নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৫
আশিকা আক্তার সোহাগী
মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড তার ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস’বইয়ে বলেন”স্বপ্ন হলো আমাদের অবচেতন মনের প্রতিফলন। স্বপ্নের মাধ্যমে আমাদের অবদমিত ইচ্ছা ,আবেগ এবং ভয় গুলো প্রকাশিত হয়।”
গা কাপিয়ে জ্বর এসেছে নিবিড়ের। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে জিয়ানাকে।নিবিড়ের গায়ের তাপে জিয়ানার শরীর শীতাতপ ঘরেও কুলকুল করে ঘামছে।মক্কু আর আকাশ ধরে নিবিড়কে বেডরুমে এনেছে।জ্বরে কাহিল হয়েও সবাইকে শাসিয়েছে’খবরদার কেউ আমার বউয়ের দিকে তাকাবি না।’আবার জিয়ানার দিকে লাল চোখে ঝুকে তাকিয়ে বলে,’মারবো এক থা*প্পর। শাড়ি পড়তে কে বলেছে তোমাকে?শরীর দেখানো হচ্ছে?ছেলেদের ইন্টেনশন তুমি জানো?’
নানা প্যাচালে জিয়ানার কানে তালা লেগে গেছে।শাড়ি কোমরে গুজে নিবিড়ের শরীর কুসুম গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জ করে দেয়।ফিশফ্যাশ রাইস করে খাইয়ে প্যারাসিটামল খাইয়েছে।কিন্তু জিয়ানাকে যে আকড়ে ধরেছে আর ছাড়ছে না।নিশ্বাসের ভারি আওয়াজে বুঝা যাচ্ছে গভীর ঘুমে আছে।
এখন জিয়ানার শাড়ি তার গায়ে কম নিবিড়ের শরীরের প্যাচানো বেশি।নিবিড় ছোট বাচ্চার মতো নাক ঘষে জিয়ানার গলায়।হাত দিয়ে আলতো ছুঁয়ে দেখে চোখ ,নাক আর মুখ।তারপর বিড়বিড় করে কিছু বলে।জিয়ানা কানখাড়া করে শোনার চেষ্টা করে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
‘ফু-আ-আম্মু ও ও…. ‘
জিয়ানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,’তোর ফু-আম্মুর মেয়ে। বদের বদ ফু-আম্মু কি রকম ডাকরে?যত্তসব ভুজুংভাজুং ডাক।আমি তোর বউ, ফু-বউ।’
বলে নিবিড়ের মাথা ভর্তি চুল অযথা গুছানোর চেষ্টা চালায়।এত সিল্কি স্মোদ চুল কোন ব্যাটা মানুষের হতে পারে জিয়ানার জানা ছিলো না।মাথা ভর্তি ঝলমলে চুল।এইলোক মডেলিং এ নামলে রাতারাতি হিট খাবে।
নিবিড় ভাঙা ভাঙা কন্ঠে আবার বলে,’ফু-আম্মু স্বপ্না আম্মু পঁচা।রুপমামু তাকে মেরেছে।গাল লাল করে দিয়েছে মেরে।’
জিয়ানার ফাইজলামি মুড বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।সে কান নিবিড়ের মুখের কাছে আনে,’স্বপ্না আম্মুকে মেহেদীর বাবা আজ রুম থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে……’
চারপাশ রাতের শুনশান নীরবতা। জিয়ানা এলোমেলো কাপড়ে নিবিড়ের বাহুবন্দী।কিছুক্ষণ পর পর নিবিড় থেমে থেমে স্বপ্নার কথা বলছে।সব নীলুফার কাছে বিচার টাইপ।এখন আবার বলে,’আমার জন্য খাসির লেগপিস চেয়ে রনির আম্মুর কাছে থা*প্পর খেয়েছে স্বপ্না আম্মু।আম্মুর কি লজ্জা লাগে না এত বড় মানুষ হয়ে মা*র খে….’
জিয়ানা আলতো ঝাকি দিয়ে নিবিড়কে সজাগ করার চেষ্টা করে বলে,’আচ্ছা সুখ আজ থেকে একটা ডিল করি।তুমি যখন ঘোরে থাকবে আমি তখন তুমি বলে সম্মোধন করবো।এখন আসল কথায় আসি।তোমার একান্ত আপনজন কে কে?’
নিবিড় সাড়া দেয় না।জিয়ানা তেতে উঠে বলে,’আবে এখন কথা বালতি বান্ধ?এতক্ষণ কানের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।তবে শুনোন সুখ রুপী দুঃখী মানুষ। কাল থেকে আমি আপনার অবাধ্য হবো।আপনি মা*রুন আর ধরুন।আপনার হানিটেপে আর পা দিবো না।আমার আর ধৈর্য্য নেই।শফিক আংকেল যখনই নকশাটা দিবে তখন থেকেই জিয়ানা নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।এর আগে শুনোন ভন্ডলোক ,আপনার মতো অসৎ লোককে আমি জিয়ানা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।আপনার মতো স্বার্থপর ,বদ নিবিড়কে আমি আমার সব স্বার্থের উর্ধে রেখেছি। আপনার মতো কন্টক জবানের মানুষটার চুম্বনে আমি জিয়ানা হক শিহরিত হয়েছি।আপনার প্রতিটা আলতো স্পর্শে আমার শরীরে বাধভাঙ্গা ভালোলাগা কুঞ্চন তুলেছে।
আপনার আদরে আদরে মুচড়ে উঠেও আমি সজীবতা পেয়েছি।আপনার বীজে আমি মেয়ে থেকে নারী হয়েছি।আপনার প্রতিটা ধমক আর চোখ রাঙানোতে আমি পিছলে পিছলে পড়েছি প্রেম নামের অসুখে।আজীবন এই অসুখ এখন আমাকে খুটেখুটে খাবে।আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন আপনার জীবনের তিনজন নারীকেই আপনি প্রাণের অধিক ভালোবাসেন।এবং যেদিন এটা স্বীকার করবেন সেদিন আমার জন্ম সার্থক হবে।’
আচম্বিতে জিয়ানা অহেতুক দূরে সরার চেষ্টা করে কিছু একটা ভাবে তারপর ফট করে নিজের কথায় ব্যাঙ্গ করে বলে,
‘জন্ম সার্থক হবে? ইয়াক নো।আপনার সাথে আমার বিয়ে না হলে কি আমি অসার্থক?নো ওয়ে আমি জিয়ানা মানেই বিজয়ী।আপনি সুখ কোথাকার কে হ্যাঁ? কোন কবির আত্মা যে ভর করেছিলো তাই ওইসব সাহিত্যক বাতেলা কথাবার্তা বলে ফেলেছি।এটা সত্যি আমি আপনাকে ভালোবাসি।তারমানে এই না যে জন্ম সার্থক হয়ে গেছে।ছ্যাহ জিয়ানা কি অধঃপতন তোর।’
মুচকি হাঁসে নিবিড়। ঝাকি দেয়ার পরেই তার ঘুম ভেঙে গেছে।এই যে তোতাপাখির মতো তার বউটা অদ্ভুত ,পাগল আর ভেতর বাহির এক মিশ্রণে তৈরি।সে সত্যি এই অদ্ভুত মেয়েটাকে ভালোবাসে।দুইজন মানুষ তার কাছে নেই কিন্তু জিয়ানা আছে ভেবেই নিশ্বাস এখনো চলছে।নিজ স্বার্থে হোক কিংবা ভন্ডদের দেয়া নাম ভালোবাসায় হোক ,এই মেয়েটাই তার প্রাণ।এর গায়ে একটা টোকা পড়লে নিবিড় দুনিয়া ধ্বংস করে দিতে পারে।
কিছুক্ষণ পর অন্ধকারের নিস্তব্ধতা বেধ করে নিবিড় মাথা উঠিয়ে তাকায়।
জিয়ানার ভারি নিশ্বাস পড়ছে।ড্রিম লাইটের আলোয় জিয়ানার মুখটা নিবিড়ের কাছে কড়া নেশার মতো মনে হয়। মন আর মস্তিষ্কে্র সাথে শরীরের পুরুষস্বত্তা জেগে উঠে।জিয়ানা উল্টা ঘুরে শুয়ে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,’আপনার নিজের রাগ আর শরীরের উপর কোন কন্ট্রোল নেই সুখ।সুতরাং আপনি আম আদমী।অত ভং ধরে নিজেকে আলাদা প্রমাণের কোন মানেই হয় না।’
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে জিয়ানাকে কাছে এনে বলে,’নকশার জন্য কোথায় কোথায় গেছো?নকশা তো আমার কাছেই আছে।সেদিন মেহেদী যেটা দিয়েছে সেটাই নকশা।কিন্তু প্যানেল গুলাতে ঢুকানোর মতো বিশ্বস্ত মানুষ পাচ্ছি না বলেই আগাতে পারছি না।জিয়ানা চড়াক করে উঠে বসে বলে,
‘নকশাটা দেন আমাকে।সব গুলা প্যানেলে চেক করতে হবে না। চেয়ারম্যানের অফিসের এটাচ বাথরুমের সামনের প্যানেল টাই হচ্ছে সিক্রেট পাস।যেটার মাথা শুরু হয়েছে দক্ষিন দিকের করিডোরের সামনে রাখা বড় বড় বনসাই গাছের নিচ থেকে। দক্ষিনের প্রথম তিনটা টবের নিচেই রাস্তা আছে।আমি সেন্ট পার্সেন্ট নিশ্চিত। ‘
নিবিড় অবাক ভাব গিলে বলে,’তুমি কি অফিস রুমে গিয়েছো?’
