প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮২ (২)
সাইয়্যারা খান
ঘটনার সূত্রপাত হোটেল রুমেই। ঘনিষ্ঠ মূহুর্ত পাড় করে তৌসিফ যখন ঘুমে ছিলো পৌষ তখন জেগেই ছিলো ওর বাহুর মাঝে। ভাবছিলো তৌসিফের বলা কথাগুলো। তখনই বিপবিপ শব্দে ওর ধ্যান ভাঙে। তৌসিফের এমনিতে খুব পাতলা ঘুম কিন্তু আজকের ধকলের পর গিয়ে একটু ঘুমিয়েছিলো। পৌষ ফোনটা হাতে নিতেই তাতে অস্ট্রেলিয়ার স্হানীয় নাম্বার দেখে। মনটা কামড়ে ওঠে তখনই৷ রিসিভ করে চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ। ওপাশ থেকেই কথা বলে নারী,
“তৌসিফ, আর ইয়্যু লিসেনিং টু মি?”
“আমি পৌষ বলছি। তৌসিফের বউ।”
এক সেকেন্ডের জন্য থেমে যায় পিয়াসী৷ পৌষ তখনও জানতো না ওপাশে কে আছে। ওকে অবাক করে দিয়ে পিয়াসী হেসে ফেলে। কপাল কুঁচকে আসে পৌষের। ওভাবেই পিয়াসী বলতে লাগে,
“পুরাতন অভ্যাস ওর, ফোন নিজের কাছে রাখা শিখে নি। হি ইজ অ্যা জেন্টলম্যান, ইয়্যু নো রাইট?”
“ফোন কোথায় থাকবে তা তোকে বলতে ইচ্ছুক নই আমি।”
পৌষ বুঝে যায় এটা পিয়াসী। রাগে শরীর কটমট করে ওঠে। আলগোছে সরে আসে তৌসিফের বাহুডোর থেকে। পিয়াসী ওপাশ থেকে দাঁত চেপে বলে,
“একটা চর মা’রব মেয়ে! তোমার থেকে কতটা বড় আমি জানো? তুইতোকারি কাকে করছো?”
“তোকেই তুই বলে ডাকছি কারণ তুই এর চাইতেও নিচের ডাক ডিজার্ভ করিস! শা’লি কুত্তি, শরম করে না তোর। ভাসুরকে ফোন দিস কেন? কাঁধে মাথা রাখবি আবার?”
“সেটা তোমাকে বলে তো রাখব না মেয়ে। শুধু কাঁধে বলছো? আরো কত কিছুই তো… ”
“জুতা দিয়ে পিটিয়ে তোর ঐ মুখ লাল বানিয়ে দিব আমি। কি চাস তুই? আমার সংসার দেখে খুব জ্বলছে?”
“জ্বলার মতো তো নেই কিছু। আসো নাহয় গল্প করি তোমার সাথে?”
“তুই ডাকবি আর আমি আসব?”
“তুমি খুব বেয়াদব পৌষ। তৌসিফ এমন বেয়াদব নিয়ে সংসার করছে কিভাবে?”
“তৌসিফ নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না৷ বেশি ভাবলে তোর ভাবনায় দুটো ছেঁড়া জুতা দিয়ে বারি মার।”
পিয়াসী রাগ সামলালো। তার পরিকল্পনা ভিন্ন। তাই তো মাথা ঝাঁকিয়ে নরম স্বরেই বললো,
“আচ্ছা, ভাবছি না৷ তবে তৌসিফকে অতটাও মাথায় তুলে রেখো না। তার স্বভাবচরিত্র সুবিধার না৷ সোহাকে চেনো না? এলাকা ভর্তি বদনাম ওকে নিয়ে। এই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটু খোঁজ চালাও। অহরহ গার্লফ্রেন্ড পাবে ওর।”
“আমারটা নাহয় খারাপ। তুই কতটা ভালো যে ভাসুরের ঠোঁটে হাত বাড়াস! হাতটা কেটে কু’ত্তা দিয়ে খাওয়াব আমি।”
“তুমি বোধহয় বিশ্বাস করছো না পৌষ। আচ্ছা, তুমি আসো। বসে কথা বলি আমরা।”
“প্রয়োজন নেই৷ ফোন দিবি না আর।”
“আহা, রেগে আছো মেয়ে। কা’ম একটু দেখা করলে ক্ষতি কি তাতে?”
“আগে বল, দেখার শুরুতেই তোকে জুতা মারব আমি৷ রাজি?”
“এসো তুমি। আমি গাড়ি নিয়ে লবিতে অপেক্ষা করছি।”
পৌষ যাবে না ঠিক করে। কিছুক্ষণ রাগারাগি করে ফোন কেটে দেয়। গোসল করে এসে তৈরী হয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ অতঃপর বেরিয়ে যায় রুম থেকে। উদ্দেশ্য ছিলো বাইরে হাটাহাটি করা।
ফোনালাপের প্রায় ঘন্টা খানিক পর নিচে নেমেছিলো পৌষ৷ অবাক হয়ে দেখে পিয়াসী দাঁড়িয়ে গাড়িতে হেলান দিয়ে। পৌষ অপর দিকে চলে যেতে নিলেও পিয়াসীই ডেকে কাছে আসে। পৌষ যেতে না চাইলেও একসময় চলে যায় ওর সাথে কারণ পিয়াসী তৌসিফের খুব গোপন একটা ছবি দেখিয়েছিলো ওকে। স্ত্রী মন বরাবরই সন্দেহপ্রবণ। পৌষের সন্দেহ প্রবণতা আজকের ঘটনার পর আকাশচুম্বী। আরো ঘটনা জানতেই পৌষ চলে যায় পিয়াসীর সাথে। অথচ মেয়েটা জানতোই না ওটা শুধু মাত্র একটা বেছানো চাল ছিলো যার ফাঁদ পাতা হয়েছিলো একান্ত ভাবে পৌষের জন্য তাও সামান্য হিংসার বশবর্তী হয়ে।
গাড়ি চলছিলো খুব দ্রুত। পৌষ খতিয়ে দেখে ওর হাতে থাকা ছবিগুলো। তৌসিফের চেহারায় তখন নব যৌবনের ছাপ স্পষ্ট। মানতে হবে সে কোন নায়ক থেকে কম ছিলো না। চমৎকার এক সৌন্দর্যের অধিকারী এই লোক। পূর্বেও তাই ছিলো। তবে স্বাস্থ্য এখনকার তুলনায় তখন কম ছিলো। ছবিতে বিভিন্ন সময়ের দৃশ্য দৃশ্যমান। কখনো বারে, কখনো রেস্টুরেন্টে, কখনো বা কোন রুমে। রুমের ছবিগুলোয় পৌষ খুব মনোযোগ দিলো। গা ঘেঁষে ঘেঁষে বসা সকলে। আপাতত দৃষ্টিতে আপত্তিকর না লাগলেও পৌষের লাগলো। স্ত্রী মন স্বামীকে অন্য নারীর গা ঘেঁষে থাকতে দেখেই তো রাগে হিসহিসিয়ে উঠছে। তবে পৌষ এটা বুঝে গিয়েছে তৌসিফ খুব উচ্চ জীবনযাপন করেছিলো যা এখনও বহাল তবে লোকটা আগে থেকে শুধরে গিয়েছে। পৌষ বিবাহিত জীবনের এতদিনে কখনো তৌসিফের চরিত্রে সমস্যা পায় নি। ওগুলো ওর উঠতি বয়সের নানান ছবি।
পিয়াসী পৌষের মনোভাব বুঝতে পারে নি। গাড়িটা থেমেছিলো পার্কের মাঝে। পিয়াসী নেমে নিজ দায়িত্বে পৌষের দরজা খুলেছিলো। বাঁকা হেসে রাণীর বেশে বেরিয়ে আসে পৌষ। পিয়াসী ওকে নিয়ে একটা খোলা স্থানে বেঞ্চে বসে। বয়স এবং অভিজ্ঞতা দুটোতেই পিয়াসী যথেষ্ট বড়। এতটুকু বুঝে গিয়েছে পৌষ কোন ধরনের মেয়ে। পলকের সাথে কথা হওয়াতে উপকার হয়েছে আরেকটু। পৌষ এমনিতে বেয়াদব এটা পলক বলেছিলো কিন্তু চরম বেয়াদব এটা পিয়াসী সরাসরি সাক্ষাৎ এ জেনেছে। পলকের মারফত এ-ও জানে যে পৌষ ঘরোয়া মেয়ে মানুষ। সম্রাটের বিষয়ে নাক গলিয়ে তৌসিফকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে। তুহিন যে এখন পৌষ বলতে পা’গল এটাও জানার বাইরে নেই ওর। পলক এখনও লুকিয়ে কথা বলে পিয়াসীর সাথে। বোনের কাছে ছোট্ট একটা আবদার করেছে পলক। আবদারটা মেটাতে পিয়াসী ভেবেছিলো পৌষের সাথে একান্তে যোগাযোগ করে ছবিগুলো দেখাবে কিন্তু তখন লবিতে পৌষকে দেখেই পরিকল্পনা বদলেছিলো ও। তৌসিফের সাথে ব্যাবসায়ীক কথাবার্তা চলাকালীন মাথা রেখেছিলো কাঁধে। পিয়াসী খুব ভালোভাবেই জানতো পৌষের মতো ঘরোয়া বোকারা এসবেই অশান্তি করবে। তার ধারণা এবং কাজ একদম নিশানা বরাবর লেগেছিলো তাই তো দেড়ী না করে আজই সুযোগ বুঝে ডেকে নিয়েছে। এত তারাতাড়ি মেয়েটাকে এতবড় ঝটকা দিতে চায় নি পিয়াসী কিন্তু কি করবে, যখন দেখলো তৌসিফের বদলে ফোনটা পৌষ ধরেছে তখনই মেজাজটা ভয়ংকর ভাবে খারাপ হয়ে গেলো তারউপর মেয়েটা চরম বেয়াদবি করেছে পিয়াসীর সাথে। একটু শিক্ষা তো পাওনা তার।
কিছু ভিডিও ক্লিপ পৌষের হাতে ধরিয়ে দিলো পিয়াসী। পৌষ বড় বড় চোখে দেখলো। হ্যাঁ, ওটা তৌসিফ। ঢুলেঢুলে নাচছে সে। মদের নেশায় নাকি স্বাভাবিক তালে তা বুঝতে পারছে না পৌষ। পিয়াসী সত্যি বলেছে তৌসিফের গার্লফ্রেন্ড অনেক। এই তো কয়েক ভিডিওতে একেকজনের কোমড়ে হাত বেঁধে নাচছে। কই, পৌষকে নিয়ে তো নাচলো না। পৌষ শুধু দেখলো আর চোখে গিললো। ভেতরে দাবানল শুধু উল্কার মতো ফুঁসতে থাকলো। পিয়াসী কানের কাছে আরেকটু যোগ করলো যাতে করে পৌষের বিশ্বাস গাঢ় হয়।
“তুমি চাইলে কারো কারো সাথে দেখা করতে পারো পৌষ।”
“কানের সামনে ভ্যানভ্যান করবি না মাছির মতো৷ দেখতে দে।”
আচমকা এমন কথায় একদম খেই হারিয়ে ফেললো পিয়াসী। চোখ দুটো এলোমেলো এদিক ওদিক দেখলো। মেয়েটা আস্তো বেয়াদব। পৌষ বুদ হয়ে দেখলো ভিডিও গুলো। পিয়াসীর দিকে তাকিয়ে এমন এক প্রশ্ন করলো যাতে করে থ হয়ে গেলো পিয়াসী,
“ভালো ভিডিও নেই আর? একদম চরম মাত্রার রোম্যান্টিক ভিডিও। নাটকে যে দেখায় একদম খাটের মধ্যে হাতেনাতে ধরা।”
উত্তর দিতে অক্ষম পিয়াসী সামান্য হাসলো। পৌষ তাকালো ওর দিকে। পিয়াসী সুন্দর। শুধু সুন্দর না বরং খুব সুন্দর। পৌষ মনে মনে স্বীকার করলো এটা। পিয়াসী ঠোঁট এলিয়ে হেসে বললো,
“আমার সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো ওর। এত এত গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে শুধু আমাকে বিয়ে করতে রাজি ছিলো। আমি তো ওদের বাসায়ও যেতাম। তিন তলার বাম পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতাম৷ তুমি তো ঐ ফ্ল্যাটেই থাকো তাই না?”
“শুয়েছিলেন ওনার সাথে?”
পিয়াসীর মনে সঞ্চারিত সকল কথা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো যেন। দাঁতমুখ খিঁচিয়ে স্ব জোড়ে ধমকে উঠলো,
“অ্যাঁই মেয়ে অ্যাঁই! মুখ সামলে কথা বলবে!”
“তোর মতো কু’ত্তার সাথে মুখ সামলে কথা বলব? বাবাগো বাবা, কুত্তার কি তেঁজ! তো কুত্তি তুই কোন দুধের ধোয়া ছিলি!”
“মুখ সামলে পৌষ! আমি তৌস না৷”
ঝামেলাটা বাঝলো ঠিক এই জায়গায়। তৌসিফের নামে ফ অক্ষরটা বাদ দিতেই পৌষের জোয়ারের বাঁধ ভেঙে গেলো। খপ করে একদম হঠাৎ পিয়াসীর চুল টেনে ঝুলে পড়লো ও। চিৎকার করে বলতে লাগলো,
“তৌস কি হ্যাঁ! তৌসিফ ডাকবি। অ্যাঁই তুই ডাকবিই কেন? কেন ডাকবি? তোকে ডাকতে বলেছি? তোদের বিজনেসে লাত্থি মারে এই পৌষ। তুই তোর জামাই নিয়ে দশহাত দূরে থাকবি। আমার সংসার ভাঙবি? এই পৌষের সংসার? এত সোজা!”
পিয়াসী বেগ সামলাতে পারে নি৷ পৌষ ওর মুখে, চোখে আঁচড় কেটেছে ততক্ষণে। পিয়াসী নিজেকে রক্ষা করার জন্য যতটুকু সম্ভব হাত-পা নেড়েছে। ছাড়াতে ছাড়াতে বারবার একই কথা ছিলো ওর মুখে,
“তৌসিফ ছোটলোক বিয়ে করেছে।”
পৌষ শুনেই তেঁতে ওঠে। খামচে আঁকড়ে ধরে পিয়াসীকে,
“ওরে আমার বড়লোকমারাণী! তোরে আমি বড়লোকগিড়ি দেখাব আজকে। তোর কত রস আমি দেখে ছাড়ব।”
দুই তিনটা বিচ্ছিরি গালি পৌষ দিয়েছে। পিয়াসী নিজেকে বাঁচাতে পরিহিত হিল দিয়ে পৌষের পায়ের আঙুলে চেপে ধরে। ধরেই থামে না বরং নিজের পা নাড়িয়ে আঙুলে জোর দিয়ে এদিক ওদিক ঘুরায়। ব্যথায় পৌষের হাত সামান্য আলগা হয়। পিয়াসীর অনেকখানি চুল হাতে চলে৷ এসেছে ওর। পৌষের গাল দুটো তখন রক্তিম। পিয়াসীর নখের আঁচর খুব গেঁথেছে। পৌষ রেগেমেগে তেড়ে যেতেই সেখানে পুলিশ হাজির হয়৷ পার্ক প্রায় শূন্য তখন৷ পুলিশ টহলে থাকায় ধরা পড়ে পৌষ। দেখতে শুনতে আহত পিয়াসীকেই লাগছিলো কারণ তার চুলের অবস্থা বেহাল। পুলিশ দেখে শেষ এক ধাক্কা মারে পিয়াসী যা গিয়ে লাগে সরাসরি পৌষের বুকে।
স্থানীয় নাগরিক বলে পিয়াসীকে হসপিটালে পাঠিয়ে পৌষকে নিয়ে আসে তারা থানায়। সাথে পাসপোর্ট নেই বলে বিষয়টা জটিল হয়। এক পর্যায়ে ফোন জব্দ করে কল করা হয় তৌসিফের নাম্বারে।
সেখানে এতবার জিজ্ঞেস করা হলো কেন পৌষ এই কাজ করেছে বিনিময়ে মৌন রয়েছে পৌষ। টু শব্দ করে নি।
ওর চোখের দৃশ্যপটে নৃত্যরত তৌসিফ।
তুহিন ধুপধাপ পা ফেলে আসছে নাকি দৌড়ে আসছে পৌষ বুঝলো না। যেহেতু বিষয়টা থানায় এসেছে সুতরাং তায়েফা থেকে লুকিয়ে রাখার প্রশ্নই ওঠে না। তৌসিফকে হসপিটালে রেখে সেখানে তায়েফাকে পাঠানো হয়েছে। প্যানিক অ্যাটাক এসেছে তৌসিফের। অক্সিজেন চলছে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক না তার। ইহান, ইরা আর তুহিন এখানে উপস্থিত হয়েছে। মিস্টার কিবরিয়াও আসছেন৷ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হওয়াতে এসব ঝামেলা তার হাতের ময়লা। ভদ্রলোক কাজবাজ ফেলে আসছেন। ডিউটি অফিসারকে এতক্ষণে ফোন করা হয়েছে। তুহিন এসে দেখলো একটা টুলের উপর বসা পৌষ। একদম চুপচাপ। কোন সাড়াশব্দ নেই ওর। তুহিনের কলিজায় পানি এলো তখন। ছুটে আসলো ওকে জড়িয়ে ধরতে তবে ওর আগেই ইরা জড়িয়ে ধরেছে। পৌষ নিরুত্তাপ। তুহিন গিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে ওর সামনে। হাত দুটো মুঠোয় পুরে ডাকে,
“পৌষ?”
পৌষ তাকালো। তুহিন ঢোক গিললো। বললো,
“বাসায় চলব এখনই। ভয় নেই।”
“পৌষ ভয় পায় না।”
“হ্যাঁ হ্যাঁ। আমি জানি তো। আসলে আমিই ভয় পাচ্ছি।”
“ভয়ের কিছু নেই।”
পৌষ সান্ত্বনা দিলো তুহিন সহ বাকিদের। মিস্টার কিবরিয়া ঝামেলা মেটালেন একান্তে। উল্টো পৌষকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন অভিযোগ আছে কি না৷ পৌষ অভিযোগ করলো। পুলিশের সামনে এতক্ষণ বোবা থেকে এবারে সুন্দর ইংরেজি বললো,
“আমাকে ঐ মহিলা জোর করে নিয়ে গিয়েছিলো ওই পার্কে। ইচ্ছে করে আমাকে উত্তেজিত করেছিলো। প্রমাণ সরূপ কল রেকর্ড আছে ফোনে। ফোনটা আমার কাছে নেই অবশ্য।”
গটগট করে কাগজে লিখা হলো অভিযোগ। পৌষ ওখানে বসা থেকেই তুহিনকে বললো,
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮২
“আমার দেশে ফেরার টিকিট কেটে দিবে এখনই। ইমার্জেন্সি কাটো। আজই ফিরব।”
তুহিন চমকালো। ভরকালো। ওভাবেই বললো,
“এখন তো পাব না।”
“আমিও তাহলে এখান থেকে যাব না।”
“পৌষ ভাইয়া হসপিটালে।”
“তাতে আমার কি? আমি দেশে ফিরব।”
তুহিন বেকায়দায় পড়লো। পৌষ খুব ঠিট লেগে আছে। কথায় টলছেই না এমনকি তৌসিফের দূরাবস্থা শুনেও না।
