।
-আচ্ছা ক্যাপ্টেন? তুমি একজন সোলজার হয়ে এসব আলতু ফালতু জিনিস নিয়ে ভাবো কিভাবে? আর বিশ্বাস কি সহজেই কাউকে করা যায়? একটা সম্পর্কের দোহাই দিয়ে একশো পার্সেন্ট বিশ্বাস করা সম্ভব?
-বিশ্বাস কখনোই চাপানো যায় না ,অর্জন করতে হয়।(সমরেশ মজুমদার ) জন্মগত কিছু সম্পর্ক ছাড়া সব সম্পর্কেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয়।তা নাহলে কার কি ঠেকা পড়েছে অহেতুক কাউকে না জেনে না বুঝে বিশ্বাস করবে?
-হুম ঠিক।কিন্তু যারা ভালোবাসায় বিশ্বাসী না। তাদের তো আর কোন দায়বদ্ধতা নেই যে ,তাকে কে বিশ্বাস করলো বা করলো না?

-প্রতিটা মানুষের দায়বদ্ধতা আছে।সেটা কেউ কেউ স্বীকার করে না।সেটা আপন মানুষকে বুঝে নিতে হয়।আপন মানুষ যদি নাই বুঝতে পারে তবে কিসের আপন মানুষ? আপন হিসেবে তবে ব্যার্থ হয়ে যাবে না?
বলে জিয়ানার চুলে বিলি কাটে জিয়াউল।
-যাদের কোন আপন মানুষ নেই? কোন শেকড় নেই? সামাজিক স্বীকৃতি নেই?
জিয়ানার কন্ঠ কিঞ্চিৎ কেপে উঠলো।জিয়াউল থমকে তাকালো জিয়ানার দিকে।এত বড় কথা জিজ্ঞেস করলো কেনো জিয়ানা।তবুও উল্টা প্রশ্ন না করে বলে,
-যখন কষ্ট জমা হতে হতে হৃদয়ে কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠবে আর নিজেকে মনে হবে সেরা ব্যার্থ।তখনই বুঝতে হবে কষ্টের শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছি।প্রতিটা মানুষেরই আপন মানুষ আছে,আত্মার মানুষ আছে।আর আত্মার মানুষই পরম আপন।

“তুমি সাগরের মাঝে এক বিন্দু জল নও ,একবিন্দু জলের মধ্যেই গোটা সাগর-জালাল উদ্দিন রুমি”
তোমার আপন কেউ নেই কিন্তু তুমি সবার আপন হবে।
জিয়ানা নিজেকে সামলাতে পারে না।ভেতর থেকে দলা পাকানো কান্নারা ফুলে ফেপে বের হতে চাচ্ছে যেনো।আর একটু সেটে যায় জিয়াউলের কোলের উপর।জিয়াউলের ভয় লাগে জিয়ানার এরুপ প্রশ্নে।তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলে,

-“একটা ভালো কাজ করে নদীতে ফেলে দাও,একদিন মরুভূমিতে তোমার কাজে আসবে- জালাল উদ্দীন রুমি”
-আমি অহেতুক মরুভূমিতে মরতে যাবো কেনো?জানো আব্বু? নূর ম্যানসন আমাদের জানার চেয়েও রহস্যময় আর দুঃখী।এত এত প্রতিপত্তির মাঝে কোন একটা মানুষও সুখী না।আমার এই দুইদিনে মনে হয়েছে এগুলা সহায়সম্পদ না, বান্ডিল অফ বিষ। যা তারা না গিলতে পারছে আর না পারছে উগলে দিতে।
-“জালাল উদ্দীন রুমিকে প্রশ্ন করা হলো ,বিষ কি?
উনি উত্তরে দিলেন, মানুষের প্রয়োজনের বেশি যা কিছু আছে সেটাই বিষ। ” তাই যাদের বেশি আছে তারা বাহির থেকে সুখী সমৃদ্ধশালী দেখতে হলেও তারা আসলে সুখী সুখী ভান করা প্রচন্ড দুঃখী মানুষ।
-কিন্তু ওরা তো সফল আব্বু?প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্যারিয়ারে চমৎকার ইনক্রিজিং।তবে কেনো ঝা চকচকে প্রাসাদে থেকেও এরা প্রচন্ড একা?

-এলভিস প্রিসলি ,রোল এন্ড রকের জনক।৭১টা ব্র‍্যান্ড তার নামে চলতো। প্রথম সেলিব্রিটি যিনি প্রাইভেট জেটে যাতায়াত করতেন।মাইকেল জ্যাকসন লাখ ডলারের বিছানায় দশটা ঘুমের টেবলেট খেয়েও দুই ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারতো না। রবিন উইলিয়ামস, ডেল কার্নেগী সবারই একই সমস্যা। একাকীত্ব। লাখ টাকার বিছানায় এদের ঘুম হতো না।সাফল্য কখনই শান্তি আনে না।
জিগানার ভেতরটা হালকা হয়ে আসছে ক্রমান্বয়ে। একবার মাথা উঁচ করে জিয়াউলের মুখের দিকে তাকায়।পাশে জালাল উদ্দীন রুমির একশো উক্তির বই।মুচড় দিয়ে উঠে বসে বলে,
-ওরে বাটপার এই বই পড়ছো বলেই রুমী মশাইয়ের সব ডায়লগ দিচ্ছো তাই না?
জিয়াউল মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝিয়ে অট্টহাসি দিয়ে উঠে সাথে জিয়ানাও হাঁসতে থাকে।ড্রয়িং রুম থেকে আঞ্জুমান বাপ বেটির হাঁসি শুনে মুচকি হাঁসে। এই দুইজন মানিকজোড়। একে অন্যের মোটিভেশনাল স্পিকার।

জিয়ানা জিয়াউলের সাথে গল্প করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়েছে।দুই রাতের ঘুম জাগা সাথে সারাদিনের শারিরীক আর মানষিক টানাপোড়নে প্রচন্ড ক্লান্ত থাকায় নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে কাদা।
মধ্যরাতের কিছুটা পরে নিবিড় আসে জিয়াউলের ফ্ল্যাটে।ঢুকেই সালাম টালাম কিচ্ছু না দিয়ে “জিয়ানাকে নিতে এসেছি “বলে খোঁজা শুরু করলো। আঞ্জুমান অবাক হয় না এই ছেলের ব্যবহার দেখে।জন্মের সময় মধু তো দূর কি বাদ নিশ্চিত একে নিম পাতার রস দেয়া হয়েছিলো। কেমন উদ্ধৃত আচরণ।নিজের বিরক্ত নিজের কাছে চেপে রেখে বলে,

-অনেক রাত হয়ে গেছে তাছাড়া জিয়ু অলরেডি ঘুমিয়ে গেছে। আজ থাকুক।
-ঠিক আছে।
বলে জিয়াউলের রুমে ঢুকে দেখে জিয়ানা জিয়াউলের কোলে মাথা রেখে বিড়াল ছানার মতো গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে।জিয়াউলও বালিশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে ওই অবস্থায় ,পাছে ঘুম না ভাঙে তাই নড়াচড়া করেনি।
নিবিড়ের মোটেও ভালো লাগলো না এটা। বাপ হোক আর যায় হোক এখন তার বউ তার কাছে ছাড়া আর কারো এত কাছে কেনো আসবে।থমথমিয়ে এগিয়ে গিয়ে জিয়ানাকে পাজাকোলে তুলে নেয়।জিয়াউলের কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়াই ধরফর করে সোজা হয়ে বসে।নিবিড়ের সেই দিকে খেয়াল নেই।সটান জিয়ানাকে নিয়ে জিয়ানার রুমে ঢুকে পা দিয়ে দরজা আটকে বিছানায় এলিয়ে দেয়।

