প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪৭+৪৮
Afnan Lara
শান্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে
মন খারাপ করে বললো মা??দেখতেসো তো?
তুমি বলে দাও কি করবো আমি,এই মেয়েটা আমার টাইপের না তাও কেন ওর কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না,কেন ওকে না দেখলে আমার বুকটা পুড়ে যায়,আমি ওকে ভালোবাসি না মা,বাসি না কিন্তু।।।
ভাবতে ভাবতে ঔষুধ নিয়ে বাসায় ফিরে আসলো সে
দরজায় নক করলো ৩/৪বার কিন্তু আহানা দরজা খুলতেসে না,বাধ্য হয়ে চাবি দিয়েই দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো সে
বেডরুমে খাটের পাশে ফ্লোরে বসে আছে আহানা,দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে সে
শান্ত হাঁটু ভেঙ্গে নিচে বসে আহানার কপালে হাত দিলো তারপর গলায়,জ্বর তো জ্বরের জায়গাতেই আছে
ওকে ছেড়ে যাওয়ার শক্তি/মনোবল দুটোই আসতেসে না তাও যেতে হবে
শান্ত আহানাকে নাড়িয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললো
আহানা চোখ ডলতে ডলতে বললো ঔষুধ রেখে যান আমি খেয়ে নিব
না,তুমি খাবে না আমি জানি,আর নিচে বসেছো কেন?জানো না ফ্লোর অনেক ঠাণ্ডা? বিছানায় এসে বসো
না,আমি আমার টাকার কেনা বিছানায় শুবো,অন্য কারোর না
মেজাজ গরম করবা না একদম!!
শান্ত আহানার হাত টেনে বিছানায় এনে বসালো,রান্নাঘর থেকে ভাত তরকারি প্লেটে নিয়ে আহানার পাশে বসে লোকমা তুলে ওর মুখের সামনে ধরলো
আহানা বাধ্য হয়ে খাচ্ছে কারণ সে জানে শান্ত ওর কথা শুনার মতো ছেলে না
না খেলে শান্ত ও এখান থেকে নড়বে না
ঔষুধ খাওয়া শেষে শান্ত বাই বলে চলে গেলো
আহানা দরজা লাগিয়ে ছিটকিনিও লাগিয়ে নিলো,শান্তকে বিশ্বাস নাই,পরে যদি আবার আসে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শান্ত তার বাসায় ফিরে বারান্দাতে দাঁড়িয়ে আহানার বাসার দিকে চেয়ে আছে সেই কখন থেকে
চোখে এক বিন্দু ঘুম ও নেই তার,বারবার একটা কথাই মাথায় ঘুরপাক করতেসে যে আহানা ঠিক আছে তো?
ওর কিছু দরকার হয়নি তো!
সিগারেট আজ ১২টার জায়গায় ১৫টা খাওয়া হয়ে গেছে
নাহ আর এভাবে থাকা সম্ভব না
শান্ত বিছানা থেকে টিশার্টটা নিয়ে পরে নিলো তারপর জ্যাকেটটা পরতে পরতে বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে
নওশাদ আর বাকি সবাই ঘুমাচ্ছে নাক ডেকে
শান্ত আহানাদের বাসার দোতলায় এসে লকে চাবি ঢুকিয়ে ঘুরালো তাও দরজা খুললো না,বুঝতে বাকি নেই যে আহানা ছিটকিনিও লাগিয়েছে
মন খারাপ করে শান্ত বাসা থেকে বেরিয়ে চলে যাওয়ার সময় বারান্দার দিকে চোখ পড়লো তার
সেই মইটা খুঁজে এনে বারান্দায় উঠে আসলো সে,এখন কথা হলো গিয়ে বারান্দার দরজাও লক
কি একটা ঝামেলা!
পরে শান্তর মনে পড়লো তার কাছে বাসার যে চাবিটা আছে তাতে বারান্দার এক্সট্রা চাবিও আছে
তাড়াতাড়ি পকেট থেকে চাবিটা নিয়ে বারান্দার দরজা ও খুললো সে,এটাতে আর ছিটকিনি লাগায়নি আহানা
ভিতরে এসে বেডরুমের দিকে গিয়ে দেখলো আহানা নিচে ফ্লোরে গুটিশুটি দিয়ে ঘুমাচ্ছে
এই মেয়েটা এত নাছোড়বান্দা!বিছানায় শুলে যেন টাকা দিতে হবে আমাকে
শান্ত কাছে এসে নিচে বসলো
আহানার কপালে হাত দিয়ে জ্বর চেক করলো,আগের থেকে একটু বেড়েছে,বাড়বেই তো
আহানা এরকম ঠাণ্ডা ফ্লোরে শুয়ে আছে,জ্বর তো কত জোরে বাড়বে!
শান্ত আহানাকে আস্তে করে কোলে তুলে নিলো
আহানা ঘুমের ঘোরে ওর জ্যাকেট মুঠো করে ধরে বললো শান্ত এসেছো!ভালো করেছো,আর যেও না কোনোদিন
শান্ত আহানাকে বিছানায় নিয়ে গেলো,চাদরটা টান দিয়ে ওর গায়ে জড়িয়ে দিলো
আহানা শান্তর হাত মুঠো করে ধরে ঘুমাচ্ছে,আর বিড়বিড় করে কিসব বলে যাচ্ছে
শান্ত আহানার পাশে বসে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো
কপালে পোটি দেওয়া উচিত,তবে পোটি দিতে গেলে ও জেগে যাবে আর গোটা মহল্লা মাথায় করবে,আমাকে তো বাসা থেকে বেরই করে দিবে
রাত ২:৩০বেজে গেছে
শান্ত কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে,চোখ খুলে দেখলো তার মাথা আহানার মাথার সাথে লেগে আছে আর আহানার হাতটা ওর বুকের উপর
ঘুমের ঘোরে আহানা ওকে কতটা কাছে টেনে নিয়েছে
শান্ত সাথে সাথে সরে গেছে
আহানা নড়ে উঠে আরেকদিকে ফিরে গেলো
চাদরটা ভালো করে ওর গায়ে টেনে দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে চলে গেলো শান্ত তার বাসার দিকে
আর রিস্ক নেওয়া ঠিক হবে না,আহানা কাঁচা গিলেই ফেলবে আমাকে এখন এসময়ে এখানে দেখলে
বারান্দা দিয়ে বেরিয়ে মই দিয়ে নিচে নেমে চলে গেলো সে
বাসায় ফিরে এপাশ ওপাশ করে ১/২ঘন্টা ঘুমালো এর বেশি না
ভোরে ঘুম থেকে উঠে আহানার বাসায় যাওয়ার সময় পড়লো সূর্যর সামনে
ওকে মর্নিং ওয়াকের বাহানা দিয়ে কোনোমতে আহানার বাসায় চলে আসলো সে
এবারও সেই বারান্দা দিয়েই বাসায় ঢুকলো
৬টা বাজে তখন,আহানা এখনও ঘুমাচ্ছে,শান্ত আসার সময় মিষ্টির মাকে বলে দিয়েছে আহানার শরীর খারাপ সে আজ আসতে পারবে না
রুমে এসে আহানার পাশে বসলো সে,আহানাকে দেখে যেন মনে শান্তি পেলো
জানালা দিয়ে বাইরের সিগ্ধ আলো আহানার সারা গায়ে এসে পড়েছে,এটাকে বলে ভোর বেলার আলো,রোদের আলো নয়
এই আলোয় একটা মিষ্টি ভালো লাগা কাজ করে তাই হয়ত মানুষ এসময়টায় হাঁটতে বের হয়
আহানা হাত পা ছড়িয়ে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন, তার সামনে বসে কেউ একজন ওকে খুব নিখুঁত ভাবে দেখে যাচ্ছে তা তার অজানা
শান্ত আহানার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে,লিপস্টিক নেই,নির্জীব ঠোঁটজোড়া,উসকো খুসকো
তাও শান্তর কাছে এই ঠোঁটটাই সবচাইতে বেশি সুন্দর লাগতেছে
আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটটা স্পর্শ করলো সে
হাত কাঁপতেসে অনবরত,কিসব ভেবে এক ঝটকায় হাত সরিয়ে ফেললো সে
উঠে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো
৭টার দিকে আহানা চোখ খুলে নিজেকে বিছানায় পেয়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়লো
আমি তো ফ্লোরে শুয়েছিলাম তাহলে এখানে এলাম কি করে?
বিছানা থেকে নেমে গিয়ে মেইন দরজার কাছে আসলো সে
মেইন দরজা ও তো বন্ধ,তার মানে শান্ত আসেনি
আহানা মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বারান্দার দিকে তাকালো একবার,বারান্দার দরজা খোলা
দৌড়ে বারান্দায় এসে নিচে তাকিয়ে দেখলো একটা মই,তার মানে শান্ত?
আহানা?এত খুঁজতে হবে না আমি রান্নাঘরে
আপনি?এখানে এলেন কি করে আমি তো বারান্দার দরজা লক করেছিলাম
আমার কাছে বারান্দার চাবি ও ছিলো
আর আমি তো ফ্লোরে শুয়েছিলাম,আপনি আমাকে বিছানায় এনেছেন?
না তো,তুমি বিছানায় শুয়ে ছিলে😁
মিথ্যা বলেন কেন?
মিথ্যা কেন বলবো,তোমাকে টাচ করার চেয়েও আমার কাছে আরও অনেক ভালো কাজ আছে বুঝছো
আহানা রান্নাঘরে এসে দেখলো শান্ত রুটি বানাচ্ছে
শান্ত আটা নিতে নিতে বললো আমি মিষ্টির আম্মুর সাথে কথা বলে নিয়েছি,আজ পড়াতে হবে না,আজ তুমি রেস্ট নাও
এরকম পানি দিসেন কেন?এত পাতলা দিয়ে তো কাই হবে না
আরও আটা দিন
না,আমি এটা ইউটিউব দেখে শিখেছি,তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো
আবার ইউটিউব?আমার আর খেতে হবে না তাহলে
আপনি যান আমি বানাবো, সরুন!
নাহ,ডিল ইজ ডিল,কাল তুমি নাস্তা বানিয়েছো আজ আমি
যাও এখন
আহানা বিরক্ত হয়ে চলে গেলো
শান্ত ঐ পাতলা আবরণটা তাওয়ায় ঢেলে দিলো
বাহ সিম্পল রুটি রেডি,বেলতেও হয়নি, গোল ও হয়ে গেসে,শান্ত ইউ আর গ্রেট!😎
আহানা ফ্লোরে বসে রান্নাঘরের দিকে চেয়ে আছে
শান্ত নাস্তা বানিয়ে বাইরে এসে দেখলো আহানা নিচে বসে আছে
রেগে এক ধমক দিয়ে বললো তোমাকে যে বারবার বলি ঠাণ্ডা ফ্লোরে বসিও না কথা কানে যায় না তোমার?
আমি আপনার বিছানায় বসবো না,শুবো ও না
শান্ত খাবার বিছানায় নিয়ে রেখে ওর দিকেই আসতেসে জ্যাকেট খুলতে খুলতে
আহানা যেতে যেতে দেয়ালের সাথে লেগে গেলো
শান্ত জ্যাকেট খুলে আহানার গায়ে দিয়ে ওকে নিচ থেকে কোলে তুলে নিলো
এই আপনার সাহস তো কম না,ছাড়ুন আমায়,এটা কিরকম অসভ্যতামি,আপনি বলছেন আমাকে টাচ করবেন না কখনও
শান্ত যেন আহানার কোনো কথায় শুনতেসে না ওকে বিছানায় এনে নামালো
আমি বসবো না মানে বসবো না
আহানা বেড থেকে নিচে নেমে যেতে নিতেই শান্ত এবার ওর হাত টেনে হিঁছড়ে বেডের সাথে চেপে ধরলো
আপনি এমন করতেসেন কেন,আমি কান্না করবো এখন
শান্ত হাত চেপে ধরতে ধরতে বললো করো কান্না,আই ডোন্ট কেয়ার!
কথাটা বলে আহানার গায়ের ওড়নাটা টেনে নিয়ে নিলো সে,এরপর সেটা দিয়ে হাত বেঁধে দিলো খাটের পায়ার সাথে
আহানা চুপ করে শান্তর দিকে চেয়ে আছে
শান্ত খাবার নিয়ে ওর পাশে বসলো
শান্ত থেকে চোখ নামিয়ে রুটির দিকে তাকালো আহানা
রুটি দেখে ওর তো চোখ কপালে,যেমন গোল তেমনই সুন্দর
এভাবে তাকাতে হবে না হুহ!ইউটিউব দেখে যেমন সব উৎপাত করা যায় তেমনি মাঝে মাঝে পারফেক্ট ও করা যায়,নাও হা করো
খাবো না আমি,আমার হাতের বাঁধন খুলেন বলতেসি
খুলবো না,তুমি আমার একটা কথাও শুনতে চাও না,বাঁধবো না তো কি করবো আমি?চুপচাপ খাও তাহলে হাতের বাঁধন খুলে দিব
খাব না আমি!
আহানা নিজের দাঁত দিয়ে হাতের গিট্টু খুলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে
হঠাৎ বুকের ভেতর কেমন যেন করতেছে,সাথে সাথে ওড়না থেকে দাঁত উঠিয়ে মুখটা ঘুরালো সে,শান্ত ওর খুব কাছে এসে গেছে ততক্ষণে,এতটা কাছে এর আগে কখনও আসেনি
আহানা হতভম্ব হয়ে গেছে এমনটা দেখে
শান্ত ফিসফিস করে বললো খেয়ে নাও নাহলে কিছু বাকি রাখবো না যেটা বাঁধা থাকবে না
আহানা বললো ঠিক আছে,কিন্তু সে নিজের হাতে খাবে
শান্ত তাই হাতের বাঁধন খুলে দিলো
আহানা ব্রু কুঁচকে একটা রুটির অর্ধেক খেলো,আর পারবে না গিলতে,আর এক টুকরা খেলেই বমি হয়ে যাবে
আহানা ঔষুধ খেয়ে দুম করে শুয়ে পড়লো আবার
শান্ত রান্নাঘরে এসে চা বানাচ্ছে
ইউটিউব দেখে বানাচ্ছিলো হঠাৎ কল আসলো বাবার
বাবা নাকি একটা কাজে ঢাকায় এসেছে এখন শান্তর ফ্ল্যাটের দিকে আসতেসে,বারবার করে বলে দিয়েছে শান্ত যেন সময় করে আসে
শান্ত ঠিক আছে বলে ফোন পকেটে ঢুকালো
কি ব্যাপার বাবা কেন ডাকলো,কি এমন জরুরি কাজ! যে আমাকে সময় নিয়ে যেতে হবে?
চা নিয়ে এসে আহানাকে দিয়ে সাথে সাথে বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে
আহানা বুঝে উঠতে পারলো না শান্ত হুট করে এভাবে চলে গেলো কেন
শান্ত বাসায় ফিরে বুয়াকে দিয়ে পুরো ফ্ল্যাট গুছিয়ে নিলো
বাবা ৩০মিনিটের ভিতরেই বাসায় এসে পড়লো,তবে একা না সাথে এলিনা আর তার বাবা মা ও আসছে
শান্ত ওদের দিকে তাকিয়ে আন্দাজ করলো যে কি ঘটতে চলেছে
বাবা চায়ে চুমুক দিয়ে পুরো বাসাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন,হেসে বললেন কতদিন পর এসেছি এখানে
চা খেতে খেতে বললেন এলিনা আমাকে সব বলেছে ও যে তোকে ভালোবাসে,এবং তার বাবা মাও রাজি তবে এক শর্তে
সেটা হলো তোর একটা ভালো জব হওয়া লাগবে,তাই আমি তোকে আমার অফিসে বসিয়ে দিব তুই তোর temporary জবটা ছেড়ে দিস এখন
বিয়ে কদিনেই সম্পূর্ন হয়ে যাবে,ব্যস হয়ে গেলো
শান্ত চুপ করে থেকে বাবার হাত ধরে সবাইকে এক্সিউজ মি বলে বেরিয়ে আসলো করিডোরের দিকে
কি ব্যাপার?আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিস কেন?তোর কি বিয়েতে মত নেই?
না নেই,আমার মত থাকলে তো হতোই,তুমি উনাদের ডাকার আগে আমার সাথে একবার কথা বলে নিতে পারতা
এলিনা তোর ভালো বান্ধুবী,তাহলে কি সমস্যা? তুই কি অন্য কাউকে পছন্দ করিস নাকি?
