Home প্রেমের নীলকাব্য প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫৫

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫৫

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫৫
নওরিন কবির তিশা

—’ আমি তোমায় ভালোবাসি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। ট্রাস্ট মি তোতা তোমাকে না পেলে আমি বাঁচবো না।
আকাশের মেঘগুলো আজ যেন কোনো এক অশুভ সংকেত বয়ে আনছে। নিস্তব্ধ ঘরে আরহামের নিঃশ্বাসের শব্দটাও তিহুর কানে তপ্ত সীসার মতো ঠেকছে। আরহামের চোখের দৃষ্টিতে আজ এক অদ্ভুত বন্যতা, হঠাৎই তার বলা কথাগুলো যেন চারদেয়ালের মাঝে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে দিলো কয়েক গুন।
তিহু বিরক্তি,ঘৃনায় মুখ কুঁচকে নিল। আরহাম তখনো বদ্ধ উন্মাদের ন্যায় প্রলাপ বকছে।সে হাঁটু গেড়ে এসে বসলো তিহুর সম্মুখে। তিহু নাক কুঁচকে ছিটকে সরে গেল কিছুটা,

—’স্টপ ইট, আরহাম! ডোন্ট টক লাইক আ ননসেন্স। তুমি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।ডক্টর দেখাও;অ্যাসাইলামে যাও।
আরহাম তীব্র উন্মাদনা নিয়ে ধেয়ে এল তিহুর দিকে। তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ, যেন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য কোনো শিকারি। তিহু পিছু হটতে হটতে ঘরের দেয়ালের সাথে মিশে গেল। আরহাম তার দুই কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠল,,
—’ইয়েস আই নো,আমি উন্মাদ। আমি বিকারগ্রস্ত আমি অসুস্থ । তোমার প্রেম নামক অসুখে সেই ১৮ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়েছি যা তিলে তিলে নিঃশেষ করছে আমায়। আর তুমিহীনা এ রোগ নিরাময় হওয়ার নয়।
তিহু চিৎকার করে বলল,,—’স্টপ আরহাম! তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি ম্যারিড। নীল খানের ওয়াইফ আমি। আর আমি আমার হাসবেন্ডকে জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। আই লাভ নীল আরহাম ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড আই লাভ নীল!
তিহুর চিৎকার করে বলা কথাগুলোও প্রতিধ্বনিত হলো সমগ্র কক্ষজুড়ে। আরহাম এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।তিহুর কাঁধে রাখা নিজের বন্ধন আরো জোরালো করলো সে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—’স্টপ প্লিজ স্টপ তোতা! আই কান্ট,আই কান্ট! আমি, আমি সহ্য করতে পারছি না! তোমার মন প্রাণ আত্মা সব আমার। আই জাস্ট নো ইউ আর মাইন; অনলি মাইন।
তিহু এক মুহূর্তের জন্যও মেনে নিল না আরহামের এমন উন্মাদনা। অন্য রমণীদের কাছে হয়তো আরহামের এমন কথাগুলো আর্তনাদ হিসেবে কর্ণগোচর হয়, কিন্তু তিহুর কাছে সেগুলো বি*ষা*ক্ত কাটার ন্যায় কর্ণগত হচ্ছে।আরহাম এবার তার মুখটা তিহুর একদম কাছে নিয়ে এল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস তিহুর গালে বিঁধছে। সে ফের বলল,,
—’আজকের পর থেকে নীল খানের নাম তোমার নামের পাশ থেকে মুছে যাবে চিরতরে। সেখানে আমার বিচরণ হবে, শুধুই আমার। আর কিছুক্ষণ বাদেই তুমি হবে আমার অর্ধাঙ্গিনী।
‘অর্ধাঙ্গিনী’—শব্দটা কর্ণগোচর হতেই ঘেন্না আর রাগে তিহুর শরীর রি রি করে উঠলো। নিজেকে বাঁচানোর তাগিতে অগোচরে সে তন্নতন্ন করে প্রচেষ্টা চালালো কিছু একটা খোঁজার,পাশে কোনো ধাতুর তৈরি শক্ত কিছু অনুভূত হতেই দ্রুত হাতে তুলে নিল সেটা।পরক্ষণই সর্বশক্তি দিয়ে শোপিসটা তুলে আরহামের মাথায় আঘাত করল সে।’ঝনঝন’ শব্দে শোপিসটা মেঝেতে পড়ল। তপ্ত রুধিরধার শ্রাবণের প্রবল বর্ষণের ন্যায় গড়িয়ে পড়ছে আরহামের ললাট বেয়ে। র*ক্ত লাল হয়ে চপচপ করছে তার শ্বেতশুভ্র শার্টখানা।