আবার দরজার দিকে গিয়ে লক করে নিজের পরিধেয় শার্ট খুলে ছুড়ে মারে ফ্লোরে। জিয়ানার বিছানায় হাটু মারার সাথে সাথেই কটমট করে খাটটা আর্তনাদ করে উঠে।নিবিড় মনে মনে খাটটাকে অকথ্য গালাগালি করে ঝুকে যায় জিয়ানার দিকে।তারপর পেছেন থেকে জিয়ানাকে নিজের কাছে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে গিয়ে বলে,
-প্রকৃত বুদ্ধিমান ছাড়া নিখুঁত ভান করা বেশ শক্ত।আমার বউ যে বুদ্ধিমান সেটা আজ আবার প্রমাণ হলো।
জিয়ানার ঘুম কোলে নেয়ার সময়ই ভেঙে গেছে।তারপর অত বছরের দূর্বল খাট টার করুন আর্তনাদে একশো বছরের নিদ্রাও গায়েব হয়ে যাবে।তবুও নড়াচড়া করলো না।অপরদিকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা জিয়ানাকে পেয়ে সুবিধায় হলো নিবিড়ের।জিয়ানার শরীরে বিচরণ করতে সুবিধা হচ্ছে। বিশাল হাত যখন সমান্তরাল ভূমি ছেড়ে উচ্চতায় উঠা শুরু করলো জিয়ানার ধৈর্য্যের বাদ ছুটে যায়।নিজের হাতের কনুই দিয়ে নিবিড়ের পেটে আঘাত করে চড়াক করে উঠে যায়।হঠাৎ আক্রমণে নিবিড় পাশ থেকে সোজা হয়ে গেছে।জিয়ানা নিজের স্কার্ট ভাজ করে নিবিড়ের কোমড়ের উপর বসে চোখ পাকিয়ে দাঁতে দাঁত কিড়মিড় করে।নিবিড় নিজের দুইহাত হাত ঘাড়ের নিচে নিয়ে বলে,

-বাংলোতে ঢুকলে কিভাবে? একটু ভয় করেনি?
জিয়ানা উত্তর না দিয়ে ঝুকে নিবিড়ের উন্মুক বুকের ডান পাশের মাসলে কামড়ে ধরে শক্ত করে। নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-লাভ বাইট? আই ডোন্ট মাইন্ড। ক্যারি অন..
জিয়ানা দাঁত আগলা করে উঠে বসে দুই হাতে নিবিড়ের চুল মুঠোয় নিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
-এবার?
নিবিড় নিজেও জিয়ানার চুল মুঠোয় নিয়ে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে বলে,
-বিশ্বাস করো না?
-অবিশ্বাসের জায়গা নেই আমার মাঝে।
-তবে কেনো গেছো?
-রাজনৈতিক কি চুক্তি করেন সেটা জানতে।
-অন্য কিছু না?

-ওইটা মিন করছেন?ওই বিষয়ে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায় আপনাকে।নিশ্চয়ই কোন মেয়ে আপনাকে মনে করিয়ে দিবে না সে জিয়ানা।তাকে আদর…
নিবিড় আপাতত কথা বলার রাস্তা ব্লক করে রেখেছে।সেটা এখন তার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি।নিজে ডুবে গেছে সেথায়।
বিশ্বচরাচর ভুলে দুটো শরীর এক হতে চাচ্ছে।কিন্তু জিয়ানার মুখ তো মুখ না মাইন বো*ম একটা। সে নিচ থেকে চাপা স্বরে বলে উঠলো ,

-কালকের মতো বারবার মনে করিয়ে দিতে পারবো না।
-তুমি খুব ডিস্টার্ব করেছো কাল।তোমার উচিত ছিলো এনজয় করা।
-হ্যাঁ এনজয় না? রোলার গাড়ির নিচে পিষ্ঠ হয়ে রাস্তা যেমন সমান্তরাল হয় ঠিক তেমন এনজয় করেছি।
-আজকে তেমন হবে না। আই প্রমিস?
-আপনি এত জানলেন কিভাবে? ওয়েট আপনি কত ঘাটের পানি খেয়েছেন?
-মুড খারাপ হলে কিন্তু তোমার খবর আছে?
-ওই শাকচুন্নির কাছে গিয়ে রং ঢং করে এসে আমাকে শাসাচ্ছেন? আপনার লম্বা চুল আমি ন্যাড়া করে দিবো সুখ?আমার মেজাজ দ্বিগুণ ,না চারগুন বেশি খারাপ।
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,

-আমার বউ জেলাস দেখি?
-ঠিক আছে আমিও কাল রাফিন স্যারের সাথে এইভাবে একটা ফটো উঠিয়ে সোসাল সাইটে আপ দি….
মিনিট খানেক পর জিয়ানা চিল্লিয়ে উঠলে নিবিড় মুখ চেপে ধরে বলে,
-আই কোডন’ট ওনার ইউ টু নাইট।এন্ড ফর দ্যাট আম নট সরি এট অল।

