প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৩+২৪
Afnan Lara
ইনজেকশান দেওয়া শেষে ডাক্তার হাসতে হাসতে চলে গেলেন শান্তর অবস্থা দেখে
শান্ত আহানাকে ঝাঁকালো তাও ও চোখ খুলছে না দেখে আরিফ আঙ্কেলের দিকে তাকিয়ে বললো ওকে বিছানায় শোয়াতে হবে
ওর বাসার এড্রেস জানেন আপনি?আমি তাহলে ওকে ওর বাসায় দিয়ে আসবো
আরিফ আঙ্কেল শান্তর কথা শুনে চুপ হয়ে গেলেন তারপর বললেন ওর তো বাসা এটাই
এটাই মানে?আরে আমি বললাম ওর মা বাবার বাসার কথা,সেটা কোথায় জানেন আপনি?
বাবা আমি তো এটাও জানি না ওর মা বাবা কে,আমি শুধু এটা জানি আহানা এই আশ্রমের অনাথ বাচ্চাদের মধ্যে একজন ছিল,যাকে সালেহা আপা খুব আদর করতেন অন্য অনাথদের মতো করে
আহানাকেও তিনি পড়িয়েছিলেন,তারপর আপার মৃত্যুর পর আহানা এখান থেকে চলে যায়,চলে যায় বলতে যেতে বাধ্য হয় আর কি,তুমি তো জানোই ১৮বছর পূর্ণ হলে এখানে থাকা যায় না
শান্ত বিস্মিত হয়ে আরিফ উদ্দিনের দিকে চেয়ে আছে
তার মানে আহানা!আর আমি ওকে বললাম ও বুঝবে না বাবা মা না থাকার কষ্ট
শান্ত আহানার দিকে তাকিয়ে চুপ করে ওকে কোলে তুলে দাঁড়ালো
আশ্রমের একটা ভালো রুমে নিয়ে ওকে বিছানায় রেখে বেরিয়ে আসলো
হাত দিয়ে চুল টেনে চোখ বন্ধ করে নিজেকে কনট্রোল করার চেষ্টা করছে সে
আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল,যার বাবা মা থাকে সে একা কেন চাকরি করে ভাত নুন খেয়ে জীবন চালাবে
এখন সব স্পষ্ট হয়ে গেছে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বাবা তুমি আহানাকে চিনো?
হুম,শুনুন ওর ঠিকমত খেয়াল রাখবেন,আমি যে রুমে রেখেছি ও যেন সে রুমেই থাকে,অন্য কমন রুমে যেতে বলবেন না,আর আপনি যেটা খান সেটা ওকেও খাওয়াবেন,আমি এখন যাই,ডাক্তার ওকে যে ঔষধ দিয়েছে সেটা কিনতে যাচ্ছি,৮টা ৯টার দিকে এসে একবার দেখে যাবো,রহিমা খালাকে বলবেন ওর খেয়াল রাখতে,আর হ্যাঁ বাচ্চাদের আপাতত ঐ পুকুরে যেতে মানা করবেন,আমি কাল লোক এনে পুকুরের আগাছা পরিষ্কার করাবো
আচ্ছা বাবা
শান্ত আহানার মুখের দিকে একবার চেয়ে চলে গেলো
বাসায় ফিরতেই বাবা বললেন কিরে তুই কই ছিলি?আশ্রমে নাকি কাকে সাপে কামড় দিয়েছে?
হুম,এখন ঠিক আছে,সাপটা বিষাক্ত ছিল না
মিতুর বাবা!আপনি কেন এখনও হুদাই আশ্রমটা চালাচ্ছেন আমি বুঝতেসি না,ওটা বিক্রি করে জমিটাতে চাষাবাদ করলেও ভালো টাকা উপার্জন হবে
কি বলতেসো তুমি?? অনাথ বাচ্চাগুলোর কি হবে?
যেখান থেকে এসেছে সেখানে চলে যাবে
ব্যাস মা!এটা তোমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি না! এটা আমার মায়ের নিজের,আমার মায়ের এটা,কেউ চোখ তুলেও তাকাবে না,আমার মায়ের বেলায় আমি কারোর কোনো কথা সহ্য করবো না!অন্য সব নিয়ে যা খুশি তাই করো তোমরা
কিন্তু আমার মায়ের সাথে সংযুক্ত কোনো কিছুতেই কেউ নজর দিবা না,বিক্রি তো দূরে থাক
কথা শেষ করে শান্ত নিজের রুমে চলে গেলো
দেখলে তো?একেই বলে পেটের ছেলে আর পরের ছেলের তফাৎ,তুমি কিছুই বললে না??আমাকে এত কথা শুনিয়ে গেলো
কি এমন মহাপাপের কথা বলেছি আমি?যেটাতে কোনো লাভ হয় না সেটা রেখে পালন করে কি লাভ?অনাথ এদের রেখে ফ্রিতে খাইয়ে দাইয়ে কি লাভ??
