Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ চোখের সামনে থেকে সর,,
আরহাম সরে দাঁড়িয়ে বারান্দার দিকে তাকালো,, পরপরই খেয়াল করলো গুনগুন করে কান্নারত আরয়াকে নিয়ে নুবা ঠাই দাঁড়িয়ে আছে,,চোখ দুটো ছলছল করছে,,,
একটা কথা অনুভব করেছে সে রক্ত যদি এক হয় স্বভাব এক হবেই,,আরফ আর আরহাম তাদের মতো মানুষ কে ছোটো চোখেই দেখে,, অর্ধ রাতে তাকে এই সব কথা শুনানোর জন্য উঠিয়ে এনেছে,,
আরাহাম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে এনেছি,,ওর কান্না থামাও,,
নুবা কোনো কথা বললো না সোজা আমিনা বেগমের কাছে চলে গেলো,,,বিরবির করে বললো

_ ওকে ধরো তো চাচি,,,
আমিনা বেগম নুবার চোখ মুখ দেখে আন্দাজ করে ফেললেন নুবা সব শুনেছে,,
আমিনা বেগম আয়ারকে কোলো নিতে নিতে সুধালো
_ কি হলো,,
নুবা আয়রাকে কোলে দিয়ে বললো
_ তোমার ছেলেকে বলে দিবে আমার ওজর ১৫০ না ৫৭ কেজি,,আর আমি নিয়মিত গোসল করি গায়ে গু গবর লেগে থাকে না,,,
বলেই নুবা চলে যেতে লাগলো,,আয়রার কথাও ভাবলো না,,আরাহামের কথায় কষ্ট পেয়েছে,,সে তো আর যেচে আসেনি এখানে তবে এতো কথা উঠবে কেন
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ নুবা,,,যার তার কথায় কিছু মনে করতে নেই,,আমি ওকে বকেছি না,,,
আরহাম কথা বার্তা শুনে এগিয়ে এসে বললো
_ শুনো মেয়ে,,যদি সেই মুরদ থাকতো তবে কথা গায়ে লাগলে মানা যায়,, তুমি এই পরিবারের কিছু না যে তোমার রাগ দিয়ে কেউ ধুয়ে ধুয়ে পানি খাবে,,যা সত্যি তাই বলেছি,,রাগ করার কিছুই নেই,,এখন কোথায় গেলে পা ভেঙ্গে দিবো,,,মেয়ে কান্না করছে আমার,,মোটেও উপেক্ষা করার চেষ্টা করবে না
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে আসলো বলতে ইচ্ছে করলো”আপনার মেয়েকে দেখবো আমার ঠেকা”তবে মুখে বললো না

_ কোথাও যাচ্ছি না,,রুম থেকে খেতা বালিশ আনতে যাচ্ছি যাতে আপনার দামি বিছানায় শুতে না হয়,,
_ just shut up,,, তোমার জন্য আমার মেয়েকে নিয়ে শুয়াতে পারবো না,,,একা না তুমি,,,
আমিনা বেগম এবার বেশ রেগে গেলেন রাগি কন্ঠে বললেন
_ তুই যাবি এখান থেকে,,, বারান্দায় যা,, অর্ধ রাতে যতসব,, জন্ম দিয়েছিস জেদি এক মেয়েকে একে নিয়ে সব জ্বালা,,,এখন একটু ঘুমাতে দে,,দোহায় লাগে কালকে কত কাজ বাকি,,যা বাবা আর বকাইস না,,,
আরহাম পকেটে হাত গুঁজে বারান্দায় চলে গেলো,,,

নুবা অর্ধেক খেতা বালিশ আর বিছানর উপর বিছিয়েছে আর অর্ধেক গায়ে দিয়েছে,,খেতার ভিতরে আয়রা চুপচাপ শুয়ে নিজের কাজ করছে,,, মোটেও এই বিছানায় তার শরীর ঠেটানোর ইচ্ছে নেই তাই খেতা পেতে শুয়েছে,,,
নুবা এখনো ঘুমায়নি ঘুম আসছে না,,তা বুঝতে পেরে আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ ও এমনি,,মুখে যা আসে বলে দেয়,,ওর কথা মনে নিস না,,ফালতু কথা বলা ওর স্বভাব,,বড় হয়েছে না হলে দুটো কষিয়ে দিতাম,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সমস্যা নেই সত্যিই বলেছে,,,যত তাড়াতাড়ি আয়রা বুকের দুধ ছাড়বে তত তাড়াতাড়ি এই সব ঝামেলার থেকে মুক্তি পাবো,,,

পুরো বাড়ি মেহমানে গিজগিজ করছে,,,সকাল হতে না হতেই নাস্তার ঠেলা পড়েছে এতো বড় ডাইনিং টেবিলেও জাগা হচ্ছে না,,,
আরশি রুমে দুটো হলুদের লেহেঙ্গা নিয়ে বসেছে,,,একটা একটু গর্জিয়াস আর একটা হালকা,,একটা নুবার জন্য একটা তার জন্য,,,তবে মনটা তার বেশ খারাপ,,কারো উপর অভিমান করে বসে আছে সে,,,তবে মানুষ টার দেখা নেই,,

আমিনা বেগম কিছু সময় আগেই উঠে চলে গেছে,,নুবা আর আয়রা ঘুমাচ্ছে,,,সারা রাত একটু পর পর ঘুমের ভিতরে তার কাজ চলেছে,,,
কিছু সময় পর আয়রার ঘুম ভেঙ্গে গেলো,, কারণ সে মুতু করে দিয়েছে,,এখন এই ভেজা জায়গায় আর থাকতে পারছে না,,, অবশ্য সবসময় তাকে ডায়পার পড়িয়ে রাখা হয় তবে কাল খেয়াল করা হয়নি,,
নুবা ভিজা অনুভব করে মুখ দিয়ে চ শব্দ উচ্চারণ করে বললো
_ ঘুমাতে দে আমায় সারা রাত তো জ্বালালি,,
তবে আয়রা ফুঁপিয়ে উঠলো,,নুবা ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো,,,
আরহাম মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে ,রাতে ঘুম ভালো হয়নি সোফায় সে ঘুমাতে পারে না,,তাও ঘুমাতে হয়েছে,,
আরহাম রুমে এসে দেখলো আয়রা কান্না করছে,,,আর নুবা কপাল কুঁচকে তাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে,,
আরহাম একটু এগিয়ে গেলো,,,তবে হলো এক আশ্চর্য ঘটনা,,নুবা আয়রার পেন্ট খুলে আরহামের মুখের উপর ছুরে মারলো,,আসলে সে এতো সময় আয়রার পেন্ট খুলার চেষ্টা করছিলো,,তাই শেষ পর্যন্ত খুলতে পেরে বিরক্তে নিচে ছুরে মেরেছে,,,

তবে ভাগ্য খারাপ থাকায় আরহামের ঠিক মুখের উপর যেএ পড়েছে,,
আরহাম কোনো মতে পেন্ট না হাতে নিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো বিরবির করে বললো
_ সকাল সকাল কার মুখ দেখে উঠেছিলাম,,
নুবা আয়রাকে ভেজা জায়গায় থেকে সরিয়ে বুকের দুধ দিলো,,, আরহাম সাথে সাথে নজর সরিয়ে ফেললো,,,বিবেকে বাঁধছে তার,, অবশ্যই গায়ে খাতা থাকার কারনে কিছু বোঝা যাচ্ছে না তাও কেমন অদ্ভুত একটা ব্যপার তাই না,,,
নুবা ঘুমের ভিতরে আয়রা আর নিজেকে ভালো মতো ডেকে নিলো,, এদিকে আয়রা খেতে খেতে খেতার ফাঁক দিয়ে ঘুমন্ত এলোমেলো নুবার দিকে তাকালো,,সে খাচ্ছে তবে নুবার দিকে তাকিয়ে,,,দূর থেকে আরহাম বিষয়টা খেলায় করলো,,
না চাইতেও মেয়ের কান্ড দেখার জন্য এগিয়ে গেলো,,,আয়রার শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে,,,যা নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,তা ব্যতিত নুবা আরা আয়রার সর্বাঙ্গ ডাকা,,,আরহাম মেয়ের ঘুচানো চোখ দেখেই বুঝতে পারলো মেয়েটা তার দিব্বি হাসছে,,

বিষয় টা তার প্রচন্ড ভালো লাগলো,,না চাইতেও পকেট থেকে ফোন বেড় করে খুবি আড়ালে আয়ারর একটা হাস্যোজ্জ্বল ছবি তুলে নিলো,,তবে আরহাম খেয়াল রাখলো এই বেগানা নারীর যাতে ইজ্জতে হাত না পড়ে,,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকালো,,, এলোমেলো চুল,,, চোখের নিচে রাত জেগে কালি পড়েছে,, ঠোঁট শুকিয়ে একাকার,,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুবি অগুছালো নিজের খেলায় রাখে না,,
আরহাম সরে গেলো,, পরপরই যেএ দূরে রুমে রাখা সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে নিজ মেয়েকে দেখতে লাগলো,,,
আয়রা যেনো সারা রাত সবাইকে জ্বালাতে পেরে প্রচন্ড খুশি হয়েছে,,,

আরশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে,,তার সখের পুরুষ কে দেখছে তবে মানুষ টা এতোই ব্যস্ত তার দিকে তাকাচ্ছেও না,,আরশির কষ্ট হলো,,চোখ ছলছল করে উঠলো বিরবির করে বললো
_ সব পেয়ে গেছে তাই এখন আর আমার খবর রাখে না,,,আমারি ভুল ছিলো,, নিজের সব কিছু কেন যে উজার করে দিলাম
নুবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো আয়রার খিলখিল হাসির শব্দে,,না পেরে সোজা হয়ে বুকের উপর তুলে ঘুমিয়েছিলো তবে ঘুম হতে দিলো কই,,কিভাবে যে হাসছে আ উ,,মানে বুঝানোর মতো না,,নুবার প্রচন্ড হাসি পেলো,,নুবা উঠে বসে দেখলো পাশে আমিনা বেগম নেই,,,
নুবা হাম তুলে আয়রার দিকে তাকালো দেখলো হাত পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে হাসছে,,নুবা তাকে শুইয়ে দিয়ে এক আঙ্গুল দিয়ে গালে আলতো খোঁচা মেরে বললো
_ এখন কান্না করছিস না কেন,,সরা রাত জ্বালিয়ে হয়েছে,,২/৩ বছরের খাবার তো একবারেই খেএ ফেলছিস,,, কান্না কর,,,এখন কান্না করলে একদম পিটানি দিবো,,ইতর, বিচুটি পাতা,,,ছুচা,,
নুবা কথা গুলো মজা করে বললেও উপর দিয়ে কপাল কুঁচকে বললো,,নুবার এরকম কপাল কুঁচকানো দেখে আয়রা আর চোখে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে উঠলো,,,নুবা ফুলো ঠোঁটে চুমু খেলো,,,,

আয়রা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,আলতো করে নুবার গাল চেপে ধরলো,,তার আয়রার তুলতুলে গাল বড্ড ভালো লাগে,,,নুবা আয়রার গাল ধরে বললো
_ বাপরে বাপ সব বুঝে পাকা বুড়ি,,রাগ দেখায় কি,,,জেদো আছে,,,সারাটা রাত ঘুমাতে দেয়নি,, একটু পর পর হাতা হাতি কান্না কাটি,,,এখন সকালে কি সুন্দর একা একা খেলছে,,,মনে হয় উনি কান্না করলেই আমি ভয় পেয়ে যাবো,, এমন পিটানি দিবো আমাকে ভয় পাবে নাক বুচি,,,যেনো উনার কান্নাকে আমি ভয় পাই,,,
(বলেই আয়রাকে সুরসুরি দিতে লাগলো তার পেটে চুমু খেতে লাগলো)
তখনি সামনে থেকে কাঠকাঠ কন্ঠ ভেসে আসলো
_ ভয় তো এবার তুমি সত্যিই পাবে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে সামনে তাকাতেই দেখলো আরহাম টানটান হয়ে সোফায় বসে আছে নুবার চোখ কপালে উঠে গেলো,,সে আসলেই খেয়াল করেনি,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,নুবা আস্তে করে আয়রার গাল ছেড়ে দিলো,,,

আরহাম উঠে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হকি স্টিক উঠিয়ে নিলো,,,এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_কাল হয়তোবা মেহেরিমার মার দেখে গায়ে হওয়া লাগেনি তাই না,,,
নুবার বুক ধুক করে উঠলো,,ভয়ে গাল আর কান দিয়ে গড়ম হাওয়া ছুটলো,,আরহাম এগিয়ে এসে হকি স্টিক টা বিছানার উপর খাড়া করে ধরে রাখলো,,,নুবা বুকে খেতা টেনে নিলো,,, নুবা আরহামে রাগি রাগি মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_আ,,,আমি মজা ক,,করছিলাম,,,
আরহাম হকি স্টিক টা up down করতে করতে বললো
_ তা তো আমি নিজে চোখে দেখলাম,,কেউ না থালকে নিশ্চয় এভাবেই আমার মেয়ের উপর অত্যাচার করো,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_এ,,এগুলা অত্যাচার,,,
আরহাম রক্ত বর্ন চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো

_ কোন সাহসে আমার মেয়ের গাল চেপে ধরলি,,,রেগে ধমকে কথা বললি,,,রুড বিহেভ করলি ওর সাথে,,,
বলেই আরহাম হকি স্টিক টা দিয়ে নুবার গাল বরাবর আঘাত করলো,,,নুবার সাথে সাথে সেন্স ফিরে আসলো,,,চোখ বড় বড় করে সামনে তাকিয়ে দেখলো আরহাম বসে আছে,,,সোফায় মাথা ঝুলিয়ে,,মানে হাত পা ছড়িয়ে পিছন দিকে মাথা দিয়ে চোখ বুঝে আছে আসলে তার ঘুম হয়নি,,
নুবা শুকানো ঢোঁক গিললো এতো সময় সবি তার ভাবনা ছিলো,, আরহাম তো নিশ্চিন্তে বসে বসে ঘুমাচ্ছে,,,তবে নুবা যখনি আয়রার পেটে সুরসুরি দিতে দিতে খেলায় করে সামনে কেউ আছে তখন আরহামকে দেখে তার মাথায় এগুলোই ঘুরছিলো কারণ এই মাত্র সে আয়ারার গাল চেপে ধরেছিলো,,তা অবশ্য আদর করে,,তবে সত্যিই আরহাম যদি দেখতো বুঝতো নাকি,সে তো একটা তার ছিরা মানুষ,,একটা পাগল,,সাইকো,,না হলে শুধু মেয়ের গাল চেপে ধারায় কেউ এভাবে মারতে পারে কাউকে,,নুবার জানা নেই,,এই প্রথম দেখেছে,,
নুবা আয়রাকে রেখে উঠে যেতে লাগলো কিন্তু আয়রা নুবার খোলা চুল হাতের মুঠোয় আটকে নিলো,,নুবা কোনো মতে আয়রা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে রুম থেকে বেড় হওয়ায় প্রস্তুতি নিলো,,এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে দেখলো,আয়রা তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে,,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ bye bye,,আপনি শুয়ে থাকেন,,,
বলেই নুবা নিজের খেতা গুছিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,

আরশি বাগানে দাঁড়িয়ে আছে,, কালকে এখানেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে,,জাগাটা অনেক বড়,,,
আরশি আশে পাশে তাকালো,,তবে অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ টিকে পেলো না,,তাই মন খারাপ করে চলে আসতে নিলেই খেলায় করলো অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ টি নুবার ফুপাতো বোনের সাথে বসে হেসে হেসে কথা বলছে,,,
আরশির মুখ কালো হয়ে গেলো,,রাগে শরীর জ্বলে উঠলো,,,এতো দিন পর এসেছে একটিবারো তার সাথে এতো সময়ের ভিতরে দেখা করতে পারেনি কিন্তু দেখো কিভাবে বসে বসে অন্য মেয়ের সাথে গপ্প দিচ্ছে,,
আরশি ওখান থেকে সরে গেলো,,বুকটা ফেটে যাচ্ছে তার,,,আরশি যেতে যেতে খেলায় করলো ইয়াশ যাচ্ছে,,, সম্পর্কে তার ভাই,তবে আরশির থেকে ছোটো
আরশি ইয়াশকে ডাক দিলো ইয়াশ এক গাল হেসে বললো

_ জ্বী কিছু বলবি আপু
আরশি রেগে বললো
_ কতদিন বলবো আমি তোর থেকে বড় তুমি করে ডাকবি
_ উফ্,, আবার শুরু করছো আচ্ছা যাও তুমি করেই ডাকবো,,,এবার বলো কি,,,
_ তোর আমার জন্য একটা কাজ করতে হবে
_ কি কাজ,,
আরশি ঠোঁট হেলিয়ে হেসে ইয়াশের কানে কানে কিছু বলতে ইয়াশ ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি,,মানে ঘটনা কি,,,ভাইয়ার সাথে ইটিসপিটিস নাকি,,
আরশি ভুরু কুঁচকে বললো
_ যা মালা তা,,ছোটো ছোটদের মতো থাক যা বলছি তাই কর
ইয়াশ বুকে হাত গুঁজে বললো
_ যত সময় সবটা না বলছো আমি এটা করতে পারবো না
_ তুই যা ভাবছিস তাই,,তবে কাউকে বলিস না,,আমি চাই না ঝামেলা হোক
_ আচ্ছা বাবা বলবো না,,,
_ কাজ শেষ করে আমার কাছে আসবি কাজের জন্য উপহার দিবোনে,,,
_ আচ্ছা,,(বলেই ইয়াশ চলে গেলো )