‘আজ সকালে গিয়ে নিজ চোক্ষে দেখে এসেছি।’
নিবিড় জিয়ানাকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে বলে ,
‘কেনো চাঁদ?কেনো এত অবাধ্য তুমি।আমি তোমাকে কথা দিয়েছি না? নীলকে ফিরিয়ে আনবো?একটুও ভরসা করা যায় না?’
‘আপনি খুব স্লো আগাচ্ছেন সুখ?আমার ধৈর্য্য শেষ। ‘
‘একটা গ্রুপের চোখ ফাঁকি দিয়ে আগাতে হয় জিয়ানা।ওরা কোথায় কোথায় মিশে আছে কেউ ধরতেও পারবে না।তাই এক্ষেত্রে নিজেকে ছাড়া আমি আর কাউকে বিশ্বাস করি না।’
‘আপনি জানেন আমার ভাই কোথায়?’
‘একবছর আগেও ছিলো ইউপি চেয়ারম্যান অফিসের টর্চার সেলে।কিন্তু তোমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’
‘ওরসাথে রুপকের কি শত্রুতা?’
‘আমি ভেবেছিলাম সম্পত্তির জন্য।কিন্তু ইদানীং মনে হয় অন্যকোন কারণে জীবিত রেখেছে। অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে যা আমরা ধারনাও করতে পারছি না।’
‘আচ্ছা আমরা তো জানলাম এন্ট্রির ওয়েটা ,তবে কোনভাবে রুপককে যদি বাহিরে ব্যাস্ত রেখে আমরা ঢুকে যায় সে পথে?’
নিবিড় জিয়ানার মাথায় টোকা দিয়ে বলে,’ চমৎকার এই মাথায় মাঝেমধ্যে কি বাল্ব ফিউজড হয়ে যায়? ‘
‘এখানে বাত্তি ফিউজডের কি সম্পর্ক? ‘
‘আমি এই সিক্রেট পাস নিয়ে গবেষণা করছি আজ প্রায় আট বছর ধরে। রাস্তা আমার জানা ছিলো না সত্যি তবে রাস্তায় কি কি আছে আমি জানি।’
জিয়ানা কৌতুহলী হয়ে নিবিড়ের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বাবু হয়ে বসে বলে,’ কি কি আছে? সেখানে না গিয়ে কিভাবে জানলেন?’
‘চেয়াম্যানের গায়ের চাদরটা খেয়াল করেছো?শীত ,গ্রীষ্ম ,বর্ষায় সেটা সাথেই থাকে?’
জিয়ানা মাথা নাড়ায়।নিবিড় আবার বলে,
‘সেই চাদর নিয়ে আমার সন্দেহ ছিলো শুরু থেকেই।সেটার একটা সুতা নিয়ে আমি টেস্ট করি। যাতে মিশানো আছে উচ্চমাত্রায় কার্বলিক এসিড।সিক্রেট পাসে হইতো অসংখ্য বিষাক্ত সাপ ছাড়া আছে তাই নিজের সুরক্ষার জন্য উনি এটা ক্যারি করেন।’
জিয়ানা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে ,’আর?’
‘আর আছে উন্নত লেজার রশ্মির লক।’
‘কিভাবে বুঝলেন সেটা?’
‘উনার জুতার হাল দেখে।প্রায় প্রতি সপ্তাহে নতুন জুতা আসে অফিসে।পুরাতন গুলা ফেলা হয় নিকটস্থ বিনে।আমি কালেক্ট করে দেখেছি জুতার চারপাশ আগুনের তাপে গলার মতো এবড়োথেবড়ো করে কাটা।’
জিয়ানা নিবিড়ের বাহুতে একটা চ*ড় দিয়ে বলে,
‘জিনিয়াস।আপনার আইকিউ নিশ্চিত ২৩০।আপনি গ্রিনিচ বুকে জায়গা পাবেন নিশ্চিত।’
‘গ্রিনিচ বুকে লাগবে না আপাতত জিয়ানার বুকে চাই।’
জিয়ানা ফট করে শুয়ে পড়ে বলে,’জিয়ানা ঘুম।’
নিবিড় পিলপিল করে নিজের হাত দিয়ে জিয়ানার পিঠ বেয়ে উঠে।জিয়ানা ঠোঁট কামড়ে চুপ করেই থাকে।নিবিড়ের দুষ্টুমি বাড়ে।সাথে বাড়ে রাতের গভীরতা। জিয়ানা মেকি রাগ দেখিয়ে বলে,’এই আপনার না জ্বর ছিলো একটু আগে। এত তাড়াতাড়ি ফুরফুরে হলেন কিভাবে?আর আপনি দিনেই ভালো থাকেন রাত হলেই ভন্ডামি শুধু করেন।’
‘সামটাইমস বিং নিবিড় ইজ বোরিং। তোমার এই প্রভোকিং স্মেল আমাকে ভালো থাকতে দেয় না।’
‘হ্যাঁ যত্তসব ফাজলামির কথা। জ্বর কমেছে যান আপনার সাঙ্গু পাঙ্গুরা অপেক্ষা করছে।তাদের আবার ভাই অন্তপ্রাণ।’
‘পরে আগে একটু….’
‘আচ্ছা সুখ আপনি টিথ মুভিটা দেখেছেন?যেখানে একটা মেয়ের সিক্রেট পার্টে ইনভিজিবল টিথ ছিলো।তাকে কেউ জোরজবরদস্তি করলে সেই টিথ ভিজিবল হতো।আর রেপিষ্টের লিঙ্গ কেটে দিতো।’
ফট করে নিবিড় জিয়ানাকে ছেড়ে দেয়।তাকে রেপিষ্টের সাথে তুলনা করা।মুখ অন্ধকার করা দেখে জিয়ানা জিজ্ঞেস করে ,’কি হলো?’
‘হাউ ডিয়ার ইউ কমপেয়ার মি টু আ রেপিষ্ট?’
‘আরেহ তুলনা করতে যাবো কেনো?কি আশ্চর্য? টিনএইজের বাচ্চাদের মতো করছেন কেনো?’
বলে হাত টেনে ধরে নিবিড়ের।নিবিড় হাত ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে যায়।জিয়ানা এলোমেলো শাড়ির আঁচল বুকে জড়িয়ে নিবিড়ের পা টেনে ধরে টুকুটুকু করে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করে। নিবিড়ের রাগ গলে যায়।তবুও ভান করে পা ছাড়ানোর চেষ্টা করে। জিয়ানা বলে,
‘আহা আপনি তো আচ্ছা খেচর পাবলিক সুখ?স্যাসিও আপনার চেয়ে ভালো আছে।অহেতুক রাগ দেখায় না।শুনোন আমি সেটা মিন করিনি। ‘
‘সব সময় সব কথা বলা যায় না জিয়ানা।মুডটাই খারাপ করে দিয়েছো?’
‘আচ্ছা ভুল সময়ে ভুল কথা বলার জন্য দুঃখীত।এবার হয়েছে?’
‘নো।’
‘আসুন চু*মু দিয়ে রাগ কমিয়ে দিচ্ছি।’
নিবিড় ফট করে বসে ঠোঁট এগিয়ে দিয়ে বলে,
‘সকল প্রকার চু*মু দিতে হবে।স্টার্ট নাও ফাষ্ট।’
‘বেবি কিস ছাড়া আর কিছু পারি না।চলবে?’
নিবিড় কাতুকুতু দেয়া শুরু করে বলে,
‘আমার সাথে চালাকি?’
‘উমুহু। আপনি যে রাগের ভং ধরেছেন সেটা বুঝা গেছে।চালাকি করতে হয়নি।’
খিলখিলিয়ে হেঁটে উঠে জিয়ানা। নিবিড়ও সাধ দেয় তার। চার দেয়ালের মাঝে জিয়াসুখের খুনসুটি চলতে থাকে আরও কিছুক্ষণ।
ড্রয়িংরুম থেকে আকাশ তালহার পেটে গুতো দিয়ে বলে,
“ভাইয়ের মনে হয় জ্বরের কারণে স্মৃতিশক্তি চইল্লা গেছে।কেমন প্রাণখোলা হাঁসি দিতাছে?’
মক্কু মুচকি হেঁসে বলে,
‘ভাই একমাত্র নিজের প্রাণের কাছেই প্রাণখোলা। ‘
প্ল্যান চেঞ্জের জন্য অ*স্ত্রের রুমের মাঝখানে গোল হয়ে বসেছে সবাই।জিয়ানা ঘুমিয়ে আছে বেডরুমে।আকাশ হাত তুলে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ভাই একটা অফ টপিক কুয়েশ্চন আছে? করি?’
‘কুইক।’
‘আমাদের সাথে থাকলে আপনি সিংহের মতো গম্ভীর থাকেন আবার ভাবির সাথে দিলখোলা এর কারণ কি?’
‘পাথর নিজেও চায় ভারি বর্ষণে ভিজে নিজের কঠোরতা দুদন্ডের জন্য ভুলে যেতে।ঠিক তেমনই পুরুষও চায় তাদের রুক্ষ শুষ্ক জীবনে বৃষ্টি হয়ে আগমন ঘটুক কোন নারীর।যার সংস্পর্শে পুরুষের কঠোরতা ঢাকা পড়ে যাবে।এবার কাজের কথা শুরু করি?’
আকাশ ঘাড় চুলকে ভাবে ‘আরেব্বাস খাটাসের মতো ব্যবহার করা ভাই বউয়ের সংস্পর্শে কেমন কবি কবি কথা বলতাছে।আহা তার বউ নাই কেন?’
এরমাঝে নিবিড় কথা বলা শুরু করে।
‘প্ল্যানে আমি চেইঞ্জ এনেছি সেন্ট পার্সেন্ট।নির্বাচন বানচাল করতে হবে।মামুর জনপ্রিয় ইউনিয়ন আছে চারটা।সেগুলার প্রতিটার কেন্দ্রে গোপনে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকবে। আর সাভার ইউনিয়নের কিছুকেন্দ্র যেমন,পোড়াবাড়ি ,মল্লিকার টেক,ঘোড়াদিয়া, চাপাইন,ধরেন্ডা,নামাগেন্ডা তে কিছু রেন্টের ছেলেপেলে নিযুক্ত থাকবে। এদের কাজ হলো কোন কিছু নিয়ে কেন্দ্রে ঝামেলা করে ভোটাভুটি বন্ধ করে দেয়া।
বাকি আমিনবাজার , আশুলিয়া ,ধামসেনা ,পাথালিয়া,
বিরুলিয়াতে ভোটাভুটির আগের দিন গুলাগুলি করা হবে অহেতুক। ভোটার কেউ আসবেই না সেখানে।।বাকি ইউনিয়নের কেন্দ্র গুলাতে আমরা ভিজিট করবো। সেগুলাতে গুলোতে সুস্থ নির্বাচন হবে।’
বলে থামে নিবিড়।আকাশ প্রশ্ন করে ,
‘এতে আমাদের কি লাভ ভাই?’
‘দেড় বছর পর জাতীয় নির্বাচন। এই দেড় বছরের জন্য শ্যামল মামু ক্ষমতায় গেলে সব কিনে ফেলবে।আর আমাদের অস্তিত্ব মাটিয়ে মিশিয়ে দিবে।তাই আমি চাচ্ছি এই উপনির্বাচনটা বানচাল হয়ে যাক।’
‘তবে এই দেড় বছরে আমরা আরও গুছিয়ে নিতে পারবো?তাই তো ভাই?’
প্রশ্ন করে মক্কু।নিবিড় মাথা দিয়ে না করে বলে,’নির্বাচন ছেলের হাতের মোয়া না মক্কু।চাইলেই যে কেউ হুটহাট পার্লামেন্টে ঢুকতে পারে না।’
‘আপনে কি আর যে কেউ?আপনার চেয়ে যোগ্য আর কে আছে এই উপজেলায়?’
‘উপযুক্ত দিয়ে কেউ কখনো এই দেশে জয়ী হতে পারে না। আমাকে সিনিয়র সিটিজেনরা ভোট কেন দিবে? তারা নতুনত্বে বিশ্বাসী না।গোঁড়ামি এদের রন্ধে রন্ধে।এরা আমার যোগ্যতা দেখবে না। দেখবে বয়স।’
‘তবে ভাই? আমাদের তো লং টার্ম একটা প্ল্যান করা উচিত।’
তালহা বলে উঠে।
‘এই নির্বাচনের পর আমি আর ক্যান্ডিডেট হবো না।’
‘কিহ?’
একসাথে চিল্লিয়ে উঠে সবাই।নিবিড় মুচকি হেঁসে বলে,
“কাম ডাউন।তবে আমার লোক হবে।উম্মে কুলসুম বেগমকে দাঁড় করিয়ে দিবো।’
‘নন পলিটিক্যাল মানুষ তার উপর বয়স্ক। উনাকে কে চিনে?’
তালহা বলে,’ভাই একজন মহিলার আর কত টুকু যোগ্যতা?’
‘হাতশেপসুট নামের একজন মিশরের মহিলা রাজা ছিলেন।উনি নিজেকে রাজা ভাবতেন।এবং ইতিহাসে এটাও উল্লেখ আছে উনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি সফল রাজা।তবে কলসুম বেগম কেনো পারবে না? উনিও বেশ পরিচিত। তাছাড়া একজনের বিশ বছরের পলিটিকাল ক্যারিয়ারের চেয়ে একজন নারীর সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হওয়া অতি সহজ।চেয়ারে উনাকে বসিয়ে পেছনে তো আমরা থাকবোই।’
সবাই হইহই করে উঠে।আকাশ বলে,
‘ভাই এই কথা তো মনেই ছিলো না।’
মক্কু বলে,’উনার ইমেজ আরও ভালো কারণ সাবেক সংসদের স্ত্রী।পরিবারের সবাইকে হারিয়ে অসহায়।এইয়াব পাবলিক খাবে ভালো।কিন্তু ভাই এরপর?’