নিবিড় আজ সত্যি ওনার করেনি।ওউন করে নিয়েছে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে।জিয়ানা মুখ ফুলিয়ে খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।নিবিড় ফুলো গালে ছোট ছোট চুমু এঁকে বলে,
-এত অবাধ্য কেনো তুমি?
জিয়ানা উত্তর করে না। নিবিড় জিয়ানার একেবারে কাছে এসে উন্মুক্ত ক্লিভেজে নাক ঘষে বলে,
-আমি দুপুর থেকে না খেয়ে আছি চাঁদ।
এতক্ষণে জিয়ানার টনক নড়ে।উঠে বসে বলে,
-আমাদের কিন্তু আপনাদের মতো দশ বারোটা ডিসেস থাকে না।দুই তিনটা দেশি রান্না সাথে প্লেন ভাত।চলবে?
-এনিথিং ওকে উইথ হট জিয়ানা।
জিয়ানা চোখ পাকিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়।তারপর রান্নাঘর থেকে মিনিট পাচেক পর ফিরে আসে ট্রেতে করে খাবার নিয়ে।
নিবিড়ের দিকে বাড়িয়ে দেয় ট্রে টা।কিন্তু নিবিড় একবার খাবার গুলা দেখে বলে,

-থাক রেখো আসো ক্ষুধা চলে গেছে।
জিয়ানা বুঝে কেনো এই বাহানা দেখাচ্ছে।কোন চামচ নেই ,লাটের ব্যাটারা তো আবার হাত দিয়ে খান না। জিয়ানা নিজেই ভাতের প্লেটে পটল ভাজা আর ডাল নিয়ে বলে,
-মিক্সড করে খেয়েছেন কখনো? নেন খেয়ে দেখুন বেশ মজা। পাতলা ডালের সাথে যেকোন ভাজা কিংবা মাংস।
নিবিড়ের মুখে লোকমা উঠিয়ে আবার বলে,
-আপনার ভাগ্য ভালো মধ্যবিত্তদের ঘরে রাতে খাওয়ার পর এক্সট্রা কিছু থাকে না।মাছের তরকারিতে এক টুকরা আলো আর সবজি পড়ে থাকে। তরকারিতে মাছ দেয়া হয় মানুষ অনুযায়ী গুনে গুনে।আম্মু আমার জন্য দুইপিস দিয়েছিলো কিন্তু আমি এক পিস খেয়েছি তাই এটা বেঁচে ছিলো।
নিবিড় ভাত চিবাতে চিবাতে জিয়ানাকে দেখতে থাকে।ছোট ছোট ঠোঁট গুলো অল্প নেড়ে কথা বলার সময় বুঁচা নাকটা ফুলে উঠে।সাথে ব্রাউন চোখের আকার ছোট বড় হয় অনবরত। এই মেয়ের চোখ দুটো অসম্ভব রকমের সুন্দর। নিবিড়ের চেহারা গবেষণার মাঝেই জিয়ানা তাকে এক প্লেট ভাত খাইয়ে দিয়েছে। পানির গ্লাস হাতে দেয়ায় নিবিড় বুঝতে পারলো সে পুরো প্লেট ভাত খেয়ে ফেলেছে শুধু পটল ভাজা আর ডাল দিয়েই
জিয়ানা খাওয়া শেষে জিজ্ঞেস করে ,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬১

-আপনারা অল্প স্বচ্ছ রাজনীতি করতে পারেন না তাই না?জনগনের কোন চিন্তায় আপনাদের মাথায় আসে না?
-আমার জন্মই যেহেতু খনিকের উন্মাদনায় তবে আমি কেনো এত অন্যের উপকারের কথা ভাববো?
জিয়ানা বড় করে তাকায় নিবিড়ের দিকে।নিবিড় আবার বিছানায় শুয়ে বলে,
-মানুষের জন্ম পরিচয় বিশেষ ভেলিড কিছু না ,নিজের মাঝে একটা আরাম বোধ হয় এটাই ফ্যাক্ট।আমি সেই আরামকে কবেই ছুড়ে ফেলেছি।এখন একটা আস্ত চাঁদ আমার সমগ্র আরাম জোরে।ব্যাস আর কি চায়?

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৩