নুবা রুমে এসে সকাল সকাল লম্বা করে একটা গোসল দিলো,,আয়রা নুবাকে পুরাই ভিজিয়ে ফেলেছে,,এই অবস্থায় থাকলে ইচিং হবে,,
হাজেরা বেগম ব্যস্ত পায়ে রুমে প্রবেশ করলো,,,নুবাকে সকাল সকাল গোসল করতে দেখে‌ বলে উঠলো
_ রাতে চাচি তোর সাথে ছিলো
নুবা মাথা মুছতে মুছতে বললো
_ হ্যাঁ,,,
_oh ,,সকাল সকাল গোসল করছিস ঠান্ডা লাগবে না
_ আয়রা রাতে দুই বার মুতু করে ভিজিয়ে দিয়েছে,,তুমিই বলো কি করবো,,
_ oh,,বাইরের বেড় হওয়ার বেশি দরকার নেই,, অনেক মানুষ,,
_ আমি বেড় হবোও না,,

রিহান মাত্র কাজ শেষ করে বসলো এমন সময় ইয়াশ তার পাশে চেয়ার টেনে বসে বললো
_ কেমন আছো ভাইয়া
রিহান মুচকি হেসে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি
_ এই তো আলহামদুলিল্লাহ,,কবে এসেছো,,,
_ এই তো দুদিন হবে,,,
_ oh,,,,তা ছুটি কেমন নিলে,,আবারো তো তোমার আসতে হবে,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো,,
_ বিয়ে শেষে হলেই চলে যাবো,, আবার আসতে যাবো কেনো
ইয়াশ হেলেদুলে বললো
_ আরে জানো না আরশি আপুকে তো uk তে যাওয়ার আগেই বিয়ে দিয়ে দিবে,,,তাই তোমার আবারো আসতে হবে,,,
ইয়াশের কথা শুনে রিহানের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো,,রিহান হতভম্ব হয়ে বললো
_ এই ফালতু কথা তোমাকে কে বলেছে
ইয়াশ ভুরু কুঁচকে বললো
_ কে আর বলবে শুনলাম মামি বলছে,,,আরশি আপু তো বেশ খুশি,,
_ আরশি কোথায়,
_ আমি কি জানি,,
রিহান আর বসলো না উঠে প্রায় ছুটে বাড়ির দিকে গেলো,,

আরশি কলিডোরে দাঁড়িয়ে আছে,,চোখ দুটো তার শান্তি পাচ্ছে কারণ নিচেই একটা মানুষ পাগলের মতো তাকে খুঁজছে,,তাই হয়তোবা এতো শান্তি লাগছে,,,
আরশির ভাবনার ভিতরে রিহান উপরের দিকে তাকালো,,আরশি সাথে সাথে ওখান থেকে সরে গেলো,,,
আরহাম মেয়েকে নিয়ে রুমে বসে আছে,, দুপুরে তার খাবার রুমে পাঠানো হবে, কারণ আমিনা বেগম জানে আরহমা বাইরে আসলে একটা না একটা ঝামেলা তৈরি করবে,,
এদিকে আরশি চুপচাপ ঘাপটিইমেরে বাড়ির এক কোনায় বসে আছে,,বসে আছে বললে ভুল হবে এক জনের পিছন পিছন ঘুরছে,,সেই সকাল থেকে মানুষ টা তাকে পাগলের মতো খুঁজছে,,আর সে তাই দেখে মাজা নিচ্ছে,,

নুবা মাথায় কাপড় দিয়ে বাইরে বেড় হলো,,,বাড়ির ফাঁকা স্থানে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে,, যেহেতু অনেক মানুষ ইতি মধ্যেই চলে এসেছে তাই এই রান্না বাসায় করা সম্ভব না,,
নুবা রুম থেকে বেড় হতেই মেহেরিমার সামনাসামনি হলো,,নুবা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলেই মেহেরিমা বলে উঠলো
_সকালে আরহাম ভাইয়ের রুম থেকে বেড় হলে কেন,,রাতে কোথায় ছিলে তুমি,,
নুবার পা থেমে গেলো,,এক পলক মেহেরিমার দিকে তাকিয়ে বললো
_ চাচিরা সাথে ছিলাম,,,
_ মানে,,
_ এতো মানে আমি বলতে পারবো না ,বেশি মানে বুঝতে হলে চাচিকে যেএ জিগ্গেস করেন,,আর হ্যাঁ,,নিজের চরকায় তেল দেন আমার টা না দেখে,,,
বলেই নুবা চলে গেলো,,, মেহেরিমার শরীর জ্বলে উঠলো,,
হারুন মির্জা আজ বাড়িতেই আছেন,,না থেকে উপায় আছে,,তবে একটু সময়ও বিরতি নিতে পারছেন না,,এক জনের সাথে কথা বলে শেষ করলে আর এক জনের সাথে দেখ তো যাচ্ছে,,,নিজেও যেনো হাঁপিয়ে উঠেছেন এতো আত্মীয় স্বজন দেখে,,,

দুপুর তখন ঠিক ২ টা,, ডাইনিং টেবিলে,,,সোফায়,, লিভিং রুমে চেয়ার এনে সবাইকে খেতে দেওয়া হয়েছে,সব বয়সে বড়রা ডাইনিং টেবিলে,, বাচ্চাদের খাওয়ার খবর নেই,, দামরা পোলাপাইন গুলা হাতে প্লেট নিয়ে সোফায় বসেছে,,কেউ কেউ আবার টি টেবিলের উপর,,,, হাজেরা বেগম,,তানিয়া,, আমিনা বেগম,,আর তাদের কিছু বয়সে বড় খালা চাচি সবাই মিলে হাতে হাতে কাজ করছে,,কেউ যাতে নিরাশ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছে,,,
তবে এতো মানুষ কে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না,,,পুরো লিভিং রুম বাচ্চাদের কেউ কেউ চেউ চেউ এ ভরে গেছে,, অন্ততপক্ষে কম করে বাচ্চাদের বাদ দিয়ে ৪০ জন হবেই,,আর বাকি মেহমান তো কাল আসবে,, ভাগ্যিস বাড়ি বড় না হলে এদের কোথায় যে থাকতে দিতো,,
নুবাও মাথায় কাপড় টেনে ময়দানে নেমেছে বড় বড় মাংসের বোল সহ ভাতের বোল টানাটানি করছে,,,নুবা একটা কথাই ভাবছে কাল গায়ে হলুদ আজি এতো মানুষ,, আল্লাহ জানে বিয়েতে কত হবে,,
আমিনা বেগম কাউকে খুঁজছে বড় ছেলের রুমে খাবার পাঠাবে তবে কাকে দিয়ে পাঠাবে বুঝতে পারছে না,,যাকে তাকে পাঠাতে তো আবার বিপদ,,
তখনি আমিনা বেগম নজরে পড়লো নুবা এক গাল হাসি নিয়ে সবাইকে পানি এগিয়ে দিচ্ছে,,,
আমিনা বেগম নুবাকে ডাক দিলো,,,নুবা এগিয়ে এসে বললো

_ ডাকলে কেন,,
আমিনা বেগম হিসফিস করে বললো
_ আরশি কোথায় রে
_ কোথায় আবার খেতে বসেছে,,,ওই যে সোফার এক কোনায়,,,
বলেই নুবা হাত দিয়ে দেখালো,,
আমিনা বেগমের রাগে শরীর জ্বলে উঠলো আজ সকাল থেকে মেয়েটার খোঁজ নেই কই কই যে ঘুড়ে বেড়ায়,,
আমিনা বেগম রাগে গজগজ করে বললেন
_ ওর মরার খাওন আজ গিলাবো,,বান্দির বাচ্চা সকাল থেকে কোনো কাজ না করে ঘুরছে,,
বলতে বলতে আমিনা বেগম নুবার হাতে ভাতরে প্লেট ধরিয়ে দিলো,,,
_ যা তো আরহামকে দিয়ে আয়,,,
নুবা চোখ ছোটো ছোটো করে বললো
_ আমিই কেন,,
_ যা বলছি তাই কর মাথা গড়ম করিস না
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,,
একটু আগে ঘুম থেকে উঠেছে আরাফ,, এবং সবার প্রথমে খেএ বসে আছে,,যতোই হোক জামাই বলে কথা,,,আরাফ খেএ দেয়ে রুমে যেএ আবার শুয়েছে,,কোনো টেনশন নেই তার,, একদম নিষ্পাপ,, কিছুই জানে না‌ সে,,না কিছু করেছে ,,,

নুবা চাপানো দরজায় কড়া নাড়লো,,, আরহাম বসে বসে টিভি দেখছিলো,,তবে তাতে বেঘাত ঘটলো,, উচ্চ স্বরে বললো
_ কে,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_আ,,আমি,,,নুবা,,
_ কেন আসছো,,
_ চা,,চাচি ভাত দিয়ে পাঠিয়েছে,,
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ভিতরে আসো,,
নুবা আলতো করে গেট চাপিয়ে ভিতরে ডুকলো,,, পরপরই দেখলো পেলো বিছানায় হেলান দিয়ে আরহাম সামনে মনযোগ দিয়ে কিছু দেখছে,,,আয়রা ঘুমিয়ে আছে,,সারা রাত জ্বালিয়ে এখন ঘুমাচ্ছে,,,
নুবা রুমে ডুকতেই অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেলো,,ভুরু কুঁচকে আসলো তার,,, ইংরেজিতে কেউ বিরবির করছে,, কিছুই বুঝতে পারলো না সে,,
নুবা এগিয়ে যেএ বিছানার পাশের ছোট্ট টেবিলে খাবার রেখে দিলো,,,পাশে তাকিয়ে দেখলো পানির বোতল খালি তাই পানির বোতল নিলো পানি আনার উদ্দেশ্য,,, পরপরই পানি বলত হাতে নিয়ে সামনে ঘুরতে তার চোক্ষুদয় কাঠগড়া থেকে বেড় হয়ে আসলো,, কিছু সময় এই দৃশ্য দেখার পর নুবার হাত থেকে বোতল পড়ে গেলো,,,নুবা গাল,,নাক কান সব গড়ম হয়ে গেলো,,,
আরহাম বোতল পড়ার শব্দ শুনে বিরক্তি নিয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ what the Hall*** রুম থেকে বেড় হও,,,
নুবা পানির বোলত রেখেই দুটো উষ্টা খেতে খেতে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,

