Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫৪

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫৪

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫৪
সাইয়্যারা খান

চোখের উপর আলো পড়তেই ধীরে ধীরে চোখ মেলে পৌষ। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। ঝাপসা দেখছে সব চোখের সামনে। কোথায় ও কথাটা মাথায় আসতেও বেশ সময় লাগলো। খুব আস্তেধীরে অনুভব করলো ওর মাথা ব্যথা হচ্ছে। সেই ব্যথা ক্রমশ ঘাড়ের দিকে ছড়াচ্ছে। নিজের হাতেও ব্যথা অনুভব করলো পৌষ। মস্তিষ্ক যখন ধীরে ধীরে সচল হতে লাগলো তখনই চট করে মনে পড়লো তৌসিফের কথা। হৃদপিণ্ড দ্রুত লাফাতে পৌষের। সর্বশক্তি ব্যায় করে উঠতে চাইলো কিন্তু অপারগ হলো। দুর্বল শরীর নিয়ে উঠা সম্ভব হলো না। কণ্ঠস্বর চেপে আসতে চাইলো ওর। ছটফট করতে থাকা পৌষ যখন ঘাড়টা কাত করলো তখনই চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো তৌসিফ তালুকদারকে। মাথাটা পৌষের কাঁধের দিকে দিয়ে শুয়ে আছে সে। না, শুয়ে নেই। বসে আছে চেয়ারে। পৌষের ছটফটানি থামলো তবে বুকের অস্থিরতা অনিয়ন্ত্রিত হলো। ওর স্পষ্ট মনে আছে তৌসিফের গু লি লেগেছে। আহত ছিলো পৌষের বর। ফ্যাচফ্যাচে কণ্ঠে ডাকলো পৌষ,

“অ্যই, শুনছেন।”
নাহ, শুনলো না পৌষের মামাতো ভাই। পৌষ তাকিয়ে রইলো কিছুটা সময়। কত সুন্দর একটা মানুষ অথচ মুখটায় অসুস্থ ভাব ফুটে উঠেছে। পৌষ হাত নাড়াতে চাইলো। এক হাতে ক্যানুলা চলছে। অন্য হাতটা খুব কষ্টে নড়ালো ও। হাত-পা ব্যথা করছে প্রচুর। পৌষ ধীরে ধীরে হাতটা রাখলো তৌসিফের গালে। দাঁড়ি ভর্তি গালে বুলিয়ে দিলো সামান্য। সর্বদা গোছানো মানুষটাকে ভীষণ অগোছালো দেখালো। গালে হাত বুলাতে বুলাতে পৌষ পুণরায় ডাকলো,
“অ্যাঁই, উঠুন।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দূর্বলতা গ্রাস করেছে তৌসিফকে। কান পাতলা মানুষ সে। পৌষের কান্না পেলো। কি হলো কে জানে, ও ফুপিয়ে উঠলো। এমনটা কখনো হয় নি। এসব চোখের পানি, নাকের পানি পৌষ ঝড়ায় না৷ কান্নাকাটি একা করা যায় না৷ সম্মুখে একজন থাকতে হয় যাকে ধরে চোখের পানি বিসর্জন দেওয়া যায়। পৌষের তেমন কেউ ছিলো না। হেমু ভাইকে আর কতই বা জ্বালাতন করতো। কতটাই না ফারাক আজকের আর অতীতের পৌষের মাঝে। না চাইতেও চোখের পানি কিভাবে গড়াচ্ছে। পৌষ ভাঙা গলায় ডাকতে লাগলো,
“অ্যাঁই, উঠুন। এভাবে শুয়ে থাকলে কোমড় ব্যথা হবে। শুনছেন…”
বাকিটুকু বলতে গিয়েও গলায় আঁটকে গেলো পৌষের। তৌসিফ নড়েচড়ে উঠলো। ফট করে চোখ খুলে দেখলো চোখের সামনে পৌষ ফুঁপাচ্ছে। ওর দু-চোখ ভর্তি পানি। তৌসিফ তারাতাড়ি হাত বাড়ালো। বেশ অস্থির গলায় বলে উঠলো,