তাও তো আশ্রমটা ভেঙ্গে ফেললে সেই জমিতে লোক ধরিয়ে চাষাবাদ করিয়ে অনেক টাকা পাওয়া যাবে,টাকাটা তো আমাদেরই কাজে লাগবে
রেণু!চুপ করো,আশ্রমটা শান্তির নামে দলিল করা,শান্তির অবর্তমানে এটা এখন শান্তর নামে হয়ে গেছে যেদিন শান্তর ১৮বছর পূর্ন হয়েছে সেদিনই
শান্তর অনুমতি ছাড়া কিছু করলে পুলিশ ধরবে তোমাকে, আর শান্ত যখন না করে দিয়েছে তুমি নাক গলাচ্ছো কেন?
তোমার আর মিতুর নামে কি আমি সম্পত্তি কম লিখে দিয়েছি??
তো?আমার সায়ন?ও কি তোমার ছেলে না?
না আমার ছেলে না,ওর সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই তাও তো ওকে আমি মিতুর পরিমান সম্পত্তি লিখিত ভাবে দিয়েছি তোমার আকুতিতে
খোঁচা দিচ্ছো?
রোজ রোজ এসব করে,এসবের ভয়ে আমি ঢাকা থেকে আসতে চাই না এখানে
উফ!!
শান্ত আলমারি থেকে আরেকটা জ্যাকেট হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে
আহানার জ্ঞান ফিরতেই লাফ দিয়ে উঠে বসলো,পায়ের দিকে তাকালো,লাল হয়ে আছে,সব মনে পড়তেই কেঁপে উঠলো ভয়ে
কপালের ঘাম মুছে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওড়না নেই,শান্তর জ্যাকেট
এটা তো!আমার ওড়না কই
আহানা হাঁটুর উপর থেকে পাজামা টেনে দেখলো ওড়নার ছেঁড়া টুকরা দিয়ে পা বাঁধা
উফ এই লোকটাও না,আমরা নতুন জামার ওড়না ছিঁড়ে ফেললো,এবার আমি কি পরবো জামার সাথে,বেয়াদব কোথাকার!
আহানা বিছানা থেকে নামতেই দেখলো আরিফ উদ্দিন সালেহা বেগমের কবরের উপর থেকে পাতা সরাচ্ছেন
আহানা এগিয়ে গেলো সেদিকে
আরে আহানা?তোমার শরীর কেমন এখন?
ভালো
আরিফ উদ্দিন আবার নিজের কাজে মন দিলেন
একটা প্রশ্ন করবো?
হুম বলো
আমাকে এই আশ্রমে কে রেখে গিয়েছিল বলবেন?
কথাটা শুনে আরিফ উদ্দিন মুখটা ফ্যাকাসে করে ফেললেন তারপর আবারও কাজে মন দিলেন
বলুন না,আমি জানতে চাই,আমার মা বাবা কে ছিল?
মা রে,আমি চাই না তুই কষ্ট পা,আমাকে জিজ্ঞেস করিস না
প্লিস বলুন না,আমি শুনতে চাই,আমি কষ্ট পাবো না,যার জীবনে কষ্টের সাগর আছে তাকে আর নদী পরিমান কষ্টের কি ভয় দেখান
আরিফ উদ্দিন পাতা হাত থেকে ফেলে চশমাটা খুলে গায়ের শার্ট দিয়ে মুছতে মুছতে গিয়ে উঠানে থাকা একটা চেয়ারে বসলেন
সেদিন আমি আশ্রমের ময়লা ফেলতে গিয়েছিলাম দূরের ডোবাটায়,ময়লা ফেলে ২কদম হাঁটতেই কান্নার আওয়াজে থেমে গিয়েছিলাম,সেখানে গিয়ে পাগলের মত ময়লা হাতাতে হাতাতে একটা পলিথিন পেলাম,ভিতরে রক্ত মাখা একটা শিশু,মেয়ে শিশু,কেঁদেই যাচ্ছে,দেখে মনে হয়েছে সে এই দুনিয়াতে এসেছে ১কি ২ঘন্টা হয়েছে মাত্র,তার মধ্যেই তাকে দুনিয়ার নিষ্ঠুরতম পরিস্থিতিতে ফেলে গেছে তার মা নয়ত বাবা
হয়ত অবৈধ আর নয়ত অন্য কোনো কারণ
আমি বাচ্চাটাকে নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে আশ্রমে ফিরে গিয়েছিলাম তখন আশ্রমে শান্তি মা এসেছিল বাচ্চাদের দেখতে উনি আমার হাতে বাচ্চাটাকে দেখে চমকে উঠলেন আমি কিছু বলার আগেই আমার হাত থেকে তাকে নিয়ে উনি ভিতরে চলে গেলেন,চিৎকার করে বললেন গরম পানি আনতে,বাচ্চাদের কেবিন থেকে দুধের ফিডার এনে তিনি সর্বপ্রথম বাচ্চাটার মুখে খাবার তুলেছিলেন,সেই বাচ্চাটা হলে তুমি
শান্তি মা ডাক্তার কবিরাজ দিয়ে তোমাকে সুস্থ করে ফেলছিলো, কারন সেদিন ময়লা ডোবায় থেকে তোমার অবস্থা অনেক জটিল ছিল,নাকে মুখে পানি ঢুকেছিল
