Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১১+১২

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১১+১২

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১১+১২
Afnan Lara

মেয়েটা বুঝতে পারলো শান্ত তার কানের দিকে তাকিয়ে আছে,মুচকি হেসে বললো এই কানের দুলটা আমি নতুন কিনেছি এক বইনের থেকে,হিহি
মেয়েটা হেসে চলে গেলো হাত পা নাচিয়ে
শান্ত কিসব ভেবে দরজা লাগালো
ভার্সিটিতে এসে আহানা ক্লাসে ঢুকে চুপচাপ এক কোণায় গিয়ে বসে আছে
রুপা চুপিচুপি এসে আহানার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো
কিরে আমাকে কই নেস তুই,ক্লাস করবি না?কিরে?

চল তোকে নিয়ে শপিংমলে যাব,মিরার জন্য কিছু কিনতে হবে তো
বাজেট কত?
৫হাজার
কিহ!এত টাকা?
তো কিছে?বাবা তো আমাকে ৬হাজার দিসে,আমি ১হাজার মাইর দিসি😜
রুপা আহানাকে নিয়ে একটা শাড়ীর দোকানে আসলো
দোকানদারকে বললো শাড়ী দেখাতে ৫হাজারের মধ্যে
আহানা তো রীতিমত অবাক,শাড়ী একটার চেয়ে একটা অসম্ভব সুন্দর,আহানার একটা শাড়ী আছে,তার আশ্রমের মা মারা যাওয়ার পর আসার সময় তার একটা শাড়ী নিয়ে সে এসেছিল,সাদার উপর লাল লাল সুতোর ডিজাইন করা শাড়ীটা,তেমন দামি না,৭০০/৮০০টাকার হবে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আহানা মন চাইলেই সেটা পরে পরে দেখে,শাড়ীটা ইউজ করা ছিল বলে আঁচল দিয়ে ছেঁড়া তাই সেটা পরে আহানা কোথাও যায় না
কিরে কি ভাবিস কোনটা ভালো লাগে বল
আহানা একটা গোলাপি রঙের শাড়ী হাতে নিয়ে বললো এটা সুন্দর
রুপা সেটাই কিনে নিলো,দুজনে আবার ভার্সিটিতে ফিরে আসলো
আহানা শান্তকে দেখে রুপাকে বললো চলে যেতে,তারপর জ্যাকেটটা নিয়ে শান্তর কাছে এসে তার দিকে বাড়িয়ে ধরলো
শান্ত জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে তার ব্যাগ থেকে আহানার ওড়নাটা নিয়ে দিলো
আহানা ৫হাজার টাকা নিয়ে শান্তকে বললো নিন আপনার টাকা
এই টাকা আমাকে দিচ্ছো কেন?
এগুলা আপনার জ্যাকেটের পকেটে ছিল

ওহ আমি ভুলে গেসিলাম
শান্ত জ্যাকেটটা নিয়ে ঘ্রান নিয়ে দেখলো রিং পাউডারের সুবাস নয় তবে যে সুবাস সেটা শান্তর ভালো লাগলো কিছুটা
রুপা ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে আহানার হাতে ধরিয়ে দিলো
আহানা প্যাকেটটা খুলে দেখলো একটা জামা,খয়েরী রঙের,বেশ দেখতে,আহানা খুব খুশি হলো
কাল সেজেগুজে ভার্সিটির আসবি আমি আর তুই মিরাদের বাসায় যাব
ওকে
এক মিনিট,তোর কানের দুল কই?
ইয়ে আসলে হারিয়ে গেছে
একসাথে দুটোই?
না একটা হারিয়েছে তাই আরেকটা রেখে দিয়েছি
ওহ,তো অন্য একটা কানের দুল দিয়ে আসতি

বাদ দে,কানের দুল দিলে আমার কানে ব্যাথা করে
ওমা সেকি,কি বলিস তুই
হুম
ভার্সিটিতে ছুটি দেওয়া হয়ে গেছে
আহানা তার ওড়নাটা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে হাঁটতেসে,মনে হয় ভালো করে ধুয়েছে,কি সুন্দর মিষ্টি ঘ্রান আসতেসে,নিশ্চয় রিং পাউডার হবে
আমার ওড়নাকে তো নতুন বানিয়ে দিছে একদম
শান্ত ওড়নাটা বুয়াকে দিয়ে ধুইয়েছিল
আহানা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচ দিয়ে যাচ্ছে,বাতাসে গাছটা নড়ে উঠতেই ফুল কতগুলো ঝরে নিচে পড়তে লাগলো
আহানা থেমে গিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালো,কি ভালো লাগতেসে,হাত বাড়িয়ে ধরলো আহানা,হাতে কতগুলো ফুল আর ফুলের পাপড়ি পড়ে জমা হচ্ছে
শান্ত ১০হাত দূরে একটা গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,এই নরমাল ফুল মানুষ এত পছন্দ করতে পারে জানতাম না!

আহানা আবারও কতগুলো ফুল কুড়িয়ে ব্যাগ থেকে সুতা টেনে ছিঁড়ে কানের দুল বানালো,কিন্তু কথা হলো কানে ঢুকাবে কি করে
১১
পরে বুদ্ধি করে কানের উপর দিয়ে সুতা নিয়ে গিট্টু দিলো,বাহ আমার কানের দুল হয়ে গেছে☺
আহানা খুশিতে লেকটার দিকে যাচ্ছিলো নিজেকে দেখার জন্য হঠাৎ ওর চোখ গেলো শান্তর দিকে
শান্ত কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আহানার কানে দুল নেই,তাহলে কি আমার বাসার বুয়ার মেয়ের কানের দুলটা আহানা দিয়েছিলো,কিন্তু কেন?
আহানা আর লেকে গেলো না,নিজের ব্যাগটা নিয়ে হাঁটা ধরলো
দাঁড়াও!
কি?
তোমার কানের দুল কই?
আহানা কিছুটা হকচকিয়ে বললো কেন?
বলো শুনি
আপনাকে কেন বলবো?

কাকে দিয়েছো?
ককককককি,কাউককককে দিই নাই আমি,হারিয়ে গেছে
ওহ!
শান্ত জ্যাকেটটা ঠিক করতে করতে চলে গেলো
আহানা বুঝতেসে না শান্ত কি করে জানলো সে কাউকে দুলটা দিয়েছে ভাবতে ভাবতে হাঁটা ধরলো সে
বুয়া!!বুয়া!
জি বলেন বাবা
আপনার মেয়েকে একটু ডাকেন তো
কেন কি হয়েছে?ও কি কোনো ভুল করেছে?
নাহ ভুল করেনি,একটা কাজ ছিল,কিছু কথা জিজ্ঞেস করবো,ডাকেন ওরে
আইচ্ছা
বুয়া তার মেয়েকে ডেকে নিলো
মেয়েটা ভয়ে ভয়ে শান্তর সামনে গিয়ে বললো
কি হইসে ভাইয়া?

তোমার ঐ কানের দুল কত দিয়ে নিয়েছিলে?
২০টাকা
২০টাকা?কে দিয়েছিল নাম জানো?
না তো,তবে মেয়েটার কাছে টাকা ছিল না বলে কানের দুল বিক্রি করে টাকা নিয়ে চাল কিনেছে
২০টাকার চাল?
জি ভাইয়া,১০টাকা করে ২০টাকার ২কেজি চাল
ওহ,মেয়েটার কি থুঁতনিতে তিল ছিল?
হহহহ ভাইয়া,যা সুন্দর লাগতেসিলো,আমি এরকম আর আগে দেখি নাই কোনোদিন, কিন্তু আপনি জানলেন কেমনে?
তোমার ঐ দুল আমাকে দাও,আর নাও ১০০টাকা
মেয়েটা দাঁত কেলিয়ে ১০০টাকার নোট নিয়ে দুলটা খুলে শান্তকে দিয়ে চলে গেলো
শান্ত দুলটার দিকে তাকিয়ে বসে আছে,২০টাকার জন্য মানুষ তার দুল বিক্রি করে?তাও যার কাছে একটাই দুল আছে?এই মেয়েটার সাথে অনেক অনেক রহস্য জড়িয়ে আছে
শান্ত দুলটা দেখে আলমারিতে তুলে রাখলো
আহানা বাসায় ফিরে কানের থেকে ফুলের দুলটা খুললো,কান খালি,গলা খালি,হাত ও খালি,কাল জামার সাথে কিছু পরা হবে না,কিরকম লাগবে আমাকে😒