“পৌষরাত? পৌষরাত ব্যথা হচ্ছে? হানি..হানি,হোয়াই আর ইউ ক্রায়িং?”
দুই হাতে পৌষের গাল মুছালো তৌসিফ। পৌষ বাচ্চাদের মতো দুই হাত বাড়িয়ে দিলো। তৌসিফ ওভাবেই ঝুঁকে জড়িয়ে ধরলো ওকে। পৌষ ভালো হাতটা দিয়ে তৌসিফের মাথা থেকে ঘাড়ে হাত বুলালো। কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো,
“আমি ভয় পেয়েছিলাম। ভয় পেয়েছিলাম আমি। আপনি ঠিক আছেন? কোথায় লেগেছে? দেখান আমাকে। আপনি এভাবে শুয়ে ছিলেন কেন?”
“ঠিক আছি আমি৷ ভালো আছি।”

বলে মুখটা তুলে পৌষের সারা মুখে চুমু খেলো তৌসিফ। চোখ দুটোয় যখন চুমুর বর্ষণ ঘটলো তখন পলক বন্ধ করে নিলো পৌষ। তৌসিফ থামলো বেশ সময় লাগিয়ে। তাকে থামতে দেখেই পৌষ মাথাটা সামান্য তুললো। নিজ থেকে তৌসিফের কপালে, গালে, নাকে চুমু খেলো। তৌসিফ একটু হাসলো। প্রতিবারের ন্যায় আজও পৌষের থুতনিটায় সময় নিয়ে ঠোঁট দাবিয়ে চুম্বন করলো। তার বড় বড় হাতের থাবায় আটকে আছে পৌষের গাল দুটো। পৌষ তার ফ্যাচফ্যাচে গলায়ই বললো,
“আপনার কোথায় লেগেছে? আমি দেখব। ডাক্তার কি বলেছে?”
তৌসিফ থুতনি থেকে নিজের ঠোঁট সরালো। পিঠে ভালোই যন্ত্রণা হচ্ছে তার। সরতে সরতে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো,

“পিঠে লেগেছিলো। এখন ঠিক আছে।”
“ঠিক আছে?”
বলেই নিজের হাতটা চোখের সামনে আনলো। হাত বুলাতে গিয়ে যখন পিঠের দিকে গিয়েছিলো তখনই ভেজা অনুভব করে পৌষ। হাতে লাল তরলের চিহ্ন নিয়ে পৌষ যখন তৌসিফের দিকে তাকালো উত্তরের আশায় তখনই দরজায় শব্দ হয়। পৌষ মনোযোগ দেয় না সেখানে। দুই হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছলছল চোখে বলে,
“আমাকে তুলুন। কি হয়েছে? কতটুকু ক্ষত? আমি দেখব।”
তৌসিফ ওকে তুলার আগেই নার্স ঢুকে ভেতরে। পেছনে হেমন্ত আর তুরাগ। ভাইকে দেখে পৌষ আবারও কাঁদে। হাত বাড়িয়ে বলে,

“আমাকে তুলো হেমু ভাই।”
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো হেমন্ত। কে এভাবে হাত বাড়িয়ে কাঁদছে? তার পৌষটা? সেই ছোট্ট পৌষটা যে অবুঝ কালে কাঁদতো। বুঝ হতে হতে তো তার চোখের পানি শুকিয়ে এলো। কতবছর হলো শত আঘাতেও পৌষ কাঁদে না। হেমন্ত দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো। পৌষকে খুব সাবধানে তুলে বসালো। পৌষ কাঁদতে কাঁদতেই ভাইকে বিচার দিলো,
“হেমু ভাই, ওনার না গু’লি লেগেছে? এই দেখো কত র ক্ত। ডাক্তার ডাকো। উনি অসুস্থ। দেখো মুখটা কেমন দেখাচ্ছে।”
ডাক্তার নিজেও ঢুকলো তখন। তৌসিফ দেখলো ভাঙা গলায় বেশ চাপ দিয়ে কথা বলছে পৌষ। আস্তে করে উঠে পৌষের হাত ধরে তৌসিফ। বলে,