‘ততদিনে আমি একটু বয়স্ক হবো না কি?’
‘মধু মধু। ভাই এরচেয়ে সহজ আর কোন প্ল্যান হতেই পারে না’
ঘুম থেকেই উঠেই জেনির প্রচন্ড শরীর দুর্বল লাগা শুরু হলো।পায়ে যেনো কোন সার নেই।কোনরকম ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে ঢুকেই পেটের ভেতর মুচড় দিয়ে উঠে।আস্তেধীরে হেঁটে আবার বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে।রাতে মক্কু ফিরেনি।একসাথে খাবে বলে জেনির রাতের খাবার মিস হয়েছে বিদায় শরীর এতটা খারাপ লাগছে।তখনই দরজায় নক হলো।আস্তেধীরে উঠে দরজা খুলে দেখে ১৮০ডিগ্রী ঠোঁট প্রশমিত করে মক্কু দাঁড়িয়ে আছে।জেনির মেজাজ চিরবির করে বেড়ে গেলো।চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়েছে।জেনি থমথমিয়ে হেঁটে বেডরুমে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পড়ে। মক্কুও পেছন পেছন এসে জেনির গা ঘেঁষে শুয়ে বলে,’জানো? নিবিড় ভাই কতটা বদলে গেছে?’
জেনি কনুই দিয়ে মক্কুর হাত সরিয়ে সামনের আগায়।মক্কুও আগায়।জেনি আবার আগালে পেছন পেছন মক্কুও আগায়।দেয়ালের সাথে লেগে যাওয়ার পর উল্টা ঘুরে কটমট করে তাকায় মক্কুর দিকে।মক্কু চমৎকার হেঁসে বলে,
‘রাগ করলে তোমাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।একেবারে রসগোল্লা।মন চায় টুপ করে গিলে ফেলি।’
‘ফালতু কথা বলবে না একদম।সারারাত যেখানে ছিলা সেখানে যাও। আমার কাছে কি?’
‘ভাইয়ের কাছে তো ফিরতেই হবে তবে তুমি আমার সব।শুনো জিয়ানা আর ভাইকে এখন দেখলেই শান্তি লাগে।ভাই আর আগের মতো খ্যাকখ্যাক করে না।তবে হাত চলা থামে নাই।আর একটা কথা জিয়ানার সাথে তুমি রেগুলার কথা চালিয়ে যেয়ো।ওকে একটু নজরে নজরে রাখতে হবে।’
এবার জেনি সোজা হয়ে উঠে বসে কপালের ভাজ সোজা করে জিজ্ঞেস করে ,’কিছু কি হয়েছে?’
‘না তবে হবে।তোমাকে বলা হয়নি জিয়ানার টুইন ভাই আছে। এবং সে জীবিত আছে সম্ভব। তাকে রেসকিউ করার জন্য ভাই অনেকদিন ধরে প্ল্যান সাজাচ্ছে।কিন্তু চক্রটা এতটাই ধরাছোঁয়ার বাহিরে তাদের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে মাঝেমধ্যে। ‘
জেনি মৃদু চিল্লিয়ে বলে,’কিহ?কিসব যাতা বলছো? জিয়ানার টুইন ভাই জন্মের সময়ই মারা গেছে। আইসিতে ছিলো দুইদিনের মতো।তোমরা ট্যাপে পড়েছো নিশ্চিত। আব্বু নিজে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এসেছে।’
‘সব খুলে বলা সম্ভব না কারণ আমি নিজেও জানি না সবটা।ভাই যতটুকু বলে ততটুকুই জানি।এই ব্যাপারে ভাইকে প্রাশ্ন করলে এড়িয়ে যায়।ভাই আমাকে বলেছে তুমি যেনো জিয়নার সাথে কানেক্টেড থাকো অলয়েজ।কারণ এতে জিয়ানারও লাইফ রিস্ক আছে।তুমি সেদিন আমার সাথে রাগারাগি করলা ,নিবিড় জিয়ানাকে সন্দেহ করে তাই এত পাহারা দিয়ে রাখে এইসব নিয়ে । আসলে আমার মনে হয় সম্পত্তির জন্য অভ্যন্তরীণ কোন জটলা আছে তাদের।’
‘কি সব বলছো আমার শরীর খারাপ লাগছে মুসাদ্দিক। ‘
বলেই তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে ছুটে যায় জেনি।বেসিংয়ে দাঁড়িয়ে হড়বড় করে বমি করে। কিন্তু পেট খালি থাকায় শুধু লালা বের হচ্ছে।মক্কু পেছন থেকে একহাতে পেট চেপে ধরে আরেক হাত দিয়ে পানি দিয়ে জেনিকে পরিস্কার করে ভেতরে আনে।বমি করে লাল হয়ে গেছে জেনি।স্বাস্থ্য আগের চেয়ে আরও ভালো হওয়াই গলুমলু হয়েছে। মক্কুর প্রেম প্রেম পায় ফুলো ফুলো লাল নাক মুখ দেখে।জেনি মক্কুর তুলনায় অতিরিক্ত ফর্সা। মাঝেমধ্যে মনে হয় লটারি জিতেছে সে।জেনি মক্কুর দৃষ্টি দেখে কপাল নাচিয়ে প্রশ্ন করে ‘কি?’
‘একটু আদর করা যাবে?’
‘আমার শরীর খারাপ লাগছে আর তুমি আসছো রসের আলাপ নিয়ে? জিয়ুকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে আমার।ভালো লাগছে না কিছু।’
‘জিয়ানাকে নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। ভাইয়ের জান প্রাণ সব হয়ে গেছে তোমাদের জিয়ু।তাকে কিভাবে সাবধানে রাখতে হবে সেটা ভাইয়ের চেয়ে আর কেউ পারবে না।এখন কাছে আসো। ‘
বলে দুই হাত মেলে দেয়।জেনি বিরক্তি নিয়েই দুই হাতের মাঝখানে ঢুকে।মক্কু জেনির মাথায় ছোট ছোট চুমু দিয়ে বলে,’চলো ডাক্তার দেখিয়ে আসি। ‘
‘রাতের মিল মিস হওয়াই হইতো প্রেসার ফল করেছে।ডাক্তারের কাছে যেতে আমার ভালো লাগে না। ‘
‘এখনকার কোন মেয়ে আছে যে স্বামীর জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করে?’
‘আমি আছি। আমি কি মেয়ে না?’
রেগে বলে মক্কুর কাছ থেকে উঠে রুম থেকে বেরিয়ে আসে জেনি।মক্কু গলা চড়িয়ে বলে,’ডাক্তারের কাছে মনে হচ্ছে যেতেই হবে।মেজাজ এত হাই থাকে ইদানীং। সেটাকে ল মুডে আনতে হবে না?’
রান্নাঘর থেকে একটা বড় আলু উড়ে আসে মক্কুর দিকে।
সকালেই জিয়ানা নূর ম্যানসনে ফিরে এসেছে।তার আজ গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে ভার্সিটি যেতেই হবে।ইদানীং ঘুমের এত ব্যাঘাত হচ্ছে ফলে সকালে উঠতেও প্যারা খেতে হয়।নিবিড়কে টেনে সাথে এনেছে।যদিও এখন ফ্ল্যাটে থাকতেও খারাপ লাগে না।কারণ আগের মতো ফাঁকা মাঠ আর নেই।জিয়ানার কল্যানে ফার্নিচারের পূর্ণ হয়েছে।তবুও নূর ম্যানসনে থাকার আলাদা একটা এডভেঞ্চার টাইপ ব্যাপার আছে।
ড্রয়িংয়ে ঢুকেই নজরে আসে রুপক মন্ডল সোফায় বসে মেগাজিন পড়ছে।জিয়ানাকে উনি লক্ষ্য করেছে সেটা জিয়ানাও বুঝেছে।লোকটা মারাত্মক ধূর্ত। জিয়ানা পানি খাওয়ার বাহানায় ডাইনিংয়ে যায়।তখনই রাফিন আর মেহেদী একসাথে নামে।রাফিন ফরমালে এসেছে মানে একেবারে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে নেমেছে।মেহেদী বরাবরের মতোই হাটুর উপর শর্ট পড়ে ম্যাগিহাতা গেঞ্জি পড়ে এসেছে।জিয়ানার কাছে লাগে এই লোক আগাগোড়া বেয়াদব। নিজের কালা ঠ্যাং কে দেখতে চেয়েছে তোর? তারপর উপর ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট যেখানে।ম্যাগিহাতা না হয় মেনে নিলো মাসল দেখানোর জন্য সেটা উন্মুক্ত। বিরক্তি নিয়েই গ্লাস নিয়ে ফিল্টারের নিচে ধরে। পানির টেম্পারেচার সিলেক্ট করে দেয়।সেখান থেকে অটো পানি বের হয়।এদের আবার ফিল্টারেও সেন্সর লাগানো।যত্তসব টাকা অপচয়ের কারখানা।
মেহেদী মামুন ইসলামের কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলে,
আমার একটা গাড়ি এসেছে।সেটা নিতে হচ্ছে কিন্তু আমার একাউন্টে ডলার এনডোস হচ্ছে না।সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে সিস্টেম রান হতে। পারিবারিক ফান্টের একটা চেক দেন।
জিয়ানা পানি খেতে খেতে বলে,এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে নিজের টাকা দিয়েই কিনুন।’
রাফিন মুচকি হেঁসে ডাইনিংয়ে বসে গভর্নেন্সদের ইশারা করে ব্রেকফাস্ট দিতে।মেহাদী জিয়ানার দিকে বাকা চোখে তাকিয়ে বলে,
‘ওয়েল ইউর অন মেশিন লেডি।’
‘ধ্যাংক্স ফর ইউর কাইন্ড ওয়ার্ড ভাশুর।আপনাদের বিলাসিতা দেখলে পায়ের পাতায় জ্বলুনি শুরু হয়।এত এত গাড়ি থাকতে আরও লাগে?’