আগে তো গলায় একটা রুপালি হার ছিল,এমিটেশনের,সেটাও ৩০টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিসিলাম,সেই টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনেছিলাম,আর আজ দুল,আর কিছু নাই যে বিক্রি করবো
পেঁয়াজ একটা কেটে মরিচ নিয়ে ভাতে পানি ঢেলে বাটিটা নিয়ে বসে আছে আহানা,আজ কেন জানি খেতে মন চাচ্ছে না,রোজ রোজ একি খাবার,অবশ্য কাল ভালো খাবার পাবো☺
আহানা একটু পড়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো,আবার ভোরে উঠে নামাজ পড়ে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলো মিষ্টিদের বাসায় যাওয়ার জন্য

বাসার সামনে এসে হাঁপাচ্ছে আহানা,এতদূর বাসাটা,কমপক্ষে ৫০টাকার ভাড়া হবে,এতদূর কি আর হাঁটা যায়
লিফটে উঠে দোয়া দরুদ পড়লো যাতে শান্তর মুখ না দেখতে হয়,৫তলায় এসে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে দেখলো শান্তর ফ্ল্যাটের দরজা অফ,খুশিতে মিষ্টিদের বাসায় গিয়ে দরজা নক করলো সে,ওদের বুয়া এসে দরজা খুললো
মিষ্টিকে পড়ানো শেষে বাসা থেকে বেরিয়ে আহানা উপরের দিকে তাকালো,শান্তর রুমের বারান্দার দিকে,বারান্দায় একটা কি ২টা ফুলের টব ঝুলছে,আর কিছু দেখা যায় না,অনেক উপরে তো তাই
আহানা হেসে হেসে হাঁটা ধরলো,আজ আর ঐ বেয়াদবটার সাথে দেখা হবে না সারাদিন 😎
বাসায় এসে আহানা বই নিয়ে বসলো,বই পড়া শেষ করে ১০টায় উঠে রেডি হতে গেলো,জামাটা পরে আহানার মনের ভেতরটা কেমন করতেসে নিজেকে কেমন লাগছে তা জানার জন্য

ফোনে নিজেকে দেখে মুখটা কালো করে ফেললো,গলায় কিছু নেই,হাতেও নেই,আর কান তো
ওড়নাটা পরে একটা পার্স নিয়ে বের হলো আহানা
ভার্সিটির সামনে এসে রুপার জন্য অপেক্ষা করতেসে সে
রুপা ৫মিনিটেই এসে পড়লো,সেও রেডি হয়ে এসেছে কমলা রঙের জামা পরে
কিরে,তোর গলায় কানে কিছু দেখি নেই,হাতেও তো নেই
বাদ দে,এসব পরতে ভালো লাগে না আমার
তাই বলে ওকেশানেও পরবি না?

তো কিছে,চল তো,দেরি হয়ে যাবে
দুজনে মিরাদের বাসায় আসলো,এক তলা বাড়ি,পাশে একটা পুকুর,আশেপাশেও বাড়ি আছে
কিছু টিনের কিছু ইটের
আহানা আর রুপা ভেতরে ঢুকতেই মানুষের ঠেলাঠেলিতে ওদের দুজনের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম
বাসাটার পিছনে একটা উঠান,সবাই বাসার ঠেলাঠেলি সহ্য না করতে পেরে উঠানটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে
রুপা গাল ভেটকিয়ে একটা কাছের দিকে তাকিয়ে আছে,পুরা গ্রাম মনে হয় তাই না?
তাও তো কি শান্তি এখানে,শহরের কোনো ছাপ নেই,আমার তো বেশ লাগতেসে
মিরাকে একটা রুমে পার্লারের লোক সাজাচ্ছে

আহানার গলা শুকিয়ে গেছে,বাসার ভেতরে এসে ডাইনিং টেবিল থেকে পানি নিতে গিয়ে চমকে গেলো শান্তকে দেখে,সে সোফায় বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে বিরক্তি নিয়ে
আহানা চোখ বড় করে ভাবতে লাগলো ও এখানে কি করে,পাশেই এলিনা বসে আছে,পায়ের উপর পা তুলে,ফোন দেখতেসে,কারোর দিকে তাকাচ্ছে না সে
আহানা পানি খেয়ে এক দৌড়ে পালালো
বর এসেছে বলে সবাই চিৎকার দিতেছে
আহানা আর রুপা উঁকি দিয়ে বরকে দেখতে গেছে
শান্ত স্টেজের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছে,এত বরিং লাগতেসে আজ,উফ!!
এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে শান্তর চোখে পড়ে গেলো আহানাকে
আহানা রুপা আর একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতেসে

শান্ত আহানাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে এগিয়ে গেলো,যা ভেবেছিলাম তাই!আহানার কান খালি
ওটা আহানারই দুল তাহলে
খুব জোরে গান বাজতেসে
আহানা রুপার সাথে এক কোণে বসে আছে চুপচাপ,মনে হয় এখানে কেউ ওদের চেনে না,সব মিরার রিলেটিভ
একটা মেয়ে ট্রেতে করে পিঠা,শরবত দিয়ে গেলো রুপা আর আহানার সামনে
আহানা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো এটা কি পিঠা,পিঠা জিনিস সম্পর্কে ওর ধারনা কম,সারাজীবন ভাত পেঁয়াজ,আলু আর কিছু তরকারি ছাড়াও যে কিছু খাবার থাকতে পারে তা আহানার অজানা
তো পিঠা দেখে এমন অবাক হওয়ারই কথা
কিরে এমন করে চেয়ে আছিস কেন?এটা ডিমের পিঠা

ওহ
আহানা মুখে দিয়ে বেশ মজা পেলো,এরকম পিঠা থাকলে তো বাসায় আর বিসকিট খেতে হয় না তার
শুন আমার না এখন কিছু খেতে মন চাচ্ছে না,আমি ৫টা পিঠা ব্যাগে করে নিয়ে যাই?
ওমা তের খিধা নাই কেন?আচ্ছে নে
আহানা তার ব্যাগে ৫টা পিঠা নিয়ে নিলো,খুশি লাগতেসে,কাল সকালে ভাত খাব না,পিঠা খেয়ে ভার্সিটিতে যাব,ভাত বেঁচে যাবে😎
বৌকে সাজানো হচ্ছে,রুপা আর আহানা বসে বসে সেটা দেখতেসে
আহানা?তুমি একটু সাজো ও নাই কেন,এরকম খালি খালি এসেছো কেন?কেমন লাগতেসে তোমাকে!
না আসলে এমনিতেই ভালো লাগে না
মিরার খোঁপায় ৪টা গোলাপ ফুল লাগতো,আছে ২টা
মিরাদের বাসা এমন একটা জায়গায় যেখান থেকে মেইন রোড অনেক দূরে,এখন ফুলের জন্য কাকে পাঠাবো সেটা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়ে গেছে

আহানার মনে পড়লো রিকসা দিয়ে আসার সময় তারা একটা গোলাপগ্রাম দেখেছিল,বেশি দূরে না সেটা
মিরার যত কাজিন ভাই ছিল তারা নানা কাজে বিজি,একজন তো বলেই দিলো কি দরকার ফুল দিয়ে,এত সং সেজে লাভ কি,ফুল দিলেও বিয়ে হবে না দিলেও বিয়ে হবে
এদিকে স্টেজ সাজানো হয়েছে রজনীগন্ধা আর গাঁদা দিয়ে,গোলাপ দিয়ে সাজালে সেখান থেকে থেকে আনা যেতো
শেষে আহানা আর রুপা ঠিক করলো ঐ গোলাপগ্রামে যাবে কারন মিরা ততক্ষণে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে,তার কথা হলো তার বিয়ে perfectly end হবে,কোনো কমতি যদি তার বিয়েতে হয়ে যায় তা সারাজীবন মনে রেখে ফুঁফিয়ে কাঁদবে,এটা সে কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না
আহানা আর রুপা রওনা হলো,হাঁটতেসে চিকন একটা রোড দিয়ে,দুপাশে ক্ষেত,ধানের ক্ষেত
হঠাৎ সামনে নওশাদ এসে দাঁড়ালো

আহানা চমকে তাকিয়ে আছে,কারন নওশাদ এখানে কেন সেটায় ভাবতেসে সে,ওদিকে রুপা মুচকি মুচকি হাসতেসে,ও আচ্ছা তার মানে শয়তান শান্তর চ্যালা নওশাদ হলো রুপার বফ,এবার বুঝলাম আমি
নওশাদ আহানাকে বললো দাঁড়াতে ওরা একটু ঘুরে আসবে বাম পাশের নির্জন রোডটা থেকে
রুপা আহানার হাতে গোলাপ কিনার টাকা দিয়ে চলে গেলো
আহানা ঠিক আছে বলে দাঁড়িয়ে আছে,পরে দেখলো আর কয়েক পা হাঁটলেই গোলাপ গ্রাম,দূর থেকে লাল রঙ চোখে আসতেসে
আহানা হেঁটে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো
হঠাৎ ওর নজরে পড়লো শান্ত আর এলিনাকে,এলিনা একটা ছোট বাচ্চা মেয়েকে দিয়ে পিক তুলাচ্ছে আর শান্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোলাপ গাছ দেখতেসে

আহানা চুপচাপ ভেতরে ঢুকে ক্ষেতের মালিককে টাকা দিয়ে দুটো ফুল নিলো,উনি আরেকটা ফ্রি দিয়ে দিলেন
আহানা খুশি হয়ে সেটা কানে গুজে নিলো
পেছন থেকে শান্ত বলে উঠলো তোমার কানের দুল কই?
আহানা চোখ বড় করে পেছনে তাকালো
আমার কানের দুলের পেছনে লাগছেন কেন,বলসি না হারায় গেছে
তো বাসায় আর কানের দুল নেই?
আপনার কি?আমার ইচ্ছা আমি কানে কিছু লাগাবো না
তাহলে ফুল লাগালে কেন
আহানা রেগে আর কিছু না বলেই হাঁটা ধরলো
ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে সরু উঁচু পথ,সেটাতে আহানা হেঁটে চলে যাচ্ছে
রেগে শান্তকে বকতেসে সে
হঠাৎ পড়ে যাওয়া ধরতেই শান্ত হাত ধরে ফেললো ওর

আপনি আমাকে ফলো করতেসিলেন?
শুনো এটা তোমার বাপের রাস্তা না,আমি যেখান দিয়ে ইচ্ছা সেখান দিয়ে হাঁটবো,তোমার কি,আর তোমাকে সেভ করায় এ কথা বলতেসো? ফাইন!
শান্ত আহানার হাত ছেড়ে দিলো,আহানা সাথেসাথে দুম করে পড়ে গেলো নিচে
হুম এই জায়গা তোমার জন্য ঠিক আছে একদম
শান্ত ভেংচি দিয়ে চলে গেলো
আহানা হাত পা মুছে উঠে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে শান্তর দিকে
বেয়াদব কোথাকার,অসভ্য👿

শান্ত আগে আগে হেঁটে যাচ্ছে সরু পথটা ধরে
আহানা আস্তে আস্তে পিছন পিছন আসতেসে
শান্ত পিছন ফিরে আহানার দিকে তাকালো,আহানা মুখ বাঁকিয়ে আরেকদিকে ফিরে গেলো
শান্ত দাঁড়িয়ে পড়ে হাতের কব্জি কচলানো শুরু করে দিসে
হুহ,আমি ভয় পাই নাকি
আহানা গোলাপে এক চাপ দিলো রাগে,হাতে যে কাঁটাযুক্ত গোলাপ আছে তা সে জানত না
চাপ দেওয়ার ফলে হাতে কাঁটা ঢুকে গেলো পুরোটা
উফ!
হাতের দিকে তাকিয়ে আহানার কলিজা মনে হয় বেরিয়েই যাবে,এত বড় কাঁটা ঢুকে গেছে তার উপর শান্ত কব্জি কচলাচ্ছে
আহানা কাঁটা সমেত হাতটা লুকিয়ে হাঁটা ধরলো আবার

শান্তর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে আহানা
দাঁড়াও!
কি?
কিছু না যাও
আপনি একটা!!!!
আহানা হাঁটতে হাঁটতে হাত থেকে কাঁটা ধরে টান দিয়ে খুলে ফেললো,ইস আমি এখন খাবার খাবো কি করে,ডান হাতেই কাঁটা ঢুকতে গেলো,২/৩বছর পর ভালো খাবার খাবো আর সেদিনই হাতে কাঁটা ঢুকতে গেলো,ফুটা কপাল আমার👿
সব হয়েছে বেয়াদবটার জন্য
আহানা একটু হাঁটতেই সামনে রুপা আর নওশাদের সাথে দেখা হয়ে গেলো তার
নওশাদ শান্তর কাছে চলে গেসে
রুপা আর আহানা হেঁটে বাসার দিকে ফিরে গেলো
তারপর সেই ফুল মিরাকে পরিয়ে দিলো
বিয়ে পড়ানো শেষ
আহানা খাবারের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,শেষে বাবুর্চিকে বলে একটা চামচ দিয়ে যা পেরেছে খেয়েছে,তবে তেমনটা খেতে পারে নি

আহানা আর রুপা বিকালের দিকে রিকসা ধরে বাসায় ফিরে আসলো,আহানা এর আগে আর শান্তর মুখোমুখি হয় নি
বাসায় এসে কোনো কাজই করতে পারছে না হাতের ব্যাথার জন্য,টনটন করতেসে কেমন যেন,উফ কি যন্ত্রনা!
পরেরদিন সকালে উঠে আহানা রেডি হতে যাবে তখনই মিষ্টির মায়ের ফোন আসলো,তিনি বললেন কাল মিষ্টি তার নানু বাসায় গেসিলো,আসে নাই,তাই আজকে পড়াতে হবে না
আহানা ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলো,আবার গিয়ে একটু শুতেই ঘুমিয়ে পড়লো সে
কিরে ভাই তুই এমন উদাস হয়ে আছিস কেন?কি হয়েছে তোর?
না কিছু না
রুপা বললো আজ আহানা আসে নাই ভার্সিটিতে
আমি আহানার কথা জিজ্ঞেস করসি তোকে নওশাদ?
নাহ ভাবলাম হয়ত ওকে মিস করতেছিস
না,আমি ওকে মিস কেন করবো,ওর প্রতি কোনো interest নেই আমার

ইস রে!!দুপুর ১টা বেজে গেলো?আমি এতক্ষন ঘুমালাম,ভার্সিটিতেও যেতে পারিনি ধুর!
আহানা তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লো,টিউশনি করাতেও যেতে হবে
হেঁটে যাচ্ছে আহানা,ভার্সিটির পিছনের রোড দিয়ে যাওয়া সহজ বলে আগে ভার্সিটিতে আসলো আহানা,এখন তো ২টা বাজে মনে হয়
৩টা বাজতে ১ঘন্টা বাকি,আহানা ভার্সিটির ক্যামপাসে দাঁড়িয়ে ক্লাসরুমের দিকে একবার তাকালো,রুপা আছে কিনা দেখার জন্য
নাহ দেখা তো যাচ্ছে না,থাক আমি বরং টিউশনির দিকে যাই
আহানা টিউশনির দিকে গেলো কিছুদূর যেতেই শান্তর মুখোমুখি হলো সে,শান্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে

আজ ভার্সিটিতে আসলে না কেন?
আপনার কি তাতে?
আহানা চলে যেতে নিতেই শান্ত ওর হাত মুঠো করে ধরে টান দিলো
কিই?হাত ছাড়ুন,এটা কোনো ধরনের বেয়াদবি?কথায় কথায় আমার হাত ধরেন কেন?
শান্ত আহানার হাত টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়ে আসলো
আহানা এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো ছাড়ুন আমার হাত,ছাড়ুন,এমন করতেসেন কেন!
শান্ত তার আরেকহাত উঁচু করে ধরলো আহানার সামনে,তার হাতে কানের দুলগুলো যেগুলো আহানা বিক্রি করে দিয়েছিল
আহানা অবাক চোখে কানের দুলের দিকে তাকিয়ে আছে
এই দুলটা তোমার না?
আমার দুল আপনি পেলেন কই?
নিবে নাকি?
আহানা হাত বাড়িয়ে ধরতে যেতেই শান্ত তার হাতটা সরিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে ফেললো
কি হলো দিন আমার দুল!

২০টাকা দিতে হবে তাহলে দিব
আহানা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো এরকম করেন কেন,আমার দুল আমাকে দিন
কেন?তুমি তো হারিয়ে ফেলছিলে,তো আমি যখন পেয়েছি তখন এটা নেওয়ার সময় তোমার উচিত আমাকে টাকা দেওয়া হাদিয়া হিসেবে
আহানার চোখে পানি এসে গেলো,শান্তর হাতটা ছাড়ানোর জন্য হাত মুছড়াতে লাগলো সে
কি হলো বলো?নিবা নাকি নিবা না?নিতে হলে ২০টাকা দিতে হবে
থাক.আপনি রেখে দেন,লাগবে না আমার
আহানা তার হাতটা ছাড়িয়ে পিছিয়ে গেলো,তারপর চলে যেতে নিতেই শান্ত বলে উঠলো ২০টাকা নেই তোমার কাছে?তোমার হারিয়ে যাওয়া দুল কিনার জন্য?

না থাক,লাগবে না আমার
কথাটা বলে আহানা হেঁটে চলে গেলো
শান্ত দুলটা মুঠো করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে
আহানা ভাবতেসে শান্ত পেলো কই আমার দুলটা,ওটা তো আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম
আহানা বাসায় ফিরে বুঝার চেষ্টা করেই যাচ্ছে শান্ত দুলটা পেলো কই
ঘর ঝাড়ু দিতেসে সে, হঠাৎ একটা পোকা দেখলো সে,সম্ভবত চ্যালা হবে
আহানা ভয়ে পিছনে গিয়েই দুম করে দরজার সাথে একটা বাড়ি খেলো কপালে
উফ,!পোকার কামড় খাওয়ায় ভালো ছিল,কে জানত এই পোকার ভয়ে মাথায় ব্যাথা পাবো আমি
মাথা ঘষতে ঘষতে বিছানার উপর পা তুলে বসে পড়লো আহানা,ভয় করতেসে,এসব পোকা অনেক ভয় পায় সে,তার উপর বাসায় একা একা কি করবো এখন,না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো সে,ভয়ে আর বিছানা থেকে নামেনি সে,মিষ্টির আম্মু বলেছে ও এখনও নানু বাসা থেকে আসেনি

পরেরদিন রেডি হয়ে ভার্সিটিতে এসে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে আহানার
রুপা একটা assignment ধরিয়ে দিসে,ও কাল রাতে করতে পারেনি,আহানা সেটায় করতেসে
চল কাজ শেষ এবার ক্যামপাসে ঘুরবো
এক মিনিট তোর কপালে এটা কিসের দাগ?লাল লাল
নাহ কিছু না,রঙ লেগেছে মনে হয়
ওহহ,চল যাই
রুপা আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ক্যামপাসের দিকে
তোর Assignment করে দিয়েছি আমি
থ্যাংক ইউ বনু
ক্যামপাসে কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করে আবারও ক্লাসে ফিরে আসলো দুজনে
ক্যামপাসে আজ শান্তকে আহানা দেখেনি একবারও
শুন তোর জামাটা আমি ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে এসেছি,দাঁড়া প্যাকেটটা আমার ব্যাগেই
আহানা তার ব্যাগ থেকে জামার প্যাকেটটা টান দিতেই ব্যাগ থেকে বেরিয়ে ফ্লোরে তার কানের দুল জোড়া পড়ে গেলো
আরেহহহহ আহানা তোর কানের দুল,দেখেছিস হারায়নি এটা,তোর ব্যাগের ভিতরেই ছিল এটা

কিন্তু এটা তো!
আহানা ভাবতেসে শান্ত তো ওকে এটা দেই নি,তাহলে এটা তার ব্যাগে আসলো কি করে
আহানা ভাবতেসে ব্যাপারটা
ধুর,কি এমন ভাবিস তুই,দে আমি পরিয়ে দিই
রুপা দুলগুলো নিয়ে আহানার কানে পরিয়ে দিলো
দেখ কেমন চকচক করতেসে তোর কান,তোর কান খালি মানায় না একদম
ভার্সিটিতে থেকে বের হওয়ার সময় শান্ত আহানাকে দেখে মুচকি হাসলো ওর কানে দুলটা দেখে তারপর আবার আরেকদিকে মন দিলো
আহানা শান্তর দিকে তাকাতে তাকাতে চলে যাচ্ছে টিউশনির দিকে
গুনে গুনে কদম ফেলতেসে আহানা,প্রতিদিন ২৩কদম হাঁটার পর শান্ত সামনে এসে দাঁড়ায়
২১…২২..২৩
সামনে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে,তবে চোখ আহানার দিকে থাকলেও মন ফোনে,কার সাথে যেনন কথা বলতেসে সে

হুম বাবা,আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি,হুম!ওকে ডান
আহানা রোবটের মত দাঁড়িয়ে আছে শান্তর দিকে তাকিয়ে
শান্ত আহানাকে পেরিয়ে চলে যাচ্ছিলো,হঠাৎ থেমে গিয়ে পিছিয়ে আবার আহানার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো
আহানা মাত্রই হাঁপ ছাড়তেসিলো,শান্তকে দেখে আবারও দম বন্ধ হয়ে গেলো তার
শান্ত আহানার কানের দিকে তাকিয়ে তারপর কপালের দিকে তাকালো
কিই?
তোমার কপালে কি হয়েছে.?
রররররঙ লেগেছে
সবাইকে ধোকা দাও,আমাকে দিতে আসিও না,আমি ধোয়া তুলসি পাতা না,দুনিয়ার সব প্যাঁচ বুঝি
শান্ত হাত উঠিয়ে আহানার কপালে চাপ দিয়ে দিলো
উহহহ!
কি?রঙে ব্যাথা লাগে?
আপনি একটা বেয়াদব,জগন্যতম বেয়াদব!!!
আহানা রেগে হনহনিয়ে চলে গেলো
শান্ত হাসতেসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

আচ্ছা কে রাখলো দুলটা?
শান্ত?কিন্তু ও যদি ক্লাসরুমে ঢুকতো কেউ না কেউ তো দেখে ফেলতো তখন সারা ভার্সিটি হতো ব্যাপারটা,নিশ্চয় অন্য কাউকে দিয়ে আমার ব্যাগে রেখেছে,এত ঢং না করে তখন দিয়ে দিলেই ঝামেলা চুকে যেতো
তুমি হয়ত ভাবছো তখন কেন দিই নাই,এর কারন হলো আমি রহস্য একটার উত্তর বের করার জন্য আমি তোমার থেকে ২০টাকা চেয়েছি,তুমি বললা ২০টাকা দিবে না দুল আমার কাছেই থাক এর মানে তোমার হাতে টাকা নেই,এবার তোমার বাসা পর্যন্ত আমি পৌঁছে যাবো,রহস্য ভেদ করতে বেশ লাগে😎
আহানা খাটে বসে কানের দুলগুলো হাতে নিয়ে তাকিয়ে আছে,বিক্রি করা জিনিস আবার ফেরত এসে গেলো,লাভ কি,আমার চাল দরকার হলে আবার বিক্রি করে দিব আমি😒
শান্ত একটা বলপয়েন্ট নিয়ে বসে আছে,এই মেয়েটার বাবা কি চাকরি করে না??মেয়ের একটা কানের দুল কেনার সামর্থ্য ও তার নেই?মেয়েকে এতগুলো টিউশনি করে টাকা ইনকাম করতে হয়
ধুর আমিও না,কার জন্য এত ভাবতেসি,যে কিনা আমাকে চড় মেরেছিল?!!উফ শান্ত এসব ভাবা বাদ দে
আহানা দাঁত কেলিয়ে বসে আছে,পিউর মায়ের একটা রেসিপি আজ সে ফলো করেছে,কাঁচামরিচ বেটে পেঁয়াজ দিয়ে মেখে ভাজবে,তারপর সেটা ২দিন ধরে খাবে,এটা ভেবে তার মন আজ খুশির আলমারি হয়ে আছে
পেঁয়াজকে কেটে কুচিকুচি করে কাঁচামরিচ বেটে সেটার সাথে মিশিয়ে বসে রইলো,পিউর মাকে দেখলাম সাথে রসুন ও দিচ্ছিলো,এখন আমি রসুন পাবো কই

আহানা সারা বাসা তন্নতন্ন করে খুঁজে খাটের নিচ থেকে রসুনের একটা কোয়া পেয়ে লাফাতে লাফাতে রান্নাঘরে গিয়ে সেটা কুচিকুচি করে কাটলো তারপর মেখে নিলো,পিউর মা তো তেল দিয়ে ভেজেছিল,আমি তেল দিয়ে ভাজবো?না না,তেল শেষ দেওয়া ঠিক না,আচ্ছা একটুখানি তেল দিই
তেল দিয়ে না ভাজলে গন্ধ আসবে ঝাঁঝ ও আসবে পরে পানি খেয়েই পেট পুরাতে হবে,তেল একটু দিয়ে ভেজে ২ভাগ করে নিলো সে
এক ভাগ কালকের জন্য রেখে বাকিটা নিয়ে বসলো,খেতে ঝাল তবে বেশ লেগেছে,রোজ রোজ একি খাবারের চেয়ে এটা বেটার

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৯+১০

পরেরদিন আবার ভোরে রেডি হয়ে ছুটলো আহানা,গন্তব্য মিষ্টিদের বাসা,ওদের বাসায় এসে লিফটে উঠে ভাবতে লাগলো ঐ বাঁদরটার সাথে যেনো দেখা না হয়
লিফট থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে এগোনোর জন্য এক পা রাখতেই শান্ত সামনে এসে পড়লো,পরনে জগিং স্যুট
শান্ত আহানাকে না চেনার ভান করে চলে গেলো
ওমা!এই ছেলেটার মাঝে মাঝে কি হয় কে জানে
আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে শান্তর চলে যাওয়া দেখতেসে

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩+১৪