“তোমাকে আগে একটু দেখুক। আমি আছি। আমি ডাক্তারকে দেখাব।”
মাথা নাড়ে পৌষ। উল্টো বলে,
“আগে আপনাকে দেখবে। ডাক্তার, আগে ওনাকে দেখে দিন। পিঠ থেকে র ক্ত আসছে।”
পৌষকে মানানো গেলো না কোন ভাবেই অগত্যা তৌসিফ বেডে বসলো। গায়ের শার্ট খুলতেই পিঠটা দৃশ্যমান হলো। ধবধবে ফর্সা পিঠে সাদা গজ কাপড় দিয়ে পেঁচানো। সেখান থেকেই র ক্ত আসছে। নার্স ড্রেসিং করার জন্য খুলতেই পৌষ হেমন্তের হাত চেপে ধরলো। গভীর এক ক্ষত সেখানে। পৌষ সেটা মানতে পারলো না। নার্সের দিকে অনেকটা সময় তাকিয়ে রইলো অতঃপর ঝাপসা দেখতে লাগলো সবটা। হেমন্তের বাহুতে টলতে নিলেই বোনকে নিয়ে ব্যাস্ত হয় হেমন্ত। ডাক্তার দেখে জানালো দূর্বলতার কারণে এমন হয়েছে। তৌসিফকেও এই কক্ষেই রাখা হলো। বউ ছেড়ে সে কিছুতেই যাবে না৷

হাসপাতালে ভীষণ হট্টোগোল শুরু হলো। তাহিয়া আর তিশা এসেছে। তাহিয়া শান্ত মানুষ। কথাও বলে ধীরে কিন্তু তিশা, রীতিমতো চেঁচাচ্ছে সে। পুরোটা হাসপাতালে তার কণ্ঠস্বরই শোনা যাচ্ছে যেন। তীক্ষ্ণ ঝাঁঝালো এক কণ্ঠ। পুরো চোটে দোষ দিয়ে যাচ্ছে পৌষকে। তিশা মীরার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ উচ্চবাচ্য করছে,
“এই মেয়ে যে একটা ফালতু তা আমি আগেই জানতাম। চালচলন দেখলেই বুঝা যায়। না আগে রূপ আর না আছে ভালো ভাষা। মুখের ভাষা কতটা জঘন্য তা তো সেদিনই দেখেছিলাম। ননদ, ননাস দেখতে পারে না। আমাদের কিভাবে তাড়িয়ে দিলো সেদিন। আমাদের পরিবারের সাথে একদমই মানানসই না। বড় ভাইজান, আপনি মেঝভাইজানকে বলেন যাতে এই মেয়ে ছাড়ে। আমরা নিজেরা পছন্দ করে নতুন বউ আনব। না জানি, কবেকার কোন প্রেমিক নিয়ে ঘুরেছে। চরিত্রের ঠিক নেই। মা-বাপ না থাকলে এমনই হয়। চরিত্র ছাড়া মেয়ে ওর চাচারা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে।”

হসপিটালের করিডোরে কথাগুলো বলছিলো তিশা। তাহিয়া বোনকে থামায় নি আবার নিজেও কিছু বলে নি। চুপচাপ বসে আছে। মীরা নিজেই বা কি বলবে খুঁজে পেলো না। আদিত্য চুপসে আছে তবুও বললো,
“ছোট ফুপি তুমি কিসব বলছো।”
“একটা চড় দিব তোমাকে আদি। বড়দের মাঝে কথা বলো।”

মীরা বিরক্ত হলো। আগের বারেও তার ছেলেকে জড়িয়ে ফালতু কথা তুলেছিলো তিশা। কিছু মানুষই থাকে এমন৷ বেমতলব হাঙ্গামা বাঁধে। আদিত্য মনে মনে শুকরিয়া করলো। হেমন্ত মাত্রই বাসায় গিয়েছে ভাইদের রেখে আসতে৷ এসব শুনলে নিশ্চিত কষ্ট পেতো। কেবিনে শুয়ে থাকা পৌষ স্পষ্ট শুনলো সবকিছু। আতঙ্কিত হলো কিছুটা। তৌসিফ শুনেছে কিনা বুঝার জন্য আস্তে করে মাথাটা কাত করে দেখলো। নাহ্, ঘুমিয়ে আছে। কিছুটা স্বস্তি পেলো ও। এসব শুনলে যদি তৌসিফ ওকে সন্দেহ করে। এতদিন মুখে স্বীকার করে নি পৌষ নিজের ভালোবাসা কিন্তু এখন যখন স্বীকার করেছে তখন হারিয়ে ফেলার ভয়টাও বেশি পাচ্ছে। যদি তৌসিফ ভুল ভাবে? পৌষ কিভাবে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করবে? পুরুষ মানুষ কি আর এসব অতশত বুঝতে চায়? ভয়ে হঠাৎই কুঁকড়ে গেলো পৌষ। এমনটা আগে হয় নি কখনো। তার সাথে কিছু হয় নি।

শুধু গাড়িতে টেনে তুলে মুখে একটা রুমাল চেপে ধরেছিলো এরপর থেকে হুঁশে ছিলো না পৌষ। মাঝে একবার জ্ঞান ফিরতে অপরিচিত একটা মহিলাকে দেখেছিলো। পৌষ চেঁচামেচি করতেই দ্বিতীয় দফায় তার মুখে কিছু স্প্রে করা হয়। এই তো, আর কিছু মনে নেই তার। কপালের ব্যথাটাও কোথায় পেয়েছে জানে না ও। কিছু হলে তো পৌষ বুঝতো। আতঙ্কে আর ভয়ে পৌষ ছটফট করছে। ঠোঁট ভেঙে কান্না আসতে চাইলেও ও চেপে রাখলো কিন্তু দৃশ্যমান ভাবে কাঁপতে লাগলো তার দেহ। কতটা ক্ষণ এভাবেই তড়পালো ও। ততক্ষণে তড়পালো যতক্ষণ না একটা শক্তপোক্ত হাত ওকে পেঁচিয়ে নিজের দিকে টানলো। টেনে যখন কাত হয়ে একদম বুকে জড়িয়ে ধরলো তখন পৌষ কেঁদে উঠলো। নিচু স্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,

“আমি চরিত্রহীন না। আপনি তো আমাকে চেনেন। আদিত্যকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। আমি কারো সাথে কোনদিন মিশিই নি। আদিত্যকেও ব্যাচমেট হিসেবে আর এলাকার বলে চিনি। ওকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, হ..হেমু ভাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন। আমি খারাপ মেয়ে না। সত্যি বলছি, আপনিই আমার প্রথম পুরুষ যে আমাকে এতটা কাছ থেকে দেখেছে।”
“প্রথম পুরুষ আমি হলে সম্রাট কে?”

আচমকা থেমে গেলো পৌষ। স্থান তখনও তৌসিফের বুকে। তৌসিফ কিন্তু তখনও হাতের বাঁধন ঢিল করে নি অথচ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে প্রশ্নটা ঠিক করেছে। পৌষ একদম চুপ করে গেলো। আসলেই তো, সে মৃত এক পুরুষ নিয়ে যেভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেছিলো তা আসলে কতটা ঠিক ছিলো? লোকটার ব্যাক্তিত্বই ওমন ছিলো। কিন্তু প্রশ্ন যখন উঠেছে উত্তর তো তখন দিতেই হবে। পৌষ জানতো না ভালোবাসা কি? কিছুদিন আগ পর্যন্ত এর সজ্ঞাও অজানা ছিলো তার কাছে কিন্তু তৌসিফকে পাওয়ার পর থেকে খুব ধীরে ধীরে পৌষ বুঝেছিলো ভালোবাসাটা কি। তৌসিফ হাতে ধরে শিখিয়েছে তাকে। প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে অনুভব করিয়েছিলো তার মিষ্টতা। শুধু মাত্র আকর্ষণ না বরং তার চাইতেও বেশি কিছু ছিলো যা পৌষ অনুভব করেছে। তৌসিফ নিজে তাকে সাহায্য করেছে অনুভব করতে। শুধু মাত্র ব্যক্তি তৌসিফ না বরং পুরোটা তৌসিফকে সে ভালোবাসে। সম্রাট তো সেখানে এক আধ বানোয়াট চরিত্র। যার ব্যাক্তিত্বে আকর্ষীত হতো পৌষ। সেটা ভালোবাসা না। কখনোই না। ভালোবাসা হলে সম্রাটের সত্যতা জানার পরও পৌষ একই অনুভবের তীব্রতা অনুভব করতো। যা ছিলো তার পুরোটাই ছিলো কিশোরী মনের এক তীব্র আবেগ। তৌসিফ কি সেই খবর জানে? পৌষ তাকে কিভাবে বুঝাবে এখন?
নিজের মাথায় তৌসিফের হাতের অস্তিত্ব পেতেই আরেকটু বুকে ঢুকে পৌষ। তৌসিফ গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“প্রশ্নটা তোলা রইলো।”
“আমি আপনাকে ভালোবাসি আর কাউকে না।”
“কতটুকু চেনো আমাকে?”
“অনেকটুকু।”
“সবটুকু যেদিন চিনবে সেদিন আর দ্বিধা থাকবে না পৌষরাত। তোমার বর তোমার নিজের চাইতে বেশি বিশ্বাস করে তোমাকে। কারো মুখের কথায় সে তোমাকে ছেড়ে দিবে না। এত হালকা ভাবে অন্তত আমি তোমার হাতটা ধরি নি।”
পৌষ কথা বলে না। নিজের বুক থেকে সরিয়ে গাল দুটো মুছে দিতে দিতে তৌসিফ বললো,
“বিয়ের এতদিনে কখনো তোমার চোখে পানি দেখি নি। খুব ইচ্ছে ছিলো দেখার কিন্তু তাই বলে এতটা? কারো মুখের কথায় তুমি এই মূল্যবান রত্ন ঝড়াবে পৌষরাত? এতটা সস্তা তো না এই চোখের পানি।”
পৌষ মাথা নাড়ে। ছোট্ট করে বলে,

“আমরা বাসায় যাব না?”
“যাব।”
বলেই উঠে দাঁড়ালো তৌসিফ। সামান্য কষ্ট হলো অবশ্য। পৌষ তারাতাড়ি হাত বাড়িয়ে ধরতেই তৌসিফ সামান্য ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। বললো,
“এতটা ব্যাস্ত হয়ো না।”
“খুব ব্যথা?”
“একটু। থাকো, আসছি আমি।”
পৌষ ওর হাত ধরে আটকালো। নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় যাচ্ছেন?”
তৌসিফ ঝুঁকলো। গালে হাত রেখে বললো,
“আমার তোতাপাখিকে কাঁদিয়েছে তিশা, আমি এখন তিশাকে কাঁদিয়ে আসব।”
পৌষ তৌসিফের বলার ভঙ্গি দেখে হেসে ফেললো। তৌসিফ নিজেও হাসলো। যেতে যেতে শুনলো পৌষের কণ্ঠে,
“এখানে কিন্তু থাকব না আর। বাড়ী যাব।”
“ইয়াহ, হানি।”

তৌসিফ বেরিয়ে আসতেই দাঁড়িয়ে গেলো তাহিয়া। এগিয়ে আসে আস্তে করে ভাইয়ের হাত ধরে বললো,
“বাইরে এলে যে? খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকব?”
“উঠে আসতে বাধ্য হলাম। তো তিশা, বলো এবার। কি বলছিলে? কার সাথে দেখেছো আমার বউকে? আর কার সাথেই বা বিয়ে দেবে আমাকে?”
তিশা থতমত খাওয়ার মেয়ে না। ভাইয়ের কাছে এলো দ্রুত পায়ে। অপর বাহু ধরে বেশ অস্থির হলো সে। বললো,
“তুমি অসুস্থ মেঝ ভাইজান। উঠে এলে কেন?”
“তোমার কথাগুলো খুব কানে বিঁধছিলো তিশা। টিকতে পারলাম না৷ ছোট বোন তুমি আমার তাই আজ আবার সাবধান করে দিলাম, আমার বউ নিয়ে কিছু বলতে এসো না৷ যা বলার বুঝেশুনে বলবে। আর বাসায় আসো না কেন? আসবে। এটা তোমার মেঝ ভাইয়েরই ফ্লাট। বড় ভাইয়ের ওখানে যাও অথচ আমার ওখানে যাও না। পৌষরাত ভালো রাঁধে। আসবে, থাকবে।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫৩

বলেই আর অপেক্ষা করলো না৷ তুরাগকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“ডিসচার্জ করাও।”
“পা গল হয়েছিস তুই? কিসের ডিসচার্জ!”
“এখানে টিকা যাচ্ছে না। ঠিক আছি আমি বাকিটা চিকিৎসা বাসায় হবে।”
এক দন্ড অপেক্ষা না করে তৌসিফ কেবিনে ঢুকে গেলো।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫৫