প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫২
জান্নাত নুসরাত
নুসরাত ইসরাতকে উপহারের সাথে করে একটা চিরকুট দিয়েছে। চিরকুটে বাংলা অক্ষরে লিখা। ইসরাতের কাছ থেকে চিরকুটটা চেয়ে নিয়ে যখন জায়িন চোখের সামনে তুলে ধরল, তখন তার মুখের বিশ্রী পরিবর্তন হলো। মুখ উলটে বমি করার ভাব ভঙ্গি করে বলল,”মানুষের লেখা নাকি এটা? মনে হচ্ছে কেউ তেলাপোকা ছেড়ে দিয়ে, তেলাপোকা দিয়ে লিখিয়েছে।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামল সে। অতঃপর ইসরাতের কাছে চিরকুট ফিরিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,”কী লিখেছে ও, এখানে?
ইসরাত চিরকুটটা নিজ মনে পড়তেই লজ্জায় মুখ লাল হয়ে আসলো৷ চোখের চামড়া কুঁচকে গেল। কান গাল গরম হয়ে আসলো। জায়িন আবারো তাড়া লাগাল কী লিখেছে বলে। ইসরাত ধীর স্থির ভঙ্গিতে নিজের মতো করে কিছু অংশ বাদ দিল, আর কিছু অংশ বলল,”প্রিয় ইসরাত, অপ্রিয় জায়িন ভাই! ইসরাত আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবে, কিন্তু জায়িন ভাই মোটেও তা নিবেন না। আপনাদের বিবাহতে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলেও…
ইসরাত থামল। জায়িন আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,”এরপর কী লিখেছে?
ঠোঁট উল্টাল সে। বলল,”কালো কালার চাঁদের ইমোজি আর্ট করে দিয়েছে। বাকি টুকু লিখেনি।
জায়িনের আগ্রহ এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল৷ ইশারায় বলল,’’পরেরটুকু পড়ুন।
ইসরাত আবারো শুরু করল,” তো ওই কথা অর্ধেক থাক, বেশি বোঝার প্রয়োজন নাই৷ কী বলছিলাম আমি? হ্যাঁ যা বলছিলাম, আপনাদের বিয়েতে আমি কালো কাপড় পরেছি কেন জানেন? জানেন না তো? জানার ও দরকার নাই। বেশি জানা শোনা হয়ে গেলে ধরণীর বুকে তার জীবনী ফুরিয়ে আসে।….. আপনাদের আমি দুটো টিকেট দিব মালেশিয়ায় যাওয়ার জন্য, সোজা ভাষায় বললে হানিমুনে যাওয়ার জন্য, আপনারা দু-জন সেখানে গিয়ে ঘুরে আসুন কয়েকদিনের জন্য। মালেশিয়ার টিকেট আছে খামের ভেতর।
জায়িন ঝটপট খাম খুলতেই বেরিয়ে এলো দুটো কাগজের টুকরো। তার উপর বাচ্চাদের মত এবড়ো খেবড়ো হাতের লিখা,’মালেশিয়ার টিকেট!’
না চাইতেও জায়িনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো,”এটা কী? কোথাকার টিকেট?
ইসরাত শব্দ করে হেসে ফেলল। বলল,”এটাই মালেশিয়ায় যাওয়ার টিকেট।
টিকেটের পেছনে লিখা বাংলা অক্ষরে,’বিকিনি পরে জায়িন ভাইকে সারপ্রাইজ দিয়ে একদম হুঁশ উড়িয়ে দিস। তাহলে জায়িন ভাই খুশি হয়ে আমাকে টাকা দিবে টাকা… এত সুন্দর একটা উপহার দেওয়ার জন্য। আর মোটেও আমাকে অশ্লীল বলবি না, আমি অশ্লীল সেটা আমি জানি। হে হে..
আরশ ভ্রু গোছাল সামান্য। চোখ দুটো কুঁচকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে জিজ্ঞেস করল,”তুই জানলি কেমনে?
নুসরাত সে কথার উত্তর দিল না, মৃদু হাসল ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে। নিজের মাথায় আঙুল দিয়ে ট্যাপট্যাপ করে দেখাল মস্তিষ্ক আছে যার সে ভালো বুঝবে। আরশ জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল,”চল বাড়ি ফিরি।
নুসরাত কপাল কুঁচকাল। কুঁচকানো মুখে জানতে চাইল,”বাড়ি ফিরব কেন? টাকা দিবেন না?
আরশ অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,”কীসের টাকা?
আরশকে এমন নাটকীয় ভঙ্গিতে অবাক হতে দেখে নুসরাত রেগে গেল। মিথ্যুকটা এভাবে বলতে পারল? ক্ষোভে লাল হওয়া মুখ নিয়ে কতক্ষণ চেয়ে থেকে বলে ওঠল,”টাকা দিবেন না যখন, তাহলে কেন বলেছিলেন দিবেন?
“কখন? কোথায়? কোন সময়? এক্সেট টাইমটা, লোকেশনটা বল!
নির্লিপ্ত বসে থাকা আরশের অবাকতা নুসরাতকে ঠেলে দিল অসীম রাগের দিকে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তেড়ে গেল আরশের দিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু-হাতে চুল চেপে ধরল। দাঁতে দাঁত চেপে চ্যাঁচাল,”একদম মিথ্যা কথা বলবেন নাআয়ায়া, আরশ ভাই। আমি আপনাকে খুন করে ফেলব।
আরশ নিজের চুল মেয়েলি হাত থেকে অনায়াসে ছাড়িয়ে নিল। একহাতে চেপে ধরে হিসহিসাল,”দেখি খুন কর, তোর সাহস কত দেখব আজ।
ক্রোধে অন্ধ হয়ে আসলো মেয়েটা। চোখ, গলায় অসহায়ত্ব,”আপনি আমার সাথে এমন করতে পারেন না, আপনি না আমার ভাই?
কথা শেষে আরশের মোবাইলটা ছুঁ করে নিয়ে নিল নিজের হাতের মুঠোয়। কভার খুলে কার্ড বের করতে করতে বলল,”এর ভেতরের সব টাকা আমার।
আরশ শ্রাগ করল। বলল,”আচ্চা..!
খাটিয়া থেকে নেমে নুসরাতের হাত চেপে ধরল। গাড়ির দিকে হাঁটল ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে। পেছন থেকে নুসরাত উঁকি দিল। ডাকল,”আরশ ভাই..!
“হুউউ..!
“আপনার ইনকাম সোর্স কী?
আরশ ঘাড় বাঁকিয়ে পেছন ফিরল। দেখল নুসরাতের উচ্ছাসিত চেহারা। উত্তর না দিয়ে চুপচাপ হাঁটতে লাগল সম্মুখে। নুসরাত আবারো ডাকল,”আরশ ভাইইই…
থামল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। বলল,”বলুন না, আপনার ইনকাম সোর্স কী! বললে কী আমি আপনার ভাগেরটা খেয়ে নিব? বলুন না প্লিজ, প্লিজ..!
আরশ ঘাড় বাঁকিয়ে আবারো তাকাল ডিম্বাকৃতির মতো চোখগুলোর দিকে। গম্ভীর গলায় বলল,”আছে, কিছু একটা।
নুসরাত চিড়বিড়িয়ে উঠল,”আছে মানে কী, আছেটা কী, সেটাই তো জানতে চাচ্ছি!
আরশ উত্তর দিল না, হয়তো প্রয়োজন বোধ করল না। চোখ মুখ কঠিন করে বলল,”এত জেনে কী লাভ হবে?
“তাই বলে কিছু বলবেন না?
‘’না!
আরশ ফ্রন্ট সিটের দরজা খুলে দিল। ইশারায় দেখাল ভেতরে বসার জন্য। নুসরাত সিটে বসতেই, আরশ ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। গাড়ি স্টার্ট দিতেই, নুসরাত বিড়বিড় করল,”শালা আস্তো খাটাশ..! মনে হয় সুদ, ঘুষ খায়।
আরশ ঘাড় বাঁকিয়ে একবার নুসরাতকে দেখে গাড়ি চালানোতে মনোযোগী হলো।
গাড়ির কংক্রিটের রাস্তা দিয়ে নরম আলোয় ঝিকিমিকি খেলায় রপ্ত ধুলো মাড়িয়ে এগিয়ে চলল। মেইন রোডে উঠে আসতেই নুসরাত কিছু একটা দেখে চ্যাঁচাল,”আরশ ভাউইইইই, গাড়ি থামান।
আরশ গাড়ি থামাতে থামাতে নুসরাত দরজা খুলে হন্তদন্ত পায়ে দৌড়াল মেইন রোডের চলাচলরত গাড়ির সামনে দিয়ে। অতঃপর হারিয়ে গেল রাস্তার ওপাশে।
আরশ গাড়ি একপাশে পার্ক করে রেখে বের হলো মুখে ওয়ান টাইম মাস্ক লাগিয়ে। চোখ মুখ কুঁচকে অপেক্ষা করল রোড পরিস্কার হওয়ার। গাড়ি কমে আসতেই ধীর পায়ে আগাল সামনে। যতক্ষণে গিয়ে রাস্তার ওপাশে পৌঁছাল ততক্ষণে দেরি। নুসরাত মাটিতে গড়িগড়ি খেয়ে পেজাতুলোর মতো সাদা, মোলায়েম দেখতে খরগোশের ভিডিও তৈরি করছে। বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে ছবি তুলছে তাদের। তখনো পেছনে এসে সটান হয়ে দাঁড়ানো আরশকে দেখেনি। খরগোশের দোকানদারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরস মুখে জিজ্ঞেস করল,”খরগোশগুলার দাম কত?
“একটা মহিলা খরগোশ আর একটা পুরুষ খরগোশ দুইটা বারোশো টাকা।
নুসরাত কতক্ষণ খরগোশ যুগলকে দেখল তীক্ষ্ণ চোখে। তাদের এমন প্রেমলীলা তার চোখে বিষ মনে হলো যেন। ঈর্ষানিত চোখে খরগোশকে দেখে নিয়ে বলে ওঠল,”সব পুরুষ খরগোশ গুলা দিয়ে দেন।
দোকানদার অবাক কন্ঠে বলে ওঠল,’”হিইই, কিতা কইলায়?
নুসরাত আগের মতো ভাবাবেগহীন কন্ঠে বলল,“বলেছি, সব জোড়া থেকে পুরুষ দিয়ে দিতে।
পেছন থেকে গলা খাঁকারির শব্দ হলো। নুসরাত পিছু ফিরতেই, আরশ অত্যাধিক বিরক্তি মিশ্রিত কন্ঠে বলে ওঠল,”দু-জোড়া মিলিয়ে দিন।
নুসরাত গো ধরল।বলল,”না আমার সবগুলা পুরুষ চাই।
“সব পুরুষ দিয়ে তুই কী করবি?
আরশের বেহুদা প্রশ্নে নাক ফুলিয়ে তাকাল নুসরাত তার দিকে। বলল,”প্রেম করব। আর কিছু?
মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া নুসরাতের থেকে চোখ সরিয়ে আরশ দোকানদারের দিকে তাকাল। বলল,”সবগুলো দিয়ে দিন।
দোকানদারের গলায় বিস্ময় ভাব । জিজ্ঞেস করল,”সবটিন নিতায়নি?
আরশ ও তার মতো করে বলল,”জ্বি সবটিন নিব।
অতঃপর চারজোড়া খরগোশ বগলদাবা করে খুশি মনে সামনে এগোল নুসরাত। আরশ তার উপচে পড়া খুশি দেখে শুধাল,”খরগোশ খুব পছন্দ?
নুসরাত মাথা দোলাল উপর-নিচ। বলল,”খুউব..!
কিছু সময়ের নীরবতা নেমে আসলো দু-জনের মধ্যে। রাস্তা পার হওয়ার সময় নুসরাত আরশকে রেখে দৌড় মেরে চলে যাওয়ার আগেই আরশ মুঠিতে পুরে নিল তার হাত। নুসরাত একবার তাকিয়ে দেখল তারপর বিরক্তি মিশ্রিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,”হাত ধরেছেন কেন আরশ ভাই?
আরশ মৃদু শব্দে আওড়াল,
“গাড়ি, দেখে চলতে হবে।
“ তো আপনি দেখে চলুন না, আমাকে দেখে চলতে বলছেন কেন?
মুখ ভরে শ্বাস ফেলল সে,”যেহেতু আমার সাথে এসেছিস, সেহেতু বাড়ি না পৌঁছানো পর্যন্ত তুই আমার রেস্পন্সিবেলিটি। এন্ড ইউ নো না, আমি আমার দায়িত্বের কাজ কতটা গুরুত্ব সহকারে করি?
কথা শেষে আরশ মুখে জিপার টানল। নুসরাত হাত ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করল অনেক, কিন্তু আরশ ছাড়ল না। রাস্তা পার হলো আরশের হাত ধরে। নুসরাতের কাছে মনে হলো সে ল্যাদা বাচ্চা, যে কিন্ডারগার্টেন পড়ে, আর আরশ তার গার্জিয়ান। নাক মুখ কুঁচকে আরশের ছায়ার তলেই হাঁটল। দু-মিনিট চুপ থাকার পর আরশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,”আপনার কী পছন্দ, আরশ ভাই?
ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করল,“কী?
“বলছি, আপনার কোন প্রাণী পছন্দ?
“তুই পছন্দ।
নুসরাত দু-পাশে মাথা দোলাল। বলল,”আরে সেটা না, বাহিরের প্রাণী কোনটা পছন্দ?
আরশ আবারো নির্বিকার চিত্তে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে একই উত্তর দিল,”বাহিরের প্রাণী পছন্দ হতে যাবে কেন, ঘরের ভেতর একটা প্রাণী চোখের সামনে থাকতে?
নুসরাত কিল বসাতে গিয়েও হাতের খরগোশ ছানাগুলোর জন্য পারল না। চোখ পাঁকিয়ে বলল,”আরে বলুন না, কোনটা পছন্দ?
আরশ ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল কয়েক সেকেন্ডের জন্য নুসরাতকে। নিজের দিকে আরশের এমন খেয়ে ফেলা লোক দেখে নুসরাত লাফিয়ে উঠল,“চোখ সরান, চোখ সরান, এভাবে তাকাতে না করেছি না কতদিন, চোখ সরান..!
আরশ চোখ সরাল না, গ্রীবা বাঁকিয়ে ঝুঁকে আসলো। নুসরাতের কানের কাছে। সামান্য ঠোঁটের স্পর্শ লাগল কানের লতিতে। তবু্ও ভাবাবেগ হলো না তার। গলার আওয়াজ খাদে নামিয়ে হিসহিসিয়ে আওড়াল,”সোয়ান…
অতঃপর সেকেন্ড কয়েক সময় নিল। গুরু গম্ভীরতা কন্ঠে বজায় রেখে রাশভারী গলায় জিজ্ঞেস করআর মতো বলল,”ডু ইউ নো হোয়াট ইজ সোয়ান, মাই বিলাভড রেবিট?”
আরশ নুসরাতের উত্তরের অপেক্ষা করল না, সোজা হয়ে দাঁড়াল। যেমন বিরক্তি আর নির্লিপ্ততা নিয়ে এসে নুসরাতের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিল, তেমন করে গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ল। যেতে যেতে শক্ত করে গাল টেনে দিল দু-দিকে। ব্যথায় চোখ দুটো ভরে উঠল। ঝাঁঝাল ব্যথায় মুখ চোখা করে থু করে একদলা থুথু কংক্রিটের রাস্তায় ফেলতেই দেখল মিটিমিটি রক্তের আবির্ভাব। মুখ কুঁচকে গালি দিল,”শ্লা মাইনকার নাতি।
সে ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকক্ষণ গালাগাল করল আরশকে। জানতে ও পারল না, এমনকি টের ও পেল না, কথা শেষে আরশ কী সূক্ষ্মভাবে তার চুলের ভাঁজে চুমু খেয়েছে।
শাহেদ খান আর রুমি খান এসেছেন মাহাদিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের আপ্পায়নে কমতি রাখা হচ্ছেনা। বন্ধুর সাথে গল্প শেষে আছরের নামাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হলেন হেলাল সাহেব। শাহেদ খানকে নামাজে যাওয়ার কথা বললেও তেমন একটা আগ্রহ দেখালেন না, তাই বন্ধুকে বাসায় রেখেই টুপি মাথায় দিয়ে বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে বের হলেন। নাছির মঞ্জিলের সামনের গাছগুলোতে নুসরাত পানি দিচ্ছিল মনযোগ সহকারে। হেলাল সাহেবকে বের হতে দেখে একবার তাকিয়ে আবারো অবজ্ঞা করার মতো না দেখা করল। হেলাল সাহেব নিজেও কিছু বললেন না। গেট লক করে পিছু ঘুরতেই ভুতের মতো চোখের সামনে উদয় হলো একজন ফকির। হাত পেতে চাইল কিছু টাকা। হেলাল সাহেব কৃপণতা করলেন না। পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একশো টাকার কড়কড়ে একটা নোট বের করে ধরিয়ে দিলেন৷ মসজিদের উদেশ্যে পা বাড়াতেই গা জ্বালানো কথা ভেসে এলো,”এত দান-সদকা করে লাভ কী, আপনজনের তো হৃদয় পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছেন, কবুল তো হবে না এসব!
সহসা হেলাল সাহেবের পা থামল। তড়াক করে পিছু ফিরে জিজ্ঞেস করলেন,”তোর কোনো সমস্যা আমি দান করলে?
নুসরাত শ্রাগ করল। বলল,”আমি কখন বললাম আমার সমস্যা, আশ্চর্য!
দু-পা আগালেন ভদ্রলোক। কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন,“তাহলে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কথা বলছিস কেন?
নুসরাত নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল। হাতের পটটা দ্বারা পানি দিতে দিতে বলল,”হাদিসের আলোকে বলেছি। হাদিস জানেন না, আপনি?
“না জানি না, সব তুই-ই জানিস।
কথা শেষ করে ধুপধাপ পা ফেলে সামনে এগোলেন। নুসরাত পিছন থেকে আবারো ডাকল,”শ্রদ্ধেয় আব্বার ভাই, ইসরাতের শ্বশুর…
হেলাল সাহেবের পা থামল। নাক, মুখ ফুলিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন। বিড়বিড় করলেন,”মানুষের কোনো আকৃতি নেই, এই মেয়ের ভেতর।
নুসরাত শুনে ফেলল।।বলল,”কোথায় মানুষের আকৃতি নেই, সবদিকেই তো মানুষের আকৃতি আছে।
হাত, পা এগিয়ে দেখাল। অতঃপর নাক চেপে ও দেখাল। আকস্মিক হেলাল সাহেব জোরালো গলায় চ্যাঁচিয়ে ওঠলেন,”তুই নাক দেখিয়ে কী বোঝাতে চাচ্ছিস? তোর নাক আছে আর আমার নেই? তোরটা সরু, আমরটা মোটা?
নুসরাত বিস্মিত চোখে তাকাল।।মিনমিন করল,’”সেটা কখন বললাম?
“মাত্র বলেছিস, মাত্র।
নুসরাত শব্দ করে হেসে ফেলল। বলল,”বাচ্চাদের মতো করছেন কেন আপনি?
নুসরাতের কথায় আরো জোরে চ্যাঁচিয়ে উঠলেন,”বাচ্চাদের মতো করব না তো কী করব? তুই আমার নাক নিয়ে ঠাট্টা করছিস, আর আমি বসে বসে দেখব?
“তো আপনার নাক মোটা, সেটা আপনি কী অস্বীকার করতে পারবেন?
‘“তোর কোনো সমস্যা আমার নাক মোটা হলে?
“আমি কখন বললাম আমার সমস্যা হচ্ছে? নাক পটেটোর মতো আপনার, সমস্যা হওয়ার কথা তো আপনার?
হেলাল সাহেব কথায় পেরে উঠলেন না, তাই গুরুম গুরুম ডাকিয়ে চলে গেলেন। নুসরাত চেয়ে থাকল উনার যাওয়ার দিকে। বাতাসের সাথে উচ্চ স্বরে ভেসে এলো,”এত বেয়াদব মেয়ে তো এই বংশে একটাও নেই, এটা কার মতো বেয়াদব হয়েছে, আল্লাহ ভালো জানে।
নুসরাত গাছের গোড়া থেকে দূর্বা ঘাস ছেটে ফেলতে ফেলতে বলল,”একদম আপনার মতো হয়েছি। আমাদের দু-জনের কত্ত মিল, বড় আব্বু। দেখুন, দু-জনেই আমরা ধান্দাবাজ। দুনিয়ার সব আকাম কুকাম করে আল্লাহর ঘরে টাকা দেই, নামাজ পড়ি।
মাগরীবের পর থেকে নাছির মঞ্জিল নুসরাতের চিৎকারের ধমকে কেঁপে উঠছে। পা দু-দিকে ছড়িয়ে বসে মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করছে আর কাঁদছে। নুসরাতের মেকি কান্নায় সকলের দুঃখ লাগার থেকে বিরক্তি লাগছে বেশি। পুরো বাড়ি মাথার ওপর তুলে রেখেছে সে৷ মাহাদি নিজেও নুসরাতের দুঃখে কষ্ট পাচ্ছে। চোখ-মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে কষ্টের ছাপ। নুসরাতের মরা কান্না দেখে যখন নাজমিন বেগম জিজ্ঞেস করলেন,’কী হয়েছে’? তখন নুসরাত যা উত্তর দিল তা শুনে মেজাজ আরো খারাপ হয়েছে উনার। আইডি হ্যাক হয়ে যাওয়ায় কেউ এমন মরা কান্না জুড়তে পারে তা ভেবে পেলেন না তিনি। নুসরাতের হাই হুতাশ এক পর্যায়ে আরো বৃদ্ধি পেল। আরশ পাশে বসে তার কান্নাকাটি দেখছিল। চিৎকারের গতি যখন কমে আসলো, আপেলে কামড় বসিয়ে ভীষণ ব্যথিত স্বরে বলল,”সুন্দরই তো লাগছিল জোরে জোরে কান্না করছিলি যখন, এখন কেমন পানসে পানসে লাগছে।
নুসরাত পিছু ফিরল। আরশকে জিজ্ঞেস করল,”আরো জোরে চিৎকার দিব?
“হ্যাঁ..!
আরশের উৎসাহে নুসরাতের গলা ফাটিয়ে আরো জোরে চিৎকার দিল। গলার আওয়াজ রুম হতে মিলিয়ে যাওয়ার পূর্বে নাজমিন বেগমের জুতো জোড়া এসে পড়ল নুসরাতের কোলের উপর। দূর থেকে দেখা গেল রাগে, ক্ষোভে তপ্ত হয়ে এগিয়ে আসা নাজমিন বেগমকে। গলা ফাটিয়ে গালি দিলেন,”চুতমারানির মেয়ে, আজ তোর একদিন কী আমার একদিন..!
প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫১
চুলের মুঠি ধরে ঠাস করে জুতোর বারি বসাতে যাবেন, তার পূর্বেই নুসরাত লাফ দিয়ে গিয়ে আরশের পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। সহসা জুতোর বারির হাত থেকে নুসরাত বেঁচে গেলেও আরশ নিজের কাঁধ বাঁচাতে পারল না। গায়ের চামড়া জ্বলে উঠল বারির প্রকোপে। চোখ-মুখ কুঁচকাল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো ব্যথায়িত স্বর,‘আহ..!’

I’m so happy!. Ettoo valo lage ei uponnash ta, bolar baire!. Next part taratari diyen🤎
Thanks eitar w8 kortesilam 🥲
Khub sundor hoyeche ei part ta ar ektu boro hole valo hoto.wait korchi next part er ektu taratari diben .
আপু আপনি পর্বগুলো প্লিজ তাড়াতাড়ি দিবেন, গত একমাস ধরে প্রতিদিন আসতেছি, আপনার পর্বগুলো পাচ্ছিনা। অনেক ভালো লাগছে
Oh API onek onek w8 Kori finally Dile
Just wow hoise ai part ta
Nest part Kobe asbe please taratari dean apu
Sob somoi Waiting kori ai golpo ter Jonno
next part Kobe asbe please taratari deo
Apu plzz next part ta dao, ar wait kora jaitase na regular check kortasi but next part er konno khobor o nai, apu please please please next part ta taratari dao
Thhik bolecho wait kora jachhe na
Next part Kobe Diba apu taratari deu naa ar koto w8 koraba
Please taratari dao
Apu plz next part taratari daw….r koto w8 koraba?
Oil bed I tartaric golpo DAO please
kbe diben appi eto deri korle hoy. pls taratari den pls 😭
Apu Tumi sob somy deri Koro Valo lagena
Apu plz plz next part ta daooo 😭