নুবা রুমে এসে অজু করলো,,,চোখ তার গড়ম হয়ে গেছে নুবা বিরবির করে বললো
_ ছি ছি চোখের যিনা হয়ে গেলো,,,
নুবার গা গুলিয়ে আসতে লাগলো,,নুবার সেই দৃশ্য মনে পড়তেই শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো
টিভির বড় screen এ চলছে সুন্দর একটি মুডি যার নাম 365 Days ,,,নুবার চোখে শুধু ভেসে উঠলো স্পষ্ট কিছু ঘনিষ্ঠ মূহুর্ত,,আর একটু বেশি ভেসে উঠলো মেয়ের হাত লোহার শিকল দিয়ে আবদ্ধ,,এতোটা জঘন্য লাগলো নুবার কাছে ছি এই সব কেউ দেখে,,,নুবার নিষ্পাপ চক্ষুদয় স্থল হয়ে রইলো,,আর কিছু সময় তাকিয়ে থাকলে সে ওখানেই স্থির হয়ে যেতো,,,আর কি বিদঘুটে শব্দ,,,ভেবেই নুবার গা গুলিয়ে আসলো,,,

আরহাম এর রাগে শরীর হিসফিস করে উঠলো,,,ভাত দিয়ে গেছে পানি লবন ,সে যে ঝাল খায় সেটাও দেয়নি,,,
আরহাম রুম থেকে বেড় হয়ে করিডোরে আসলো নজরে পড়লে নিচে এখনো খাওয়া দাওয়া চলছে,,,আরহামের মাথাটা আরো গড়ম হলো,, দাঁতে দাঁত চেপে আশে পাশে তাকালো তার মা কোথায়,,,
পরপরই দেখতে পেলো খেতে বসেছে,,,আমিনা বেগম ছেলেকে খেলায় করলো,,নিচ থেকেই হাতের ইশারায় জিগ্গেস করলো কি হয়েছে,,,
আরহাম কিছুটা রেগে বললো
_ ভাতরে সাথে পানি লবন আর ঝাল কে দিবে,,,
দূর থেকেই আমিনা বেগম ছেলের কথা বুঝে গেলেন,,হাতের ইশারায় ছেলেকে রুমে যে বললেন,,
এদিকে কেউ কেউ আরহামের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,, বাড়ির বড় ছেলে তবে কারো সাথে কোনো কথা নেই,,,আমিনা বেগম সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো,, মাত্র খেতে বসেছে কি যে করবে,,
আশে পাশে তাকিয়ে আরশিকে খুঁজলো,,তবে না নেই,,,সবার খাওয়া শেষ যে যার মতো চলে গেছে,,,কয় একজন খাচ্ছে,,
আমিনা বেগম কাকে পাঠাবে বুঝতে পারলো না যাকে তাকে রুমে পাঠানোও যাবে না,, পরপরই নুবার কথা মনে পড়লো,,আজ পেয়েছে নুবাকে,,কি এক জ্বালা,,
আমিনা বেগম ভাতের প্লেট নিয়ে নুবার রুমে যেএ দেখলো মোবাইল নিয়ে বসে আছে,,আমিনা বেগম রূমে ডুকেই জিগ্গেস করলো

_ খেয়েছিস,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না,,
আমিনা বেগম রেগে বললো
_ এখনো খাসনি কেন,,,দুপুরের ওষুধ কখন খাবি,,,
_ সবার শেষে হলেই খাবো
_ আচ্ছা একটা কাজ কর,,আরহামের রুমে পানি আর লবন দিয়ে আয় সাথে ৩/৪ টা কাঁচা মরিচ নিয়ে যাইস যদিও ঝাল বেশি করে দিয়েছি তবু,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ অ,,অন্য কাউকে পাঠাও,,,আমি যাবো না,,বাড়ি ভরা কত মানুষ কাউকে পাঠালেই তো হয়
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ মাত্র ভাতে হাত দিয়ে দু মুঠো খেয়েছি,,,এখন হাত ধুয়ে যেতে ইচ্ছে করে,,আর কাকে পাঠাবো,,যাকে তাকে পাঠালে ওর আবার নাটক শুরু হয়ে যাবে,,,তাই তো তোকে বল্লাম,,
নুবা ইনিয়ে বনিয়ে বললো
_ না,,,না,,, তুমি কষ্ট করে খেএ দিয়ে আসো
_ আচ্ছা তোর সাথে রিনুকে পাঠাচ্ছি,,,বুঝতে পরাছি একা যেতে তোর ভালো লাগে না কখন কে কি বলে বসে
রিনু বয়স ৯/১০ হবে,,,,আরহামের খালতো বোন,,

রিনু আর নুবা সিরি দিয়ে উঠছে,,রিনু উঠতে উঠতে জিগ্গেস করলো
_ নাম কি তোমার আপু
_ নুবাইরা রহমান,,উরফে নুবা
_ ও‌ সুন্দর,,, আমার নাম জানো
_ হ্যাঁ,,চাচি বলেছে,,
রিনু ভেবে বললো
_ তুমি কি বাড়ির বউ,,
রিনু ভুরু কুঁচকে বললো
_ না তো,, তোমার এটা কেন মনে হচ্ছে,,
দুই জন করিডোর পার করতে লাগলো রিনু মুচকি হেসে বললো
_ তুমি সুন্দর করে মাথায় কাপড় দিয়ে আছো তাই বল্লাম,,আসলে আমার মা সবসময় বলে বাড়ির বউ মাথায় কাপড় দিয়ে থাকে,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো

_ আশ্চর্য তো,,মাথায় কাপড় দিলে কেউ বউ হয় নাকি,,,আমি এই বাড়ির সামান্য মেড বুঝলা,,
রিনু অবাক হয়ে বললো
_ মানে Helping Hand,,
নুবা মাথা ঝুকলালো,,
রিনু গালে হাত দিয়ে বললো
_ এতো সুন্দর Helping Hand,,
নুবা মুচকি হাসলো,,,আর বললো
_ শুনো পাকা মেয়ে,,বিয়ে হলে নাকে নাক ফুল,,হাতে চুরি থাকে বুঝলে,এবার থেকে ভালো মতো দেখে সবাইকে বলবে,,
রিনু মাথা ঝুকালো,,,
_ আচ্ছা তোমার আম্মু আব্বু আছে,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না,, আম্মু আছে,,আর তোমার,,
_ আমার একটা বড় ভাই আছে,,, আম্মু আব্বু আছে,,,বড় ভাইয়া অনেক সুন্দর,, তোমাকে আমার ভালো লেগছে,,বড় ভাইয়ার বউ বানাবো,,,
নুবা আবারো হতভম্ব হয়ে বললো

_ পাকা বুড়ি একটা,,তা তোমার ভাই এর নাম কি
_ রিহান চৌধুরী,,, সুন্দর না
_ হ্যাঁ,,,তবে এরকম পাকা পাকা কথা সবার সামনে বলবে না সবাই খারাপ ভাববে
_ তুমি খারাপ ভাবোনি ,সেই জন্যই তো তোমাকে ভালো লেগছে,,,
তারা কথা বলতে বলতে রুম পর্যন্ত পৌঁছে গেলো,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,, যদি এখনো ওই সব চলতে থাকে এই বাচ্চাকে নিয়ে কি করে রুমে যাবে,,নুবা নিজেকে প্রস্তুত করে নিলো,,, পরপরই নুবা দরজায় টোকা দিলো,,,
আরহাম ভিতরে থেকে বলে উঠলো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২১

_ আসো,,,
নুবা আর রিনু দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো,,রিনু ভিতরে ডুকেই আয়রাকে দেখে এক লাফে তার কাছে চলে গেলো,,,নুবা এক পলক পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো মুভিটা এখনো চলছে তবে অন্য কিছু কোনো ওরকম মূহুর্ত না,,নুবা যেনো শান্তি পেলো তবু গাল গড়ম হয়ে আসলো তার,,,
আরহাম ভিজে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে পড়নে শুধু একটা টাওজার,,যাও ভিজে একাকার,, হয়তোবা গোসল করতে গেছিলো রুম থেকে কিছু নিতে এসেছে,,তবে এভাবে পুরো ফ্লোর ভিজে যাচ্ছে,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here