নীরব উন্মাদনা পর্ব ২১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
(হাজেরা বেগম সব খুলে বললো,,,এই কথা শুনে আমিনা বেগমের মুখে হাসি ফুটে উঠলো,,সে ভাবেনি এতো তাড়াতাড়ি কষ্টের ফল পাবে)
আরহামের রুমে একবার কড়া নেড়ে ডাক দিতেই সে খুলে দিলো,,এখনো ঘুমাইনি সে,,,আয়রা কেমন ক্ষুত ক্ষুত করছে,,তাই বাপ মেয়ে জেগে আছে,,,
আরহাম দরজা খুলে ছোট্ট করে প্রশ্ন করলো
_ এতো রাতে যে,,,
আমিনা বেগম রুমের ভীতরে উঁকি মেরে বললো
_ মেয়ে কোথায়,,
_ এতো সময় কান্না করছিলো এই মাত্র ঘুমালো,,
আমিনা বেগম আরহামকে পাশ কাটিয়ে রুমে চলে গেলো,, অর্ধ ঘুমন্ত আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,, হঠাৎ এরকম কাঁচা ঘুমে বেঘাত ঘটায় আয়রা নাক মুখ কুঁচকে কেঁদে উঠলো
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ mom,,এই মাত্র ঘুমিয়েছিলো,,
আমিনা বেগম উত্তর দিলো না আয়রাকে নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,মায়ের থেকে উত্তর না পেয়ে আরহামো পকেটে হাত গুঁজে মায়ের পিছন পিছন আসলো,,,
নুবা ড্রেস চেঞ্জ করে মাত্র বসেছে তবে আবারো একি অবস্থা হয়ে যাচ্ছে,,, মনে হচ্ছে বরকত বাড়ছে,,,তাই বলে এতোটা,,,যা ধারনার বাইরে,,
নুবা ঘুম ঘুম চোখে এসে বিছানায় বসতেই আমিনা বেগম আর হাজেরা আয়রাকে নিয়ে রুমে আসলো,,,
আমিনি বেগমের মতে এটা নষ্ট না করে আয়রা যদি একটু মুখে নেয়,, অবশ্য তাকে রাতে খাওয়ানো হয়েছে তবু,,,
নুবা বালিশে মাথা ঠেকাতেই আমিনা বেগম পাশে এসে বসলো,,,এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে মহা খুশি হলো,,,আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললো
_ একটু কষ্ট করে উঠ মা
নুবা ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ ওকে এখানে দেও,,ঘুম আসছে,,,
হাজেরা ধমক দিয়ে বললো
_ উঠে বস,, বাচ্চাটার নাক মুখে যদি উঠে যায়,,পড়ের সন্তান নুবা,,,
নুবা কিছু সময় পর উঠে বসলো বিরবির করে বললো
_ ভুলেই গেছিলাম,,এই বিচুটি পাতা আমার না,,,
নুবার কথা শুনে আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললো,,,
_ তুই আন্টি হোস,,ফুপু হোস,,বা খালা,,তবে মা বলে ডাকার অধিকার তো আছেই তোরি মেয়ে,,,
নুবা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ শুনে খুশি হলাম চাচি,,
বক্ষ স্থল জুরে আয়রার বিচরন,,সবাই অবাক হচ্ছে আয়রার কান্ড দেখে,,নুবা নিজেও বেশ অবাক,,,
রাতে তাকে খাওয়ানো হয়েছে তবে ২০ মিনিট হবে আয়রা চকচক শব্দ তুলে বুকের দুধ পান করছে,,যার ফলে নুবার ভারি বুক অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে,,,
নুবা শুধু আয়রার দিকে তাকিয়ে আছে,,আয়রা এক হাত দিয়ে নুবা জামা অন্য হাত দিয়ে শরীর খামচে ধরেছে,,মনে হচ্ছে যেনো কেউ তাকে নুবার থেকে আলাদা করতে না পারে,,
নুবা দুই হাতে ভর দিয়ে বসে আছে,,,আর মনযোগ দিয়ে আয়রার খেতে খেতে হুম,আহ,,চক চক শব্দ শুনছে,,,তার মুখ বেয়ে ধবধবে সাদা দুধ গড়িয়ে নুবাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে,,,
নুবা আয়ারকে এক পাশের টা থেকে সরিয়ে অন্য পাশে দিতে চাইলো তবে নাছরবান্দা হয়রা ছাড়তেই চাইলো না,,,ছাড়াতে চাইলে গুনগুন করে কেঁদে উঠলো,,যেনো কত বছর ধরে সে এই অপেক্ষা করছিলো কবে বুকের দুধ পাবে,,,
আমিনা বেগমও আয়রার কান্ড দেখে অবাক,,,নুবা এবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হেঁসে বললো
_ তোমার নাতনি তো এরকম করছে যেনো বছর খানিক ধরে তাকে কিছু খেতে দেওয়া হয় না,,
হাজেরা বেগম আনমনা হয়ে বলে উঠলেন,,
_ মায়ের বুকের দুধে যেই শান্তি আছে ফিডারে কি সেটা আছে,,
কথাটা বলে তিনি নিজেই অবাক হয়ে গেলেন,, পরপরই আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললেন
_ না মানে আপা,,আমি বলতে চাইছিলাম যে,,,
আমিনা বেগম হাজেরাকে শান্তনা দিয়ে বললো
_ তোমার কথার অর্থ আমি বুঝেছি,, বুঝাতে হবে না,,,বুক আগলে দুধ পান কররা যেই শান্তি তা কিছুতেই পাওয়া যায় না,,তাই হয়তোবা আমার নাতনি অনেক দিন পর পেয়ে খুশি হয়ে গেছে,,,
আমিনা বেগম চোখ ভরে আসলো,,,আয়রা খেতে খেতে মাথা তুলে নুবার দিকে তাকালো,,আয়রাকে এভাবে তাকাতে দেখে নুবার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো,, কেমন জানি অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করলো,,,
নুবা আয়রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ আপনি খান নাকবুচি,, আপনাকে কেউ কিছু বলবে না কোনো রকম ডিস্টার্ব করবে না ওকে,,,
আয়রা কি বুঝলো কে জানে নুবার হাসি দেখে নিজেও খেতে খেতে হাসলো,,এবার চোখ সরিয়ে নিয়ে খেতে মনযোগী হলো,,,
আরহাম রুমের দরজায় বুকে হাত গুঁজে সেই প্রথম থেকে দাঁড়িয়ে আছে,,,নুবার সামনে আমিনা বেগম আর হাজেরা বসে থাকায় আয়রাকে দেখতে পারছে না,,,উপর থেকে শুরু নুবার মাথা দেখা যাচ্ছে,,,মাঝে মাঝে নুবা মাথা উঁচু করলে তার কপাল দেখা যাচ্ছে,,,
আরহামের বুকের ভারি ভাবনা আজ নেমে গেলো,,খুবি চিন্তিত ছিলো সে,,তবে আজ থেকে সে চিন্তার ভার দেবো মুক্তি পেলো,,,,
অনেকটা সময় এভাবে পাড় হলো এবার নুবারো ঘাড় কমড় চিনচিন ব্যথা শুরু হলো সাথে বুকেও,,,নুবা আয়রার দিকে তাকাতেই দেখলো নুবাকে আঁকড়ে ধরে বক্ষ স্থল মুখে বন্দি করেই ঘুমিয়ে আছে,,নুবা মুচকি হাসলো আয়রাকে নিজ থেকে আলাদা করতে করতে বললো
_ যাক তোমার নাতনির পেট তবে ভরলো,,এবার এই বিচুটি পাতাকে নিয়ে যাও,,ahh ঘাড় ব্যথা হয়ে গেলো,,,
আমিনা বেগম এতো সময় বসে বসে ঘুমাচ্ছিলেন নুবার কথা শুনে আয়ারাকে কোলে নেওয়ার চেষ্টা করলো,,
তবে কাজ হলো না,, দুষ্টু আয়রাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ঘুমের ভিতরে নুবাকে আঁকড়ে ধরলো, ফোকলা মারি দিয়ে নুবার নরম মাংস চেপ ধরলো,,, পরপরই চোখ বন্ধ করেই তার সরু ঠোট দিয়ে টানতে লাগলো,,
নুবা অবাক হয়ে গেলো এই মেয়ে না এই ঘুমাচ্ছিলো,,,
আমিনা বেগম চেষ্টা করলো সরানোর তবে কাজ হলো না,,ঘুমের ভিতরে শক্ত করে নুবাকে চেপে ধরে রইলো,,নুবা হালকা ব্যথা পেয়ে বিরবির করে বললো
_ ওকে টেনো না চাচি,,, তোমার ফাজিল নাতনি আমাকে জোরে চেপে ধরে রেখেছে,,
নুবা এবার নিজে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,এক প্রকার জোর করেই আয়রাকে নিজের থেকে সরালো তবে এবার আয়রা চোখ বন্ধ করেই কাঁদতে লাগলো,,, ঘুমন্ত অবস্থায় দুষ্টু আয়রা আবারো ছুচোর মতো ঠোঁট বুকে বিচরন করে নিজের স্থান টুকু দখল করে নিলো,,,
নুবা বেশ অবাক হলো,,এতো ছাড়ার নামি নিচ্ছে না,,,আমিনা বেগম নাতনিকে কোলে টেনে নিলো দুলিয়ে বললো
_ হইছে কালকে আবার এখন চলেন,,
আয়রা টিপটিপ করে তাকিয়ে ফিরফির করে কেঁদে উঠলো,,,দাদির বুকে নিজের মুখ দিয়ে বিচরন চালালো,,সবাই বুঝে গেলো আয়রা কি চাইছে,,,
আমিনা বেগম নাতনির কান্না দেখে আবারো নুবার কাছে দিলো,,,আয়রা চোখ বন্ধ না করে তৃপ্ত পাখির মতো নুবাকে আঁকড়ে ধরলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ আশ্চর্য,,তোর কি পেট ভরেনি বাপ,,আর কতো,,
আয়রা চোখ বন্ধ করে নিলো তবে মুখ চলতেই থাকলো,,,হাজেরা বেগম ঘুমঘুম কন্ঠে বললো
_ অনেক দিন পর পেয়েছো তো তাই ছাড়তে ইচ্ছে করছে না,,বড্ড দুষ্টু ,,,
এভাবে অনেক বার চেষ্টা করা হলো প্রতিবারি আয়রা কেঁদে উঠলো,,নুবা এবার না পেরে বললো
_ ও আমার কাছে থাক চাচি,, তুমি যাও দেখি কত খেতে পারে,,,
আমিনা বেগম হাই তুলে বললো
_ দেখে রাখিস আমি গেলাম,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,, পরপরই আয়রাকে নিয়ে শুয়ে পড়লো,,পাশ থেকে পাতলা খেতা নিয়ে আয়রাকে আর নিজেকে ডেকে নিলো,,,
আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হতেই দেখলো আরহাম চেয়ার নিয়ে রুমের পাশে বসে আছে,আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললো
_ এখানে কি করছিস
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,মায়ের কোল ফাঁকা দেখে বললো
_ মেয়ে কোথায়,,
_ নুবার থেকে আলাদা করলেই কান্না করছে,, অনেক দিন পর পেয়েছে তো তাই হয়তোবা,, তুই বরং যেএ শুয়ে পর আজ রাতটা আয়রা নুবার কাছেই থাক,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,, পাগল হয়েছো,,, আমার মেয়েকে ওই মেয়ের কাছে সারা রাত রাখবো,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_তো কি হয়েছে,,,
_ no never,,আয়রাকে নিয়ে আসো,,আমি ওকে এখানে রাখতে পারি না,,
আমিনা বেগম ছেলের চোখের ভাষা বুজতে পেরে বললো
_ নুবা আয়রার ঠিক করেই খেয়াল রাখবে,,, অবিশ্বাস্যের মতো কিছু আছে,,,
_ mom,,I don’t trust anyone.,,১/২ ঘন্টার ব্যপার আলাদা,পুরটা রাত ভিন্ন,,আয়রাকে নিয়ে আসো,,
_ তোর মেয়ে আসতে চাইছে না,,তোর কি মনে হয় আমি মিথ্যা বলছি
_ আমি জানি না কিন্তু ওকে নিয়ে আসো,,
আমিনা বেগম রাগ হলো,,উনি গগটগট শব্দ তুলে রুমে গেলো,,আমিনা বেগম কে আবার ফিরে আসতে দেখে নুবা ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে বললো
_আবার কি হলো চাচি
আমিনা বেগম আয়রাকে নুবার থেকে ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো
_ ওর বাপ নিয়ে যেতে বলেছে,, তুই ঘুমা সারা রাত ওকে রেখে কষ্ট করতে হবে না
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ কিসের কষ্ট,,ও তো ঘুমিয়েই যাবে একটু পর
_ না থাক,, তুই ঘুমা,,
নুবার একটু খারাপ লাগলো,,তবে কিছু বলতে পারলো না,,আমিনা বেগম আয়রাকে নুবার থেকে দূরে সরাতেই কাঁদতে লাগলো,,আবারো আমিনা বেগমের বুক বিচরন করলো,,,
নুবা নিজেকে ঠিক করে খেতা শরীরে ভালো মতো টেনে শুয়ে পড়লো,,,
আমিনা বেগম কান্না রত আয়রাকে এনে আরহামের কোলে রেখে বললো
_ ধর তোর মেয়েকে,,,
আরহাম মেয়েকে কোলে নিলো তবে শান্তি পেলো না কারণ আয়লা এ্যাঁ এ্যাঁ করে কাঁদছে,,আরহাম অবাক হলো,,তবে মেয়েকে নিয়ে রুমের দিকে হাঁটা দিলো,,
আমিনা বেগম পিছন পিছন আসলো,,, অতঃপর যে যার রুমে চলে গেলো,,
আরহামের মাথা ধরে যাচ্ছে,,,আয়রা কান্না করেই যাচ্ছে,,একটু করে আরহামের বুকে মুখ বিচরন করছে যখনি দেখছে তার অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটি নেই তখনি হঠাৎ চিৎকার করে উঠছে,,
আরহাম ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তবে একটু করে থামছে আবারো মুখ দিয়ে চকচক শব্দ করছে,,,মুখ নাড়ছে,,আরহামের গেঞ্জি মুঠো পুড়ে চুষছে,, কিছু না পেলে আবারো কাঁদছে,,,
আরহাম এক পলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে রুমে হাঁটতে হাঁটতে বললো
_ চুপ করো মা,,পাপার মাথা ব্যথা করছে,, চিৎকার করে না,,,
আয়রার এতো চিৎকারের ফলে আরাহামের মাথা ধরে গেছে,,, কান্না করলে অসহ্য লাগে তার,,সহ্য হয় না,,তার মেয়ের জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তোবা এতো সময় আছার মেরে দিতো দুবার,,,
আরহাম মেয়ের গালে চুমু খেলো,,দোল দিলো কথা বলবো,,তবে আয়রা থেমে আবারো শুরু করলো,,,
_ hsss,,,hsss,,,চুপ,,চুপ করো,,পাপা কিন্তু রেগে যাচ্ছে,,, stop aira,,,
আরাহাম মেয়েকে বুকেরে সাথে লাগিয়ে দোল দিতে লাগলো,,
আমিনা বেগম মাত্র শুয়েছিলো তখনি তার দরজার বাইরে থেকে আয়রার কান্নার শব্দ ভেসে আসলো,,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,বুঝতে পারলো কে এসেছে,,
আমিনা যেএ দরজা খুলে দেখলো তার ছেলে আয়রাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,আমিনা বেগম আয়রাকে কোলে নিতে নিতে বললো
_ কি পারলি না তো সামলাতে,, বলেছিলাম কান্না করবে,,,তোর থেকে তোর মেয়ে বড় ডিট,,দেখতে হবে না কার রক্ত,,যা বলবে চাই,,,
আমিনা বেগম আয়রাকে নিয়ে হাঁটা দিলো,,আরহাম পিছনে পিছনে ছুটে এসে বললো
_ mom please,,আমি আমার মেয়েকে ওই রুমে রাখবো না
আমিনা বেগম থেমে গেলো,,পিছন ঘুরে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সরাসরি তো বলতে পারিস মেয়েকে না দেখে থাকতে পারবি না,,,
_ হ্যাঁ,,সেটাই তো,,আর আমি কাউকে ভরসা করি না,,,
_ তাহলে নিয়ে রাখ ওকে নিজের কাছে,,থাকবে,,না থাকবে না,,লোভী তোর মেয়ে,,,লোভ লেগে গেছে জিভের ডগায়,,
আরহাম কপালে আঙ্গুল ঘষলো,,কি করবে সে,,না মেয়েকে এক মূহুর্তের জন্য ওখানে রাখবে না,,ওই রুমে এসি নেই,,,ভালো একটা বিছানা নেই,,,কি করে রাখবে,,,ফ্যানের বাতাসে মেয়ের ঠান্ডা লেগে যাবে,,,
আরহাম কিছু একটা ভেবেই,,, এগিয়ে গেলো,,,আমিনা বেগম পিছন পিছন যেএ বললো
_ কোথায় যাচ্ছিস,,,
আরহার কোনো কথা না বলে সোজা নুবাদের রুমে ডুকে গেলো,,আমিনা বেগম দৌড়ে ছেলের পিছনে ছুটে গেলো,, আল্লাহই জানে আবার কি করে বসে,,
নুবার মাত্র চোখ লেগে এসেছিলো,তবে হঠাৎ কানে ভেসে আসলো আয়রার কান্নার শব্দ,,, কিছু বুঝে উঠার আগেই নুবার অন্তর আত্মা শুকিয়ে গেলো কারন সে এখন হওয়ায় ভাসছে,,নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,
আমিনা বেগম মুখে হাত চেপে বললো
_ আরহাম,,,ওকে নামা,,,
নুবা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আরহামের গলা জড়িয়ে ধরলো,, পরপরই লিভিং রুমের আলোতে আরহামের মুখ দেখে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো সে,,
নুবা আশে পাশে না তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,,,
_চাচি,,,ও চাচি,, তোমার ছেলে আমাকে আবারো অপহরণ কররা চেষ্টা করছে,, আবারো ঘুমের ভিতরে আক্রমন করেছে,,,মা মা,,, তোমার মেয়েকে নিয়ে চলে যাচ্ছে,, চাচি চাচি কই তুমি,,,
পরপরই আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ে বললো
_ছাড়ুনা আমকে আমি যাবো না,,চাচি,,
আরহাম কিছু বলতে যাবে তার আগে পাশ থেকে আমিনা বেগম দৌড়ে এসে বললো
_ আরে হতচ্ছেরি চুপ,,আমি আছি,,,বাড়ির সবাইকে জাগাবি নাকি
আরহাম সিরি বেয়ে উঠলো,,,নুবার মাথা উঁচু করে চাচিকে দেখে শান্ত হওয়ার বদলে উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ তুমি,,তুমিও তোমার ছেলের সাথে মিলে আমাকে অপহরণ করছো,, আল্লাহ তোমাদের মাফ করবে না,,আমি তোমাদের সাহায্য করেছি আর তোমরা আমার সাহায্যের এই প্রতিদান দিচ্ছো,,, আল্লাহ,,,
আরহাম নুবাকে এনে নিজের রুমের ফ্লোলে ফেললো,,,নুবা নিচে পড়ে ঘুমের চোখে আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_ এ তোমরা আমাকে কোথায় আনছো,,কোন দেশের মাটিতে এনে ফেললে কিছুই তো চিনি না,,,ওই চাচি আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসো গোওও,,,
আমিনা বেগম সেএ নুবার মাথায় পরপরই ৩ টা চর মারলো,,,বিরবির কন্ঠে বললো
_চুপ চুপ,, থাপ্পর না খেতে চাইলে চুপ কর,,,আর কি আবল তাবল বলছিস,,ঘুমে ধরেছে নাকি,,,
নুবা এবার ভালো মতো সব দিকে তাকালো পরপরই দেখলো এটা আরহামের রুম,,নুবার গায়ে পাতলা খেতা ছিলো,,তা সে আরো ঠিক মতো গায়ে জরিয়ে বললো
_ আমাকে এই অর্ধ রাতে এখানে আনছো কেন,,,দুই জন মিলে আবার আমাকে মেরে টেরে ফেলার প্লান করছো নাকি,,বাড়ি ভর্তি মানুষ কিন্তু চাচি,,তোমরা সফল হতে পারবে না,,
বলতে বলতে নুবা পিছিয়ে গেলো,,তার এখন দৌড় দেওয়ার ধান্দা,,,আরহাম তা বুঝতে পেরে নুবার কব্জি ধরে রুমে ভিতরে এনে ধমক দিয়ে বললো
_ চুপ,,মুখ বেশি চলে,,
এদিকে নুবা এমনিতেই সারাদিনে সব কিছু নিয়ে চিন্তায় থাকে তার ভিতরে কেউ যদি এরকম ঘুমের ভিতরে তুলে আনে তবে এটা কি আদেও ভালো কাজ করার জন্য,,,তার উপর ঘুমের তারনায় নুবা উল্টা পাল্টা বকছে,,
আমিনা বেগম নুবাকে চুপ করতে দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো আর বললো
_ ছি ছি আমাদের নিয়ে কি কি ভাবিস তুই,,মেরে ফেলবো তোকে তাই না,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ নামে মানে,, অর্ধ রাতে ঘুমের ভিতরে তুলে আনলে এর থেকে ভালো কথা কি মাথায় আসে,,
আমিনা বেগম ঠোঁট ফুলিয়ে কান্না রত আয়ারাকে নুবার কোলে ধরিয়ে দিয়ে বললো
_ ওকে ধর,,তোর মাকে বলে আছি আজ রাত তুই এখানেই থাকবি,,,
নুবা চোখ বড় বড় করে বললো
_ পাগল হয়ে গেছো,,,ছেলের মতো ___
বাকি কথা বলার আগেই আমিনা বেগম ধমক দিয়ে বললো
_ আমিও থাকবো,,,এবার চুপচাপ বস আমি তোর চাচাকে আর মাকে বলে আসি,,
নুবা বিচলিত কন্ঠে বললো
_ তোমার ছেলে ঘুমের ভিতরে আক্রমন করে,,কবে আমার হার্ড এট্যাক চলে আসবে,,,আর একদিন এমন করলে আমি কিন্তু এর একশন নিবো,,,
আরহাম চোখ তুলে নুবার দিকে তাকিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_তা কি একশন নিবে
নুবা আরহামের কথায় দুই কদম পিছিয়ে যেএ আমিনা বেগমের পিছনে লুকালো
আরহাম এগিয়ে এসে বললো
_ বলো কি করবে
নুবা বিরবির করে বললো
_চাচার কাছে বিচার দিবো
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_তাই নাকি,,তাকে আমি ভায় পাই হুম,,,
আমিনা বেগম নিজের শোয়ার বালিশ নিতে নিতে বললো
_ আপনি ঘুমান আমি নুবাকে নিয়ে আরহামের রুমে,,
হারুন মির্জা ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ কেন,,পরের মেয়ে আমিনা,,নূবাকে তোমার ছেলে থেকে দূরেই রাখো
_আপনার নাতনি কান্না করছে,, আপনার ছেলে নুবাদের রুমে মেয়েকে রাখবে না,,এখন কি করবো,,
হারুন মির্জা পাশ ফিরে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভুলে যেও না,,নুবা আমার দায়িত্ব,,, আমার ছোটো মেয়ের মতো,,,ওর ভালো টা চিন্তা করিও,, শুধু নিজের নাতনি আর ছেলের টা চিন্তা করো না,,
আমিনা বেগম কিছু সময় স্বামীর দিকে তাকিয়ে থেকে বললো
_ কি খারাপ করেছি আমি ওর সাথে,,,আপনি সবসময় বেশি বলেন,,আর ভুলে যাবেন না আমার বড় ছেলে বিগড়ে যাওয়ার পিছনে কিন্তু আপনারি হাত,,তাই কথা কম বলবেন,,
নুবা গায়ে খেতা পেঁচিয়ে আয়রাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আরহাম এখনো মেয়ের কান্না আফ হচ্ছে না দেখে বললো
_ তোমাকে কি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে এনেছি,,, এর কান্না থামাও,,,
নুবা চোখ ঘুড়িয়ে বললো
_ চাচি আসুক,,আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,,,
আমিনা বেগম বিছানা ঠিক করছে,,নুবা আয়রাকে নিয়ে বারান্দায় হাঁটছে,,, এমন সময় আরহাম বলে উঠলো,,
_ ওকি আমার বিছানায় ঘুমাবে নাকি mom,,,
আরহামের এরকম কথায় আমিনা বেগম তেতে উঠলেন,,, রাগি কন্ঠে বললেন
_ তোর নাটক আর ভালো লাগছে না আমার,,,এতো সমস্যা তালহে আনলি কেন,,,ওর মাকে কত বুঝিয়ে তার পর আসছি আল্লাহ জানে আমাকে কি ভাবছে,,বুঝতে পারছিলাম হাজেরা রাজি না তবু মানা করেনি,,এখন কি তোর জন্য ওকে নিচে শুয়াবো,,তহলে শুবে সাথে তোর মেয়েও,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ওকে গোসল করে আসতে বলো,, তুমি জানো তো আমার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অভ্যাস,,,
আমিনা বেগম ছেলের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,,ছেলের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কোলে করে উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারলি,,তোর মেয়ে দিব্বি ওর শরীরের সাথে লেগে দুধ টানছে,, হসপিটাল থেকে কার না কার দুধ এনে মেয়েকে খাওয়ালি,,তার পর কি জেনো বললি সেদিন,, হ্যাঁ,,পতিতা আনবি,, লজ্জা হয় না,,,, একটুও লজ্জা হলো না এই কথা বলতে,,,বিবেকে বাঁধে না,, ও মানুষ তো নাকি,,না গু গবর থেকে উঠে এসেছে,,,যে এই অর্ধ রাতে গোসল করে আসবে,,, মানুষকে মানুষ মনে করিস না,,কতটা নিচু ভাবিস,, হ্যাঁ কতটা,,,যে সারাদিন মেয়েকে সামলে রাখে তাকে বিছানায় শুতে দিতে ঘৃন লাগে,
বলে আমিনা বেগম থামলো,, অর্ধ রাতে নাটকের শেষ নেই,,
আরহাম মায়ের কথা গুলো শুনে কিছু বললো না,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে ধমকে বললো
_ বারান্দায় যেএ শুবি,,পরের মেয়েকে নিয়ে কোনো বদনমা না রটে যায় সেই ভয় হয়,,বাড়ি ভর্তি মানুষ কে কখন কি বলে ফেলে,,আর হ্যাঁ নুবার থেকে দূরে থাকবি,,,মেয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলে আমকে ডাকবি,,,
আরহাম এবার বেশ রেগে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ২০
_ বাচ্চা নই আমি,,যে কেটকেট করছো,,আর ওই মেয়ের উপর আমার কোনো intrastd নেই,,যে আমাকে ওর থেকে দূরে থাকতে বলছো,,, এমন ভাবে বলছো যেনো বিশ্ব সুন্দরী ,,না আছে রুপ না আছে কথার ধরন,,না বডি ফিটনেস,,, ওজন হবে দেরশো কেজির মতো,,, শুধু বাচ্চাটার জন্য ওর মতো মেয়েকে সহ্য করছি,রুম পর্যন্ত আসতে দিয়েছি,,না হলে তুমি ভালো মতোই জানো আমি কেমন,,,
আমিনা বেগম রেগে বললো
_ চোখের সামনে থেকে সর,,