তবুও আরহাম দমলো না, পৈশাচিক এক বাঁকা হাসি ওষ্টাধরে প্রসারিত করে বলল,,
—’সবাই তো ভালোবাসায় বাঁচে। আমি না হয় তোমার ঘৃণায় বাঁচি। তবুও তোমাকে আমার হতেই হবে।
তিহু এবার ক্ষিপ্ত বাঘিনীর ন্যায় গর্জে উঠল,,
—’কু*ত্তা*র বাচ্চা, ভালো কথা কানে যাচ্ছে না,না?আমার শা*উ*য়া হবে তোমার। শু*য়ো*রের বাচ্চা আমার নীল আসার আগেই তোকে ক*ব*রে পাঠাবো আমি। ক*ব*রে গিয়ে আমার শা*উ*য়া নিয়ে থাইকো।
তিহুর কথায় তাজ্জব বনে গেলো আরহাম।পরক্ষণেই পূর্ণোদ্যমে ফের ঘনিষ্ঠ হতে গেলো তিহুর। নির্লজ্জের ন্যায় হিসহিসিয়ে বলল,,

—’ইউ্য উইল বি মাইন সুইটহার্ট! আজই তুমি আমার হবে ডিয়ার। রাইট নাও। আজই বিয়ে হবে আমাদের।
সে তিহুর হাত ধরে টান মারলো।তিহুও দিগ্বিদিক হারিয়ে সপাটে চড় বসালো আরহামের তীক্ষ্ণ চোয়ালে।আরহাম চোয়ালে হাত রেখেই এক পৈশাচিক হাসি হাসল। কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া র*ক্ত তার সাদা শার্টে এক বীভৎস মানচিত্র তৈরি করেছে। হঠাৎই সে জাপটে ধরল তিহুকে।
তিহু নিজেকে ছাড়ানোর জন্য হাত-পা ছুড়ছে, নখ দিয়ে আরহামের হাত খামচে ধরছে, কিন্তু আরহামের গায়ের আসুরিক শক্তির কাছে সে পেরে উঠছে না। আরহাম তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিতে চাইল, তিহু চিৎকার করে উঠল,,

—’ছাড় আমাকে! কু*ত্তা, তোর সাহস কত! নীল তোকে জ্যা*ন্ত পুঁতে ফেলবে!
—’নীল আসবে না তোতা।ওর আসার সব পথ আমি বন্ধ করে দিয়েছি। আজ এই ঘরেই আমাদের নিকাহ হবে। কাজী নিচে অপেক্ষা করছে, তাই কথা না বাড়িয়ে চলো তোতা।
আরহাম তাকে টেনে হিঁচড়ে ঘরের মাঝখানে থাকা একটা চেয়ারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। তিহু মেঝের কার্পেট আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে, তার গলার রগগুলো অপমানে আর রাগে ফুলে উঠেছে। আরহাম যখন তাকে জোর করে স্থির করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই বাইরে থেকে ভেসে এল কয়েকটা আর্তচিৎকার আর ভারী বুটের শব্দ।

আরহাম ভ্রু কুঁচকে দরজার দিকে তাকাল। তার চোখে মুহূর্তের জন্য আশঙ্কার কালো ছায়া। পরক্ষণেই বিকট শব্দে দরজাটা যেন ফ্রেম থেকে উপড়ে এল। দরজার কবজা ভেঙে ছিটকে পড়ল মেঝের এক কোণে।ধুলো আর অন্ধকারের বুক চিরে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘদেহী মানবমূর্তি। পরনে কালো শার্ট, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটানো। ঘর্মাক্ত কপালে লেপ্টে আছে অবিন্যস্ত চুলগুলো। নীল মনি বিশিষ্ট তীক্ষ্ণ চোখ জোড়ায় যেন অগ্নিকুণ্ড জ্বলছে।
নীলকে দেখামাত্রই তিহুর শরীরের সমস্ত শক্তি যেন ফিরে এল। সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল,,,,,—’মিস্টার পলিটিশিয়ান!
নীল এক মুহূর্তের জন্য তিহুর বিধ্বস্ত অবস্থার দিকে তাকাল।হু,হু করে উঠল বুকের ভেতরটা,

—’নুর!
নীল যখন উন্মাদের ন্যায় তিহুর দিকে এগিয়ে আসছে, ঠিক তখনই আরহাম থতমত খেয়ে তিহুর হাত ছেড়ে দিয়ে ড্রয়ার থেকে পিস্তল বের করার চেষ্টা করল, কিন্তু নীল তাকে সেই সুযোগ দিল না। চোখের পলকে চিতার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল আরহামের ওপর। একটা শক্তিশালী পাঞ্চ আরহামের নাকে এসে বিঁধল।
নীলের প্রতিটি নিশ্বাসে তখন আগ্নেয়গিরির লাভা। আরহাম মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই ড্রয়ারের দিকে হাত বাড়াতে চাইল, কিন্তু নীল তার বুট পরা পা দিয়ে আরহামের কবজিতে এমন জোরে চাপ দিল যে, মড়মড় শব্দে হাড় গুঁড়িয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া গেল।নীল আরহামের কলার চেপে ধরে ওকে দেয়ালের সাথে আছড়ে ফেলল।
একটা সপাটে ঘুষি বসিয়ে দিল আরহামের পাঁজরে। র*ক্তা*ক্ত আরহাম নীলের বিপরীতে সামান্য আঘাতটুকুও করতে পারল না;নীল তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। তার শান্ত চোখের সেই নীল মণি এখন টকটকে লাল। সে আরহামকে টেনে তুলে নিয়ে আবার আছড়ে ফেলল একটা কাঁচের টেবিলের ওপর। কাঁচগুলো ভেঙে আরহামের পিঠে বিঁধে যেতেই নীল ওর ওপর চেপে বসল।

একটার পর একটা পাশবিক ঘুসি আরহামের মুখে আছড়ে পড়ছে। নীলের ডান হাতের গিঁটগুলো ততক্ষণে আরহামের র*ক্তে ভিজে গেছে। নীল চিৎকার করে বলতে লাগল,,
—’কু*ত্তা*র বাচ্চা।আমার নুরের গায়ে হাত তোলার সাহস কোত্থেকে পাস তুই? যে হাত দিয়ে ওকে ছুঁয়েছিস, সেই হাত আমি আজ শরীর থেকে আলাদা করে দেব!
নীল আরহামের ভাঙা হাতটা ধরে উল্টো দিকে মুচড়ে দিল। আরহামের যন্ত্রণাকাতর গোঙানি তখন পশুর আর্তনাদের মতো শোনাচ্ছে। নীল থামল না। পাশে পড়ে থাকা সেই ভাঙা শোপিসের তীক্ষ্ণ একটা টুকরো তুলে নিয়ে সে আরহামের উরুতে গেঁথে দিল। আরহামের গলার শিরদাঁড়া ফুলে উঠল ব্যথায়, কিন্তু গোঙানোর শক্তিটুকুও যেন সে হারিয়ে ফেলেছে।
নীল থামলো না। পুনরায় ক্ষুব্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে বলল,,

—’শু*য়ো*রের বাচ্চা,হা*রা*মি এই চোখ দিয়ে।এই চোখ দিয়ে তুই আমার নূরের দিকে লো*লু*প দৃষ্টি দিয়েছিস তাই না?
বলেই পাশ থেকে ভাঙা কাঁচের টুকরা নিয়ে আরহামের চোখে গেঁথে দিল নীল। আরহামের বীভৎস গোঙ্গানিতে ভাইয়ার তো পরিবেশের সৃষ্টি হলো চারিদিকে।নীল তখনো থামেনি, সে আরহামের গলা টিপে ধরেছে। আরহামের চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। মুখ দিয়ে ফেনা আর র*ক্ত বের হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে নাহিয়ান তার বাহিনী ঘরে ঢুকল। নীলের এই বীভৎস রূপ দেখে নাহিয়ানও শিউরে উঠল।নাহিয়ান দৌড়ে এসে নীলকে পেছন থেকে জাপটে ধরল,,

—’নীল! ছাড়! ও মরে যাবে! আইনকে নিজের হাতে তুলে নিস না, নীল!
নীল তখনো উন্মত্ত। সে নাহিয়ানের বাঁধন ছিঁড়ে আবার আরহামের র’ক্তা’ক্ত দেহের দিকে এগোতে চাইল। তার চিৎকার তখন বাঘের গর্জনের মতো,,
—’ছেড়ে দে আমাকে নাহিয়ান! আজ এই জা*নো*য়া*র*টা*র শেষ দেখে ছাড়ব আমি। ওর ক*লিজা আমি ছিঁ*ড়ে ফেলব!

নাহিয়ান আর অন্য দুজন পুলিশ অফিসার মিলে নীলকে টেনে দূরে সরিয়ে নিল। আরহামের দেহটা তখন নিথর মাংসপিণ্ডের মতো মেঝেতে পড়ে আছে, নিশ্বাস চলছে কি না বোঝাও দায়।
তিহু তখনো কোণে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল। নীলকে শান্ত হতে দেখে সে দৌড়ে এসে নীলের বুকে আছড়ে পড়ল। নীলের র*ক্তা*ক্ত হাত দুটো তখনো কাঁপছে রাগে। কিন্তু তিহুর স্পর্শ পেতেই তার সেই আসুরিক তেজ মুহূর্তেই গলে গেল। সে নিজের র’ক্তা’ক্ত হাতেই তিহুকে জড়িয়ে ধরল, যেন এই স্পর্শটুকুর জন্যই সে এতক্ষণ মৃ*ত্যুর সাথে লড়াই করে এসেছে।
নীল তিহুকে নিজের সঙ্গে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে শীতল কন্ঠে বলল,,—’নুর?
বহুদিন পর পরিচিত সুরে, গলা ভেঙে আসলো তিহুর ডুকরে কেঁদে উঠলো সে,,—’নেতা সাহেব?

মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের ন্যায় কক্ষটায় নেমে এসেছে এক গহীন নিস্তব্ধতা। বাইরের শোরগোল যেন বহুদূরের কোনো স্বপ্নলোকের শব্দ বলে মনে হতে লাগল।নাহিয়ান আর তার বাদবাকি সিআইডি অফিসাররা অ*র্ধমৃ*ত আরহামকে এক প্রকার টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে কিছুক্ষণ আগে। তবে যাওয়ার আগেও আরহাম উন্মাদের ন্যায় একটা কথাই আওড়াচ্ছিলো বারংবার,,
—’তোমাকে না পেয়ে এক অসমাপ্ত জীবনের সমাপ্তি ঘটালাম তোতা। তবুও বলবো ভালোবাসি! শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
তবে তিহু একবারের জন্যে ফিরেও তাকায়নি তার দিকে। বরং দৃষ্টি ফিরিয়েছে বড্ড বিতৃষ্ণায়।নীল আরো একবার সজোরে লাথি বসিয়েছে আরহামের র’ক্তা’ক্ত বক্ষদেশে।

এখন সমগ্র কক্ষ জুড়ে এক চড়ুই দম্পতি।নীলের বুকের ভেতরটা তখনো কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে। তার শুভ্র বসন আজ প্রিয়তমার অবমাননাকারীর র*ক্তে র*ঞ্জি*ত। কিন্তু যেই না তিহু তার বুকে আষ্টেপিষ্টে মিশে গেল, নীলের সমস্ত ক্রোধ যেন নিমিষেই শ্রাবণের মেঘ হয়ে চোখের কোণে জমা হলো।
নীল তিহুর ললাটে নিজের প্রকম্পিত ওষ্ঠাধর ছোঁয়ালো। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুদ্ধস্বরে ডাকল,,
—’নূর…!

তিহু উত্তর দিল না, শুধু নীলের শার্টের হাতা দুটো খামচে ধরে তার বুকের গহীন অন্ধকারে নিজের মুখ লুকালো। তার কান্না থামছে না, এই কান্না কতদিনের জমানো অভিমানের, কত রাতের বিনিদ্র প্রতীক্ষার! নীল তার একটি হাত তিহুর চিবুকের নিচে রেখে মুখটা ঈষৎ তুলে ধরল। তিহুর অশ্রুসজল আঁখিপল্লব তখনো কাঁপছে। নীল নিজের আঙুল দিয়ে অশ্রুধারা মুছে দিতে দিতে অতি মৃদু কণ্ঠে বলল,,

—’প্লিজ স্টপ, প্লিজ অর্কিড!চোখ মুখের কি অবস্থা করেছ এ?আমার জন্য কি একটু মায়া হয়না?তোমার চোখের এই প্রতিটা ফোঁটা জল আমার ক*লি*জা*য় ফুটন্ত সিসার মতো বিঁধছে নুর;কথা দিচ্ছি, আজ থেকে তোমার হাহাকারগুলো আমার হোক, আর আমার আয়ুর প্রতিটি নিশ্বাস হোক তোমার প্রশান্তির।
তিহু শক্ত করে তাকে জাপটে ধরলে বলল,,—’আমি তো কলঙ্কিতা হয়ে গেলাম নেতা সাহেব। আমার…!
তাকে কথা শেষ করতে দিল না নীল। তা নরম কোমল প্রকম্পিত ওষ্টাধরে নিজের তর্জনী ঠেকিয়ে বলল,,
—’উসস…শোনো নূর,লোকে বলে চাঁদেও নাকি কলঙ্ক থাকে। কিন্তু আজ এই মুহূর্ত থেকে পৃথিবীর কোনো কলঙ্কই তোমাকে ছুঁতে পারবে না। কারণ, আজ থেকে তোমার সবটুকু অপমানের দায়ভার আমি আমার নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। তোমার শরীরের প্রতিটি দাগ, মনের প্রতিটি ক্ষত আজ থেকে আমার। লোকে যদি কোনোদিন তোমাকে নিয়ে একটাও বাঁকা আঙুল তোলে, তবে জেনে রেখো— সেই আঙুলটা আগে নীল খানের বুক বিদীর্ণ করে তবেই তোমার কাছে পৌঁছাবে।

নীলের কথাগুলো শুনে তিহুর কান্নার বেগ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল, তবে এবারের কান্নাটা যন্ত্রণার নয়, বরং এক পরম আশ্রয়ের প্রশান্তির। সে নীলের র*ক্তমাখা শার্টের কলারটা খামচে ধরে নিজের মুখটা আরও গভীরভাবে তার বুকের পাঁজরে গুঁজে দিল। যে কলঙ্কের ভয়ে সে এতক্ষণ কুঁকড়ে ছিল, নীলের এক নিমিষের স্বীকারোক্তি যেন সেই সব ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল।তিহু হেস্কি তুলে ধরা গলায় অস্ফুটস্বরে বলল,

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫৪

—’কেন এত ভালবাসেন আমায়?
নীল তিহুর কপালে লেপ্টে থাকা ঘাম আর অবিন্যস্ত চুলের ভাঁজে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে;তিহুর ভেজা চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে গভীর কন্ঠে বলল,,
—’কারণ, আমার পলিটিক্স-এ ভরা ধূলিমলিন এই শহরে তুমিই ছিলে একমাত্র পবিত্র পাণ্ডুলিপি; যেখানে আমি প্রথমবার নিজের অজান্তেই লিখে ফেলেছিলাম এক অবিন্যস্ত #প্রেমের_নীলকাব্য।

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫৬