Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৩ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৩ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৩ (২)
Sadiya Jahan Simi

Chittagong Medical College চট্টগ্রামের অন্যতম বড় এবং পরিচিত সরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাঁচলাইন এলাকার কে.বি ফজলুল কাদের রোডে অবস্থিত।১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরকারি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও টারশিয়ারি রেফারাল হাসপাতাল, যা প্রায় ৭৯ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।
বিশাল এলাকায় কলেজ ও হাসপাতাল মিলিয়ে প্রায় ৭৯ একর জায়গাজুড়ে এটি বিস্তৃত । ক্যাম্পাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর চারপাশের পাহাড়ি পরিবেশ, যা একে অন্য যেকোনো মেডিকেল কলেজ থেকে আলাদা করেছে ।
প্রধান ভবনে রয়েছে ছয় তলা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ভবন। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক ভবনগুলো আলাদাভাবে ।

ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাসের কাছেই আলাদা হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে । হোস্টেল এলাকায় খেলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জায়গা রয়েছে ।
একাডেমিক সুবিধা আছে বেশ ।ভেতরে রয়েছে বড় বড় ডিজিটাল লেকচার হল, প্রজেক্টর এবং আধুনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল সিস্টেম । শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য সমৃদ্ধ মিউজিয়াম, ডিসেকশন হল এবং ডেমোনস্ট্রেশন রুম রয়েছে। লাইব্রেরি প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিমু গ্রন্থাগার’ নামে বিশাল লাইব্রেরি আছে। এখানে ২৬,০০০-এর বেশি বই এবং ১২০ জন শিক্ষার্থীর বসার ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি রিডিং রুম আছে ।
হাসপাতাল ও চিকিৎসায় এখানে আধুনিক ল্যাবরেটরি, আইসিইউ ,সিসিইউ , এনআইসিইউ এবং ডায়ালিসিস ইউনিটসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে ।
হাসপাতালের ভেতরে মাঝারি আকারের একটা চেম্বার ।দরজার বাইরে লেখা —

DR. UDYAN RAOD FARAZI
MBBS, MS (CV & TS)
Cardiovascular & Thoracic Surgeon
MBBS, MS (Cardiovascular & Thoracic Surgery)
উদ্যান দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল কিছুক্ষণ। উচ্ছাস চোখে পুনো চেম্বারটা অবলোকন করে।
সামনে একটা ডেক্স। তার উপর একটা স্টেথোস্কোপ,
প্রেসক্রিপশনের প্যাড,কলমদানি,একটা ছোট ডেস্ক ল্যাম্প।
ডেস্কের পেছনে কালো রঙের ঘূর্ণায়মান চেয়ার।উদ্যান ধীর কদমে এগিয়ে গেল। কাঁপতে থাকা হাতটা দিয়ে ছুয়েঁ দিল। আলগোছে বসে পড়ে তাতে। হাত বাড়িয়ে স্টেথোসকপটা তুলে ঘাড়ে ঘুরিয়ে এনে রাখল।আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল নিমিষেই।আজ পৃথিবীর সবটুকু আনন্দ যেন কিনে নিয়েছে উদ্যান রাওদ ফরাজী। চোখ মেলে তাকাল, দৃষ্টি সরিয়ে দেখল বাম পাশে দেয়ালে ঝুলানো মানবদেহের চার্ট,হার্ট ও ফুসফুসের ডায়াগ্রাম।পাশের খালি জায়গাটায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবল। ঠোঁটে মৃদু হাসি।
জানালাটা অল্প খোলা। বাইরে থেকে হালকা বাতাস ঢুকে পর্দাটা একটু একটু নড়ে। সেই বাতাসে উড়ে উঠে উদ্যানের চুলগুলো।

ফিহাজ ম্যান্ডেলা রাতের আলোয় মেতে থাকলে আজ তার ভিন্নতা দেখা গেল। ফর্সা আকাশের আলোয় আজ ফিহাজ ম্যান্ডেলার প্রতিটি কোণা ভরে উঠেছে। ব্যস্ততার হাত চলছে কাজে। গাড়ি ভরে ভরে আসছে অসংখ্য রমনী। শারীরিক অবস্থা বেহাল দশা। জোর জবরদস্তি করে তুলে আনার স্পষ্ট প্রমাণ। ওদের হাহাকারে আজ বোধহয় বাতাস ভারী হয়ে উঠতো। তবে তার পথটুকু অব্দি রাখেনি নিকৃষ্ট মানবরা। দুই হাতের সাথে বন্ধনী দ্বারা বন্ধ করে রেখেছে কথা বলার প্রয়াসটুকু। সে তালিকায় চোখ পর্যন্ত বাঁধ যায়নি। সেখানে স্থান পেয়েছে সাদা রঙের এক টুকরো কাপড়। ভাগ্যের জোরে কোনোরকম পালিয়ে গেলেও পথ চিনে বের হতে না পারার ব্যবস্থা। শহরের শেষ একপ্রান্তে অবস্থিত ফিহাজ ম্যান্ডেলা থেকে পালিয়ে বেরোনো এতোটাও সহজ নয়। গোলক ধাঁধার ন্যায় ঘুরতে ঘুরতে সেখানে আটকে মরে পড়ে থাকতে হবে। এতো এতো অনৈতিক কাজ কাদের দ্বারা হচ্ছে! রাজনৈতিক কোনো দল? নাকি অন্যকিছু?