বাবা চলো আমার সাথে
শান্ত বাবাকে নিয়ে সোজা আহানার বাসার সামনে আসলো
আহানাকে কল করে নিচে আসতে বললো
আহানা শান্তর বাবার কথা শুনে মাথায় ঘোমটা দিয়ে তাড়াতাড়ি করে নিচে নেমে আসলো
আসসালামু আলাইকুম
ওয়ালাইকুম আসসালাম
সালাম নিয়ে বাবা শান্তর দিকে তাকালেন
এই মেয়েটা কে??আর তুই আমাকে এখানে এনেছিস কেন?
বাবা ও হচ্ছে আহানা,আহানা ইয়াসমিন,মনে আছে তোমার?
বাবা কিছুক্ষন চুপ করে থেকে মনে করার চেষ্টা করলো তারপর চোখ বড় করে বললেন আহানা?তোমার মা যার ভরণপোষনের দায়িত্ব নিয়েছিল?
হ্যাঁ,এটাই সেই আহানা
বাবা চমকে আহানার দিকে তাকিয়ে আছেন
এরপর শান্ত যা বললো তার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না
শান্ত বললো আহানা ওর স্ত্রী
এসব কি বলতেছিস তুই শান্ত?
তোর স্ত্রী মানে?বিয়ে হলো কবে? আর কিভাবে?তুই আহানাকে পেলিই বা কোথায়?বিয়ে কেন করলি তাও আমাকে না জানিয়ে
শান্ত নিচের দিকে তাকিয়ে আছে
বাবা শান্তকে আপাতত আর কিছু বলবেন না ভেবে নিলেন কারণ বিয়ে হয়ে গেছে এখন চিল্লাইলেও লাভ নাই
এসব ভেবে তিনি আহানার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতেসেন
পরনে তার হালকা গোলাপি রঙের সুতির জামা,চোখে মুখে অসুস্থতা ফুটে উঠেছে
আহানাকে দেখলে রুপের ফুলকি না পড়লেও মায়ার ঠেলাঠেলিতে চোখ ফেরানো যায় না,মায়া জিনিসটা সৌন্দর্যকেও হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে
মুচকি হেসে হাত নিয়ে আহানার মাথায় রাখলেন তিনি
তারপর বললেন মা গিয়ে চা বানাও তো
দেখি আমার পুত্রবধূর হাতের চা কেমন
আহানা খুশি হয়ে চলে গেলো
শান্ত ভূত দেখার মতন বাবার দিকে তাকিয়ে আছে,মনে মনে ভাবতেসে মূহুর্তেই বাবা এমন বদলে গেলো কি করে
বাবা শান্তর কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটা ধরলেন
তা দেনমোহর কত দিয়েছিলি?
দদদদদশশ হহহাজাররর🤭
এরকম বেকুবি তোরে করতে কইসে কে?মাত্র ১০হাজার?আমাকে একবার কল করলে কি হতো তোর?তোর মাকে আমি ২০লাখ নগদে দেনমোহর দিয়েছিলাম
আর তুই কিনা তার ৫০%ও দিলি না
মানসম্মান কিছু রাখলি না আমার!
আমার কাছে এত টাকা ছিল না বাবা
আমি ছিলাম না?একটা কল করলেই ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করে দিতাম আমি,আমাকে বিশ্বাস করতে তোর এত ভাবা লাগে?মনে রাখিস তোর মা চলে যাওয়ার পর একা হাতে আমি তোকে বড় করেছি, তোর লালন পালনে রেণু কোনো ভূমিকা পালন করেনি,আর তুই কিনা এতবড় একটা ঘটনার কথা আমার থেকে লুকালি?আজ এলিনার পরিবারকে নিয়ে না আসলে হয়ত আমি এটা জানতাম ও না
বাবা তুমি বিয়েটা মানতেসো?
শুন শান্ত!এটা আমার সিদ্ধান্ত না,এটা তোর মায়ের সিদ্ধান্ত
তোর মা চেয়েছিলো আহানাই যেন ভবিষ্যতে তোর বউ হয়,আমাকে বলেও গেছিলো,আমার একদম মনে ছিল না এই কথাটা
আর এখন আহানাকে দেখে স্পষ্ট সব মনে পড়ে গেলো আমার
আমার উচিত ছিল আহানাকে খুঁজে বের করার আর সেখানে তুই খুঁজে বের করেছিস আই এম সো প্রাউড অফ ইউ মাই বয়
একেই বলে মেড ফর ইচ আদার,তোর মায়ের ইচ্ছা এভাবে পূরন হবে আমি ভাবতেই পারিনি
শান্ত হা করে বাবার দিকে তাকিয়ে থেকে হাঁটা ধরলো,তার মানে আমি যা করেছি তা ঠিক করেছি?
হুম,আমাকে আরও আগে জানালে ধুমধাম করে বিয়ে দিতাম তোদের,যাই হোক,আমার একটা মাত্র ছেলের বিয়ে এমন নরমাল ভাবে হতে দিব না আমি
ধুমধাম সব হবে
কথা বলতে বলতে শান্ত বাবাকে নিয়ে আহানার বাসায় ঢুকলো
আহানা চা আর বিসকুট এনে রেখেছে বিছানার উপর
শান্ত মাথা চুলকাচ্ছে লজ্জায়,কারন বাসায় একটা বেড ছাড়া একটা চেয়ারও নেয় যে বাবা বসবে
বাবা বেডরুমের বেডটার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন এটা তুই কিনছিস তাই না?তোর চয়েস চিনি আমি,যাই হোক চা টা অনেক ভালো হয়েছে আহানা মা
এখন তুমি রেস্ট নাও তোমার তো মনে হয় শরীর খারাপ
শান্ত বললো হুম,জ্বর ওর
আচ্ছা আমি তাহলে যে আগুন লাগাইসি সেটা নিভিয়ে আসি
বাবা তুমি প্লিস এলিনাকে বলিও না আমি যে বিয়ে করেছি,আমি ব্যাপারটা আপাতত চাপা রাখতে চাই
আচ্ছা,আমি বুঝিয়ে বলবো ওদের
একটা কথা বল তুই আহানাকে এই বাসায় রেখেছিস কেন?ফ্ল্যাটে নিয়ে গেলেই পারোস
আহানা যেতে চায় না,আর বললাম তো বিয়েটা আপাতত সবার থেকে অজানা আছে একটা কারণে
বাবা শান্তর মাথায় হাত রেখে ওর চুলগুলো এলিয়ে দিয়ে হেসে চলে গেলেন বাসা থেকে
আহানা শান্তর বাবার চলে যাওয়া দেখতেসে,শান্ত দুষ্টুমি করে এক ধাক্কা মেরে বললো জানো?? মা তো আমাদের আগে থেকেই বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল,বাবা মাত্র বললো আমাকে
মিথ্যা বলেন কেন?হুহ!
সত্যি বলতেসি,যাই হোক,এখন বাই!
আমি বাবার সাথে যাচ্ছি
কথাটা বলে শান্ত ও চলে গেলো,আহানা চুপচাপ এসে ব্যাগ গুছানোয় মন দিলো,ভার্সিটিতে যেতে হবে
শরীর তেমন ভালো না কিন্তু এভাবে ক্লাস তো মিস করা যায় না
শান্ত বাবার সাথে বাসায় ফিরেছে,বাবা একটু কাশ দিয়ে সোফায় বসে নম্রভাবে বললেন এই বিয়ে সম্ভব না
এলিনার বাবা বিস্মিত হয়ে বললেন কি কারণ?
আসলে আমি জানতাম না শান্ত এলিনাকে লাভ করে না,আমি তো ভাবসি করে তাই আমি আপনাদের নিয়ে এসেছি,কিন্তু ও আমাকে সত্যিটা জানালো,আমি তো আর আমার ছেলেকে জোর করতে পারি না তাই না?
এলিনার বাবা এলিনার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন শান্ত তোমাকে লাভ করে না এটা তুমি জানতে না?
বাবা আমি মনে করেছি ও ফান করে বলতেসে
লাভ নিয়ে ফান কেন করবে মানুষ?শুধু শুধু সময় নষ্ট করেছো আমার,এখন কি আর করার!
আমরা আজ আসি তাহলে
এলিনার বাবা সোফা থেকে উঠে এলিনার হাত ধরে হনহনিয়ে চলে গেলেন
শান্ত দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে,বাবা কাছে এসে বললেন আমি যাই
অল দ্যা বেস্ট,কোনো কিছুর দরকার হলে জাস্ট কল করে দিবি
আর হ্যাঁ যখন মনে হবে বিয়েটা পাবলিক করা উচিত তখন আমাকে জানাবি,আমি ধুমধাম করে আমার পুত্রবধূকে বরণ করে আনবো
শান্ত বাবাকে জড়িয়ে ধরলো,বাবা ওর পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন আমার ছেলের কোনো কিছুতে আমি কমতি রাখিনি আর রাখবো ও না কোনোদিন,আল্লাহ হাফেজ
আহানা ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে পড়েছে,রোদের মধ্যে আস্তে আস্তে কেঁপে কেঁপে হেঁটে চলেছে সে,শরীর খারাপ বলে মাথা ঘুরাচ্ছে বারবার
এখনও অনেকটা পথ বাকি
হঠাৎ শান্ত বাইক নিয়ে এসে ওর সামনে থামলো,চোখ রাঙিয়ে বললো তোমার সাহস তো কম না,অসুখের ভেতর তুমি ভার্সিটিতে যাচ্ছো!তাও হেঁটে হেঁটে!একদম চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলবে,একটা চুলও মাথায় অবশিষ্ট রাখবো না,বেয়াদব মেয়ে কোথাকার!
আপনার কি?
আমার কি?তোমার জ্বর না থাকলে পানিতে চুবিয়ে বুঝাইতাম আমার কি,নাও উঠো বাইকে
না
তুমি উঠবে না তোমার ঘাড় উঠবে
শান্ত আহানার হাত টেনে বাইকে উঠিয়ে নিলো,এখনও ওর হাত ছাড়তেসে না
আহানা মুখটা গম্ভীর করে বললো আপনার বাবা হঠাৎ আজ সকালে আপনাকে ডাকলো কেন?আর এলিনা আপু আসলো কই থেকে?
এলিনা ওর ফ্যামিলি নিয়ে বাসায় হাজির হয়েছিল আমার আর ওর বিয়ের কথা পাকা করতে
কিহহহ
হুম,এখন সব গেছে,বাবা বুঝাই দিসে ভালো করে
এলিনা তার ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে ভার্সিটির গেটের দিকে চেয়ে আছে
শান্ত আহানাকে নিয়ে এসে ভার্সিটির সামনে বাইক থামালো
আহানা আর শান্ত সেখানে কথা বলতেসে,কথা বলতে বলতে একটা সময় শান্ত আহানার চুল ধরে টেনে ওকে কাছে নিয়েও এসেছিলো,এরপর দুজনে একসাথে ভার্সিটিতে ঢুকেছে
এলিনা সব দেখতেসে গাল ফুলিয়ে
এলিনার আর বুঝতে বাকি নেই যে শান্ত ওকে কেন ভালোবাসে না কারন হলো শান্ত তো আহানাকে ভালোবাসে
এলিনার রাগে মাথা খারাপ হয়ে গেছে কি করবে সেটাই ভাবতেসে সে
আহানা তার ক্লাস রুমের দিকে চলে গেলো
শান্ত ও তার ক্লাসের দিকে গেসে
আহানা রুপার সাথে কথা বলতে বলতে দেখলো এলিনা এসেছে ওদের ক্লাসরুমে
এলিনা রুপাকে বললো আহানার সাথে তার কিছু পার্সোনাল কথা আছে
রুপা ঠিক আছে বলে সরে গেলো
এলিনা আহানার পাশে বসে আহানার হাত ধরলো,তারপর বললো আমি জানি আহানা তুমি শান্তকে লাভ করো আর হয়ত শান্ত ও
বাট!
তুমি এটা ভাবোনি যে তুমি শান্তর যোগ্য না??কোথায় শান্ত আর কোথায় তুমি,স্টেটাস ও তো মিলে না,এক বিন্দু না!
শুনলাম তুমি অনাথ,তোমার কেউ নেই,২বেলা ভাত নুন খাও আরও কত কি!!
তুমি জানো?এসব শান্তর বাসার বুয়াও খায় না
আর তুমি কিনা সেই লেভেলের হয়ে শান্তর পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখো?নিজের দিকে তাকিয়েছো কখনও?
কোন দিক দিয়ে তুমি নিজেকে ওর যোগ্য ভাবো? আচ্ছা আমি না বললে কি তুমি এসব ভাবতে না?
আমার দিকে তাকাও,আমি তো তোমার থেকে কতটা উপরের লেভেলের তার পরেও শান্ত আমাকে একসেপ্ট করলো না,কেন বলোতো?কারণ ওর পছন্দ আরও উচ্চ!
তোমার কি লজ্জা শরম নাই??সারাদিন সবখানে শান্তর আশেপাশে ঘুরঘুর করো!
অবশ্য তোমাকে এসব কেন বলতেসি,তোমার মত রাস্তার সরি অনাথ আশ্রমের মেয়েরা এসব ম্যানারস জানলে তো হতোই
একবার ভেবো কেমন?নেক্সট টাইম শান্ত আশেপাশে আসার আগে,বাই
আহানা কিছু বললো না,কারণ এলিনা যা বলেছে তার সব ঠিক
আমি এটা ভুলে গোছিলাম আমি কে,আমি সে যার কোনো পরিচয় নেই,অবৈধ সন্তান আমি
আমার তো কোনো যোগ্যতাই নেই শান্তর পাশে দাঁড়ানোর আর সেখানে আমি কিনা!
আহানা নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করতেসে
রুপা নওশাদকে বাই বলে আহানার কাছে ফিরে আসলো
কিরে আহানা ঐ ডাইনিটা কি বললো তোকে?
কিছু সত্যি
কি সত্যি?
কিছু না,আমার বাসায় অনেক কাজ আছে,আমি আসি
কথাটা বলে আহানা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে চলে গেলো
শান্ত ক্লাস সেরে বটতলায় এসে বসেছে,বারবার আহানার ক্লাসরুমের দিকে তাকাচ্ছে,আহানাকে একবারও দেখলো না
এদিকে নওশাদ এসে মাথা খারাপ করে দিচ্ছে তার সাথে মার্কেটে যেতে,কাবিনে পরার জন্য শেরওয়ানি কিনবে
শেষে বাধ্য হয়ে সে নওশাদের সাথে বেরিয়ে গেলো
আহানা বাসায় ফিরে আয়নাটা নিয়ে বসে আছে
তার নিজের প্রতি আজ এই প্রথম এত ঘৃনা হচ্ছে
কেন আমার জীবনটা এমন হলো,কেন আমার মা বাবা নেই??
আমি কি দোষ করেছিলাম,কেন আমি ঐ আশ্রমেই ঠাঁই পেলাম
আমার কোনো পরিচয় নেই কেন!আমি আর একটা রাস্তার মেয়ের তফাৎ নেই কেন!!!
আহানা আয়নাটা ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো করে ফেললো,আয়নার ভাঙ্গা প্রতিটা খন্ডে আহানা নিজেকে দেখতে পাচ্ছে,এতে করে রাগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে তার
খুব রাগ হচ্ছে,আয়নার সব টুকরো হাত দিয়ে আরও টুকরো টুকরো করতে লাগলো সে
এতটা রাগ তার নিজেকে নিয়ে যে তার হাত কেটে যাবে এই চিন্তা তার মাথায় ছিল না,যতক্ষন না কাঁচ গুড়ো হয়েছে ততক্ষণ হাত দিয়ে সেগুলোকে সে ভেঙ্গেছে,সবগুলো ফ্লোরের সাথে মিশিয়ে শান্ত হলো সে
নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো,ব্যাথায়,মনের কষ্টে যন্ত্রনায় চিৎকার করলো সে,দম বন্ধ হয়ে আসতেসে তার
কেঁপে কেঁপে ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ালো
বাথরুমে গিয়ে ভেসিনে হাত ধুয়ে রক্ত পরিষ্কার করলো,পুরোনো কাপড়ের টুকরা হাতে বেঁধে নিয়ে বসে থাকলো আবার
তারপর কিসব ভেবে ঝাড়ু নিয়ে আয়নার সব ভাঙ্গা টুকরো ফেলে দিলো ময়লার ঝুড়িতে
অফিসের সময় হয়ে গেছে,তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হতে নিতেই থেমে গেলো সে
শান্ত হাতে কাপড়ের টুকরো বাঁধা দেখলো সব ওলটপালট করে ফেলবে,আর যদি হাতে কোনো কাপড়ের টুকরো না থাকে তাহলে সহজে শান্তর চোখেও পড়বে না এত কিছু
ইস কেন রাগের বসে এসব করতে গেলাম আমি,এখন এসব লুকাতে কাঠ খড় পোড়াতে হচ্ছে আমাকে!
আহানা কাপড়ের টুকরাটা ফেলে দিলো,হাতের তালুতে তার কাঁটার মত লাল দাগ হয়ে আছে,হাতের তালুতে বিন্দু মাত্র জায়গা খালি নেই যেখানে দাগ নেই,ভিতরটা টনটন করতেসে অসহ্যকর যন্ত্রনায়,মন চাচ্ছে হাতটা কেটে ফেলে দিলে এই ব্যাথা কমতো
আহানা হেঁটে চলেছে,মাঝে মাঝে ওড়না দিয়ে হাত লুকানোর প্র্যাকটিস করতেছে
কিছুতেই শান্তকে এটা বুঝতে দেওয়া যাবে না,আর হ্যাঁ শান্ত থেকে আমাকে এখন দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে,এলিনা আপু যা বলেছে সব ঠিক বলেছে,আমাকে আমার লেভেলেই থাকা উচিত
শান্তর সাথে সারাদিন থাকলে কেমন দেখায় আমি একদমই এসব ভাবিনি আগে,ভাবলে এতদিন এতদূর কথা গড়াতো না!
সব কাজ সেরে শান্ত ১টার দিকে সোজা অফিসে আসলো,আহানা আগে থেকেই সেখানে
আহানাকে দেখে মনে হলো মনটা শান্তি পেয়েছে,মুচকি হেসে আহানার পাশে গিয়ে বসলো সে
আহানা চুপচাপ বসে ফাইলে কিসব চেক করতেসে
কখন আসলে তুমি?ভার্সিটিতে তোমাকে দেখলাম না,অবশ্য আমিও ছিলাম না,নওশাদকে নিয়ে মার্কেটে গেছিলাম ওর বিয়ের শেরওয়ানি কিনতে,কি হলো?কথা বলতেসো না কেন?
নিজের কাজ করেন,অনেক কাজ পড়ে আছে!
আহানা আর একটা কথাও বলেনি
শান্ত গাল ফুলিয়ে তার কাজ করে যাচ্ছে
ব্রেক টাইমে আহানা এক গাদা ফাইল নিয়ে বসলো যাতে শান্ত ওকে ক্যানটিনে না নিতে পারে
শান্ত ও রাগতে রাগতে শেষ,গাল ফুলিয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে টেবিলের উপর বসে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে,খাওয়া শেষ হলেই সেটা আহানার গায়ের দিকে মারতেসে
এই নিয়ে ৮টা খাওয়া শেষ
আহানা এখন যদি ওকে না আটকায় তাহলে মনে হয় ২০টা পার করে দিবে,কাশি উঠে গেছে তার এক নাগাড়ে এতগুলো খেতে খেতে
আহানা উপায় না পেয়ে কাজ রেখে উঠে এসে প্যাকেটটা নিয়ে নিলো ওর থেকে
কি সমস্যা আপনার?মরতে চান?
তুমি আমাকে ইগনোর করতেসো কেন সেই কারন জানতে চাই আমি
আহানা উত্তরে আর কিছু বললো না,নিজের কেবিনে এসে বসে পড়লো,ব্রেক টাইম ও শেষ
শান্ত কাশতে কাশতে ওর কেবিনে বসে পানি খেয়ে কাজে মন দিলো
আজ অফিস ছুটি হতেই আহানা এক মিনিট ও দাঁড়ালো না,হাঁটা ধরলো
শান্ত বাইক নিয়ে এসে দেখলো আহানা কোথাও নেই,চিন্তিত হয়ে আহানাকে কল করলো সে
আহানা ততক্ষণে বাসার কাছে চলে এসেছে,ফোন ধরে বললো বাসায় পৌঁছে গেছি
পৌঁছে গেছি মানে?তুমি আমার জন্য ওয়েট করলে না কেন?একা একা চলে গেলে কেন?বেয়াদব!
শান্ত ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো আহানা কল কেটে দিয়েছে ততক্ষণে, রেগে বাইকের স্পিড বাড়িয়ে যাচ্ছে সে আহানার বাসার দিকে
বাসায় ফিরে আহানা কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো,শান্তকে এড়িয়ে চলা খুব কঠিন,নিশ্চয় এখন হনহনিয়ে এদিকে আসতেসে!একদম কড়া করে দুচারেক কথা শুনিয়ে দিব যেন আর আমার কাছে না আসে,ভাবতে ভাবতে দরজার দিকে চেয়ে ঘুমিয়ে গেলো সে
পরেরদিন সকালে আহানা উঠে পড়ে সবার আগে দরজার দিকে তাকালো,দরজা যেভাবে বন্ধ রেখেছিল ঠিক সেরকমই আছে,শান্ত আসেনি,যাক একদিনের ইগনোর কাজে লেগেছে তাহলে
বাসা থেকে বেরিয়ে মিষ্টিকে পড়াতে আসলো সে,মিষ্টি কান্না করতে করতে অংক করতেসে খাতায়
আহানা চমকে বললো কি হয়েছে মিষ্টি?কাঁদতেসো কেন?কি হয়েছে তোমার?
মিষ্টি আহানাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বললো” আমার santur এক্সিডেন্ট হয়েছে”
আহানা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো,হাত পা কাঁপতেসে তার,কেঁপে কেঁপে বললো কি হয়েছে উনার,উনি কোথায়!
হসপিটালে😭
কথাটা শুনে আহানা মাথায় হাত দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো,শান্তর বাসার দরজায় নক করতে লাগলো বারবার
রিয়াজ শান্তর জন্য বারতি পোশাক নিতে এসেছিল,সে দরজা খুলতেই আহানাকে দেখে চমকে বললো তুমি?
প্লিস ভাইয়া বলুন না শান্ত কোথায়,কোন হসপিটালে?
শান্ত ওয়েলকেয়ার হসপিটালে,আমি যাচ্ছি,আমার সাথে চলো
আহানা চোখের পানি আটকাতে পারতেসে না
জীবনে আপন বলতে কেউ ছিল না তার
শান্তকে সবচেয়ে আপন মনে হতো আর সেই শান্তর এক্সিডেন্ট হয়েছে সেটা সে এখন জানলো
হসপিটালে এসেই দৌড় দিলো সে,কেবিন নাম্বার জেনে নিয়ে পাগলের মত খুঁজতে লাগলো শান্তকে
অবশেষে সেই কেবিনে এসে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখলো শান্ত নওশাদের সাথে কথা বলতেসে,আহানাকে দেখে কথা থামিয়ে ওর দিকে তাকালো সে
আহানা দৌড়ে এসে শান্তর হাত ধরে ওর পুরো শরীর পরোক করে নিলো
কাঁদতে কাঁদতে বললো আপনি ঠিক আছেন তো,আপনার কিছু হয়নি তো?কখন এক্সিডেন্ট হয়েছে?আমাকে জানান নি কেন?কি হলো কথা বলতেসেন না কেন আপনি?
শান্ত চুপ করে থেকে আহানার পাগলামো দেখতেসে
আহানা শান্তর কথার উত্তর না পেয়ে নওশাদকে ধরলো,নওশাদ বললো আহানা বসো এখানে আমি বলতেসি,ঠাণ্ডা হও,বেশি কিছু হয়নি
বাইক অন্য একটা বাইকের সাথে সংঘর্ষে দুটো বাইকই উল্টে গেছিলো,আল্লাহ মাফ করেছে বেশি কিছু হয়নি,জাস্ট পায়ে আর হাতের কুনুইতে চোট পেয়েছে শান্ত
তাহলে বেডে ভর্তি কেন উনি?
পায়ে ব্যান্ডেজ করেছে আর হাতে, ডাক্তার বলেছেন একদিন হাত পা নাড়ানো যাবে না তাই এখানেই রুম বুক করিয়েছি আমরা,এখন ঠিক আছে,চিন্তা করিও না
নওশাদ মুচকি হেসে রিয়াজকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে
আহানা চোখের পানি মুছে শান্তর পাশে বসে ঠাস করে চড় মেরে দিলো ওর গালে
শান্ত কিছু বলতে যাবে তার আগেই চড় খেয়ে হতভম্ব হয়ে গেছে সে
গালে হাত দিয়ে চোখ বড় করে বললো এখন মারলে কেন?
আপনি এত জোরে বাইক চালাতে গেছেন কেন?আর আমাকে খবর দেওয়া জরুরি ছিল না?আমি আপনার স্ত্রী! আপনার এক্সিডেন্ট হয়েছে সেটার জানার অধিকার নেই আমার?নওশাদ,রিয়াজ ভাইয়াকে জানাতে পেরেছেন আমাকে জানালে কি হতো?বেয়াদব কোথাকার,দেখি আমি দেখবো কিরকম চোট পেয়েছেন
আহানা উঠে শান্তর গায়ের টি-শার্ট খুলে নিলো
আরে আহানা কি করতেসো!
আহানা শান্তর হাত উল্টিয়ে দেখলো কুনুইতে ব্যান্ডেজ করা,পিঠে কোনো চোট নেই
ব্রু কুঁচকে আবারও টিশার্টটা পরিয়ে দিলো ওকে
তুমি জানলে কি করে যে আমার এক্সিডেন্ট হয়েছে??
মিষ্টি বলেছে,নাহলে তো জানতামই না,আমি ভাবতাম আমি শুধু এই বিয়ে মানি না আপনি মানেন,কিন্তু আজ সিউর হলাম আপনিও এই বিয়ে মানেন না
মানলে,আমাকে স্ত্রী মেনে থাকলে আমাকে একটিবার জানাতেন,আমাকে এরকম পাগলের মত ছুটতে হতো না,আপনি খুব খারাপ একটা লোক
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৪৫+৪৬
শুনো,আমার ফোনে এমনিতেও চার্জ ছিল না,৩%ছিলো যখন আমি রোডে বসে নওশাদকে কল করতেসিলাম,তারপর ফোন অফ হয়ে গেছে,নওশাদকে বলতে গেসিলাম তোমাকে জানাতে তখন রাত ১০টা বাজে,তাই আর বলিনি,সামান্য একটা ব্যাপার,তুমি যেভাবে কাঁদতেসো যেন আমার হাড় ভেঙ্গেছে আর হাঁটতে পারবো না কোনোদিন
চুপ!এসব আনাব সানাব কে বলতে বলছে আপনাকে?? একটু চুপ থাকুন এখন
এবার বলেন কিছু খেয়েছেন?