শান্তি মা তোমার নাম দিয়েছিল আহানা ইয়াসমিন
তারা কয়েক বছরের জন্য সিলেটে চলে গেছিলো,শান্তর বাবার চাকরি ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার কারণে
শান্তি মা একজন ম্যানেজার আনলেন,তোমার সালেহা মা
উনাকে বলে গেছিলেন তোমাকে যেন আলাদা ভাবে আদর করে সবসময়,কারণ তোমার মুখটা ছিল চাঁদের টুকরো যেই দেখতো সেই মাশাল্লাহ বলে উঠতো
এমনকি সালেহাকে তোমার পড়াশুনার সব খরচের একটা মোটা অঙ্কের চেক দিয়ে গেছিলেন শান্তি মা
আহারে উনি যদি আজ তোমাকে দেখতো খুব খুশি হতো
সেবার তিনি শেষ বারের মতন তোমাকে দেখেছিল কারণ তোমার যখন ৮বছর তখনই তিনি সিলেট থেকে ফেরেন এবং শয্যাশায়ী রোগী হয়ে,ক্যানসার ধরা পড়ে তার
আগে তিনি প্রতিদিন বিকালে আশ্রম দেখতে আসতেন কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে একদিনও আসতে পারতেন না
এরপর মাত্র ১/২বছরই এই মরণব্যাধির সাথে লড়াই করে তিনি মারা যান,তোমার তখন মনে হয় ১০বছর ছিল
এখন উনি মারা যাওয়ার ১০টা বছর হয়ে গেছে
আহানা চোখ মুছতে মুছতে আশ্রম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো কাঁদতে কাঁদতে কিছুটা দ্রুতগতিতে হেঁটে যাচ্ছে সে,আরিফ আঙ্কেলের আর কোনো কথা শোনার ক্ষমতা নেই তার
তার মা বাবা তাকে এই পৃথিবীতে এনে ভুল করেছিল তাই তাকে ময়লা ফেলার ডোবায় ফেলে চলে গিয়েছিল
সেদিন মরে গেলে আজ এত কিছু হতো না, কেন মরলাম না আমি,কেন!!
আহানা হাঁটতে হাঁটতে শান্তর সাথে ধাক্কা খেলো
শান্ত ফোনের টর্চটা সামনে ধরতেই দেখলো আহানা
চোখের পানিতে সারা মুখ ভিজে আছে ওর
আহানা শান্তকে দেখে আবেগে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো
শান্ত কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না
আহানা চিৎকার করে কাঁদতেসে
আমমমাকে আমমমমমাকে আমমমমার!! মা বাবা ডোবায় ফেলে চলে গিয়েছিল,আমি তাদের জন্য দূর্ভাগ্য বয়ে এনেছিলাম
আমাকে ডোবায় ফেলে চলে গেছে তারা
পৃথিবীর আলো দেখার সাথে সাথে ফেলে গেছে আমাকে
আমি সেদিন মরি নি কেন শান্ত!কেন মরিনি,আল্লাহ আমাকে কেন এত কষ্ট দেখানোর জন্য বাঁচিয়ে রেখেছে,আমি আর কষ্ট নিতে পারছি না শান্ত,আমার দম বন্ধ হয়ে আসে
কেন আমি অনাথ! আমার মা বাবা থেকেও কেন নেই শান্ত?
আহানা কেঁপে কেঁপে কথা বলতেসে
শান্ত হাত উঠিয়ে আহানার পিঠের উপর রাখলো
সে কি বলবে,তার কিছু বলার নেই
আহানার চেখের পানিতে শান্তর জ্যাকেটের ভেতরের টি- শার্ট ভিজে গেছে
খালি মাটির রাস্তা,দুপাশে ঝাউ গাছ,ঘুটঘুটে অন্ধকার,শান্ত চুপ করে আছে, আহানা শান্তর জ্যাকেট টেনে ধরে আবারও কেঁদে দিলো এটা বলতে বলতে যে
আমি আপনার চেয়ে বেশি বুঝি মা বাবা হারার কষ্ট,আপনি তো মা হারিয়েছেন,আর আমি তো কোনোদিন তাদের চোখেই দেখিনি
আপনাকে তো আপনার মা নিজের হাতে খাইয়েও দিয়েছে
আর আমি?আমাকে কেউ কখনও নিজের হাতে খাইয়ে দেয়নি,হামাগুড়ি দিয়ে মাটিতে থেকেও খাবার নিয়ে খেয়েছি আমি! আরিফ আঙ্কেল বলেছে আমাকে
জানেন!আমাকে রক্ত মাখা শরীরে ফেলে গেছে,আমি এতটা খারাপ,আমি অবৈধ সন্তান
আহানা শান্তর জ্যাকেট ছেড়ে মাটিতে বসে পড়লো
হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো
২দিন ধরে ডাক্তার দিয়ে আমার প্রান বাঁচানো হয়েছিল,সেদিন মরে গেলে হতো না?সব চুকে যেতো না?
আহানা জোরে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে,আর কথা বলতে পারছে না সে
শান্ত দাঁড়িয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে
মানুষের দেখাশুনার জন্য মা থাকে,বাবা থাকে,ভাইবোন থাকে,খালা খালু,ফুফু ফুফা,মামা মামি আরও কত কে থাকে আর আমার জন্য কাউকে রাখেন নি আল্লাহ, আমাকে একা ঠেলে দিয়ে লাগিয়ে দিলো নিজের জন্য পরিশ্রম করে জীবন কাটাতে
অনাথদের যে আশ্রমেও সারাজীবন ঠাঁই হয় না,১৮বছর হতে না হতেই বাধ্য হয়েছি এখান থেকে চলে যেতে,সেদিন আমার হাতে ছিল ১০০টাকার একটা নোট
আমি সেই ১০০টাকা দিয়ে অর্ধেক হেঁটে আর অর্ধেক ট্রেনে করে ঢাকায় গিয়েছিলাম,সবাই বলেছিল ঢাকায় গেলে সব পাবো
সব তো পেয়েছি কিন্তু সব তো টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না,এটা তো কেউ বলেনি আমাকে
তারেক রহমানের বাসায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম আশ্রম থেকে বের হওয়ার ২দিন পর,এই ২দিন আমি ফুটপাতে ছিলাম,ফুটপাতের মানুষদের দেখেছিলাম,এক বেলা খেলে আরেক বেলায় পানির ঘটি নিয়ে বসে থাকতো তারা
আর আমি?আমি তো সেই ২দিন এক বেলাও খাবার পাইনি,তাদের থেকে পানি নিয়ে খেয়েছিলাম আমি
বাসা ভাড়া নিয়ে তারেক আঙ্কেলের পরিচিত একজনের মেয়েকে টিউশনি করানো শুরু করছিলাম
এর জন্য আমি তারেক রহমানের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো
তাই তার সমস্ত খোঁটা দেওয়া কথা আমি আজও মুখ বুজে সহ্য করি
advance টাকা নিয়ে তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম সেখান থেকে ১০০টাকা বাঁচিয়ে
ঐ ১০০টাকা দিয়ে আমি শুধু চাল আর নুন কিনেছিলাম
মীম আর কনিকা আপুর পাতিলে রান্না করে ভাত আর নুন দিয়েই আমার জীবন শুরু হয়েছে ২বছর আগে
ঢাকায় পা রেখে সেদিন নিজেকে আমার অনাথের চেয়েও অসহায় মনে হয়েছিল কারন আমার পাশে সেদিন আমার ছায়াও ছিল না,অন্ধকারে কার ছায়া তার সাথে থাকে?
আমি আসলেই বুঝি না,আমি কি দোষ করেছিলাম?আমার মা বাবার কি ক্ষতি হতো সেদিন আমাকে ডোবায় না ফেললে?আমি কি এতই জঘন্য কারণ নিয়ে জন্মেছিলাম?জন্ম হওয়ার সাথে সাথে একটা সন্তানের কাছে সব চেয়ে সুরক্ষিত স্থান হয় তার মায়ের কোল,তাহলে আমার বেলায় উল্টা হলো কেন?
আমার জন্য ডোবা ছিল কেন?ঠিক আছে ফেলে দিয়েছে কি দরকার ছিল আমাকে বাঁচিয়ে রাখার?এসব দেখানোর জন্য বাঁচিয়ে রেখেছে আমাকে?
একটা সন্তানের কাছে মা বাবা কি তারা নিজেরাও জানেন না,জানলে এভাবে ডোবায় ফেলতেন না
আমার অনেক নাম,আহানা,অপয়া,অভাগী,অলক্ষী
আর আজ আরেকটা নাম পেলাম “অবৈধ”
আত্নহত্যা মহাপাপ না হলে আমি এই জীবনের মায়া আরও আগেই ত্যাগ করতাম
আমি আর পারছি না এত এত কিছু সহ্য করতে,আমিও তো মানুষ!
আমার সাথেই কেন এমন হতে গেলো?
শান্ত হাতের পিঠ দিয়ে মুখটা মুছে নিচু হয়ে আহানার হাত টেনে ওকে মাটি থেকে উঠালো
আহানা নিজেকে সামলাও
আহানা কান্না থামিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে গিয়েও পারলো না,পড়ে যাচ্ছে বারবার
শান্ত আহানার হাত ছাড়েনি এখনও,পিঠের উপর দিয়ে হাত নিয়ে ওকে শক্ত করে ধরলো
আহানা আর শান্ত চুপচাপ হেঁটে চলেছে,দুজনের একজনের মুখেও কোনো কথা নেই
আশ্রমে এসে শান্ত আহানাকে সেই রুমে নিয়ে আসলো,টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি এনে আহানার দিকে বাড়িয়ে ধরলো
আহানা পানির গ্লাসটা নিয়ে চুপ করে বসে আছে
শান্ত রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে আশ্রমের রান্নাঘর থেকে এক প্লেট খাবার নিয়ে আসলো
আহানা পানি খেয়ে এখনও কাঁদছে
শান্ত চেয়ার টেনে ওর সামনে বরাবর বসলো,ভাতের লোকমা বানাতে বানাতে বললো যখন আমি কাঁদতাম কিছু খেতে চাইতাম না তখন আমার মা আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিতো
তুমি বলেছিলা তোমাকে কেউ নিজের হাতে খাইয়ে দেয়নি,চলো আজ আমি খাইয়ে দিব তোমাকে
শান্ত আহানার মুখের সামনে লোকমা ধরলো
আহানা চোখ মুছে বললো নাহ,দরকার নেই,আমি নিজে খেতে পারবো
তুমি নিজের হাতে খেতে গেলে কম খাবা,আমি তোমাকে বেশি করে খাইয়ে দিব
শান্ত আহানার মুখে লোকমাটা দিয়ে দিলো
আরিফ আঙ্কেল দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ওদের দেখছে,শান্ত একেবারে ওর মায়ের মত হয়েছে,ওর মায়ের ও অন্যের কষ্ট সহ্য হতো না,সবাইকে এমনভাবে ভালোবাসতেন যেন সবাই তার আপন
আপনার জ্যাকেটটা!
রেখে দাও,ঢাকায় ফিরলে দিও না হয়,আর তোমার ওড়না তো আমি ছিঁড়ে ফেলসিলাম
আমার কাছে আরেকটা জামা আছে,তার ওড়না পরবো আপাতত
ঠিক আছে
শান্ত আহানাকে পুরো খাবার খাইয়ে ঔষুধ খাইয়ে ওকে ঘুমাতে বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো
অনেক অনেক কান্না করার ফলে আহানা বালিশে মাথা রাখতেই ঘুম এসে গেলো তার
শান্ত আস্তে করে আবার রুমে এসে লাইটটা অফ করে চলে গেলো
আঙ্কেল আমি আসি,কাল তো ঈদ,কাল আবার দেখা হবে নামাজের সময়
আচ্ছা বাবা
শান্ত চলে গেলো বাসার দিকে,বাসায় ফিরে দেখলো সায়ন ডাইনিং এ বসে খাচ্ছে
বাবা টিভি দেখতেছেন,শান্তকে দেখে ওকে টেনে এনে ডাইনিং এ বসালো
মুরগির লেগ পিসটা শান্তর খুব প্রিয় আর শান্তর বাবারও
শান্তর মা সবসময় একটা মুরগী রাঁধলে লেগ পিস ২টো শান্ত আর তার বাবাকে দিতেন
শান্ত চোখ বন্ধ করে স্মৃতি মনে করে মুচকি হেসে চোখ খুলে দেখলো ওর পাতে মুরগীর অন্য একটা পিস,লেগ পিস বাবার পাতে আর আরেকটা সায়নের পাতে
বাবার এদিকে খেয়ালই নেই,তিনি আশ্রমের কথা বলতেছেন আর খাচ্ছেন
শান্ত চুপচাপ খেয়ে নিজের রুমে আসলো,খালা কফি দিয়ে গেছেন,শান্ত কফিটা নিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে আহানার কথা ভাবতে লাগলো
না জেনে ওকে এতদিন অনেক কষ্ট দিয়েছি,এখন তো মনে হয় আমি ছাড়া ওর পাশে দাঁড়ানোর মত কেউ নেই,আমার উচিত ওকে আগলে রাখা
কফি শেষ করে সিগারেট নিতেই দরজায় নক হলো
বাবা কোমড়ে হাত দিয়ে এসে শান্তর হাত থেকে সিগারেট নিয়ে নিলেন
তোকে মানা করি নাই খাবি না এসব
বাবা খেতে দাও না,এটা খেলে শরীর ভালো থাকে আমার
শান্ত?এটা কেনো ঔষুধ না ওকে?আমাকে বুঝাতে হবে না,রাত হয়েছে,শুয়ে পড়ো,কাল সকাল থেকে অনেক কাজ
বাবার কথা রক্ষার্থে শান্ত চাদর টেনে শুয়ে পড়লো
পরেরদিন সকাল সকাল পাঞ্জাবি পরে বাবার সাথে গেলো ঈদের নামাজ পড়তে
আহানা একটা ছোট বাচ্চার সাথে ছোটাছুটি করছে
দৌড়াতে দৌড়াতে একদম শান্তর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
শান্ত আশ্রমে এসে এতক্ষণ আহানার দুষ্টুমি দেখতেছিলো
পরনে তার সাদা পাঞ্জাবি,মাথায় টুপি,ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি,হাতে জায়নামাজ
আহানা অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে চলে যেতে নিতেই শান্ত দাঁড়াতে বললো
কি?
সালাম দিবে না?
আসসালামু আলাইকুম
ওয়ালাইকুম আসসালাম
নাও তোমার ঈদ সালামি
লাগবে না
আরে রাখো রাখো
শান্ত আহানার হাত টেনে ধরে ৫হাজার টাকা ওর হাতের ভিতর ঢুকিয়ে দিলো
আহানা শান্তর দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে হাতে থাকা টাকা গুলোর দিকে তাকালো
এত টাকা দিলেন কেন??লাগবে না
দিয়ে ফেলেছি কিছু করার নাই,বাই বাই
শান্ত নিমিষেই উধাও,আহানা টাকা গুলোর দিকে চেয়ে মুখ গোমড়া করে চলে গেলো
শান্ত পাঞ্জাবি চেঞ্জ করে হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট পরে নিয়ে দূরের মাঠটায় গোস্ত কাটতে বসে গেলো
আহানা আপু চলো না দেখবো
না আমার ভয় করে এসব দেখতে,তন্নি তুমি যাও
না তোমাকে নিয়েই যাব
তন্নি আহানার হাত টেনে মাঠের দিকে নিয়ে গেলো
এতসব মানুষের ভিড়ে আহানার চোখ পড়লো শান্তর উপর
শান্ত দাঁত কেলিয়ে গোস্ত কেটে যাচ্ছে হঠাৎ দক্ষিনা হাওয়ায় বুকটা কেঁপে উঠতেই সামনে তাকালো সে
আহানা চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে,হাসবে কি কাঁদবে বুঝতেসে না,হাফ প্যান্টে শান্তকে যা লাগছে না!!
শান্ত লজ্জায় লাল হয়ে আরেকদিকে ফিরে বসে পড়লো
আহানা ফিক করে হেসে দিয়ে চলে আসলো ওখান থেকে
বিকালের দিকে ছাদে এসে বসে আছে শান্ত,এখানে ভালো লাগতেছে না,এত এত সমস্যা এই বাড়িতে
এখন মনে হচ্ছে জব নিতেই হবে তাড়াতাড়ি করে,যাওয়ার সময় আহানাকে সাথে নিয়ে যাব,একা যেতে দিব না
নওশাদ ফোন দিয়ে বকাবকি শুরু করে দিসে শান্ত কেন সকাল থেকে একবারও ফোন করেনি,জানের দোস্ত না ছাই এসব বলে যাচ্ছে সে
শান্ত অনেক করে convince করলো ওকে এটাও বললো যে ঢাকায় ফিরে ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবে
আহানা তার সালেহা মায়ের কবরটা ভালো করে পরিষ্কার করে দিচ্ছে,কাল মৃত্যুবার্ষিকী উনার,আহানা নিজের হাতে রান্না করবে
সবাই প্লেট নিয়ে বসে গেছে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য
শান্ত পকেটে হাত ঢুকিয়ে এদিক ওদিক দেখে সব তদারকি করে যাচ্ছে
আহানার প্লেটটা ওর রুমে রাখা,সে গেছে হাত ধুতে
শান্ত উঁকি দিয়ে দেখলো প্লেটে অল্প গরুর গোস্ত আর আলু আর কিছু নেই
রহিমা খালাকে ডেকে আরেকবাটি গোশত এনে রাখলো পাশে তারপর চলে গেলো
আহানা হাত ধুয়ে এসে বললো ওমা এত গোস্ত আসলো কই থেকে
রহিমা খালা বলে গেছেন উপর পক্ষের কড়া আদেশে বেশি গোস্ত দেওয়া হয়েছে ওকে
উপর পক্ষ মানে?
রহিমা খালা মুচকি হেসে চলে গেলেন কিছু বললেন না
ওমা! এদের সবার হলো টা কি বুঝি না আমি!
আহানা বিকালের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সেই ডোবাটার কাছে আসলো
এটা এখন আর ডোবা নেই,পরিষ্কার হয়ে গেছে সব,ঘাট ও লাগানো হয়েছে
আহানা নিচে নেমে ঘাটে বসে ডোবাটার দিকে তাকিয়ে রইলো
কেউ যদি বলে তাকে আমি এই ডোবায় আবার ফেলতে পারি!😜
আহানা চমকে পিছনে তাকালো
শান্ত দাঁত কেলিয়ে ওর পাশে এসে বসলো
তো কি খবর ম্যাডাম?কি ভাবেন?
আপনি এখানে কি করেন?
আমার ইচ্ছা,তোমার কি?এটা তোমার ডোবা?
আপনি কি ঠিক করে কোনো কথাই বলতে পারেন না!
নাহ,যেমন তুমিও পারো না,কাল রেডি হয়ে থেকো,একসাথে ঢাকায় ফিরবো
আপনার মাথা ঠিক আছে?কাল সালেহা মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী, আমি কাল যেতে পারবো না
সেটা তো আমিও জানি,সারাদিন থেকে রাতে রওনা দিবো কেমন?
আমি?আপনার সাথে?ইমপসিবল
কেন?
শান্ত জ্যাকেট টেনে চোখ মেরে বললো আমাকে কি তোমার ভাল্লাগে না,অবশ্য রতনে রতন চিনে,তুমি আমাকে দেখে ক্রাশিত হবেই বা কেন
হুহ!!যান আপনি,আমি একা যেতে পারবো,এসেছিও একা
ওহ তাই?তোমার টিকেট আছে তো?ফিরতি টিকেট?
আহানা চোখ বড় করে ভাবলো সত্যি তো,আমার কাছে তো ফিরতি টিকেট নেই,আমি তো আসার সময় রিকুয়েস্ট করে একটা সিট পেয়েছিলান
কেউ যদি বলে তাকে আমি একটা টিকেটের ব্যবস্থা করে দিতে পারি
নো থ্যাংকস!
কথাটা বলে আহানা উঠে চলে গেলো
আরে দাঁড়াও,কিভাবে ঢাকা ফিরবে সেটা তো বলো
আপনার জানার দরকার নেই
উফ!এই মেয়েটা এত নাছোড়বান্দা!!
শান্ত পকেটে হাত ঢুকাতেই চমকে গেলো,পকেট থেকে বের করে দেখলো ৫হাজার টাকা,এগুলো তো আমি আহানাকে দিয়েছিলাম,আবার ফেরত দিলো?টাকা নিলে কি হয় আমি বুঝি না,সবসময় ফেরত দেয়,আর আমার পকেটে টাকা রাখলো কখন আমি তো টেরই পেলাম না
পরেরদিন ছোটখাটো আয়োজন শুরু হয়ে গেলো,আহানা নিজের হাতে রান্না করছে,শান্ত আশ্রমের বাচ্চাদের সাথে মজা করতেসে
আহানাকে সাহায্য করার জন্য রহিমা খালাও আছেন
শান্ত মাঝে মাঝে রান্নাঘরের দিকে এক পলক তাকায়
আহানা ওড়না কোমড়ে বেঁধে রাঁধতেসে মন দিয়ে,প্রতিবছর সালেহা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকীতে আল্লাহর ওয়াস্তে আশ্রমের সবার জন্য রান্না করা হয়,এবছর আহানা আছে বলে সে রাঁধতেসে
শান্ত মায়ের কবরটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বসে আছে হঠাৎ মনে হলো মা হাসতেসে ওর দিকে তাকিয়ে
শান্ত লুকিয়ে কিছু করলে মা যেমন করে হাসতো এখন তেমন করেই হাসলো
শান্ত চমকে এদিক ওদিক তাকালো মাকে আর দেখতে পেলো না,মাঝে মাঝে এরকম চোখের সামনে মাকে দেখতে পায় সে,মনের ভ্রম!
মা এমন করে হাসলো কেন,আমি তো কিছুু লুকায় নাই
নাকি আহানাকে নিয়ে আমার সাথে মজা করলো
উফ মা তুমিও না,তুমি তো জানো আহানা আমার টাইপের না,আমার মাথায় ও রাগ চেপে থাকে আর ওর মাথায় ও, ওর সাথে কি আমাকে মানাবে,হুদাই হাসলা আর আমাকেও লজ্জায় ফেললা
রান্না শেষে সবাই বসে পড়লো খাওয়ার জন্য
শান্ত একটা প্লেট নিয়ে বাচ্চাদের পাশে বসে গেলো
আহানা নিজের হাতে সবাইকে খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে
শান্তর সামনে এসে এক চামচ দিতেই ও বললো ঝাল বেশি দাওনি তো?
বাচ্চাদের জন্য আলাদা করে কম ঝাল দিয়ে বানানো হয়েছে
আহানা কথাটা বলে চলে গেলো
শান্ত ভাবনায় পড়ে গেলো,আহানা এটা কি বললো?আমি বাচ্চা?ও নিজেই তো বাচ্চা,আমি তো ওর থেকে ৫/৬বছরের বড় আর ও আমাকে বলে আমি বাচ্চা,দেখাবো মজা,আজ পুকুরে চুবাই ওর কটু কথার জেদ উঠাবো আমি
আহানা নিজেও খেতে বসলো সবাইকে খেতে দিয়ে
খাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো,দুপুরের ঘুম
বাইরে কড়া রোদ!
আহানা মগে করে পানি নিয়ে বের হলো মুখ ধোয়ার জন্য,রান্না করার সময় ধোঁয়া চোখে মুখে ঢুকে এখন চোখ খচখচ করছে
মুখে পানি দেওয়ার আগেই শান্ত এসে দাঁড়ালো ওর সামনে
কি?
আমি বাচ্চা?
কে বললো?তাই নাকি?
চুপ!তোমাকে বলসি না আমাকে নিয়ে মজা করবা না,ঐবার তো ছাদ থেকে ফেলবো বলসিলাম এবার পুকুরে ফেলে দিবো
শান্ত আহানার হাত মুঠো করে ধরতেই আহানা ভয়ে হাতের মগের সব পানি শান্তর গায়ে মেরে দিলো
শান্ত চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে আহানার হাত ছেড়ে দিয়ে হাত দিয়ে মুখ মুছতেছে
আহানা এক দৌড়ে পালালো
আজ তোমাকে কে বাঁচাবে আহানা!
শান্ত ও দৌড় দিলো আহানা দৌড়াতে দৌড়াতে অনেক দূর চলে এসেছে,আশ্রমের বাইরে
আশেপাশে শান্তকে দেখা যাচ্ছে না,উফ বাঁচলাম!
আহানা একটু এগিয়ে দেখতে যেতেই কেউ একজন পিছন থেকে হাত টেনে ওকে কাছে নিয়ে আসলো
আআপপপপনি এখানে?
