Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ২
নওরিন কবির তিশা

ব্যস্ততম রাজধানীর যান্ত্রিক কোলাহলের ঠিক মাঝখানে, যেন এক টুকরো স্নিগ্ধ শান্তির আশ্রয় আর্যের ‘সুখ নীড়’। সুউচ্চ দালানকোঠার ভিড়ে আর্য এহসানের এই ফ্ল্যাটটি একেবারেই ভিন্ন। একসময় এখানে আর্যর জীবনের পূর্ণতা ছিল—-ছিলো প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী আর ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে একটা সুন্দর ছোট্ট সংসার। কিন্তু মহাকালের অমোঘ নিয়মে আজ সেই সব ছায়া বিলীন হয়েছে। বর্তমানে এই বিশাল অট্টালিকার অধিপতি একমাত্র আর্য আর তার একমাত্র ধ্রুবতারা তার পাঁচ বছরের মাতৃহীনা কন্যা।

আর্যর আত্মীয়-পরিজনদের বাস শহরের অন্য প্রান্তে। কাকিমা কিংবা অন্য চ্যচীরা কালেভদ্রে এলেও, এই গৃহের প্রতিটি কোণ যেন আর্যর গম্ভীর ব্যক্তিত্ব আর নির্জনতার সাক্ষ্য দেয়। তবে আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। শুভ বিবাহ উপলক্ষে নিস্তব্ধ এই পুরীতে প্রাণের স্পন্দন জেগেছে। আত্মীয়-স্বজনদের কলকাকলিতে ঘর আজ মুখরিত।
তবে আত্মীয় বলতেও গুটিকয়েক জন। আর্যের কিছু কাজিন আর চাচা-চাচি। আর্য বাবা-মা হীন। ছোটবেলার সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মা দুজনকেই হারিয়েছে সে। তৃষারা এসে পৌঁছেছে একদিন বাদে সন্ধ্যার কিছুটা পর।
ঘড়ির কাঁটা এখন রাত আটটা দশের ঘরে। তৃষা লক্ষ্য করল, বাড়িটা অদ্ভুত রকমের সুন্দর। যদিও বিরক্তি আর অভিমানে তার দৃষ্টি অবনত, তবুও যতবার সে চোখ মেলেছে, ততবারই অনুভব করেছে—গাম্ভীর্যের মোড়কে আবৃত থাকলেও এই গৃহের আনাচে-কানাচে এক অনাবিল প্রশান্তি বিরাজমান।

তবে একটি বিষয় তৃষাকে বড্ড অবাক করছে। ড্রয়িংরুম থেকে শুরু করে করিডোর;কোথাও আর্যর কোনো আলোকচিত্র নেই। সাধারণত মানুষের বসার ঘরে কতশত স্মৃতি সাজানো থাকে, অথচ এই বাড়িতে আর্য যেন এক অদৃশ্য ছায়া। দেয়ালজুড়ে কেবল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর দিগন্তের ছবি; যেন এই বাড়ির অধিপতি নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
হামিদা বেগম তৃষার কাঁধে হাত রেখে মৃদু স্বরে বললেন,
—-‘কী দেখছো মা? বাড়িটা বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তো? আর্য তো এমনই, নিজের কোনো ছবি ঘরে রাখা ওর দুচোখের বি’ষ। ও বলে, স্মৃতি নাকি মনে রাখতে হয়, দেয়ালে নয়।
তৃষা মনে মনে ভাবল,,

—-‘স্মৃতি না কি আবার অস্তিত্বহীন?
তার বান্ধবীরা বলেছিল আর্যর হেব্বি পার্সোনালিটি, কিন্তু এই বাড়িতে পা দিয়ে তৃষার মনে হলো সে কোনো মানুষের ঘরে নয়, বরং এক রহস্যময় দুর্গে এসে প্রবেশ করেছে।
তবে সামাজিকতার রক্ষার্থে মৃদু হেসে সে বলল,,—‘সমস্যা নাই আন্টি!
হামিদা বেগম তৎক্ষণাৎ বাধা দিয়ে বললেন,,—‘আন্টি নয় মা, কাকিমা বলো আমায়। আমি আর্য ছোট চাচি, ওর মার মৃ’ত্যু’র পর থেকেই ছেলেটা আমার কাছেই মানুষ হয়েছে।
তৃষা প্রত্যুত্তরে মৃদু হাসলো। হামিদা বেগম ফের বললেন,,—‘এখন থেকেই নিষ্প্রাণ বাড়িটাকে আবার প্রাণবন্ত করার দায়িত্ব কিন্তু তোমার মা। পারবে তো সময়ের স্রোতে হাসি আনন্দ লীন হয়ে যাওয়া বাড়িটাকে পুনরায় হাস্যোজ্জ্বল করতে?
কথাগুলো সংক্ষিপ্ত তবে তার গভীরত্ব পরতে পরতে অনুভব করল তৃষা। হৃদয়ে হঠাৎ সূচনা হলো অযাচিত কম্পনের। সে জানে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কতটা কষ্টসাধ্য। বিশেষত প্রতিশ্রুতি যদি হয় অপছন্দের কিছুকে ঘিরে। সে দিগ্বিদিক খুঁজে না পেয়ে হঠাৎ বলল,,,

—–‘আমি একটু ওয়াশরুমে যেতে চাই কাকিমা।
হামিদা বেগম বিচলিত হয়ে উঠলেন, তৎক্ষণাৎ পাশে থাকা মেয়ে সাবরিনাকে ডেকে বললেন,,—‘সাবু? ভাবিকে একটু ওয়াশটা দেখিয়ে দাও তো।
সাবরিনা আর মৃত্তিকা হামিদা বেগমের মেয়ে। সাবরিনা তৃষার বয়সী হলেও মৃত্তিকা বয়সে সামান্য ছোট। সাবরিনা সোফায় বসে চিপস খাচ্ছিল, মায়ের আদেশ পেতেই দ্রুত তৃষার হাত ধরে আন্তরিক কণ্ঠে বললো,,
—-‘চলো ভাবি।
তৃষা হাপ ছেড়ে বাঁচল যেন। সে ভালো করেই জানে ওয়াশরুম যাওয়াটা বাহানা মাত্র। তবুও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করার থেকে এ মিথ্যা বলে বাঁচা ঢের ভালো।

রণতরীর পাদদেশের সুপ্রশস্ত আঙিনায় থেমে থেমে আছড়ে পাড়া জলকল্লোল গুলো দৃষ্টি কাড়ে। কখনো তা নীলাভ বলে ঠাহর হয়, আবার পরক্ষণেই তা ফেনিল শুভ্রতায় বিলীন হয়ে যায়। চকিতে দৃষ্টি ফেরালে বহুদূরে কোনো এক বন্য পক্ষীর অস্পষ্ট কায়া কুয়াশার চাদর ভেদ করে মিলিয়ে যেতে দেখা যায়। সময় গণনায় অতিবাহিত হয়েছে দিন তিরিশেক।
বিশাল এই আটলান্টিক মহাসাগরের হৃদপিণ্ডে আর্যর রণতরীটি এখন এক নিঃসঙ্গ দ্বীপের মতো ভেসে চলেছে। চারদিকের আকাশ যেন জলরাশির সঙ্গে একাকার হয়ে এক ধূসর স্তব্ধতা তৈরি করেছে। মাঝে মাঝে উত্তাল ঢেউ যখন লোহার দেয়ালে সজোরে আঘাত হানে, তখন সেই গর্জনে এক ধরনের রুদ্র সংগীত বেজে ওঠে।
আর্য রেলিং ধরে নির্নিমেষ চেয়ে আছে সেই নীল দিগন্তের দিকে। লোনা বাতাস তার চুলগুলো অবিন্যস্ত করে দিচ্ছে, কিন্তু তার পাথুরে মুখাবয়বে বিন্দুমাত্র বিকার নেই। তার চোখে আজ আর সমুদ্রের নীল নেই, আছে কেবল এক গভীর শূন্যতা।

হঠাৎ ভারী বুটের শব্দে আর্যর তন্ময়তা কাটল। নৌবাহিনীর প্রধান, অ্যাডমিরাল শফকত সাহেব ধীর পায়ে আর্যর পাশে এসে দাঁড়ালেন। বয়সে বড় হলেও আর্যর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা কেবল আদেশ-নির্দেশের নয়, বরং এক আত্মিক স্নেহের। সমুদ্রের এই নির্জনতায় তাঁর কণ্ঠস্বর বেশ গম্ভীর শোনাল।তিনি আর্যর কাঁধে হাত রেখে ঈষৎ হেসে বললেন,,
—‘হোয়াটস আপ, ইয়ং ম্যান? সাগরের নোনা জলে কি ঘরের মিষ্টি ঘ্রাণ ভুলে গেলে? হেডকোয়ার্টারে থাকতে তো অনেক কথা শুনলাম। তা বিয়েটা কি…?
অ্যাডমিরাল কথাটি শেষ করার আগেই আর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে দৃষ্টি না ফিরিয়েই অত্যন্ত শীতল আর দৃঢ় স্বরে বলে উঠল,,,
—- ‘উইথ অল ডিউ রেসপেক্ট স্যার, প্রসঙ্গটা এখানেই থামান। আমার কোনো বিয়ে হয়নি।
অ্যাডমিরাল ভ্রু কুঁচকে তাকালেন,,
—–‘হোয়াট ডু ইউ মিন? তোমার কাকিমা তো নিজে ফোন করে আমাদের জানালেন….
আর্য এবার ঘুরে তাকাল। তার চোখে এক বিষণ্ণ কাঠিন্য। সে শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বলল,,,

—-‘আপনারা যেটাকে বিয়ে বলছেন স্যার, ওটা স্রেফ একটা সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট। আমার জীবনে মাহেরিনই ছিল প্রথম, আর সেই শেষ। দ্বিতীয় কোনো অস্তিত্বের জায়গা আমার হৃদয়ে নেই।
একটু থেমে সে আরও যোগ করল, ,,–‘কাগজে কয়েকটা সই করলে যদি মানুষের মন বদলে যেত স্যার, তবে জীবনটা অনেক সহজ হতো স্যার। আমার কাছে বর্তমান মানে শুধুই আমার প্রফেশন আর আমার অস্তিত্বের শেষ চিহ্ন আমার টুইংকেল।এর বাইরে আর কোনো রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস আমার জানা নেই।
আর্যর এই হিমশীতল যুক্তির সামনে অ্যাডমিরাল কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এই মানুষটির মনের গভীরে যে ক্ষ’ত, তা সমুদ্রের অতল গহ্বরের চেয়েও বেশি দুর্ভেদ্য। অবশ্য ব্যাপারটা হবে নাই বা কেন।আর্যর জীবনে মাহেরিন সিদ্দিকা কেবল একজন নারী ছিল না, সে ছিল দিগভ্রান্ত এক নাবিকের ধ্রুবতারা।

স্মৃতির জানালার কপাটগুলো যেন একে একে খুলে যেতে লাগল সশব্দে। আর্য তখন এক বাউণ্ডুলে যুবক। বাবা-মাকে শৈশবেই হারিয়ে আত্মীয়দের আশ্রয়ে বড় হওয়া ছেলেটার জীবনে না ছিল কোনো লক্ষ্য, না ছিল কোনো শৃঙ্খলা। ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে বাউন্ডুলে ছেলেটার জীবনে বসন্তের দখিনা বাতাসের মতো এসেছিল মাহেরিন। ঢাকার এক অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা, আভিজাত্য যার রক্তে মিশে ছিল। একই ক্লাসে পড়ার সুবাদে কখন যে সেই বন্ধুত্ব হৃদয়ের গহীনে প্রেমের বীজ বুনে দিয়েছিল, তা ওরা নিজেরাও টের পায়নি।

কিন্তু সমাজের চোখে সেই প্রেম ছিল নিতান্তই অসম। মাহেরিনের বাবা-মা যখন জানতে পারলেন তাঁদের রাজকন্যাসম মেয়ে এক বাবা-মা হারা লক্ষ্যহীন, সামাজিক পদমর্যাদাহীন যুবকের হাত ধরে জীবন কাটাতে চায়, তখন শুরু হলো এক প্রবল সংঘাত। পারিবারিক মর্যাদা বনাম ভালোবাসার সেই অসম যুদ্ধে মাহেরিন বেছে নিয়েছিল নিঃস্ব আর্যকে। এক কাপড়ে তার ছেড়েছিল বাবার আভিজাত্যের সাম্রাজ্য। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে। নিজের পরিবারের সব বৈভব ধূলিসাৎ করে দিয়ে সে আর্যর হাত ধরে পথে বেরিয়ে এসেছিল।
সেই মাহেরিনই বদলে দিয়েছিল আর্যকে। যে ছেলেটা বোহেমিয়ান হয়ে ঘুরে বেড়াত, সে মাহেরিনের চোখে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জেদ নিয়ে দিনরাত এক করে দিয়েছিল। মাহেরিন ছিল তার অনুপ্রেরণা, তার ঘর। আর্য যখন নেভিতে জয়েন করল, তখন তাদের সেই ছোট বাসায় একরাশ চাঁদের আলো নেমে এসেছিল। অভাব ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু তাদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আর্যর জীবনের প্রতিটি ধুলিকণাকে মাহেরিন সাজিয়েছিল পরম মমতায়।

কিছুদিনের মাঝেই সেই স্বপ্নের সংসারের পূর্ণতা দিতে তাঁদের ছোট্ট রাজকন্যা পৃথিবীতে এল। ছোট্ট রাজকন্যা আর রাজা রানীর ছোট্ট একটা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলো ব্যস্ততম ঢাকা শহরের বুকে। তবে তার স্থায়িত্ব ছিল বালির বাঁধের মতো ক্ষণভঙ্গুর। বছর চারেক অতিক্রম হতেই নিদারুণ ঝড়ে আর্যর জীবন থেকে মাহেরিন চিরতরে হারিয়ে গেল।
স্মৃতিগুলোও মস্তিষ্কের দোলা দিতেই এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অ্যাডমিরাল ‌তরফদার হোসেন।আটলান্টিকের ঝোড়ো হাওয়া তখন আরও তীব্রতর হয়ে উঠেছে, যেন আর্যর অগোছালো হৃদয়ের ক্ষ’তবিক্ষ’ত বার্তাগুলোরর জানান দিচ্ছে।

সুখ নীড়ের চতুষ্পার্শ্ব যেন অরণ্যের এক খণ্ড শ্যামল ছায়া। সদর দরজার সম্মুখে বিচিত্র পুষ্পলতায় সুশোভিত যে ক্ষুদ্র উদ্যানটি রয়েছে, রজনীর নিস্তব্ধতায় সেখান হতে রজনীগন্ধার তীব্র আকুল করা ঘ্রাণ ভেসে আসে। দিবালোকে আবার সেখানে গন্ধরাজের আধিপত্য। চারিদিকে ফুলের মেলা থাকলেও তার মাঝে আছে এক অযাচিত বিষন্নতা; ক্ষণে ক্ষণে কর্ণগোচর হওয়া এক শূন্যতার সুর।
তৃষার গত একটি মাস কেটেছে ঝড়ের গতিতে। নতুন কলেজে পদার্পণ, উচ্চ-মাধ্যমিকের অন্তিম মুহূর্তের প্রস্তুতি, আর সেই সাথে ফর্ম ফিলাপ ও একগুচ্ছ টিউটোরিয়াল টেস্টের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সে নিশ্বাস ফেলার অবকাশটুকুও পায়নি। এই অট্টালিকার প্রতিটি ধূলিকণা চেনার কৌতুহল কোনদিনই তার ছিল না।তবে কৌতুহল প্রবণ মনের যেটুকু ছিল তা ব্যস্ততার অতল গহ্বরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।

সময়টা সন্ধ্যার প্রাক্কাল দিনমণি তখন পশ্চিম দিগন্তে পাড়ি জমিয়েছেন,আর নীলিমা জুড়ে ধূসর অন্ধকারের মায়া কেবল ঘন হতে শুরু করেছে।তৃষা বাগান হতে ফিরে ধীর পায়ে দোতলার অলিন্দে এসে দাঁড়ালো। অট্টালিকার ভেতরটা এক মায়াবী কুয়াশার মতো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। এই এক মাসে বাড়ির অনেক অলিগলি তার চেনা হলেও, দোতলার পশ্চিম প্রান্তের এই ঘরটিকে খেয়াল করার লেশ পায়নি সে। তাই আজ তার অবাধ্য কৌতুহল প্রবণ মনটি সেই দিকেই ধাবিত হলো।

করিডোরটি এখন বিজাতীয় এক নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। তৃষা দেখল, কক্ষের কপাটটি আজ সামান্য ফাঁকা হয়ে আছে। ভেতর হতে এক অতি ক্ষীণ, কম্পিত আলোকরেখা মেঝেতে আছড়ে পড়ছে। এক অজানা শঙ্কায় তৃষার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল, তবুও অজানাকে জানার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষায় সে কম্পিত হস্তে কপাটটি আরও খানিকটা ঠেলে দিল।
কক্ষটি প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন, কেবল কোণের একটি টেবিল ল্যাম্প হতে অতি সামান্য আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। সেই অস্পষ্ট আলোয় তৃষার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো কক্ষের মধ্যভাগে। সে দেখল, কার্পেটের ওপর একটি ক্ষুদ্র ছায়া মূর্তি স্থির হয়ে বসে আছে। মূর্তিটি তার দিকে পৃষ্ঠদেশ ফিরিয়ে, একটি বিশালাকার প্রাচীন টেডি বিয়ারকে নিবিড় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে নির্নিমেষ জানালার বাইরের অন্ধকারের দিকে চেয়ে আছে।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১

নিথর সেই ভঙ্গি, আর কক্ষের থমথমে পরিবেশ দেখে তৃষার হৃদয় ধক করে উঠল। এক বিচিত্র হিমশীতল স্রোত যেন তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। ভয় আর কৌতূহলের দোলাচলে তৃষা কোনোক্রমে নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেল। রুদ্ধশ্বাসে অতি ক্ষীণ গলায় সে বলে উঠল,,
——‘কে? কে ওখানে?

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