‘ওইসব তুমি বুঝবে বা।আমার বর্তমানের গাড়িটা ২০১৯ভার্সনের। এটাতে অসংখ্য ফাংশন নেই।আমার অসুবিধা হচ্ছে।’
জিয়ানার চোয়াল ঝুলে যায়।রাফিনের জন্য আনা কিছু অদ্ভুত ব্রেকফাস্ট দেখে চোখ কপালে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করে ,’কালকের ব্রেকফাস্টেরও কি অনেক ফাংশন ছিলো না? আজ এমন আপডেট ব্রেকফাস্ট যে?এগুলা কি স্যার?’
রাফিন শব্দ করেই হেঁসে বলে,’আজ সব ম্যাক্সিকান খাবার হবে বাসায়।আজকের শেফ একজন ম্যাক্সিকান শেফ।মাসের এই তারিখে উনি রান্না করেন।’
ডিম সবুজ সবুজ দানা জাতীয় কিছু দিয়ে তৈরি খাবারের দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,’ এটা হুয়েভোস র্যাঞ্চেরোস। ‘
টর্টিলা শর্মার মতো একটার দিকে দেখিয়ে বলে, ‘এটা বুরিটো।’
মোটা এবড়োথেমড়ো রুটি দেখিয়ে বলে,’প্যান ডুলসে।’
আরেকটার দিকে হাত বাড়ানোর আগেই জিয়ানা হাত রাফিনের সামনে থামার মতো করে বলে,’ব্যাস স্যার। আর জানা লাগবে না।এইসব আমার মনে থাকবে না। আর যা উচ্চারণ এতে আমার দাঁত ভেঙে যাবে। সবচেয়ে মজা কোনটা বলুন।সেটা ট্রাই করবো।’
রাফিন বলে,’বুরিটো ট্রাই করো। কাইন্ড অফ শর্মা। বাট হেলদি। ‘
জিয়ানা সেটা হাতে নিয়ে অল্প খেয়ে যেতে যেতে বলে,’শুকরিয়া।’
সিঁড়িতে উঠার আগে রুপকের দিকে একবার তাকিয়ে আবার মেহেদীর দিকে ফিরে বলে,
‘রুলস রয়েস গাড়ি মনে হয় বর্তমানে সবচেয়ে ট্রেন্ডিংয়ে আছে? আমি অবশ্য জানি না।তবে এটা জানি চার্লস রোলস আর হেনরি রয়েস দুইজনই নিশ্চয়ই গাড়িতে উঠার চেয়ে গাড়ি বানাতে বেশি মনোযোগী ছিলো বিদায় এমন কোম্পানি দাঁড় করাতে পেরেছে?’
নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৪
নিবিড় তখন ঢুকে ভেতরে। সে বাইক পার্ক করে একজন গার্ডের সাথে কথা বলায় দেরি হয়েছে।জিয়ানার শেষ কথাটা শুনেছে।নিবিড় যখন সিঁড়িতে মেহেদী তখন তার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘তোর এই বাঁচাল বউটা মাঝেমধ্যে চমৎকার কথা বলে।কিন্তু নিজের মুখের জন্য কবে না জানি বিপদে পড়ে?’
নিবিড় রুপক আর মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বাকি সিঁড়ি উঠতে উঠতে বলে,’তোদের চেয়ে কঠিন বিপদ আর কি হতে পারে? ‘
নিবিড় রুমে ঢুকার পর মেহেদী আর রাফিনের ফোনে টেক্সট করে ‘রাত দুইটা বেজমেন্টে ‘