হুম,আমি,তুমি আমাকে পানি দিয়ে ভিজাইসো না,আমিও ভিজাবো
শান্ত ক্ষেতের কাছে আহানাকে টেনে নিয়ে গেলো
এই প্লিস হাত ছাড়ুন,আর কখনও এমন করবো না সত্যি
শান্ত দাঁত কেলিয়ে ক্ষেতে থাকা মটর চালু করে দিল
আহানা নিজেকে ছাড়ানোর সব চেষ্টা করতেসে
শান্ত এত শক্ত করে আহানাকে ধরেছে যে নিজেকে ছাড়ানো টা তার সাধ্যে নেই
শান্ত আহানাকে টেনে মটরের সামনে দুম করে ফেললো
আহানা হাত দিয়ে মাথা ঢেকে বসে আছে,পানিতে ভিজে অবস্থা টইটুম্বুর
প্লিস পানি বন্ধ করেন,আর আপনাকে ভিজাবো না সরি
নাহ,আমার রাগ যাওয়ার পর্যন্ত ভিজো
শান্ত ক্ষেতে নেমে একটা খুঁটির সাথে খড়কুটো দিয়ে আহানার হাত বেঁধে দিয়ে আবার উঠে গেলো
পাশের একটা আমগাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে
আহানা ব্রু কুঁচকে ওর দিকে চেয়ে হাত খোলার চেষ্টা করছে খুঁটিটা থেকে
চড়ের শোধ ও নেওয়া হয়ে যাবে আজ😎
আপনি খুব খারাপ একটা লোক!!খুব খারাপ,আপনাকে আমি ভালো মনে করেছিলাম
হ্যাঁ তাই তো আমাকে মগের পানি দিয়ে ভিজাই দিসিলা??
আপনি বলছিলেন পুকুরে চুবাবেন তাই
তো?সত্যি কি পুকুরে চুবাইতাম?আমি তো জানি তুমি সাঁতার জানো না
বেশি বক বক না করে পানি বন্ধ করেন,আমার মাথা ধরছে
একসাথে চা খাবো,মাথা ব্যাথা চলে যাবে
শেষে উপায় না পেয়ে আহানা বাচ্চাদের মতো কান্নাকাটি শুরু করে দিসে হাত পা ছড়িয়ে কাদায় ছড়াছড়ি করে ফেলতেসে
শান্তর এবার দয়া হলো উঠে এসে পানি বন্ধ করে আহানার দিকে হাত বাড়িয়ে ধরলো
নাও উঠো,তোমার শাস্তি শেষ
আহানা চোখ রাঙিয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে মুচকি হেসে দিয়ে শান্তর হাত ধরে টান দিয়ে নিচে ফেললো ওকে,আহানার হাতের বাঁধনও খুলে গেছে ততক্ষণে
আল্লাহ! আমার নাক
হিহি😁
বেয়াদব মেয়ে কোথাকার,নাক মনে হয় ফেটে গেছে আমার,উহু!!!!
আহানা নিচের থেকে হাত দিয়ে কাদা নিয়ে শান্তর সারা মুখে মাখিয়ে দিলো হাসতে হাসতে
ছিঃ,এই এসব কি করতেসো,থামো,ইয়াক!
আর ভিজাবেন আমাকে?
আহানা উঠে গিয়ে মটর আবার চালু করো দিলো,তারপর এক দৌড়ে পালাতে যেতে নিতেই শান্ত উঠে এসে আবার ওর হাত মুঠো করে ধরে ফেললো
আমাকে কাদা লাগাইসো,আমি তোমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দিব?
শান্ত আহানার হাত দুটো চেপে ধরে ওকে দুম করে কাদার সাথে লাগিয়ে ধরলো
কি হলো মিস আহানা,চিৎকার করবেন না
আহানা শান্তর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে,শান্তর সাথে পেরে উঠছে না,কি বলবে সেটাও জানে না
শেষে শান্ত হেসে দিয়ে হাত ছেড়ে দিলো ওর,দুজনে কাদায় পড়ে ভূত হয়ে গেছে,পানিতে আবার সব কাদা চলে গেছে গায়ের থেকে
হইসে আজকের জন্য ফাইট অফ,যাও জামা চেঞ্জ করে আসো, আমিও যাই
শান্ত চুল ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলো
আহানার মন চাচ্ছে হাত পা ছড়িয়ে কাঁদা শুরু করে দিতে,এই ছেলেটা এত বেয়াদব কেন!
সে আশ্রমে ফিরে আসতেই দেখলো তন্নি সহ আরও অনেকে কোমড়ে হাত দিয়ে ওর দিকে চেয়ে আছে
আহানা হালকা কেশে বললো ঐ আসলে পুকুরে পড়ে গেসিলাম
তাই নাকি?তা কে বাঁচালো তোমাকে?তুমি তো সাঁতার জানো না
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২১+২২
নাহ,কিনারায় পড়ে গেসিলাম তো তাই নিজেই উঠতে পেরেছি
আহানা তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে ফেললো
ওদের কথার জবাব দেওয়ার মুড নাই,মাথা রাগে চড়গ গাছ হয়ে আছে তার উপর এত মিথ্যা কথা সরাসরি বলা টাফ ব্যাপার