বেশ বেলা করে ঘুম ভেঙ্গেছে আজ আভিয়ান শিকদারের। কাল সারারাত শেষে বাড়ি ফিরে সে। রাতে হয়তোবা ছিল কোনো এক বিশেষ জায়গায়। সে নিজ ইচ্ছায় চলতে পছন্দ করে। নিজ কাজে বাঁধা প্রদান তার অপছন্দের তালিকায়। তা নৈতিক বা অনৈতিক যাই হোক না কেন।
সাদা পাঞ্জাবির কালো বোতামগুলো লাগাতে লাগাতে ব্যস্ত পায়ে নামছে আভিয়ান। ডাইনিংয়ে গিয়ে কোনোরকম কিছু খেয়েই তাড়াহুড়ো করে উঠে দাড়ালো। পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে রনিকে বলে,
“গাড়ি বের কর জলদি।বের হবো।”
রনি বলল, “কোথায় যাবেন ভাই! এতো তাড়াহুড়ো করছেন কেন?”
আভিয়ান চোখে রোদচশমা পরে হাতের ঘড়িটা ঠিক করতে করতে ব্যস্ত গলায় বলল, “তোর ভাবীর কাছে যাবো। কতদিন হয়েছে দেখিনা আমার মায়াবীকে।”
“কিন্তু ভাই আপনি তো গতকালই ভাবীর সাথে ছিলেন। পেয়ারা চুরি করেছেন একসাথে তাও নিজের বাড়ি থেকে। ভুলে গেলেন !”

তড়িৎ গতিতে তাকালো আভিয়ান। খসখস আঙুল দিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে বলে, “এতো কথা শুনতে চাইছি না। গাড়ি বের কর জলদি।”
রনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ভীত স্বরে বলল, “ভাই আমি যাবো না।”
আভিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে, “কেনো! কি হয়েছে তোর?”
“আমি নাইট ক্রিম দিয়েছি ভাই। দিনের বেলায় মুখে এসব দিয়ে বেরোলে, রোদে স্কিন নষ্ট হয়ে যাবে।” চট করে বলে উঠলো রনি।
আভিয়ান হতব্হিল হয়ে তাকালো। দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠলো,
“নাইট ক্রিম দিনের বেলায় দেয় কোন আবাল!”
“ভাই দিনে রাতে দিয়ে তাড়াতাড়ি সুন্দর হবো। তারপর বিয়ে করব।”
“বিয়ের আগেই তোর বউ বিধবা হবে। আমি ব্যবস্থা করছি তার। মায়াবীর সাথে কাল দেখা করব। আজ একটু সেখানে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি চল।”

মেডিকেলের প্রথম দিন শেষে বাড়ি ফিরে উদ্যান। বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। সারাদিন ছোটাছুটিতে কেটেছে আজ। উদ্যান কে বাড়ীর দরজায় দেখে বসার রুম থেকে উঠে এলো রাহেলা ফরাজী। ছেলের কপালের ঘাম টুকু শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“কেমন কেটেছে আজ প্রথম দিন ডাক্তার সাহেব? আপনাকে তো এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।”
উদ্যান হাসলো ওনার কথায়। একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আলতো হেসে বলল, “আম্মু তুমি ও না। মনে হচ্ছে আমি তোমার ছেলে না। আমার আম্মুর জন্য সময় বের করা কোনো ব্যপার না।”
“অবশ্যই। আমার ছেলে লাখে একটা। আমার কথা কি করে ভুলে যাবে।”
উদ্যান হাসে। চোখ ঘুরিয়ে ড্রয়িং রুম অবলোকন করে বলল, “আম্মু বাড়ি এতো ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কেন! সবাই কোথায়?”

“বড় ভাবী আর হুমাইরা একটু শপিংয়ে গিয়েছে দরকারি জিনিস কিনতে। আর বাকিরা বাইরে। ভেতরে আয় । শরবত দিচ্ছি।”
ওনি ব্যস্ত পায়ে ছুটে কিচেনে। উদ্যান এগিয়ে এসে সোফায় বসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শরবত নিয়ে হাজির হলেন রাহেলা। উদ্যান তা এক চুমুকে পুরোটা শেষ করে। এখন একটু শান্তি লাগছে। উদ্যান ডানে বামে তাকিয়ে বলে উঠলো,
“আম্মু ও কোথায়?”
রাহেলা ফরাজী ভ্রু কুঁচকে তাকালেন উদ্যানের পানে।অবাক হয়ে বলল,
“ও আবার কে!”
উদ্যান অপ্রস্তুত হয়ে গেল। ডানে বামে তাকিয়ে জিভ দিয়ে গাল ঠেললো। গালের অভ্যন্তরীণ ত্বক স্পর্শ করে গোল করে নিঃশ্বাস ফেলে। কোণা চোখে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, “আরে ওর কথা বলছি। ও কোথায়?”
রাহেলা ফরাজী বিরক্তিকর শ্বাস ফেলল।ওনার মাথা ঘুরছে ছেলের কথা শুনে।
“ক্লিয়ার করে বল। কার কথা বলছিস!”
উদ্যান বিরক্ত হলো এমন জেরায়। মন চাইছে ওই বেয়াদব কে তুলে এনে থাপ্পড় দিতে। কোথায় কোথায় টইটই করে বেড়ায়। বিরক্ত হয়ে বলল,
“তোমার কথায় আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। ওর কথা বলছি আমি। ও কোথায় আছে জানো!”
তৎক্ষণাৎ পেছন থেকে একটা মেয়েলি আওয়াজ ভেসে আসে।
“আপনি কি আমায় খুঁজছেন ঊষা আপুর ভাইয়া!”

উদ্যান ভ্রু কুঁচকে পেছনে ফিরে। ফুলোফুলো ঘন পাপড়ি যুক্ত চোখ জোড়া কচলিয়ে ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়ে আছে রাফসা। চোখে ঘুমের রেশ। হয়তো সবে ঘুম থেকে উঠে এসেছে। এদিকে রাহেলা ফরাজী হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। চোখ ঘুরিয়ে উদ্যান আর রাফসাকে পরোখ করে। অবাক হয়ে বলল,
“কি হচ্ছে এসব! একজন ডাকছে ও, আরেকজন ডাকছে ঊষা আপুর ভাইয়া! হয়েছে কি তোদের শুনি?”
“তোমার ছেলেকে জিজ্ঞেস কর কাআম্মা। আমি কিছু জানিনা।”
“তোরা ঝগড়া করেছিস!” সন্দেহ নিয়ে জানতে চাইল উদ্যানের মা।
উদ্যান ভ্রু কুঁচকে বলে, “এই পিচ্চির সাথে আবার কিসের ঝগড়া?”
“তাই ভালো।ভাই বোন মিলে মিশে থাকবি সবসময়। কোনো ঝগড়াঝাঁটি না। তোরা থাক আমি রান্নাটা দেখে আসি।পুড়ে গেল বোধহয়।”

ওনি ছুটেন কিচেনে। রাফসা এগিয়ে এসে সোফায় গা এলিয়ে বসে। উদ্যান এপ্রোনটা হাতে তুলে উঠে দাঁড়ায়। একহাত পকেটে ঢুকিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল রাফসার পানে। গম্ভীর কন্ঠে শুধায়,
“বোরকা পড়ে রেডি হয়ে নে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
তড়াক করে চোখ মেলে তাকাল রাফসা। সোজা বসল। ভ্রু কুঁচকে বলে, “রেডি হবো কেন! কোথায় যাবো?”
“বাইরে। ফাস্ট রেডি হতে যা।”
রাফসা অবাক হয়ে তাকালো। কি বলছে এই লোক। দৃষ্টি সরিয়ে অদূরের দেয়াল ঘড়িতে তাকায়। সাতটা বেজে সাতএিশ। বুঝতে পারল না কোথায় যাবে। ধুম করেই বললো, “যাবো না আমি। আপনার যাওয়ার হলে যান।”
রাফসার কথায় উদ্যান দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দেবো। এতো অবাধ্য হস কেন তুই আমার!”
রাফসা আড়মোরা হয়ে বসলো খানিক চেপে। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল, “My wish, What is your problem bro?”

উদ্যান শান্ত চোখে তাকিয়ে রইল রাফসার পানে। সারাদিনের ক্লান্তিতে এমনিই মাথা বিগড়ে আছে। এই মেয়ে এখন ত্যাড়ামি করলে নিশ্চিত মা’র খাবে ওর হাতে। উদ্যান নিজেকে যথাসম্ভব সামলিয়ে শান্ত স্বরে বলল, “বেচেঁ দেবো না তোকে। ফাস্ট রেডি হয়ে নে।”
রাফসা কিছু ভেবে রসিকতা করে বলে, “ভাবীর সাথে দেখা করতে যাবেন ভাইয়া!”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৩

উদ্যান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। আর কত দাগ পড়বে চরিত্রে। দুই পা এগিয়ে এসে বললো, “মেবি।
রাফসা পিঞ্চ মেরে বলল “ও মাই গুডনেস! ননদ হয়ে ভাবীকে দেখতে যাওয়াই যায়। আপনি একটু ফ্রেশ হয়ে আসুন ভাইয়া।আমি রেডি হচ্ছি।”
রাফসা উঠে পা বাড়ায়। উদ্যান পেছনে পেছনে সিঁড়ি বেয়ে উঠে। রাফসার সিঁড়ির উপর উঠতে থাকা পা জোড়ার দিকে তাকিয়ে ঠোট কামড়ে ধরল।

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৪